মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান, যার মৌলিক ভিত্তি হলো কুরআন, সহিহ সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত বুঝ। নবি করিম ﷺ এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও চিন্তাগত বিভ্রান্তির ফলে মুসলিম সমাজে কিছু গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়, যারা ইসলামি আকিদা ও শরিয়াহর মূল নীতিমালার ব্যাপারে বিচ্যুত হয়। এসব ফিরকার মধ্যে শিয়া মতবাদ সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিমূলক ও বিপজ্জনক, কারণ তারা নিজেদের মুসলিম পরিচয়ে উপস্থাপন করলেও মূলধারার ইসলাম থেকে অনেক মৌলিক বিষয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। শিয়ারা ইমামতকে দ্বীনের রুকন মনে করে, সাহাবায়ে কেরামের প্রতি প্রকাশ্যে অবমাননা করে, কুরআনের বিকৃতি বিশ্বাস করে, তাকইয়াহ ও গায়েবি ইমামতকে ঈমানের অংশ বানায় এবং এমন অনেক আকিদা গ্রহণ করে যা কুরআন ও সহিহ হাদিসের সরাসরি বিরোধী। অতএব, ইসলামি উম্মাহর দায়িত্ব হলো—শিয়াবাদের এসব ভ্রান্ত বিশ্বাসকে বিশ্লেষণ ও খণ্ডনের মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরা, যাতে কেউ অজ্ঞতাবশত বিভ্রান্তিতে না পড়ে। আমরা উপরের আলোচনতা শিয়াদের বিভিন্ন ভাগ দেখেছি। লক্ষ করেছি, তাদের বিভিন্ন ভাগের আকিদা বিশ্বাসও ভিন্ন ভিন্ন। নিচের আলোচনা শিয়াদের কোন ভাগকে আলাদা না করে, তাদের সকলের মাঝে যে ভ্রান্ত আকিদ বিশ্বাস আছে, আলোচনার শার্তে আলাদা না করে একই সাথে তুলে ধরছি। এ পর্যায়ে আমরা শিয়াদের এসব ভ্রান্ত আকিদার পর্যালোচনা করে এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে খণ্ডন করব, ইনশাআল্লাহ।
শিয়াদের ইমাম সম্পর্কে আকিদা :
ইমামদের সম্পর্কে শিয়াদের অনেক ভ্রান্ত কুফরি আদিকা আছে। তাদের শুধু এই একটি আকিদা আলোচনা করতেই একটি গ্রন্থ হয়ে যাবে। তাই খুবইসংক্ষেপে তাদের ইমামত আকিদা সম্পর্কে তুলে ধরা হল :
১. শিয়াদের বিশ্বাস মানব জাতির হেদায়াতের জন্য বার ইমাম মনোনীত করা হয়েছে :
শিয়াদের প্রধান আকিদা হল ইমামত সংক্রান্ত আকিদা। আল্লাহ তায়ালা মানুষ জাতির জাতির জন্য সর্বশেষ রাসূল মুহম্মদ ﷺ প্রেরণ করেন। তার মৃত্যুর পর যেহেতু আর কোন নবি বা রাসূল আসবেন না, তাই মানুষ জাতির হেদায়াতের জন্য ইমাম মনোনীত করবেন। আর শিয়াদের মতে আল্লাহ তায়ালা বার জন ইমাম নিযুক্ত করছেন। কিয়ামত পর্যন্ত তারাই পৃথিবীবাসির হেদায়াতের জন্য কাজ করবেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পরে আলি (রা.) থেকে শুরু করে মোট ১২ জন ইমাম আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, যাদের প্রত্যেকেই একে অপরের বৈধ উত্তরসূরি এবং ইলাহি জ্ঞান ও মাসুমিয়াত (নিরাপরাধিতা) দ্বারা পূর্ণ। পূর্বের ইসনা আশারিয়া শিয়াদের আলোচনায় এ ১২ জন ইমামের নাম উল্লেখ করেছি।
বারতম ইমামের নাম হবে ইমাম মাহদী। তিনি এখন গায়েব (অদৃশ্য) অবস্থায় আছেন। শিয়া আকিদা অনুযায়ী এখন থেকে প্রায় বার শত বছর আগে ২৫৫ অথবা ২৫৬ হিজরিতে জম্ম গ্রহণ করে ৪/৫ বছর বয়সে অলৌকিকভাবে লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে যান এবং ‘সুররা মান রায়া’ নামক একটি গুহায় আত্মগোপন করে আছেন। শেষ জামানায় কিয়ামতের আগে তিনি ফিরে এসে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন এবং তার উপরই পৃথিবীতে কিয়ামত হবে। শিয়া মতবাদে বারতম ইমাম বা ইমাম মাহদীর গায়েব (অদৃশ্য) থাকা এবং ভবিষ্যতে তাঁর আবির্ভাব নিয়ে আকিদা সম্পর্কে তাদের বহু মৌলিক কিতাবে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিয়া কিতাবের রেফারেন্স উল্লেখ করা হলো:
ক। আবূ আব্দিল্লাহ (আঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
إِنَّ لِلْقَائِمِ (ع) غَيْبَتَيْنِ، إِحْدَاهُمَا تَطُولُ حَتَّى يَقُولَ بَعْضُهُمْ: مَاتَ، وَبَعْضُهُمْ: قُتِلَ، وَبَعْضُهُمْ: ذَهَبَ، وَلَا يَطَّلِعُ عَلَى مَوْضِعِهِ أَحَدٌ مِنْ وُلْدِهِ وَلَا غَيْرُهُ، إِلَّا الْمَوْلَى الَّذِي يَلِي أَمْرَهُ.
“নিশ্চয়ই কায়েম (ইমাম মাহদী) এর দু’টি গায়বাত (অদৃশ্য থাকা) রয়েছে। তাদের একটিকে দীর্ঘায়িত করা হবে—এমনকি কেউ বলবে: তিনি মারা গেছেন; কেউ বলবে: তাঁকে হত্যা করা হয়েছে; আবার কেউ বলবে: তিনি অদৃশ্য হয়ে গেছেন। আর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তাঁর সন্তানদের কেউও জানবে না, অন্যরাও না—শুধু সেই বিশেষ প্রতিনিধি ছাড়া, যিনি তাঁর দায়িত্ব সামলাবেন।” ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-৩৪০, হাদিস নম্বর : ৬
খ। শিয়াদের একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস (হাদিস বিশারদ) ও আলেম। তিনি শিয়াদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় চার মুহাদ্দিসের (الثقات الأربعة) একজন হিসেবে বিবেচিত। আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন আলি ইবন হুসাইন ইবন বাবুয়াইহ আল-কুম্মী যিনি শেখ সাদুক নামে পরিচিত তিনি তার গ্রন্থে লিখেন-
وُلِدَ القَائِمُ (عليه السلام) بَعْدَ نِصْفِ شَعْبَانَ سَنَةَ خَمْسٍ وَخَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ (٢٥٥هـ)…وَغَابَ عَنْ أَعْيُنِ النَّاسِ، وَلَا يَرَاهُ أَحَدٌ حَتَّى يَأْذَنَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ أَنْ يَظْهَرَ…
“কায়েম (ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম) জন্মগ্রহণ করেন ২৫৫ হিজরির শা’বান মাসের মধ্যরাতের পর।
এরপর তিনি মানুষের দৃষ্টির আড়ালে চলে যান। তাঁকে কেউই দেখতে পাবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তায়ালা তাঁকে প্রকাশের অনুমতি দেন।” : শেখ সাদুক, কমালুদ্দীন ও আতমামুন্নিমাহ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ০৯–৪১০
গ। মুহাম্মাদ ইবনে নুমান আল নুবাখতি বলেন-
إِنَّ صَاحِبَ هَذَا الأَمْرِ لَهُ غَيْبَةٌ، الْمُتَمَسِّكُ فِيهَا بِدِينِهِ كَالْخَارِطِ لِلْقَتَادِ، ثُمَّ قَالَ: لَهُ غَيْبَةٌ يَطُولُ أَمَدُهَا.
“নিশ্চয়ই এ বিষয়ের (ইমামত) অধিকারী (ইমাম মাহদী) এর একটি গায়বাত (অদৃশ্য থাকা) থাকবে। সে সময় তার দ্বীনের ওপর দৃঢ়ভাবে টিকে থাকা হবে যেন কাঁটার ঝোপে (কাঁটাযুক্ত গাছ) হাত চালানোর মতো কষ্টকর। অতঃপর তিনি বলেন, তাঁর এই গায়বাত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।” মুহাম্মাদ ইবনে নুমান আল নুবাখতি, গায়বা, পৃ.- ১৬৪, হাদিস : ১০.
ঘ। আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী যিনি শেখ মুফিদ নামেও খ্যাত। তিনি বলেন-
وَلِدَ (عليه السلام) فِي النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ سَنَةَ خَمْسٍ وَخَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ، وَغَابَ عَنْ أَعْيُنِ النَّاسِ، وَهُوَ الْقَائِمُ الْمُنْتَظَرُ.
তিনি (আলাইহিস সালাম) ২৫৫ হিজরির শা’বান মাসের মধ্যরাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মানুষের দৃষ্টির আড়ালে চলে যান। তিনিই হলেন প্রতীক্ষিত কায়েম (ইমাম মাহদী)। শেখ মুফীদ, আল-ইরশাদ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ.-৩৩৯
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা :
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِنَّ اللّٰہَ اصۡطَفٰۤی اٰدَمَ وَنُوۡحًا وَّاٰلَ اِبۡرٰہِیۡمَ وَاٰلَ عِمۡرٰنَ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ
নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ ও ইবরাহীমের পরিবারকে এবং ইমরানের পরিবারকে সৃষ্টিজগতের উপর মনোনীত করেছেন। সুরা আল ইমরান : ৩৩
আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর জন্য নবি রসূল মনোনীত করেছেন। তিনি কোন ইমম মনোনীত করেন নাই। তবে সহিহ হাদিসের মাধ্যমে জানা যায় ইমাম মাহদী নামে একজন ইমমা আসবেন।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা ভয় পাচ্ছিলাম যে, আমাদের রাসূল ﷺ ্এর পরে নতুন কোন দুর্ঘটনা ঘটবে। সুতরাং আমরা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, আমার উম্মাতের মাঝে মাহদীর আগমন ঘটবে, সে পাঁচ অথবা সাত অথবা নয় বৎসর পর্যন্ত বেঁচে থাকবে (যাইদ সন্দেহে পতিত হয়েছেন যে, ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী কোন সংখ্যাটি বলেছেন)। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা প্রশ্ন করলাম, এই সংখ্যায় কি বুঝায়? তিনি বললেন বছর। মানুষ তার নিকট এসে বলবে, হে মাহদী। আমাকে কিছু দান করুন, আমাকে কিছু দান করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তারপর সে তার কাপড় বা থলেতে যেটুকু পরিমাণ বহন করে নিতে পারবে তিনি তাকে সেটুকু পরিমাণ দান করবেন। সুনানে তিরমিজি : ২২৩২, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৪০৮৩
শিয়াদের এই ১২ ইমাম সংক্রান্ত আকিদা কুরআন সুন্নুহ বিরোধী। মানুষ জাতির হেদায়াতের জন্য ১২ জন ইমাম মনোনীত করার প্রমাণ কুরআন ও হাদিসে পাওয়া যায় না। বরং এটা মনগড়া শিয়াদের তৈরি করা আকিদা মাত্র। এ সম্পরই বিস্তরিত পাবেন শিয়াদের নিকট সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিসের গ্রন্থ “উসুলুল কাফি”-তে। (১) (১) শিয়াদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ ও মুহাদ্দিস ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী (মৃত্যু: ৩২৯ হিজরি)। তিনি ‘উসুলুল কাফী’ বইটি সংকলন করেন। এ বইটি শিয়া মুসলিমদের নিকট হাদিস সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ, যা সুন্নিদের সহিহ বুখারির সমতুল্য মর্যাদা বহন করে। এই গ্রন্থটি সংকলন করেন, যাতে ১৬,১৯৯টি হাদিস স্থান পেয়েছে। যার মধ্যে বহু সংখ্যক হাদিসের সনদ ও বক্তব্য সুন্নি মানদণ্ডে দুর্বল, এমনকি শিয়াদের মধ্যেও বিতর্কিত। তবুও শিয়ারা আকিদা ও আমলের প্রধান উৎস হিসেবে একে অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন গ্রন্থরূপে গণ্য করে। উসুলুল কাফী তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: উসুল (মৌলিক বিশ্বাস), ফুরু (ব্যবহারিক ফিকহ) এবং রাওযা (বিবিধ শিক্ষা)। এতে তাওহীদ, নবুয়ত, ইমামত, আখিরাত ও নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। আমরা শিয়াদের ভ্রান্ত আকিদা প্রমাণের ক্ষেত্রে তাদের অধিকাংশ আকিদার কথা উসুলুল কাফী গ্রন্থে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করব বিধায় আপনাদের নিকট এ বইটির সামান্য পরিচয় তুলে ধরলাম।
২. শিয়াদের নির্বাচিত ইমামগণ নিষ্পাপ :
ক। ইমাম ইবনে মূসা (আঃ) এর প্রসঙ্গ বিষয়ে উসুলুল কাফির মধ্যে একটি দীর্ঘ খুতবা (খুৎবাহ) রয়েছে। এতে বারবার ইমামদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের ইস্মাত বা নিষ্পাপত্বের ব্যাপারে বিস্তৃত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই খুৎবাহটি “ হুজ্জত অধ্যায়, ইমামগণই পৃথিবীর স্তম্ভ” পরিচ্ছেদ অংশে স্থান পেয়ে থাকে। কয়েকটি মূল বাণী নিচে উপস্থিত করা হলো:
ثُمَّ ذَكَرَ الْحَدِيثَ الْأَوَّلَ…وَكَذَلِكَ يَجْرِي الْأَئِمَّةُ الْهُدَى وَاحِداً بَعْدَ وَاحِدٍ جَعَلَهُمُ اللَّهُ أَرْكَانَ الْأَرْضِ أَنْ تَمِيدَ بِأَهْلِهَا وَحُجَّتَهُ الْبَالِغَةُ عَلَى مَنْ فَوْقَ الأَرْضِ وَمَنْ تَحْتَ الثَّرَى…وَمَا جَاءَ بِهِ عَلِيٌّ ع آخُذُ بِهِ…وَمَا نَهَى عَنْهُ أَنْتَهِي عَنْهُ…جَرَى لَهُ مِنَ الْفَضْلِ مِثْلُ مَا جَرَى لِمُحَمَّدٍ ص…
অর্থ : এমনভাবেই ইমামগণ হিদায়াতের ধারক, পরপর একের পর একজন; আল্লাহ তাদেরকে পৃথিবীর স্তম্ভ বানিয়েছেন যেন তা নড়ে না। তারা আসমান-জমিন উভয়ের ওপর সামনে প্রমাণ (হুজ্জাহ) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।” এবং “যে আইন আলি (রা.) প্রতিষ্ঠা করেছেন আমি (ওই আইন) গ্রহণ করি, ও যে কিছু তিনি নিষেধ করেছেন আমি তা থেকে বিরত থাকি; তার জন্য তার সম্মান এবং মর্যাদা এমন যা মুহাম্মাদ ﷺ এর সাথেও তুলনীয়।” এছাড়া, দ্বিতীয় সূত্র হিসেবে উল্লিখিত যে, উসুলুল কাফির সেই অংশেও ইমাম আল-রেজা (আঃ) নিজেই বলেছেন-
“الْإِمَامُ خَالٍ مِنَ الذَّنْبِ وَطَاهِرٌ مِنْ كُلِّ عَيْبٍ … لاَ يُدْانَى عِلْمُهُ وَلاَ يُنَالُ دَرَجَتُهُ”
অর্থ : “ইমাম সম্পূর্ণরূপে পাপমুক্ত, প্রতিটি দোষ থেকে নির্মল… তার জ্ঞান অনুপম এবং কেউই তার উচ্চ মর্যাদায় উপনীত হতে পারে না।” ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-৬৪-৬৫
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা :
নিষ্পাপ হওয়া শুধু নবি রাসূরদের গুন। কোন মানুষের জন্য এমনগুন মানায় না। ইসলামে নবি ﷺ ছাড়া কারো আনুগত্য বাধ্যতামূলক করা হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِنَّ اللّٰہَ عِنۡدَہٗ عِلۡمُ السَّاعَۃِ ۚ وَیُنَزِّلُ الۡغَیۡثَ ۚ وَیَعۡلَمُ مَا فِی الۡاَرۡحَامِ ؕ وَمَا تَدۡرِیۡ نَفۡسٌ مَّاذَا تَکۡسِبُ غَدًا ؕ وَمَا تَدۡرِیۡ نَفۡسٌۢ بِاَیِّ اَرۡضٍ تَمُوۡتُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌ خَبِیۡرٌ
কিয়ামাতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর নিকট রয়েছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন যা জরায়ুতে রয়েছে। কেহ জানেনা আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেহ জানেনা কোন্ স্থানে তার মৃত্যু ঘটবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ব বিষয়ে অবহিত। সুরা লোকমান : ৩৪
কাজেই ইমামদের সম্মানে দাবি করা হয়েছে যে, তারা গায়েবের খবর রাখেন তা ষ্পষ্টই শির্ক। কেউই জানেনা তার মৃত্য কখন হবে এবং কোথায় হবে, এমন দাবি অমুল ও শিরক। শিয়া ইমামদের এমন জ্ঞান রাখার ক্ষমতা আছে বিশ্বাস করা শিরক। কেননা এর মাধ্যমে জ্ঞানের ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর সমকক্ষ হয় যাবে। এহেন গঘন্য আকিদা থেকে মহান আল্লাহকে তাদের ও আমাদের পবিত্র রাখুক।
৩. শিয়াদের ইমমাগণ পৃথিবীতে হুজ্জত বা পরিপূর্ণ দলিল
এ সম্পর্কে শিয়াদের উসুলুল কাফীর একটি হাদিসে ইমাম জাফার আস-সাদিক (আ.) নিজেকে “অল্লাহর জ্ঞান ও নির্দেশনার খজানা (খাজানা), অনুবাদক, এবং আসমান-জমিনের উপর মানুষের জন্য আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ হুজ্জত” হিসেবে উল্লিখিত করছেন। আবু সুদাইর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম আবু জাফর (আঃ) বলেছেন-
:نَحْنُ خُزَّانُ عِلْمِ اللَّهِ، وَنَحْنُ تَرْجَمَةُ وَحْيِ اللَّهِ، وَنَحْنُ الحُجَّةُ البَالِغَةُ عَلَى مَنْ دُونَ السَّمَاءِ وَمِنْ فَوْقِ الأَرْضِ
“আমরাই আল্লাহর জ্ঞানের ভাণ্ডার, আমরাই আল্লাহর ওহির অনুবাদক, এবং আমরাই আসমানের নিচে ও জমিনের ওপর যাদের উপরে রয়েছে, তাদের জন্য আল্লাহর পরিপূর্ণ দলিল।” ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-১৯২
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা : ইসলাম ধর্মের হুজ্জত বা দলিল হলো কুরআন সুন্নাহ। মানুষ হিসেবে হুজ্জত হলো রাসুলুল্লাহ সা.। কোন ইমাম হুজ্জত হবে এ সম্পর্কে কুরআন হাদিসে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। রাসুলুল্লাহ সা. হুজ্জত বা দলিল তার প্রমাণ, আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَمَا نَہٰىکُمۡ عَنۡہُ فَانۡتَہُوۡا ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ۘ
রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর। সুরা হাশর : ৭
৪. শিয়াদের আকিদা জগত পরিচালনার দায়িত্ব ইমামদের
জগতের একমাত্র পরিচালক মহান আল্লাহ তায়ালাতার এ গুনের সমকক্ষ জ্ঞান করা শির্কের অন্তরভূক্ত। অথচ শিয়াগণ মহান আল্লাহর এই একক গুনের সাথে তাদের ইমামদের সম্পৃক্ত করে চরমভাবে তাওহীদের উপর আঘাত করছে। তবে বিষয়টি ইমামদের আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব ও বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব সম্পর্কে শিয়া ধর্মতত্ত্বের মূল ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
ক। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী তার গ্রন্থে বলেন-
“الأئمة خلفاء الله في أرضه، الخليفة السلطان الأعظم…
“ইমামগণ হলেন আল্লাহর নিদর্শন, তাঁর খলিফা এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের কর্তৃত্ব তাদের হাতে। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, কিতাবুল হুজ্জাহ, প্রথম খণ্ড
খ। আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী যিনি শেখ মুফিদ নামেও খ্যাত। তিনি বলেন-
الإمامُ خَلِيفَةُ اللهِ، وَهُوَ الْمُتَوَلِّي عَلَى جَمِيعِ أُمُورِ الْعَالَمِ، وَأَمْرُهُ وَنَهْيُهُ فَوْقَ الطَّبِيعَةِ.
অর্থ: “ইমাম হলেন আল্লাহর প্রতিনিধি, যিনি জগতের সমস্ত বিষয়ের তত্ত্বাবধান করেন। তাঁর আদেশ ও নিষেধ প্রকৃতিরও ঊর্ধ্বে।” শেখ মুফীদ, আল-ইরশাদ, ইমামতের প্রকৃতি ও ইমামদের গুণাবলী অধ্যায়,
পৃ.-৩৪৫
গ। ইমামদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও বিশ্ব পরিচালনায় তাদের ভূমিকা সম্পর্কে শিয়া আলিম মুহাম্মাদ বাকির আল-মাজলিসী বলেন, “ইমামগণ হচ্ছেন আল্লাহর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের চেয়েও উচ্চ মর্যাদাশীল। সমগ্র সৃষ্টি তাদের আনুগত্যের অধীন।” মুহাম্মাদ বাকির আল-মাজলিসী, বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড: ২৬, পৃষ্ঠা: ২৯৮
ঘ। আল্লামা মুহাম্মদ হোসাইন তাবাতাবাই ছিলেন বিশিষ্ট শিয়া, দার্শনিক, মুহাদ্দিস এবং ঐতিহাসিক, যিনি শিয়া চিন্তাধারায় এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন-
ইমামত একটি ঐশী পদমর্যাদা, যা নবুয়তের চেয়েও উচ্চ। ইমামই বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক।
শিয়া আলিম আল্লামা তাবাতাবাই, তাফসীর আল-মীযান, ভলিউম ১, পৃ.-২৭৩, সূরা বাকারার ১২৪ নম্বর আয়াতের তাফসির।
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা :
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلٌّ۬ يَجۡرِى لِأَجَلٍ۬ مُّسَمًّ۬ىۚ يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَ يُفَصِّلُ ٱلۡأَيَـٰتِ لَعَلَّكُم بِلِقَآءِ رَبِّكُمۡ تُوقِنُونَ
এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। সুরা রাদ : ২
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
تَبٰرَکَ الَّذِیۡ بِیَدِہِ الۡمُلۡکُ ۫ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرُۨ ۙ
রকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। সূরা -মুলক ৬৭:১
আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এই বিশ্বজগৎ কেউ পরিচালনা করতে পারে না। ইমাম সম্পর্কে এমন আকিদা রাখা কুফরি। এই বিশ্বজগৎ পরিচালনার এক মাত্র দাবিদার আল্লাহ তায়ালা। চরমপনথী গুলাত শিয়া ছাড়া কেউ এমন আকিদা রাখে না। এমনিক গুনাত ছাড়া অন্য শিয়ারা এমন আকিদা রাখে না। মক্কার মুসরিকগণ ও বিশ্বাস করত বিশ্বজগৎ আল্লাহ ছাড়া কেউ পরিচালনা করতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সুস্পষ্ট আয়াতে বলেন-
إِنَّ ٱلۡأَرۡضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَآءُ
অর্থ: “নিশ্চয়ই পৃথিবী আল্লাহর, তিনি যাকে ইচ্ছা তা উত্তরাধিকার স্বরূপ দান করেন।”। সূরা আরাফ : ১২৮
وَلِلَّهِ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ
অর্থ : “আসমান ও যমীনের সার্বভৌম ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই”। সূরা আলে ইমরান : ১৮৯
فَلِلَّهِ ٱلۡأٓخِرَةُ وَٱلۡأُولَىٰ
অর্থ : “বস্তুত ইহকাল ও পরকাল আল্লাহরই”। সূরা নাজম : ২৫
لَهُ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ
অর্থ : আসমান ও যমীনের সার্বভৌম ক্ষমতা একমাত্র তারই”। সূরা আল- হাদীদ: ২
تَبَٰرَكَ ٱلَّذِي بِيَدِهِ ٱلۡمُلۡكُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ
অর্থ : মহামহিমান্বিত তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর নিয়ন্ত্রণে, তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। সূরা মুলক : ৩০
এ সম্পর্কে একটি বিষয় এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। খুবই পরিতাপের বিষয় আমাদের সমাজের কিছু নামধারী মুসলিমের শিয়াদের মত বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেহেতু একা সেহেতু তার একার পক্ষে পুরো বিশ্বজগত পরিচালনা করা সম্ভব নয় (নাউজুবিল্লাহ)। ফলে তিনি তাঁর বিশ্ব পরিচালনা কাজের সুবিধার্থে আরশে মুআল্লায় একটি পার্লামেন্ট কায়েম করেছেন। সেই পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা মোট ৪৪১ জন। আল্লাহ তাদের স্ব-স্ব কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। তন্মধ্যে নাজীর ৩১৯ জন, নাকীব ৭০ জন, আওতাদ ৭ জন, কুতুব ৫ জন, আবদাল ৪০ জন এবং একজন হলেন গাওছুল আযম যিনি মক্কায় থাকেন। উম্মতের মধ্যে আবদাল ৪০ জন আল্লাহ তাযালার মধ্যস্থতায় পৃথিবীবাসীর বিপদাপদ দূরীভূত করে থাকেন।
সতর্কতা : শিয়াদের কিছু গ্রন্থে ইমামদের অলৌকিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ সীমালঙ্ঘন (غلو) হিসেবে বিবেচিত হয়। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতএগুলোকে শিরকি আকিদা বলে বিশ্বাস করে।
৫. শিয়াগণ আলি (রা.) কে আল্লাহ তায়ালার মত উলুহিয়াতের মর্যাদা প্রদান করে থাকে।
আলি (রা.) কে আল্লাহ তায়ালার মত উলুহিয়াতের মর্যাদা প্রদান করার দাবিটি মারাত্মক কুফরি যা চরম শিয়া গুলাত ফির্কার একটি আকিদা। এই ধরনের আকিদা মূলধারার শিয়ারা (ইমামিয়া বা জায়েদি) সাধারণত গ্রহণ করে না। এটি গুলাত শিয়া যারা ইমামদেরকে আল্লাহর মর্যাদায় উন্নীত করে তাদের বক্তব্য।
ক। মোল্লা মুহসিন ফায়েজ কাশানী (মৃত্যু: ১০৯১ হিজরি) তিনি বলেন-
“أن عليا هو الله”
আলিই আল্লাহ পাক। মোল্লা মুহসিন ফায়েজ কাশানী, জিলাউল আইয়ুন, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ.-৬৬
খ। রিজালু কাশী গ্রন্থে শিয়া আলিম আবু আমর মুহাম্মদ ইবন উমর ইবন আব্দুল আজিজ আল-কাশশী (মৃত্যু: ৩৪০ হিজরি) তার গ্রন্থে লিখেন, আলি বলেন-
أَنَا ٱلَّذِي أُحْيِي وَأُمِيتُ، أَنَا ٱلْأَوَّلُ وَٱلْآخِرُ، وَٱلظَّاهِرُ وَٱلْبَاطِنُ…
“আমি সেই ব্যক্তি, যে জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই; আমিই প্রথম এবং শেষ; আমিই প্রকাশ্য এবং অদৃশ্য…” । আব্দুল আজিজ আল-কাশশী, রিজালু কাশী, পৃ.-১৩৮।
উক্ত আরবি বাক্যটি আক্ষরিকভাবে আল্লাহর গুণবাচক শব্দসমূহ হুবহু ব্যবহার করে গঠিত। কেউ যদি তা নিজের দিকে সম্বন্ধ করে (যেমন শিয়াদের কিছু চরমপন্থি ফিরকা বলে থাকে আলি বলেছে), তবে তা ইসলামের মৌল আকিদার বিরোধী এবং তা কুফর ও গুলু (অতিরঞ্জন) হিসেবে গণ্য হবে। এই আকিদা থেকে আলি (রা.) পবিত্র ও মুক্ত। তিনি এই ধরনের জঘন্য মিথ্যা কথা বলতেই পারেন না। আলি (রা.) নামে এসব কথা শিয়ারা বানিয়ে নিয়েছেন। এই বাক্যটি মূলত আল্লাহর গুণাবলি প্রকাশকারী আয়াত ও হাদিসসমূহের অনুরূপ। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ہُوَ الۡاَوَّلُ وَالۡاٰخِرُ وَالظَّاہِرُ وَالۡبَاطِنُ ۚ وَہُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ
অর্থ : তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক অবহিত। সুরা হাদিদ : ৩
৬. শিয়াদের বিশ্বাস তাদের ইমামগণ গায়েবের খবর রাখেন :
ক। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নীর মতে ইমামগণ যা হয়েছে এবং যা হবে, তার জ্ঞান রাখেন। আর তাদের নিকট কোন কিছুই গোপন নেই। আবূ আবদিল্লাহ (আ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
হরকতসহ আরবি:
إِنِّي لَأَعْلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَاوَاتِ وَمَا فِي ٱلْأَرْضِ، وَأَعْلَمُ مَا فِي ٱلْجَنَّةِ وَمَا فِي ٱلنَّارِ، وَأَعْلَمُ مَا كَانَ وَمَا يَكُونُ.
“আমি জানি আসমানে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, এবং আমি জানি জান্নাত ও জাহান্নামে যা কিছু আছে, এবং আমি জানি যা হয়েছে এবং যা হবে।”
“আমি অবশ্যই আসমান ও যমিনে যা কিছু আছে, তা জানি এবং আমি আরও জানি জান্নাত ও জাহান্নামে যা কিছু আছে। আর যা হয়েছে এবং যা হবে, তাও আমি জানি। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-১৬১
আবূ আবদিল্লাহ বা ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত, আমীরুল মুমিনীন (আ). বেশি বেশি বলতেন, “জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে বণ্টনকারী … আমাকে এমন কতগুলো বৈশিষ্ট্য দেয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কাউকে দেয়া হয়নি। আমি জানি মৃত্যু, বালা-মুসিবত, বংশ এবং বক্তৃতা-বিবৃতির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সম্পর্কে। সুতরাং আমার পূর্বেকার কোন বিষয় আমার জানা থেকে বাদ পড়েনি এবং আমার নিকট থেকে যা অদৃশ্য, তাও আমার কাছ থেকে অজানা থাকে না। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-১১৭
গ. ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী বলেন, “ইমামগণ জানেন যে, তারা কখন মারা যাবেন। আর তারা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী মারা যাবেন। আবূ আবদিল্লাহ (আ.) বলেন: কোন ইমাম যদি তার উপর আপতিত বিপদাপদ ও তার পরিণতি সম্পর্কে না জানে। তবে সে ইমাম আল্লাহর সৃষ্টির ব্যাপারে দলিল (হিসেবে গ্রহণযোগ্য) নয়। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-২৭৮
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা :
আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এই বিশ্ব জাহানের কারো নিকট অদৃশ্যের জ্ঞান নেই। এমনটি আমাদের প্রিয় রাসূল ﷺ ও এই অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী শিয়াদের দাবি তাদের ইমামগণ এমন ইলম সম্পর্কেও অবহিত যা কোন নবি, রাসুল বা ফিরেশতাগণও জানেনা। এই ধরনের আকিদা পোষণ কারী কোন মুসলীম হবে পারে না। সে অবশ্যই মুশরিক। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُل لَّآ أَقُولُ لَكُمۡ عِندِى خَزَآٮِٕنُ ٱللَّهِ وَلَآ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ وَلَآ أَقُولُ لَكُمۡ إِنِّى مَلَكٌۖ إِنۡ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّۚ قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِى ٱلۡأَعۡمَىٰ وَٱلۡبَصِيرُۚ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ
অর্থ : বল, আমি তোমাদের বলি নাই যে, আমার নিকট আল্লাহ্র ধনভাণ্ডার রয়েছে। আমি অদৃশ্য সম্বন্ধে জানি না। আমি তোমাদের এ কথা বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমার নিকট যে প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ হয়েছে, আমি শুধু তার অনুসরণ করি। বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি এক হতে পারে? তোমরা কি বিবেচনা করবে না? সুরা আনাম : ৫০
এ আয়াতে ও আল্লাহ তায়ালা তার রাসূলুল্লাহ ﷺ কে পরিষ্কার ভাবে ঘোষণা দিতে বললেন যে, আমি অদৃশ্য সম্বন্ধে জানি না।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
يَسۡـَٔلُكَ ٱلنَّاسُ عَنِ ٱلسَّاعَةِۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ ٱللَّهِۚ وَمَا يُدۡرِيكَ لَعَلَّ ٱلسَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا
অর্থ : লোকে তোমাকে (কেয়ামতের) সময় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। বল, ইহার জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে। এবং তুমি তা কি ভাবে বুঝবে? সম্ভবত, সময় নিকটবর্তী। সুরা আহজাব :৬৩
উক্ত আয়াতে আল্লাহ্র ঘোষণা “কিয়ামতের সময় সম্বন্ধে জ্ঞান কেবল আল্লাহ্র। যেহেতু রাসূল ﷺ এর অদৃশ্যের সম্বন্ধে জ্ঞান নাই আল্লাহর প্রশ্ন “এবং তুমি তা কি ভাবে বুঝবে? আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُل لَّا يَعۡلَمُ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِ ٱلۡغَيۡبَ إِلَّا ٱللَّهُۚ وَمَا يَشۡعُرُونَ أَيَّانَ يُبۡعَثُونَ
অর্থ : তাদেরকে বল, আল্লাহ ছাড়া পৃথিবীতে ও আকাশে কেউ অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না৷ এবং তারা জানেনা কবে তাদেরকে উঠিয়ে নেয়া হবে। সুরা নামল : ৬৫
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ غَيۡبَ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَٱللَّهُ بَصِيرُۢ بِمَا تَعۡمَلُونَ
অর্থ : নিশ্চয় আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত গুপ্ত বিষয় জানেন। এবং তোমরা যা কর আল্লাহ তা অবশ্য দেখেন। সুরা হুজুরাত : ১৮
কিন্তু শিয়াগণ তাদের ইমামদেরকে অদৃশ্যের জ্ঞানের ব্যাপারে আল্লাহর সাথে শরিক করে। লক্ষ্য করুন, তারা তাদের ইমামদেরকে তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ফেরেশতা, নবি ও রাসুলগণের চেয়ে বেশি জ্ঞানী মনে করে। আর জ্ঞানের ক্ষেত্রে তারা তাদেরকে আল্লাহ তায়ালার অংশীদার মনে করে। এই সবগুলোই মিথ্যা, বানোয়াট ও কুফরি।
৭. শিয়াদের বিশ্বাস তাদের ইমামগণ হালাল ও হারাম করার ক্ষমতা রাখেন।
শিয়াদের মতে, ইমামগণকে আল্লাহ কর্তৃক এমন একটি ক্ষমতা ‘উলয়া’ দান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ধর্মীয় আইন প্রয়োগ ও বিধি-নির্ধারণ করতে পারেন, তবে সেই সব বিধি সর্বদা কুরআন ও বাইরের মহান আল্লাহর নির্দেশের অন্তর্গত:
…وَصَارُوا يُشَرِّعُونَ التَّشْرِيعَ بِمَا أُوتُوا مِنْ عِلْمٍ وَدَلِيلٍ، وَلَيْسَ فِيهِمْ مُعَارِضٌ لِمَا فِي كِتَابِ اللهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ…
“তারা নিজেরা [ধর্মীয়] আইন প্রণয়ন করেন—তবে যে-সব বিষয় উপর তারা প্রজ্ঞা ও দলিল পেয়েছেন, এবং যা কখনোই কুরআন ও নবির শরীয়তের বিপরীতে নয়। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.- ২৭৮
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা হলো ;
আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসুলকে উদ্দেশ্য করে বলেন-
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَاۤ اَحَلَّ اللّٰہُ لَکَ ۚ تَبۡتَغِیۡ مَرۡضَاتَ اَزۡوَاجِکَ ؕ
হে নবি, আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনায় তুমি কেন তা হারাম করছ? সুরা তাহরীম :১
সুতরাং আল্লাহ যখন তাঁর রাসূল ﷺ কে হালাল জিনিসকে হারাম করার কারণে সতর্ক করে দিয়েছেন, তখন নবি ﷺ ব্যতীত অন্যের দ্বারা তা কি করে সম্ভব হতে পারে?
৮. ইমামদের আনুগত্য ফরজ :
আবূ সাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ আব্দিল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-কে বলতে শুনেছি-
“أَشْهَدُ أَنَّ عَلِيًّا إِمَامٌ، فَرَضَ اللَّهُ طَاعَتَهُ، وَأَنَّ الْحَسَنَ إِمَامٌ، فَرَضَ اللَّهُ طَاعَتَهُ، وَأَنَّ الْحُسَيْنَ إِمَامٌ، فَرَضَ اللَّهُ طَاعَتَهُ…”
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলি (আ.) একজন ইমাম; আল্লাহ তার আনুগত্য করাকে ফরজ করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হাসান (আ.) একজন ইমাম; আল্লাহ তার আনুগত্য করাকে ফরজ করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হোসাইন (আ.) একজন ইমাম; আল্লাহ তার আনুগত্য করাকে ফরজ করেছেন…..। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-১৮৬-১৮৭
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী আরও উল্লেখ করেন, ইমাম মুহাম্মদ বাকের বলেন-
আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে কদরের রাতসমূহে নবি এবং অসীদের (ইমামদের) নিকট নির্দেশ আসত যে, এটা কর; আর এই নির্দেশটি তারা ভালোভাবেই শিখেছিল, কীভাবে তারা তা কার্যে পরিণত করবে। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-১০৯
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা হলো :
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَاُولِی الۡاَمۡرِ مِنۡکُمۡ ۚ فَاِنۡ تَنَازَعۡتُمۡ فِیۡ شَیۡءٍ فَرُدُّوۡہُ اِلَی اللّٰہِ وَالرَّسُوۡلِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ ذٰلِکَ خَیۡرٌ وَّاَحۡسَنُ تَاۡوِیۡلًا
হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে প্রত্যর্পণ করাও- যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। সুরা নিসা : ৫৯
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَ
“কেউ রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল”। সূরা আন-নিসা: ৮০
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَمَن يُشَاقِقِ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ ٱلۡهُدَىٰ وَيَتَّبِعۡ غَيۡرَ سَبِيلِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ نُوَلِّهِۦ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصۡلِهِۦ جَهَنَّمَۖ وَسَآءَتۡ مَصِيرًا
“কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যে দিকে সে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরায়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব; আর তা কত মন্দ আবাস!”সূরা আন-নিসা: ১১৫
৯. শিয়াদের বিশ্বাস ইমামগণের গর্ভ ও জন্ম হয় অদ্ভুত প্রক্রিয়ায়।
মুহাম্মাদ বাকির ইবনে মুহাম্মদ তাকী আল-মাজলিসী বলেন-
. نورُ الأئمّةِ لا يَسْتَقِرُّ في الرَّحِمِ
ইমামদের নূর (আলো) জরায়ুতে স্থির হয় না। মুহাম্মাদ বাকির ইবনে মুহাম্মদ তাকী আল-মাজলিসী, বিহারুল আনওয়ার, ভলিউম : ২৭।
অর্থাৎ, তাদের জন্ম পদ্ধতি সাধারণ মানুষের মতো নয় বরং তাদের নূর (আলোক প্রকাশ) জগতে সরাসরি প্রকাশ ঘটে। এটি শিয়াদের তানজীহ’ আকিদার অংশ, যেখানে তারা ইমামদের সমস্ত অপবিত্র বস্তু ও প্রক্রিয়া থেকে পবিত্র মনে করে।
আল্লামা মুহাম্মদ বাকির ইবনে মুহাম্মদ তাকী আল-মাজলিসী বলেন-
একাদশতম ইমাম হাসান আসকারী থেকে রেওয়াত করেছেন যে, আমাদের ইমামগণের গর্ভ মায়ের পেটে বা জরায়ুতে স্থির হয় না। বরং পার্শ্বে থাকে আমরা জরায়ু থেকে বাইরে আসি না। বরং জননীর উরু থেকে জম্ম গ্রহণ করি। কেননা আমরা আল্লাহর নুর। তাই আমাদের নোংরামি আবর্জনা থেকে দূরে রাখা হয়। আল্লামা মুহাম্মদ বাকির ইবনে মুহাম্মদ তাকী আল-মাজলিসী, ‘হাক্কুল ইয়াকীন’ পৃ.-১২৬, মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন, ইসলামি আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ, পৃ-২৫৩
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা :
এ সকর কথার কোন শরীয়ি ভিত্তি নাই। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَمَنۡ کَانَ یَرۡجُوۡا لِقَآءَ رَبِّہٖ فَلۡیَعۡمَلۡ عَمَلًا صَالِحًا وَّلَا یُشۡرِکۡ بِعِبَادَۃِ رَبِّہٖۤ اَحَدًا
বল, ‘আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহি প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে’। সুরা কাহাফ : ১১০
রাসুলুল্লাহ ﷺ এর জন্মের সময় সিরিয়ার রাজপ্রাসাদগুলোকে আলোকিত :
উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: “رَأَتْ أُمِّي حِينَ وَضَعَتْنِي نُورًا خَرَجَ مِنْهَا أَضَاءَتْ لَهُ قُصُورُ الشَّامِ.”
“আমার মা যখন আমাকে জন্ম দিলেন, তখন তিনি এক নূর দেখতে পেলেন, যা সিরিয়ার জপ্রাসাদগুলোকে আলোকিত করেছিল।” মুসনাদ আহমাদ : ১৭৫৫০
কুরআন ও সুন্নাহ প্রমাণ করে যে আমাদের রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বাভাবিকভাবেই জম্মগ্রহণ করে। সেখনা শিয়াদে বাদি এর বংশধরেরা বা আহলে বাইয়াত কেন অলৌকিকভাবে জম্ম গ্রহণ করবে?
১০. শিয়াদের বিশ্বাস নবি মুহাম্মাদ ﷺ ব্যতীত সকল নবির চেয়ে তাদের ইমামগণ উত্তম।
আল্লামা মুহাম্মদ বাকির ইবনে মুহাম্মদ তাকী আল-মাজলিসী বলেন-
يَجِبُ أَنْ يُعْتَقَدَ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمْ يَخْلُقْ خَلْقًا أَفْضَلَ مِنْ مُحَمَّدٍ (صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ) وَالْأَئِمَّةِ (عَلَيْهِمُ السَّلَامُ)، وَأَنَّهُمْ أَحَبُّ الْخَلْقِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَأَكْرَمُهُمْ…
আকিদা রাখা আবশ্যক যে, আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ (সা,) ও ইমামগণের (আ.) চেয়ে উত্তম কোনো সৃষ্টি সৃষ্টি করেননি, এবং তারা হলেন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় এবং সবচেয়ে সম্মানিত সৃষ্টিসমূহ। আল্লামা মুহাম্মাদ বাকির আল-মাজলিসী, বিহারুল আনওয়ার, ভলিউম ২৬, পৃ.- ২৯৭
আল্লামা মুহাম্মাদ বাকির আল-মাজলিসী বলেন-
بَلِ الضَّرُورَةُ مِنْ قَوْلِ الْإِمَامِيَّةِ عَلَى أَنَّهُ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) أَفْضَلُ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ (صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ) مِنْ جَمِيعِ الْأَنْبِيَاءِ…
বরং এটা শিয়া ইমামিয়াদের মাঝে জরুরি ও পরিষ্কার আকিদা যে, (ইমাম) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পর সকল নবির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল্লামা মুহাম্মাদ বাকির আল-মাজলিসী, বিহারুল আনওয়ার, ভলিউম ২৬, পৃ.- ২৯৭
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা :
আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মাতের সর্বোত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষ (সাহাবিগণ)। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবেয়ি) যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবে তাবেয়ী) যুগ। অতঃপর এমন লোকদের আগমন হবে যাদের কেউ সাক্ষ্য দানের পূর্বে কসম এবং কসমের পূর্বে সাক্ষ্য দান করবে। সহিহ বুখারি : ৩৬৫১, ২৫০৮, ৬৪২৯, সহিহ মুসলিম ২৫৩৩, সুনানে তিরমিজি : ৩৮৫৯, আহমদ : ১২৯০৮
কুরআন ও সহিহ হাদিসে ইমমাত সম্পর্কিত আকিদাই নাই। অথচ শিয়ার তাদের মান সম্মান নবিদের উপর স্থান প্রদান করে, যা মূলত ইসলামের সাথে উপহাস করার সমান।