মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
পূর্বের আলোচনার মাধ্যমে জেনেছি যে শিরক দ্বারা ঈমান ভঙ্গ হয়, মুসলিম ইসলাম থেকে বাহির হয়ে যায় তাকে শিরকে আকবর বা বড় শিরক বলা হয়। শিরকে আকবর কে দুটি ভাগ করে আলোচন কবর। ভাগ দুটি হলো-
ক। আকিদা বা বিশ্বাসগত শিরকে আকবর
খ। ইবাদত বা আমলগত শিরকে আকবর
মানুষ সাধারণ বিশ্বাস ও ইবাদতের মাধ্যমেই শিরক করে থাকে। এই পর্যায় শুধু যে সকল শিরকগুলো তার বিশ্বাসের সাথে জড়িত সেগুলোই আলোচনা করা হবে।
১। রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের মত মানব ছিলেন না
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
قُلۡ إِنَّمَآ أَنَا۟ بَشَرٌ۬ مِّثۡلُكُمۡ يُوحَىٰٓ إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَـٰهُكُمۡ إِلَـٰهٌ۬ وَٲحِدٌ۬ۖ فَمَن كَانَ يَرۡجُواْ لِقَآءَ رَبِّهِۦ فَلۡيَعۡمَلۡ عَمَلاً۬ صَـٰلِحً۬ا وَلَا يُشۡرِكۡ بِعِبَادَةِ رَبِّهِۦۤ أَحَدَۢا (١١٠)
(হে নবি) বলুন, আমি তো তোমাদেরই মত এক জন মানুষ, আমার নিকট এই মর্মে ওহি করা হয় যে, তোমাদের উপাস্য এক ও একক, অতএব যে নিজ প্রতিপালকের দিদার লাভের আশাবাদী সে যেন সৎকর্ম করে এবং নিজ প্রতিপালকের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে। সূরা আল কাহাব : ১১০
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তায়ালা আরাও বলেন-
قُلۡ إِنَّمَآ أَنَا۟ بَشَرٌ۬ مِّثۡلُكُمۡ يُوحَىٰٓ إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَـٰهُكُمۡ إِلَـٰهٌ۬ وَٲحِدٌ۬ فَٱسۡتَقِيمُوٓاْ إِلَيۡهِ وَٱسۡتَغۡفِرُوهُۗ وَوَيۡلٌ۬ لِّلۡمُشۡرِكِينَ (٦)
(হে নবি) বলুন, আমি কেবল তোমাদের মত একজন মানুষ। আমার কাছে ওহি পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবলমাত্র এক ইলাহ। অতএব তোমরা তাঁর পথে দৃঢ়ভাবে অটল থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। আর মুশরিকদের জন্য ধ্বংস। সুরা হা-মিম-সিজদা : ৬
উপরের আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট ঘোষনা রাসুল ﷺ আমাদের মতই একজন মানুষ ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ ﷺ কে নবী ও রাসুল বানিয়ে সর্বোউচ্চ সম্মান ও মর্জাদা আসনে বসিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ মানুষ ছিলেন না, এ কথার দ্বারা কিছু মানুষ কে আল্লাহ সমকক্ষ বা তার কাছাকাছি দাড় করাতে চান। তারা সৃষ্টি আর স্রষ্টার মাঝে যে বিশাল পার্থক্য আছে তা মুছে ফেলতে চান। যা মূলত তাকে আল্লাহর অংসীদার সাবস্ত করে। সুতারং রাসুলুল্লাহ ﷺ অতি মানব বা মানুষ ছিলেন বলা শিরকের অন্তর্ভূক্ত।
২। রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর নিজস্ব নূর থেকে সৃষ্টি
কুরআনের বহু আয়াত আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- রাসূলুল্লাহ ﷺ একজন মানুষ ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষের সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই জানেন মানুষ কে তিনি কোন উপদানে সৃষ্টি করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন-
وَمِنۡ ءَايَـٰتِهِۦۤ أَنۡ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ۬ ثُمَّ إِذَآ أَنتُم بَشَرٌ۬ تَنتَشِرُونَ
তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছ। । সুরা রুম : ২০
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন-
وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَـٰنَ مِن سُلَـٰلَةٍ۬ مِّن طِينٍ۬
আমি মানুষকে তৈরী করেছি মাটির উপাদান থেকে। সুরা মুমিনুন : ১২
মানুষ মাটির তৈরি এ সম্পর্কিত আরও আয়াত: সুরা আল ইমরান : ৫৯, সুরা আনাম : ২, সুরা আরাফ : ১২, সুরা সাফফাত : ১১, সুরা সোয়াদ : ৭১, ৭৫, ৭৬।
আল্লাহ তায়ালা ফিরিসতাদের সৃষ্টি করছেন নুর দিয়ে, জিনদের সৃষ্টি করেছেন আগুণের শিখা থেকে (সুরা আর রহমান : ১৫)। আর মানুষকে সৃষ্টি করছেন মাটির উপাদান থেকে। প্রত্যেক সৃষ্টির উপাদান আলাদা, তাই সৃষ্টির বৈশিষ্ট ও আলাদা। মানুষ হিসাবে তাদের কিছু মানবিয় বৈশিষ্ট ও আছে। যেমন- খাবার গ্রহন করা, পিপাসার জন্য পানি পান করা, বিবাহ করা, সন্তানের জম্ম দেওয়া, বাজারে গমন করা, দুনিয়াবি বিভিন্ন কাজে অংশ গ্রহন করা ইত্যাদি। এই মানবিয় বৈশিষ্টগুলি ও তাদের মধ্যে ছিল।
রাসুলুল্লাহ ﷺ নুরের তৈরি এই সম্পর্তে সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবনে মাজাহ, মুসনাদ আবী হানীফা, মুআত্তা মালিক, মুসনাদ আহমাদ, মিশকাতসহ কোন গ্রন্থে কোন হাদিস নাই। চার ইমামসহ ইসলামের প্রথম ৫০০ বৎসরের মধ্যে কেউ কোন হাদিস গ্রন্থে নুর সম্পর্কে কোন হাদিন লিপিব্ধ করে নাই। হাদিস সংকলনের ৫০০ বছরের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ কথা লিখবেন অথচ পূর্বের কোন কিতবের রেফারেন্স দিবেন না, তা কি করে হয়? মনে রাখবেন হাদিস সংকলনের ৫০০ বছর পর কেউ কোন কথা লিখলে বা বললে তাকে অবশ্যই কিতাবের রেফারেন্স দিতে হবে। তা না হলে সে যে কথাটি লিখল বা বলল তা অবশ্যই তার নিজস্ব মতামত বা জাল কথা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ কে আল্লাহর নূরে তৈরি হয়েছে এ কথাটা খুবই বিপদ জনক, ইসলামে থাকা না থাকার প্রশ্ন। রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর নূর। যদি এ অর্থে বলা হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর সত্ত্বাগত নূর, তাহলে তা কুরআন বিরোধী, কারণ কুরআনে তাকে মানুষ বলা হয়েছে। কুরআন ও সহিহ হাদিসে কোথাও বলা হয়নি আল্লাহর সত্তা নূর। তাহলে রাসুল ﷺ আল্লাহর সত্বাগত নূর হওয়ার তো কোন প্রশ্ন আসে না।
যদি কেউ বলে রাসুল ﷺ কে আল্লাহর সত্বাগত নূর থেকে সৃষ্টি করা হইয়াছে। তাহলে তো বলা হল রাসুল ﷺ স্বয়ং আল্লাহর সত্বা। তাহলে এর সুস্পষ্ট মর্ম দাঁড়ায় আল্লাহই রাসূল এবং রাসূলই আল্লাহ। আর এটা যে প্রকাশ্য কুফর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যদি বলা হয়, রাসূল আল্লাহর জাতি নূর মানে হুবহু আল্লাহর সত্ত্বা নন, বরং তাঁর সত্ত্বার অংশ বিশেষ, তাহলে এর পরিস্কার মর্ম দাড়ায় আল্লাহর সত্তায় রাসূল অংশীদার। অথচ এটা যে প্রকাশ্য শিরক।
৩। আল্লাহর নবী, রাসুল, অলী. আওলীয়াগণের মৃত্যু নাই
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ۬ قَدۡ خَلَتۡ مِن قَبۡلِهِ ٱلرُّسُلُۚ أَفَإِيْن مَّاتَ أَوۡ قُتِلَ ٱنقَلَبۡتُمۡ عَلَىٰٓ أَعۡقَـٰبِكُمۡۚ وَمَن يَنقَلِبۡ عَلَىٰ عَقِبَيۡهِ فَلَن يَضُرَّ ٱللَّهَ شَيۡـًٔ۬اۗ وَسَيَجۡزِى ٱللَّهُ ٱلشَّـٰڪِرِينَ
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল ছাড়া কিছুই নন। তার পূর্বে বহু রাসূলস অতিবাহিত হয়েছেন। তিনি যদি মারা যান কিংবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা ইসলাম থেকে ফিরে যাবে? যে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কৃতজ্ঞ লোকদের আল্লাহ যথোচিত পুরস্কার দেবেন। আলে ইমরান : ১৪৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন-
إِنَّكَ مَيِّتٌ۬ وَإِنَّہُم مَّيِّتُونَ
নিশ্চয়ই তুমিও মারা যাবে এবং নিশ্চয়ই তারাও মারা যাবে। সুরা জুমার : ৩০
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন-
وَمَا جَعَلۡنَا لِبَشَرٍ۬ مِّن قَبۡلِكَ ٱلۡخُلۡدَۖ أَفَإِيْن مِّتَّ فَهُمُ ٱلۡخَـٰلِدُونَ (٣٤) كُلُّ نَفۡسٍ۬ ذَآٮِٕقَةُ ٱلۡمَوۡتِۗ وَنَبۡلُوكُم بِٱلشَّرِّ وَٱلۡخَيۡرِ فِتۡنَةً۬ۖ وَإِلَيۡنَا تُرۡجَعُونَ (٣٥)
আর তোমার পূর্বে কোনো মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরকাল বেঁচে থাকবে? প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে৷ আর আমি ভালো ও মন্দ অবস্থার মধ্যে ফেলে তোমাদের সবাইকে পরীক্ষা করছি, শেষ পর্যন্ত তোমাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে৷ সুরা আম্বিয়া : ৩৪-৩৫
আল্লাহর নবী, রাসুল, অলী. আওলীয়াগর মারা গেছেন কিনা এ সম্পর্কে আর কিছু বলার প্রয়োজন আছে কি?
সুতারং যদি বিশ্বাস করি কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করা হয়েছে তবে তা হবে কুরআন বিরোধী শিরকি বিশ্বাস। মৃত্যুর পরে এবং পুনূরুত্থানের পূর্বের জীবনকে বলা হয় ‘বারযাখী জীবন’। ‘‘বারযাখী হায়াত’’ সময়টাকে আমরা সকলে কবরে অবস্থানের সময় কে বুঝিয়ে থাকি। এই জীবনের নবী, শহীদ, মুসলিম, অমুসলিম সকলে জীবিত। কেননা, কবর আজাব সত্য। অপর পক্ষে নবী ও শহীদের ব্যাপারে ষ্পষ্ট ঘোষণা আছে। কিন্তু তাদের হায়াতকে ‘বারযাখী হায়াত’ না বলে, পৃথিবীর মত স্বাভাবিক জীবন আছে মনে করা কুরআন সুন্নাহ বিরোধী। কাজেই ‘বারযাখী হায়াত’ এর রেফারেন্স দিয়ে যদি বলা হয়, আল্লাহর নবী, রাসুল, অলী. আওলীয়াগর মৃত্যু নাই। তাহলে নিশ্চয়ই শিরক।
৪। নবী, রাসুল, অলী, আওলীয়াগর অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
قُل لَّآ أَمۡلِكُ لِنَفۡسِى نَفۡعً۬ا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُۚ وَلَوۡ كُنتُ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ لَٱسۡتَڪۡثَرۡتُ مِنَ ٱلۡخَيۡرِ وَمَا مَسَّنِىَ ٱلسُّوٓءُۚ إِنۡ أَنَا۟ إِلَّا نَذِيرٌ۬ وَبَشِيرٌ۬ لِّقَوۡمٍ۬ يُؤۡمِنُونَ
অর্থঃ আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য। সুরা আরাফ : ১৮৮
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
قُل لَّآ أَقُولُ لَكُمۡ عِندِى خَزَآٮِٕنُ ٱللَّهِ وَلَآ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ وَلَآ أَقُولُ لَكُمۡ إِنِّى مَلَكٌۖ إِنۡ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّۚ قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِى ٱلۡأَعۡمَىٰ وَٱلۡبَصِيرُۚ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ (٥٠)
অর্থ: বল, “আমি তোমাদের বলি নাই যে, আমার নিকট আল্লাহ্র ধনভান্ডার রয়েছে। আমি অদৃশ্য সম্বন্ধে জানি না। আমি তোমাদের এ কথা বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমার নিকট যে প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ হয়েছে, আমি শুধু তার অনুসরণ করি। বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি এক হতে পারে? তোমরা কি বিবেচনা করবে না? সুরা আনাম : ৫০
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারি। তার সৃষ্টজগতের কাউকে তিনি এই বিষয়ে ভাগ প্রদান করেন নাই। এই সম্পর্কিত কিছু রেফারেন্স উল্লেখ করা হল-
সুরা মায়েদা : ১১৬, ১০৯, সুরা আনাম : ৫৯ ৭৩, সুরা তওবা : ১০, ৯৫,৭৮,৪৩, সুরা নাহল- : ৭৭, সুরা ত্বহা : ১১০, সুরা জুকরুক : ৮৫, সুরা তাহরিম : ১, সুরা জিন : ২৫, সুরা সাবা : ৩, সুরা আরাফ : ১৮, সুরা আহজাব : ৬৩, সুরা আনাম : ৫৯. সুরা নামল : ৬৫, সুরা হুজুরাত : ১৮, সুরা ফাতির : ৩৮, সুরা লুকমান : ৩৪, সুরা রাদ ; ৮,৯, সুরা হুদ : ১২৩, সুরা বাকারা : ১৩৩, সুরা কাহব : ২৬।
এই সকল আয়াতেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার রাসূলুল্লাহ ﷺ কে পরিস্কার ভাবে ঘোষনা দিতে বললেন যে, তুমি বল আমি অদৃশ্য সম্বন্ধে জ্ঞান রাখি না। আমাদের রাসূলুল্লাহ ﷺ যেখানে অদৃশ্য সম্বন্ধে জ্ঞান রাখে না, সেখানে সাধারন একজন অলী, আওলীয়া বা পীরের পক্ষে কিভাবে অদৃশ্য সম্বন্ধে জ্ঞান রাখবেন। অদৃশ্যের জ্ঞান রাখা আল্লাহ একক গুনের মধ্যে অন্যতম। আল্লাহর এই গুনটি কাউকে দেওয়া হয়নি, এমন কি আমাদের প্রান প্রিয় সর্বশ্রেষ্ট রাসুর মুহাম্মদ ﷺ কেও না। অন্যান্য নবী, রাসুল, অলী, আওলীয়াগরতো অনেক দুরের কথা। কাজেই কুনআনের বিরোধী আকিদা প্রষণ করা নিশ্চয়ই শিরক।
৫। গণক বা জ্যোতিষীগণ অদৃশ্যের খবর রাখেন
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
*عَٰلِمُ ٱلْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَىٰ غَيْبِهِۦٓ أَحَدًا *
তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী, আর তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। সুরা জিন : ২৬
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
قُلۡ لَّا یَعۡلَمُ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ الۡغَیۡبَ اِلَّا اللّٰہُ ؕ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ اَیَّانَ یُبۡعَثُوۡنَ
বল, ‘আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহে ও যমীনে যারা আছে তারা গায়েব জানে না। আর কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে তা তারা অনুভব করতে পারে না’। সুরা নামল : ৬৫
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
فَلَمَّا قَضَیۡنَا عَلَیۡہِ الۡمَوۡتَ مَا دَلَّہُمۡ عَلٰی مَوۡتِہٖۤ اِلَّا دَآبَّۃُ الۡاَرۡضِ تَاۡکُلُ مِنۡسَاَتَہٗ ۚ فَلَمَّا خَرَّ تَبَیَّنَتِ الۡجِنُّ اَنۡ لَّوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ الۡغَیۡبَ مَا لَبِثُوۡا فِی الۡعَذَابِ الۡمُہِیۡنِ ؕ
তারপর যখন আমি সুলাইমানের মৃত্যুর ফয়সালা করলাম তখন মাটির পোকা জিনদেরকে তার মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করল, যা তার লাঠি খাচ্ছিল। অতঃপর যখন সে পড়ে গেল তখন জিনরা বুঝতে পারল যে, তারা যদি গায়েব জানত তাহলে তারা লাঞ্ছনাদায়ক আযাবে থাকত না। সুরা সাবা : ১৪
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যাক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলো অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করলো অথবা গণকের নিকট গেলো এবং সে যা বললো তা বিশ্বাস করলো, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর নাযিলকৃত জিনিসের বিরুদ্ধাচরণ করলো। সুনানে ইবনে মাজাহ : ৬৩৯, সুনানে তিরমিজি : ১৩৫, সুনানে আবূ দাঊদ ৩৯০৪,
কুরআন সুন্নাহর আলোকে বলা যায়- আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কারো কাছে গায়ের প্রকাশ করেন না, কোন নবী রাসূলও গায়েব জানে না, এমনকি কোন জিনও গায়েব জানে না। তাহলে গণক বা জ্যোতিষী অদৃশ্যের খবর রাখেন এমন বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাদের নিকট অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া নিসন্দেহে শিরক।
৬। রাসূলুল্লাহ ﷺ সর্বত্র সর্বদা হাজির নাজির
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
ذٰلِکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡغَیۡبِ نُوۡحِیۡہِ اِلَیۡکَ ۚ وَمَا کُنۡتَ لَدَیۡہِمۡ اِذۡ اَجۡمَعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ وَہُمۡ یَمۡکُرُوۡنَ
এটা অদৃশ্যলোকের সংবাদ যা তোমাকে আমি ওহি দ্বারা অবহিত করছি, ষড়যন্ত্রকালে যখন তারা মতৈক্যে পৌঁছেছিল তখন তুমি তাদের সাথে ছিলেনা। সুরা ইউসুফ : ১০২
ইউসুফ আ. এর ভাইদের ষড়যন্ত্র রাসূলুল্লাহ ﷺ জানতেন না কেননা তিনি সেখানে ছিলেন না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
تِلۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡغَیۡبِ نُوۡحِیۡہَاۤ اِلَیۡکَ ۚ مَا کُنۡتَ تَعۡلَمُہَاۤ اَنۡتَ وَلَا قَوۡمُکَ مِنۡ قَبۡلِ ہٰذَا ؕۛ فَاصۡبِرۡؕۛ اِنَّ الۡعَاقِبَۃَ لِلۡمُتَّقِیۡنَ
এগুলো গায়েবের সংবাদ, আমি তোমাকে ওহির মাধ্যমে তা জানাচ্ছি। ইতিপূর্বে তা না তুমি জানতে এবং না তোমার কওম। সুতরাং তুমি সবর কর। নিশ্চয় শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য। সুরা হুদ : ৪৯
মুহাম্মদ ﷺ কে গায়েবের বিষয় ওহির মাধ্যমে জানান হত। তিনি সর্বত্র সর্বদা হাজির নাজির থাকলে ওহির জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَمِمَّنۡ حَوۡلَکُمۡ مِّنَ الۡاَعۡرَابِ مُنٰفِقُوۡنَ ؕۛ وَمِنۡ اَہۡلِ الۡمَدِیۡنَۃِ ۟ۛؔ مَرَدُوۡا عَلَی النِّفَاقِ ۟ لَا تَعۡلَمُہُمۡ ؕ نَحۡنُ نَعۡلَمُہُمۡ ؕ سَنُعَذِّبُہُمۡ مَّرَّتَیۡنِ ثُمَّ یُرَدُّوۡنَ اِلٰی عَذَابٍ عَظِیۡمٍ ۚ
আর তোমাদের আশপাশের মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক মুনাফিক এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কিছু লোক অতিমাত্রায় মুনাফিকীতে লিপ্ত আছে। তুমি তাদেরকে জান না। আমি তাদেরকে জানি। অচিরে আমি তাদেরকে দু’বার আজাব দেব তারপর তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে মহা আজাবের দিকে। সুরা তাওবা : ১০১
মুহাম্মদ ﷺ এর চার পাশে অনেক মুনাফিক লোক ছিল। তিনি তাদের চিনতেন না। আল্লাহ তাকে জানিয়ে দিয়েছেন কে কে মুনাফিক ছিল। যদি তিনি সর্বত্র সর্বদা হাজির নাজির থাকতেন তবে মুনাফিকের কার্যকালাপ দেখতে পেতেন এবং আল্লাহ কর্তৃক তাকে আর অবহিত করার প্রয়োজন ছিন না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার ক্ষমতা, রাজত্ব, পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, জ্ঞান, দৃষ্টি ইত্যাদি দ্বারা সর্বত্র সর্বদা হাজির নাজির। উপরের আয়াতগুলো প্রমান করে মুহাম্মদ ﷺ কে আল্লাহ এই গুনটি দান করেন নাই। বরং তিনি তার প্রয়োজন মাফিক ওহি করে জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহর এই গুনের সাথে অন্য কোন নবী, রাসুল, ওলি, আওলিয়াকে যুক্ত করলে বড় শিরক পতিত হবে।
৭। এ কথা বিশ্বাস করা যে দুনিয়াতে স্বচক্ষে আল্লাহ কে দেখা যায়
দুনিয়াতে স্বচক্ষে জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহকে দেখা অসম্ভব। আল্লাহকে কোন দৃষ্টিশক্তি আয়ত্ব করতে পারবেনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
لَّا تُدۡرِكُهُ ٱلۡأَبۡصَٰرُ وَهُوَ يُدۡرِكُ ٱلۡأَبۡصَٰرَۖ وَهُوَ ٱللَّطِيفُ ٱلۡخَبِيرُ
দৃষ্টিশক্তি তাঁকে দেখতে অক্ষম কিন্তু তিনি দৃষ্টিকে আয়ত্ব করে নেন৷ তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ৷ সূরা আনআম : ১০৩
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন-
وَلَمَّا جَآءَ مُوسَىٰ لِمِيقَـٰتِنَا وَكَلَّمَهُ ۥ رَبُّهُ ۥ قَالَ رَبِّ أَرِنِىٓ أَنظُرۡ إِلَيۡكَۚ قَالَ لَن تَرَٮٰنِى وَلَـٰكِنِ ٱنظُرۡ إِلَى ٱلۡجَبَلِ فَإِنِ ٱسۡتَقَرَّ مَڪَانَهُ ۥ فَسَو
ۡفَ تَرَٮٰنِىۚ فَلَمَّا تَجَلَّىٰ رَبُّهُ ۥ لِلۡجَبَلِ جَعَلَهُ ۥ دَڪًّ۬ا وَخَرَّ مُوسَىٰ صَعِقً۬اۚ فَلَمَّآ أَفَاقَ قَالَ سُبۡحَـٰنَكَ تُبۡتُ إِلَيۡكَ وَأَنَا۟ أَوَّلُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
অতপর মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলো এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন তখন সে আকূল আবেদন জানালো, হে প্রভু! আমাকে দর্শনের শক্তি দাও, আমি তোমাকে দেখবো৷ তিনি বললেনঃ তুমি আমাকে দেখতেপারো না৷ হাঁ সামনের পাহাড়ের দিকে তাকাও৷ সেটি যদি নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে তাহলে অবশ্যি তুমি আমাকে দেখতে পাবে৷ কাজেই তার রব যখন পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন, তখন তা তাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিল এবং মূসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলো৷ সংজ্ঞা ফিরে পেয়ে মূসা বললো, পাক-পবিত্র তোমার সত্তা৷ আমি তোমার কাছে তাওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম মুমিন৷ সূরা আরাফ : ১৪৩
সুস্পষ্ট আয়াতের নির্দেশনার আলোকে মুসলিম উম্মাহ একমত যে, পৃথিবীতে কেউ আল্লাহকে দেখতে পারে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে একটি সহিহ হাদিসও বর্ণিত হয় নি, যাতে তিনি বলেছেন ‘আমি জাগ্রত অবস্থায় পৃথিবীতে বা মিরাজে চর্ম চক্ষে আল্লাহকে দেখেছি। নবী, রাসুল, ওলি. আওলিয়া, পীর, বুজুর্গ, আধ্যাতিক গুরু যে কেউই দাবি করতে পারে যে, সে দুনিয়াতে স্বচক্ষে আল্লাহ কে দেখেছেন। দাবি করা আর বাস্তবতা ভিন্ন কথা। আল্লাহ তায়ালা কে নবী মুসা (আ.) দুনিয়াতে স্বচক্ষে জাগ্রত অবস্থায় দেখতে চেয়ে ছিলেন কিন্তু পারেন নাই। তার পরও যদি কেউ দাবি করে বা বিশ্বাস করে দুনিয়ার জীবনে আল্লাহ দেখা সম্ভব তবে তার শিরকি পর্যায়ের কবিরা গুনাহ হবে।
৮। অহেদাতুল অজুদ বা সর্বেশ্বরবাদ আকিদায় বিশ্বাস করা
ওয়াহদাতুল ওজুদ দুটি আরবি শব্দের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে। আরবি শব্দ ওহেদ (এক) থেকে ওহেদা/ ওয়াহদাতুল, যার অর্থ এক হয়ে যাওয়া। আরবি শব্দ ওজুদ অর্থ অস্তিত্ব। ওয়াহদাতুল ওজুদ এর শাব্দিক অর্থ হলঃ সব কিছুর (সৃষ্টি ও স্রষ্টার) অস্তিত্ব এক হয়ে যাওয়া।
গ্রীস ও হিন্দুদের বিশ্বাস থেকে জানা যায়, এই পৃথিবীতে যা কিছুর অস্তিত্ব আছে, সব দেখতে ভিন্ন ভিন্ন রকন হলেও প্রকৃতপক্ষে সবকিছু অস্তিত্ব এক। তাই স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য নেই, যিনি ‘খালিক্ব’ তিনিই ‘মাখলুক’ অর্থাৎ যা সৃষ্টি তাই স্রষ্টা। এই আক্বীদাহ বা বিশ্বাস গ্রীকদের হলেও, এই আক্বীদার উপরে সবচেয়ে বেশী আমলকারী হচ্ছে হিন্দুরা। তাদের মতে পৃথিবীতে যা আছে সবই মাবুদ। অর্থাৎ সবই সৃষ্টি এবং সবই মাবুদ। এ অর্থে কুকুর, শুকর, বানর এবং অন্যান্য নাপাক সৃষ্টিও মাবুদ হতে কোন বাঁধা নেই। সুতরাং তাদের মতে যারা মূর্তি পূজা করে তারা ঈশ্বরেরই (আল্লাহরই) ইবাদত করে (নাউযুবিল্লাহ)। তাই তারা পৃথিবীর প্রায় সবকিছুরই পূজা করে থাকে, যেমনঃ গাছ, পাথর, মাটি, সাপ-বিচ্ছু, হনুমান, হাতী, পশু, পাখি, নদ-নদী, সমুদ্র, নারী, এমনকি পরুষের লিঙ্গেরও পুজা করে। কারন তাদের বিশ্বাস সৃষ্টির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
ওয়াহদাতুল ওজুদ এর বাংলা হচ্ছে ‘সর্বেশ্বরবাদ’। অর্থাৎ সব কিছুর মাঝেই ঈশ্বর আছেন। মুসলিমগন ঈশ্বর শব্দকে মহান আল্লাহ সমান্তারাল ব্যবহার করেনা। তাই সম্ভবত ‘সর্বেশ্বরবাদ’ শব্দটি হিন্দু ধর্ম থেকে আগত, কারন অনেক হিন্দু আছে যারা অদ্বৈতবাদে বিশ্বাসী। ওয়াহদাতুল ওজুদ এর ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ হল: Pantheism. Pantheism দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি হল- Pan, অন্যটি হল- Theo. Pan শব্দের অর্থ হল All বা সব আর Theo শব্দের অর্থ হল- God বা ঈশ্বর। Pantheism এর সঙ্গায় বলা হয়: The doctrine that the whole universe is God (যে মতবাদে বিশ্বের সবকিছুতেই ঈশ্বর)। ইসলাম আসার আগেই এই Pantheism মতবাদটি এথেন্সের দার্শনিকদের মধ্যে লক্ষ করা যায়। এথেন্সের দার্শনিক জেনো কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্টোয়িক দর্শনে সর্বেশ্বরবাদ তথা Pantheism মতবাদটি ছিল বলে জানা যায়। সূত্র: “গ্রিস দর্শন প্রজ্ঞা ও প্রসার” বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত
প্রচীন কাল থেকে মানবীয় যুক্তি, বুদ্ধি, জ্ঞান বা দর্শন দ্বারা স্রষ্টা, সৃষ্টি, স্রষ্টার প্রকৃতি, সৃষ্টির প্রকৃতি ও কর্ম ইত্যাদি নিয়ে গবেষনা করছে। তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিতর্ক অত্যান্ত আকর্ষনীয় হলেও কোন চুড়ান্ত সত্যে পৌছাতে পারেনি। এই ধরনের যুক্তিভিত্তিক জ্ঞান চর্চাকে ইলমুল কালাম বা যুক্তিবিদ্যা বলে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই ইলমুল কালাম বা যুক্তিবিদ্যা ছিল না। দ্বিতীয় হিজরি শতকে মুসলিম উম্মার মধ্যে গ্রীস, ভারতীয় ও পারসিকদের দর্শন প্রচার লাভ করে। মুরধারার তাবেয়ীগন ও তাদের অনুসারীগন গাইবী বিষয়ে, দর্শন বিতর্ক কঠিনভাবে অপছন্দ করতেন। কারন তারা বিশ্বাস করতেন, গায়বি বিষয় সব সময় অহীর উপর নির্ভর করে, যুক্তির উপর নয়। অহীর আদেশ মেনে নেয়াই মুমিনের কাজ। ইমাম আবু হানিফা ও তার অনুসারীগন ইলমুল কালাম শিক্ষা করতে ঘোর আতত্তি করতেন। কারন গায়েবের প্রতি বিশ্বাসে কোন যুক্তি খাটে না। এ জন্যই চার মাযহাবের ইমামদের মধ্যে ফিকহি মাসলা মাসায়েলে মতপার্থক্য থাকলেও আকিদার ব্যাপারে তেমন কোন পার্থক্য পাওয়া যায় না। খুলাফায়ে রাশিদার পর মুসলিম উম্মার মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্ধের প্রভাবে মুলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জাববিয়া, কাদরিয়া, মুরজিয়া, জাহমিয়া, মুতাজিলা ইত্যাদি দল সৃষ্টি হয়ে ছিল। এই সকল দল মানবীয় যুক্তি, বুদ্ধি, জ্ঞান বা দর্শন দ্বারা স্রষ্টা, সৃষ্টি, স্রষ্টার প্রকৃতি, সৃষ্টির প্রকৃতি বুজার চেষ্টা করে। গ্রীস, ভারতীয় ও পারসিকদের দর্শন লুফে নেয়। চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে আহলে সুন্নাহ ওয়ালজামাতের মুলধারা আলেমগন ইলমুল কালাম বা যুক্তিবিদ্যা চর্চা শুরু করে। এই সময়কার প্রখ্যাত ইলমুল কালামবীদ আবুল হাসান আল আশআরী ও আবু মানসুর মাতুরীদীর আবির্ভাব ঘটে। আবুল হাসান আল আশআরী প্রথমিক জীবনে মুতাজিলা মতাদর্শে বিশ্বাসি ছিল। পরবর্তিতে মুতাজিলা মতাদর্শন ত্যাগ করেন এবং মুলধারার ইলমুল কালামে অনেক অবদান রাখেন। চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর পর ইসলাম আস্ত আস্তে সুফিবাদের দিকে ঝুকতে থাকে, সাথে সাথে যুক্তিবৃত্তিক, বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শন প্রসার ঘটে। ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে ভারতীয় ‘সর্বেশ্বরবাদ’ বা গ্রীসের ‘Pantheism’ মুসলিমগন “ওয়াহদাতুল ওজুদ” নামে গ্রহন করে। তার অর্থ দাড়ায় ইসলামের প্রথম পাঁচ শতাব্দীতে “ওয়াহদাতুল ওজুদ” নামে কোন আকিদা ছিল না। আবু হানিফা রহ. রচিত ফিকহুল আকবর বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা’, ও “ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ”
প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দনের লেখা “ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ” যা কওমি মাদ্রাসার লেসাবভূক্ত। উক্ত বই-এ তিনি একটা অধ্যায়ের নাম দিয়েছেন ‘সর্বেশ্বরবাদ/সর্বখোদাবাদ’। ঐ অধ্যায়ের তিনি ওয়াহদাতুল ওজুদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “মুসলিম মনীষিদের মধ্যে সর্ব প্রথম শায়েখে আকবর ইবনুল আরাবী এই মতবাদটি উদ্ভাবন করেন এবং তার অনুসাবীগণ এটির প্রচার ও প্রসার ঘটান। ইবনে আরাবী এই মতবাদটি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, সমগ্র সৃষ্টির অস্তিত্ব হবহু আল্লাহ অস্তিত্ব”।
এখানে তিনি ‘ওয়াহদাতুল ওজুদ’ তথা স্রষ্টা ও সৃষ্টির অস্তিত্বের ঐক্য ও অভেদত্বকেই বুঝিয়েছেন। ফারসি কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তার, সাদরুদ্দি, নাবলুসি প্রমুখ তাদের লেখায় ইবনুল আরাবীর এই ‘ওয়াহদাতুল ওজুদ’ মতবাদটি তুলে ধরেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন। নাবলুসি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আল্লাহই এক মাত্র অস্তিত্ববান সত্বা, এই দৃষ্টি কোন থেকে যে, তিনি সার্বিক সমগ্র । অন্যের দ্বারা তিনি অস্তিত্ববান নন বরং তিনি স্বকীয় সত্তায় অস্তিত্ববান। নাবলুসি এই ‘ওয়াহদাতুল ওজুদ’ আলোকে প্রদত্ত কালিমার ব্যাখ্যাকেই বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা বলে অভিহিত করছেন। তবে আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’আতের উলামাগর তার এ অভিমত মেনে নেয় নি। “ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ” প্রকাশণায়ঃ মাকতাবাতুল আবরার; পৃষ্ঠা -৫৪৭
এতক্ষনে জানতে পারলাম, যে মতবাদটি ইসলামেই নেই। কোন ইমানদার এই আকিদা প্রষণ করতে পারেনা। তবে উপমহাদেশের কিছু আলেম সৃষ্টি ও স্রষ্টার মাঝে পার্থক্য করে এই মতবাদ সঠিক বলার চেষ্টা করছেন। তাদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষন সাধারণ মুসলিমদের বোধ গন্য হবে না। যেহেতু ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল না ছিল এবং যে অর্থে এই আকিদা ব্যবহার হয় তা কুফরি। এই আকিদাতো দুরের কথা এই ধরণের পরিভাষা ব্যবহার করাও হারাম।
৯। হুলুলিয়্যায় বা ‘অনুপ্রবেশবাদ’ বিশ্বাস করা
ইবনে আরাবীর একটি আকিদা ছিল হুললিয়্যাহ। আরবীতে বলা হয়, হুলুলিয়্যাহ, যার বাংলা অর্থ হচ্ছে, ‘অনুপ্রবেশবাদ’। হুলুল কথাটির সাধারণ ব্যাখ্যা হচ্ছে- আল্লাহ কোনো কিছুর মধ্যে ‘হুলুল’ করে অর্থাৎ প্রবেশ করেন। এই মতবাদ প্রাচীনকাল থেকে মানুষের মাঝে বিদ্যমান, তবে বিশেষ করে খৃষ্টানদের মাঝে এই আকিদা লক্ষ্য করা যায়। খ্রীস্টানরা মনে করে আল্লাহ ঈসা (আ.) এর মধ্যে প্রবেশ করে এক হয়ে গেছেন। এই কারণে হুসাইন বিন মানসুর হাল্লাজ নামে একজন পথভ্রষ্ট সূফী যখন বলেছিল, আনাল হক্ব (আমিই আল্লাহ)। তখন এই কথাটিকে খৃষ্টানরাই বেশী পছন্দ করেছিল, কারণ এই কথার সাথে তাদের আকিদার মিল ছিলো। জালালুদ্দিন রুমিও হুলুল আকিদায় বিশ্বাসি ছিলেন। এই জন্য তিনি তার মছনবী শরীফে হুসাইন বিন মানসুর হাল্লাজ প্রসংশাসহ ঊল্লেখ করেছেন। তিনি হুলুল বা মানুষে ঐশীরুপ দেখেছেন। এবং বিশ্বাস করেছেন যে, ইলাহীয়তে বা ঐশী সত্তার বিকাশ স্ফুরন হয় মানবত্বে। তিনি আদম (আ.) কে সর্বপ্রথম আল্লাহর শারীরিক বিকাশ হিসাবে ধরেছেন। আরও বলেন, মানবীয় দৈহিক সত্তায় ঐশী সত্তার পূর্ণতম প্রকাশই আল্লাহর এক চিরন্তন রহস্য। এই ধরনের কথা উচ্চারণের কারণে তিনি লম্বা বিচারকার্যের সম্মুখীন হন এবং দীর্ঘ ১১ বছর বাগদাদ নগরে কারাবাস করেন। অবশেষে উনাকে ৯২২ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে মার্চ জনসমক্ষে তত্কালীন সরকারি বিচারকদের নির্দেশে হত্যা করা হয়।
কিছু পথভ্রষ্ট অজ্ঞ বাতিলপন্থি সুফি ব্যতিত কোন সাধারন মুসলিম হুলুলিয়্যায় বিশ্বাস করা না। এই জন্যই সুফিরা ফানাফিল্লায় বিশ্বাস করে। আল্লাহর ধ্যান আর আরাধনার মাধ্যমে আল্লাহয় বিলিন হয়ে যাওয়া। আল্লাহয় বিলিন হতে পারলে তার আর ইবাদাত প্রয়োজন হয় না। অথচ মুহম্মাদ ﷺ ধ্যান আর আরাধনার মাধ্যমে আল্লাহয় বিলিন হতে পালেন না। তিনি মৃত্যুর পুর্বক্ষণ পর্যান্ত সালাত আদায় করছেন। এই আকিদা একটি শির্কি আকিদা। বিশ্বাসকারি মুশরিক এতে কোন সন্দেহ নেই।
১০। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া অন্য কাউকে হিদায়েত প্রদানের মালিক মনে করা
হিদায়েতের এক মাত্র মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। কুনআন ও সহিহ হাদিসে এই সম্পর্কে অসংখ্যা বর্ণনা এসেছে। নিচের সহিহ হাদিসটি দিকে লক্ষ করুন-
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) তাঁর পিতা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবূ তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে নবী ﷺ তার কাছে গেলেন। এ সময় আবূ জাহল এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহও সেখানে বসা ছিল। নবী ﷺ বললেন, হে চাচা! আপনি পড়ুন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আপনার মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট এটা দলিল হিসেবে পেশ করব। এ কথা শুনে আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়াহ বলল, হে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করে দিবে? নবী ﷺ বললেন, হে চাচা! আমি আপনার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হবে ততক্ষণ ক্ষমা চাইতে থাকব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়-
إِنَّكَ لَا تَہۡدِى مَنۡ أَحۡبَبۡتَ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يَہۡدِى مَن يَشَآءُۚ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ (٥٦)
নবী ও মুমিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুশরিকদের জন্য যদি তারা নিকটাত্মীয়ও হয় যখন তাদের কাছে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামি, সুরা তওবা-১১৩। সহিহ বুখারি : ৪৬৭৫
উক্ত ঘটনা দ্বারা বুঝতে পারি, ব্যক্তিগত ভালবাসা ও আত্মিয়তার সম্পর্কের ভিত্তিতে যদি কোন ব্যক্তির হিদায়াত লাভ করত ততে তিনি ছিলেন আবু তালেব। কিন্তু তাকে হিদায়াত দান করার শক্তি যখন নবী ﷺ কে দিলেন না, তা হলে একথা একেবারে সুস্পষ্ট হয়ে গেলো যে, কাউকে হিদায়াত দান করা বা কাউকে হিদায়াত বঞ্চিত করা নবী ﷺ ক্ষমতার বাইরে। এবং বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاء وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন। (সুরা কাসাস ২৮:৫৬)
যদি কেহ মনে করে তার পীর, শাইখ বা মুরব্বী তাকে হিদায়েত দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তবে হিদায়েততো দুরের কথা তার ইমানই চলে যাবে। কেননা, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া কেহই হিদায়েত প্রদানের মালিক নয়।
১১। কিমামতের দিন আল্লাহ ছাড়া কাউকে সুপারিশের মালিক মনে করা
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-ই হল সাফায়েত বা সুপারিশের একমাত্র মালিক। তিনিই একচ্ছন্নভাবে সুপারিশের অধিকারি। তিনি ছাড়া কঠিন হাসরের ময়দানে কেউ সুপারিশ করতে পারবেন না। সর্ব প্রকার সুপারিশের চাবিকাঠি একমাত্র তাঁরই হাতে। কোন কারো জন্য সুপারিশ করা তো দূরের কথা নিজে জন্যই আল্লাহর দরবারে সুপারিশকারী হিসেবে আল্লাহর নিকট যাবে এমন শক্তিও করো থাকবে না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَـٰعَةُ جَمِيعً۬اۖ لَّهُ ۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ (٤٤)
বলো, সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আসমান ও যমীনের বাদশাহীর মালিক তিনিই৷ তোমাদেরকে তারই দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে৷ সূরা যুমার : ৪৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন-
مَا لَكُم مِّن دُونِهِۦ مِن وَلِىٍّ۬ وَلَا شَفِيعٍۚ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ
তিনি ছাড়া তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই এবং নেই তার সামনে সুপারিশকারী, তারপরও কি তোমরা সচেতন হবে না। সূরা সাজদাহ : ৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন-
وَاَنۡذِرۡہُمۡ یَوۡمَ الۡاٰزِفَۃِ اِذِ الۡقُلُوۡبُ لَدَی الۡحَنَاجِرِ کٰظِمِیۡنَ ۬ؕ مَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ حَمِیۡمٍ وَّلَا شَفِیۡعٍ یُّطَاعُ ؕ
আর তুমি তাদের আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দাও। তখন তাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে দুঃখ, কষ্ট সংবরণ অবস্থায়। জালিমদের জন্য নেই কোন অকৃত্রিম বন্ধু, নেই এমন কোন সুপারিশকারী যাকে গ্রাহ্য করা হবে। সুরা গাফির : ১৮
আখিরাতের সেই ভয়াবহ বিপদের মূহূর্ত মহান আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত কেউ শাফাআত করতে পারবে না। তিনি যাকে ইচ্ছা সুপারিশের অনুমতি দেবেন। আবার ইচ্ছা করলে না ও দিতে পারেন। ইহা সম্পূর্ণরূপে তার ইখাতিয়ার ভূক্ত। এক শ্রেণীর মুশরীকেরা চিন্তা করে থাকেন যে, আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তিবর্গ, নবীগন, রাসুলগন. ফেরেশস্তাগর বা অন্যান্য সত্তা আল্লাহর নিকট সুপারিশ করে তাদের জান্নাত দিবেন বা আল্লাহর ওখানে তাদের বিরাট প্রতিপত্তি আছে। তাই তারা আল্লাহর কাছ থেকে তারা যে কোন কার্যোদ্ধার করতে সক্ষম। তারা যে কথার ওপর অটল থাকে, তা তারা আদায় করেই ছাড়ে। এভাবেই সুপারিশের লোভে শির্কি কাজে জড়িয়ে পরে। অথচ শ্রেষ্ঠতম পয়গম্বর এবং কোন নিকটতম ফেরেশতাও এই পৃথিবী ও আকাশের মালিকের দরবারে বিনা অনুমতিতে একটি শব্দও উচ্চারণ করার সাহস রাখে না। তবে মনে রাখতে হবে সুপারিশের জন্য দুটি শর্থ আছে।
১। ঈমানদার হতে হবে (তার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকা)।
২। মহান আল্লাহ তাআলার অনুমতি।
শাফাআতের জন্য ঈমানদার হতে হবে
নবীগণ, ফেরেশতাগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, নেককার বান্দাগণ সকলেই শাফাআত করবেন কিন্তু তাদের শাফাআত প্রাপ্তির প্রধান উপকরন হল ঈমান ও কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক নেক আমল যা করলে তিনি সন্তুষ্টি থাকবেন। যদি মনে করে থাকি আত্মিয়তার সম্পর্ক তবে মারাত্ত্বক ভুল করবেন। একটু লক্ষ করুন, ইউসুফ (আ.) এর পিতা ইয়াকুব (আ.), ইয়াকুব (আ.) এর পিতা ইসহাক (আ.), ইসহাক (আ.) এর পিতা ইব্রাহীম (আ.)। এই চার জন জলিল কদর নবী (আ.) একত্রে মিলে তাদের পূর্ব পুরুষ ইব্রাহীম (আ.) এর পিতা আজল কে কি জান্নাতে নিতে পারবে? নিশ্চয় পারবেন না। মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা আলী (রা.) এর বাবা, মা ফাতিমা (রা.) এর শশুর, হাসান হোসেন (রা.) এর দাদা আবু তালিবকে কি এরা সকলে মিলে কিয়ামতের কঠিন সময় সকলে মিলে শাফায়েদ করে জান্নাতে নিতে পারবে? বড় কঠিন প্রশ্ন।
মনে রাখবেন সুপারিশ প্রাপ্তির জন্য শর্থ হল ঈমান। আল্লাহর নিকট অপ্রিয় (মুসরিক) এমন কারো জন্য কোন সুপারিশ চলবে না। কুরআনে বর্ণিত আছে, মহা প্লাবনের সময় আল্লাহর প্রেরিত নবী নূহ (আ.) তার ছেলে কেনানকে আজাব হতে রক্ষা করার ব্যাপারে সুপারিশ করে ছিলেন আল্লাহ তা গ্রহণ করেননি। পিতা আজরের জন্যে ইবরাহীম (আ.) এর ক্ষমা করে দেয়ার সুপারিশ গ্রহণ করেননি। দুনিয়াতে যারা প্রকাশ্য শিরক ও কুফরীর গুনাহে লিপ্ত ছিল এবং এর উপর মৃত্যুবরণ করেছেন, কিয়ামত দিবসে তারা সুপরিশ থেকে বঞ্চিত হবেন। তাদের জন্য কোন প্রকারের সুপারিসের অনুমতি প্রদান করা হবে না। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَـٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَـٰلِدِينَ فِيہَآ
আহলে কিতাবের মধ্যে যারা কাফের এবং মুশরিক, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ী ভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। সূরা বায়্যিনাহ : ৬
শাফাআতের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার অনুমতি প্রয়োজন:
মহান তাআলা বলেছেন,
مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَمَا فِى ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشۡفَعُ عِندَهُ ۥۤ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ
পৃথিবী ও আকাশে যা কিছু আছে সবই তার৷ কে আছে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? সূরা বাক্বারা : ২৫৫
মহান তাআলা বলেছেন,
إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍ۬ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۖ مَا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ إِذۡنِهِۦۚ ذَٲلِڪُمُ ٱللَّهُ رَبُّڪُمۡ فَٱعۡبُدُوهُۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ (٣)
কোন শাফায়াতকারী (সুপারিশকারী ) এমন নেই, যে তার অনুমতি ছাড়া শাফায়াত করতে পারে৷ এ আল্লাহই হচ্ছেন তোমাদের রব৷ কাজেই তোমরা তারই ইবাদত করো৷ এরপরও কি তোমাদের চৈতন্য হবে না। সুরা ইউনুস : ১০৩
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যাচ্ছে মহান আল্লাহ সুপারিশের অনুমতি দিবেন। কিন্তু মনে রাখত হবে শুধু ইমানদার যাদের উপর তিনি সন্ত্বষ্ট তাদের সুপারিশ করার অনুমতি দিবেন। আখিরাতের সেই ভয়াবহ বিপদের মুহূর্তে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনর অনুমতি ব্যতীত কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। সুপারিশ স্বেচ্ছামূলক নয়, বরং তা হবে অনুমতি ক্রমে। আখিরাতে কেউ যখন সুপারিশ করার সাহস করতে পারবে না। তখন আমাদের প্রিয় বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই প্রথম শাফাআতের অনুমতি পাবেন। অতপর, আমাদের নবীজীর সাথে অন্যান্যরা শাফাআত করবেন। যেমন, নবীগণ, ফেরেশতাগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, নেককার বান্দাগণ, সিয়াম ও কুরআন সুপারিশ করবে বল সহিহ দ্বারা প্রমানিত। আল্লাহর অনুমতিক্রমে ইমানদারদের জন্য সুপারিশ করা হবে। সহিহ হাদিসের মাধ্যমে জানা যায়, বিশ্বনবি মুহাম্মদ ﷺ প্রথম সুপারিশের অনুমতি পাবেন।
আবূ হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ
আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার হব এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর খুলে যাবে এবং আমিই প্রথম সুপারিশকারী ও প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি। সহিহ মুসলিম : ২২৭৮, সুনানে আবু দাউদ : ৪৬৭০
আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, জান্নাতে লোকদের প্রবেশ সম্পর্কে আমিই হবো সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং এত অধিক সংখ্যক মানুষ আমার প্রতি ইমান এনেছে যা অন্য কোন নাবির বেলায় হবে না। নাবীদের কেউ কেউ তো এমতাবস্থায়ও আসবেন যাঁর প্রতি মাত্র এক ব্যক্তিই ইমান এনেছে। সহিহ মুসলিম : ৩৭৩
রসূলুল্লাহ এর পর অন্যান্য নবী রাসুলগণ, শহিদগণ, আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ, কুরআন ও সিয়াম মুমিনদের জন্য সুপারিশের অনুমতি পাবেন
আবূ উমামাহ আল বাহিলী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি তোমরা কুরআন পাঠ কর। কারণ কিয়ামতের দিন তার পাঠকারীর জন্য সে সুপারিশকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সুরাহ অর্থাৎ সুরাহ আল বাকারাহ এবং সুরাহ্ আল ইমরান পড়। কিয়ামতের দিন এ দুটি সূরা এমনভাবে আসবে যেন তা দু খণ্ড মেঘ অথবা দু’টি ছায়াদানকারী অথবা দুই ঝাক উড়ন্ত পাখি যা তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলবে। আর তোমরা সূরা বাকারাহ পাঠ কর। এ সূরাটিকে গ্রহণ করা বারাকাতের কাজ এবং পরিত্যাগ করা পরিতাপের কাজ। আর বাতিলের অনুসারীগণ এর মোকাবেলা করতে পারে না। সহিহ মুসলিম : ৮০৪
নিমরান ইবনু উতবাহ আয-যামারী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা কতক ইয়াতীম উম্মুদ দারদা (রা.) এর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা আমি আবূ দারদা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন শহিদ তার পরিবারের সত্তরজনের জন্য সুপারিশ করবে এবং তার সুপারিশ কবুল করা হবে। আবু দাউদ : ২৫২২
আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَقُولُ الصِّيَامُ: أَيْ رَبِّ إِنِّي مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ: مَنَعْتُهُ النُّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ فيشفعان . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان
সিয়াম এবং কুরআন বান্দার জন্য শাফা’আত করবে। সিয়াম বলবে, হে রব! আমি তাকে দিনে খাবার গ্রহণ করতে ও প্রবৃত্তির তাড়না মিটাতে বাধা দিয়েছি। অতএব তার ব্যাপারে এখন আমার শাফা’আত কবূল করো। কুরআন বলবে, হে রব! আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে এখন আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবে। মিশকাত : ১৯৬৩, সহহি আত তারগিব : ৯৭৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম : ২০৩৬, শুসিহহ আল জামি :৩৮৮২,
অনেক পীরকে বলতে শুনা যায়, আখেরাতে পীর সাহেব নাকি মুরিদদের ফেলে জান্নাতে যাবে না। কেমন হাস্যক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং নিজের কলিজার টুকরার জিম্মাদারী নিতে পারলেন না। অথচ পীর সাহেব মুরিদদের জিম্মাদারী নিচ্ছেন। তবে নেককার মানুষ আল্লাহ অনুমতি নিয়ে সুপারিশ করবেন। যদি কেউ বলেন, অমুক অলী সুপারিশ করবে, এরূপ নিশ্চিত করা শিরকি কাজ, কেননা মনে হবে আল্লাহ নিকট তার প্রতিপত্তি আছে। তাছাড়া ইহাতে আল্লাহকে বাধ্য করা হয় যা চুড়ান্তভাবে অন্যায়। আর যদি কেউ গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে শাফাআতের দু’আ বা প্রার্থনা করে তবে দাও শির্ক হবে।
১২। মানুষকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনর মত ভয় করা
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
فَلَا تَخۡشَوُاْ ٱلنَّاسَ وَٱخۡشَوۡنِ وَلَا تَشۡتَرُواْ بِـَٔايَـٰتِى ثَمَنً۬ا قَلِيلاً۬ۚ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلۡكَـٰفِرُونَ
কাজেই (হে ইহুদী) তোমরা মানুষকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো এবং সামান্য তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে আমার আয়াত বিক্রি করা পরিহার করো৷ আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী যারা ফায়সালা করে না তারাই কাফের৷ সুরা মায়িদা : ৪৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
فَلَمَّا کُتِبَ عَلَیۡہِمُ الۡقِتَالُ اِذَا فَرِیۡقٌ مِّنۡہُمۡ یَخۡشَوۡنَ النَّاسَ کَخَشۡیَۃِ اللّٰہِ اَوۡ اَشَدَّ خَشۡیَۃً ۚ وَقَالُوۡا رَبَّنَا لِمَ کَتَبۡتَ عَلَیۡنَا الۡقِتَالَ ۚ لَوۡلَاۤ اَخَّرۡتَنَاۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ؕ قُلۡ مَتَاعُ الدُّنۡیَا قَلِیۡلٌ ۚ وَالۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لِّمَنِ اتَّقٰی ۟ وَلَا تُظۡلَمُوۡنَ فَتِیۡلًا
অতঃপর তাদের উপর যখন লড়াই ফরয করা হল, তখন তাদের একদল মানুষকে ভয় করতে লাগল আল্লাহকে ভয় করার অনুরূপ অথবা তার চেয়ে কঠিন ভয়। আর বলল, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদের উপর লড়াই ফরয করলেন কেন? আমাদেরকে কেন আরো কিছুকালের অবকাশ দিলেন না’? বল, ‘দুনিয়ার সুখ সামান্য। আর যে তাকওয়া অবলম্বন করে তার জন্য আখিরাত উত্তম। আর তোমাদের প্রতি সূতা পরিমাণ যুলমও করা হবে না’। সুরা নিসা : ৭৭
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
فَلَا تَخۡشَوۡهُمۡ وَٱخۡشَوۡنِى وَلِأُتِمَّ نِعۡمَتِى عَلَيۡكُمۡ وَلَعَلَّكُمۡ تَہۡتَدُونَ
সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকে ভয় কর, আমি অবশ্যই তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করব এবং যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও। সুরা বাকারা : ১৫০
আল্লাহর ভয় একজন মুমিনের অন্যতম সম্পদ। আল্লাহ তায়ালার ভয় থাকা ঈমানের অন্যতম একটি অংশ। মানুষ আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে কারণ তার বিশ্বাস, তার সব কাজ আল্লাহ দেখছেন এবং একদিন আল্লাহর সামনে গিয়ে তাকে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু যার বিশ্বাস দুর্বল, সে জীবনের মায়ায় ও পার্থিক স্বার্থের কারণে দুনিয়ার মানুষকে আল্লাহ থেকেও বেশী ভয় করে। যার প্রমান উপরের আয়াতগুলো, যেখান আল্লাহ তায়ালা এই কাজকে ইহুদীদের কাজ বলেছেন। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে তারাই হেদায়েত প্রাপ্ত।
১৩। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে অন্যের নিকট ধর্না দেওয়া
প্রকৃত রহমতের মালিক এক মাত্র মহান আল্লাহর। তার রহমত থেকে তো একমাত্র কাফেররাই নিরাশ হয় (ইউসুফ-৮৭)৷ কাফের আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে উপায় উপকরনে মাধ্যমে রহমত বা সাহায্য খুজে। আর যখন স্রষ্টার রহমত সৃষ্টির মাঝে খুজতে থাকে তখনই শির্কে আকবারে লিপ্ত হয়। এই জন্য আল্লাহর রহমত থেক কাফের, পথভ্রষ্ট, কিতাব অস্বীকার এবং তার সাথে সাক্ষাত অস্বীকারকরী লোকেরাই রহমত থেকে নিরাশ হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
يَـٰبَنِىَّ ٱذۡهَبُواْ فَتَحَسَّسُواْ مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَاْيۡـَٔسُواْ مِن رَّوۡحِ ٱللَّهِۖ إِنَّهُ ۥ لَا يَاْيۡـَٔسُ مِن رَّوۡحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡقَوۡمُ ٱلۡكَـٰفِرُونَ (٨٧)
হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের ব্যাপারে কিছু অনুসন্ধান চালাও৷ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না৷ তাঁর রহমত থেকে তো একমাত্র কাফেররাই নিরাশ হয়৷ সুরা ইউসুফ : ৮৭
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
قَالَ وَمَن يَقۡنَطُ مِن رَّحۡمَةِ رَبِّهِۦۤ إِلَّا ٱلضَّآلُّونَ (٥٦)
ইবরাহীম বললো, পথভ্রষ্ট লোকেরাই তো তাদের রবের রহমত থেকে নিরাশ হয়৷ (সুরা হিযর ১৫:৫৬)।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ وَلِقَآٮِٕهِۦۤ أُوْلَـٰٓٮِٕكَ يَٮِٕسُواْ مِن رَّحۡمَتِى وَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ لَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ۬ (٢٣)
যারা আল্লাহর আয়াত এবং তার সাথে সাক্ষাত অস্বীকার করে, তারা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গেছে এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি৷ (আনকাবুত ২৯:২৩)
যারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে না তাদের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিবেন। মহান আল্লাহ বলেন,
قُلۡ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُ ۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ (٥٣)
(হে নবী,) বলে দাও, হে আমার বান্দারা যারা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করেছো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না৷ নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন৷ তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু৷ (সুরা জুমার ৩৯:৫৩)।
যারা বিপদে আল্লাহ আশ্রয় খুজবে, আল্লাহ ও রসূলের হুকুম মেনে নিবে, তার কিতাবে কথাকে মেনে নিবে তারাই শুধু রহমত পাবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ لَعَلَّڪُمۡ تُرۡحَمُونَ (١٣٢) ۞
এবং আল্লাহ ও রসূলের হুকুম মেনে নাও, আশা করা যায় তোমাদের ওপর রহমত করা হবে৷ (সুরা আল ইমরান ৩:১৩২)।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
ٱلَّذِينَ إِذَآ أَصَـٰبَتۡهُم مُّصِيبَةٌ۬ قَالُوٓاْ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّآ إِلَيۡهِ رَٲجِعُونَ (١٥٦)أُوْلَـٰٓٮِٕكَ عَلَيۡہِمۡ صَلَوَٲتٌ۬ مِّن رَّبِّهِمۡ وَرَحۡمَةٌ۬ۖ وَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلۡمُهۡتَدُونَ (١٥٧) ۞
এবং যখনই কোন বিপদ আসে বলে, আমরা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দাও। তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের ওপর বিপুল অনুগ্রহ বর্ষিত হবে, তাঁর রহমত তাদেরকে ছায়াদান করবে এবং এই ধরণের লোকরাই হয় সত্যানুসারী ৷ (সুরা বাকারা ২:১৫৭)।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِٱللَّهِ وَٱعۡتَصَمُواْ بِهِۦ فَسَيُدۡخِلُهُمۡ فِى رَحۡمَةٍ۬ مِّنۡهُ وَفَضۡلٍ۬ وَيَہۡدِيہِمۡ إِلَيۡهِ صِرَٲطً۬ا مُّسۡتَقِيمً۬ا (١٧٥)
এখন যারা আল্লাহর কথা মেনে নেবে এবং তার আশ্রয় খুঁজবে তাদেরকে আল্লাহ নিজের রহমত, করুণা ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে নেবেন এবং নিজের দিকে আসার সোজা পথ দেখিয়ে দেবেন৷ (সুরা নিসা ৪:১৭৫)।
কে রহমত পাবেন আর কে পাবেন না কেউ তা জানেন না। তাই কখনো কোন ঈমানদারদের মুখে উচ্চারিত হওয়া উচিত নয় যে অমুক রহমত পাবেনই। এ বিষয়টির ফায়সালা একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহর কিতাবরে দৃষ্টিতে বলা যাবে কে রহমতলাভের অধিকার রাখে এবং কে শাস্তিলাভের অধিকারী। কিন্তু অমুক ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হবে এবং অমুককে মাফ করে দেয়া হবে, একথা বলার অধিকার কারোর নেই।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
رَّبُّكُمۡ أَعۡلَمُ بِكُمۡۖ إِن يَشَأۡ يَرۡحَمۡكُمۡ أَوۡ إِن يَشَأۡ يُعَذِّبۡكُمۡۚ وَمَآ أَرۡسَلۡنَـٰكَ عَلَيۡہِمۡ وَڪِيلاً۬ (٥٤)
তোমাদের রব তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে বেশী জানেন৷ তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং চাইলে তোমাদের শাস্তি দেন৷ আর হে নবী! আমি তোমাকে লোকদের ওপর হাবিলদার করে পাঠাইনি৷ সুরা বনী ইসরাঈল : ৫৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَمَآ أَرۡسَلۡنَـٰكَ إِلَّا رَحۡمَةً۬ لِّلۡعَـٰلَمِينَ (١٠٧)
হে মুহাম্মাদ! আমি যে তোমাকে পাঠিয়েছি, এটা আসলে দুনিয়াবাসীদের জন্য আমার রহমত৷ (আম্বিয়া ২১:১০৭)
আল্লাহ রহমতের আশা না করে কোন মাজার বা পীরের নিকট রহমত খোজকরা শিরকে আকবর। বিপাদ আপদে, অভাব অনাটনে আল্লাহর রহমতে আশা করা আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ ছাড়া অন্য ইরাহর রহমতের আশা করাই শিরক।
১৪। মহান আল্লাহ অংহকারের চাদর দিয়ে টানাটানি করা বা স্রষ্টার মত গর্ব অহংকার করা
সত্যিকারের গর্ব অহংকার এক মাত্র মহান আল্লাহ তায়ালানই সাজে। অহংকার মহান আল্লাহ তায়ালান একটা গুন আর আল্লাহর এই গুনে গুনান্নিত হতে চায় সে নিশ্চয়ই আল্লাহ গুনা ভাগ বসাতে চায়। আল্লাহ গুনা ভাগবসাতে চাওয়া শিরকে আকবর। ইবলিশ শয়তান অহংকার করে জান্নাত থেকে বহিস্কার হয়েছে। এমনি ভাবে যেই অহংকার করবে সেই ইসলাম থেকে প্রত্যাখান হবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَإِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلَـٰٓٮِٕكَةِ ٱسۡجُدُواْ لِأَدَمَ فَسَجَدُوٓاْ إِلَّآ إِبۡلِيسَ أَبَىٰ وَٱسۡتَكۡبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلۡكَـٰفِرِينَ
তারপর যখন ফেরেশতাদের হুকুম দিলাম , আদমের সামনে নত হও, তখন সবাই অবনত হলো, কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করলো ৷ সে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মেতে উঠলো এবং নাফরমানদের অন্তরভুক্ত হলো। সুরা বাকারা :৩৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
إِنَّہُمۡ كَانُوٓاْ إِذَا قِيلَ لَهُمۡ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسۡتَكۡبِرُونَ
এরা ছিল এমন সব লোক যখন এদেরকে বলা হতো, “আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই” তখন এরা অহংকার করতো৷ সুরা সাফফাত : ৩৫
মহান আল্লাহ তায়ালান বলেন:
وَلَا تُصَعِّرۡ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمۡشِ فِى ٱلۡأَرۡضِ مَرَحًاۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخۡتَالٍ۬ فَخُورٍ۬
আর মানুষের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কথা বলো না, পৃথিবীর বুকে চলো না উদ্ধত ভঙ্গিতে, আল্লাহ পছন্দ করেন না আত্মম্ভরী ও অহংকারীকে। সুরা লোকমন : ১৮
মহান আল্লাহ তায়ালান বলেন:
فَٱدۡخُلُوٓاْ أَبۡوَٲبَ جَهَنَّمَ خَـٰلِدِينَ فِيہَاۖ فَلَبِئۡسَ مَثۡوَى ٱلۡمُتَكَبِّرِينَ
অর্থ: এখন যাও, জাহান্নামের দরযা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ো, ওখানেই তোমাদের থাকতে হবে চিরকাল৷ সত্য বলতে কি, অহংকারীদের এ ঠিকানা বড়ই নিকৃষ্ট। সুরা নাহাল ১৬: ২৯
অহংকারীকে আল্লাহ কিভাবে ধ্বংশ করেন তারই দুটি উদাহরন দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে। শিক্ষা গ্রহনের জন্য ঘটনা দুটি তুলে ধরলাম।
কুরআনে বর্ণিত প্রথম ঘটনা : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
একথা সত্য কারূণ ছিল মূসার সম্প্রদায়ের লোক, তারপর সে নিজের সম্প্রদায়ে বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠলো৷ আর আমি তাকে এতটা ধনরত্ন দিয়ে রেখেছিলাম যে, তাদের চাবিগুলো বলবান লোকদের একটি দল বড় কষ্টে বহন করতে পারতো৷ একবার যখন এ সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে বললো, “অহংকার করো না, আল্লাহ অহংকারকারীদেরকে পছন্দ করেন না৷ আল্লাহ তোমাকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা দিয়ে আখেরাতের ঘর তৈরি করার কথা চিন্তা করো এবং দুনিয়া থেকেও নিজের অংশ ভুলে যেয়ো না৷ অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার চেস্টা করো না৷ আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না৷” এতে সে বললো, “এসব কিছু তো আমি যে জ্ঞান লাভ করেছি তার ভিত্তিতে আমাকে দেয়া হয়েছে৷ সে কি এ কথা জানতো না যে, আল্লাহ এর পূর্বে এমন বহু লোককে ধ্বংস করে দিয়েছেন যারা এর চেয়ে বেশী বাহুবল ও জনবলের অধিকারী ছিল? অপরাধীদেরকে তো তাদের গোনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় না৷ একদিন সে সম্প্রদায়ের সামনে বের হলো পূর্ণ জাঁকজমক সহকারে৷ যারা দুনিয়ার জীবনের ঐশ্বর্যের জন্য লালায়িত ছিল তারা তাকে দেখে বললো, “আহা! কারূনকে যা দেয়া হয়েছে তা যদি আমরাও পেতাম! সে তো বড়ই সৌভাগ্যবান৷ কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলতে লাগলো, “তোমাদের ভাবগতিক দেখে আফসোস হয়৷ আল্লাহর সওয়াব তার জন্য ভালো যে ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, আর এ সম্পদ সবরকারীরা ছাড়া আর কেউ লাভ করে না৷ শেষ পর্যন্ত আমি তাকে ও তার গৃহকে ভূগর্ভে পুতে ফেললাম৷ তখন আল্লাহর মোকাবিলায় তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসার মতো সাহায্যকারীদের কোন দল ছিল না এবং সে নিজেও নিজেকে সাহায্য করতে পারলো না৷ সুরা কাসাস : ৭৬-৮১
কুরআনে বর্ণিত দ্বিতীয় ঘটনা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
হে মুহাম্মাদ! এদের সামনে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করে দাও৷ দু ব্যক্তি ছিল৷ তাদের একজনকে আমি দুটি আংগুর বাগান দিয়েছিলাম এবং সেগুলোর চারদিকে খেজুর গাছের বেড়া দিয়েছিলাম আর তার মাঝখানে রেখেছিলাম কৃষি ক্ষেত৷ দুটি বাগানই ভালো ফলদান করতো এবং ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে তারা সামান্যও ত্রুটি করতো না৷ এ বাগান দুটির মধ্যে আমি একটি নহর প্রবাহিত করেছিলাম। এবং সে খুব লাভবান হয়েছিল৷ এসব কিছু পেয়ে একদিন সে তার প্রতিবেশীর সাথে কথা প্রসংগে বললো, “আমি তোমার চেয়ে বেশী ধনশালী এবং আমার জনশক্তি তোমার চেয়ে বেশী৷” তারপর সে তার বাগানে প্রবেশ করলো এবং নিজের প্রতি জালেম হয়ে বলতে লাগলোঃ “আমি মনে করি না এ সম্পদ কোনো দিন ধ্বংস হয়ে যাবে৷ এবং আমি আশা করি না কিয়ামতের সময় কখনো আসবে৷ তবুও যদি আমাকে কখনো আমার রবের সামনে ফিরিয়ে নেয়া হয় তাহলে নিশ্চয়ই আমি এর চেয়েও বেশী জাঁকালো জায়গা পাবো৷ তার প্রতিবেশী কথাবার্তার মধ্যে তাকে বললো, “তুমি কি কুফরী করছো সেই সত্তার যিনি তোমাকে মাটি থেকে তারপর শুক্র থেকে পয়দা করেছেন এবং তোমাকে একটি পূর্ণাবয়ব মানুষ বানিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন? আর আমার ব্যাপারে বলবো, আমার রব তো সেই আল্লাহই এবং আমি তার সাথে কাউকে শরীক করি না৷ আর যখন তুমি নিজের বাগানে প্রবেশ করছিলে তখন তুমি কেন বললে না, “আল্লাহ যা চান তাই হয়, তাঁর প্রদত্ত শক্তি ছাড়া আর কোনো শক্তি নেই ? যদি তুমি সম্পদ ও সন্তানের দিক দিয়ে আমাকে তোমার চেয়ে কম পেয়ে থাকো । তাহলে অসম্ভব নয় আমার রব আমাকে তোমার বাগানের চেয়ে ভালো কিছু দেবেন এবং তোমার বাগানের ওপর আকাশ থেকে কোনো আপদ পাঠাবেন যার ফলে তা বৃক্ষলতাহীন প্রান্তরে পরিণত হবে৷ অথবা তার পানি ভূগর্ভে নেমে যাবে এবং তুমি তাকে কোনোক্রমেই উঠাতে পারবে না৷ শেষ পর্যন্ত তার সমস্ত ফসল বিনষ্ট হলো এবং সে নিজের আংগুর বাগান মাচানের ওপর লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে থাকতে দেখে নিজের নিয়োজিত পুঁজির জন্য আফসোস করতে থাকলো এবং বলতে লাগলো, “হায়! যদি আমি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক না করতাম”৷ সে সময় আল্লাহ ছাড়া তাকে সাহায্য করার মতো কোনো গোষ্ঠীও ছিল না, আর সে নিজেও এ বিপদের মুকাবিলা করতে সক্ষম ছিল না৷ তখন জানা গেলো, কর্মসম্পাদনের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে ন্যস্ত, যিনি সত্য৷ আর পুরষ্কার সেটাই ভালো, যা তিনি দান করেন এবং পরিণতি সেটাই শ্রেয়, যা তিনি দেখান৷ সুরা কাহাব : ৩২-৪৪
আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
الْعِزُّ إِزَارُهُ وَالْكِبْرِيَاءُ رِدَاؤُهُ فَمَنْ يُنَازِعُنِي عَذَّبْتُهُ
ইজ্জত ও সম্মান আল্লাহর ভূষণ এবং গর্ব ও অহংকার তার চাদর। যে লোক এ ক্ষেত্রে আমার সাথে টানা-হেঁচড়া করবে আমি তাকে অবশ্যই সাজা দিব। সহিহ মুসলিম : ২৬২০
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন-
لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। সহিহ মুসলিম : ১৬৮
হারিসাহ ইবনু ওয়াহব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী ﷺ কে বলতে শুনেছি, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের সম্পর্কে জানাব না? তারা হবে (দুনিয়াতে) দুর্বল, মাযলুম। তারা যদি আল্লাহর ওপর কসম করে, তবে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন। আর জাহান্নামের অধিবাসী হবে অবাধ্য, ঝগড়াটে ও অহংকারীরা। সহিহ বুখারি : ৬৬৫৭
কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ সাল্লাম) বলেছেন, দু’টি জান্নাত এমন হবে, সেগুলোর পানপাত্র ও তার ভিতরের সব কিছুই হবে রূপার। আর দু’টি জান্নাত এমন হবে, সেগুলোর পানপাত্র ও তার ভিতরের সবকিছুই হবে সোনার। জান্নাতে আদনে তাদের ও তাদের রব্বের দর্শনের মাঝে তাঁর চেহারার উপর অহংকারের চাদর ব্যতীত আর কোন কিছু আড়াল থাকবে না। সহিহ বুখারি : ৭৪৪৪