ইবাদত বা আমলগত শিরকে আকবর : দ্বিতীয় পর্ব (১১-২২)

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

১১। ঈসা (আ.) কে মহান আল্লাহর সাথে তুলনা করা

সাধারনত খৃষ্টান ধর্মের অনুসারিগন ঈসা (আ.) কে মহান আল্লাহর সাথে তুলনা করে থাকে। তারাই এই শিরকের প্রবক্তা, অনুসারী এবং প্রচার কারি। খৃষ্টানদের অপপ্রচারে কারণে কিছু শিক্ষিত কিন্তু ইসলামি জ্ঞানে অজ্ঞ নামধারি মুসলিম লোকেরাও বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই শিরক থেকে বাচতে চাইলে প্রথমে চাই এ সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা। মহান আল্লাহই এ ব্যাপারটি পরিস্কান করে দিয়েছেন। তিনি পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 لَقَدۡ ڪَفَرَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡمَسِيحُ ٱبۡنُ مَرۡيَمَ‌ۖ وَقَالَ ٱلۡمَسِيحُ يَـٰبَنِىٓ إِسۡرَٲٓءِيلَ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ رَبِّى وَرَبَّڪُمۡ‌ۖ إِنَّهُ ۥ مَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَٮٰهُ ٱلنَّارُ‌ۖ وَمَا لِلظَّـٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٍ۬  

নিসন্দেহে তারা কুফরী করেছে যারা বলেছে, মারয়াম পুত্র মসীহ্‌ই আল্লাহ৷ অথচ মসীহ্‌ বলেছেন, হে নবী ইসরাঈল! আল্লাহর বন্দেগী করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদেরও রব ! যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেছে তার ওপর আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস জাহান্নাম ৷ আর এ ধরনের জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই৷ সুরা মায়েদা : ৭২

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

لَّقَدۡ ڪَفَرَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ ثَالِثُ ثَلَـٰثَةٍ۬‌ۘ وَمَا مِنۡ إِلَـٰهٍ إِلَّآ إِلَـٰهٌ۬ وَٲحِدٌ۬‌ۚ وَإِن لَّمۡ يَنتَهُواْ عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ (٧٣)

অর্থ: নিসন্দেহে তারা কুফরী করেছে যারা বলেছে, আল্লাহ তিন জনের মধ্যে একজন৷ অথচ এক ইলাহ্‌ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই যদি তারা নিজেদের এই সব কথা থেকে বিরত না হয়, তাহলে তাদের মধ্য থেকে যারা কুফরী করেছে তাদেরকে যন্ত্রণা দায়ক শাস্তি দেয়া হবে৷  সুরা মায়েদা : ৭৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 مَّا ٱلۡمَسِيحُ ٱبۡنُ مَرۡيَمَ إِلَّا رَسُولٌ۬ قَدۡ خَلَتۡ مِن قَبۡلِهِ ٱلرُّسُلُ وَأُمُّهُ ۥ صِدِّيقَةٌ۬‌ۖ ڪَانَا يَأۡڪُلَانِ ٱلطَّعَامَ‌ۗ ٱنظُرۡ ڪَيۡفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ ٱلۡأَيَـٰتِ ثُمَّ ٱنظُرۡ أَنَّىٰ يُؤۡفَكُونَ (٧٥) 

অর্থ: মারয়াম পুত্র মসীহ্‌ তো একজন রসূল ছাড়া আর কিছুই ছিল না?  তার পূর্বেও আরো অনেক রসূল অতিক্রান্ত হয়েছিল৷ তার মা ছিল একজন সত্যনিষ্ঠ মহিলা৷ তারা দুজনই খাবার খেতো৷ দেখো কিভাবে তাদের সামনে সত্যের নিদর্শনগুলো সুস্পষ্ট করি৷ তারপর দেখো তারা কিভাবে উল্টো দিকে ফিরে যাচ্ছে৷ সুরা মায়েদা : ৭৫

উপরের তিনটি আয়াতের দ্ব্যর্থহীনভাবে খৃষ্টীয় আকীদার সুস্পষ্ট প্রতিবাদ করা হয়েছে। যদি কেই প্রশ্ন করে হযরত ঈসা (আ.) কি ছিলেন? তিনি সম্পূর্ণ সন্দেহাতীভাবে একজন মানুষ ছিলেন। তিনি আল্লাহর একজন প্রিয় বান্দা ও রাসুল ছিলেন। মানুষের হেদায়েতের পৃথিবীতে অনেক নবী রাসূল এসেছিল, তিনি তাদের মধ্যে একজন। তিনি নিজে কখন বলে নাই, আমিই আল্লাহ, আমিই রব বা এমন ও দাবি করে নাই যে, আমি আল্লাহর সন্তান (নাউজুবিল্লহ)। তিনি নিজে আল্লাহ বা আল্লাহর কাজে তাঁর সাথে শরীক ও তাঁর সমকক্ষ করতেন না।  তিনি যে এক জন সত্যিকারের মানুষ তার প্রমান, তার জন্ম এক মহিলার গর্ভে, যার একটি বংশ তালিকা আছে, যিনি মানবিক দেহের অধিকারী ছিলেন, তিনি ঘুমাতেন, খেতেন, ঠাণ্ডা-গরম অনুভব করতেন।আসলে যে ঈসা (আ.) এর আবির্ভাব বাস্তবে ঘটেছিল, যিনি রাসুল ছিলেন তার আনিত ধর্ম থেকে খৃষ্টানগন আজ বহুদুরে। সত্যিকার ঈসা আলাইহিস সালামকে তারা মানে না। বরং তারা মানে নিজেদের কল্পিত  ঈসা মসিহ কে।

১২। সৃষ্টি ও ইবাদতে মহান আল্লাহর সাথে ফিরিস্তাদের সম্পৃক্ত করা

জাহেলীযুগের আবরের মূর্খ লোকরা ফিরিস্তাদের আল্লাহর মেয়ে কল্পনা করত এবং এর তারা আল্লাহর সৃষ্ট মাকলুক ফিরিস্তাদেরকে কাল্পনিকভাবে আল্লাহর সমকক্ষ দাড় করিয়েছে। এমনকি তারা কাল্পনিকভাবে আল্লাহর বংশ তালিকাও তৈরি করে তা আল্লাহর বংশধারা চালিয়ে দিয়েছে। তারা ফিরিস্তাদেরকে বিভিন্ন দেবীদের নামে নামকরণ করে পুজা করত যা স্পষ্ট শিরকি কাজ৷  আর এসব তারা করত শুধু অনুমানের ভিত্তিতে, কোন প্রমান ছাড়াই।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأَخِرَةِ لَيُسَمُّونَ ٱلۡمَلَـٰٓٮِٕكَةَ تَسۡمِيَةَ ٱلۡأُنثَىٰ (٢٧) وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍ‌ۖ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ‌ۖ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغۡنِى مِنَ ٱلۡحَقِّ شَيۡـًٔ۬ا (٢٨) 

কিন্তু যারা আখেরাত মানে না তারা ফিরিস্তাদেরকে দেবীদের নামে নামকরণ করে৷  অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞানই নেই৷ তারা কেবলই বদ্ধমূল ধারণার অনুসরণ করছে৷  আর ধারণা কখনো জ্ঞানের প্রয়োজন পূরণে কোন কাজে আসতে পারে না৷ সুরা নাজম : ২৭-২৮

জাহেলী যুগের মুশরিকেরা দু’টি কারণে ফেরেশতাদেরকে মাবুদে পরিণত করে তাদের পুজা করত।  প্রথমত, তারা বিশ্বাস করত ফিরিস্থাগন আল্লাহর সন্তান। দ্বিতীয়ত, পরকালের কঠিন সময় তারা আল্লাহর কাছে তাদের শাফায়াতকারীতে (সুপারিশকারী) পরিণত হবে। তার দলিল কুরআনের নিচের আয়াত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 لَا يَسۡبِقُونَهُ ۥ بِٱلۡقَوۡلِ وَهُم بِأَمۡرِهِۦ يَعۡمَلُونَ (٢٧) يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيہِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يَشۡفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرۡتَضَىٰ وَهُم مِّنۡ خَشۡيَتِهِۦ مُشۡفِقُونَ (٢٨)

 এরা বলে, করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেন৷ সুবহানাল্লাহ! তারা তো মর্যাদাশালী বান্দা৷তারা তাঁর সামনে অগ্রবর্তী হয়ে কথা বলে না এবং শুধুমাত্র তাঁর হুকুমে কাজ করে৷যাকিছু তাদের সামনে আছে এবং যাকিছু আছে তাদের অগোচরে সবই তিনি জানেন৷ যাদের পক্ষে সুপারিশ শুনতে আল্লাহ সম্মত তাদের পক্ষে ছাড়া আর কারো সুপারিশ তারা করে না এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত৷ সুরা আম্বিয়া : ২৭-২৮

ফিরিস্থাগন আল্লাহর সন্তান, তাদের এই দাবির আসারনত প্রমান করে. আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 وَجَعَلُواْ ٱلۡمَلَـٰٓٮِٕكَةَ ٱلَّذِينَ هُمۡ عِبَـٰدُ ٱلرَّحۡمَـٰنِ إِنَـٰثًا‌ۚ أَشَهِدُواْ خَلۡقَهُمۡ‌ۚ سَتُكۡتَبُ شَهَـٰدَتُہُمۡ وَيُسۡـَٔلُونَ (١٩) وَقَالُواْ لَوۡ شَآءَ ٱلرَّحۡمَـٰنُ مَا عَبَدۡنَـٰهُم‌ۗ مَّا لَهُم بِذَٲلِكَ مِنۡ عِلۡمٍ‌ۖ إِنۡ هُمۡ إِلَّا يَخۡرُصُونَ (٢٠)

এরা দয়াময় আল্লাহর খাস বান্দা ফিরিস্থাগনকে স্ত্রীলোক গন্য করেছে। এরা কি তাদের দৈহিক গঠন দেখেছে? এদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করে নেয়া হবে এবং সে জন্য এদেরকে জবাবদিহি করতে হবে৷ এরা বলে, দয়াময় আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে আমরা কখনো পূজা করতাম না। এ বিষয়ে প্রকৃত সত্য এরা আদৌ জানে না, কেবলই অনুমানে কথা বলে৷ সুরা জুকরুক : ১৯-২০

পরকালের কঠিন সময় আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেহই সুপারিশকারী করতে পারবে না। ফেরেশতা, নবী সৎলোক প্রত্যেকের সুপারিশ করার এখতিয়ার আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষ। আল্লাহ তাদের কাউকে কোন ব্যক্তির পক্ষে শাফায়াত করার অনুমতি দিলে তবেই তারা তার পক্ষে শাফায়াত করতে পারবেন। নিজে পক্ষ থেকে তারা কোন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারেন না। আর  সুপারিশ শোনা বা না শোনা এবং তা কবুল করা বা না করা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। কাজেই এসব মনগড়া উপাস্যদের সুপারিশ উপকারে আসা তো দূরের কথা, সমস্ত ফেরেশতা মিলেও যদি কারো জন্য সুপারিশ করে তথাপিও তা তার কাজে আসবে না। প্রভুত্বের এখতিয়ারসমূহ সবই পুরোপুরি আল্লাহর হাতে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

وَكَم مِّن مَّلَكٍ۬ فِى ٱلسَّمَـٰوَٲتِ لَا تُغۡنِى شَفَـٰعَتُہُمۡ شَيۡـًٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ

 আসমানে তো কত ফেরেশতা আছে যাদের সুপারিশও কোন কাজে আসতে পারে না যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ ইচ্ছায় যাকে খুশী তার জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দান করেন৷  সুরা নাজম :  ২৬

কাজেই এ ধরনের ক্ষমতাহীন সুপারিশকারীর সামনে মাথা নোয়ানো এবং প্রার্থনার করা বড় শিরক। কোন জিনিসের আল্লাহর জ্ঞানের অন্তরভুক্ত না হওয়ার মানেই হচ্ছে এই যে, সেটির আদতে কোন অস্তিত্বই নেই। কারণ, যা কিছুর অস্তিত্ব আছে সবই আল্লাহর জ্ঞানের অন্তরভুক্ত। আকাশে ও পৃথিবীতে আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী আছে অথচ স্বয়ং আল্লাহই জানেন না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

وَيَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمۡ وَلَا يَنفَعُهُمۡ وَيَقُولُونَ هَـٰٓؤُلَآءِ شُفَعَـٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِ‌ۚ قُلۡ أَتُنَبِّـُٔونَ ٱللَّهَ بِمَا لَا يَعۡلَمُ فِى ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَلَا فِى ٱلۡأَرۡضِ‌ۚ سُبۡحَـٰنَهُ ۥ وَتَعَـٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ

এ লোকেরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করছে তারা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না৷ আর তারা বলে এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী৷ হে মুহাম্মাদ! ওদেরকে বলে দাও, “তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ের খবর দিচ্ছো যার অস্তিত্বের কথা তিনি আকাশেও জানেন না এবং যমিনেও না! তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি পাক-পবিত্র এবং তার উর্ধে৷  সুরা ইউনুস : ১৮

২২। আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানের উপসনা করা

সৃষ্টিকর্তা হিসাবে মহান আল্লাহই এক মাত্র উপসনার যোগ্য। তাকে বাদে যারই ইবাদাত করা হোক না কেন বড় শিরকের অন্তভূক্ত হবে। তাইতো মহান আল্লাহ শয়তানের ইবাদাত করতে নিষেধ করছেন। এবং শুধু তারই ইবাদাত করতে নির্দেষ প্রদান করছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

أَلَمۡ أَعۡهَدۡ إِلَيۡكُمۡ يَـٰبَنِىٓ ءَادَمَ أَن لَّا تَعۡبُدُواْ ٱلشَّيۡطَـٰنَ‌ۖ إِنَّهُ ۥ لَكُمۡ عَدُوٌّ۬ مُّبِينٌ۬ (٦٠) وَأَنِ ٱعۡبُدُونِى‌ۚ هَـٰذَا صِرَٲطٌ۬ مُّسۡتَقِيمٌ۬ (٦١) وَلَقَدۡ أَضَلَّ مِنكُمۡ جِبِلاًّ۬ كَثِيرًا‌ۖ أَفَلَمۡ تَكُونُواْ تَعۡقِلُونَ (٦٢)  

হে আদম সন্তানেরা! আমি কি তোমাদের এ মর্মে হিদায়াত করিনি যে, শয়তানের ইবাদাত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। এবং আমারই ইবাদাত করো, এটিই সরল-সঠিক পথ। কিন্তু এ সত্ত্বেও সে তোমাদের মধ্য থেকে বিপুল সংখ্যককে গোমরাহ করে দিয়েছে, তোমাদের কি বুদ্ধি-জ্ঞান নেই? সুরা ইয়াসিন : ৬০-৬২

শয়তানের ইবাদাত কো দুরের কথা কোন অবস্থায় শয়তানের আনুগত্য প্রকাশ করা যাবে। কুরআনের অনেক স্থানে আল্লাহ বলেন, “ হে ঈমানগারগণ! আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রসূলের”। আমরা কেবলমাত্র রসূলের আনুগত্য করার পথেই আল্লাহর আনুগত্য করতে পারি। রসূলের সনদ ও প্রমাণপত্র ছাড়া আল্লাহর কোন আনুগত্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অপর পক্ষে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍স্রষ্টার নাফরমানি করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না”। এ থেকে বুঝা যায় আল্লাহর এবং রসূলের আনুগত্য বাদ দিয়ো শয়তানের অনুসরণ করা শিরক।   

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٲتِ ٱلشَّيۡطَـٰنِ‌ۚ وَمَن يَتَّبِعۡ خُطُوَٲتِ ٱلشَّيۡطَـٰنِ فَإِنَّهُ ۥ يَأۡمُرُ بِٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ‌ۚ

হে ঈমানদানগণ! শয়তানের পদাংক অনুসরণ করে চলো না ৷ যে কেউ তার অনুসরণ করবে তাকে সে অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ করার হুকুম দেবে৷ সুরা নূর : ২১

১৩ দুনিয়া পরিচালনের ক্ষেত্র আল্লাহ সাথে গাইরুল্লাহকে সম্পৃক্ত করা

মহান আল্লাহ আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত দুনিয়ার যাবতীয় বিষয় পরিচালনা করেন। এই কাজ করতে তিনি কখন ক্লান্ত হন না। “আল্লাহ এমন এক চিরঞ্জীব ও চিরন্তন সত্তা যিনি সমগ্র বিশ্ব-জাহানের দায়িত্বভার বহন করছেন, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই ৷ তিনি ঘুমান না এবং তন্দ্রাও তাঁকে স্পর্শ করে না, পৃথিবী ও আকাশে যা কিছু আছে সবই তাঁর” (বাকারা:২৫৫)।  তার কোন সাহায্যকারিও দরকার হয় না। তিনি একক ক্ষমতার অধিকারী, তিনি কারো মুখাপেক্ষি নন (ইখলাস)। যদি কেউ বিশ্বাস করে মহান আল্লাহ দুনিয়ার যাবতীয় বিষয় পরিচালনা করার জন্য অন্যের সাহায্য দরকার তবে সে নিসন্দেহে মুশরিক। আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ إِلَى ٱلۡأَرۡضِ ثُمَّ يَعۡرُجُ إِلَيۡهِ فِى يَوۡمٍ۬ كَانَ مِقۡدَارُهُ ۥۤ أَلۡفَ سَنَةٍ۬ مِّمَّا تَعُدُّونَ (٥)

তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত দুনিয়ার যাবতীয় বিষয় পরিচালনা করেন এবং এ পরিচালনার বৃত্তান্ত ওপরে তার কাছে যায় এমন একদিনে যার পরিমাপ তোমাদের গণনায় এক হাজার বছর ৷ সুরা সাজদা : ৫

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

قُلۡ مَن يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ أَمَّن يَمۡلِكُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَـٰرَ وَمَن يُخۡرِجُ ٱلۡحَىَّ مِنَ ٱلۡمَيِّتِ وَيُخۡرِجُ ٱلۡمَيِّتَ مِنَ ٱلۡحَىِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَ‌ۚ فَسَيَقُولُونَ ٱللَّهُ‌ۚ فَقُلۡ أَفَلَا تَتَّقُونَ  

তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দেয়? এই শুনার ও দেখার শক্তি কার কর্তৃত্বে আছে? কে প্রাণহীন থেকে সজীবকে এবং সজীব থেকে প্রাণহীনকে বের করে? কে চালাচ্ছে এই বিশ্ব ব্যবস্থাপনা”? তারা নিশ্চয়ই বলবে, আল্লাহ৷ বলো, তবুও কি তোমরা সতর্ক হচ্ছো না? সুরা ইউনুস : ৩১

কিন্তু খুবই পরিতাপের বিষয় আমাদের সমাজের কিছু নামধারী মুসলিমের বিশ্বাস, আল্লাহ যেহেতু একা, সেহেতু একাই তার পক্ষে পুরো বিশ্বজগত পরিচালনা করা সম্ভব নয় (নাউজুবিল্লাহ)। ফলে তিনি তাঁর বিশ্ব পরিচালনা কাজের সুবিধার্থে আরশে মু‘আল্লায় একটি পার্লামেন্ট কায়েম করেছেন। সেই পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা মোট ৪৪১ জন। আল্লাহ তাদের স্ব-স্ব কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। তন্মধ্যে নাজীর ৩১৯ জন, নাকীব ৭০ জন, আওতাদ ৭ জন, কুতুব ৫ জন, আবদাল ৪০ জন এবং একজন হলেন গাউসুল আযম যিনি মক্কায় থাকেন। উম্মতের মধ্যে আবদাল ৪০ জন আল্লাহ তা‘আলার মধ্যস্থতায় পৃথিবীবাসীর বিপদাপদ দূরীভূত করে থাকেন। আর আওলিয়া দ্বারা সৃষ্ট জীবের হায়াত, রুযী, বৃষ্টি, বৃক্ষ জন্মান ও মুছীবত বিদূরণের কার্য সম্পাদন করেন। মৃতগণ কবরে শ্রবণ, দর্শন ও উপলদ্ধি করে থাকেন। তাদের শ্রবণ ও দর্শন যদিও সব সময় থাকে, কিন্তু জুম‘আর দিনে তা বাড়িয়ে দেয়া হয় এবং সাধারণ মৃত ব্যক্তিরাও কোনরূপ ব্যতিক্রম ছাড়া যিয়ারাতকারীদের সাথে কথা বলে। অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

ٱللَّهُ ٱلَّذِى رَفَعَ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ بِغَيۡرِ عَمَدٍ۬ تَرَوۡنَہَا‌ۖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِ‌ۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ‌ۖ كُلٌّ۬ يَجۡرِى لِأَجَلٍ۬ مُّسَمًّ۬ى‌ۚ يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَ يُفَصِّلُ ٱلۡأَيَـٰتِ لَعَلَّكُم بِلِقَآءِ رَبِّكُمۡ تُوقِنُونَ (٢) 

আল্লাহই স্তম্ভ ছাড়াই আকাশমন্ডলীকে ঊর্ধ্বে তুলে রেখেছেন, যা তোমরা দেখছ, অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হয়েছেন। তিনিই সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মের বন্ধনে বশীভূত রেখেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গতিশীল আছে। যাবতীয় বিষয় তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী হতে পার। সুরা রাদ : ২

১৪। তাগুতের  অনুসরন করা

তাগুদ বলতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সন্তষ্টির জন্য ইবাদাত করা এবং সে (তগুত) তার ইবাদাতে সস্তষ্টু থাকে। অথবা আল্লাহ বা তার রাসুল ব্যতিত অন্য যার আনুগত্য করা হয়, তাকে তাগুত বলা হয়। যেমন: শয়তান, অত্যাচারি শ্বাসক, আল্লাহর আইন ভঙ্গকারী শ্বাসক, ভন্ড পীর যে ইসলাম বিরোধী কাজের আহবানকরে। ইবাদাতের এক মাত্র অধিকারী মহান আল্লাহ। মানুষ যখন সেই ইবাদত আল্লাহর জন্য না করে তাগুতের জন্য করে তখন শিরক হয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِى ڪُلِّ أُمَّةٍ۬ رَّسُولاً أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّـٰغُوتَ‌ۖ فَمِنۡهُم مَّنۡ هَدَى ٱللَّهُ وَمِنۡهُم مَّنۡ حَقَّتۡ عَلَيۡهِ ٱلضَّلَـٰلَةُ‌ۚ فَسِيرُواْ فِى ٱلۡأَرۡضِ فَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلۡمُكَذِّبِينَ

প্রত্যেক জাতির মধ্যে আমি একজন রসূল পাঠিয়েছি এবং তার মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আল্লাহর বন্দেগী করো এবং তাগূতের বন্দেগী পরিহার করো৷ সুরা নাহল : ৩৬

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

اَللّٰہُ وَلِیُّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۙ  یُخۡرِجُہُمۡ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ؕ  وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَوۡلِیٰٓـُٔہُمُ الطَّاغُوۡتُ ۙ  یُخۡرِجُوۡنَہُمۡ مِّنَ النُّوۡرِ اِلَی الظُّلُمٰتِ ؕ  اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ  ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ 

আল্লাহই হচ্ছেন মু’মিনদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে যান; আর যারা অবিশ্বাস করেছে তাগুত তাদের পৃষ্ঠপোষক, সে তাদেরকে আলো হতে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, ওখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। সুরা বাকারা : ২৭৭

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يَزۡعُمُونَ أَنَّهُمۡ ءَامَنُواْ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبۡلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوٓاْ إِلَى ٱلطَّـٰغُوتِ وَقَدۡ أُمِرُوٓاْ أَن يَكۡفُرُواْ بِهِۦ وَيُرِيدُ ٱلشَّيۡطَـٰنُ أَن يُضِلَّهُمۡ ضَلَـٰلاَۢ بَعِيدً۬ا

হে নবী! তুমি কি তাদেরকে দেখোনি, যারা এই মর্মে দাবী করে চলেছে যে, তারা ঈমান এনেছে সেই কিতাবের প্রতি যা তোমার ওপর নাযিল করা হয়েছে এবং সেই সব কিতাবের প্রতি যেগুলো তোমরা পূর্বে নাযিল করা হয়েছিল কিন্তু তারা নিজেদের বিষয়সমূহ ফায়সালা করার জন্য “তাগুতে”র দিকে ফিরতে চায়, অথচ তাদেরকে তাগুতকে অস্বীকার করার হুকুম দেয়া হয়েছিল?  শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে সরল সোজা পথ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়৷ সুরা নিসা : ৬০ 

এই আয়াতে ‘তাগুত’ বলতে ঐ সকল শ্বাসকদের বুঝানো হয়েছ আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানুষের তৈরি আইন অনুযায়ী ফালসালা কাজেই যে আদালত তাগুতের ভূমিকা পালন করছে অর্থাৎ মানুষের তৈরি আইন দ্বারা নিজেদের বিভিন্ন বিষয়ের ফায়সালা করে। আর আল্লাহ ও তাঁর কিতাবের ওপর ঈমান আনার অপহিহার্য দাবি হল এ ধরনের আদালতকে অবৈধ মনে করা। কুরআনের দৃষ্টিতে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ও তাগুতকে অস্বীকার করা, এ দু’টি বিষয় পরস্পরের সাথে অংঙ্গাঅঙ্গীকারভাবে সংযুক্ত এবং এদের একটি অন্যটির অনিবার্য পরিণতি। আল্লাহ ও তাগুত উভয়ের সামনে একই সাথে মাথা নত করাই হচ্ছে সুস্পষ্ট শিরকে আকবর।

১৫ কবর কেন্দ্রিক মাজার নির্মাণ করে সিজদার স্থানে পরিণত করা

সুফিগন কবর কেন্দ্রিক মাজার তৈরি করে অনেক বিদআত ও শির্ক কাজ করে চলছে। অথচ নবী ﷺ কবর নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে উম্মাতকে সতর্ক করেছেন।

আয়িশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযি.) বলেছেন, নবী ﷺ এর মৃত্যু পীড়া শুরু হলে তিনি তাঁর একটা চাদরে নিজ মুখমণ্ডল আবৃত করতে লাগলেন। যখন শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হলো, তখন মুখ হতে চাদর সরিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেন-

‏ لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ ‏”‏‏.‏ يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوا‏.‏

ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। তারা যে কার্যকলাপ করত তা হতে তিনি সতর্ক করেছিলেন। সহিহ বুখারি : ৪৩৫, ৪৩৬, ১৩৩০, ১৩৯০, ৩৪৫৩, ৩৪৫৪, ৪৪৪১, ৪৪৪৩, ৪৪৪৪, ৫৮১৫, ৫৮১৬, সহিহ মুসলিম : ৫৩১

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ ‏‏

আল্লাহ ইয়াহুদীদেরকে ধ্বংস করুক, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। সহিহ মুসলিম : ১০৬৮ ইফাঃ

আয়িশাহ (রা.) হতে বর্ণিত যে, উম্মু হাবীবা ও উম্মু সালামা (রা.) হাবশায় তাঁদের দেখা একটা গির্জার কথা বলেছিলেন, যাতে বেশ কিছু মূর্তি ছিল। তাঁরা উভয়ে বিষয়টি নবী ﷺ এর নিকট বর্ণনা করলেন। তিনি ইরশাদ করলেন, তাদের অবস্থা ছিল এমন যে, কোন সৎ লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মাসজিদ বানাতো। আর তার ভিতরে ঐ লোকের মূর্তি তৈরি করে রাখতো। কিয়ামত দিবসে তারাই আল্লাহর নিকট সবচাইতে নিকৃষ্ট সৃষ্টজীব বলে পরিগণিত হবে। সহিহ বুখঅরি : ৪২৭, ৪৩৪, ১৩৪১, ৩৭৩, সহিহ মুসলিম : ৫২৮

জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ﷺ এর মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে থেকে আমার কোন খলীল বা একান্ত বন্ধু থাকার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে মুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ ইবরাহীমকে যেমন খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সে রকমভাবে আমাকেও খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমি আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কাউকে খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে আবূ বকরকেই তা করতাম। সাবধান থেকো তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবরসমূহকে মাসজিদ (সাজদার স্থান) হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান তোমরা কবরসমূহকে সাজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করে যাচ্ছি। সহিহ মুসলিম : ৫৩২

আবূল হায়াজ আসাদী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রা.) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে ঐ কাজে পাঠাব যে কাজে রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে পাঠিয়ে ছিলেন? কাজটা হল সকল মূর্তিকে বিলুপ্ত এবং উচু কবরকে ভেঙ্গে দিবে। সহিহ মুসলিম : ২১১৫ ইফঃ

এমনিভাবে নবী ﷺনিষেধ করেছেন, কবর পাকা করতে, চুনকাম করতে, তার উপর বসতে নিষেধ করেছেন।

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ কবরের উপর চুনা লাগানো, তার উপর বসা, কবরের উপর গৃহনির্মাণ বা পাকা করতে নিষেধ করেছেন। সহিহ মুসলিম : ২১১৭ ইফঃ

এই হাদিসগুলোর আলোকে বুঝা যায় কথিত পীর আলি আউলিয়াদের নামে মাজার নির্মান করা হারাম ও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এই পর্যন্ত করলে কবিরা গুনাহ দ্বারা ইসলাম থেকে বহিস্কার কবে না কিন্তু যখন এই মাজরের মৃত্যু ব্যক্তির নিকট ফরিয়াদ করা হবে, তার নিকট আশ্রায় চাওয়া হবে, তাকে হিদায়েত প্রদানকারী গন্য করা হবে, তার অলৌকিক ক্ষমতা আছে বিশ্বাস করা হবে, এমনি তাকে সিজদার হকদার মনে করে মাজারে সিজদা করা হবে তখন আর কবিরা গুনাহে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই কবিরা গুনাহটি তখন শিরকে পরিনত হয়ে ঐ মাজার পুজারীকে ইসলাম থেকে বহিস্কার করে দিবে।

** একটি সংশয়ের নিরষনঃ নবী এর কবর মসজিদে নব্বীর মধ্যে কেন?

মসজিদে নব্বী নির্মিত হয়েছে নবী ﷺ এর জীবদ্দশায়। মসজিদটি সম্প্রসারনের কারনে মনে হয় মসজিদটি কবরের উপর নির্মিত। রাসূল ﷺ কে মূলত, আয়েশা (রা.) এর কামরায় দাফন করা হয়েছিল। আশেয়া (রাঃ) এর ঘরটি নবী ﷺ এর মসজিদের মিম্বর থেকে মাত্র ৫০/৬০ মিটার দুরে। কাজেই যখন মসজিদটি সম্প্রসারনের সিদ্ধান্ত হয় তখন দেখা যায় আশেয়া (রাঃ) এর ঘরটি মসজিদের ভিতরে পড়ে যায়। দাফনের পর ৮৪ বছরেরও বেশী সময় পর্যন্ত রাসূল ﷺ এর কবর মসজিদের বাইরেই ছিল। ৯৪ হিজরী সনে মসজিদ সম্প্রসারণ কালে একজন উমাইয়া খলীফা মসজিদে নববী সম্প্রসারণ করলে আয়েশা (রা.) এর কামরা মসজিদের ভেতরে পড়ে যায়। উল্লেখ্য যে, তৎকালীন আলেমগণ কর্তৃক উক্ত কামরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করানোর বিরোধিতা খলীফা গ্রাহ্য করেন নি। তাই বলা যায় নবী ﷺ কবরটি মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করানো সাহাবীদের ইজমার আলোক সিদ্ধান্তে হয়নি বরং তাদের অধিকাংশের মৃত্যুর পর হয়েছে। এই সম্প্রসারণের কাজে বহু সাহাবী ও তাবেয়ী দ্বিমতও পোষণ করেছিলেন এবং বাধা দিয়েছিলেন। তাবেঈনদের মধ্যে সাঈদ বিন মুসাইয়েব তাদের অন্যতম।

যারা হজ্জে গিয়ে নবী ﷺ এর কবর জিয়ারত করেছেন তারা দেখেছেন যে, কবরটি মুল মসজিদের এক পাশে পড়েছে তাই কবরটি মসজিদের ভিতরে নেই। কারণ উহা মসজিদ হতে সম্পূর্ণ পৃথক রুমে রয়েছে। এই স্থানটিকে তিনটি প্রাচীর দ্বারা সংরক্ষিত ও বেষ্টিত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রাচীরকে এমন একটি দিকে রাখা হয়েছে যা কিবলা হতে বিপরীত পার্শে রয়েছে এবং উহার এক সাইড উল্টা দিকে রয়েছে, যাতে করে কোন সানুষ নামায পড়া কালীন উহাকে সম্মুখীন না করতে পারে কারণ উহা কিবলা হতে এক পার্শে রয়েছে। এছাড়া কবরটি বাহির থেকে সরাসরি দেখা যায় না। মনে হবে চার দেয়ালের মাঝে একটি রুম। যারা নবী ﷺ এর কবর মসজিদের ভিতরে বলে দলীল প্রদান করেন তাদের জন্য উপরের বক্তব্য টুকু যথেষ্ঠ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ

إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ

একমাত্র তারাই আল্লাহর মাসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে। (সূরা তাওবা ৯:১৮)

১৬  পীরের মৃত্যু বার্ষিকীতে উরশ উৎযাপন করা

সবার ধারনা সুফিগন তাদের শাইখদের করবকে কেন্দ্রকরে প্রতিবছর মৃত্যু বার্ষিকীতে উরশ উৎযাপন করে তার মূরত বিদআত। আসলে এই সম্পর্কে জানতে পাবরে আপনার চক্ষু আকাশে চলে যাবে। সত্যি কথা বলতে কি উরশ উৎযাপন করা বিদআত নয় বরং শিরক।   

আশরাফ আলি থালভী রহ. একটি প্রশ্নের উত্তর থেকে উরশের সজ্ঞা জেনে নেই। তিনি বলেন, মানুষ বর্তমানে বুযুর্গেদের নামে উরসের যে পন্থা অবলম্বন করেছে এটা শরীয়ত সিদ্ধ নয় এবং সীমালংঘনের শামিল। মূলত উরসের আভিধানিক অর্থ আনন্দ ও খুসি, প্রেমীক-প্রেমাস্পদের মিলনের যা অর্জিত হয় থাকে। ওফাতের মাধ্যমে যেহেতু প্রেমাস্পদের সাথে তাদের মিলন সাধিত হয়, কাজেই তাদের মৃত্যু দিবসকে ইয়াওমুল উরস বলা হয়।  আশরাফুল জওয়ার, প্রথম খন্ড, পৃ-১০৫

সুফিগন আল্লাহর সাথে প্রেম বা ইশক করার দাবি করে। তারা মারা গেলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সাথে তাদের বিরহ ব্যাথার সমাপ্তি ঘটে তাই তাদরে মৃত্যু বার্ষিকীতে উরশ নামক উৎসব পালণ করে থাকে। দেখুন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে কতবড় বেয়াদবী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَمَا قَدَرُوا اللّٰہَ حَقَّ قَدۡرِہٖ 

আর তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। সুরা যুমার : ৬৭

অপর পক্ষে কবর কে কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের উত্সব করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন। তার নিষেধ উপক্ষা করে কুফরি ধারন নিয়ে বিদআতি উরশ নামক উৎসব পালণ করা হয়। 

আবূ হুরাইরাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، وَلَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا، وَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ

তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করো না। তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছানো হবে। সুনানে আবু দাউদ : ২০২৪

কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করে তারা বিদআতের সুচনা করে আর উরশের মাধ্যমে প্রেমিক প্রেমাস্পদের মিলন হয় এই ধারনা করে কুফরি কাজ করেছে। এই ধরনের কাজ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চরম ক্রোধের কাজ। তাই এই সকল শিরকি বিদআত পরিহার করে সুন্নাহ সম্মত জীবন গড়ি।

১৭ ইবাদতের জন্য মাজারের চার পাশে তাওয়াফ করা

তাওয়াফের শির্ক বলতে একমাত্র বাইতুল্লাহ ছাড়া অন্য কোন বস্ত্তর তাওয়াফ করাকে বুঝানো হয়। ইদানিং দেখা যাচ্ছে অনেকে বাইতুল্লাহর অনুকরণে ঘর বানিয়ে তাওয়াফ করছে। এটি একটি গর্হিত অপরাদ। বাইতুল্লাহ ব্যতিত অন্য কোন বস্তুর তাওয়াফ করাও শিরক। অনেকে মাজারের তাওয়াফ করছেন যা শিরকের পাশাপাশি আল্লাহর আদেশের সাথে চরম বেয়াদবি। আল্লাহ আদেশ মত একমাত্র ক্বাবা ঘরেরই তাওয়াফ করতে হবে। যেহতু কাবা ঘর তাওয়াফ একটি ইবাদত। সুতারং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সন্ত্বষ্টির জন্য বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা যাবে না। এই ইবাদাতটি করার জন্য তিনি নিজেই কুরআনের কারিমে আদেশ দান করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

وَإِذْ جَعَلْنَا ٱلْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْنًا وَٱتَّخِذُوا۟ مِن مَّقَامِ إِبْرَٰهِۦمَ مُصَلًّىۖ وَعَهِدْنَآ إِلَىٰٓ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلْعَٰكِفِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ

আর স্মরণ কর, যখন আমি কাবাকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর। আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ‘ইতিকাফকারী ও রুকূকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর। সুরা বাকারা : ১২৫

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَٰهِيمَ مَكَانَ ٱلْبَيْتِ أَن لَّا تُشْرِكْ بِى شَيْـًٔا وَطَهِّرْ بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلْقَآئِمِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ

আর স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহীমকে সে ঘরের (বাইতুল্লাহ) স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না এবং আমার ঘরকে পাক সাফ রাখবে তাওয়াফকারী, রুকূ-সিজদা ও দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর জন্য।  সুরা হজ্জ : ২৬

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

ثُمَّ لْيَقْضُوا۟ تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا۟ نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا۟ بِٱلْبَيْتِ ٱلْعَتِيقِ

তারপর তারা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়, তাদের মানতসমূহ পূরণ করে এবং প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে। সুরা হজ্জ : ২৬

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ

এরপর তারা যেন দৈহিক ময়লা দূর করে দেয়, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং এই সুসংরক্ষিত গৃহের তাওয়াফ করে। (সুরা হাজ্জ্ব ২২:২৯)

কাবা ঘর বা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা সম্পর্ক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নির্দেশ উল্লেখ করলাম। হজ্জ্ব ও উমরাকারীদের একটি ফরজ আমল হলো কাবা ঘর তাওয়াফ করা। এই সম্পর্ক শত শত হাদসি আছে। এখানে হাদিস উল্লেখ করলাম না। কেউ যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নির্দেশ উপেক্ষা করে অন্য কোন ঘরের তাওয়াফ করে, তাহলে সে আল্লাহ হুকুমকে অবমাননা করল।  সকল মুসলিমের কাছে অতি সুস্পষ্ট যে তাওয়াফ এমন একটি ইবাদত, যা কাবা ঘরের চতুর পার্শ্বে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই করতে হবে। কিন্তু মিশরে সায়্যেদ বদভীর কবরের চতুর্দিকে সুফীরা কাবা ঘরের তাওয়াফের ন্যায় তাওয়াফ করে থাকে। সুফিদের শাইখদের মাজারের চার পাশের এই তাওয়াফ সম্পুর্ণভাবে হারাম এবং ইবাদাতে তার সাথে শির্ক কাজ। এই শিরকি কাজটি বুঝতে আর কাউকে আলেম হতে হবে না।

আবু হুরাইরাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন:

لاَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِيْ الْـخَلَصَةِ

কিয়ামত সংঘটিত হবেনা যতক্ষণ না দাউস্ গোত্রের মহিলারা পাছা নাচিয়ে যুল্খালাসা নামক মূর্তির তাওয়াফ করবে। সহিহ বুখারি : ৭১১৬, সহিহ মুসলিম : ২৯০৬, ইবনু হিব্বান : ৬৭১৪, আব্দুর রাযযাক : ২০৭৯৫

১৭। মৃতব্যক্তি, ওলী, পীর, মুরুব্বি, খাজা, প্রমুখ ব্যক্তিদের নিকট সাহায্য চাওয়া

যে কোন বস্তু  চাইতে হবে জীবিত বা উপস্থিত ব্যক্তির নিকট। মৃত ব্যক্তির নিকট নয় নিছু চাওয়া শিকরে আকবর। একে তো চাওয়া শিরক তার উপর মৃত ব্যক্তিকে চিরঞ্জিব করা হয় যা মহান আল্লাহর একক গুন।  সুরা মুহাম্মদে জীবিত মু’মিন নারী ও পুরুষদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলছেন-

 فَٱعۡلَمۡ أَنَّهُ ۥ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ وَٱسۡتَغۡفِرۡ لِذَنۢبِكَ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ وَٱلۡمُؤۡمِنَـٰتِ

অতএব, হে নবী! ভাল করে জেনে নাও, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদাতের যোগ্য নয়৷ নিজের ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো৷ এবং মুমিন নারী ও পুরুষদের জন্যও৷ সুরা মুহাম্মদ : ১৯)

জীবিত কারো কাছে দোয়া চাওয়া বা সাহায্য চাওয়া জায়েয বা বৈধ কিন্তু আমাদের দেশে মৃতব্যক্তি, ওলী, পীর, মুরুব্বি, খাজা, প্রমুখ ব্যক্তিদের কাছে চাওয়ার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, তা স্পষ্ট শিরকেরই অন্তর্ভুক্ত। এ কাজ তারা দুটি শিরকি আকিদা থেকে করে থাকে। প্রথমত তাদের ধারনা অলীগণ কবরে জীবিত। দ্বিতীয়ত মৃত্যুঅলী মৃত্যুর পর এমন কিছু ক্ষমার অধিকারি হয়েছে যা জীবিতদের নাই।

অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَمَا يَسۡتَوِى ٱلۡأَحۡيَآءُ وَلَا ٱلۡأَمۡوَٲتُۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُسۡمِعُ مَن يَشَآءُۖ وَمَآ أَنتَ بِمُسۡمِعٍ۬ مَّن فِى ٱلۡقُبُورِ

আর জীবিতরা ও মৃতরা এক নয়, নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনাতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কবরে আছে তাকে তুমি শুনাতে পারবে না।  সুরা ফাতির : ২২

কাজেই কোনো মৃতব্যক্তি, ওলী, পীর, মুরুব্বি, খাজা, প্রমুখ ব্যক্তিদের কাছে দুয়া চাওয়া শিরক।  

১৮। আল্লাহ তাআলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরের খবর রাখেন

একমাত্র মহান আ্ল্লাহই মানুষের অন্তরের খবর জানেন। কিছু ভন্ড পীর বা আল্লাহর ওলি বাদিদার কিছু প্রতারক দাবি করে যে সেও মানুষের অন্তরের খবর রাখেন। অনেক অজ্ঞ মানুষ ভন্ডদের কথা বিশ্বাস করে। এই দুই শ্রেণীর লোকই কাফির। কেননা তারা উভয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমকক্ষ দাড় করিয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَعْلَمُ ٱللَّهُ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِىٓ أَنفُسِهِمْ قَوْلًۢا بَلِيغًا

ওরা তো তারাই যাদের অন্তরের কথা আল্লাহ জানেন। তাই তুমি তাদেরকে উপেক্ষা করো, আর কিছু উপদেশ দাও এবং তাদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কিছু কথা বল। সুরা নিসা : ৬৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

يَعْلَمُ خَآئِنَةَ ٱلْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِى ٱلصُّدُورُ

চক্ষুসমূহের খেয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন রাখে তিনি তা জানেন। (সুরা গাফির ৪০:১৯)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

أَوَلَيْسَ ٱللَّهُ بِأَعْلَمَ بِمَا فِى صُدُورِ ٱلْعَٰلَمِينَ

আল্লাহ কি বিশ্ববাসীর অন্তরের কথা সম্যক অবগত নন?  সুরা আনকাবুত : ১০

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ

আল্লাহ অন্তরের খবর ভাল করেই জানেন।  সুরা লোকমান : ২৩

১৯। আল্লাহ তাআলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে

আল্লাহ তায়ালা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে না। অনেক অজ্ঞ মুসলিমকে দেখা যায় সন্তান লাভের আশায় মাজারে মাজরে ঘুরে। এমনাকি অনেক ভন্ড প্রতারক ফকিরের খপ্পরে পড়ে নি:শ্ব হয়েছেন। অথচ তার উচিত ছিল শরিয়ত সম্মত চিকত্সার পাশাপাশি মহান আল্লাহ উপর তাওয়াক্বুল করে তার নিকটই সাহায্য চাওয়া।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

لِّلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِۚ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُۚ يَهَبُ لِمَن يَشَآءُ إِنَٰثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَآءُ ٱلذُّكُورَ

আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। সুরা শুরা : ৪৯

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ

হে প্রভু! আমাকে সৎ সন্তান দান কর।”(সুরা সাফফাত : ১০০

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا وَذُرِّيَّٰتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَٱجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’। সুরা ফুরকান : ৭৪

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

فَأَرَدْنَآ أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِّنْهُ زَكَوٰةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا

 তাই আমরা চাইলাম, তাদের প্রভু তাদেরকে ঐ ছেলের পরিবর্তে পবিত্রতায় শ্রেয়তর ও মায়া-মমতায় নিকটতর একটি ছেলে দান করুক।  সুরা কাহাব : ৮১

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُۥۖ قَالَ رَبِّ هَبْ لِى مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةًۖ إِنَّكَ سَمِيعُ ٱلدُّعَآءِ

সেখানে যাকারিয়া তার প্রভুর কাছে দোয়া করে। সে বলে, “হে আমার প্রভু! আমাকে তোমার পক্ষ থেকে (তোমার বিশেষ কৃপায়) ভাল সন্তান দান কর। অবশ্যই তুমি দোয়া শ্রবণকারী।”  (সুরা আল ইমরান ৩:৩৮)

২০। গাইরুল্লাহর জন্য ইবাদাত

আমাদের সালাত, সিয়াম, হজ, জাকাত, কুরবানি, জিকির, দান, সদগা, তিলওয়াত, আচার, আচরণ ইত্যাদি সব ইবাদাত পাওয়ার একমাত্র যোগ হক ইলাহ হলো মহান আল্লাহ। কিন্তু কোন ইবাদাত যদি মহান আল্লাহর জন্য না করে গাইরুল্লাহ জন্য করা হয় তবে শির্ক হবে। ইবাদতের ধরনের উপর নির্ভর করে অনেক সময় শিরকে আকবর আবার কখনও শিরকে আজগর হয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًاۚ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ

বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদাত করবে, যা তোমাদের জন্য কোন ক্ষতি ও উপকারের ক্ষমতা রাখে না? আর আল্লাহ, তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’সুরা মায়েদা : ৭৬

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا ٱللَّهَ وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ

যখন আমি বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম যে তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করবে না এবং সদাচার করবে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও মিসকীনদের সাথে। সুরা বাকারা : ৮৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

لَا تَجۡعَلۡ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَتَقۡعُدَ مَذۡمُوۡمًا مَّخۡذُوۡلًا

আল্লাহর সাথে অপর কোন ইলাহ নির্ধারণ করো না। তাহলে তুমি নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হয়ে বসে পড়বে। সুরা বনী ইসরাইল : ২২

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

أَن لَّا تَعْبُدُوٓا۟ إِلَّا ٱللَّهَۖ إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ

তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদাত করনা। আমি তোমাদের উপর এক ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির আশংকা করছি। সুরা হুদ : ২৬

এই সম্পর্কিত আরও জানতে দেখুন- সুরা বাকারা : ১৩৩, সুরা ইউনুস : ২৮, ১০৪, সুরা হুদ : ২, সুরা আম্বিয়া : ৬৬, ৬৭, ৯৮)

২১। গাইরুল্লার জন্য রুকু, সিজদাহ করা বা তার সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো

রুকু, সিজদাহ করা বা তার সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো মহান আল্লাহ প্রদত্ত একটি ইবাদত। আল্লাহ প্রদত্ত পদ্ধতিতে যে কোন কাজ করাই ইবাদত। সালাত আদায়ে মহান আল্লাহর কোন লাভ বা ক্ষতি নাই। তিনি দেখতে চান কে তার প্রদত্ত আদেশ নিষেধ মেনে চলেন। আর এই সালাতেই দুটি ফজর রুকণ হলো  রুকু ও সিজদাহ সঠিকভাবে আদায় করা। যে পদ্ধতি মহান আল্লাহ তার ইবাদত করার হুকুম দিয়েছেন সেই পদ্ধতি কোন গাইরুল্লাহ ইবাদত করলে তাকে আল্লাহর সমকক্ষ দাড় করা হয়। তাই বলা যায়,  গাইরুল্লার জন্য রুকু, সিজদাহ করা বা তার সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো শিরক হবে। 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَمَا خَلَقْتُ ٱلْجِنَّ وَٱلْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

জ্বিন ও মানুষকে আমি আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। সুরা জারিয়াত : ৫৬

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইবাদতের সুন্দরতম মাধ্যম হলো, তাকে সিজদাহ করা, রুকু করা তার সমানে বিনম্রভাবে দাড়ান। এই সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

يَٰمَرْيَمُ ٱقْنُتِى لِرَبِّكِ وَٱسْجُدِى وَٱرْكَعِى مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ

হে মারইয়াম, তোমার রবের জন্য অনুগত হও। আর সিজদা কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর। সুরা আল ইমরান : ৪৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُن مِّنَ ٱلسَّٰجِدِينَ

সুতরাং তুমি তোমার প্রভুর সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও। সুরা হিজর : ৯৮

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ مِن دَآبَّةٍ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ

আসমানে যা কিছু আছে ও জমিনে যে সব জীবজন্ত আছে তারা সবাই আল্লাহকে সেজদা করে; ফেরেশতারাও; তারা অহংকার করে না। সুরা নাহল : ৪৯

ইহা ছাড়া কুরআনে অনেকগুলো সিজদাহ আয়াতে আছে যেখানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদেরকে সিজদাহ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা দিতে নিষেধ করেছেন।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لأَحَدٍ لأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا

আমি যদি কোনো মানবকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য সিজদা করার নির্দেশ দিতাম। সুনানে তিরমিজি : ১১৫৯ মিশকাত : ৩২৫৫

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ অন্তিম রোগশয্যায় বলেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। কারণ, তারা তাদের নবী গণের কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। এরূপ আশঙ্কা না থাকলে রাসূলূল্লাহ ﷺ এর কবরকে খোলা রাখা হতো। কিন্তু তিনি ﷺ আশংকা করেন পরবর্তীতে একে মসজিদে (সিজদার স্থানে) পরিণত করা হবে। সহিহ বুখারি : ১৩৯০

কায়িস ইবনু সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল-হীরা শহরে এসে দেখি, সেখানকার লোকেরা তাদের নেতাকে সিজদা করছে। আমি ভাবলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ ই সিজদার অধিক হকদার। অতঃপর আমি নবী ﷺ এর খেদমতে এসে বলি যে, আমি আল-হীরা শহরে গিয়ে দেখে এসেছি, সেখানকার লোকেরা তাদের নেতাকে সিজদা করে। সুতরাং হে আল্লাহর রাসূল! ﷺ আপনিই তো এর অধিক হকদার যে, আমরা আপনাকে সিজদা করি? তিনি বললেন, যদি (মৃত্যুর পর) তুমি আমার কবরের পাশ দিয়ে যাও তখন কি তুমি সেটাকে সিজদা করবে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, সাবধান! তোমরা এরূপ করবে না। আমি যদি কোন মানুষকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম, তবে স্ত্রীদেরকে নির্দেশ দিতাম তাদের স্বামীদেরকে সিজদা করতে। কেননা আল্লাহ স্ত্রীদের উপর স্বামীদের অধিকার দিয়েছেন। সুনানে ইবনে মাজাহ : ২১৪০, মিশকাত : ৩২৬৬)

২২। গাইরুল্লাহকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহন করা

মুমিনের একমাত্র অভিভাবক হবে মহান আল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক গ্রহন করলে আল্লাহ প্রদত্ত সোজা পথ থেকে বাহির হয়ে গোমরাহীতে নিমজ্জিত হবে। এবং আল্লাহ শয়তানদেরকেই তার অভিভাবক বা বন্ধু করে দিবেন।  কারন সে আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানদেরকে নিজেদের অভিভাবকে (বন্ধুরূপে) পরিণত করেছে। এভাবে আল্লাহ মুকাবেলায় শয়তানের বন্ধুকে সমকক্ষ দাড় করাল, যা নিকৃস্ট মানের শিরকি কাজ।  আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 فَرِيقًا هَدَىٰ وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيۡہِمُ ٱلضَّلَـٰلَةُ‌ۗ إِنَّهُمُ ٱتَّخَذُواْ ٱلشَّيَـٰطِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَيَحۡسَبُونَ أَنَّہُم مُّهۡتَدُونَ (٣٠)

একটি দলকে তিনি সোজা পথ দেখিয়ে দিয়েছেন কিন্তু অন্য দলটির ওপর গোমরাহী সত্য হয়ে চেপেই বসেছে৷ কারণ তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানদেরকে নিজেদের অভিভাবকে পরিণত করেছে এবং তারা মনে করছে, আমরা সঠিক পথেই আছি৷ সুরা আরাফ : ৩০

আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

إِنَّا جَعَلۡنَا ٱلشَّيَـٰطِينَ أَوۡلِيَآءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ (٢٧)

অর্থ: যারা ঈমান আনে না, আমি এ শয়তানদেরকে তাদের অভিভাবক করে দিয়েছি৷ সুরা আরাফ ৭:২৭

মুমিনের একমাত্র বন্ধু (অবিভাবক) হবে মহান আল্লাহ। তিনি ছাড়া কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই। যারা তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করেছে এবং সঠিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে, তারাই আল্লাহর বন্ধু। দুনীয়া আখেরাতে তারাই বিজয় লাভ করবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ বলেন-

 أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَهُ ۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِ‌ۗ وَمَا لَڪُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّ۬ وَلَا نَصِيرٍ (١٠٧)

তুমি কি জানো না, আল্লাহ সব জিনিসের ওপর ক্ষমতাশালী? তুমি কি জানো না, পৃথিবী ও আকাশের শাসন কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর? আর তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন অভিভাবক (বন্ধু) ও সাহায্যকারী নেই। (সুরা বাকারা : ১০৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *