জান্নাতের বিবরণ : দ্বিতীয় পর্ব

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

৫. জান্নাতের অধিবাসিগণ

জান্নাত হলো সেই চিরস্থায়ী আবাস, যা আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। জান্নাত লাভের প্রধানতম শর্ত হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান আনা এবং কোনো কিছুকে তাঁর সাথে শরীক না করা। যারা শিরকবিহীন ঈমানের সাথে জীবনযাপন করে, তারাই জান্নাতের প্রকৃত হকদার। যদি কোনো ব্যক্তি জীবনের কোনো পর্যায়ে শিরকের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হয়েও আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং তওবার পর মৃত্যুবরণ করে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারেন। কারণ ইসলামে তওবার দরজা সর্বদা খোলা। কিন্তু যারা শিরক থেকে তওবা না করে অথবা শিরক ও কুফরীর ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করে, তাদের জন্য জান্নাত চিরতরে হারাম। আল্লাহ তাআলার কোনো বিষয়কে মিথ্যা জ্ঞান করা বা অস্বীকার করাও কুফরীর শামিল, যা জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বহু স্থানে জান্নাতবাসীদের গুণাবলী বর্ণনা করেছেন। সেখানে বারবার বলা হয়েছে যে, জান্নাত কেবল তাদেরই জন্য, যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে। ঈমান ও নেক আমলের এই সমন্বিত রূপই জান্নাত লাভের একমাত্র পথ। শুধুমাত্র ঈমান আনলেই হবে না, বরং সেই ঈমানের প্রতিফলন জীবনে আমলের মাধ্যমে দেখাতে হবে। কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত এই মূলনীতি আলোকে নিন্মে জান্নাতের অধিবাসিদের নাম উল্লেখ করা হলো।

জান্নাতে অধিবাসি হওয়া প্রথম শর্তই হলো- ঈমান

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী। সুরা বাকারা : ৮২

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوا هَٰذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তুমি তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ। যখনই তাদেরকে জান্নাত থেকে কোন ফল খেতে দেয়া হবে, তারা বলবে, ‘এটাই তো পূর্বে আমাদেরকে খেতে দেয়া হয়েছিল’। আর তাদেরকে তা দেয়া হবে সাদৃশ্যপূর্ণ করে এবং তাদের জন্য তাতে থাকবে পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তারা সেখানে হবে স্থায়ী। সুরা বাকারা : ২৫

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِيلًا

আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা হবে স্থায়ী। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব বিস্তৃত ঘন ছায়ায়। সুরা নিসা : ৫৭

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا

আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ। সেখানে তারা হবে স্থায়ী। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর কথায় আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী কে? সুরা নিসা : ১২২

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা। সুরা তাওবা : ৭২

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوا إِلَى رَبِّهِمْ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং বিনীত হয়েছে তাদের রবের প্রতি, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। সুরা হুদ : ২৩

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ بِإِيمَانِهِمْ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ

নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, তাদের রব ঈমানের কারণে তাদেরকে পথ দেখাবেন, আরামদায়ক জান্নাতসমূহে যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। সুরা ইউনুস : ৯

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا ٭ أُولَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, নিশ্চয় আমি এমন কারো প্রতিদান নষ্ট করব না, যে সুকর্ম করেছে। এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল! সুরা কাহফ : ৩০-৩১

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا * جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى

 আর যারা তাঁর নিকট বিশ্বাসী হয়ে ও সৎকর্ম করে উপস্থিত হবে, তাদের জন্য আছে সমুচ্চ মর্যাদাসমূহ। স্থায়ী জান্নাত যার নিচে নদীমালা প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আর এই পুরস্কার তাদেরই যারা পবিত্র। সুরা ত্বহা : ৭৫-৭৬

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُکَفِّرَنَّ عَنۡہُمۡ سَیِّاٰتِہِمۡ وَلَنَجۡزِیَنَّہُمۡ اَحۡسَنَ الَّذِیۡ کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমি তাদের থেকে তাদের পাপসমূহ দূর করে দেব এবং আমি অবশ্যই তাদের সেই উত্তম আমলের প্রতিদান দেব, যা তারা করত। সূরা আনকাবুত : ৭

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۬ؕؑ  ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡکَبِیۡرُ ؕ

নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ। এটাই বিরাট সফলতা। সূরা বুরুজ :১১

দ্বিতীয় প্রধান শর্ত ঈমানে সাথে নেক আমল

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা করেছেন, তবে এর জন্য কেবল ঈমান আনাই যথেষ্ট নয়। ঈমানের সাথে সাথে নেক আমল করা এবং বদ আমল থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এগুলো আল্লাহর বেঁধে দেওয়া সীমা বা হুদুদ। কোনো ঈমানদার যদি আল্লাহর এই সীমা লঙ্ঘন করে, অর্থাৎ বড় কোনো গুনাহ করে এবং তওবা না করে মারা যায়, তাহলে তাকে তার পাপের সাজা ভোগ করার জন্য জাহান্নামে যেতে হতে পারে। তবে তার ঈমানের কারণে, সাজা ভোগের পর একসময় সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতের হকদারদের মধ্যে আমলের দিক থেকে যারা সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, তারা হলেন নবী-রাসূলগণ, শহীদগণ, সিদ্দিকগণ এবং সালেহীনগণ। তাঁদের মর্যাদা তাঁদের অতুলনীয় ঈমান ও সৎকর্মের কারণে। তাঁদের জীবন ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত, যা তাঁদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ আসনে আসীন করেছে। নেক আমলের দিক দিয়ে যারা অগ্রগামী তাদের জান্নাতে ঘোষনা কুরআন ও সহিহ হাদিসে পাওয়া যায়। যেমন-

ক. নবী ও রাসূলগণ

নবী-রাসূলগণ হলেন আল্লাহর নির্বাচিত মানুষ, যাদেরকে তিনি মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে পাঠিয়েছেন। তাঁদের আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি তাঁদের পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের কারণে তাঁরা জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবেন।

আল্লাহ তা’আলা বলেন-

وَمَنۡ یُّطِعِ اللّٰہَ وَالرَّسُوۡلَ فَاُولٰٓئِکَ مَعَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ مِّنَ النَّبِیّٖنَ وَالصِّدِّیۡقِیۡنَ وَالشُّہَدَآءِ وَالصّٰلِحِیۡنَ ۚ  وَحَسُنَ اُولٰٓئِکَ رَفِیۡقًا ؕ

আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে, আল্লাহ যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম। সূরা নিসা : ৬৯

এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবীগণ হলেন সেইসব ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম, যারা জান্নাতের উচ্চ মর্যাদার অধিকারী।

খ. সিদ্দীকগণ

সিদ্দীক বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি সত্যকে পূর্ণভাবে বিশ্বাস করেন এবং তার বাস্তব জীবনে সেই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) হলেন সিদ্দীকগণের আদর্শ।

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, উমর, উসমান (রাঃ) উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। পাহাড়টি নড়ে উঠল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উহুদ! থামো তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছেন। সহিহ বুখারি : ৩৬৭৫, ৩৬৮৬, ৩৬৯৯

গ. শহীদগণ

শহীদ হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেন। শাহাদাতের কারণে তাদের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং তাঁরা জান্নাতের বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন।

মিকদাম ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

শহীদের জন্য আল্লাহ্ তা’আলার নিকট ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে। তার প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সাথে সাথে তাকে ক্ষমা করা হয়, তাকে তার জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়, কবরের আযাব হতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে, তার মাথায় মর্মর পাথর খচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। তার সাথে টানা টানা আয়তলোচনা বাহাত্তরজন জান্নাতী হুরকে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তার সত্তরজন নিকটাত্মীয়ের জন্য তার সুপারিশ কুবুল করা হবে। সুনানে তিরমিজি : ১৬৬৩, সহিহাহ : ৩২১৩

সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, রাতে দু’জন লোক আমার কাছে এসে আমাকে গাছের উপর চড়ালো এবং আমাকে একটি সুন্দর ও উত্তম ঘরে প্রবেশ করালো, ওর চাইতে সুন্দর (ঘর) আমি কখনো দেখিনি। তারা বলল, এই ঘরটি হচ্ছে শহীদদের ঘর। আংশিক সহিহ বুখারি : ১৩৮৬

জাবির ইবনে আতীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে আসেন। জাবির (রাঃ) এর পরিবারের কেউ বললো, আমরা আশা করতাম যে, সে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাহলে আমার উম্মাতের শহীদের সংখ্যা তো খুব কম হয়ে যাবে। (১) আল্লাহর পথে নিহত হলে শহীদ, (২) মহামারীতে নিহত হলে শহীদ, (৩) যে মহিলা গর্ভাবস্থায় মারা যায় সে শহীদ, (৪) পানিতে ডুবে, (৫) আগুনে পুড়ে ও (৬) ক্ষয়রোগে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৮০৩, সুনানে নাসায়ি : ১৮৪৬, ৩১৯৪, সুনানে আবূ দাউদ : ৩১১১, আহমাদ : ২৩২৪১, মুয়াত্তা মালেক : ৫৫২।

উপরের হাদিস দ্বারা বোঝা যায় ভালো মৃত্যুর অন্যতম কারণ শহিদী মৃত্যু। আল্লাহর পথে, প্লেগগ্রস্ত, উদরাময়গ্রস্ত, কোন কিছু চাপা পড়ে, মহামারীতে, গর্ভাবস্থায়, পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে ও ক্ষয়রোগে মৃত্যু বরণকারী শহীদের মর্যাদা পাবেন। এক কথায় বলতে পারি, ভালো বা শহীদি মৃত্যুর অন্যতম কারণসমূহ হলো-

১. প্লেগ রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ

২. পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ

৩. পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ

৪. প্রাচীর চাপায় মৃত ব্যক্তি শহীদ

৫. আভ্যন্তরীণ বিষ ফোঁড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ

৬. আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ

৭. প্রসবকালে মৃত রমনী শহীদ।

৮. মহামারীতে মৃত ব্যক্তি শহীদ ও

৯. ক্ষয়রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ

ঘ. মেয়ে সন্তান পালল পালনকারী

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার তিনটি মেয়ে অথবা তিনটি বোন আছে, অথবা দুটি মেয়ে অথবা দুটি বোন আছে, সে তাদের প্রতি ভাল ব্যবহার করলে এবং তাদের (অধিকার) সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় করলে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত। সুনানে তিরমিজি : ১৯১৬, ইবনে হিব্বান : ২০৪৫, সিলসিলাহ সহীহাহ : ২৯৬

ঙ. ইয়াতিমের প্রতিপালনকারী

সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি ও ইয়াতীমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এমনিভাবে নিকটে থাকবে। এই বলে তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুল দু’টি দ্বারা ইঙ্গিত করলেন এবং এ দু’টির মাঝে কিঞ্চিত ফাঁক রাখলেন। সহিহ বুখারি : ৫৩০৪, ৬০০৫

চ. সালাত ও সিয়াম আদায়করী

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে আর সালাত কায়েম করবে ও সিয়াম পালন করবে আল্লাহর উপর দায়িত্ব হলো, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সে ব্যক্তি তার জন্ম ভূমিতে বসে থাকুক বা আল্লাহর পথে জিহাদ করুক। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি এ সুসংবাদটি মানুষকে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই জান্নাতে একশ স্তর রয়েছে বিভিন্ন মর্যাদার। যা আল্লাহ সে সকল লোকদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছে। এক একটি মর্যাদার ব্যপ্তি হবে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যকার দুরত্বের সম পরিমাণ। যখন তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করবে তখন তোমরা জান্নাতুল ফেরদাউস চাবে। কারণ এটা জান্নাতের মধ্যবর্তী ও সুউচ্চ মর্যাদার স্থান। এর উপর রয়েছে দয়াময় আল্লাহর আরশ”। সহীহ বুখারী : ২৭৯০।

ছ. কুরআন তিওয়াতকারী :

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) কুরআনের বাহককে বলা হবে, পাঠ করতে থাক ও উপরে আরোহণ করতে থাক এবং দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে ঠিক সেরূপে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে থাক। যে আয়াতে তোমার পাঠ সমাপ্ত হবে (জান্নাতের) সেখানেই তোমার স্থান। সুনানে তিরমিজি : ২৯১৪, মিশকাত : ২১৩৪, সহীহাহ : ২২৪০

জ. যাদের অন্তর পাখিদের মতো

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-

يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَقْوَامٌ أَفْئِدَتُهُمْ مِثْلُ أَفْئِدَةِ الطَّيْرِ

এমন কিছু লোক জান্নাতে যাবে, যাদের অন্তর পাখীর অন্তরের মতো। সহিহ মুসলিম : ২৮৪০, মিশকাত : ৫৬২৫, মুসনাদে আহমাদ : ৮৩৬৪, সহীহুল জামি : ৮০৬৮, আবূ ইয়া’লা : ৫৮৯৬।

নোট : অন্তর পাখীর অন্তরের মতো বলতে বুঝানো হয়েছে- যাদের অন্তর হবে পাখিদের মতো সরল, নিষ্পাপ, জটিলতা, কপটতা বা হিংসা-বিদ্বেষ ছল-চাতুরি, ধোঁকাবাজি বা কুটিলতা থেকে মুক্ত। সাথে সাথে পাখির মত অল্পে তুষ্ট ও আল্লাহ নির্ভর।

ঝ. রাতে ইবাদাতকারী উত্তম চরিত্রের ব্যক্তি

আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় পদার্পণ করলে লোকেরা তাঁকে দেখার জন্য ভীড় জমায় এবং বলাবলি হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। আমিও লোকেদের সাথে তাঁকে দেখতে গেলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম যে, এ চেহারা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যেকথা বলেন তা হলো, হে লোকসকল! তোমরা পরস্পর সালাম বিনিময় করো, অভুক্তকে আহার করাও এবং রাতের বেলা মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত পড়ো। তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৩৩৪, ৩২৫১, সুনানে তিরমিযী : ২৪৮৫, দারিমী : ১৪৬০

ঞ. ন্যায়পরায়ণ, দানশীল ও সফল শাসক জান্নাতি

ইয়াদ ইবনে হিমার আল-মুজাশিঈ (রাঃ)। নবী করীম ﷺ বলেছেন, তিন প্রকারের লোক জান্নাতী। তারা হলো- ন্যায়পরায়ণ, দানশীল ও সফল শাসক,  প্রত্যেক আত্মীয় ও মুসলিমের প্রতি দয়াশীল কোমল-হৃদয় ব্যক্তি, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং অভাবী হয়েও কারো কাছে হাত পাতে না এমন সন্তানবান ব্যক্তি। সহিহ মুসলিম : ৭২৯৪

ট. যে ব্যক্তি জীবে দয়া করে সে জান্নাতি

১৭৩. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (পূর্ব যুগে) জনৈক ব্যক্তি একটি কুকুরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ভিজা মাটি চাটতে দেখতে পেয়ে তার মোজা নিল এবং কুকুরটির জন্য কুয়া হতে পানি এনে দিতে লাগল যতক্ষণ না সে ওর তৃষ্ণা মিটাল। আল্লাহ্ এর বিনিময় দিলেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন। সহহি বুখারি : ১৭৩, ২৩৬৩, ২৪৬৬, ৬০০৯

ঠ. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরানোর

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক লোককে একটি গাছের কারণে জান্নাতে আনন্দ ফুর্তি করতে দেখেছি। এ গাছটি সে রাস্তার উপর হতে দূর করেছিল, যেটি মানুষকে কষ্ট দিত। সহিহ মুসলিম : ১৯১৪

ড. যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডা সালাত আদায় করবে

আবূ বকর ইবনু আবূ মূসা (রাযি.) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুই শীতের (ফজর ও ’আসরের) সালাত আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহিহ বুখারি : ৫৭৪, সহিহ মুসলিম : ৬৩৫, আহমাদ : ১৬৭৩০

ঢ. তাওহীদের স্বীকৃতি দিলেই জান্নাত

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকেও শারীক না করে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তার সম্মুখে উপস্থিত হবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে শারীক স্থির করে, তাহলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সহিহ মুসলিম : ৯৩

ণ. মৃ্ত্যু কালে ’’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ সাক্ষ্য প্রদানকারী

মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার সর্বশেষ বাক্য হবে ’’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুনানে আবু দাউদ : ৩১১৬

ইহা ছাড়াও যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস ভালোবাসে, জিহবা ও লজ্জাস্থান হিফাজত করে, দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নাহ আদায় করে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকেও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছে।

৬. দুনিয়াতে বসেই যাদের জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে

আমাদের সমাজের অধিকাংশের ধারণা, সকল সাহাবীর মধ্য হতে শুধুমাত্র দশজন সাহাবি (রাঃ) কে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়ছে। তাদেরকে আশারায়ে মুবাশশারা বলা হয়। এই দশজন ছাড়াও আর সাহাবী (রাঃ) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেনঃ

ক. সাঈদ ইবনু যাইদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নয়জন লোক প্রসঙ্গে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা জান্নাতী। যদি আমি দশম ব্যাক্তি প্রসঙ্গেও সাক্ষ্য দেই তবে তাতেও আমি পাপী হব না। প্রশ্ন করা হল, তা কীভাবে? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ   এর সাথে আমরা হেরা পর্বতের উপর অবস্থানরত ছিলাম। (হেরা কেঁপে উঠলে) তিনি বললেন, হেরা! শান্ত হও। অবশ্যই তোমার উপরে একজন নবী কিংবা একজন সিদ্দীক্ব (পরম সত্যবাদী) অথবা একজন শহীদ আছেন। বলা হল, তারা কারা? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা্ঃ), আবূ বাক্কর, ‘উমার, ‘উসমান, ‘আলী, ত্বালহা, যুবাইর, সা’দ ও ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাকে প্রশ্ন করা হল, দশম লোকটি কে? তিনি বললেন, আমি। সুনানে তিরমিজি:  ৩৭৫৭, সুনানে আবু দাউদ : ৪৬৪৮

খ. ফাতিমাহ্‌ জান্নাতের নারীদের নেত্রী এবং হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের নেতা। সুনানে তিরমিজি : ৩৭৮১, মিশকাত ২১৬২, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১১৮

গ. খাদীজাহ (রাঃ) জান্নাতের একটি ভবনের খোশ খবর দিয়েছেন। সহিহ বুখারি : ৩৮২০

ঘ. হারিসাহ (রাঃ) জান্নাতুল ফিরদাউসে রয়েছে। সহিহ বুখারি : ৩৯৮২

ঙ. বিলাল (রাঃ) জান্নাতে সুসংবাদ পেয়েছেন।  মিসকাত : ১৩২৬, সুনানে তিরমিযী : ১৩৮৯

চ. আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম (রাঃ)। সহিহ বুখারি : ৩৮১৩

ছ. এক বেদুইন নবী ﷺ   জান্নাতে সুসংবাদ দিয়েছেন। সহিহ বুখারি : ১৩৯৭

উপরের সহিহ হাদিসগুলো দ্বারা এ কথা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ   শুধুমাত্র দশজন সাহাবি (রাঃ) কে জান্নাতের সুসংবাদ দেন নাই। তিনি এই দশজনের বাহিরে বহু সাহাবিকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। অনুসন্ধানমতে এ রকম সহিহ হাদিসেই ২৮ জন সাহাবীর কথা আমি পেয়েছি, যাদের ব্যাপারে নবীজী ﷺ   প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।

৭. জান্নাতে সর্বপ্রথম প্রবেশকারী ব্যক্তি

আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتفْتِحُ، فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحَمَّدٌ، فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحُ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ

“আমি কিয়ামতের দিন জান্নাতের গেটে এসে জান্নাত খুলে দিতে বলবো। তখন দারোয়ান প্রশ্ন করবে, আপনি কে? আমি বলবো, আমি মুহাম্মাদ। তখন সে বলবে, আমাকে নির্দেশ দেওয়া আছে যে, আপনার পূর্বে আমি যেন কারো জন্য জান্নাতের দরজা খুলে না দেই”। সহিহ মুসলিম : ১৯৭

৮. জান্নাতী লোকেরা আল্লাহর দর্শন লাভ করবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وُجُوۡہٌ یَّوۡمَئِذٍ نَّاضِرَۃٌ ۙ اِلٰی رَبِّہَا نَاظِرَۃٌ ۚ

সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী। । সূরা কিয়ামা : ২২-২৩

আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (জান্নাতের মধ্যে) দু’টি বাগান থাকবে। এ দু’টির সকল পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু রৌপ্য নির্মিত হবে এবং (জান্নাতে) আরো দু’টি উদ্যান থাকবে। এ দু’টির সকল পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু সোনার তৈরী হবে। জান্নাতে আদনের মধ্যে জান্নাতী লোকেরা তাদের প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে। এ জান্নাতবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের এ দর্শনের মাঝে আল্লাহর সত্তার ওপর জড়ানো তাঁর বিরাটত্বের চাদর ছাড়া আর কোন জিনিস থাকবে না। সহিহ বুখারি : ৪৮৭৮, ৪৮৮০, ৭৪৪৪, সহিহ মুসলিম : ১৮০, আহমাদ : ৮৪২৭

আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জান্নাতে মু’মিনদের জন্য মুক্তা দ্বারা তৈরি একটি তাঁবু থাকবে, যার মাঝে ফাঁকা হবে। তার প্রশস্ততা, অন্য বর্ণনায় তার দৈর্ঘ্য ষাট মাইল। তার প্রত্যেক কোণে থাকবে তার পরিমাণ। এক কোণের লোক অন্য কোণের লোককে দেখতে পাবে না। ঈমানদারগণ তাদের কাছে যাতায়াত করবে। দু’টি জান্নাত হবে রৌপ্যের, তার ভিতরের পাত্র ও অন্যান্য সামগ্রী হবে রৌপ্যের এবং অপর দুটি জান্নাত হবে স্বর্ণের। যার পাত্র ও ভিতরের সব জিনিস হবে সোনার। আর ’আদন জান্নাত’ জান্নাতবাসী এবং তাদের প্রভুর দিদার লাভের মাঝখানে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের আভা ছাড়া আর কোন আড়াল থাকবে না। সহীহ বুখারী : ৪৮৭৮, সহিহ মুসলিম : ২৮৩৮, মিশকাত : ৫৬১৬, সুনানে তিরমিযী : ২৫২৮, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৮৬, সহীহুল জামি : ৩১০১, মুসনাদে বাযার : ৩০৮৭, মুসনাদে আহমাদ : ১৯৭৪৬, আবূ ইয়া’লা : ৭৩৩১, সহীহ ইবনু হিব্বান : ৭৩৮৬, শু’আবূল ঈমান : ৯৭৬২

সুহায়ব (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: জান্নাতবাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলবেন, তোমরা কি আরো কিছু চাও, যা আমি তোমাদেরকে অতিরিক্ত প্রদান করব। তারা বলবে, তুমি কি আমাদের মুখমণ্ডলকে আলোকিত করনি? তুমি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাওনি। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর আল্লাহ তা’আলা হিজাব বা পর্দা তুলে ফেলবেন, তখন তারা আল্লাহ তা’আলার দর্শন লাভ করবে। মূলত আল্লাহ তা’আলার দর্শন লাভ ও তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকার তুলনায় বেশি প্রিয় কোন বস্তুই তাদেরকে প্রদান করা হয়নি। অতঃপর তিনি কুরআনের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন- “যারা উত্তম কাজ করেছে তার প্রতিদান ভালোই (অর্থাৎ জান্নাত তার উপর অতিরিক্ত)”- (সূরাহ্ ইউনুস ১০: ২৬)। তার উপর অতিরিক্ত হলো- তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান এবং তার উপর অতিরিক্ত অবদান (অর্থাৎ দীদারে এলাহী)। সহিহ মুসলিম : ১৮১, মিশকাত : ৫৬৫৬, আহমাদ : ১৮৯৫৫, সহীহুল জামি’ : ৫২৩

৯. জান্নাতে সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলে আল্লাহর সন্তুষ্টি

আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা জান্নাতবাসীদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে জান্নাতবাসীগণ! উত্তরে তারা বলবেন, ’আমরা উপস্থিত, সৌভাগ্য তোমার কাছ থেকে অর্জিত এবং যাবতীয় কল্যাণ তোমারই হাতে।” তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট? তারা উত্তরে বলবে, কেন সন্তুষ্ট হব না, হে আমাদের প্রভু! অথচ আপনি আমাদেরকে এমন জিনিস দান করেছেন যা আপনার সৃষ্ট জগতের কাউকেও দান করেননি। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি কি তা অপেক্ষাও উত্তম জিনিস তোমাদেরকে দান করব না? তারা বলবে, হে প্রভু! তা অপেক্ষা উত্তম কিছু আর কি হতে পারে?

অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি দান করছি, অতএব এরপর তোমাদের ওপর আর কখনো আমি অসন্তুষ্ট হব না।

সহীহ বুখারী : ৬৫৪৯, সহিহ মুসলিম : ২৮২৯, মিশকাত : ৫৬২৬, সুনানে তিরমিযী : ২৫৫৫, সহীহুল জামি : ১৯১১, আহমাদ : ১১৮৫৩, সহীহ ইবনু হিব্বান : ৭৪৪০

১০. জান্নাতে নিম্ম স্তরের জান্নাতিরও সকল আশা পূরণ করা হবে।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-

তোমাদের মধ্যে যে লোক জান্নাতে সবচেয়ে নিম্ন স্তরের হবে তাকে বলা হবে, তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ কর। তখন সে আগ্রহ প্রকাশ করবে, আরো আগ্রহ প্রকাশ করবে (বার বার)। তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রশ্ন করবেন, তোমার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়েছে কি? সে বলবে, হ্যাঁ। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমি যতটুকু আশা-আকাঙ্ক্ষা করেছ তা এবং তার সমপরিমাণ (দ্বিগুণ) তোমাকে দেয়া হলো। সহহি মুসলিম : ১৮২, মিশকাত : ৫৬২৭, মুসনাদে আহমাদ ৮১৫৩, ১১২৩২, সহীহুল জামি : ১৫৫৭, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ : ২৬০১, আবূ ইয়া’লা : ৬৩৬০, সহীহ ইবনু হিব্বান : ৭৪৩১, শুআবূল ঈমান : ৩১৮

মুগীরা ইবন শোবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুসা আলাইহিস সালাম তার প্রতিপালককে জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতবাসীদের মধ্যে সর্বনিম্ন মর্যাদার লোকটি মর্যাদা কি রকম হবে? আল্লাহ তা‘আলা বললেন, সে হলো এমন এক ব্যক্তি, জান্নাতের অধিবাসীদের জান্নাতে প্রবেশ করানোর পর আমি তাকে বলবো, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে, হে রব! কীভাবে আমি জান্নাতে প্রবেশ করবো যখন সকলকে নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী স্থান নিয়ে গেছে এবং তাদের পাওনাগুলো গ্রহণ করেছে? তখন তাকে বলা হবে, দুনিয়ার সম্রাটদের মত একজন সম্রাটের যা থাকে তোমাকে সে পরিমাণ দেওয়া হলে তুমি কি সন্তুষ্ট হবে? সে উত্তরে বলবে হে প্রভূ, আমি সন্তুষ্ট হবো। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমাকে সে পরিমাণ দেওয়া হবে, তারপরও সে পরিমাণ আবার দেওয়া হবে, তারপরও সে পরিমাণ আবার দেওয়া হবে তারপর আবার সে পরিমাণ দেওয়া হবে। পঞ্চমবার সে বলবে, হে প্রভু আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তাহলে এ পরিমাণ তোমার সাথে এর আরো দশগুণ তোমাকে দেওয়া হলো। আর তোমার জন্য রয়েছে যা তোমার মন কামনা করে আর যা তোমার চোখ দেখতে চায়। সে বলবে, হে রব আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। তারপর মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আর সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তির স্থান কেমন হবে? আল্লাহ তা‘আলা বললেন: তারা হলো. যাদের মর্যাদার বীজ আমি নিজ হাতে বপন করেছি এবং তার উপর সীলমোহর এঁটে দিয়েছি। কাজেই সেখানের মর্যাদা ও সুখ-শান্তি এমন যা কোনদিন কোনো চোখ দেখে নি। কোনো কান শোনে নি। কোনো মানুষের অন্তর তার কল্পনা করে নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর সত্যতা তোমরা আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীতে পেতে পারো যেখানে তিনি বলেছেন, “অতএব, কোনো ব্যক্তি জানে না চোখ জুড়ানো কি জিনিস তাদের জন্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সুরা সিজদা : ১৭। সহিহ মুসলিম : ১৮৯।

১১. জান্নাতে সাধারণ মানুষে সাধারণ চাহিদাও পূরন করা হবে

বুরয়দাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন জনৈক লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে ঘোড়া পাওয়া যাবে কি? তিনি (সা.) বললেন, যদি আল্লাহ তা’আলা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান আর তুমি ঘোড়ায় সওয়ার হবার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ কর, তখন তোমাকে লাল বর্ণের মুক্তার ঘোড়ায় আরোহণ করানো হবে এবং তুমি জান্নাতের যেখানে যাওয়ার ইচ্ছা করবে ঘোড়া তোমাকে দ্রুত উড়িয়ে সেখানে নিয়ে যাবে। আর এক লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে উট পাওয়া যাবে কি? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি পূর্বের লোককে যেভাবে উত্তর দিয়েছেন, এ লোককে সেভাবে উত্তর না দিয়ে বললেন, যদি আল্লাহ তা’আলা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, তবে তুমি সে সকল জিনিস পাবে, যা কিছু তোমার মনে চাবে এবং তোমার চোখ জুড়াবে। সুনানে তিরমিযী : ২৫৪৩, সিলসিলাতু সহীহাহ্ : ৩০০১, মিশকাত : ৫৬৪২

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন, তখন তাঁর নিকট গ্রামের একজন লোক উপবিষ্ট ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, জান্নাতবাসীদের কোন একজন তার রবের কাছে চাষাবাদের অনুমতি চাইবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, তুমি কি যা চাও, তা পাচ্ছ না? সে বলবে, হ্যাঁ নিশ্চয়ই। কিন্তু আমার চাষ করার খুবই আগ্রহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন সে বীজ বুনবে এবং তা চারা হওয়া, গাছ বড় হওয়া ও ফসল কাটা সব কিছু পলকের মধ্যে হয়ে যাবে। আর তা (ফসল) পাহাড় সমান হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, হে আদম সন্তান! এগুলো নিয়ে নাও। কোন কিছুই তোমাকে তৃপ্তি দেয় না। তখন গ্রাম্য লোকটি বলে উঠল, আল্লাহর কসম, এই ধরনের লোক আপনি কুরায়শী বা আনসারদের মধ্যেই পাবেন। কেননা তাঁরা চাষী। আর আমরা তো চাষী নই। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। সহিহ বুখারি : ২৩৪৮, ৭৫১৯, মিশকাত : ৫৬৫৩, আহমাদ : ১০৬৫০, সহীহুল জামি :  ২০৮০।

১২. জান্নাতের মধ্যে উম্মতে মুহাম্মদীর সংখ্যা হবে সর্বাধিক

বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীদের একশত বিশটি কাতার হবে, তার মধ্যে এই উম্মাতের হবে আশিটি কাতার এবং অন্যান্য সকল উন্মাতের হবে চল্লিশটি। সুনানে তিরমিযী ২৫৪৬, ইবনু মাজাহ ৪২৮৯, মিশকাত : ৫৬৪৪, আর রওযুন নাযীর ৬০৮, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩১৭১৩, মুসনাদে বাযযার ১৯৯৯, মুসনাদে আহমাদ ২২৯৯০, দারিমী ২৮৩৫, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১০১৯৬, আল মু’জামুস সগীর লিত্ব তবারানী ৮২, আল মু’জামুল আওসাত্ব ১৩০১

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে একটি তাঁবুর মধ্যে ছিলাম। তিনি বলেনঃ তোমরা কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, তোমরা জান্নাতীদের সংখ্যার এক-চতুর্থাংশ হবে? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি আবার বলেনঃ তোমরা কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, তোমরা জান্নাতীদের সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ হবে? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ জান্নাতীদের অর্ধেক হবে তোমরা। এজন্য যে, জান্নাতে কেবল মুসলিম ব্যক্তিই প্রবেশ করবে। তোমরা মুশরিকদের তুলনায় কালো ষাঁড়ের চামড়ায় সাদা লোম সদৃশ অথবা লাল ষাঁড়ের চামড়ায় কালো লোম সদৃশ। সহিহ বুখারী : ৬৫২৮, ৬৬৪২, সহিহ মুসলিম : ২২১, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৮৩, সুননে তিরমিযী : ২৫৪৭, আহমাদ : ৩৬৫৩, সহীহাহ : ৮৪৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *