মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
ইসলামের দৃষ্টিতে মতবিরোধের কুফল
পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ছয়শত কোটি মানুষ বাস করে। তাঁদের মধ্যে জাতিগত, ধর্মগত, বর্ণগত, গোত্রগত, ভাষাগত, সংস্কৃতিগত, সীমানাগত, বিভক্তি লক্ষ করা যায়। মুসলিমদের মধ্যে জাতিগত, ধর্মগত, বর্ণগত, গোত্রগত, ভাষাগত, সংস্কৃতিগত, সীমানাগত, বিভক্তি না থাকলেও আজ তারাও শত শত দলে বিভক্ত হয়ে আছে। এ বিভক্তির কারণে সঠিক ইসলামকে টিকিয়ে রাখাই দুষ্কর হয়ে দাড়িয়েছে। নিজেদের মধ্যে বিরোধের কারণে নিজেরাই নানা প্রকার দু:খ-কষ্ট, বালা-মুসিবতে মধ্যে কালাতিপাত করছে। এমনি ভয়াবহ যুদ্ধের মত ফেতনায় জর্জরিত। যার প্রকৃত উদাহরণ হল ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন। ইসলামের প্রথম যুগে মুসলিমগণ শিয়া, খারিজী, মুতাজিলা, জাহমী, কাদারী, জাবরিয়াসহ অনেক ফিরকায় বিভক্ত হয়ে যায়। আজও তারা বিভিন্ন নামে বিভক্ত। এক বাংলাদেশেই হাজারের অধিক ফির্কা বা দলেন সন্ধান পাওয়া যাবে। পৃথিবীতে বর্তমানে যে দেড়শত কোটি মুসলিম বাস করে। আধুনিক কালের ফির্কা সমূহের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আজ মুসলিম বিশ্ব দুটি ধারায় বিভক্ত। তাদের একটি হল শিয়া আর অপরটি হল সুন্নি। উভয়ই ধারাই ইসলামের মূল ধারা হিসেবে দাবি করে থাকে। অথচ শিয়াদের সাথে ইসলামের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তাদের আকিদা বিশ্বাস ইসলাম থেকে যোজন বিয়োজন দুরে। ইসলামের শুরু থেকে অদ্যাবধি মক্কা মদিনায় ইসলামের মূলধারা বিদ্যমান আছে। সুদূর পারস্যে (বর্তমান ইরান) ইসলামের নামে কি হচ্ছে, কি আকিদা পোষণ করছে, কি ইবাদত তৈরি করছে, কি অনুষ্ঠান পালন করছে? তা জানলে আপনার ঘৃণাই প্রকাশ পাবে। তাদের আকিদা বিশ্বাস জানলে আপনি কখন তাদের মুসলিম ভাবতে পারবেন না। অন্যান্য ধর্মমতের মত তাদের মতকে শীয়া মতবাদ বলা হয় যা ইসলাম থেকে বহু দুরে। তবে সমস্যা হয় তাদের শীয়া মতবাদের সকল কাজগুলি ইসলাম বলে চালিয়ে দেয়, তখন তো ইসলামে আত্ম মর্যাদার জন্য অবশ্যই হানিকর। শিয়ারা যে বাতিল ফির্কা তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু আমরা যারা সুন্নি দাবি করি তারাও আজ শত শত দলে বিভক্ত। সবাই আজ নিজেদের “”আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআহ” (أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআহ” এর অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করছি। কিন্তু কে সত্যিকারের “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআহ” এর দলভুক্ত? সুন্নিদের সকল ফির্কার অনুসারীগণ নিজেদের “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআহ” এর সঠিক অনুসারী দাবি কারে থাকে তার কারণ একটি হাদিসে এসেছে।
মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হলেন, অতঃপর বললেন-
أَلَا إِنَّ مَنْ قَبْلَكُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ افْتَرَقُوا عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَإِنَّ هَذِهِ الْمِلَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَهِيَ الْجَمَاعَةُ.
জেনে রেখো! তোমাদের পূর্ব যুগের আহলে কিতাবগণ বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। নিঃসন্দেহে এই উম্মত অচিরেই তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে। তন্মধ্যে বাহাত্তর দলই জাহান্নামে যাবে, আর একটি মাত্র দল যাবে জান্নাতে, সে দলটি হল জামআত। সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৫১ হাদিসের মান সহিহ, সহিহাহ : ৪০৪-৪১৪
আরেকটি হাদিসে এসেছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ “ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلاَنِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي ” . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُفَسَّرٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِثْلَ هَذَا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, বনী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উন্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামি হবে। সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে দল কোনটি? তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবিগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত। সুনানে তিরমিজি : ২৬৪১, মিশকাত : ১৭১, সহীহাহ : ১৩৪৮
প্রথম হাদিসে একমাত্র দলের নাম উল্লেখ করে জামআত বলা হয়েছে এবং দ্বিতীয় হাদিসের ভাষ্য মতে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, একমাত্র আমি এবং আমার সাহাবিদের মতের অনুসারী দল। তাই এই উম্মতের সুন্নি মুসলিমগণ সে জামআত এর নাম দিয়েছেন- ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত”। অর্থাৎ যে যত বেশী রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তার সাহাবিদের (রা.) অনুসরণ করবে সে তত বেশী “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত” এর অনুসারী হবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন, যে যত বেশী বিদআত চালু করছে এবং সাহাবিদের (রা,) আমলের বিরোধিতা করছে, সে তত বেশী “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত” এর অনুসারী দাবি করছে। আবার কেউ তো দলের নাম রেখেছেন “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত”। আসলে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত” কোন দলেন নাম নয়, এটা হল এক দল মুসলিমদের উপাধি যারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর একনিষ্ঠ অনুসীরি এবং তাদের অনুসরণের মানদণ্ড হল সাহাবিগণ। যারা সত্যিকার অর্থেই “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত”। বর্তমানে তারাও বহু নামে বিভক্ত। বর্তমানে বিশ্বের “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত” এর বিভক্তির খতিয়ান বেশ লম্বা। শুধু ভারত উপমহাদেশের “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত” দাবিদার মুসলিমগণ বহু ফির্কায় বিভক্ত। উপমহাদেশের শিয়া ও তাদের শাখাসমূহ ব্যতীত, যারা “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত” দাবিদার তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ফির্কায় বিভক্ত। কোন কোন গবেষক এই ফির্কার সংখ্যা লক্ষাধিক বলেছেন।
এই সকল ফির্কার উৎপত্তি, আকিদা, আলম এবং তাদের অনুসারী সম্পর্ক জানতে পারলে, আপনি অনায়াসে বুঝে যাবেন “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত” এর সাথে তাদের কার কত টুকু সম্পর্ক আছে।
অপর পক্ষে মাজহাব অনুসারে হানাফি মাজহাব, শাফিঈ মাজহাব, মালেকি হাবহাব এবং হাম্বলি মাজহাব নামে চারটি ভাগে বিভক্ত। আবার তরিকার নামের আজ আমরা বিভক্ত। অনুসন্ধানে জানা যায় এই মাযহাবের বিভাজন সম্পর্কে মাযহাবের ইমামগণ কিছুই জানেন না। তরিকার ব্যাপারটি প্রায় একই ধরনের। অধিকাংশ তরিকা প্রতিষ্ঠাতা হয়েছে তাদের মৃত্যুর পর। প্রাথমিক যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন দশায় ইসলাম ধর্মের মাঝে কোনো বিভক্তি ছিল না। ইসলাম বিস্তারের সাথে সাথে (আরব বাদে) বিভিন্ন স্থানের মানুষ ইসলামকে বিভিন্নভাবে বুঝতে থাকে এবং বিভিন্ন আকিদা প্রষোণ করতে থাকে। আকিদার ভিন্নতার দরুন তাদের আমল আখলাকে ও ভিন্নতার ছাপ লক্ষ করা যায়। আস্তে আস্তে মুসলিমদের মাঝে মত পার্থক্যও প্রকট আকার ধারণ করতে থাকে। এমনিভাবে ইসলাম ভেঙ্গে হাজার হাজার ধর্মের উদ্ভব ঘটে। রাত দিন শত শত তরিকার কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাফালা হলেও তাদের মাঝে ছয়টি সুফিবাদি তারিকা বেশ প্রসিদ্ধ।
প্রসিদ্ধ এই তরিকাগুলো হল-
ক. কাদেরিয়া তরিকা (প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির জিলানি ৫৬১ হি.)
খ. চিশতিয়া তরিকা (প্রতিষ্ঠাতা খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি ৬৩৩ হি.)
গ. মাইজভান্ডারিয়া তরিকা (প্রতিষ্ঠাতা আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারি ১৯০৬ খৃ.)
ঘ. নকশবন্দিয়া তরিকা (প্রতিষ্ঠাতা শেখ বাহাউদ্দিন মোহাম্মদ নকশবন্দী ৭৯১ হি.)
ঙ. মুজাদ্দিদিয়া তরিকা (প্রতিষ্ঠিত নকশবন্দী মুজাদ্দিদ-ই-আলফে সানি ১০০৭ হি.) এবং
চ. সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকা (প্রতিষ্ঠাতা শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী ৬৮১ হি.)।
এমনি ভাবে তরিকার নামেও শত শত ফির্কার উদ্ভব ঘটেছে। এক এক জন ব্যক্তির আন্দাস এবং অনুমানের উপর ভর করে সৃষ্টি হয়েছে এই সকল তরিকা। এদের আমল ও আকিদা ইসলাম থেকে বহু দুরে।
ইসলামে কি এই ধরনের ফির্কা সৃষ্টির অনুমতি আছে?
ইসলামে ধর্মের মাঝে এমনিভাবে তরিকার নামে, মাযহাবের নামে, ব্যক্তির নামে, গোষ্ঠীর নামে বিভিন্ন ফির্কার সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামে ধর্মের মাঝে এই ধরনের ফির্কা সৃষ্টির ন্যূনতম স্থান বা অনুমতি নেই। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জানা যায় ইসলামে বিভক্তি, ফির্কাবাজি বা দলাদলি করা সম্পূর্ণ হারাম। তার পরও ফির্কাবাজি বা দলাদলি চলছে। হাজার হাজার নজর কাড়া, মন ভুলান নামে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ফির্কা। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ লোকগুলি ফির্কার যাতা কলে পড়ে বিদআতি এবং শির্ক মিশ্রিত আমল করে ইমান হারাচ্ছে। অথচ ইসলামে ফির্কাবাজি বা দলাদলির কোনো সুযোগ নেই। আমাদের নবি মুহাম্মাদ ﷺ এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের যে সত্য দ্বীনে দান করেছে তার মাঝে ঐক্য বিনষ্ট করতে তিনি (আল্লাহ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। নবি মুহাম্মাদ ﷺ বিভিন্ন হাদিসেও ঐক্য বিনষ্ট করতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসের গ্রন্থগুলি অধ্যয়ন করলে বিভক্তির খারাপ দিকগুলি ফুটে উঠার সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেক ভবিষ্যৎ বাণী পাওয়া যাবে, যেখানে তিনি উম্মতের মাঝে ব্যাপক মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ মতবিরোধ হবে বলে উল্লেখ করেছেন মাত্র, তিনি মতবিরোধ করতে বলেননি। তিনি শুধু উম্মতকে সতর্ক করা জন্য বলেছেন যে, আমার পরবর্তী কালে তোমাদের মাঝে মতবিরোধ হবে কিন্তু যারা এই বিরোধ থেকে মুক্ত থাকবে তারাই সফলকাম। এই মতবিরোধ থেকে বেচে সফলকাম হতে হলে কি কাজ করে হবে তারও বিস্তারিত বিবরণ তিনি বলেছেন। এমনই একটি উপদেশ মুলক হাদিস উল্লেখ করছি।
ইরবাজ ইবনু সারিয়া (রা.) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের নসিহত করেন, যাতে অন্তরসমূহ ভীত হল এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করলো। তাকে বলা হল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি তো বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ দিলেন। অতএব আমাদের নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করুন। তিনি ﷺ বলেন-
عَلَيْكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا وَسَتَرَوْنَ مِنْ بَعْدِي اخْتِلاَفًا شَدِيدًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَالأُمُورَ الْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ
তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে, হাফসি গোলাম আমির হলেও তার কথা শ্রবণ করো ও আনুগত্য করো। আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্মক মতভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। অবশ্যই তোমরা বিদআত কাজ পরিহার করবে। কারণ প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২, সুনান তিরমিজি : ২৬৭৬, সুনানে আবূ দাঊদ ৪৬০৭, আহমাদ : ১৬৬৯২, দারিমী : ৯৫
এই হাদিসে উম্মতের দলাদলি বা ফির্কাবাজী করার ইঙ্গিত পাই। তিনি বিভিন্ন দলে ভাগ হবে বলেছেন কিন্তু ভাগ হতে বলেন নি। উম্মতের অনৈক্য সৃষ্টি করে ফির্কা তৈরি করার সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ আলোকে আলোচন করব। কুরআন ও হাদিসে ফির্কা সৃষ্টির অপকার এবং শাস্তি সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আবার যারা ফির্কা সৃষ্টি না করে মিলেমিশে থাকবে, তাদের জন্য মহান আল্লাহ ইহকাল ও পরকালের পুরস্কারের কথা উল্লেখ আছে। মহান আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক বাণী জানতে পারলে খুব সহজেই ফির্কাবাজি বা দলাদলির কুফল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারব। কুরআন সুন্নাহ আলোকে ফির্তবাজির কুফলগুলো উল্লেখ করা হল।
ফির্কাবাজি বা দলাদলির ফলে কুফল-
১। মতবিরোধ করে দ্বীনে বিভক্তির সৃষ্টিকারীদের হত্যার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে
এই সম্পর্কে প্রথমেই সুনানে নাসায়ি এ বর্ণিন একটি হাদিস লক্ষ করুন-
أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَرْدَانِبَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، عَنْ عَرْفَجَةَ بْنِ شُرَيْحٍ الْأَشْجَعِيِّ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ النَّاسَ، فَقَالَ: «إِنَّهُ سَيَكُونُ بَعْدِي هَنَاتٌ وَهَنَاتٌ، فَمَنْ رَأَيْتُمُوهُ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ، أَوْ يُرِيدُ يُفَرِّقُ أَمْرَ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَائِنًا مَنْ كَانَ فَاقْتُلُوهُ، فَإِنَّ يَدَ اللَّهِ عَلَى الْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ يَرْكُضُ»
আরফাজা ইবন শুরায়াহ আশজাই (রা.) হতে বর্ণিত, আমি নবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মিম্বরের উপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দেখেছি। তিনি বলছিলেন, আমার পরে অনেক ফিতনা দেখা দেবে, এসময় তোমরা যাকে দেখবে মুসলমানদের দল হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, অথবা উম্মতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইছে; সে যে-ই হোক না কেন, তাকে হত্যা করবে। কেননা আল্লাহ্ তা’আলার রহমতের হাত মুসলমানদের দলের উপর থাকবে। আর যে ব্যক্তি জামা’আত থেকে পৃথক হয়ে যায়, শয়তান তার সাথি হয় এবং তাকে লাথি মেরে তাড়িয়ে দেয়। সুনানে নাসায়ি : ৪০২০, সহিহুল জামে : ৩৬২১
আরফাযা ইবন রায়হ্ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّهَا سَتَكُونُ بَعْدِي هَنَاتٌ وَهَنَاتٌ وَهَنَاتٌ وَرَفَعَ يَدَيْهِ فَمَنْ رَأَيْتُمُوهُ يُرِيدُ تَفْرِيقَ أَمْرِ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ جَمِيعٌ فَاقْتُلُوهُ كَائِنًا مَنْ كَانَ مِنْ النَّاسِ
আমার পরে নিশ্চয়ই অনেক ফিতনা-ফাসাদ হবে। এরপর তিনি তাঁর হাত উঠিয়ে বললেন, তখন তোমরা যাকে দেখবে, উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ইচ্ছা করছে, অথচ তারা একতাবদ্ধ; তখন তোমরা তাকে হত্যা করবে, সে যে-ই হোক না কেন। সুনানে নাসায়ি : ৪০২১, সহিহুল জামে : ৩৬২২
মহান আল্লাহ বলে,
إِنَّمَا جَزَاء الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُواْ أَوْ يُصَلَّبُواْ أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلافٍ أَوْ يُنفَوْاْ مِنَ الأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অর্থ : যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। সুরা মায়েদ : ৩৩
সুরা মায়েদার এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সুনানে নাসায়ির ৪০২৩ নম্বর হাদিসের বলা হয়-
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا رَجُلٍ خَرَجَ يُفَرِّقُ بَيْنَ أُمَّتِي، فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ»
উসামা ইবন শরীক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির তৎপরতা চালাবে, তার গর্দান উড়িয়ে দাও। সুনানে নাসায়ি : ৪৬২৩
২। মতবিরোধ করে ফির্কা সৃষ্টিকারীদের থেকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দায় মুক্তি :
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের উদ্দেশ্যই হল মানুষ জাতির হিদায়দের পথ প্রদর্শন করা। কিন্তু মানুষ জাতি যখন মুশরিকদের স্বভাব ধারণ করে ইসলামি দ্বীনের মাঝে ফাটল ধরিয়ে টুকরা টুকরা করবে তখন মহান আল্লাহ তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দ্বীনে বিভক্তি সৃষ্টিকারীদের থেকে দূরে রাখবেন। অর্থাৎ যারা দ্বীনে অনৈক্য সৃষ্টি করবে মহান আল্লাহ তাদের দায়িত্ব থেকে তার নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মুক্ত ঘোষণা করছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
অর্থঃ যারা নিজেদের দিনকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে নিঃসন্দেহে তাদের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই৷ তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ন্যস্ত রয়েছে৷ তারা কি করেছে, সে কথা তিনিই তাদেরকে জানাবেন৷ সূরা আন‘আম : ১৫৯
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ফার্রাকু (فَرَّقُوا) শব্দটির ব্যবহার করেছেন যার অনুবাদ করা হয়েছে, ধর্মের নামে বিভক্ত করা। দ্বীনকে বিভক্ত করলে তার দায় থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বাধীন হয়ে যাবে। হাশরের ময়দানে ভীষণ বিপদের সময় মহান আল্লাহর অনুমতি ক্রমে তার প্রেরিত রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষদের সাফায়েত করে জান্নাত প্রদানের জন্য মহান আল্লাহর নিকট অনুরোধ করবেন। মহান আল্লাহরও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুপারিশে হাজার হাজার পাপী মানুষকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করবেন। কিন্তু যারা দ্বীন মাঝে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করবে তাদের দায়িত্ব বা সুপারিশ থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দায় মুক্ত থাকবেন। মহান আল্লাহর এহেন সতর্কবার্তা সত্ত্বেও মুসলমানগণ আজ ধর্মের নামে, নেতার নামে, দলেন নামে, পীরের নামে, মাযহাবের নামে, তরিকার নামে, কুরআনের নামে হাদিসের নামে বিভক্ত হচ্ছে।
৩। দ্বীনে নিয়ে বিরোধে লিপ্ত হলে কঠিন শাস্তির ঘোষণা :
মহান আল্লাহ দ্বীনের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করছেন এবং তিনি এর জন্য শাস্তির ও ঘোষণা করছেন। ইসলাম ধর্মের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে বিভিন্ন ফির্কার সৃষ্টি করা হারাম ও কবিরা গুনাহর কাজ। মহান আল্লাহ বলেন-
وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
এবং তাদের মতো হয়োনা যাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে ও পরস্পর মতভেদে লিপ্ত রয়েছে; তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। সূরা আল-ইমরান : ১০৫
এই আয়াতে মহান আল্লাহ পূর্ববর্তী নবিদের উম্মাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, তারা সঠিক দ্বীন পেয়েছিল কিন্তু তারা সঠিক দীনের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করছিল। তাদের নিকট মহান আল্লাহর নিকট থেকে সত্য, সঠিক, সরল ও সুস্পষ্ট ধর্ম এসেছিল তারা তা থেকে শিক্ষাও লাভ করেছিল। কিন্তু কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর দীনের মূল বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে দীনের সাথে সম্পর্কবিহীন গৌণ ও অপ্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি বিষয়াবলির ভিত্তিতে নিজেদেরকে একটি আলাদা ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু করে দিয়েছিল। তারপর অবান্তর ও আজেবাজে কথা নিয়ে এমনভাবে কলহে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল যে, আল্লাহ তাদের ওপর যে দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন তার কথাই তারা ভুলে গিয়েছিল এবং বিশ্বাস ও নৈতিকতার যে-সব মূলনীতির ওপর আসলে মানুষের সাফল্য ও কল্যাণের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, তার প্রতি কোন আগ্রহই তাদের ছিল না। এই সকল লোকদেরকে মহান আল্লাহর আজাব ভোগ করতে হবে।
৪। মতবিরোধ করা একটি পার্থিব আজাব
সে সকল মানুষ সত্য দ্বীন থেকে বিমুখ, তারাই বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে আর নিজেদের মাঝে মারামারি, খুনাখুনি ও ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হবে। আমরা জানি ভূমিকম্প, বন্যা, জলোচ্ছাস, সুনামি, ঝরঝঞ্চা, মহামারি ইত্যাদি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠান ইহকালের আজাব। একটি মাত্র ঝট্কা তোমাদের সমগ্র জনপদকে ধূলিস্মাত করে দেবার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু মহান আল্লাহ আনিত দ্বীনকে অস্বীকার করলে ইহকালে মহান আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে একদল দিয়ে অন্য দলকে শাস্তি দিবেন। তার শান্তি এমন যে, মানুষ বিভিন্ন নিজেদের মধ্যে এমন শত্রুতা জন্ম দিবে যার ফলে বছরের পর বছর ধরে রক্তপাত, বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব হবে না। যখন দেখবে দেশে দেশে, গোত্রে গোত্রে, জাতিতে জাতিতে, মুসলিম মুসলিমে, ভাই ভাইয়ে বিবাদে লিপ্ত তখন বুঝবে এটা মহান আল্লাহ কর্তৃক পাঠান আজাব। মহান আল্লাহ বলেন,
قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَن يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّن فَوْقِكُمْ أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعاً وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الآيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَفْقَهُونَ
অর্থঃ বলুন, তিনিই শক্তিমান যিনি তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন অথবা তোমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখি করে দিবেন এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন। দেখ, আমি কেমন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিদর্শনাবলি বর্ণনা করি যাতে তারা বুঝে নেয়। সুরা আনয়াম : ৬৫
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, ইসলামের মাঝে আজ যে আমরা দলাদলি দেখতে পাচ্ছি তা আমাদের প্রতি মহান আল্লাহ পক্ষ থেকে পাঠান আজাব মাত্র। এই আজাব থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হল কুরআন সুন্নাহর আলোকে তাওহীদের ভিত্তিতে সকলকে এক হয়ে যাওয়া।
এই সম্পর্কে একটি সহিহ হাদিস-
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ فَقَالَ الْجَمَاعَةُ رَحْمَةٌ وَالْفُرْقَةُ عَذَابٌ
নুমান বিন বাশীর (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় বলেছেন, জামায়াত (ঐক্য) হল রহমত এবং বিচ্ছিন্নতা (মতবিরোধ) হল আজাব। হাদিস সম্ভার : ১৮৪৪, সহিহুল জামে : ৩১০৯, কিতাবুস সুন্নাহ, শায়বানী : ৮৯৫
৫। মুশরিকদের স্বভাব অর্জন করা
কুরআনুল মাজিদে মহান আল্লাহ মুশরিকদের অনেক শিরকই কাজের পাশাপাশি ধর্মের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে ধর্মকে টুকরা টুকরা করার মত স্বভাবটিও উল্লেখ করেছেন। ধর্মের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করা নিঃসন্দেহে একটি মন্দ কাজ। মতবিরোধ বা বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে ধর্ম টুকরা টুকরা হয়ে যায়। মহান আল্লাহর দ্বীনকে টুকরা টুকরা মুশরিকি স্বভাব হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তিন ইরশাদ করেন-
وَلَا تَكُونُواْ مِنَ ٱلۡمُشۡرِڪِينَ. مِنَ ٱلَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمۡ وَڪَانُواْ شِيَعً۬اۖ كُلُّ حِزۡبِۭ بِمَا لَدَيۡہِمۡ فَرِحُونَ
অর্থঃ তোমরা ঐ মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা দ্বীনকে টুকরা টুকরা করে ফেলেছে এবং যারা দলে দলে বিভক্ত হয়েছে, প্রত্যেক দল তাদের কাছে যা ছিল তাই নিয়েই খুশি। সূরা রুম : ৩১-৩২
এই আয়াতে স্পষ্ট ঘোষণা মুশরিকগণ তাদের দ্বীনে বিভক্তি সুষ্টি করছ। মুশরিকদের বিভক্তির কারণ হল, তাদের নিকট সঠিক তাওহীদের জ্ঞান ছিল না। দুনিয়ায় যতগুলো ধর্ম পাওয়া যায়, তার সবগুলোরই উৎপত্তি হয়েছে আসল বা ঐশী দ্বীনের বিকৃতি সাধনের মাধ্যমে। এ বিকৃতি আসার কারণ হল, বিভিন্ন ব্যক্তি প্রাকৃতিক সত্যের ওপর নিজেদের নতুন নতুন কথা বাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের জন্য এক একটি আলাদা ধর্ম বানিয়ে নিয়েছে। মুশরিকদের মত আজ মুসলিমগণও ধর্মের মাঝে বিভিন্ন ফির্কার সৃষ্টি করছে এবং তারা তাদের ভ্রান্ত মতবাদ নিয়েই সন্তুষ্টও বটে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ আরও বলেন,
وَإِنَّ هَـٰذِهِۦۤ أُمَّتُكُمۡ أُمَّةً۬ وَٲحِدَةً۬ وَأَنَا۟ رَبُّڪُمۡ فَٱتَّقُونِ (٥٢) فَتَقَطَّعُوٓاْ أَمۡرَهُم بَيۡنَہُمۡ زُبُرً۬اۖ كُلُّ حِزۡبِۭ بِمَا لَدَيۡہِمۡ فَرِحُونَ (٥٣) فَذَرۡهُمۡ فِى غَمۡرَتِهِمۡ حَتَّىٰ حِينٍ (٥٤)
অর্থঃ তোমাদের এই দীন তো একই দীন। আর আমি তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর। তারপর লোকেরা তাদের মাঝে তাদের দ্বীনকে বহুভাগে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে উৎফুল্ল। সুতরাং কিছুকালের জন্য তাদেরকে স্বীয় বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও। সুরা মুমিনুন : ৫২-৫৪
সকল যুগে সমগ্র মানব জাতি একই দল ও একই মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের কার্যকলাপ তাদের মধ্য বিভেদের সৃষ্টি করছে। তারা আন্দাজ ও অনুমানের ভিত্তিতে চলত এবং নিজেদের মাঝে ফির্কার সৃষ্টি করে ফির্কা বন্দী জিবন যাপন করতে। পূর্বে দুনিয়ায় যত নবি রাসূল এসেছিল তারা সবাই একই দীন ও জীবন বিধান নিয়ে এসেছেন। তাদের সকলের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। তারা সকলে কেবলমাত্র এক ও একক আল্লাহ দিতে মানুষকে আহ্বান করতেন। সকল নবি একই ধর্ম নিয়ে এসেছে তাদের সকলের ধর্ম ছিল ইসলাম। অথচ মুশরিকগণ তাদের কার্যকলাপ বা স্বভাব দ্বারা দ্বীনে বিভক্তি সৃষ্টি করে ছিল। এই মর্ম মহান আল্লাহ বলেন-
*وَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ كُلٌّ إِلَيْنَا رَاجِعُونَ* إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ
অর্থঃ তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের। একই ধর্মে তো বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব আমার বন্দেগি কর। এবং মানুষ তাদের কার্যকলাপ দ্বারা পারস্পরিক বিষয়ে ভেদ সৃষ্টি করেছে। প্রত্যেকেই আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। সুরা আম্বিয়া : ৯২-৯৩
৬। পরস্পরের বিরুদ্ধাচরণ ও হিংসা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছ
আবু হুরাইরাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ، وَلاَ تَحَسَّسُوا، وَلاَ تَجَسَّسُوا، وَلاَ تَنَاجَشُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَلاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا ”.
তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে চলো। কারণ অনুমান বড় মিথ্যা ব্যাপার। আর কারো দোষ খুঁজে বেড়িও না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পরকে ধোঁকা দিও না, আর পরস্পরকে হিংসা করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করো না এবং পরস্পরের বিরুদ্ধাচরণ করো না। বরং সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৬
আনাস ইবনু মালিক (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا، وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ
তোমরা পরস্পর বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না, একে অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। কোনো মুসলিমের জন্য তিন দিনের অধিক তার ভাইকে ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়। সহিহ বুখারি : ৬০৬৫, ৬০৭৬,সহিহ মুসলিম : ২৫৫৯
ফির্কাবাজি বা দলাদলি পরিত্যাগ করার সুফল
১। ফির্কাবাজি পরিত্যাগ করলে সকলের মাঝে মিল মহব্বত সৃষ্টি করে দিবেন।
২। দ্বীনের মাঝে দলাদলি সৃষ্টি না করা সকল নবীর সুন্নত।
১। মতবিরোধ পরিত্যাগ করলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আল্লাহ সকলের মাঝে মিল মহব্বত সৃষ্টি করে দিবেন-
মতবিরোধ পরিত্যাগ করলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে মহান আল্লাহ পরস্পরের মাঝে মিল মহব্বত সৃষ্টি করে দেন। ইসলামের আগমেনর পূর্বে আরববাসীরা বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা, কথায় কথায় ঝগড়া বিবাদ এবং রাতদিন মারামারি, কাটাকাটি, হানাহানি ও যুদ্ধ-বিগ্রহের লেগেই থাকত। কোন কোন মারামারি, কাটাকাটি, হানাহানি ও যুদ্ধ-বিগ্রহ তো বছরের পর বছর ধনে চলত। এমন কি মৃত্যুর সময় সন্তানকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অসিয়ত করে যেত। আওস ও খাযরাজ দু’টি গোত্রে বছরের পর বছর যুদ্ধ করেছিল। তারা ছিল পরস্পরের রক্ত পিপাসু। তাদের এই যুদ্ধ-বিগ্রহ তাদের কে ধ্বংসের কবলে নিক্ষিপ্ত করছিল। তাদের এই মর্মান্তিক অবস্থা এক মাত্র কারণ ছিল অনৈক্য বা নিজের মাঝে মতবিরোধ। এই চরম অবস্থা থেকে তাদের উদ্ধার করে ছিল ইসলাম। তাদের মধ্যে থেকে যারাই ইসলাম গ্রহণ করেছিল, মহান আল্লাহ তাদের সকলের আন্তরে মিল মহব্বত ঢেলে দিয়েছিল। যার ফলে তারা একে অপরের ভাই বা বন্ধু হয়ে যায়। ইসলামের বদৌলতে তারা পরস্পরের মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। মহান আল্লাহ কুরআনে ঘোষণা করেন, যদি আদম সন্তান তার রজ্জুকে দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধভাবে তার দ্বীন ধারণ করে তবে তিনি তাদের মধ্যে শত্রুতার পরিবর্তে মিল মহব্বত সৃষ্টি করে দিবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا
অর্থঃ “তোমরা আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর ঐক্যবদ্ধভাবে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ্ তা থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। সুরা আল-ইমরান : ১০৩
ইসলাম কে আল্লাহর একটি রজ্জু সাথে তুলনা করেছেন। মহান আল্লাহ তাকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ প্রদান করছেন। আল্লাহর রজ্জু বলতে তাঁর দ্বীনকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহর দ্বীনকে রজ্জুর সাথে তুলনা করার কারণ হয়েছে। ইসলামি দ্বীনের প্রতি ইমান আনার সাথে সাথে তাদের মাঝে একটি ঈমানি শক্তির সৃষ্টি হয়।
এই সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْجَمَاعَةَ وَيَكْرَهُ الْفُرْقَةَ.” عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ
আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ ঐক্যকে পছন্দ করেন এবং বিভেদকে অপছন্দ করেন। মুসনাদ আহমদ : ২১৭২১
ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাবিয়া’ (সিরিয়ার অন্তর্গত) নামক জায়গায় উমর (রা.) আমাদের সামনে খুতবাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে বলেন, হে উপস্থিত জনতা! যেভাবে আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন, সেভাবে তোমাদের মাঝে আমিও দাঁড়িয়েছি। তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমার সাহাবিদের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি (তাদের যমানা শ্রেষ্ঠ যমানা), তারপর তাদের পরবর্তীদের যমানা, তারপর তাদের পরবর্তীদের যমানা, তারপর মিথ্যাচারের বিস্তার ঘটবে। এমনকি কাউকে শপথ করতে না বলা হলেও সে শপথ করবে, আর সাক্ষ্য প্রদান করতে না বলা হলেও সাক্ষ্য প্রদান করবে।
সাবধান! কোন পুরুষ কোনো মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হলে সেখানে অবশ্যই তৃতীয়জন হিসাবে শাইতান অবস্থান করে (এবং পাপাচারে প্ররোচনা দেয়)। তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা হতে সাবধান থেকো। কেননা, শাইতান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে অবস্থান করে। যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে (মুসলিম সমাজে)। যার সৎ আমল তাকে আনন্দিত করে এবং বদ্ আমল কষ্ট দেয় সেই হলো প্রকৃত ঈমানদার। সুনানে তিরমিজি :২১৬৫, সুনানে ইবনু মাজাহ : ২৩৬৩
২। দ্বীনের মাঝে দলাদলি সৃষ্টি না করা সকল নবীর সুন্নত-
পৃথিবীতে যত নবি রসূলই আগমন করেছেন তাঁরা সবাই একই দ্বীন নিয়ে এসেছেন। তাদেরকে দ্বীন কায়েম করা পাশাপাশি দ্বীনে বিভেদ বা দালালি সৃষ্টি না করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ
অর্থঃ তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নূহকে আর যা আমি ওহী করেছি আপনাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা এবং ঈসাকে, এ বলে যে, তোমরা দীন প্রতিষ্ঠা কর এবং তাতে দলাদলি-বিচ্ছিন্নতা করো না।” (সূরা শুরা ৪১:১৩)।
এই আয়াতে মহান আল্লাহ তার শ্রেষ্ঠ পাঁচ জন নবি আলাইহিস সালামের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, আমি তাদের সকলকে এক ও অভিন্ন দ্বীন দিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছি। শুধু তাই নয় পৃথিবীতে যত নবী-রসূলই আগমন করেছেন তাঁরা সবাই একই দ্বীন নিয়ে এসেছেন। নমুনা হিসেবে এমন পাঁচজন মহান নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাঁদের মাধ্যমে দুনিয়ার মানুষ সুবিখ্যাত আসমানি শরীয়তসমূহ লাভ করেছে। এই আয়াতে আলোকে বুঝা যায় মহান আল্লাহ তাদের দুটি নির্দেশ প্রদান করেছেন। এক. দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করা। দুই. দ্বীনে মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে পরস্পর ভিন্ন না হয়। সকল নবিদের কাজই ছিল মহান আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন কায়েম করা। আয়াতের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, দ্বীনে বিভেদের সৃষ্টি করতে নিষেধ করা হয়েছে।
দ্বীনে বিভেদ পরিহার করা সকল নবিদের সুন্নত। সকল নবীকে মহান আল্লাহ এ বিষয়টি পরিহার করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। পূর্ববর্তী উম্মাতগুলোর মতভেদ ও বিভক্তি প্রসঙ্গে কুরআন কারিমে বারবারই বলা হয়েছে যে, জ্ঞানের আগমনের পরেও তারা বাড়াবাড়ি করে বিভক্ত হয়েছে। আল্লাহ বলেন-
وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ
অর্থ: তাদের নিকট ইলম আগমনের পরে পারস্পরিক বাড়াবাড়ি করেই শুধু তারা দলাদলি করেছে।” সূরা শূরা : ১৪