মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
মুসলিম উম্মার মাঝে বিভিন্ন দল সৃষ্টির ফলে আজ আমাদের এমন করুন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের দিকে দৃষ্টি দেই আর আমাদের দেশের দিকে দৃষ্ট দেই, সকল স্থানেই আমাদেরকে মাঝে বিভেদ আর বিশৃঙ্খলা বেড়া জাল দ্বারা আটকে রেখেছে। এই বইটিতে উম্মতের মতবিরোধের কুফল ও কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। এই পর্যায় মতবিরোধ দূর করার জন্য আমাদের করণীয় কাজসমূহ উল্লেখ করব, (ইনশাআল্লাহ)। মতবিরোধ দুর কারণে আমাদের করণীয় প্রথম ও প্রধান কাজ হল- যে সকল কারণে বিভক্ত সৃষ্ট হয়েছে তা পরিহার করা। বিভক্তির কারণ হিসেবে প্রথমে উল্লেখ করেছিলাম উম্মতের মাঝে আকীদার ব্যাপারে ব্যাপক মতভেদ আছে এবং সে সম্পর্কে আলোচনাও করেছি। প্রথমে আমাদের সালাফদের গৃহীত শির্ক বর্জিত, সহিহ ও সঠিক আকিদা অনুসারী হতে হবে। ফিকহি ক্ষেত্রে মুজতাহিদ আলেমদের মাঝে ব্যাপক মতভেদ থাকলেও তারা সাহাবিগণের পদ্ধতি অনুসরণ করে মতভেদের ব্যাপারে ব্যাপক প্রশস্ততা দেখিয়েছেন। তারা কোনো স্পষ্ট বিষয়ে মতভেদ করেনি। কুরআন ও হাদিসের অস্পষ্ট ভাষা, পরস্পর বিরোধী হাদিস, হাদিস না জানার জন্য মতভেদ করতেন কিন্তু যখনই কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট দলিল পেতেন নিজের মতামত ছেড়ে দিতেন। মুজতাহিদ আলেমদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল- তারা তাদের কোন ইজতিহাদকে শতভাগ সঠিক মতে করতেন না, তাই তারা হাদিস পেলে ইজতিহাদ ছেড়ে হাদিসের অনুসরণ করতে বলতেন। অপর পক্ষে তারা অন্য মুজতাহিদ আলেমের রায়কেও সম্মান দেখাতেন। এই কারণে মুজতাহিদ আমাদের মাঝে ব্যাপক মতভেদ হলেও তাদের মাঝে মতবিরোধ বা দলালদি হয়নি। কাজেই আমাদেরও ফিকহি মাসয়ালা মাসায়েলে প্রশস্ততা দেখাতে হবে। উম্মতে মাঝে তাওহিদ সম্পর্কে জ্ঞানের অপ্রতুলতা ব্যাপক। তারা যেন তাওহীদের সঠিক অর্থ বুঝে সঠিক বিশ্বাস নিয়ে চলতে পারে তার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তাওহীদের সঠিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। ইমাম জুমার খুতবায়, বক্তাগণ তাদের বিভিন্ন বক্তৃতায়, লেখকগণ তাদের লেখায় তাওহীদের সঠিক মর্মবাণী তুলে ধরতে হবে। উপমহাদেশে সুফিদের পরিচালিত কর্মকাণ্ড যতটুকু শির্ক বা বিদআত আছে তা সম্মানের সাথে যুক্তি সংগতভাবে তুলে ধরতে হবে, তা না হলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। কারণ সমালোচনায় ইসলামি আদব লঙ্ঘন করলে কেউ আপনার সঠিক কথায় মূল্যায়ন করবে না। এ কথা বলেও তৃপ্তির ঢেকুল গেলা যাবেনা যে, আমার নিজের মতামত শতভাগই নির্ভর। আমাদের দেশে মাজার ভক্তের সংখ্যা একেবারে কম নয়। মাজার ভক্তের অধিকাংশই অশিক্ষিত। তাই তাদের মাজার কেন্দ্রিক আমল সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে। এক কথায় বিভক্তির কারণ থেকে করণীয় আলোচনা করা হল। ইহার পাশাপাশি মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে আমাদের নিম্নের কাজেগুলি করত হবে তবেই মতবিরোধ বা দলাদলি থেকে মুক্তি পাব। মতবিরোধ থেকে মুক্তি জন্য আমাদের করণীয় হল-
১। মহান আল্লাহ নির্দেশ মেনে ঐক্য বজায় রাখতে হবে
২। মতবিরোধের মাধ্যমে ফির্কার সৃষ্টি না করে জামাত বন্ধ থাকতে হবে
৩। মতবিরোধ নিরসনে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের হাদিসের দিকে প্রত্যর্পণ কর
৪। মতবিরোধ নিরসনে আমিরের আনুগত্য করতে হবে-
৫। জাল ও যঈফ বর্ণনাগুলো পরিহার করাঃ
৬। ফিকহি ক্ষেত্রে মুজতাহিদ আলেমদের মত প্রশস্ততা দেখান-
৭। আকিদার ক্ষেত্র কুরআন সুন্নাহর সঠিক দলিলের অনুসরণ করা
৮। বিদআত পরিহার করে সুন্নাহর অনুসরণ করাঃ
০৯। কোন ব্যক্তিকে ভুলের ঊর্ধ্বে মনে না করা
১০। মাযহাবের নামে আলাদা আলাদা পরিচয় না দেয়া-
১১। তরিকার নামে আলাদা আলাদা পরিচয় না দেওয়া
১২। সর্বক্ষেত্রে নিজের দল ও মতকে প্রাধান্য না দেয়া-
এখানে প্রথম চারটি আলোচিত হলো :
১। মহান আল্লাহ নির্দেশ মেনে ঐক্য বজায় রাখতে হবে
ঐক্য বজায় রাখা ফরজ। ঐক্য মুসলিম জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আল্লাহ তায়ালা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ঈমানের অনিবার্য দাবি হচ্ছে- ঐক্যবদ্ধ জীবনযাপন। তাওহিদের পরে মুমিনদেরকে যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেওয়া হয়েছে তা হলো- ঐক্য। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন-
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا ۚ وَكُنْتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
“তোমরা সবাই আল্লাহর রশি দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমরা আল্লাহর সেই অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমরা শত্রু ছিলে, তখন তিনি তোমাদের অন্তরগুলোর মধ্যে মিল সৃষ্টি করেছিলেন। ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। সুরা আলে ইমরান : ১০৩
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন-
شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ
অর্থ : তিনি তোমাদের জন্য সেই ধর্ম নির্ধারণ করেছেন যা নূহকে আদেশ দিয়েছিলেন, যা আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি, এবং যা ইবরাহিম, মূসা ও ঈসাকে আদেশ দিয়েছিলাম। ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে বিভক্ত হয়ো না। সূরা শুরা : ১৩
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোশ মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে।সুরা হুজুরাত : ১০
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন-
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না। তা না হলে তোমরা ব্যর্থ হবে এবং তোমাদের শক্তি ক্ষীণ হয়ে যাবে। ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। সুরা আনফাল : ৪৬
মহান আল্লাহ নির্দেশ মেনে ঐক্য বজায় রাখা সকল উম্মতের উপর ফরজ। ফির্কাবাজী করে বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হওয়া হারাম কাজ। মহান আল্লাহ এই নির্দেশ মেনে সকল উম্মত কে ঐক্য বজায় রেখে চলতে হবে। আমাদের মাঝে যে সকল মতভেদ বিদ্যমান আছে, তা ভুলে একই কাতারে এসে দাঁড়ান এখন সময়ের দাবি। কোন দল বা নেতার কথা কান না দিয়ে মহান আল্লাহ নির্দেশ পালনার্থে সবাইকে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিদের অনুসৃত পথই হল আসল ও হেদায়েতের পথ তাদের পথে চললে ঐক্য থাকা খুবই সহজ হবে। তারাই মহান আল্লাহর এই নির্দেশ বেশী বুঝেছেন এবং বেশী অনুসরণ করেছেন। ঐক্যবদ্ধ থাকতে যে কোনো প্রকারের স্বার্থ কুরবানি করতে প্রস্তত থাকতে হবে। কুরআন সুন্নাহর সামনে নিজে সমর্পণ করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই একটি মাত্র নিয়তই সমাজের মতবিরোধ কমাতে অনেকাংশে ভূমিকা রাখতে পারে। যার ফলে মুসলিমরা আল্লাহ আদেশ মেন ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
২। মতবিরোধের মাধ্যমে ফির্কার সৃষ্টি না করে জামাত বন্ধ থাকতে হবে-
জামাত শব্দটি আরবি “جَمَاعَة” (জামাআহ) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ দল, গোষ্ঠী বা সংঘ। ইসলামের পরিভাষায়, জামাত বলতে সেই গোষ্ঠী বা দলকে বোঝানো হয় যারা কুরআন ও সুন্নাহকে তাদের জীবন ও কাজের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে এবং ইসলামের মূল আদর্শের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকে।
অপর পক্ষে ফিরকা শব্দটি আরবি “فِرْقَة” (ফিরকাহ) থেকে এসেছে, যার অর্থ বিভক্তি বা গোষ্ঠী। ইসলামের পরিভাষায়, ফিরকা বলতে সেই দল বা গোষ্ঠীকে বোঝানো হয় যারা ইসলামের মূল শিক্ষাগুলো থেকে বিচ্যুত হয়ে নিজেদের মতবাদ, চিন্তাধারা বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে আলাদা হয়ে যায়। এ ধরনের বিভক্তি সাধারণত কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থি এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।
ইসলামের দৃষ্টিতে জামাত এবং ফিরকা দুটো ভিন্ন বিষয়। জামাত সাধারণত ইসলামের মূল আদর্শে ঐক্যবদ্ধ একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, ফিরকা বলতে বিভক্ত গোষ্ঠী বা মতবাদের দলকে বোঝায়, যারা কোনো বিশেষ মতবাদ বা দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে আলাদা হয়ে যায়। এদের মধ্যে ১০টি মূল পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. ঐক্য বনাম বিভাজন
জামাত: ইসলামের মূলনীতির উপর ভিত্তি করে ঐক্য বজায় রাখে।
ফিরকা: ভিন্ন মতবাদ ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিভাজন সৃষ্টি করে।
২. আদর্শের ভিত্তি
জামাত: কুরআন ও সহিহ হাদিসকে তাদের মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে।
ফিরকা: তাদের নিজস্ব মতবাদ, ইজতিহাদ, বা দার্শনিক চিন্তাধারার উপর নির্ভর করে।
৩. ইসলামের মূল শিক্ষার প্রতি দৃষ্টি
জামাত: ইসলামকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ ও প্রচার করার চেষ্টা করে।
ফিরকা: কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা মতবাদে অধিক জোর দেয়।
৪. আন্তর্জাতিকতা বনাম আঞ্চলিকতা
জামাত: জাতি, বর্ণ, ও অঞ্চলভেদে সকল মুসলিমকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে চায়।
ফিরকা: নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
৫. ধর্মীয় নেতৃত্ব
জামাত: নেতৃত্ব নির্বাচনে ইসলামি নীতিমালা মেনে চলে।
ফিরকা: নিজেদের মতবাদ প্রচারে কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
৬. বিধানের প্রয়োগ
জামাত: ইসলামের শারী‘আহর পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ চায়।
ফিরকা: শারী‘আহর নির্দিষ্ট অংশের উপর জোর দেয়।
৭. সাম্প্রদায়িকতা
জামাত: সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়।
ফিরকা: নিজেদের গোষ্ঠী বা মতবাদকে প্রাধান্য দেয়।
৮. মতভেদের প্রতি মনোভাব
জামাত: মতভেদের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সমাধান খোঁজে।
ফিরকা: নিজেদের মতবাদ সঠিক প্রমাণে জেদ ধরে।
৯. প্রভাব ও প্রসার
জামাত: ইসলামের প্রকৃত বার্তা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে চায়।
ফিরকা: নিজেদের মতবাদ বা চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
১০. ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যতা
জামাত: ইসলামের মৌলিক নীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফিরকা: ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে কখনো কখনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
অর্থঃ নিশ্চয় যারা তাদের দীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন ব্যাপারে তোমার দায়িত্ব নেই। তাদের বিষয়টি তো আল্লাহর নিকট। অতঃপর তারা যা করত, তিনি তাদেরকে সে বিষয়ে অবগত করবেন।৷ সূরা আনআম : ১৫৯
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন-
وَلَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ تَفَرَّقُوۡا وَاخۡتَلَفُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَہُمُ الۡبَیِّنٰتُ ؕ وَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ۙ
আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতবিরোধ করেছে তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর। আর তাদের জন্যই রয়েছে কঠোর আযাব। সুরা আল ইমরান : ১০৫
ফির্কা সৃষ্টি না করে জামাত বন্ধ থাকার বিপদ সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করছি-
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
“ يَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ
জামাআতের উপর আল্লাহ্ তায়ালার হাত (রহমত) থাকে। সুনানে তিরমিজি : ২১৬৬, মিশকাত : ১৭৩
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي أَوْ قَالَ: أُمَّةَ مُحَمَّدٍ عَلَى ضَلَالَةٍ وَيَدُ اللَّهِ عَلَى الْجَمَاعَةِ وَمَنْ شَذَّ شَذَّ فِي النَّار
আল্লাহ তা’আলা আমার গোটা উম্মাতকে; অপর বর্ণনাতে তিনি বলেছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদিকে কখনও পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত করবেন না। আল্লাহ তা’আলার হাত (রহমত ও সাহায্য) জামা’আতের উপর রয়েছে। যে ব্যক্তি জামা’আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (অবশেষে) জাহান্নামে যাবে। সুনানে তিরমিজি : ২১৬৭, মিশকাত : ১৭৩
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাবিয়া’ (সিরিয়ার অন্তর্গত) নামক জায়গায় উমর (রাঃ) আমাদের সামনে খুতবাহ দেয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে বলেন, হে উপস্থিত জনতা! যেভাবে আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁড়াতেন, সেভাবে তোমাদের মাঝে আমিও দাঁড়িয়েছি। তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেন, আমার সাহাবিদের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি (তাদের যমানা শ্রেষ্ঠ), তারপর তাদের পরবর্তীদের যমানা, তারপর তাদের পরবর্তীদের যমানা, তারপর মিথ্যাচারের বিস্তার ঘটবে। এমনকি কাউকে শপথ করতে না বলা হলেও সে শপথ করবে, আর সাক্ষ্য প্রদান করতে না বলা হলেও সাক্ষ্য প্রদান করবে।
সাবধান! কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হলে সেখানে অবশ্যই তৃতীয়জন হিসাবে শাইতান অবস্থান করে। তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা হতে সাবধান থেকো। কেননা, শাইতান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে অবস্থান করে। যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে। যার সৎ আমল তাকে আনন্দিত করে এবং বদ আমল কষ্ট দেয় সেই হলো প্রকৃত ঈমানদার। সুনানে তিরমিজি : ২১৬৫, সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৬৩
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, ইসলামে জামাত তথা ঐক্যবদ্ধ থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ব্যক্তিকে শয়তান সহজে ধ্বংস করতে পারে। মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ এড়িয়ে ঐক্যের পথ অনুসরণ করতে হবে।
৩। মতবিরোধ নিরসনে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের হাদিসের দিকে প্রত্যর্পণ কর
মুসলিম উম্মার মাঝে ঐক্য ঠিক রাখতে হলে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের হাদিসের দিকে প্রত্যর্পণ করতে হবে। এই উম্মায় নিজেদের মাঝে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে বিভিন্ন দলে দলে বিভক্ত না হয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে তার কিতাব ও রাসুলের হাদিসের দিকে প্রত্যর্পণ করতে হবে।
আল্লাহ রব্বূল আলামিন বলেন-
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে প্রত্যর্পণ কর। যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। সূরা নিসা : ৫৯
আল্লাহ রব্বূল আলামিন আরও বলেন-
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থঃ অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজেদের অন্তরে কোনো দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়। সূরা নিসা : ৬৫
আল্লাহ রব্বূল আলামিন আরও বলেন-
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا
অর্থঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। সুরা আহযাব : ৩৬
আল্লাহ রব্বূল আলামিন আরও বলেন-
وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ
“তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করো, তার সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে। সুরা শুরা : ১০
আল্লাহ রব্বূল আলামিন আরও বলেন-
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
রাসূল তোমাদের যা দান করেন, তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো।”
সুরা হাশর : ৭
উপরোক্ত আয়াতগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে যে, মতবিরোধ দেখা দিলে মুসলমানদের উচিত কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া। কারণ কুরআন ও সুন্নাহ ইসলামের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব এবং এর মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সঠিক পথনির্দেশ নিশ্চিত হয়। এই সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিসের প্রতি লক্ষ করুন।
আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
تَرَكْتُ فيكُمْ شَيْئَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُما كِتابَ الله وسُنَّتي وَلَنْ يَتَفَرَّقا حَتَّى يَرِدا عَلَيَّ الحَوْضَ
আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা অবলম্বন করলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। তা হল আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। ’হওয’ (কাওসারে) আমার নিকট অবতরণ না করা পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্ন হবে না। হাদিস সম্ভার : ১৫০০, হাকেম : ৩১৯
মুয়াত্তা মালিকের এক হাদিসে এসেছে-
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ
মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমি তোমাদের নিকট দুইটি বস্তু ছাড়িয়া যাইতেছি। তোমরা যতক্ষণ উহাকে ধরিয়া থাকিবে পথভ্রষ্ট হইবে না। উহা হইল আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের সুন্নত। মুয়াত্তা মালিক : ১৬৬১,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“إِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ شَيْئَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّتِي”
আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যদি এগুলো আঁকড়ে ধরো, কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। মুসনাদ আহমদ: ৮৮৪৫, সুনান দারিমি
উপরোক্ত হাদিসগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মুসলিমদের জীবনের সব বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসা উচিত। এটি মতভেদ সমাধানের প্রধান পন্থা এবং ইসলামি ঐক্য বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি।
মতবিরোধ বা দলাদলির অন্যতম কারণ হল কুরআন সুন্নাহ থেকে দুরে থাকা। তাই কোনো বিষয় মতবিরোধ দেখা দিলে কুরআন সুন্নাহ থেকে সমাধান নিব। যদি সকলে সত্যিকারের কুরআন সুন্নাহর অনুসারী হত তবে মুসলিমদের মাঝে এত মতভেদ আর মতবিরোধ হতো না। ফিকহি মাসায়েল নিয়ে মতভেদ দেখা দিলেও তারা ঐক্য বদ্ধ থাকত। স্পষ্ট কুরআন সুন্নাহর বিপরীত কথা বলার মত সাহস কোন সত্যিকারের মুসলিম কোনো কালে করেনি আজও করবেনা। কাজেই মতভেদ পূর্ণ বিষয়গুলি কুরআন সুন্নাহ উপর ছেড়ে দিলে মুসলীম উম্মাহ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের হারান জৌলুস ফিরে পেত।
৪। মতবিরোধ নিরসনে আমিরের আনুগত্য করতে হবে-
কুনআন সুন্নাহ মানদণ্ডে পরীক্ষতি আমিরের আনুগত্য ফরজ। কুনআন সুন্নাহ অনুসারী নতা বা আমিরকে আনুগত্য না করে, নতুন আমিরে তৈরি করে ইসলামকে টুকরা টুকরা করে দলে উপদলে ভাগ করা ইসলামি শরীয়ত হারাম। কুরআন সুন্নার বহু স্থানে আমিরের আনুগত্য বা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً
অর্থ : হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের (আমির, বিচারক, শাসক)। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে প্রত্যর্পণ করাও- যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। সুরা নিসা : ৫৯
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন-
مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا فَلْيَصْبِرْ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا فَمَاتَ عَلَيْهِ إِلاَّ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
যে ব্যক্তি তার আমীরের কোন কার্যকলাপ অপছন্দ করে, তার উচিত ধৈর্যধারণ করা। কেননা যে কোন ব্যক্তিই শাসকের থেকে (আনুগত্য থেকে) বেরিয়ে গিয়ে বিঘত পরিমাণ সরে যাবে এবং তারপর এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু হবে। সহিহ মুসলিম : ১৮৪৯
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
وَبِهَذَا الْإِسْنَادِ مَنْ أَطَاعَنِيْ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَمَنْ يُطِعْ الأَمِيْرَ فَقَدْ أَطَاعَنِيْ وَمَنْ يَعْصِ الأَمِيْرَ فَقَدْ عَصَانِيْ وَإِنَّمَا الْإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَائِهِ وَيُتَّقَى بِهِ فَإِنْ أَمَرَ بِتَقْوَى اللهِ وَعَدَلَ فَإِنَّ لَهُ بِذَلِكَ أَجْرًا وَإِنْ قَالَ بِغَيْرِهِ فَإِنَّ عَلَيْهِ مِنْهُ
যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলারই আনুগত্য করল আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানি করল, সে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলারই নাফরমানি করল। আর যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করল, সে ব্যক্তি আমারই আনুগত্য করল আর যে ব্যক্তি আমীরের নাফরমানি করল সে ব্যক্তি আমারই নাফরমানি করল। ইমাম তো ঢাল স্বরূপ। তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ এবং তাঁরই মাধ্যমে নিরাপত্তা অর্জন করা হয়। অতঃপর যদি সে আল্লাহর তাকওয়ার নির্দেশ দেয় এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে, তবে তার জন্য এর পুরস্কার রয়েছে আর যদি সে এর বিপরীত করে তবে এর মন্দ পরিণাম তার উপরই বর্তাবে। সহিহ বুখারি : ২৯৫৭, ৭১৩৭, সহিহ মুসলিম : ১৮৩৫, মিশকাত : ৩৬৬১, সহিহ আল জামি : ৬০৪৪
নাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) আবদুল্লাহ ইবনু মুতী (রা.) এর নিকট এলেন তখন হাররা (হৃদয় বিদারক) এর ঘটনা ঘটেছে এবং যুগটা ছিল ইয়াযীদ ইবনু মুয়াবিয়ার যুগ। তখন তিনি (ইবনু মুতী’) বললেন, আবূ আবদুর রহমানের জন্য বিছানা পেতে দাও। তখন তিনি বললেন, আমি তোমার কাছে বসতে আসিনি, এসেছি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তা তোমাকে শুনাতে। আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি (আমীরের) আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে তার কোন দলিল থাকবে না। আর যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো আর তার ঘাড়ে আনুগত্যের কোন চুক্তি নেই তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু হবে। সহিহ মুসলিম : ১৮৫১
উপরের কুরআন ও হাদিসের আলোকে দেখতে পেলাম মতবিরোধ থেকে মুক্ত থাকতে হলে আমিরের আনুগত্য করতে হবে। আমিরের আনুগত্য মেনে চললে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শান্তির পথে আগানো সম্ভব। ইসলাম নেতৃত্ব মানার ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম আমিরের অনুসরণ বা আনুগত্যের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছে। কিন্তু একটি কথা সব সময় লক্ষ রাখতে হবে আমিরের আনুগত্য শর্ত সাপেক্ষ। তাকে অনুসরণের মাপকাঠিও কুরআন সুন্নায় বিস্তারিত বলেছেন। কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী নেতার আনুগত্য প্রকাশ অপরিহার্য ঘোষণা করেছে। সে সকল আমির আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে তাদের কোন আনুগত্য নাই। যে আয়াতে মহান আল্লাহ আমিরের আনুগত্য করার কথা বলেছেন, সে আয়াতেই সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً
অর্থঃ অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে প্রত্যর্পণ কর, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। সুরা নিসা : ৫৯
এ আয়াতে উলুল আমর বা আমিরের আনুগত্য শর্ত হলো তাদের মাঝে কোন বিষয় মতবিরোধ হলে কুরআন সুন্নাহর আলোকে সমাধা করতে হবে। কোনো অবস্থায়ই তারা কুরআ সুন্নাহর বাহিরে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক হারামকৃত বিষয়কে হালাল বা হালালকৃত বস্তুকে হারাম করার ক্ষেত্রে আনুগত্য করা যাবে না। কুরআন সুন্নাহ বিরোধী তাদের আনুগত্য করল তারা মূলত আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ দাড় করার মত হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন,
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
অর্থ: তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের উলামা ও দরবেশদেরকে নিজেদের খোদায় পরিণত করেছেন৷ এবং এভাবে মারয়াম পুত্র মসীহকেও৷ অথচ তাদের মাবুদ ছাড়া আর কারোর বন্দেগি কারার হুকুম দেয়া হয়নি, এমন এক মাবুদ যিনি ছাড়া ইবাদত লাভের যোগ্যতা সম্পন্ন আর কেউ নেই৷ তারা যে-সব মুশরিক কথা বলে তা থেকে তিনি পাক পবিত্র৷ সুরা তওবা : ৩১
বোঝা গেল, শরিয়তের গ্রহণযোগ্য কোন প্রমাণ ছাড়াই আমিরের হালাল বা হারাম সিদ্ধান্তকে অন্ধভাবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়া শিরকের অন্তর্ভুক্ত। উপরের আয়াত সম্পর্কে একটি হাদিস-
আদী ইবনু হাতিম (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি গলায় স্বর্ণের ক্রুশ পরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এলাম। তিনি বললেন, হে ’আদী! তোমার গলা হতে এই প্রতিমা সরিয়ে ফেল। (এই বলে) আমি তাকে সূরা তওবার নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করতে শুনলাম-
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ
অনুবাদ) “তারা আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত তাদের পণ্ডিতগণকে ও সংসারবিরাগীগণকে তাদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। সূরা তওবা-৩১
তারপর তিনি বললেন, তারা অবশ্য তাদের পূজা করত না। তবে তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হালাল বলত তখন সেটাকে তারা হালাল বলে মেনে নিত। আবার তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হারাম বলত তখন নিজেদের জন্য উহাকে হারাম বলে মেনে নিত। সুনানে তিরমিজ : ৩০৯৫
তাফসিরে ইবনে কাসির লিখেন-
আদী ইবনে হাতেম নবি (সা) এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিল খ্রিষ্টান। ইসলাম গ্রহণ করার সময় তিনি নবি (সা) কে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন হচ্ছে, কুরআনের এ আয়াতটিতে (সুরা তওবা- ৯:৩১) আমাদের বিরুদ্ধে উলামা ও দরবেশদেরকে খোদা বানিয়ে নেবার যে দোষারোপ করা হয়েছে তার প্রকৃত তাৎপর্য কি৷ জবাবে তিনি বলেন, তারা যেগুলোকে হারাম বলতো তোমরা সেগুলোকে হারাম বলে মেনে নিতে এবং তারা যেগুলোকে হালাল বলতো তোমরা সেগুলোকে হালাল বলে মেনে নিতে, একথা কি সত্য নয়৷ জবাবে আদী বলেন, হ্যাঁ, একথা তো ঠিক, আমরা অবশ্য এমনটি করতাম। রসুলুল্লাহ (সা) বলেন, ব্যাস, এটিই তো হচ্ছে তোমাদের প্রভু বানিয়ে নেয়া। সুরা তাওবার ৩১ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা, ইবনে কাসির
আমিরের আনুগত্য শুধু মাত্র হকের উপর-
আলী (ইবনু আবূ তালিব) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং আনসারদের এক ব্যক্তিকে তার সেনাপতি নিযুক্ত করে তিনি তাদেরকে তাঁর (সেনাপতির) আনুগত্য করার নির্দেশ দেন। (কোন কারণে) আমির রাগান্বিত হয়ে যান। তিনি বললেন, নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি? তাঁরা বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমরা কিছু কাঠ সংগ্রহ করে আনো। তাঁরা কাঠ সংগ্রহ করলেন। তিনি বললেন, এগুলোতে আগুন লাগিয়ে দাও। তাঁরা ওতে আগুন লাগালেন। তখন তিনি বললেন, এবার তোমরা সকলে এ আগুনে প্রবেশ কর। তারা আগুনে প্রবেশ করতে সংকল্প করে ফেললেন। কিন্তু তাদের কয়েকজন অন্যদের বাধা দিয়ে বলতে লাগলেন, আগুন থেকেই তো আমরা পালিয়ে গিয়ে নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এভাবে ইতস্তত করতে করতে আগুন নিভে গেল এবং তার ক্রোধও ঠান্ডা হল। এরপর এ সংবাদ নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, যদি তারা আগুনে ঝাঁপ দিত তা হলে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আর এ আগুন থেকে বের হতে পারত না। আনুগত্য (করতে হবে) কেবল সৎ কাজের। সহিহ বুখারি ৪৩৪০, ৭১৪৫, ৭২৫৭
পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আনুগত্য নেই-
পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি নেতা বা কারো আনুগত্য করতে পারবে না। যাদের আনুগত্য করা ইসলামে জরুরি পাপের কাজে তাদেরও আনুগত্য করতে কেউ বাধ্য নয়। যেমনভাবে মহান আল্লাহ বলেন,
وَتَعَاوَنُواْ عَلَى الْبرِّ وَالتَّقْوَى وَلاَ تَعَاوَنُواْ عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُواْ اللّهَ إِنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ : সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। সুরা মায়েদা : ২
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ حَقٌّ مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِالْمَعْصِيَةِ فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَةَ
পাপ কাজের আদেশ না করা পর্যন্ত ইমামের কথা শোনা ও তার আদেশ মানা অপরিহার্য। তবে পাপ কাজের আদেশ করা হলে তা শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না। সহিহ বুখারি : ২৯৫৫, ৭১৪৪)
আলী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لَا طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةٍ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوف
নাফরমানির ক্ষেত্রে আনুগত্য নেই। আনুগত্য শুধু সৎকর্মের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সহিহ মুসলিম : ১৮৪০, আবূ দাঊদ : ২৬২৫, নাসায়ী : ৪২০৫, মিশকাত : ৩৬৬৫, আহমাদ : ৭২৪।
এই আলোচনা দ্বারা দুটি বিষয় বোঝ যায়-
(১) কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক শরীয়ত সম্মত আমিরের আদেশ মান্য করা ফরজ। এ সকল বিষয় মতবিরোধ করা হারাম। এ মতবিরোধ থেকেই নতুন নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
(২) অপর পক্ষে শর্থহীভাবে আমিরের অনুসরণ করে, তার সীমা লঙ্ঘনকে সহায়তা করে দলে দলে বিভক্ত হচ্ছি। আমিরের ভ্রান্ত নীতির ফলে সত্যপন্থীরা তার থেকে দূরে চলে যায় এবং নতুন করে ফির্কার সৃষ্ট হয়।
৪। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কঠিন সতর্ক বাণী শুনে মতবিরোধ বা ফির্কা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা-
মহান আল্লাহ নিষেধ করার পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মতবিরোধ করে ফির্কা সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। ঐক্যবদ্দভাবে মুসলিম জামাতকে আঁকড়ে ধরতে বলেছেন।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
অর্থ: যারা নিজেদের দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে নিঃসন্দেহে তাদের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই৷ তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ন্যস্ত রয়েছে৷ তারা কি করেছে, সে কথা তিনিই তাদেরকে জানাবেন৷ সূরা আন‘আম : ১৫৯
আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন-
وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
এবং তাদের মতো হয়ো না যাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে ও পরস্পর মতভেদে লিপ্ত রয়েছে; তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। সূরা আল-ইমরান : ১০৫
আরফাযা ইবন রায়হ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّهَا سَتَكُونُ بَعْدِي هَنَاتٌ وَهَنَاتٌ وَهَنَاتٌ وَرَفَعَ يَدَيْهِ فَمَنْ رَأَيْتُمُوهُ يُرِيدُ تَفْرِيقَ أَمْرِ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ جَمِيعٌ فَاقْتُلُوهُ كَائِنًا مَنْ كَانَ مِنْ النَّاسِ
আমার পরে নিশ্চয়ই অনেক ফিতনা-ফাসাদ হবে। এরপর তিনি তাঁর হাত উঠিয়ে বললেন, তখন তোমরা যাকে দেখবে, উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ইচ্ছা করছে, অথচ তারা একতাবদ্ধ; তখন তোমরা তাকে হত্যা করবে, সে যে-ই হোক না কেন। সুনানে নাসায়ি : ৪০২১, সহিহুল জামে : ৩৬২২
এই সম্পর্কে একটি সহিহ হাদিস-
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ فَقَالَ الْجَمَاعَةُ رَحْمَةٌ وَالْفُرْقَةُ عَذَابٌ
নুমান বিন বাশীর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় বলেছেন, জামআত (ঐক্য) হল রহমত এবং বিচ্ছিন্নতা (মতবিরোধ) হল আজাব। হাদিস সম্ভার : ১৮৪৪, সহিহুল জামে : ৩১০৯, কিতাবুস সুন্নাহ, শায়বানী : ৮৯৫
এই সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْجَمَاعَةَ وَيَكْرَهُ الْفُرْقَةَ.” عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ
আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ ঐক্যকে পছন্দ করেন এবং বিভেদকে অপছন্দ করেন। মুসনাদ আহমদ : ২১৭২১
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে এই উম্মতকে একত্র করে এই ছাতার নিজে রেখে নেতৃত্ব নিয়েছেন এর মাত্র তার অনুসরণের মাধ্যমেই এই উম্মত আবার একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসের মর্মবাণী উপলব্ধি করে দলাদলি বাদ দিতে হবে এবং তার প্রচারিত তাওহীদের ভিত্তিতে সকল উম্মত কে মুসলিম পরিচয়ে হতে হবে।
১। মহান আল্লাহ নির্দেশ মেনে ঐক্য বজায় রাখতে হবে
২। মতবিরোধের মাধ্যমে ফির্কার সৃষ্টি না করে জামাত বন্ধ থাকতে হবে-
৩। মতবিরোধ নিরসনে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের হাদিসের দিকে প্রত্যর্পণ কর
৪। মতবিরোধ নিরসনে আমিরের আনুগত্য করতে হবে-
৫। জাল ও যঈফ বর্ণনাগুলো পরিহার করাঃ
৬। ফিকহি ক্ষেত্রে মুজতাহিদ আলেমদের মত প্রশস্ততা দেখান-
৭। আকিদার ক্ষেত্র কুরআন সুন্নাহর সঠিক দলিলের অনুসরণ করা
৮। বিদআত পরিহার করে সুন্নাহর অনুসরণ করাঃ
০৯। কোন ব্যক্তিকে ভুলের ঊর্ধ্বে মনে না করা
১০। মাযহাবের নামে আলাদা আলাদা পরিচয় না দেয়া-
১১। তরিকার নামে আলাদা আলাদা পরিচয় না দেওয়া
১২। সর্বক্ষেত্রে নিজের দল ও মতকে প্রাধান্য না দেয়া-