বিভিন্ন প্রকারের দিবস কেন্দ্রিক কার্যক্রম

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

দেশ বিদেশে বিভিন্ন দিবস খুব ঘটা করে উদ্‌যাপন করা হয়। জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবেও বিভিন্ন দিবস উদ্‌যাপন করা হয়। ইসলামি শরীয়তেও বিভিন্ন দিবস বা মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইবাদাত করা হয়।  রমজান এবং জিলহজ্জ মাসকে কেন্দ্র করে বিশেষ ইবাদাত করা হয়। লাইলাতুল কদর, আরাফাতের দিন, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার দিন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একটু লক্ষ করলেই দেখা যায় অনেক মুসলিম কম বেশী ইসলামি শরিয়তের বাহিরের দিবসগুলো খুব গুরুত্ব দিয়া উদ্‌যাপন করে থাকে। ইসলামি শরীয়তে নেই, এমন দিবস উদ্‌যাপন করা ইসলাম কতটুকু সমর্থন করে?

কুরআন সুন্নাহর বাহিরে কোনো দিবস উদ্‌যাপন ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ বিধান প্রযোজ্য। কোন কোন দিবস উদ্‌যাপন করা হারাম, আবার কোনটি জায়েয। দিবস উদ্‌যাপন করার ক্ষেত্রে দিবসটির সামগ্রিক কার্যকলাপের উপর নির্ভর করবে। এই হিসাবে দিবসটি পালনের কারণে শির্ক, কুফরি, বিদআত, হারাম এবং জায়েয হতে পারে। শুধু দুনিয়ায় সাথে সংশ্লিষ্ট এমন নতুন দিবস উদ্‌যাপন করা হয় হারাম, না হয় জায়েয। কিন্তু যখন দিবসটি ইবাদত মনে করে উদ্‌যাপন করা হবে তখন তা বিদআতি কাজ হিসেবে পরিগনিত হবে।  দিবস উদ্‌যাপন করা শরিয়ত সম্মত কি না, তা নির্ধারণের জন্য কিছু শর্ত আছে। ঐ শর্তের বাহিরে গেলেই উদ্‌যাপন করা করা হয় হারাম, না হয় বিদআত হবে। কাজেই দিবস উদ্‌যাপন করার আগে এই শর্ত সম্পর্কে জেনে নেই। সাধারণত দিবস উদ্‌যাপন করার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তগুলি খেয়াল রাখতে হবে।

১। কুরআন সুন্নাহে নাই, এমন দিবস উদ্‌যাপন করাকে ইবাদাত মনে করা যাবে না।

২। দিবস উদ্‌যাপন করার ক্ষেত্রে কুফরি আকিদা ধারণ করা করা যাবে না।

৩। দিবস উদ্‌যাপন করার সময় ইসলাম বহির্ভূত হারাম কাজ লিপ্ত হওয়া যাবে না।

৪। দিবস উদ্‌যাপন করার ক্ষেত্রে অর্থের অপচয় করা যাবে না।

৫। বিধর্মীদের অনুসরণে কোনো দিবস উদ্‌যাপন করা যাবে না।

৬। ইবাদত প্রমাণের জন্য জাল জইফ হাদিসের আশ্রয় নেয়া যাবে না।

৭। যে দিবস ইসলামের প্রাথমিক যুগে উদ্‌যাপন করা হয় নাই।

উপরের শর্তগুলির আলোকেই দিবস উদ্‌যাপন করা জায়েয হতে পারে। বিষয়টি একটু খুলে বলা যাক।

১। দিবস উদ্‌যাপন করাকে দ্বীন মনে করা :

কুরআন সুন্নাহে নাই, এমন দিবসকে ইবাদাত মনে করে উদ্‌যাপন করা একটি বিদআত। আমাদের সমাজে বহু দিবসকে দ্বীন মনে করে উদ্‌যাপন করা হয় যার কোন ভিত্তি ইসলামে নেই। ইসলামের নামে এমন দিবস উদ্ভাবন করে উদ্‌যাপন করাই বিদআত যা মুমিন মুসলিমকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

আয়িশাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন-

مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدٌّ

কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত। সহিহ বুখারি ২৬৬৭, সহিহ মুসলিম : ১৭১৮, আহমাদ : ২৬০৯২

ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রা.) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের নাসীহাত করেন, যাতে অন্তরসমূহ ভীত হল এবং চোখগুলো অশ্রু প্রবাহিত হলো। বলা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি তো বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ দিলেন। অতএব আমাদের নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করুন। তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহ ভিতি অবলম্বন করো, শ্রবণ করো ও আনুগত্য করো, যদিও সে কাফরী গোলাম হয়। আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্নক মতভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াত প্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। অবশ্যই তোমরা বিদআত কাজ পরিহার করবে। কারণ প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২, সুনানে তিরমিজি : ২৬৭৬, সুনানে আবূ দাঊদ : ৪৬০৭, আহমাদ : ১৬৬৯২, দারিমী : ৯৫।

দ্বীন নাই অথচ দ্বীন মনে করে বহু আমল আবিষ্কার করেছে জান্নাত পাগল মুমিন। নবি ﷺ এর জন্মদিবস উদ্‌যাপন করা হয় “ঈদে মিলাদুন্নবি” নাম ধারণ  করে। নবি ﷺ এর মিরাজকে কেন্দ্র করে “শবে মিরাজ” বা “লাইলাতুল মিরাজ” উদ্‌যাপন করা হয়। বিভিন্ন অলি আউলিয়াদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাদের মাজারে উরশ উদ্‌যাপন করা হয়। সাধারণ মুসলীম নর-নারীদের মৃত্যু বার্ষিকী এবং চল্লিশার নামে দিন ক্ষণ ঠিক করে পালিত হয় মৃত্যু বার্ষিকী এবং চল্লিশা উদ্‌যাপন করা হয়। এমনিভাবে আশুরা এবং শাবানের ১৫ তারিখের রজনীও মুসলিম সমাজে ইবাদাত মনে করে উদ্‌যাপন করা হয়। এই সকল দিবস উদ্‌যাপন করার কোন ভিত্তি ইসলামি শরীয়তে নাই কিন্তু বিদআতিগণ ইহাকে দ্বীন মনে করে নেকীর আশায় উদ্‌যাপন করে। মন রাখতে হবে, কুরআন সুন্নাহে নাই, এমন দিবস উদ্‌যাপন করাকে ইবাদাত মনে করা যাবে না।

২। দিবসের উৎযাপনের সাথে কুফরী আকিদা রাখাঃ

এমন অনেক দিবস আছে যেগুলির সাথে ইসলামী শরীয়তের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা নাই এবং কেউ ইবাদাত মনে করেও এই সকল দিবস উদ্‌যাপন করে না। কিন্তু ঐ দিবসটি উদযাপনের সাথে সাথে কুফরী আকিদা প্রষোণ করে থাকে। আমাদের দেশে প্রতি বছর বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়। অনেক এই কুফরী আকিদা রাখে যে বছরের প্রথম দিন যেমন যাবে, সারা বছর ঠিক তেমন যাবে। তাই তারা বছরের প্রথম দিন ভাল ভাল পোশাক করে, ভালো ভালো খাবার খায়। প্রতি বছর নববর্ষের একটি করে কুফরী আকিদা নিয়ে উৎযাপিত হয়। এই সম্পর্কে বলা হয়- এ বছর  মা দূর্গা হাতিতে চড়ে এসেছেন, তাই এবার ফসল ভাল হবে।

আমাদের সমাজে আশুরার সিয়াম উদ্‌যাপন করে অনেক সুন্নাহ সম্মত আমল করার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছু লোক অজ্ঞতা বসত মনে করে থাক। আশুরার সম্পর্কে মিথ্যা ঘটনাবলি। দশই মহাররম বা আশুরার দিন আল্লাহ আসমান ও যমিন, পাহাড়, পর্বত, নদনদী, কলম, লাওহে মাহফূয, আরশ, কুরসী, জান্নাত, জাহান্নাম, ফিরিশতাগণ, আদম (আ.) কে সৃষ্টি করেছেন। এই দিনে তিনি আদম (আ.) কে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন, ইদরীসকে (আ.) আসমানে উঠিয়ে নেন, নূহ (আ.) কে নৌকা থেকে বের করেন,  দাউদ (আ.) তাওবা কবুল করেছেন, সুলাইমান (আ.) কে রাজত্ব প্রদান করেছেন, আইঊব (আ.)-এর বিপদ-মসিবত দূর করেন, তাওরাত নাযিল করেন, ইবরাহীম (আ.) জন্মগ্রহণ করেন, তিনি খলীল উপাধি লাভ করেন, ইবরাহীম (আ.) নমরূদের অগ্নিকুন্ডু থেকে রক্ষা পান, ইসমাঈল (আ.) কে কুরবানী করা হয়েছিল, ইউনূস (আ.) মাছের পেট থেকে বাহির হয়, ইউসূফকে (আ.) জেলখানা থেকে বের করেন, এ দিনে ইয়াকুব (আ.) দৃষ্টি শক্তি ফিরে পান, ইয়াকূব (আ.) ইউসূফের (আ.) সাথে সম্মিলিত হন, মুহাম্মাদ ﷺ জন্মগ্রহণ করেছেন।

এই সম্পর্কে সহিহ হাদিস হলোঃ

১. ইবনু ‘আব্বাস  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মাদীনায় গমন করার পর দেখলেন ইয়াহূদীরা আশূরার দিন সওম রাখে। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, এ দিনটার বৈশিষ্ট্য কি যে, তোমরা সিয়াম রাখো? তারা বলল, এটা একটি গুরুত্ববহ দিন। এ দিনে আল্লাহ মূসা (আঃ) ও তাঁর জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন। আর ফিরাউন ও তার জাতিকে  ডুবিয়েছেন। মূসা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এ দিন সওম রেখেছেন। অতএব তাঁর অনুসরণে আমরাও রাখি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, দীনের দিক দিয়ে আমরা মূসার বেশী নিকটে আর তার তরফ থেকে শুকরিয়া আদায়ের ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমরা বেশী হকদার। বস্তুত ‘আশূরার দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও সিয়াম রেখেছেন অন্যদেরকেও রাখার হুকুম দিয়েছেন। (মিশকাত-২০৬৭, বুখারী ১৮৭৮ ইফাঃ সহিহ মুসলিম ১১৩০)

নোটঃ – এই দিনে আল্লাহ তায়ালা মূসা (আঃ) ও তাঁর সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরআউন ও তার কওমকে ডুবিয়ে দিয়েছেন এই বর্ণনাটি সত্য । আদম (আ.) এর তাওবা কবুল, নূহ (আ.) এর নৌকা জূদী পর্বতের উপর থামা ও ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ সম্পর্কে অনির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো কোনো সাহাবী-তাবিয়ীদের কথা।  বাকিই সব বর্ণনা জাল বলেছেন-

ইবনুল জাওযী (৫৯৭ হিঃ), আল-মাউদআত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-১১২-১১৭, শামছুদ্দীন আয-যাহাবী (৭৪৮ হিঃ), মিজানুল ইতিদাল, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৯০, ইবনে হাজার আসকালানী (৮৫২ হিঃ), লিসানুল মিজান, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৬৯,  ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতী (৯১১ হি.), আল-লাআলী, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-১০৮-১০৯,  আল-আজলূনী (১১৬২ হি.), কাশফুল খাফা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-৫৫৭, আব্দুল হাই লাখনবি (১৩০৪ হি.), আল আসার, পৃষ্ঠা-৯৪-৯৭, মোল্লা আলী কারী (১০১৪ হিঃ), আল আসরারুল মারফুআহ, পৃষ্ঠা-৯৪-৯৬।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দশই মুহাররম ব আশুরার দিন কিয়মত হবে। এই হাদীসটি জাল বলেছেনঃ

আল্লামা আবুল ফরজ ইবনুল জাওযী (রহ.) মন্তব্য করেন এটা নিঃসন্দেহে মাওযূ বা বানোয়াট, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী, আল লায়ালিল মাসনূআহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-১০৯। শায়খ আলবানী জাল বলেছেন। কিতাবুল মওযূয়াত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-২০২।

৩। দিবসের উৎযাপনের সময় ইসলাম বহির্ভুত হারাম কাজে লিপ্ত হয়ঃ

এমন অনেক দিবস আছে যার সাথে ইসলামে ইবাদাতে কোন সম্পর্ক নাই। দিবসটি উদ্‌যাপন করাকে ইবাদাত মনে করে না। ইহার দ্বারা কোন খারাপ আকিদাও প্রষোণ করে না। কিন্তু এই দিবস উৎযাপনের সাথে সাথে বহু হারাম কাজ লিপ্ত হতে হয়। অর্থাৎ দিবসটির সাথে হারাম হালালের সম্পর্ক আছে। আন্তরজাতীক নারী দিবস উদ্‌যাপন করার জন্য হাজার হাজার মহিলা পর্দাকে উপেক্ষা করে ঘরের বাহিরে আসে। নারীর পর্দার ফরজকে উপেক্ষা করে ইহাতে অংশ গ্রহন হারাম। অথচ মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاء الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। সুরা আহযাব : ৫৯

‘আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস’ এর কথাই ধরুন, নারীর নৃত্য মানে কি সবার জানা। কোন দেশের বা অঞ্চলের সংস্কৃতি হলেও ইসলামি শরীয়তে ইহা যে হারাম তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ঠিক তেমনভাবে “বিশ্বভালবাসা দিবস” উদ্‌যাপন করা মানে নারী অবাধ মেলামেসাকে সমর্থন প্রদান করা। এই দিবস উদ্‌যাপন করা করার অর্থ হবে নিজেকে হারাম কাজে সম্পৃক্ত করা। আপনাকে কোন আলেম হতে হবে না, একটু চোখ কান খোলা রাখলেই ইসলামি শরীয়ত বিরোধী দিবস যা হারাম কাজের জম্মদেয় তা অনায়াসে চিনতে পারবেন। আমলের যেমন নির্দষ্ট নিয়ম কারন আছে ঠিক তেমনি প্রতিটি কাজের মাঝে ইসলামি শরীয়তের নির্দিষ্ট বীধি বিধান আছে। এই বীধি বিধানের বাহিরে কোন কাজ করলে কাজটি হারাম হয়। কাজেই কোন দিবস উদ্‌যাপন করতে গিয়ে যদি ইসলামি শরীয়তের এই বীধি বিধানকে উপেক্ষা করে হারামে লিপ্ত হতে হয়, তবে দিবসটি উদ্‌যাপন করা যে হারাম হবে।

৪। দিবস উদযাপনে শুধু অর্থের অপচয় করা

মহান আল্লাহ বলেন,

إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُواْ إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا

নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় উদ্‌যাপনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। ( সুরা বনী-ইসরাঈল : ২৭

এমন অনেক দিবস আছে যার কোন উপকারীতা নাই শুধু্ই অর্থের অপচয়। যেমনঃ জম্ম দিন, জাতীয় শিক্ষক দিবস, সুন্দরবন দিবস, কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী, মহান শিক্ষা দিবস, কন্যা শিশু দিবস, জাতীয় যুব দিবস, এই রকম বহু দিবস আছে যার কারনে সমাজের কোন উপকার হয় না, দিবসটি উৎযাপনে শুধু অর্থের অপচয় হয়। এই সকল দিবস পালনে ইসলামের সাথে সম্পর্ক না থাকলেও অপচয় করার জন্য হারামে পরিনত্ হয়।

ইংরেজী নববর্ষে শুধু আতশবাজীর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আগুন-পটকা ফোটানোর মাধ্যমে খরচ করে থাকে। এই অপচয় এখন আর ধনী দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পৃথিবীর বহু দেশ এখন এই অপচয়ের সাথে যু্ক্ত।  আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশর মানুষও নানা অপকর্মের আর অপচয়ের মাধ্যমে দিনটি উদ্‌যাপন করে।

৫। বিধর্মীদের অনুসকরণে দিবস উদ্‌যাপন করাঃ

মহান আল্লাহ বলেন,

*وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ وَدَعْ أَذَاهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا*

আপনি কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের উৎপীড়ন উপেক্ষা করুন ও আল্লাহর উপর ভরসা করুন। আল্লাহ কার্যনিবার্হীরূপে যথেষ্ট। সুরা আহযাব ৩৩:৪৮

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ ٱلْيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْۗ قُلْ إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلْهُدَىٰۗ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم بَعْدَ ٱلَّذِى جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِۙ مَا لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّ وَلَا نَصِيرٍ

আর ইয়াহূদী ও নাসারারা কখনো তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ কর। বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহর হিদায়াতই হিদায়াত’ আর যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ কর তোমার কাছে যে জ্ঞান এসেছে তার পর, তাহলে আল্লাহর বিপরীতে তোমার কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না। সুরা বাকারা : ১২০

ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। সুনানে আবু দাউদ : ৪০৩১

আমর ইবনু শু‘আইব রহ. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلاَ بِالنَّصَارَى فَإِنَّ تَسْلِيمَ الْيَهُودِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ وَتَسْلِيمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ ‏

বিজাতির অনুকরণকারী ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইয়াহূদী-নাসারাদের অনুকরণ করো না। কেননা ইয়াহূদীগণ আঙ্গুলের ইশারায় এবং নাসারাগণ হাতের ইশারায় সালাম দেয়। সুনানে তিরমিজ : ২৬৯৫

আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ ﷺ আমার পরনে কমলা বা কুসম্ব রংয়ের দু’খানা কাপড় দেখতে পেলেন, তখন তিনি ﷺ বললেন, মূলতঃ এটা কাফিরদের পোশাক। কাজেই তা পরো না। অপর এক রিওয়ায়াতে আছে, আমি বললাম, আমি কি তাকে ধৌত করে ফেলব? তিনি বললেন, বরং এ দু’টিকে পুড়িয়ে ফেলো।  মিশকাত : ৪৩২৭,  সিলসিলাতুস সহিহাহ : ২৩৯৫

কুরআন ও সহিহ হাদিসসমূহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠলো যে কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারা, বৌদ্ধ, হিন্দুসহ কোন অমুসলিমদের অনুসরণ করা জায়িয নেই। কিন্তু এমন অনেক দিবস আছে যে দিবসগুলি উদ্‌যাপন করে থাকি অমুসলিমদের অনুসরণের মাধ্যমে। যে দিবস কখনও মুসলিমদের দ্বার সৃষ্ট হয় নাই। যার প্রতিটি ছত্রই আবিস্কার করছে অমুসলিম জাতী। প্রতি বছর জানুয়ারীর প্রথম দিন ইংরেজী নববর্ষ হিসাবে পশ্চিমা জাতী খুব ঘটা করে উদ্‌যাপন করে থাকে। তাদের দেখা দেখি অনেক মুসলমানে সন্তানেরাও আজ ঘটা করে ইংরেজী নববর্ষ উদ্‌যাপন করা করে থাকে।

অনুরূপভাবে খৃষ্টানগণ প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর ঈসা আলাইহিস সালামের জম্ম দিন ধরে বড় দিন হিসবে উদ্‌যাপন করে। হিন্দুরা শ্রী শ্রী কৃষ্ণের জন্ম দিন হিসাব করে জম্মাষ্টি উদ্‌যাপন করে। এদের দেখা দেখি আজ বিদআতি মুসলিমগন নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জম্ম দিবস হিসাব করে “ঈদে মীলাদুন্নবী” উদ্‌যাপন করে।

৬। ইবাদত প্রমানের জন্য জাল জইফ হাদিসের আশ্রয় নেয়া যাবে না

দিবস পালনের জন্য জাল হাদিস দ্বারা মিথ্যা নেকির বর্ণনা করে থাকে। এর যুগে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয় নাই। সাহবী রা. ও জানতেন না। তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়িগণ ও আমল করেন  নাই। এমন দিবস সম্পর্ক কিছু জাল  ও বানোয়াট বর্ণনা করে দিবসটি পালনের বৈধতা প্রদান করার চেষ্টা করা হয়। লাইলা তুল মিরাজের কথা বলতে পারি। এই সম্পর্কে কোন হাদিসতো দুরের কতা সঠিক তারিখটিও জানা যায় নে কত তারিখে মিরাজ হয়েছিল। অথচ আমদের পূর্বসুরিদের আমল প্রমানিত হলে আর যা হোক তারিখ নিয়ে মতভেদ থাকতো না। অথচ লাইলাতুল মিরাজ সম্পর্কে একটি জাল হাদিস দেখুন-

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

بُعِثْتُ نَبِيًّا فِيْ السَّابِعِ وَالْعِشْرِيْنَ مِنْ رَجَبٍ فَمَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ كَانَ كَفَّارَةَ سِتِّيْنَ شَهْراً

রজব মাসের ২৭ তারিখে আমি নবুয়ত পেয়েছি। কাজেই যে ব্যক্তি এই দিনে সিয়াম উদ্‌যাপন করবে তার ৬০ মাসের গোনাহের কাফফারা হবে।

হাদীসটি জাল বলেছেনঃ

 ইবনে আররাক (৯৩২ হি.), তানযীহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৬১,  ইবনে হাজার আসকালানী (৮৫২ হিঃ), তাবয়ীনুল আজাব, পৃষ্ঠা-৬৪, ইবনুল জাওযী (৫৯৭ হি), আল-ইলালুল মুতানাহিয়া, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-১২৬, ইবনে কাসির (৭৭৪ হিঃ), আলবিদায়া ওয়ান-নিহায়া, সপ্তম খন্ড, পৃষ্ঠা-৬৮০-৬৮১ ও একাদশ খন্ড, পৃষ্ঠা-৭৪, ইমাম আল-বায়হাকী (৪৫৮ হিঃ), শু‘আবুল ঈমান, তৃতীয় খন্ড, পৃষ্ঠ-৩৭৩, হাদিসের নামে জালিয়াতী, অস্টম  পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা নম্বর-৫৩২, এসব হাদিস, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-১২৫-১২৬।

ঠিত তেমনি ভাবে ঈদে মিলাদুন্ননবী সম্পর্কে কোন অনেক জাল বর্ননা আছে যার  দ্বারা বিদআতিগণ  তার ফজিলত বর্ণনা করে দিবসটি পালনের চেষ্টা করে তাকে। কাজেই কোন দিবস পারনের জন্য সহিহ বর্ণনা না পেলে কোন অবস্থায়ই দিবসটি ইসলাম মনের করে উদ্‌যাপন করা যাবে না এবং এ লক্ষে কোন প্রকার জাল জইফ হাদিসের আশ্রয় নেয়া যাবে না।

৭। যে দিবস ইসলামের প্রথমিক যুগে উদ্‌যাপন করা হয় নাই

আবূ নাজীহ আল-ইরবাদ ইবনু সারিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে এমন মর্মস্পর্শী বক্তৃতা শুনালেন যে, তাতে অন্তর ভীত হল এবং চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে গেল। সুতরাং আমরা বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! এ যেন বিদায়ী ভাষণ মনে হচ্ছে। তাই আপনি আমাদেরকে অন্তিম উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, ’’আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং (রাষ্ট্রনেতার) কথা শোনার ও তার আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি; যদিও তোমাদের উপর কোন নিগ্রো (আফ্রিকার কৃষ্ণকায় অধিবাসী) রাষ্ট্রনেতা হয়। (স্মরণ রাখ) তোমাদের মধ্যে যে আমার পর জীবিত থাকবে, সে অনেক মতভেদ বা অনৈক্য দেখবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নত ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদ্বীনের রীতিকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে মজবূত করে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনে নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদ’আত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদ’আতই ভ্রষ্টতা। সুনানে আবূ দাউদ : ৪৬০৭, সুনানে দারেমী : ৯৫, রিযাদুস সালেহিন : ১৫৭

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, বনী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উন্মাতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উন্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে দল কোনটি? তিনি বললেনঃ আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত। সুনানে তিরমিজি : ২৬৪১, সহীহাহ : ১৩৪৮

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মৃত্যুর পর ১০ হিজরী থেকে ২২০ হিজরী সাল পর্যান্ত সাহাবি, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীদের যুগ ছিল। ২২০ হিজরি সময় কাল পর্যান্ত যে সকল তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগন তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম দ্বারা হাদিস মুখম্ত করেছেন, সংরক্ষণ করেছেন এবং উম্মতে ফিকহি সমাধান প্রদান করছেন তাদের মধ্য মাযহাবে ইমাম চার জনের ভূমিকা অত্যান্ত উজ্জ্বল। তারা হাদিস মুখন্ত, সংকল, সংরক্ষন, প্রচার এবং ফিকহি ব্যাখ্যা বিশ্লেষন অন্যতম ভুমিকা রাখেন। এই সময়টাকে ইসলামের প্রথমিক যুগ বলা। এই সময় দ্বীনের মাঝে কোন বিকৃতি ঘটে নাই বিধায় এই সময় কোন আমলকে সুন্নাহ সম্মত হিসাবে ধরা হয়। কাজেই কোন আমল এর পর আবিস্কৃত হলে তা বাতিল বিদআত।  রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মৃত্যুর প্রায় চারশত বছর পরি মিলাদ নামক বিদআত চালু হলেয়ে। আমাদের পূর্ববর্তী সালাফদের মাছে এই মিলাদের কোন নমুনা খুজে পাওয়া যায় না।

বিভিন্ন দিবসের নাম

উপরে আলোচিত সাতটি শর্তে মেনে কোন দিবস উদ্‌যাপন করা হারাম হবে না, বরং জায়েয। জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস, জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস, নিরাপদ সড়ক দিবস,  বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, মাদক বিরোধী দিবস ইত্যাদি। এই সকল দিবসে যদি অপচয় রোধ করে বা কোন প্রকার শরীয়ত বিরোধী কাজ না করে যদি জন সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে কাজ করা হয় তবে শুধু জায়েয হবে না বরং বড় সওয়াবের কাজ হবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতীকভাবে এত দিবস উদ্‌যাপন করা হয় যে হিসাব রাখা খুবই কঠিন। এই বিশাল তালিকা সম্পর্কে আলোচনা করাও সম্ভব নয়। এ সকল দিবস সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও জরুরী নয়। তারপরও একটা সাধারণ ধারনা প্রদানের জন্য পাঠকদের নিকট এই দিবসগুলোর একটি তালিকা উল্লেখ করছি। যার ফলে পাঠকবৃন্দ এ সম্পর্কে কিছু ধারনা নিতে পারে। আমাদের আলোচনার বিষয় হলো বিভিন্ন দিবস তাই এই দিবসগুলির মাঝে যেগুলো আমাদের শরীয়ত বিরোধী কাজ করাতে উৎসাহ দেন তা থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটা আলোচন করব ইনশাল্লাহ।   

দিবসগুলোর তালিকা তিনটিভাগে উল্লেখ করছি, প্রথমভাগে বাংলাদেশের দিবসগুলো, দ্বিতীয় ভাগে বিশ্ব বা আন্তর্জাতিক দিবসগুলো এবং শেষের দিকে আন্তর্জাতিক দিবস যা জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত সেগুলো উল্লেখ করব। আমাদের দেশে অধিকাংশই দিবসগুলো প্রায় নিয়মিত পালিত হয়। কিন্তু কিছু কিছু দিবস, বিভিন্ন রাজনৈতিক কারনে পালিত হয়, আবার কখনও রাজনৈতিক কারনে পালিত হয় না। আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক দিবসগুলোর জন্য সরকারি ও আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার প্রেক্ষিতে তা পালিত হয়। দিবস পালনের ব্যাপ্তিও অর্থ প্রাপ্তীর উপর নির্ভর করে থাকে। অর্থ বেশী পেলে জাকযমক বেশী হয়, আবার অর্থ কম পেলে জাকযমক কম হয়।

বাংলাদেশের দিবস :

এই দিবসগুলো শ্রেফ বাংলাদেশেই পালিত হয়। অবশ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসি বাঙালিরাও এই দিবসগুলো সীমিতাকারে উদ্‌যাপন করে থাকেন।

তারিখদিবসের নামতারিখদিবসের নাম
১০ জানুয়ারিবঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ২৩ জুনপলাশী দিবস 
১৯ জানুয়ারিজাতীয় শিক্ষক দিবস ১ জুলাইঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস 
২০ জানুয়ারিশহীদ আসাদ দিবস ৩ জুলাইজন্ম নিবন্ধন দিবস :
২৪ জানুয়ারিগণঅভ্যুত্থান দিবস ১৫ আগষ্টশোক দিবস 
২৫ জানুয়ারিকম্পিউটারে বাংলা প্রচলন দিবস ২৭ আগস্টদিঘলিয়ার দেয়াড়া গণহত্যা দিবস 
৫ ফেব্রুয়ারিবাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস১৭ সেপ্টেম্বরমহান শিক্ষা দিবস :
১১ ফেব্রুয়ারিসড়ক হত্যা দিবস১৮ সেপ্টেম্বরকৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস 
১৪ ফেব্রুয়ারিসুন্দরবন দিবস ২৩ সেপ্টেম্বরপ্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবস
২১ ফেব্রুয়ারিশহীদ দিবস২৯ সেপ্টেম্বরমাহমুদপুর গণহত্যা দিবস 
২৮ ফেব্রুয়ারিজাতীয় ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস৩০ সেপ্টেম্বরকন্যা শিশু দিবস
১ মার্চজাতীয় ভোটার দিবস  ২ অক্টোবরপথশিশু দিবস বা সুবিধাবঞ্চিত শিশু দিবস  
২ মার্চজাতীয় পতাকা দিবস ৫ অক্টোবরশিক্ষক দিবস 
৬ মার্চজাতীয় পাট দিবস২২ অক্টোবরনিরাপদ সড়ক দিবস 
৮ মার্চজাতীয় নারী দিবস১ নভেম্বরজাতীয় যুব দিবস
১৭ মার্চশিশু দিবসপ্রথম শনিবারজাতীয় সমবায় দিবস 
২৩ মার্চপতাকা উত্তোলন দিবস*৩ নভেম্বরজেলহত্যা দিবস
২৬ মার্চস্বাধীনতা দিবস  ৪ নভেম্বরসংবিধান দিবস
৩১ মার্চজাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস৭ নভেম্বরজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস*
২ এপ্রিলজাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ১০ নভেম্বরনূর হোসেন দিবস বা স্বৈরাচার বিরোধী দিবস 
১৪ এপ্রিলপহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ ২১ নভেম্বরসশস্ত্রবাহিনী দিবস 
১৭ এপ্রিলমুজিবনগর দিবস৩০ নভেম্ববরজাতীয় আয়কর দিবস
২৮ এপ্রিলজাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস
১ মেমহান মে দিবস : ৬ ডিসেম্বরস্বৈরাচার পতন দিবস
১৬ মেফারাক্কা লংমার্চ দিবস বা ফারাক্কা দিবস ৮ ডিসেম্বরজাতীয় যুব দিবস 
২৩ মেজাতীয় নৌ নিরাপত্তা দিবস৯ ডিসেম্বররোকেয়া দিবস
২৫ মেকবি কাজী নজরুল ইসলামের  জন্মবার্ষিকী  ১২ ডিসেম্বরডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস
২৮ মেনিরাপদ মাতৃত্ব দিবস  ১৪ ডিসেম্বরশহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
৭ জুনছয় দফা দিবস১৬ ডিসেম্বরবিজয় দিবস
১৩ জুননারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ দিবস বা ইভ টীজিং প্রতিরোধ দিবস ১৯ ডিসেম্বরবাংলা ব্লগ দিবস

বিশ্ব বা আন্তর্জাতিক দিবসঃ

বিশ্বের প্রায় সকল দেশে একই দিনে একই সাথে এই দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এই দিবসগুলি পালনের রীতি চালু আছে।  বিশ্ব দিবসাকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

তারিখদিবসের নামতারিখদিবসের নাম
জানুয়ারির শেষ রবিবারবিশ্ব কুষ্ঠ দিবস৩১ মেবিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস
২ জানুয়ারিবিশ্ব জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ দিবসতৃতীয় রবিবার।বিশ্ব বাবা দিবস
২৬ জানুয়ারিআন্তর্জাতিক কাস্টম্‌স দিবস৫ জুনবিশ্ব পরিবেশ দিবস
২ ফেব্রুয়ারিবিশ্ব জলাভূমি দিবস৮ জুনবিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস
১২ ফেব্রুয়ারিবিশ্ব ডারউইন দিবস,১২ জুনবিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস
১৪ ফেব্রুয়ারিবিশ্ব ভালোবাসা দিবস১৪ জুনবিশ্ব রক্তদাতা দিবস
১৫ ফেব্রুয়ারিবিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস১৭ জুনবিশ্ব মরুময়তা দিবস 
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস২১ জুনবিশ্ব সঙ্গীত দিবস
২২ ফেব্রুয়ারিবিশ্ব স্কাউট দিবস২ জুলাইবিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিকতা দিবস
২৪ ফেব্রুয়ারি: আল কুদ্‌স দিবস২৯ জুলাইবিশ্ব বাঘ দিবস
দ্বিতীয় সোমবারকমনওয়েলথ দিবসপ্রথম রবিবারবিশ্ব বন্ধু দিবস
৩ মার্চবিশ্ব বই দিবস১ আগস্টবিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস
৮ মার্চবিশ্ব নারী দিবস৬ আগস্টহিরোশিমা দিবস
১০ মার্চবিশ্ব কিডনি দিবস৯ আগস্টনাগাসাকি দিবস
১৪ মার্চআন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস ৮ই সেপ্টেম্বরবিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস
১৪ মার্চবিশ্ব পাই দিবস১৮ সেপ্টেম্বরবিশ্ব নৌ দিবস
১৫ মার্চপঙ্গু দিবস২২ সেপ্টেম্বরবিশ্ব কারামুক্ত দিবস
 ১৫ মার্চবিশ্ব ক্রেতা অধিকার দিবস২৪ সেপ্টেম্বরমীনা দিবস
২০ মার্চবিশ্ব শিশুনাট্য দিবস২৬ সেপ্টেম্বরবিশ্ব হার্ট দিবস
২১ মার্চবিশ্ব বন দিবস২৭ সেপ্টেম্বরবিশ্ব পর্যটন দিবস
২১ মার্চবিশ্ব বর্ণবৈষম্য দিবস২৮ সেপ্টেম্বরবিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস
২২ মার্চবিশ্ব পানি দিবস৩০ সেপ্টেম্বরবিশ্ব কন্যা শিশু দিবস
২৩ মার্চবিশ্ব আবহাওয়া দিবস১ অক্টোবরআন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস
২৪ মার্চবিশ্ব যক্ষ্মা দিবস১ অক্টোবরবিশ্ব নিরামিষ দিবস
২৬ মার্চআর্থ আওয়ার৪ অক্টোবরবিশ্ব প্রাণী দিবস
২৭ মার্চবিশ্ব নাট্য দিবস৫ অক্টোবরবিশ্ব শিক্ষক দিবস
২ এপ্রিলবিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস৯ অক্টোবরবিশ্ব ডাক দিবস
২ এপ্রিলবিশ্ব শিশু বই দিবস১০ অক্টোবরবিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস
৪ এপ্রিলবিশ্ব মাইন বিরোধী দিবস১৪ অক্টোবরবিশ্ব মান দিবস
৭ এপ্রিলবিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস১৪ অক্টোবরবিশ্ব দৃষ্টি দিবস
১৬ এপ্রিলবিশ্ব কণ্ঠ দিবস১৫ অক্টোবরবিশ্ব সাদাছড়ি দিবস
১৭ এপ্রিলবিশ্ব হিমোফেলিয়া দিবস১৬ অক্টোবরবিশ্ব খাদ্য দিবস
২২ এপ্রিলবিশ্ব ধরিত্রী দিবস২৪ অক্টোবরবিশ্ব তথ্য উন্নতকরণ দিবস
২৩ এপ্রিলবিশ্ব পুস্তক দিবস৩১ অক্টোবরবিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস
২৪ এপ্রিলবিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসঅক্টোবরের প্রথম সপ্তাহআন্তর্জাতিক পোস্টকার্ড সপ্তাহ
২৫ এপ্রিলবিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসঅক্টোবরের প্রথম সোমবারবিশ্ব স্থাপত্য দিবস
২৬ এপ্রিলবিশ্ব মেধাসম্পদ দিবসঅক্টোবরের প্রথম শুক্রবারবিশ্ব হাসি দিবস
২৬ এপ্রিলআন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস১৪ নভেম্বরবিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস
২৭ এপ্রিলবিশ্ব নকশা দিবস১২ নভেম্বরবিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস
২৮ এপ্রিলবিশ্ব পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস২০ নভেম্বরআফ্রিকার শিল্পায়ন দিবস
৩ মেবিশ্ব সাংবাদিকতা দিবস২৯ নভেম্বরফিলিস্তিন সংহতি দিবস
৮ মেবিশ্ব রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট দিবস১ ডিসেম্বরবিশ্ব এইড্‌স দিবস
১৭ মেবিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস১১ ডিসেম্বরবিশ্ব পর্বত দিবস
১৮ মে:আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস২৫ ডিসেম্বরবড় দিন বা যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন

আন্তর্জাতিক দিবস যা জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃতঃ

 সাধারণত জাতিসংঘ কর্তৃক চালু করা ও উদযাপিত দিবসগুলোই “আন্তর্জাতিক দিবস” হিসেবে উদযাপিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ, জাতিসংঘের অন্যতম সদস্য হিসেবে এই দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপন করে থাকে।

তারিখদিবসের নামতারিখদিবসের নাম
২৫ জানুয়ারিআন্তর্জাতিক শুল্ক দিবস:১ অক্টোবরবিশ্ব শিশু দিবস
৪ ফেব্রুয়ারিবিশ্ব ক্যান্সার দিবস:১ অক্টোবরআন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস
২১ ফেব্রুয়ারিআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস৫ অক্টোবরবিশ্ব শিক্ষক দিবস
২২ মার্চবিশ্ব পানি দিবসঅক্টোবর প্রথম সোমবারবিশ্ব আবাসন দিবস বা বিশ্ব বসতি দিবস
২৯ এপ্রিলআন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসঅক্টোবর দ্বিতীয় বুধবারআন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হ্রাসকরণ দিবস
১ মেমে দিবস১৫ অক্টোবরআন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস
১৫ মেআন্তর্জাতিক পরিবার দিবস১৭ অক্টোবরআন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস
২৯ মেশান্তিরক্ষী দিবস২৪ অক্টোবরজাতিসংঘ দিবস
২০ জুনবিশ্ব শরণার্থী দিবস৩ ডিসেম্বরআন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
২৬ জুনআন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস :৫ ডিসেম্বরআন্তর্জাতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস
জুন প্রথম শনিবারআন্তর্জাতিক সমবায় দিবস৭ ডিসেম্বরআন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল দিবস
১১ জুলাইবিশ্ব জনসংখ্যা দিবস :৯ ডিসেম্বরআন্তর্জাতিক দূর্নীতিবিরোধী দিবস
৯ আগস্টআন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস :১০ ডিসেম্বরমানবাধিকার দিবস
৮ সেপ্টেম্বরবিশ্ব স্বাক্ষরতা দিবস ১৮ ডিসেম্বরআন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস
১৬ সেপ্টেম্বরআন্তর্জাতিক ওজনস্তর রক্ষা দিবস ২৯ ডিসেম্বরআন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস
২১ সেপ্টেম্বরবিশ্ব শান্তি দিবস  

উৎসঃ এই লেখাটির https://bn.wikipedia.org/wiki/ থেকে নেয়া।

বিভিন্ন দিবসের হুকুমঃ

দিবস উদ্‌যাপন সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারনা পেয়েছি। দিবস উদ্‌যাপন করা কখনও ইবাদত আবার কখনও হারাম। ইসলামি শরীয়তে আমাদের সকল কাজই ইবাতদের মধ্য গন্য। আর কাজটি তখনই ইবাদতের মধ্য গন্য হবে যখন কাজেটি আল্লাহ হুকুম ও রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দেখানো পথে সম্পাদন করব। যদি আল্লাহর আদেশ অমান্য করে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দেখান পথে করি তার হলে আর ইবাদত হবে না। অনুরূপভাবে আল্লাহ হুকুম আছে কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দেখান পন্থায় আমল করলাম না তবেও ইবাদত হবেনা।  উদরাহরণ সরূপ বলা যায। গরু বা ভেড়ার মাংশ খাওয়া জায়েয অর্থাত আল্লাহ হুকুম আছে। কিন্তু যদি আল্লাহ নাম না নিয়ে সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে জবেহ করি তবে ঐ মাংশ খাওয়া জায়েয নয়। আবার শুকরের মাংশ খাওয়া হারাম অর্থাত আল্লাহর হুকুম নাই। যদি কেউ সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতিতে জবেহ করি তবে তাও খাওয়া জায়েয নয়। ইসলামি শরীয়তে ইবাদত হতে হলে আমাদের এই দুটি শর্ত মেনে আমল করতে হবে। দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রেও আমাদের দেখতে হবে আল্লাহ হুকুম আছে কিনা? রাসূলুল্লাহ ﷺ এর তরিকা আছে কিনা? এর বাহিকে যে কোন দিবস উদ্‌যাপন করা কখনও হারাম, কখনও বিদআত আবার কখনও জায়েয। কাজেই আমরা দিবস আলোচনার ক্ষেত্র চারটি ভাবে বিভক্ত করে আলোচনা করব।

১। যে সকল দিবস উদ্‌যাপন করা ইবাদত

২। যে সকল দিবস উদ্‌যাপন করা বিদআত

৩। যে সকর দিবস উদ্‌যাপন করা হারাম।

৩। যে সকর দিবস উদ্‌যাপন করা জায়েয।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *