মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
উপমহাদেশে অন্যান্য দেশে থেকে শিরকি আকিদা ও আমলের প্রচলিত একটু বেশী। আরবদের মাঝে শিরক ও বিদআতের পরিমাণ খুবই নগণ্য। এর কারণ ইসলাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের গভীরতা এবং আমাদের মাঝে শিরকি আমল বেশী হওয়ার কারন আমদের জ্ঞানের সল্পতা। এই কারনে আমাদের অনেক ইবাদত শিরক মিশ্রিত অথচ আমরা জানিনা। আরবা করিছি নেক আমল কিন্তু হচ্ছে শিরক। যেমন- ইবাদত মনে করে মাজারে পশু জবেহ করছি। অথচ হচ্ছে শিরক কাজ। আমাদের মাঝে শিরক অনুপ্রবেশের অন্যতম কারণ উপমহাদেশের অধিকাংশ মানুস সুফি দর্শনে বিশ্বাসি। দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৌনোতা ও অনেকাংশে দায়ী। যারা ইসলামের প্রচার প্রসারে নিয়োজিত তাদের জ্ঞানের সল্পতা আছে যে কারণে তারা সঠিক দ্বীন প্রদান না করে শিরক মিশ্রিত কিচ্ছা কাহিনি প্রচার করে থাকে। কেউ আমরা সঠিক দ্বিনের খোজ খবরও নেই না, শুধু বাপ দাদার অন্ধ অনুসরণ করছি। কেউ আঙ্গুল দিয়ে সঠিকটি দেখিয়ে দিলে তাকে বেশী বুঝে বলে অপমান করছি। আধুনিক মিডিয়া সব সময় ইসলামের বিপক্ষে তারা শিরকি কাজ কর্ম এমন ভবে প্রচার করে মনে হবে এটাই সঠিক ইসলাম। অথচ কাজটি সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। তাছাড়া যার শ্বাসক শ্রেণি আমাদের সংস্কৃতি বলে অনেক সময় শিরকি কাজ করতে বাধ্য করে। এভাবে বিভিন্ন উপায়ে আমাদরে মাঝে শিরকি আকিদা ও আমলে ছেয়ে গেছে। এই পর্যায়ে আমাদের মাঝে শিরক অনুপ্রবেশের কয়েটি কারন উল্লেখ করছি।
১। ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব:
শিরকের মুল কারণ এ সম্পর্কে অজ্ঞতা। বর্তমানে সমাজের অধিকাংশ মুসলিমের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের এতই অভাব যে, ইসলাম, ঈমান, কুফর, নিফাক, মুনাফেকি, ছোট শিরক, বড় শিরকসহ ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেনা। ইসলামের কৃষ্টি কালচার, বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য তো অনেক দুরের ব্যাপার। একজন মুসলিমের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক প্রয়োজনীয় দিক হল ঈমান আর ঈমানের মূল বিষয় হল তাওহীদ অপর পক্ষে তাওহীদের বিপরীত হল শিরক যা ঈমান ভঙ্গের মূল উপাদান। শিরক সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে, শিরক মুক্ত বিশুদ্ধ আমল কল্পনা করা যায়না। হুদ (আ,) যখন আহক্বাফ বাসিদের আহবান করেছিলন। যখন তারা নিজেদের অজ্ঞতার কারণে আজাব দাবি করেছিল।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
قَالَ اِنَّمَا الۡعِلۡمُ عِنۡدَ اللّٰہِ ۫ۖ وَاُبَلِّغُکُمۡ مَّاۤ اُرۡسِلۡتُ بِہٖ وَلٰکِنِّیۡۤ اَرٰىکُمۡ قَوۡمًا تَجۡہَلُوۡنَ
সে বলল, ‘এ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে। আর যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে, আমি তোমাদের কাছে তাই প্রচার করি, কিন্তু আমি দেখছি, তোমরা এক মূর্খ সম্প্রদায়’। সুরা আহকাফ : ২৩
ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবে শুধু শিরক করবে না আল্লাহর আযাব ও দাবি করতে পারে। এমনকি অসংখ্য অগণিত মুসলিমের অবস্থা এতই নাজুক, তারা কেবলই নামে মাত্র মুসলিম অথবা মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করছে বলে মুসলিম। শিরক কি তারা তা জানে না। শিরক ও তাওহীদের মধ্যে পার্থক্যও তারা নির্ধারণ করতে পারে না। একজন মুসলমানের জন্য শিরকের ব্যাপারে সুস্পষ্ট জ্ঞান রাখা এবং তা থেকে বেচে থাকা ঈমানি দায়িত্ব। ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবে ঈমান থাকার পরও সে কুফরী করবে এবং সে ধ্বংশ হবে।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِالۡاِیۡمَانِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُہٗ ۫ وَہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ
আর যে ঈমানের সাথে কুফরী করবে, অবশ্যই তার আমল বরবাদ হবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। সুরা মায়েদা : ৫
আমল এবং আখলাকের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে, হয়ত তাতে কড়াকড়ি করা নাও হতে পারে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করিবেন। কিন্তু শিরক মিশ্রিত কোন আমল থাকলে, তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না এবং তার যাবতীয় আমল, ও ইবাদত বন্দেগী সবই মূল্যহীন হয়ে পড়ে। এসবের কোন বিনিময় তাকে দেয়া হবে না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
وَلَقَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكَ لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ
আর অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তুমি শিরক করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই। আর অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। সুরা জুমার : ৬৫
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল, বর্তমানে মুসলিমদের অধিকাংশ আমলই শিরক মিশ্রিত। তারা নামে মাত্র মুসলিমদের কাতারে সামিল। বাস্তবে তাদের অবস্থা খুবই করুণ।
২। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব
যে ব্যক্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সম্পর্কে সত্যিকারে জ্ঞান রাখে না, সে কি করে, মহান আল্লাহর ক্ষমতা, মান-মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, বড়ত্ব, মহত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হবে? আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকায়, সে তার সমকক্ষ অনেক ইলাহ দাড় করায়। আল্লাহর সমকক্ষ স্থাপনের মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের বড়ত্ব ও মহত্ব অবশিষ্ট থাকে না, ফলে সে শিরকে লিপ্ত হয়। অজ্ঞ লোকেরা কখনও আল্লাহ রাব্বূল আলামীনকে সম্মান ও মর্জাদা দেখাতে পারে না।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ۬ فَٱسۡتَمِعُواْ لَهُ ۥۤۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَن يَخۡلُقُواْ ذُبَابً۬ا وَلَوِ ٱجۡتَمَعُواْ لَهُ ۥۖ وَإِن يَسۡلُبۡہُمُ ٱلذُّبَابُ شَيۡـًٔ۬ا لَّا يَسۡتَنقِذُوهُ مِنۡهُۚ ضَعُفَ ٱلطَّالِبُ وَٱلۡمَطۡلُوبُ (٧٣) مَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦۤۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِىٌّ عَزِيزٌ (٧٤)
হে মানুষ, একটি উপমা পেশ করা হল, মনোযোগ দিয়ে তা শোন, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না। যদিও তারা এ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তারা তার কাছ থেকে তাও উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও যার কাছে অন্বেষণ করা হয় উভয়েই দুর্বল। তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয় না। নিশ্চয় আল্লাহ মহাক্ষমতাবান, মহাপরাক্রমশালী। সূরা হজ্জ : ৭৩-৭৪
আল্লাহ রাব্বূল আলামীন আরো বলেন,
وَمَا قَدَرُوا اللّٰہَ حَقَّ قَدۡرِہٖ ٭ۖ وَالۡاَرۡضُ جَمِیۡعًا قَبۡضَتُہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَالسَّمٰوٰتُ مَطۡوِیّٰتٌۢ بِیَمِیۡنِہٖ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ
আর তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। অথচ কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবীই থাকবে তাঁর মুষ্টিতে এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে। তিনি পবিত্র, তারা যাদেরকে শরীক করে তিনি তাদের ঊর্ধ্বে। সুরা জুমার : ৬৭
সূরা হজ্জ্ব অন্য আয়াতে আল্লাহ তার আযাবে একটু নমুনা তুলে ধরেন যাতে তাকে চিনে যথাযথ ভয় করে এবং শিরক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে।
আল্লাহ রাব্বূল আলামীন আরো বলেন,
َـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّڪُمۡۚ إِنَّ زَلۡزَلَةَ ٱلسَّاعَةِ شَىۡءٌ عَظِيمٌ۬ (١) يَوۡمَ تَرَوۡنَهَا تَذۡهَلُ ڪُلُّ مُرۡضِعَةٍ عَمَّآ أَرۡضَعَتۡ وَتَضَعُ ڪُلُّ ذَاتِ حَمۡلٍ حَمۡلَهَا وَتَرَى ٱلنَّاسَ سُكَـٰرَىٰ وَمَا هُم بِسُكَـٰرَىٰ وَلَـٰكِنَّ عَذَابَ ٱللَّهِ شَدِيدٌ۬ (٢)
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখবে সেদিন প্রত্যেক স্তন্য দানকারিনী আপন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে, তুমি দেখবে মানুষকে মাতাল সদৃশ, অথচ তারা মাতাল নয়। তবে আল্লাহর আযাবই কঠিন। সুরা হজ : ১-২
বল হয় একমাত্র আল্লাহর ক্ষশতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জ্ঞানই শিরক থেকে বাচার প্রধান মাধ্যম। উদাহরন হিসাবে বলা যায় সাধারন পোশাকে সাধারন পবিবেশে একজন খ্যাতিমান লোককে কেউ সম্মান করবেনা। খ্যাতিমান লোকদের পরিচয় জানার পরই কদর শুরু হয়। যেমন শেখ সাদীর ‘পোশাকের গুনে’। তাই অতুলনীয় মহান আল্লাহ পরিচয় জানার পর তার সমকক্ষ দাড় করার সাহস কেউ পাবেনা। এবং আশা করা যায় শিরক থেকে মুক্ত থাকবে।কিন্তু যত দিন মানুষ তার সত্যিকার পরিচয় থেকে দুরে থাকবে তত দিনই সে তার সমকক্ষ হিসেবে অন্য ইলাহ দাড় করাবে।
৩। রাসূলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি
রাসূল ﷺ সম্পর্কে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ির অর্থ হচ্ছে তাঁকে নবুওয়াত ও রিসালাতের উর্ধ্বে স্থান দেয়া। পৃথিবীতে রিসালাতের উর্ধ্বে কোন মানুষের মর্জাদা আছে বলে কেউ স্বীকার করবে না।কারণ এটাই পৃথিবীর সর্বচ্চো ডিগ্রি, সর্বচ্চো সম্মান, সর্বচ্চো মর্জাদা। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রসংশা করতে হবে সেই ভাবে, যে ভাবে আল্লাহ তাঁর রাসূল ﷺ এর প্রসংশা করেছেন। মহান আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা আর মুহাম্মাদ ﷺ তার সর্বশ্রেষ্ট সৃস্টি। কজেই অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি করে স্রষ্টা ও সৃস্টি মধ্যে পার্থক্য না করাই বড় শিরক। এই জন্য ইসলামে বাড়াবাড়ি নিষধ করা হয়েছে।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
يَـٰٓأَهۡلَ ٱلۡڪِتَـٰبِ لَا تَغۡلُواْ فِى دِينِڪُمۡ وَلَا تَقُولُواْ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡحَقَّۚ
হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। সুরা নিসা : ১৭১
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
قُلۡ یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لَا تَغۡلُوۡا فِیۡ دِیۡنِکُمۡ غَیۡرَ الۡحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوۡۤا اَہۡوَآءَ قَوۡمٍ قَدۡ ضَلُّوۡا مِنۡ قَبۡلُ وَاَضَلُّوۡا کَثِیۡرًا وَّضَلُّوۡا عَنۡ سَوَآءِ السَّبِیۡلِ
বল, ‘হে কিতাবীরা, সত্য ছাড়া তোমরা তোমাদের ধর্মের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না এবং এমন কওমের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং সোজা পথ বিচ্যুত হয়েছে। সুরা মায়েদা : ৭৭
আল্লাহর রাসূল ﷺ কে শ্রদ্ধা করার অর্থ তার আদেশ নিষেধ মেনে চলা। তার আনিত দ্বীনের পরিপূর্ণ অনুসরন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ এর প্রসংশায় অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকে ধাবিত করে। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন তাকে অনেক অনেক সম্মান দান করে বলেন-
لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِى رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٌ۬ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأَخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرً۬ا
আসলে তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে ছিল একটি উত্তম আদর্শ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিনের আকাঙ্ক্ষী এবং বেশী করে আল্লাহকে স্মরণ করে৷ সুরা আহযাব : ২১
তিনিই ﷺ একমাত্র ব্যক্তি যে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক চারিত্রিক সার্টিফিকেট পেয়েছেন। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٖ ٤
“আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের উপর রয়েছেন। সুরা কলম : ৪
আল্লাহর রাসূল ﷺ এর অনুসরণ করলেই আল্লাহ ভালোবাসবেন এবং গোনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
قُلۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰہُ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। আল ইমরান : ৩১
আল্লাহর রাসূল ﷺ এর আনুগত্য আল্লাহরই আনুগত্য। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَـٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظً۬ا (٨٠)
যে ব্যক্তি রসূলের আনুগত্য করলো সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করলো৷ আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিলো, যাই হোক, তাদের ওপর তো আমি তোমাকে পাহারাদার বানিয়ে পাঠাইনি। সুরা নিসা : ৮০
আল্লাহ রব্বুল আলামীণ সার্টিফিকেট দিচ্ছেন নিসন্দেহে রসূলদের অন্তরভুক্ত, সরল-সোজা, পথ অবলম্বনকারী।আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
إِنَّكَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ (٣) عَلَىٰ صِرَٲطٍ۬ مُّسۡتَقِيمٍ۬ (٤)
তুমি নিসন্দেহে রসূলদের অন্তরভুক্ত, সরল-সোজা, পথ অবলম্বনকারী। সুরা ইয়াসিন : ২-৩
রাসুলুল্লাহ ﷺ আনুগত্য না করলে আমল ধ্বংস অনিবার্য।আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَلَا تُبۡطِلُوٓاْ أَعۡمَـٰلَكُمۡ (٣٣)
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের আমল ধ্বংস করো না। সুরা মুহম্মাদ : ৩৩
এ ছাড়াও মুহাম্মদ ﷺ কে সমস্ত বিশ্বজাহানের রহমত স্বরূপ তাকে প্রেরণ করা হইয়াছে। তিনি মাক্বামে মাহমূদের অধিকারী করেছেন। তিনি সমস্ত আদম জাতীর সর্দার বানিয়েছেন। তাকে আল্লাহর খলীল বা অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহন করেছেন। তিনি আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে হাশরের মাঠে মহান শাফাআতের অধিকারী। তিনি সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী হিসাবে আল্লাহ মর্জাদা পেয়েছেন। তিনি সর্বাধিক মুত্তাক্বী ও পরহেজগারদের হিসাবে পরিগনিত। তিনি নবীকুল শিরোমণী। এত সম্মান ও মর্জাদা থাকা সত্বেও কিছু অতি পন্ডিত জ্ঞান পাপি তার সম্পর্কে বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জিত করে বলে, দুনিয়া ও আখিরাত মুহাম্মদ ﷺ এর জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত গায়েব জানেন। তিনি সর্বত্র সর্বদা হাযির নাজির। তিনি মানুষ ছিলেন না। তিনি মরে নাই। তিনি নুরের তৈরি। তিনি উম্মী নবী ছিলেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সবগুলিই অতিরঞ্জিনের নামে কুরআন বিরোধী শিরকি কথা বার্তা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সুস্পষ্ট ভাষার ঘোষণাগুলী পড়লেই উপরের শিরকি কথার অসারতার প্রমান পাবেন।আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
وَمَا خَلَقۡتُ ٱلۡجِنَّ وَٱلۡإِنسَ إِلَّا لِيَعۡبُدُونِ (٥٦)
নিশ্চয়ই আমি জ্বিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য।’ সূরা যারিয়াত : ৪১
আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
وَإِنَّ لَنَا لَلۡأَخِرَةَ وَٱلۡأُولَىٰ (١٣)
‘আর নিশ্চয়ই আখিরাত ও দুনিয়া আমারই জন্য।সূরা লাইল : ১৩
উপরের দুই আয়াতের মর্ম কথা হল: দুনিয়া ও আখিরাত মুহাম্মদ ﷺ এর জন্যই সৃষ্টি করা নি। তাছাড়া সহিহ কোন হাদিসে এরূপ বর্ননা পাওয়া যায় না।আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
قُل لَّآ أَمۡلِكُ لِنَفۡسِى نَفۡعً۬ا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُۚ وَلَوۡ كُنتُ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ لَٱسۡتَڪۡثَرۡتُ مِنَ ٱلۡخَيۡرِ وَمَا مَسَّنِىَ ٱلسُّوٓءُۚ إِنۡ أَنَا۟ إِلَّا نَذِيرٌ۬ وَبَشِيرٌ۬ لِّقَوۡمٍ۬ يُؤۡمِنُونَ (١٨٨)
বল, ‘আমি আমার নিজের কোন উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমিতো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে’। সুরা আরাফ : ১৮৮
উপরের আয়াতের মর্ম কথা হল: মুহাম্মদ ﷺ গায়েবের খবর জানেন না।মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন:
وَلِلَّهِ ٱلۡمَشۡرِقُ وَٱلۡمَغۡرِبُۚ فَأَيۡنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجۡهُ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ وَٲسِعٌ عَلِيمٌ۬ (١١٥)
পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত। সূরা বাকারা : ১১৫
উপরের আয়াতের মর্ম কথা হল: মুহাম্মদ ﷺ নয়, আল্লাহই সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত।আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-
إِنَّكَ مَيِّتٌ۬ وَإِنَّہُم مَّيِّتُونَ (٣٠)
নিশ্চয়ই তুমিও মারা যাবে, এবং নিশ্চয়ই তারাও মারা যাবে। সুরা জুমার : ৩০
আল্লাহ্ সুবাহানাহুয়াতালা ইরশাদ করেন:
وَمَا جَعَلۡنَا لِبَشَرٍ۬ مِّن قَبۡلِكَ ٱلۡخُلۡدَۖ أَفَإِيْن مِّتَّ فَهُمُ ٱلۡخَـٰلِدُونَ (٣٤) كُلُّ نَفۡسٍ۬ ذَآٮِٕقَةُ ٱلۡمَوۡتِۗ وَنَبۡلُوكُم بِٱلشَّرِّ وَٱلۡخَيۡرِ فِتۡنَةً۬ۖ وَإِلَيۡنَا تُرۡجَعُونَ (٣٥)
আর তোমার পূর্বে কোন মানুষকে আমি স্থায়ী জীবন দান করিনি; সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি অনন্ত জীবনসম্পন্ন হয়ে থাকবে ? জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা বিশেষভাবে পরীক্ষা করি এবং আমারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। সুরা আম্বিয়া : ৩৪-৩৫
উপরের দুই আয়াতের মর্ম কথা হল: মানুষ মাত্রই মরণশীল এমন কি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহম্মদ ﷺ ও এর উর্দ্ধে নন।সূরা কাহাফে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন-
قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَمَنۡ کَانَ یَرۡجُوۡا لِقَآءَ رَبِّہٖ فَلۡیَعۡمَلۡ عَمَلًا صَالِحًا وَّلَا یُشۡرِکۡ بِعِبَادَۃِ رَبِّہٖۤ اَحَدًا
বল, ‘আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে’। সুরা কাহাফ : ১১০
উপরের আয়াতের মর্ম কথা হল: মুহাম্মদ ﷺ আমাদের মত এক জন মানুষ ছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَـٰنَ مِن سُلَـٰلَةٍ۬ مِّن طِينٍ۬
আমি মানুষকে তৈরী করেছি মাটির উপাদান থেকে। সুরা মুমিনুন : ১২
উপরের আয়াতের মর্ম কথা হল: মুহাম্মদ ﷺ মাটির উপাদান থেকে সৃষ্টি।আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
فََٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ
কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহে ঈমান রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও। সুরা আরাফ : ১৮৫
উপরের আয়াতের মর্ম কথা হল: মুহাম্মদ ﷺ কে উম্মী নবী বলেছেন এবং তার অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে সঠিক ও সু-ধারনা পোষন করা প্রত্যেকটি মুসলিমের দায়িত্ব। অতিরঞ্জর বাড়বাড়ি কখন ও শিরকি আকদার জম্ম দেয়।
আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন-
یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لَا تَغۡلُوۡا فِیۡ دِیۡنِکُمۡ وَلَا تَقُوۡلُوۡا عَلَی اللّٰہِ اِلَّا الۡحَقَّ ؕ اِنَّمَا الۡمَسِیۡحُ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ رَسُوۡلُ اللّٰہِ وَکَلِمَتُہٗ ۚ اَلۡقٰہَاۤ اِلٰی مَرۡیَمَ وَرُوۡحٌ مِّنۡہُ ۫ فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖ ۚ۟ وَلَا تَقُوۡلُوۡا ثَلٰثَۃٌ ؕ اِنۡتَہُوۡا خَیۡرًا لَّکُمۡ ؕ اِنَّمَا اللّٰہُ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ؕ سُبۡحٰنَہٗۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ لَہٗ وَلَدٌ ۘ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ وَکِیۡلًا
হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। মারইয়ামের পুত্র মাসীহ ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কালিমা, যা তিনি প্রেরণ করেছিলেন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন এবং বলো না, (ইলাহ) তিন। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহই কেবল এক ইলাহ, তিনি পবিত্র মহান এ থেকে যে, তাঁর কোন সন্তান হবে। আসমানসূহে যা রয়েছে এবং যা রয়েছে যমীনে, তা আল্লাহরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। সুরা নিসা : ১৭১
খ্রিষ্টানরা ঈসা (আ.) ও তাঁর মা মারিয়াম (আ.) কে ভক্তি-শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে করতে তাঁদেরকে রিসালাত ও বান্দার স্থান থেকে উপরে তুলে আল্লাহর আসনে বসিয়ে দিয়েছে এবং যথারীতি তাঁদের ইবাদত করছে। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদেরকে ধর্মীয় ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জন করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপ রাসুলুল্লাহ ﷺ ও খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা দেখে স্বীয় উম্মতকে এহেন ভয়াবহ মহামারীর কবল হতে রক্ষা করার জন্য পূর্ণ সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে এমন অতিরঞ্জন করবে না, যেমন খ্রিষ্টানরা ঈসা বিন মারয়্যামের ব্যাপারে করেছে। যেহেতু আমি আল্লাহর বান্দাই, সেহেতু তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল বল। সহিহ বুখারি : আম্বিয়া অধ্যায়
মহান আল্লাহ্ তাঁর হাবীব রাসূল মুহাম্মদ ﷺ কে যে সীমাহীন উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন তা আল কুরআন এবং সহিহ হাদিসের পাতায় পাতায় সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। অতি ভক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে তাঁর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কুরআনুল কারীমের সুস্পষ্ট আয়াত ও ঘোষণাকে অস্বীকার করে, বিকৃত করে, ভ্রান্ত তাফসীর করে, জাল বানোয়াট মনগড়া কাহিনীর অবতারনা ককরে ইয়াহুদি খৃষ্টানদের মত সীমালঙ্ঘনকারী হওয়া কখনোই ঈমানের পরিচায়ক হতে পারে না। বরং আমাদের উচিত হবে আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব রাসূল মুহাম্মদ ﷺ কে যে মর্জাদা দিয়েচেন তার ভিত্তিতে তাকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
৪। বাপ দাদার অন্ধ অনুসরণ:
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নবী ﷺ ইরশাদ করেছেন-
مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلاَّ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ (فِطْرَةَ اللهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا)
প্রতিটি নবজাতকই জন্ম লাভ করে ফিতরাতের (তাওহীদের) উপর। অতঃপর তার মা-বাপ তাকে ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুঁত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কান কাটা দেখতে পাও? পরে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) তিলাওয়াত করলেন-
فِطْرَتَ اللهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا
আল্লাহর দেয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, সুরা রূম-৩০।
সহিহ বুখারি : ১৩৫৮, ১৩৫৯, ১৩৮৫, ৪৭৭৫, ৬৫৯৯, সহহি মুসলিম : ২৬৫৮, আহমাদ ৮১৮৫
শীশু জম্মগ্রহণের পর যে পরিবারে লালিত পালিত হয়, সেই পরিবারের আকিদা, বিশ্বাস, আমল ও সংষ্কৃতি ধারন করে বেড়ে উঠে। নবজাতকে পরিবারের মধ্যে শিরকি বিদআতের প্রচলন তাকলে সে তার বাপ দাদার অন্ধ অনুসরণ করে শিরক বিদআতে ডুবে নিমজ্জিত হবে। এই কি নিজের থেকে তারা কোন সংশোধনের চেষ্টা করে না। আবার কেউ তাদের শিরকি আমল পরিবর্তেন কথা বললে মেনেও নেয় না। এমনটি সমাজে অধিক প্রচলিত কোন শিরকি আমল সম্পর্কে যদি বলা হয়, আপনার আমলটি কুরআন সুন্নাহ সম্মত হচ্ছে না। তখন দাদার অন্ধ অনুসারি ঐ লোকই খোড়া যুক্তি দেখিয়ে বলবে, অমুক বড় হুজুর, অমুক মুফতি সাহেব, অমুক পির সাহেব কি আপনার থেক কম বুঝে? আপনি যতই কুরআন সুন্নাহর কথা বলেন না কেন? তার পরিস্কার উল্টা জবাব, আমাদের বাপ দাদারা যা করছে আমরা তাই করব। তারা কি ইসলাম কম বুঝেন? আপনি কি অমুকের চেয়ে, তমুকের চেয়ে ইসলাম বেশী বুঝেন ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ তাদের এই খোড়া যুক্তির পিছনে কোন দলিল নাই। তারা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।এদের সম্পর্কেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
سَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا لَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَاۤ اَشۡرَکۡنَا وَلَاۤ اٰبَآؤُنَا وَلَا حَرَّمۡنَا مِنۡ شَیۡءٍ ؕ کَذٰلِکَ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ حَتّٰی ذَاقُوۡا بَاۡسَنَا ؕ قُلۡ ہَلۡ عِنۡدَکُمۡ مِّنۡ عِلۡمٍ فَتُخۡرِجُوۡہُ لَنَا ؕ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا تَخۡرُصُوۡنَ
অচিরেই মুশরিকরা বলবে, ‘আল্লাহ যদি চাইতেন, আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও না এবং আমরা কোন কিছু হারাম করতাম না’। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, যে পর্যন্ত না তারা আমার আযাব আস্বাদন করেছে। বল, ‘তোমাদের কাছে কি কোন জ্ঞান আছে, যা তোমরা আমাদের জন্য প্রকাশ করবে? তোমরা তো শুধু ধারণার অনুসরণ করছ এবং তোমরা তো কেবল অনুমান করছ’। সুরা আনাম : ১৪৮
তাদের এই শিরকি কাজ থেকে যখন বিরত থাকার জন্য বলা হয়, তখন তারা বাপ দাদাগণ হিদায়েত প্রাপ্ত সঠিক পথে আছে দাবি করে, তাদেরই অনুসরণ করে। তাদের এই খোড়া অজুহাত পরকালে কোনই কাজে আসবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
بَلۡ قَالُوۡۤا اِنَّا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّۃٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ
বরং তারা বলে, ‘আমরা নিশ্চয় আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি, আর নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে হিদায়াতপ্রাপ্ত হব। সুরা জুকরুক : ২২
কওমে সামুদও সালেহ (আ.) কে ঠিক একই কথা বলেছিল। আমরা আমাদের বাপ দাদাদের দেখান পথই সঠিক করে করি। আর তোমার সত্য দ্বীন সম্পর্কে আমরা সন্দেহ করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
قَالُوۡا یٰصٰلِحُ قَدۡ کُنۡتَ فِیۡنَا مَرۡجُوًّا قَبۡلَ ہٰذَاۤ اَتَنۡہٰنَاۤ اَنۡ نَّعۡبُدَ مَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَا وَاِنَّنَا لَفِیۡ شَکٍّ مِّمَّا تَدۡعُوۡنَاۤ اِلَیۡہِ مُرِیۡبٍ
তারা বলল, হে সালিহ! তুমিতো ইতোপূর্বে আমাদের মধ্যে আশা-ভরসা স্থল ছিলে। তুমি কি আমাদেরকে ঐ বস্তুর ইবাদাত করতে নিষেধ করছ যাদের ইবাদাত আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা করে এসেছে? আর যে ধর্মের দিকে তুমি আমাদের ডাকছ, বস্তুতঃ আমরা তৎসম্বন্ধে গভীর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি, যা আমাদেরকে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ফেলে রেখেছে। সুরা হুদ : ৬২
এ সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন- সুরা আরাফ : ২৮, সুরা হুদ : ৮৭ ও ১০৯, সুরা ইব্রাহীম : ১০, সুরা মায়েদা : ১০৪, সুরা বাকারা : ১৭০, সুরা আম্বিয়া : ৫৩ ও৫৪, সুরা ইউসুফ : ৪০, সুরা আরাফ : ৭০ ও ১৭৩, সুরা সাবা : ৪৩, সুরা ইউনুস : ৭৮।
৫। ব্যক্তি কেন্দ্রিক অতিভক্তি বা আবেগ
উপমহাদেশে সাধারনত কোন এলাকায় ইসলাম প্রচারে কোন না কোন ব্যক্তির একক ভুমিকা থাকে।তার মৃত্যুর পর তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নানান আজগোবি গল্প কাহিনী, হাজারও কেরামতি। সরল মনের মানুষগুলি এই বানান আজগোবি গল্প শুনে তার খাটি ভক্ত হয়ে যায়। আর তাকে দিয়ে শুরু হয় শিরকি খেলা। এমন কোন অলী পাওয়া যাবে না, যাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই, শিরকি আকিদা নেই বা শিরকি আমল নেই। কিন্তু আমাদের সমাজের এক শ্রেণীর আমাদের অবস্থা দেখুন, তারা এ থেকে ফায়দা নিচ্ছে। বিশেষ করে যারা ইমাম, চাকরির ভয়ে প্রতিবাদ করার পরিবর্তে ঐ সব কাজে সায় দিছ্ছে। ব্যতিক্রমি আলেমও আছে। ইয়াহুদিগণ তাদের রাহেব বা ধর্মগুরুদের কো ইলাহর স্থানে বসিয়েছিল। তারা যা হারাম হালাল করতে ইয়াহুদিগণ তা মেন নিত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
اِتَّخَذُوۡۤا اَحۡبَارَہُمۡ وَرُہۡبَانَہُمۡ اَرۡبَابًا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَالۡمَسِیۡحَ ابۡنَ مَرۡیَمَ ۚ وَمَاۤ اُمِرُوۡۤا اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡۤا اِلٰـہًا وَّاحِدًا ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ سُبۡحٰنَہٗ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ
তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদের রব (ইলাহ) হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামপুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছে, তিনি ছাড়া কোন (হক) ইলাহ নেই। তারা যে শরীক করে তিনি তা থেকে পবিত্র। সুরা তাওবা : ৩১
ব্যক্তি কেন্দ্রিক অতিভক্তি জনিত শিরকি আকিদা হল, আল্লাহর অলীরা মরে না। তারা মানুষের ভাল মন্দ করার ক্ষমতা রাখে। তারা গায়েব জানেন। তারা কবর থেকে ফয়েজ বরকত দান করে। এভাবে পূর্বের অলীদের সম্পর্কে তাদের ধারনাও অনেকটা শিরকি।
৬। সুফি দর্শণ গ্রহনের জন্য
বর্তমানে মুসলিমগণ যে সকল শিরক মিশ্রিত আকিদা ও আমলেন সাথে জড়িত তার অন্যতম কারণ হচ্ছে সুফীবাদের বিভ্রান্তি। এই পঁচা মতবাদের কারণেই মুসলিম জাতি শিরকের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। আল্লাহর মনোনিত ইসলামের মূল বিশ্বাস তাওহীদ থেকে সরে গিয়ে সুফীবাদের বেড়াজালে আটকে পড়ে শিরকি কাজে লিপ্ত। এই মতবাদের কারণে হাজারও মানুষ আজ শিরককে ইবাদাত মনে করছে। হাজারও মানুষ ইবাদাতের জন্য কঠোর সাধনা করছে অথচ শিরক মিশ্রিত আকিদা ও আমলে জন্য পন্ডশ্রম হচ্ছে।সুফীদের রয়েছে বিভিন্ন তরীকা বা মাজহাব আছে।শুধু ভারতীয় উপমহাদেশেই অসংখ্য সুফী তরীকা আত্মপ্রকাশ করেছে। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তরীকা হলো-
১) কাদেরীয়া তরীকা ২) নকশবন্দীয়া তরীকা ৩) চিশতিয়া তরীকা ৪) মুজাদ্দেদীয়া তরীকা ৫) সোহরাওয়ার্দী তরীকা।
শুধু এই তরীকাগুলোই ভিন্ন ভিন্ন নয়, এদের আমল, জিকিরে বাক্য ও পদ্দতি ও ভিন্ন ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্র আকিদা ও ভিন্ন ভিন্ন। অধিকাংশের মধ্যে সাধারন যে শিরকগুলি আকিদা প্রচলিত তাহা হলো-
আল্লাহতায়ালা কে নিরাকার মনে করা, আল্লাহতায়ালা কে সর্বত্র বিরাজমান মনে করা, রাসূলুল্লাহ ﷺ নুরের তৈরি, রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহতায়ালার মতই অদৃশ্যর জ্ঞান রাখেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহতায়ালার মতই হাজির ও নাজির, রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহতায়ালার মত মানুষের ভাল মন্দ করার ক্ষমতা রাখেন, অলি আওলিয়ারা কবরে জীবিত আছেন, অলি আওলিয়ারা মরার পর ও বিভিন্ন প্রকারে উপকার পেৌছায়, অলি আওলিয়ারা কবরে কাছ ফরিয়াদ করলে শুনতে পান, মাজারে ওরস করাকে ইবাদাত মনে করে, মাজারে মান্নত করে, মাজারে জবেহ করে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ওফাত ও জম্ম দিন কে তৃতীয় ঈদ মনে করে, কবরে সিজদাহ করে, মাধ্যম ছাড়া আল্লাহ পর্যান্ত পৌছান যায় না, মিলাদ কিয়াম করে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কবরে আমাদের মতই জীবিত আছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ নুরের তৈরি, রাসূলুল্লাহ ﷺ কবর জিয়ারত ওয়াজিব বা এর কাছাকাছি মনে করা, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কবরের মাটি আরস কুরছি ও লওহে মাহফুজ তেকে শ্রেষ্ট মনে করা, রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বপনের মতই জীবিত অবস্থায় দেখা যায়, অলিদের কাশফ হয় (কাশফ কে অলিদের নিজস্ব ক্ষমতা মনে করা), আল্লাহর নুর থেকে নবী সৃষ্টি, রাসূলুল্লাহ ﷺ না হলে পৃথিবী সৃষ্টি হত না, অলি আওলিয়াদের কিরামত ইচ্ছাধীন মনে করা, অলি আওলিয়াদের কবরের নিকট বরকতের জন্য দোয়া করা, অলি আওলিয়াদের কবরের নিকট গিয়ে কোন কিছু চাওয়া, নবী বা অলি আওলিয়াদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান থেকে বরকত লাভ করা, তাবিজ কবজে বিশ্বাসি, দোয়ায় মৃত নবী, পীর ও অলি আওলিয়াদের অছিলা দেওয়া, স্বন্পকে শরিয়তের দলিল মনে করেনা কিন্তু প্রমান হিসাবে ব্যবহার করে, কলবের তাওয়াজ্জু দানে বা নেক নজরে বিশ্বাসি, এলম সিনা থেকে সিনার মধ্যমে চলে আসছে, পীর ধরা ওয়াজিব মনে করে। পীর ও অলি আওলিয়াদের ছাড়া সংশোধন হয় না, অহেদাতুল অজুদে বিশ্বাসি, পীর বা শায়েকের ধ্যান করে, বিপদে পীর বা শায়েকদের আহবান করে, গাউস, কুতুব, আবদাল, নকিব ইত্যাদিতে বিশ্বাসি, সংশোধন জন্য যে কোন একটা তরিকা ধরতে হবে।আমাদের দেশে আটরশী, মাইজভান্ডারী, দেওয়ানবাগী, সুরেস্মরী, রাজারবাগীসহ অনেক পীর ও তাদের মুরিদগন উপরের আকিদাই পোষণ করে। তবে চরমোনাই, শর্শিনা ও ফুরফরার একাংশ উপরের আকিদা থেকে কিছুটা মুক্ত। এক কথায় বলা যায় যারাই পীর ধরবেন, তারাই শিরকি বিদআতে ডুববেন। উপমহাদেশে শিরকি বিস্তারে সুফিবাদ অনেকাংশেই দায়ি।
৭। মাধ্যম ধরার ভুল ব্যাখ্যা
অনেকেই আল্লাহকে পেতে মাধ্যম সাব্যস্ত করতে গিয়ে সীমালংঘন করেছে। মাধ্যমের ভুল ব্যাখ্যা করে হাজার হাজার মানুষকে পথভ্রষ্ট করছে। তাদের যুক্তি, মাধ্যম ছাড়া আল্লাহ পর্যান্ত পৌছান যাবেনা। পুল পারাপারের জন্য ধরনির দরকার, বড় বড় অফিসার বা মন্ত্রীদের কাছে সরাসরি যাওয়া যাবে না, পিএ বা সহকারির মাধ্যম দরকার। বিচরকের কাছে সরাসরি যাওয়া যাবে না, উকিল দরকার। ঠিক তেমনি ভাবে, রাসূল ﷺ এবং অন্যান্য নবী ও নেক্কার ব্যক্তিবর্গকে মাধ্যম না মানলে আল্লাহ তায়ালা তাদের কারো কোন আমল কবুল করবেননা। যেহেতু রাসূল ﷺ এবং অন্যান্য নবী জীবিত নেই তাই কোন না কোন অলী বা নেক্কার ব্যক্তিবর্গকে মাধ্যম মানতে হবে।
তাদের এই যুক্তির অসারতা দেখুন, বড় বড় অফিসার বা মন্ত্রীবর্গ সাধারনত সকল মানূষ সম্পর্কে সমান জ্ঞান রাখে না। তাই তাদের জ্ঞান দান করার জন্য মাধ্যম দরকার। জ্ঞান সল্পতার জন্য সহকারি রাখেন, তারই মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলেন। আমার আল্লাহ কি জ্ঞানের কোন সল্পতা আছে? (নাউজুবিল্লাহ)। মনে করলে ঈমান থাকিনা। আল্লাহ আলেমুল গায়েব, তিনি আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকে যেমন চেনেন, ঠিক তেমনি অজপাড়া গায়ের ভিক্ষুকটিকে চেনেন। ভাল করে ভাবেন, দুনিয়ার বিচারক ঘুস খায়, দর্নীতি পনায়ণ, স্বজন প্রীতি করে, সুপারিশ গ্রহন করে। আর এই সকল ফায়দা লোটার জন্য মাধ্যম দরকার হয়। আমার আল্লাহ কি ন্যয় পরায়ণ নয়? (নাউজুবিল্লাহ)। আল্লাহ কি সব বিচারকের চাইতে বড় বিচারকের নন? (সুরা তীন:৮)। তাহলে মাধ্যম কেন? বিচারক যদি ঘটনার সময় উপস্থিত থাকেন তবে উকিলে প্রয়োজন কিসের? এই সকল যুক্তি হল অজ্ঞ মানুষ ঠকানোর যুক্তি।
অথচ আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন:
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِى عَنِّى فَإِنِّى قَرِيبٌۖ أُجِيبُ دَعۡوَةَ ٱلدَّاعِ إِذَا دَعَانِۖ فَلۡيَسۡتَجِيبُواْ لِى وَلۡيُؤۡمِنُواْ بِى لَعَلَّهُمۡ يَرۡشُدُونَ
আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে। সুরব বাকারা : ১৮৬
আল্লাহ তা’আলার এ বাণীর পরিবর্তে যারা যুক্তিদেয় তাদের বিশ্বাসের সংগতি কতটুকু? এ আয়াত ইঙ্গিত করছে যে, আল্লাহর কাছে পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে তার উপর সঠিকভাবে ঈমান আনা এবং তার প্রদর্শিত পথে ইবাদাত করা। এ দুটি ছাড়া আল্লাহ সন্তষ্টির আর তৃতিয় মাধ্যম নেই। অনেকে আবার নানন অজুহাত দেখিয়ে বলে অলীরা শুধু অসিলা মাত্র। কুরআনের সুরা মায়েদার ৩৫ নম্বর আয়াত উল্লখ করে বলেন স্বয়ং আল্লাহই অসিলা ধরতে বলেছেন। দেখুন আল্লাহ কি বলেন:
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱبۡتَغُوٓاْ إِلَيۡهِ ٱلۡوَسِيلَةَ وَجَـٰهِدُواْ فِى سَبِيلِهِۦ لَعَلَّڪُمۡ تُفۡلِحُونَ (٣٥):
হে মুমিনগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং তার নৈকট্যের (অসিলা) অনুসন্ধান কর, আর তার রাস্তায় জিহাদ কর, যাতে তোমরা সফল হও। সূরা মায়িদা : ৩৫
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে অসীলা শব্দের উল্লেখ করেছেন এবং তা দ্বারা পূর্ণ আনুগত্য করাকেই বুঝিয়েছেন কারণ এটা (অর্থাৎ আল্লাহ ও তার রাসূলের পূর্ণ আনুগত্যই) একমাত্র মাধ্যম যা তাঁর নৈকট্য দিতে পারে এবং তার রহমতের দরজা খুলতে ও জান্নাতে প্রবেশ করাতে সক্ষম।
যারা নেককার বান্দাদেরকে অসীলা হিসাবে গ্রহন করে তাদেইর আল্লাহ তায়ালা পরিহাস করছেন কারণ তারা যে সকল নেককার বান্দাদেরকে অসীলা বানাচ্ছে তারা নিজেরাই অসীলা তথা আল্লাহর অনুগত্যের দ্বারা নৈকট্য হাসিলের অধিক মুখাপেক্ষী।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ یَبۡتَغُوۡنَ اِلٰی رَبِّہِمُ الۡوَسِیۡلَۃَ اَیُّہُمۡ اَقۡرَبُ وَیَرۡجُوۡنَ رَحۡمَتَہٗ وَیَخَافُوۡنَ عَذَابَہٗ ؕ اِنَّ عَذَابَ رَبِّکَ کَانَ مَحۡذُوۡرًا
তারা যাদেরকে ডাকে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের কাছে নৈকট্যের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে তাঁর নিকটতর? আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয় তোমার রবের আযাব ভীতিকর। সূরা আল-ইসরা : ৫৭
অনেকে আবার আল্লাহর সাহায্য সহযোগিতা জন্য স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম মানার চেষ্টা করে। কঠিন বিপদে পড়ে যখন কুল কিনারা পায় না, তখন অজ্ঞ শ্রেণীর মানুষ ছোটে মাজার পানে মাধ্যম ধরার খোজে। এ ব্যাপারটা আরও অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়। পরিতাপের বিষয় যে, অনেক মুসলমানই এ সম্পর্কে পরিষ্কার কোন ধারণা রাখেনা। ফলে তারা সরাসরি শিরকি কাজে লিপ্ত হচ্ছে এবং আল্লাহর সাহায্য সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ۖ وَكَانَ حَقًّا عَلَيۡنَا نَصۡرُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
আর মু’মিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। সূরা আর-রূম : ৪৭
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِن تَنصُرُواْ ٱللَّهَ يَنصُرۡكُمۡ وَيُثَبِّتۡ أَقۡدَامَكُمۡ
হে ঈমান গ্রহণকারীগণ, তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করে দিবেন৷ । সূরা মুহাম্মাদ : ৭
বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, এ সমস্ত অজ্ঞ লোকেরা বিভিন্ন পীর বা অলীদের কে মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেছে তাদের সত্তার উপর ভরসা করে নেক আমল করা থেকে বিরত থাকছে। অথচ যিনি সমস্ত মানব সন্তানের নেতা, সেই রাসূল ﷺ কে সম্বোধন করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
قُل لَّآ أَمۡلِكُ لِنَفۡسِى نَفۡعً۬ا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُۚ وَلَوۡ كُنتُ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ لَٱسۡتَڪۡثَرۡتُ مِنَ ٱلۡخَيۡرِ وَمَا مَسَّنِىَ ٱلسُّوٓءُۚ إِنۡ أَنَا۟ إِلَّا نَذِيرٌ۬ وَبَشِيرٌ۬ لِّقَوۡمٍ۬ يُؤۡمِنُونَ
হে মুহাম্মাদ ! তাদেরকে বলো, নিজের জন্য লাভ -ক্ষতির কোন ইখতিয়ার আমার নেই৷ একমাত্র আল্লাহই যা কিছু চান তাই হয়৷ আর যদি আমি গায়েবের খবর জানতাম, তাহলে নিজের জন্যে অনেক ফায়দা হাসিল করতে পারতাম এবং কখনো আমার কোন ক্ষতি হতো না৷ আমি তো যারা আমার কথা মেনে নেয় তাদের জন্য নিছক একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা মাত্র৷ সূরা আরাফ : ১৮৮
সুতারং আল্লাহ নৈকট্য লভের প্রধান উপকরন হল ঈমান ও কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক নেক আমল। যদি মনে করে থাকি আত্মিয়তার সম্পর্ক তবে মারাত্ত্বক ভুল করবেন। একটু লক্ষ করুন, ইউসুফ (আ.) এর পিতা ইয়াকুব (আ.)। ইয়াকুব (আ.) এর পিতা ইছহাক (আ.)। ইছহাক (আ.) এর পিতা ইব্রাহীম (আ.)। এই চার জন সম্মানিত নবি একত্রে মিলে কি তাদের পূর্ব পুরুষ ইব্রাহীম (আ.) এর পিতা আজর কে জান্নাতে নিতে পারবেন? নিশ্চয়ই না। আমাদের প্রিয় নবি ﷺ এর চাচা, আলীর (রা.) বাবা, ফাতিমার (রা.) শশুর, হাসান হোসেনের (রা.) দাদা, আবু তালিবকে, কি সকলে মিলেও জান্নাতের জন্য সুপারিশকরতে পারবেন? কঠিন প্রশ্ন, এবার একটু ভাবেন আপনার শয়েখ বা পীরের ক্ষমতা কত টুকু?
অনুরুপভাবে রাসূল ﷺ তাঁর কলিজার টুকরা কন্যাকে ফাতিমা (রা.) কে আমল করার জন্য আহবান করেছেন। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়- “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও, সূরা আশ শুয়ারা-২১৪। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ সাফা পর্বতের উপর দাঁড়িয়ে বললেন-
يَا فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ يَا صَفِيَّةُ بِنْتَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لاَ أَمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا سَلُونِي مِنْ مَالِي مَا شِئْتُمْ
হে ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ! হে সাফিয়্যাহ বিনতু আবদুল মুত্তালিব! হে আবদুল মুক্তালিবের বংশধর। আল্লাহর আযাব থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করার আমার কোন ক্ষমতা নেই। তোমরা আমার কাছে আমার সম্পদের যা খুশি চাও। সহিহ মুসলিম : ২০৫
তবে হ্যা, ঈমান এনে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করলেই আল্লাহ সন্তষ্টি পাওয়া যাবে। এরপর চলার পথে ভুলত্রুটি হওয়া সাভাবিক ব্যপার। এই পাপগুলি আল্লাহর একান্ত ইচ্ছা মাপ করা বা না করা। এখানেই সুপারিশ দরকার। তখই নবী রাসুলগন, কুরআন, সিয়াম, নেক বান্দাসহ অন্যান্যদের সুপারিশ গ্রহন করা হবে, যাদের কথা সহিহ হাদিস সমুহে উল্লেখ আছে।আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُلۡ هَلۡ نُنَبِّئُكُم بِٱلۡأَخۡسَرِينَ أَعۡمَـٰلاً (١٠٣) ٱلَّذِينَ ضَلَّ سَعۡيُہُمۡ فِى ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَهُمۡ يَحۡسَبُونَ أَنَّہُمۡ يُحۡسِنُونَ صُنۡعًا (١٠٤) أُوْلَـٰٓٮِٕكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بِـَٔايَـٰتِ رَبِّهِمۡ وَلِقَآٮِٕهِۦ فَحَبِطَتۡ أَعۡمَـٰلُهُمۡ فَلَا نُقِيمُ لَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَـٰمَةِ وَزۡنً۬ا (١٠٥)
বল, আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত? দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে! তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না। সূরা কাহফ : ১০৩-১০৫
৮। অজ্ঞ লোক কর্তৃক শিরক মিশ্রিত দ্বীন প্রচার:
উপমহাদেশে সাধারনত মুঘোলদের মাধ্যমে ইসলামের প্রসার ঘটে। যদিও তাদের আগে ছিটাফোটা ইসলাম বৃদ্ধমান ছিল। মুঘোলদের সময়ে সুফিদের মাধ্যমে ও দ্বীন প্রচার প্রসার লাভকরে সবচেয়ে বেশী। কিন্ত অধিকাংশ সুফিগন দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। সুফিদের দ্বীনের প্রতি খুবই মহব্বত ছিল ইবাদাত বন্দেগিতে তারা খুবই একনিষ্ঠ ছিল। ইবাদাতের জন্য কঠোর সাধনায় জীবন দানেও কুন্ঠাবোধ করতনা কিন্তু ধর্মীয় জ্ঞান বা ইলম কম থাকার কারণে সঠিকভাবে সুন্নাহ মাফিক ইবাদাতটি সম্পন্ন করতে পারতনা। সেই সময়কার সুফিদের প্রচারিত ইসলামে শিরকি কাজ দেখা যায়। তাদের আবিস্কৃত শিরকি ও বিদাতি আমল আজও মুসলিম সমাজে প্রচলিত আছে। ইবাদতের নামে গান করা, মাযার তৈরি করা, পীর বা অলীদের জম্ম ও মৃত্যু বার্ষিকিতে মাজারে ঊরশ পালন করা।
সৌদী আরবের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন (র.) জেদ্দায় এক সম্মেলনে বলেন, ইসলাম প্রচার কারি দায়ীদের ছয়টি গুন থাকতে হবে। যথা-
১। আল্লাহ পথের দায়ীরা যে দিকে মানুষকে ডাকবে সে সম্পর্কে ইলম তথা জ্ঞান থাকা।
২। দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করতে হবে।
৩। হিকমত বা প্রজ্ঞা।
৪। দায়ীকে উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান হতে হবে।
৫। দায়ীকে জড়তা ও প্রতিবন্ধকতা পরিহার করা।
৬। দায়ীর অন্তর বিরোধীদের প্রতি উদার হতে হবে।
এখানে তিনি দ্বীন প্রচারকারি আল্লাহ পথের দায়ীদের প্রথম গুন হল দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। সকলেই জানে তথ্য, থাকলে আদান প্রদান করা যায়। প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে উত্তর দেওয়া যায়। আর অজানা তথ্য কিভাবে দিবে? ইসলামের মুল প্রতিপাদ্য বিষয় হল কুরআন হাদিসের জ্ঞান। একজন দায়ী কি প্রচার করবে তার সিলেভাস কি ইসলাম তা নির্ধানর করেছে।মহান আল্লাহ তায়ালা বলে
يَـٰٓأَيُّہَا ٱلرَّسُولُ بَلِّغۡ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَۖ وَإِن لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَهُ ۥۚ
হে রসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার কর, যদি না কর তাহলে তুমি তাঁর বার্তা পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করলে না। সূরা মায়িদা : ৬৭
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُلۡ ہٰذِہٖ سَبِیۡلِیۡۤ اَدۡعُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ ۟ؔ عَلٰی بَصِیۡرَۃٍ اَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِیۡ ؕ وَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ وَمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ
বল, ‘এটা আমার পথ। আমি জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও। আর আল্লাহ পবিত্র মহান এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’। সুরা ইউসুফ : ১০৮
কাজেই পৌছাতে হবে, ‘ওহী’ যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে। আর এ দাওয়াতের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রথম শর্ত হলো কুরআন হাদিসের সহিহ জ্ঞান থাকা। আমি যে কাজ করার বা বর্জন করার দাওয়াত দিচ্ছি তা সত্যিই ইসলামের নির্দেশ কিনা তা জানতে হবে। সাধারন বিবেক ও জ্ঞান দ্বারা সকল মানুষ বুঝতে পারে কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায়, কোনটি ভাল কোনটি মন্দ। যেমন- অন্যের সম্পদ জোর করে দখল করা। কাউকে বিনা কারণে খুন করা। চুরি করা, ডাকাতি করা, মারামারি করা, নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করা, মাদকা দ্রব্য গ্রহন করা অন্যায় কে না জানে। এরুপ অগণিত অন্যায় কাজকে অন্যায় বলে জানতে বেশি জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। অনুরূপভাবে মানুষকে বিপদে সাহায্য করা, সান্ত্বনা দেওয়া, অন্যের অধিকারে হস্থক্ষেপ না করা, সৃষ্টির সেবা করা, দরিদ্রকে দান করা, রাস্তা-ঘাট, স্কুল কলেজ নির্মান করা ইত্যাদি ভাল কাজ বলে সবাই বুঝি। কিন্তু ইসলামি ধর্মে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যে সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান না থাকলে মানুষ কে সত্যিকার মুসলিম হিসাবে তৈরি করতে পারবনা। যেমন- তাওহীদের জ্ঞান, শিরকের জ্ঞান, আকিদার জ্ঞার, ফিকহের জ্ঞান ইত্যাদি। এ স্পষ্ট জ্ঞান হলো ওহীনির্ভর জ্ঞান বা কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُلۡ إِنَّمَآ أُنذِرُڪُم بِٱلۡوَحۡىِۚ وَلَا يَسۡمَعُ ٱلصُّمُّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا مَا يُنذَرُونَ
বল, ‘আমি তো কেবল ওহী দ্বারাই তোমাদেরকে সতর্ক করি’। কিন্তু যারা বধির তাদেরকে যখন সতর্ক করা হয়, তখন তারা সে আহবান শোনে না। সূরা আম্বিয়া : ৪৫
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِنۡ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّ وَمَآ أَنَا۟ إِلَّا نَذِيرٌ۬ مُّبِينٌ۬
আমি তো কেবল সেই অহীর অনুসরণ করি যা আমার কাছে পাঠানো হয় এবং আমি সুস্পষ্ট সাবধানকারী ছাড়া আর কিছুই নই৷ সুরা আহকাফ : ৯
এ জন্য দাওয়াতের দায়িত্ব পালনকারীকে কুরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্টরূপে জানতে হবে, তিনি যে কাজ করতে বা বর্জন করতে দাওয়াত দিচ্ছেন তার শরিয়তি বিধান কি? উক্ত কাজ পালন বা বর্জনের দাওয়াতের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো পদ্ধতি কি? কাজটি সৎকর্ম হলে তা ফরজ, ওয়াজিব, মুসতাহাব কোন পর্যায়ের তা সম্পর্কে স্পষ্ট কোরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে হবে। ওহীর স্পষ্ট নির্দেশনা ব্যতীত সাধারণ ধারণা, আবেগ, আন্দাজ ইত্যাদির ভিত্তিতে কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম বলতে কোরআনুল কারিমে নিষেধ করা হয়েছে। পরিস্কার জানিয়ে দিচ্ছে, হালাল ও হারাম করার অধিকার আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই ।মহান আল্লাহ ইরাশাদ করেন-
وَلَا تَقُولُواْ لِمَا تَصِفُ أَلۡسِنَتُڪُمُ ٱلۡكَذِبَ هَـٰذَا حَلَـٰلٌ۬ وَهَـٰذَا حَرَامٌ۬ لِّتَفۡتَرُواْ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَفۡتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَ لَا يُفۡلِحُونَ (١١٦)
আর তোমাদের জিহবা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না। সূরা নাহল : ১১৬
দায়ী ও মুবাল্লিগকে অবশ্যই সর্বদা বেশি বেশি কোরআন ও হাদিস, তাফসির, ফিকাহ, ও অন্যান্য ইসলামি গ্রন্থ অধ্যায়ন করতে হবে। কোরআন-হাদিস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আলেমদের রচিত গ্রন্থদি পড়ে দীনকে জানার চেষ্টা করা কঠিন অন্যায় এবং কুরআন হাদিসের প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন। মহান আল্লাহ কুরআনকে সকল মানুষের হেদায়েতরূপে প্রেরণ করেছেন। তিনি তা বুঝা সহজ করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতের জন্য তাঁর মহান সুন্নাত ও হাদিস রেখে গিয়েছেন। এগুলির সার্বক্ষণিক অধ্যায়ন মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত, শ্রেষ্ঠতম জিকির ও দাওয়াতের প্রধান হাতিয়ার।
বর্তমান বাস্তবতার দিকে লক্ষ্য করলে আমরা সহজেই দেখতে পাই, আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে যারা ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছে তারা নিজেরাই ইসলাম সম্পর্কে ভীষন অজ্ঞ। জাহেল বা অজ্ঞ লোকেরা মনে করছে দিন প্রচার করছে অথচ তারাই দ্বীনের বারটা বাজাচ্ছে। বিশেষ করে আক্বীদার ক্ষেত্রে একেবারেই অজ্ঞ বা ভুল আকীদায় বিশ্বাসী মানুষের প্রচারিত দ্বীনে শিরকের মহা উত্সব থাকা স্বাভাবিক।
৯। শিরক মিশ্রিত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
শিরকের অন্যতম কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নানা মুখি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত। এমন নানা মুখি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠান পৃথিবীতে আর কোথাও আছে কিনা জানা নেই। এখানে দশ থেকে পরেন মুখি শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও মূলত চারটি মাধ্যমকে প্রধান করে দেখা হয়। যথা––
১। সাধারন শিক্ষা পদ্দতি
১। আলিয়া শিক্ষা পদ্দতি
১। কওমিয়া শিক্ষা পদ্দতি
১। ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা পদ্দতি
সাধারন শিক্ষা পদ্দতি বলতে বুঝি স্কুল কলেজের গতানুগতিক শিক্ষা। এ শিক্ষা পদ্দতির প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় নাম মাত্র বাধ্যতামুলক ইসলামি শিক্ষা চালু থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় ইসলামি শিক্ষা নেই। বাকি বিষয়গুলি শিরক কাজের যে ধানরা দেয়, তার প্রতিরোধের মত শিক্ষা এই বইয়ে নাই। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলিতে সাধরনত পাচাত্যের সিলেভাস অনুসরন করা হয়। এখানে ধর্মিয় শিক্ষার কোন বালাই নেই, শিরক সম্পর্কে জ্ঞান দান তো অনেক দুরের কথা। আলিয়া মাদ্রাসায় ইসলামি শিক্ষার পরিধি সাধারন স্কুল কলেজ থেকে একটু বেশী হলেও শিক্ষার মান তেমন ভাল না। দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে আমরা কওমি মাদ্রাসাকে বুঝে থাকি। আলেম বলতেও সেখান থেকে পাশ করা কেউ বুঝে থাকি। অবশ্য ইহার বাহিতে ভাল ভাল ইসলামিক স্কোয়ালার বাহির হচ্ছে। এই সকল মাদ্রাস যেখান থেকে আলেম বাহির হয়, তাহাদের কি শিরক মিশ্রিত দ্বীন শেখান হয়? প্রথমে এই সকল মাদ্রাসার সিলেভাজগুলি একটু পর্যালোচনা করি। তারা কি পড়ে মাওলানা হচ্ছেন, মুফতি হচ্ছেন, মুফাস্সিরে কুরআন হচ্ছেন।
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যান্ত পড়ান হয়-
ক। আল কুরআন : কুরআন সুন্দর করে পড়তে শেখান হয়।
খ। ফিকাহ : বেহেশতী জিওর পড়ান হয় ফিকাহে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের জন্য।
গ। উর্দূ : উর্দূ কায়দা ও উর্দূ পহেলী, উর্দূ দুসরী পড়ান হয়।
ঘ। ফার্সী : ফার্সী ব্যাকরণ ও ফার্সী পহেলী, ফার্সী সাহিত্য পড়ান হয়।
ষষ্ঠ (মিজান) থেকে দশম (শরহেজামী) জামাতে পর্যান্ত পড়ান হয় :
ক। আল কুরআন : কুআনের অর্থ, শানে নুযুল ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা, আরবী ব্যাকরণ এবং সম্বলিত কিতাব।
খ। ফিকাহ : মালাবুদ্দা মিনহু, মুখতাসারুল কুদুরী, নুরুল আনোয়ার, শরহুল বিকায়াহ, হেদায়া ইত্যাদি পড়ান হয়।
গ। উর্দূ : উর্দূ কি তেসরী ও উর্দূ সাহিত্য পড়ান হয়।
ঘ। ফার্সী : হেকায়াতে লতীফ, মসনবী রুমি এবং গুলিস্তসহ ফার্সী সাহিত্য সম্বলিত কিতাব।
এখানে উল্লেখ যে, ইদানিং কিছু কিছু মাদ্রাসায় প্রাথমিক পর্যায় বাংলা ও ইংরেজি পড়ানোর চেষ্টা করছে। ষষ্ঠ (মিজান) থেকে আবার বাংলা ও ইংরেজি পড়ান সিলেভাসে রাখেনি।
এছাড়া ও স্নাতকোত্তর (দাওরায়ে হাদিস) শ্রেণীতে কুতুবুল সিত্তাহসহ অনেকগুলব হাদিস পড়ান হয়। তারপর পড়ান হয় আকীদার বিষয়, বিভিন্ন তাফসীর, উচ্চ পর্যায়ে উসুলে ফিকাহ, উচ্চ পর্যায়ে আরবী কাব্য সাহিত্যে ইত্যাদি।
সিলেভাজগুলি পর্যালোচনা করে অনেকগুলি প্রশ্ন জম্ম নিয়ছে যার কোন সদ উত্তর খুজে পাইনি।
ক. মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্বেও, বাংল বাদ দিয়ে উর্দূ এবং ফার্সী ব্যাকারণ, কবিতা, সাহিত্য সম্বলিত কিতাব পড়ানোর যুক্তিকতা কতটুকু?
খ। যদি উর্দূ এবং ফার্সী ভাষা শিক্ষা করি, তবে আধুনিক কালের আন্তরজাতীক ভাষা ইংরেজী শিখতে বাধা কোথায়?
গ। উর্দূ এবং ফার্সী ব্যাকারণ, কবিতা, সাহিত্য সম্বলিত কিতাব না পড়িয়ে আধুনিক বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি, ভূগোল, ইতিহাস, সমকালিন অর্থনীতি ইত্যাদি পড়ালে সমস্যা কোথায়?
ঘ। হাদিস থেকেই ফিকাহ তৈরি হয়, হাদিস সম্পর্কে যারা গভির জ্ঞানের অধিকারি তারাই কেবল ফিকাহ রচনা করতে পানের। পৃথিবীর কোন ফিকাহবিদ হাদিস গ্রন্থ লিখেছেন প্রমান পাওয়া যায় না। তাহলে প্রথম দশ বছরে শুধু ফিকাহ কেন?
আফগান ফেরত এক মুজাহীদ মাওলানা আব্দুল জব্বার যিনি কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারি, দেশে ফিরে কোন কাজ করতে না পেরে বলেছিলেন, “আমি কর্মহীন ধর্ম শিখেছি আর সাধারন স্কুল কলেজে ধর্মহীন কর্ম শিখান হয়”।
আমার উদ্দেশ্য ছিল আমদের দ্বীনি প্রতিষ্ঠান শিরক মিশ্রিত দ্বীন শেখান তার একটা ধারনা দেওয়া। সরাসরি বললে হয়তো কেহই মানবে না তাই সামান্য পর্যালোচনা।প্রত্যেকটি কওমি মাদ্রাসায় “বেহেশতী জিওর” পড়ান হয় যা মুলত ফিকাহের কিতাব কিন্তু এটি তাবিজেরও কিতার। যেহেতু এই তাবিজের কিতারটি মাদ্রাসায় পড়ান হয় তাহলে প্রশ্ন হল, তাবিজের হুকুম কি?
সৌদি আলেমদের লেখা, ‘আকীদার মানদণ্ডে তাবীজ’, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ-কবচের বিধান’, ‘শারঈ মানদণ্ডে তাবীয-কবচ’ এবং ‘ঝাড়-ফুঁক ভ্রান্ত তাবিজ-কবচ’ ইত্যাদি পড়ে বুঝেছি ইহা ছোট শিরক আর এর উপর তাওয়াক্কুল করলে বড় শিরক।
কওমি মাদ্রাসার সিলেভাজ ভুক্ত কিতাব “ইসলামি আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ” কিতাবে বলা হয়েছে, “কুরআনের আয়াত, আল্লাহ নাম ও মাসনুন দোয়া দ্বারা ঝাড়-ফুক জায়েজ। আর যা দ্বারা ঝাড়-ফুক জায়েজ তা দ্বারা তাবিজ-কবজ ব্যবহার করাও জায়েজ”। তাদের রেফারেন্স হল, আদ্বুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) কর্তৃক অবুঝ বাচ্চাদের কুরআন দিয়ে তাবিজ লিখে দেওয়া। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা)।
কিন্তু এ ব্যাপারে দেওবন্দী ও সালাফি সকল আলেমই একমত যে, নিম্ম লিখিত কারণে তাবিজ-কবজ ঝাড়-ফুক জায়েজ নাই।
ক। যে কালামের ভাষা বুঝা যায়না তা দ্বারা কোন প্রকার তাবিজ-কবজ ঝাড়-ফুক জায়েজ নাই।
খ। সংখ্যা সম্ভলিত তাবিজ-কবজ জায়েজ নাই কারণ ইহা অনেকটা জ্যেতিষীদের রাশি এবং ভাগ্য গনণার মত। তাছাড়া ইহার আবিস্কারক হল গ্রীসরা যা পরে আরবদের মাঝে প্রসার লাভকরে। ইসলামের মুল উত্স কুরআন হাদিসে এর অস্তিস্থ খুজেও পাবে না।
গ। শিরক যুক্ত কালাম বা আল্লাহ ছাড়া অন্যের আশ্রায় খোজা। যেমন: ইয়া ফিরাউন, ইয়া হামান, ইয়া কিতমির (জিনের সর্দার) ইত্যাদি লিখে তাবিজ দেওয়া।
ঘ। নকসা সম্ভলিত তাবিজ। যেমন: নবী সা. এর জুতার নকসা, (আলির রাদি:) তলোযারের নকসা, কাবার নকসা ইত্যাদি।
ঙ। আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় তাবিজ কবজ প্রদান করা।
চ। যদি কেউ এ বিশ্বাস করে যে, তাবিজ-কবজ ঝাড়-ফুকের নিজস্ব ক্ষমতা আছে তবে শিরক এবং নাজায়েজ।
“বেহেশতী জিওর” কিতারটির তৃতীয় বলিউমের নবম খন্ডে, অনেক তাবিজের উল্লেখ আছে, এখানে সংখ্যার তাবিজ আছে, নকসার তাবিজ আছে, এমন কালামের তাবিজ যার ভাষা বুঝা। তাহলে তো নিজেদের ফতোয়ায়ে নিজেরাই শিরক কাজ করছি।
ফার্সী যে সকল কবিতার বই পড়ান হয় তার মুলভিত্তি হল, সুফিবাদ। শাইখুল হাদিস আজিজুল হক সাহেব (র.) মসনবী রুমি বাংলায় অনুবাদ করছেন, সাধারন কোন লোক ইহা পড়লে বিভ্রান্ত হবেই। এখানে হোসাইন বিন মানসুর হাল্লাজের আল্লাহতে বিলীন হওয়ার কথা আছে। অহহেদাতুল অজুদের কথা আছে। এত মাত্র দুটি উদাহরন দিলাম, ঠিক এভাবে দ্বীনি প্রতিষ্ঠান শিরক মিশ্রিত দ্বীন শেখান হয়।