মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
১. উম্মুল জননী আয়িশা (রা.) ও হাফসা (রা.) এর প্রতি মিথ্যা আপাবাদ :
শিয়ারা বিশেষ করে রাফিদি গোষ্ঠী উম্মুল মুমিনীনগণের প্রতি অনেক মিথ্যা ও অশ্লীল অপবাদ আরোপ করেছে, বিশেষত আয়িশা (রা.) ও হাফসা (রা.)-কে লক্ষ্য করে। এগুলোর পেছনে তাদের নিজস্ব আকিদা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে, যা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। শিয়াদের কিছু গ্রন্থ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাকে বিভিন্নভাবে দোষারোপ করে থাকেন, যদিও শিয়াদের মধ্যেও এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। নিচে কিছু প্রসিদ্ধ শিয়া গ্রন্থ থেকে দলিলসহ তাদের অপবাদ তুলে ধরা হলো-
২. আয়িশা (রা.) আলি (রা.) এর বিরোধিতা করেছিলেন :
শিয়াদের কিছু মতে, আলি (রা.)-এর শাসনকালে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তালহা ও যুবাইর (রা.)-কে নিয়ে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা শিয়াদের কাছে একটি গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচিত। তাদের দাবি আয়িশা (রা.) নবি ﷺ এর পরে ধর্মদ্রোহিতা করেছিলেন। তাদের কিতাবে উল্লেখ আছে-
إِنَّ عَائِشَةَ ارْتَدَّتْ بَعْدَ النَّبِيِّ، وَخَرَجَتْ تُقَاتِلُ وَصِيَّهُ عَلِيًّا…
“নিশ্চয় আয়িশা নবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওফাতের পর ধর্মত্যাগ করে এবং তাঁর ওসী আলি (আ.) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বের হয়। ক্বাযী নু‘মান আল-মাগরিবী, শরহুল আখবার ফি ফাযায়িলিল আহলিল বায়ত, তৃতীয় খণ্ড, পৃ.-১০৯।
৩. নবিজি (সা.) এর জীবনে অশান্তি সৃষ্টি :
শিয়াদের কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, আয়িশা (রা.) নবিজি (সা.)-এর পরিবারে বিবাদ সৃষ্টি করেছিলেন এবং বিশেষত হাফসা (রা.)-এর সাথে মিলে নবিজির ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। নবি ﷺ তাকে তালাক দিয়েছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)। তাদের লেখা গ্রন্থে এমনই আছেঅ
إِنَّ النَّبِيَّ أَمَرَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ أَنْ يُطَلِّقَا ابْنَتَيْهِمَا مِنْ بَعْدِهِ.
নবি ﷺ আবু বকর ও উমরকে আদেশ করেছিলেন যেন তারা তাঁর মৃত্যুর পর তাদের কন্যাদ্বয়কে (আয়িশা ও হাফসা) তালাক দেয়। মুহাম্মাদ বাকির আল-মাজলিসী, বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ২৪১
৪. উম্মুল মুমিনীন হওয়া নিয়ে সন্দেহ:
কিছু চরমপন্থী শিয়া মতবাদে (যেমন কিছু গুলাত শিয়া) আয়িশা (রা.)-কে “উম্মুল মুমিনীন” হিসেবে স্বীকার করে না এবং তাকে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করে। উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা.) কে তারা কাফির বলে অপবাদ প্রদান করেন শিয়া আলিম নূরী তাবরসী বলেন-
إِنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ مِنْ أَعْدَاءِ أَهْلِ الْبَيْتِ، وَهِيَ كَافِرَةٌ بِذَلِكَ
“নিশ্চয়ই আয়িশা ছিল আহলুল বাইতের শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত, এবং এ কারণেই সে কাফির। নূরী তাবরসী, আল-আনওয়ার আন-নুমানিয়া, প্রথম খণ্ড, পৃ.-২৫৯
৫. উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.) ও আয়িশা (রা.) কে মুনাফিক অপবাদ প্রদান :
সূরা আত-তাহরীম তিন নম্বর আয়াতে রাসূল ﷺ এর একটি গোপন কথা স্ত্রীদের মধ্যে ফাঁস করে দেওয়ার আলোচনা রয়েছে তার ব্যাখ্যায় এ মিথ্যা অপবাদ প্রদান কর শিয়া আলেম মুহাম্মাদ ইবনু মাসআদাহ আল-আইয়াশি লিখেন-
إِنَّ حَفْصَةَ وَعَائِشَةَ تَظَاهَرَتَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، وَكُنَّ مُنَافِقَاتٍ.
“নিশ্চয় হাফসা ও আয়িশা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিরুদ্ধে একত্র হয়েছিল, এবং তারা ছিল মুনাফিক।” মুহাম্মাদ ইবনু মাসআদাহ আল-আইয়াশি, তাফসীরুল আ’ইয়াশি, তাফসীর আল-আইয়াশি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ.-১৩৪।
৬. মৃত্যু পরবর্তী শাস্তির মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী:
শিয়াদের কিছু হাদিসে দাবি করা হয় যে, নবিজি (সা.) বা ইমাম আলি (আ.) আয়িশা (রা.) এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং তাকে জাহান্নামের ভয় দেখানো হয়েছিল। এসব হাদিস শিয়াদের বানান জাল হাদিস।
৭. মিথ্যা ব্যভিচার অভিযোগে সম্পৃক্ততা :
আয়িশা (রা.) সম্পর্কে মিথ্যাও কাল্পনিক ব্যভিচারের অভিযোগ উঠলে মহান আল্লাহ তায়ালা তার পরিত্রতার পক্ষে কুরআন নাজিল করে। কিন্তু বিভ্রান্ত শিয়ারা প্রচার করে কুরআনের এ আয়াত হয়তো অন্যান্য নারী (যেমন মারিয়া কিবতীয়া) এর জন্য নাজিল হয়েছে; সুতরাং আয়শার নির্দোষিতা নিয়ে তারা দ্বিধাগ্রস্ত।
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা :
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত আয়িশা (রা.) কে ‘উম্মুল মুমিনীন’, হাদিসের প্রধান বর্ণনাকারী এবং নবিজি (সা.) এর প্রিয় স্ত্রী হিসেবে সম্মান করে। তারা জামালের যুদ্ধকে একটি ফিতনা (বিভ্রান্তি) হিসেবে দেখে, যেখানে সাহাবিদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, কিন্তু আয়িশা (রা.) এর ইচ্ছা ভালো ছিল বলে বিশ্বাস করে। যা এই বইয়ের বর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনা থেকেও জানতে পেরেছেন। অপর পক্ষে আয়িশা (রা.) বিরুদ্ধে মিথ্যাও কাল্পনিক ব্যভিচারের অভিযোগের উত্তরে মহান আল্লাহ তায়ালা তার পবিত্রতা ও পরিপূর্ণতার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা সূরা নূরের ১১ থেকে ২০, এই ১০ আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ তায়ালা আয়িশা সিদ্দীকা (রা.) প্রতি অপবাদকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন-
اِنَّ الَّذِیۡنَ جَآءُوۡ بِالۡاِفۡکِ عُصۡبَۃٌ مِّنۡکُمۡ ؕ لَا تَحۡسَبُوۡہُ شَرًّا لَّکُمۡ ؕ بَلۡ ہُوَ خَیۡرٌ لَّکُمۡ ؕ لِکُلِّ امۡرِیًٴ مِّنۡہُمۡ مَّا اکۡتَسَبَ مِنَ الۡاِثۡمِ ۚ وَالَّذِیۡ تَوَلّٰی کِبۡرَہٗ مِنۡہُمۡ لَہٗ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ
নিশ্চয়ই যারা এ (আয়িশা রা.)অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। এটাকে তোমরা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর মনে করো না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য রয়েছে, যতটুকু পাপ সে অর্জন করেছে। আর তাদের থেকে যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাআযাব। সূরা আন-নূর: ১১
আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট বলে দিয়েছে মিথ্যা অপবাদ যারা দেয় তারা কখনো মুমিন নয় বরং সে ব্যক্তি মুনাফিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তায়ালা সূরার শেষ অংশে বলেন,
﴿يَعِظُكُمُ ٱللَّهُ أَن تَعُودُواْ لِمِثۡلِهِۦٓ أَبَدًا إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ ١٧﴾
অর্থ : “আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘তোমরা যদি মুমিন হও, তবে কখনও অনুরূপ আচরণের পূনরাবৃত্তি করো না।” সূরা আন-নূর: ১৭
তাহলে বলুন কেমন দুঃসাহস দেখান সাহাবিদের দুশমন শিয়াগণ। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের প্রতি তাদের কোন সম্মানবোধ নেই বলেই শিয়ারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রিয় স্ত্রী আয়িশা সিদ্দীকা (রা.) কে অপবাদ দেয়। অথচ তিনি আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক সনদ প্রাপ্ত জান্নাতি।
উম্মুল জননী বা নবি ﷺ এর স্ত্রীদেরকে অপমান করা :
আল্লামা মুহাম্মদ বাকের আল-মজলিসী (মৃত্যু ১১১০ হিজরি) একজন প্রভাবশালী শিয়া আলেম বলেন, দায়মুক্তির ব্যাপারে আমাদের (শিয়াদের) আকিদা ও বিশ্বাস হল, আমরা আবূ বকর (রা.), উমর (রা.), উসমান (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.) এর মত চার মূর্তি থেকে মুক্ত। আমরা আরও মুক্ত আয়িশা (রা.), হাফসা (রা.), হিন্দা (রা.) ও উম্মুল হাকিম (রা.) এর মত চার নারী এবং তাদের অনুসারী ও তাদের বিভিন্ন দল-গোষ্ঠী থেকে। আর তারা হল পৃথিবীর বুকে আল্লাহর নিকৃষ্ট সৃষ্টি। আর তাদের শত্রুদের থেকে মুক্ত হওয়ার পরেই শুধু আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও ইমামদের প্রতি ঈমান পরিপূর্ণতা লাভ করবে। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, তৃতীয় খণ্ড, পৃ.-৩৪২, আল্লামা মুহাম্মদ বাকের আল-মজলিসী, ভলিউম ৮৫, ছায়া অধ্যায় ।
উম্মুল মুমিনীন বিরুদ্ধে শিয়াদের মিথ্যা ও অশ্লীল অভিযোগ
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন:
إِنَّ نِسَاءَ النَّبِيِّ (ص) خَانُوهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ”
অর্থ : নবিজির স্ত্রীরা দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর সাথে খিয়ানত করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে উমার আল-কাশশি, রিজাল আল-কাশশি, পৃ.-৫৭
এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা :
নবি ﷺ এর স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اَلنَّبِیُّ اَوۡلٰی بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ مِنۡ اَنۡفُسِہِمۡ
অর্থ : নবি মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্টতর এবং তার স্ত্রীরা তাদের মা। সূরা আহযাব : ৬
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ لَسۡتُنَّ کَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ اِنِ اتَّقَیۡتُنَّ فَلَا تَخۡضَعۡنَ بِالۡقَوۡلِ فَیَطۡمَعَ الَّذِیۡ فِیۡ قَلۡبِہٖ مَرَضٌ وَّقُلۡنَ قَوۡلًا مَّعۡرُوۡفًا ۚ
হে নবি-পত্নিগণ, তোমরা অন্য কোন নারীর মত নও। যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলবে। সূরা আল-আহযাব ৩২
উম্মুহাতুল মুমেনীনদের সম্পর্কে আয়াত নাজিল হয় :
إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذۡهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجۡسَ أَهۡلَ ٱلۡبَيۡتِ وَيُطَهِّرَكُمۡ تَطۡهِيرٗ
অর্থ : হে নবি-পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। সূরা আল-আহযাব -৩৩
নবি ﷺ এর কন্যাদের অপমান দেওয়া :
দক্ষিণ এশিয়ার (ভারত–পাকিস্তান) শিয়া সম্প্রদায় মনে করে যে নবি ﷺ এর একমাত্র জৈবিক কন্যা ছিলেন সাইয়্যেদা ফাতেমা (রা.)। বাকী তিন জন সাইয়্যেদা যাযনব (রা.), রুকাইয়া (রা.) ও উম্মে কুলসুম (রা.) কে তারা জীবিক বা দত্তক কন্যা হিসেবে অভিহিত করে। এই আকীদার ভিত্তি হিসেবে তারা কিছু শিয়া ও মুসলিম গবেষণা গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি কাজ করে। আল্লামা সাইয়্যেদ জাফর মুরতাজা, যিনি একজন সমকালীন রাফিদি শিয়া ইতিহাসবিদ ও লেখক, যিনি শিয়া দৃষ্টিকোণ থেকে সিরাতুন্নবী, সাহাবা ও আহলে বাইত সম্পর্কিত বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি নবির চার কন্যার মধ্যে চারজনই জৈবিক ছিলেন কি নাতা নিয়ে আলোচনা ও প্রমাণ উপস্থাপন করে। এক পর্যায় ফাতিমা (রা.) ছাড়া বাকি তিন জন সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে লিখেন-
بَناتُ النَّبِيِّ أَمْ رَبَائِبُهُ؟
“নবিজির কন্যারা, না কি তাঁর দত্তক কন্যারা?” আল্লামা সাইয়্যেদ জাফর মুরতাজা, গ্রন্থের নাম আল-আমেলি।
সঠিক আকিদা : আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের সকল অনুসারী কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, নবি ﷺ এর কন্যাদের সংখ্যা চারজন। সাইয়্যেদা যাযনব (রা.), রুকাইয়া (রা.) ও উম্মে কুলসুম (রা.) আও ফাতিমা (রা.)। আর অনুরূপ মত পোষণ করে সাধারণ শিয়াগণও। তবে ভারত ও পাকিস্তানের শিয়াগণ তিন কন্যাকে অস্বীকার করে। তারা আল্লাহ তায়ালার বিধানের স্পষ্ট বিরোধিতা করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
﴿ ٱدۡعُوهُمۡ لِأٓبَآئِهِمۡ هُوَ أَقۡسَطُ عِندَ ٱللَّهِ﴾
অর্থ : তোমরা তাদেরকে তাদের পিতার পরিচয়ে ডাক। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই অধিক ন্যায়সংগত। সূরা আহযাব: ৫
তাদের এই মত প্রকাশের একমাত্র কারণ হল ওসমান (রা.) এর সাথে শত্রুতা করা, যাতে তাঁর উচ্চ মর্যাদা স্বীকৃত না হয়। কারণ, নবি ﷺ তাঁর নিকট প্রথমে সাইয়্যেদা রুকাইয়া (রা.) কে বিয়ে দেন। অতঃপর যখন তিনি (রুকাইয়া) ইন্তিকাল করেন, তখন তাঁর নিকট নবি ﷺ উম্মে কুলসুম (রা.) কে বিয়ে দেন। আর এ জন্য তাকে ‘যূন্নুরাইন’ নামে ডাকা হত। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّ ﴾
অর্থ : হে নবি! তুমি তোমার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়।” সূরা আল-আহযাব: ৫৯
ফাতিমা (রা.) কে স্বংয় আল্লাহ তায়ালা আলি (রব.) সাথে বিবাহ দেন :
ফুরুউল-কাফীতে (আল-কুলাইনি) উল্লেখিত হাদিসটি বর্ণনা করেনীভ
لَمَّا زَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلِيًّا فَاطِمَةَ عَلَيْهُمَا السَّلَامُ دَخَلَ عَلَيْهَا وَهِيَ تَبْكِي، فَقَالَ لَهَا: “مَا يُبْكِيكِ؟ وَاللَّهِ لَوْ كَانَ فِي أَهْلِ بَيْتِي، قَدْرُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْ عَلِيٍّ، لَزَوَّجْتُكِ بِهِ، وَلَمْ أُزَوِّجْكِ بِهِ. بَلْ اللَّهُ هُوَ الَّذِي زَوَّجَكِ بِهِ.”
“যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আলি (আ.)-কে সাইয়্যেদা ফাতেমা (রা.) এর নিকট বিয়ে দেন, তিনি তাঁর কাছে উপস্থিত হন এবং দেখেন তিনি কাঁদছেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমার কাঁদার কারণ কী? আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি—যদি আমার পরিবারে এমন কেউ থাকত, যার যোগ্যতা আলির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে আমি তোমাকে তাকে বিয়ে দিতাম; কিন্তু আমি তোমাকে আলির নিকট বিয়ে দেইনি। বরং আল্লাহ তোমাকে আলির নিকট বিয়ে দিয়েছেন।’” মুহাম্মদ ইবনু ইয়াকুব আল-কুলাইনি, ফুরুউল-কাফী, দ্বিতীয় খণ্ড, বিবাহ অধ্যায়, পৃ.-১৫৭
আল-কুলাইনী আরও উল্লেখ করেন, “আবূ আবদিল্লাহ (আ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতেমা (আ.) রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলল, “আপনি আমাকে তুচ্ছ মোহরের বিনিময়ে বিয়ে দিয়েছেন? তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি তো তোমাকে বিয়ে দেইনি। বরং আল্লাহই তোমাকে আকাশ থেকে বিয়ে দিয়েছেন। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াকুব আল-কুলাইনি, ফুরুউল-কাফী, দ্বিতীয় খণ্ড, বিবাহ অধ্যায়, পৃ.-১৫৭