মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
মুত‘আ বিয়ে বা চুক্তি ভিত্তিক সাময়িক বিয়ে জায়েয মনে করা। শিয়াদের নিজস্ব প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ থেকে মুতআ (مُتْعَة) বা সাময়িক বিবাহ সম্পর্কে কিছু দলিলসহ উদ্ধৃতি পেশ করা হলো।
ক. ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী তার গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
عَنْ أَبِي عَبْدِ اللّٰهِ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ: لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُؤْمِنْ بِرَجْعَتِنَا، وَيَسْتَحِلُّ مُتْعَتَنَا، وَيُؤْمِنُ بِوَلَايَتِنَا.
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ (আ.) বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের রজআ (পুনরাগমন) এ বিশ্বাস রাখে না, মুতআকে হালাল মনে করে না এবং আমাদের ওলায়াত (নেতৃত্ব) এ ঈমান আনে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, পঞ্চম খণ্ড, পৃ.-৪৫২
খ. মুহাম্মদ ইবন মাসউদ আল-আইয়াশী তার গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ (ع): الْمُتْعَةُ نَزَلَ بِهَا الْقُرْآنُ وَجَرَى بِهَا السُّنَّةُ مِنْ رَسُولِ اللّٰهِ (ص)، وَهِيَ حَلَالٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
ইমাম আবু জাফর (আ.) বলেন: মুতআ সম্পর্কে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং রাসূল (সা.) এর সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। এটি কিয়ামত পর্যন্ত হালাল। মুহাম্মদ ইবন মাসউদ আল-আইয়াশী. তাফসীর আল-আইয়াশী, প্রথম খণ্ড, পৃ.-৪৬৮, সূরা আন-নিসা ২৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর
গ. তাহযীবুল আহকাম গ্রন্থে আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী উল্লেখ করেন। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ (আ.) বলেন-
إِنَّ الْمُتْعَةَ دِينِي وَدِينُ آبَائِي، وَمَنْ عَمِلَ بِهَا عَمِلَ بِدِينِنَا، وَمَنْ أَنْكَرَهَا أَنْكَرَ دِينَنَا، وَاعْتَقَدَ بِغَيْرِ دِينِنَا.
নিশ্চয় মুতআ আমার দ্বীন এবং আমার পিতৃপুরুষদের দ্বীন। যে মুতআ অনুযায়ী আমল করে সে আমাদের দ্বীন অনুযায়ী আমল করে, আর যে মুতআ অস্বীকার করে, সে আমাদের দ্বীন অস্বীকার করে এবং ভিন্ন দ্বীনে বিশ্বাস করে। আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী, আত-তাহযীব, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৫১, হাদিস : ১০৫৩
ঘ. তাহযীবুল আহকাম গ্রন্থে আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী উল্লেখ করেন। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ (আ.) বলেন-
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللّٰهِ (ع): مَا اسْتُحِلَّتِ الْمُتْعَةُ إِلَّا لِيَعْلَمَ مَنْ يَتَّقِي اللّٰهَ مِمَّنْ يَعْصِيهِ.
মুতআ হালাল করা হয়েছে এজন্যই, যাতে বোঝা যায় কে আল্লাহকে ভয় করে এবং কে তাঁকে অমান্য করে। আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী, আল-ইস্তিবসার, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪২
ঙ. আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন আলি ইবন হুসাইন ইবন বাবুয়াইহ আল-কুম্মী যিনি শেখ সাদুক নামে পরিচিত তিনি তার গ্রন্থে লিখেন। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন-
مَا مِنْ رَجُلٍ تَمَتَّعَ ثُمَّ اغْتَسَلَ إِلَّا خَلَقَ اللّٰهُ مِنْ ذَلِكَ الْمَاءِ سَبْعِينَ مَلَكاً يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
কোন ব্যক্তি মুতআ করলে এবং তারপর গোসল করলে, আল্লাহ তার বীর্য থেকে ৭০ জন ফেরেশতা সৃষ্টি করেন, যারা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাত চায়। শেখ সাদূক, মান লা ইয়াহযুরুহুল ফকিহ, তৃতীয় খণ্ড, পৃ.- ৪৬৩
চ. ইমাম আবু আব্দুল্লাহ (আ.) বলেন-
عَنْ أَبِي عَبْدِ اللّٰهِ (عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ: أُحِبُّ لِلرَّجُلِ أَنْ لَا يَخْرُجَ مِنَ الدُّنْيَا حَتَّى يَتَزَوَّجَ الْمُتْعَةَ، وَإِنْ مَرَّةً.
আমি পছন্দ করি যেন কোনো পুরুষ দুনিয়া থেকে যাওয়ার আগেই অন্তত একবার মুতআ করে নেয়। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, উসুলুল কাফী, পঞ্চম খণ্ড, পৃ.-৪৫৮
ছ. শিয়াদের অষ্টম ইমাম আলি ইবন মূসা আল-রিদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-
وَالْمُتْعَةُ سُنَّةٌ نَزَلَ بِهَا الْقُرْآنُ، وَجَرَى بِهَا الْعَمَلُ مِنْ قِبَلِ رَسُولِ اللّٰهِ (ص)، وَهِيَ حَلَالٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
মুতআ একটি সুন্নাত, যা কুরআনের দ্বারা এসেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আমল দ্বারা তা কার্যকর হয়েছে। এটি কিয়ামত পর্যন্ত হালাল। ইমাম আলি ইবন মূসা আল-রিদা (৮ম ইমাম), ফিকহুর রিদা, পৃ-৩৫৭
জ. আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন আলি ইবন হুসাইন ইবন বাবুয়াইহ আল-কুম্মী যিনি শেখ সাদুক নামে পরিচিত তিনি তার গ্রন্থে লিখেন। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ (আ.) বলেন-
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللّٰهِ (ع): إِنَّ النَّاصِبَ لَوْ مَتَّعَ ثُمَّ اغْتَسَلَ، خَلَقَ اللّٰهُ مِنْ ذَلِكَ الْمَاءِ سَبْعِينَ مَلَكاً يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ.
যদি কোনো নাসিবী (আহলুল বায়তের শত্রু) মুতআ করে এবং তারপর গোসল করে, আল্লাহ তার বীর্য থেকে ৭০ জন ফেরেশতা সৃষ্টি করেন, যারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। শেখ সাদূক, আল-ইলাল, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ.-৫৩৫
ঝ. আল-কুলাইনী তার ‘আল-কাফী’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন
আবূ আবদিল্লাহ (আ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক মহিলা উমরের নিকট আগমন করল, অতঃপর বলল, আমি ব্যভিচার করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। অতঃপর তিনি (উমর) তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আমীরুল মুমিনীন (আ.) কে এই ব্যাপারে সংবাদ দেয়া হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কীভাবে ব্যভিচার (জিনা) করেছ? তখন সে বলল: আমি মরুভূমিতে পথ অতিক্রম করেছি, অতঃপর আমাকে প্রচণ্ড পানির তৃষ্ণায় পেল, আমি এক বেদুইনের নিকট পানি প্রার্থনা করলাম, কিন্তু সে আমাকে পানি পান করাতে অস্বীকার করল যতক্ষণ না আমি তাকে আমার উপর ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেই। অতঃপর পিপাসা যখন আমাকে ক্লান্ত করে ফেলল এবং আমি আমার জীবন নিয়ে আশঙ্কাবোধ করলাম, তখন সে আমাকে পানি পান করাল; আর আমিও আমার নিজের উপর তাকে ক্ষমতাবান করে দিলাম। এ কথা শুনে আমীরুল মুমিনীন (আ.) বললেন: কাবার মালিকের শপথ, এটা তো বিবাহ।” ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী, ফুরুউল কাফী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ.-১৯৮
উপর শিয়াদের গ্রন্থ থেকে মাত্র কয়েকটি দলিল পেশ করেছি যা থেকে বুঝা যায় শিয়াদের নিকট মু্তআ বিবাহ করা শুধু জায়েয নয় বরং নেকির কাজ। তাদের রচিত গ্রন্থসমূহে এমন শত শত দলিল আছে। তারচেয়েও বড় কথা কোন দলিল প্রমাণের দরকার নাই কারণ তারা এ কথা স্বীকার করে ও তাদের আমলও চলমান।
মুতআ বিবাহ ইসলামি শরীয়তের হারাম :
শিয়ারা ধ্বংস হোক কেননা, তারা রাসূল ﷺ ও আমীরুল মুমিনীন আলি ইবন আবি তালিব (রা.) সাথে এই ধরনের মিথ্যাসমূহের সম্পর্কযুক্ত করেছে। কোন মুসলিম এমন দাবি করতে পারে না যা ঐসব শিয়া নামের খবিসগণ যা দাবি করে থাকে। আল্লাহ তায়ালার বলেন০
﴿ قَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ١ ٱلَّذِينَ هُمۡ فِي صَلَاتِهِمۡ خَٰشِعُونَ ٢ وَٱلَّذِينَ هُمۡ عَنِ ٱللَّغۡوِ مُعۡرِضُونَ ٣ وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ ٤ وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِفُرُوجِهِمۡ حَٰفِظُونَ ٥ إِلَّا عَلَىٰٓ أَزۡوَٰجِهِمۡ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُمۡ فَإِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُومِينَ ٦ فَمَنِ ٱبۡتَغَىٰ وَرَآءَ ذَٰلِكَ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡعَادُونَ ٧ ﴾
অর্থ : “অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ, যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে, যারা ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকে, যারা যাকাত দানে সক্রিয়, যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভূক্ত দাসীগণ ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না, আর কেউ এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তার হবে সীমালঙ্ঘনকারী। সূরা আল-মুমিনুন ১-৭
সুতরাং এই আয়াতসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হল যে, পুরুষ ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রী ও অধিকারভূক্ত দাসীগণ ব্যতীত অন্য কোন নারী বৈধ নয়। অতএব এর বাইরে কোন নারীকে ব্যবহারের পথ খুঁজলে, সে হবে সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে আল্লাহ তায়ালার বাণী:
فَإِنۡ خِفۡتُمۡ أَلَّا تَعۡدِلُواْ فَوَٰحِدَةً أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡ
অর্থ : আর যদি আশঙ্কা কর যে, সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসীকে। সূরা আন-নিসা : ৩
সুতরাং যে ব্যক্তি অন্যায়ের আশঙ্কা করবে, সে যেন একজন স্ত্রী অথবা তার অধিকারভূক্ত দাসীকে যথেষ্ট মনে করে। সুতরাং কোথায় মুত‘আ বিয়ে? অতএব যদি তা হালাল হত, তবে তিনি (আল্লাহ) তা উল্লেখ করতেন। কারণ, প্রয়োজনের সময় আলোচনা বিলম্বিত করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَمَنۡ لَّمۡ یَسۡتَطِعۡ مِنۡکُمۡ طَوۡلًا اَنۡ یَّنۡکِحَ الۡمُحۡصَنٰتِ الۡمُؤۡمِنٰتِ فَمِنۡ مَّا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ مِّنۡ فَتَیٰتِکُمُ الۡمُؤۡمِنٰتِ ؕ وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِاِیۡمَانِکُمۡ ؕ بَعۡضُکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡضٍ ۚ فَانۡکِحُوۡہُنَّ بِاِذۡنِ اَہۡلِہِنَّ وَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ مُحۡصَنٰتٍ غَیۡرَ مُسٰفِحٰتٍ وَّلَا مُتَّخِذٰتِ اَخۡدَانٍ ۚ فَاِذَاۤ اُحۡصِنَّ فَاِنۡ اَتَیۡنَ بِفَاحِشَۃٍ فَعَلَیۡہِنَّ نِصۡفُ مَا عَلَی الۡمُحۡصَنٰتِ مِنَ الۡعَذَابِ ؕ ذٰلِکَ لِمَنۡ خَشِیَ الۡعَنَتَ مِنۡکُمۡ ؕ وَاَنۡ تَصۡبِرُوۡا خَیۡرٌ لَّکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন-মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না, সে (বিবাহ করবে) তোমাদের মুমিন যুবতীদের মধ্য থেকে, তোমাদের হাত যাদের মালিক হয়েছে তাদের কাউকে। আর আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তোমরা একে অন্যের থেকে (এসেছ)। সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের মালিকদের অনুমতিক্রমে বিবাহ কর এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও এমতাবস্থায় যে, তারা হবে সতী-সাধ্বী, ব্যভিচারিণী কিংবা গোপন যৌনসঙ্গী গ্রহণকারিণী নয়। অতঃপর যখন তারা বিবাহিত হবে তখন যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের উপর স্বাধীন নারীর অর্ধেক আজাব হবে। এটা তাদের জন্য, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারের ভয় করে এবং ধৈর্যধারণ করা তোমাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সূরা নিসা : ২৫
সুতরাং যদি মুত‘আ বিয়ে হালাল হত, তবে তিনি (আল্লাহ) তা উল্লেখ করতেন। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেছেন ﴿ مَنۡ خَشِيَ ٱلۡعَنَتَ ﴾ অর্থাৎ- ‘যারা ব্যভিচারকে ভয় করে’। আর (যদি মুতআ বিয়ে হালাল হত) তিনি তা উল্লেখ করতেন না। সুতরাং এটাই প্রমাণ হয় যে, নিঃসন্দেহ তা (মুত‘আ বিয়ে) হারাম।
অনুরূপভাবে আল্লাহ তায়ালার বাণী:
وَلۡيَسۡتَعۡفِفِ ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغۡنِيَهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦ
অর্থ : যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে। সূরা আন-নূর : ৩৩
শিয়াগণ মুতআ বিয়ের বৈধতার ব্যাপারে আমাদের নিকট বিশুদ্ধ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত কিছু সংখ্যক হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে; তার জওয়াব হল- ঐসব হাদিস মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে। তাদের পক্ষে তার মুতআ বিয়ের বৈধতার ব্যাপারে কোন দলিল নেই। বরং মু্তআ বিবাহ হারাম হওয়া দলিল আছে। যেমন-
আলি ইবনু আবূ তালিব (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ أَكْلِ لُحُوْمِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার যুদ্ধের দিন মহিলাদের মুতআ করা থেকে এবং গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। সহিহ বুখারি : ৪২১৬, ৫১১৫, ৫৫২৩, ৬৯৬১, সহিহ মুসলিম : ১৪০৭, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৬১, সুনানে তিরমিযী ১১২১, ১৭৯৪, সুনানে নাসায়ী ৩৩৬৫, ৩৩৬৬, আহমাদ ৫৯৩, ৮১৪, ১২০৭, মুয়াত্তা মালেক : ১১৫১, দারেমী : ১৯৯০, ২১৯৭।
রাবী ইবনু সাবুরাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرَّمَ مُتْعَةَ النِّسَاءِ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাথে মুত’আহ বিয়ে হারাম করেছেন। সুনান আবু দাউদ : ২০৭৩
আয়াশ ইবনু সালামা (রহ.) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন-
رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ أَوْطَاسٍ فِي الْمُتْعَةِ ثَلاَثًا ثُمَّ نَهَى عَنْهَا
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওতাস যুদ্ধের বছর তিন দিনের জন্য মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তা নিষিদ্ধ করেন। সহিহ মুসলিম : ৩২৮৮ ইফা.
সাবরাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বিদায় হাজ্জে রওয়ানা হলাম। সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! স্ত্রীহীন অবস্থায় থাকা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন : তাহলে তোমরা এসব মহিলার সাথে মুত’আ করো (সাময়িকভাবে উপকৃত হও)। অতএব আমরা তাদের সান্নিধ্যে পৌঁছলাম, কিন্তু তারা আমাদের এবং তাদের মাঝে নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ ব্যতীত আমাদের সঙ্গে বিবাহ বসতে অস্বীকার করলো। সাহাবিগণ বিষয়টি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, তাহলে তোমাদের ও তাদের মাঝে মেয়াদ নির্দিষ্ট করে নাও।
অতএব আমি ও আমার এক চাচাতো ভাই (এই উদ্দেশে) বের হলাম। তার সাথে ছিল একটি চাদর এবং আমার সাথেও ছিল একটি চাদর। তার চাদরটি ছিল আমার চাদর থেকে বেশি সুন্দর। আর আমি ছিলাম তার চাইতে অধিক যুবক। আমরা দু’জন এক নারীর নিকট আসলাম। সে বললো, চাদর দু’টি তো একই মানের। অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করলাম এবং তার কাছেই ঐ রাত কাটালাম। ভোরে আমি ফিরে এলাম, তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বা ঘরের দরজা ও রুকনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলছিলেন : হে লোকসকল! আমি তোমাদের মুত’আ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। এখন তোমরা শুনে নাও যে, আল্লাহ্ কিয়ামত পর্যন্ত এই প্রকার বিবাহ হারাম করেছেন। অতএব তোমাদের কারো কাছে এ ধরনের কোন নারী থাকলে সে যেন তাকে ছেড়ে দেয় এবং তোমরা তাদেরকে যা কিছু দিয়েছো তা থেকে কিছুই ফেরত নিও না। সহিহ মুসলিম : ১৪০৬, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৬২, সুনানে নাসায়ী ৩৩৬৮, সুনানে আবূ দাউদ ২০৭২, ২০৭৩, সহীহাহ ৩৮১ আহমাদ ১৪৯১৩, ১৪৯২১, দারেমী ২১৯৫, ২১৯৬, ইরওয়াহ ১৯০১, ১৯০২।
নোট : আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরি তার গ্রন্থ সহিহ মুসলিম মুতআ বিবাহ অধ্যায়ের শিরোনাম করেন “মুতআ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত স্থির থাকবে।”
উপরে কয়েকটি সহিহ হাদিস এ কথার প্রমাণ বহন করে। সহিহ মুসলিমেও মুতআ বিবাহ করার অনুমিত সংক্রান্ত করেকটি হাদিস এসেছে যেগুলো প্রমন বহন করে এক সময় জায়েয ছিল। কাজেই ঐ সকল হাদিস দেখে শিয়াদের মত ধোঁকা খাওয়া যাবে না।
ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে মাত্র তিন দিন মুত’আ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন। এরপর তিনি তা হারাম ঘোষণা করেন। আল্লাহর শপথ! আমি যদি কোন বিবাহিত পুরুষের ব্যাপারে জানতে পারি যে, সে মুত’আ বিবাহ করে তবে আমি প্রস্তরাঘাতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিবো। তবে সে যদি আমার সামনে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারে, যারা সাক্ষ্য দিবে যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত’আ বিবাহ হারাম ঘোষণার পর আবার তা হালাল করেছেন। সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৬৩
এমনকি শিয়াদের কিতাবসমূহের মধ্যেও মুতাআ বিবাহ নিষিদ্ধের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন-
আলি (আ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ مُتْعَةِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ أَكْلِ لُحُوْمِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ.
রাসূলুল্লাহ ﷺ খায়বরের যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাদার গোশত ও মুতআ বিয়ে নিষিদ্ধ করেছেন। আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী, আত-তাহযীব, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৮৬, আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী, আল-ইস্তিবসার, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪২





