মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং চলমান সম্প্রসারণ যেমন আধুনিক বিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়, তেমনি এর চূড়ান্ত পরিণতি নিয়েও বিশ্বতত্ত্ববিদরা নানা তাত্ত্বিক মডেল তৈরি করেছেন। মজার বিষয় হলো, কুরআন মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের (সূরা আয-যারিয়াত: ৪৭) পাশাপাশি এর সমাপ্তি বা ‘গুটিয়ে ফেলার’ একটি চিত্রও প্রদান করে, যা বিজ্ঞানের সম্ভাব্য সমাপ্তির মডেলগুলির মধ্যে অন্যতম একটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই ধারণাগুলির মধ্যে একটি হলো বিগ ক্রাঞ্চ (Big Crunch), যা একটি চক্রাকার মহাবিশ্বের ইঙ্গিত দেয়।
বিগ ক্রাঞ্চ (Big Crunch) বা প্রত্যাবর্তন ও সংকোচনের বৈজ্ঞানিক মডেল
বিগ ক্রাঞ্চ (Big Crunch) হলো মহাবিশ্বের সমাপ্তি সম্পর্কে একটি তাত্ত্বিক ধারণা, যা বিগ ব্যাং-এর ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হয়। যদি মহাবিশ্বের গড় ঘনত্ব (Average Density), যা মূলত সকল দৃশ্যমান পদার্থ (নক্ষত্র, গ্যালাক্সি) এবং অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটার দ্বারা গঠিত, একটি নির্দিষ্ট সংকট ঘনত্ব (Critical Density)-এর চেয়ে বেশি হয়, তবে মহাকর্ষ বল চূড়ান্তভাবে জয়ী হবে। মহাকর্ষের এই শক্তিশালী আকর্ষণ বল একসময় ডার্ক এনার্জি-জনিত সম্প্রসারণকে থামিয়ে দেবে এবং মহাবিশ্ব উল্টো দিকে চলতে শুরু করবে। এই তত্ত্বটি একটি চক্রাকার মহাবিশ্বের (Cyclic Universe) মডেলকে নির্দেশ করে, যেখানে সৃষ্টি ও বিনাশ একটি চক্রের মতো চলতে পারে। এই মডেল অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকবে, শূন্যে নেমে আসবে, এবং তারপর মহাকর্ষের প্রভাবে সংকোচন শুরু হবে।

একটি বিগ ক্রাঞ্চের প্রত্যাশিত আচরণের একটি ছবি
এই সংকোচনকালে, আমাদের গ্যালাক্সিগুলি দ্রুত একে অপরের দিকে ধাবিত হবে, দূরত্ব কমতে থাকবে এবং মহাজাগতিক বস্তুর তাপমাত্রা ও ঘনত্ব চরমভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এটি বিগ ব্যাং-এর বিপরীত একটি প্রক্রিয়া। সম্প্রসারণের পরিবর্তে সংকোচন, শীতল হওয়ার পরিবর্তে উত্তপ্ত হওয়া। চূড়ান্ত পরিণতিতে, মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থ, শক্তি এবং স্থান-কাল আবার একটি অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত একক বিন্দুতে (Singularity) ফিরে যাবে, যা বিগ ব্যাং-এর ঠিক পূর্বের অবস্থার মতো। যদিও বর্তমানে ডার্ক এনার্জির প্রভাবে ত্বরণশীল সম্প্রসারণের কারণে বিগ ক্রাঞ্চের সম্ভাবনা কম, তবুও এটি মহাবিশ্বের সম্ভাব্য সমাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক মডেল।
বিগ ক্রাঞ্চ (Big Crunch) বা প্রত্যাবর্তন ও সংকোচন সম্পর্কে কুরআনের ইঙ্গিত :
বিগ ক্রাঞ্চের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে আল-কুরআনের অন্য আয়াতে মহাবিশ্বের গুটিয়ে ফেলার একটি শক্তিশালী উপমা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
یَوۡمَ نَطۡوِی السَّمَآءَ کَطَیِّ السِّجِلِّ لِلۡکُتُبِ ؕ کَمَا بَدَاۡنَاۤ اَوَّلَ خَلۡقٍ نُّعِیۡدُہٗ ؕ وَعۡدًا عَلَیۡنَا ؕ اِنَّا کُنَّا فٰعِلِیۡنَ
সে দিন আমি আসমানসমূহকে গুটিয়ে নেব, যেভাবে গুটিয়ে রাখা হয় লিখিত দলীল-পত্রাদি। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব। ওয়াদা পালন করা আমার কর্তব্য। আমি তা পালন করবই। সূরা আম্বিয়া : ১০৪
এই আয়াতটি মহাবিশ্বের শেষ পরিণতির এক সুস্পষ্ট চিত্র প্রদান “লিখিত কাগজপত্র গুটিয়ে ফেলার” উপমাটি নিছক ধ্বংস নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট, পদ্ধতিগত এবং সম্পূর্ণ সংকোচন বা গুটিয়ে ফেলার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। যখন একটি নথি বা লিখিত পত্র গুটিয়ে ফেলা হয়, তখন তার স্থানিক (Spatial) অস্তিত্ব সংকুচিত হয়ে আসে এবং এটি তার আদিম অবস্থায় ফিরে যায়। ঠিক একইভাবে, মুফাসসিরগণ এই আয়াতটিকে মহাবিশ্বের এক মহা-সংকোচন (Great Contraction) বা আদি অবস্থায় প্রত্যাবর্তন-এর দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। এই সংকোচনটি বিগ ক্রাঞ্চের প্রক্রিয়ার সাথে দারুণভাবে মিলে যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত স্থান ও পদার্থ পুনরায় একটি ঘন বিন্দুতে সংকুচিত হবে।
১৪৫০ বছর আগে, যখন জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞান সীমিত ছিল এবং মহাবিশ্বকে সাধারণত স্থির বলে মনে করা হতো, তখন কুরআনের এই ঘোষণা যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের পরে সংকুচিত হতে পারে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে সৃষ্টিকর্তার জ্ঞানে মহাবিশ্বের কেবল সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ নয়, বরং এর চূড়ান্ত পরিণতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই আয়াতটি কেবল কেয়ামতের দৈব ঘটনা নয়, বরং এটি স্থানের (Space) প্রকৃতি এবং এর গুটিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত দেয়। কুরআনের এই বর্ণনাটি বিজ্ঞানকে একটি সম্ভাব্য সমাপ্তির ধারণার দিকে পরিচালিত করে, যা মানবজাতির জ্ঞান অর্জনের অনুপ্রেরণা জোগায়।
অনেক মুফাসসির এই আয়াতটিকে মহাবিশ্বের এক মহা-সংকোচন বা গুটিয়ে ফেলার দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। ‘লিখিত কাগজপত্র গুটিয়ে ফেলার’ উপমাটি একটি ব্যাপক সংকোচন এবং আদি অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের চিত্র তুলে ধরে, যা বিগ ক্রাঞ্চ-এর প্রক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ السَّاعَۃِ اَیَّانَ مُرۡسٰہَا ؕ قُلۡ اِنَّمَا عِلۡمُہَا عِنۡدَ رَبِّیۡ ۚ لَا یُجَلِّیۡہَا لِوَقۡتِہَاۤ اِلَّا ہُوَ ؕۘؔ ثَقُلَتۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ لَا تَاۡتِیۡکُمۡ اِلَّا بَغۡتَۃً ؕ یَسۡـَٔلُوۡنَکَ کَاَنَّکَ حَفِیٌّ عَنۡہَا ؕ قُلۡ اِنَّمَا عِلۡمُہَا عِنۡدَ اللّٰہِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ
তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে, ‘তা কখন ঘটবে’? তুমি বল, ‘এর জ্ঞান তো রয়েছে আমার রবের নিকট। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। আসমানসমূহ ও যমীনের উপর তা (কিয়ামত) কঠিন হবে। তা তোমাদের নিকট হঠাৎ এসে পড়বে। তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে যেন তুমি এ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত। বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না’। সুরা আরাফ : ১৮৭
মহাকাশ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, মহাবিশ্বের এই সংকোচন প্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন নক্ষত্র ও গ্রহগুলোর সংঘর্ষ এবং তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এক চরম বিশৃঙ্খলা বা ‘কঠিন’ অবস্থার সৃষ্টি হবে। কুরআন বলছে, এই ধ্বংসযজ্ঞের সঠিক সময় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, কিন্তু এটি হবে অত্যন্ত আকস্মিক। এটি কেবল পৃথিবীর বিনাশ নয়, বরং সমগ্র ‘আসমান ও যমীনের’ (মহাকাশ ও পৃথিবী) এক বৈশ্বিক পরিবর্তন।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
یَوۡمَ تُبَدَّلُ الۡاَرۡضُ غَیۡرَ الۡاَرۡضِ وَالسَّمٰوٰتُ وَبَرَزُوۡا لِلّٰہِ الۡوَاحِدِ الۡقَہَّارِ
যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমন্ডলীও এবং মানুষ উপস্থিত হবে আললাহর সামনে, যিনি এক, পরাক্রমশালী। সুরা ইবরাহিম : ৪৮
এই আয়াতটি নির্দেশ করে যে, বর্তমান মহাবিশ্ব সংকুচিত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর একটি নতুন জগত বা ‘নতুন পৃথিবী ও আকাশ’ সৃষ্টি করা হবে। আধুনিক বিজ্ঞানের ‘বিগ বাউন্স’ (Big Bounce) তত্ত্বের সাথে এর সাদৃশ্য পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয় যে একটি মহাবিশ্ব সংকুচিত হওয়ার পর পুনরায় নতুনভাবে প্রসারিত হতে পারে। তবে কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নতুন সৃষ্টি হবে বিচার দিবস এবং পরবর্তী জীবনের জন্য।
বর্তমান বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি: বিগ ফ্রিজ ও বিগ রিপ
মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় বিগ ক্রাঞ্চ একটি প্রধান তাত্ত্বিক মডেল হলেও, ১৯৯৮ সালের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পর বর্তমানে ভিন্ন দুটি মডেল, বিগ ফ্রিজ এবং বিগ রিপ, অধিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই মডেলগুলি মহাবিশ্বের ভাগ্যে ডার্ক এনার্জি নামক এক রহস্যময় উপাদানের ভূমিকা তুলে ধরে।
১. ডার্ক এনার্জির প্রভাব ও সম্প্রসারণের ত্বরণ
১৯৯৮ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দূরবর্তী সুপারনোভা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন: মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ কেবল চলমান নয়, বরং এর গতি ত্বরান্বিত (accelerating) হচ্ছে। এই ত্বরণের কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা এক রহস্যময় বল বা শক্তিকে দায়ী করেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ডার্ক এনার্জি (Dark Energy)।
ডার্ক এনার্জি মহাকর্ষীয় আকর্ষণের বিপরীতমুখী একটি চাপ সৃষ্টি করে, যা মহাবিশ্বের স্থানকে বাইরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই শক্তি মহাবিশ্বের মোট শক্তি ও ভরের প্রায় ৬৯% গঠন করে বলে ধারণা করা হয়। ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব এবং এর প্রভাব প্রমাণ করে যে, মহাকর্ষীয় আকর্ষণ (যা বিগ ক্রাঞ্চ ঘটাতে পারে) যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। ডার্ক এনার্জির অবিরাম ত্বরণশীল প্রভাবে মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকবে এবং এই কারণেই বিগ ক্রাঞ্চের ধারণা বর্তমানে বৈজ্ঞানিক মহলে কম গ্রহণযোগ্য।
২. বিগ ফ্রিজ (Big Freeze) বা তাপীয় মৃত্যু
বর্তমানে মহাবিশ্বের সমাপ্তির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেল হলো বিগ ফ্রিজ (Big Freeze), যা ইউনিভার্সের তাপীয় মৃত্যু (Heat Death of the Universe) নামেও পরিচিত। এই মডেলটি ডার্ক এনার্জির অবিচ্ছিন্ন, তবে স্থিতিশীল, ত্বরণশীল সম্প্রসারণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এই তত্ত্ব অনুসারে:
ক. মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকলে, গ্যালাক্সিগুলি একে অপরের থেকে এত দূরে সরে যাবে যে একসময় তারা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং রাতের আকাশ অন্ধকার হয়ে যাবে।
খ. মহাবিশ্বের তাপমাত্রা কমতে থাকবে। বিলিয়ন বিলিয়ন বছর পরে, সকল নক্ষত্রের জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে এবং নতুন নক্ষত্র গঠন বন্ধ হয়ে যাবে।
গ. শেষ পর্যন্ত, সকল কৃষ্ণ গহ্বর (Black Holes) ও অন্যান্য অবশিষ্ট বস্তুও বিলীন হয়ে যাবে। মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত শীতল, অন্ধকার, এবং ফাঁকা স্থানে পরিণত হবে, যেখানে কোনো তাপীয় পার্থক্য বা কার্যকর শক্তি থাকবে না।
এই পরিণতিতে মহাবিশ্ব জমে যাবে এবং কার্যক্ষম শক্তি হারিয়ে ফেলবে, যার ফলে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব হবে না।

“মহাবিশ্বের সমাপ্তি সম্পর্কে বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, যার মধ্যে ‘তাপীয় মৃত্যু’ (heat death) অন্যতম জনপ্রিয়।”
৩. বিগ রিপ (Big Rip): চরম বিদীর্ণতা
যদি ডার্ক এনার্জি কেবল স্থিতিশীল না হয়ে আরও অতিমাত্রায় শক্তিশালী ও ক্রমবর্ধমান হয়, তবে মহাবিশ্বের সমাপ্তি হতে পারে বিগ রিপ (Big Rip)-এর মাধ্যমে। এটি হলো মহাবিশ্বের চরম বিদীর্ণতার এক নাটকীয় ধারণা। এই মডেলে ডার্ক এনার্জির ঘনত্ব ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ডার্ক এনার্জির এই ক্রমবর্ধমান শক্তি একসময় মহাকর্ষের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। প্রথমে এই শক্তি গ্যালাক্সিগুলিকে ছিন্নভিন্ন করবে। তারপর নক্ষত্র এবং গ্রহগুলিকে তাদের কক্ষপথ থেকে ছিঁড়ে ফেলবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে, ডার্ক এনার্জি এতটাই শক্তিশালী হবে যে এটি অণু, পরমাণু এবং এমনকি মৌলিক কণাগুলিকেও ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দেবে। স্থান-কাল নিজেই তখন ভেঙে পড়বে।

এই ধারণাটি বিগ ফ্রিজের চেয়ে কম সম্ভাব্য হলেও, ডার্ক এনার্জির চরম ক্ষমতাকে তুলে ধরে। যদিও বিজ্ঞান বর্তমানে এই দুটি মডেলকে বেশি সমর্থন করে, কুরআনের আয়াতে ‘গুটিয়ে ফেলার’ ইঙ্গিত থাকা এই সত্যকেই প্রমাণ করে যে সৃষ্টিকর্তার জ্ঞানে মহাবিশ্বের সকল সম্ভাব্য পরিণতিই অন্তর্ভুক্ত।