আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআন–হাদিসের আলোকে মহাবিশ্বের বয়স

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

মহাবিশ্ব (Universe) মানব বুদ্ধির জন্য এক চিরন্তন বিস্ময়। আদিকাল থেকেই মানুষ আকাশ, নক্ষত্র, গ্রহরাজি ও সময়ের সূচনা সম্পর্কে প্রশ্ন করে এসেছে। “এই বিশ্ব কখন সৃষ্টি হলো?”, “এর বয়স কত?”, “এর সূচনার পেছনে কোনো উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা আছে কি?”—এই প্রশ্নগুলো একদিকে যেমন আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু, অন্যদিকে তেমনি ওহীভিত্তিক ধর্মগ্রন্থসমূহের মৌলিক আলোচ্য বিষয়।

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাবিশ্বতত্ত্ব (Cosmology) আজ মহাবিশ্বের বয়স নির্ধারণে অনেকটাই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কুরআন মাজিদ—যা নিজেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ চূড়ান্ত গ্রন্থ বলে ঘোষণা করে—মহাবিশ্বের সৃষ্টি, সময়, পর্যায়ক্রম ও পরিমিতির বিষয়ে গভীর ইঙ্গিত প্রদান করেছে। যদিও কুরআন কোনো বিজ্ঞানবই নয়, তথাপি এর বক্তব্যসমূহ আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সঙ্গে বিস্ময়কর সামঞ্জস্য প্রদর্শন করে। এখানে আমরা তিনটি মূল বিষয় আলোচনা করব—

১) আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে মহাবিশ্বের বয়স,

২) কুরআনে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও সময় সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইঙ্গিত,

৩) হাদিসে সময়, সৃষ্টি ও মহাজাগতিক বাস্তবতার ধারণা।

১. আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে মহাবিশ্বের বয়স

ক. বিগ ব্যাং তত্ত্ব ও মহাবিশ্বের সূচনা

আধুনিক মহাবিশ্বতত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে একটি অতি ঘন ও অতি উত্তপ্ত অবস্থা থেকে, যাকে বলা হয় বিগ ব্যাং (Big Bang)। এটি কোনো বিস্ফোরণ নয়; বরং সময়, স্থান, পদার্থ ও শক্তির একযোগে সূচনা।

১৯২৯ সালে এডউইন হাবল পর্যবেক্ষণ করেন যে, দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো আমাদের থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রসারণকে উল্টো পথে অনুসরণ করলে দেখা যায়—একসময় সমস্ত কিছু একটি সূচনাবিন্দুতে কেন্দ্রীভূত ছিল।

আধুনিক বিজ্ঞানের সর্বজনস্বীকৃত তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের শুরু হয়েছিল বিগ ব্যাং (Big Bang) বা এক মহা-বিস্ফোরণের মাধ্যমে। আজ থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর (১৩৮০ কোটি বছর) আগে এক অতিক্ষুদ্র ও অসীম ঘনত্বের বিন্দু (Singularity) থেকে সময়ের গণনা শুরু হয়।

খ. মহাবিশ্বের বয়স নির্ধারণের পদ্ধতি

বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের বয়স নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন—

হাবল ধ্রুবক (Hubble Constant):

গ্যালাক্সির দূরত্ব ও তাদের সরে যাওয়ার গতির ভিত্তিতে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার নির্ণয় করা হয়।

কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড (CMB):

বিগ ব্যাং-এর প্রায় ৩৮০,০০০ বছর পর নির্গত প্রাচীনতম আলো, যা আজও পুরো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে।

প্ল্যাঙ্ক স্যাটেলাইট ও WMAP ডাটা:

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্ল্যাঙ্ক মিশনের তথ্য অনুযায়ী মহাবিশ্বের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ. বয়স নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

বিজ্ঞানীরা মূলত দুটি প্রধান পদ্ধতির মাধ্যমে মহাবিশ্বের বয়স নির্ধারণ করেছেন:

মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ (CMB):

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘প্লাঙ্ক’ (Planck) মিশনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের আদিম আলো বা বিকিরণ বিশ্লেষণ করে এই বয়স নিশ্চিত করা হয়েছে।

মহাবিশ্বের প্রসারণের হার (Hubble Constant):

এডুইন হাবল প্রমাণ করেছিলেন যে মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রসারণের গতিকে উল্টো দিকে হিসাব করলে (Reverse calculation) আমরা সেই প্রারম্ভবিন্দুতে পৌঁছাতে পারি, যা ১৩.৮ বিলিয়ন বছরের হিসাব দেয়।

এই হিসাবের মধ্যে সামান্য তারতম্য থাকলেও বৈজ্ঞানিক সমাজে এটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য।

২. কুরআনে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও সময়: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইঙ্গিত

ক. কুরআনে মহাবিশ্বের সূচনা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا

“কাফিররা কি দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী একত্রে সংযুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিয়েছি?” সূরা আল-আম্বিয়া: ৩০

এই আয়াতে “রত্‌ক” (সংযুক্ত অবস্থা) ও “ফাত্‌ক” (বিচ্ছিন্নকরণ) শব্দদ্বয় আধুনিক বিগ ব্যাং তত্ত্বের সঙ্গে গভীর সাম profum মিল প্রদর্শন করে।

খ. কুরআনে সময়ের আপেক্ষিকতা

মহাবিশ্বের বয়স বোঝার ক্ষেত্রে কুরআনের সময়-ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

وَإِنَّ يَوْمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ

“নিশ্চয়ই তোমার রবের নিকট একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।” সূরা হাজ্জ: ৪৭

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে—

تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ

“ফেরেশতাগণ ও রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।” সূরা আল-মা‘আরিজ: ৪

এখানে স্পষ্ট যে, কুরআনে সময়কে আপেক্ষিক (Relative) হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—যা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বের সঙ্গে বিস্ময়কর সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গ. ‘ছয় দিন’ সৃষ্টি ও সময়ের প্রকৃতি

কুরআনে বহু স্থানে বিশ্বকে ছয় দিন সৃষ্টি করার কথা বলা হয়েছ। যেমন-

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ٭ۖ وَّمَا مَسَّنَا مِنۡ لُّغُوۡبٍ

আর অবশ্যই আমি আসমানসমূহ ও যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যস্থিত সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি। আর আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। সুরা ক্বফ : ৩৮

এখানে ‘ইয়াওম’ (দিন) শব্দটি আরবি ভাষায় নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টা বোঝাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘ সময়কাল বা পর্যায় বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। অতএব, কুরআনের “ছয় দিন” বলতে ছয়টি সৃষ্টিপর্ব বা ধাপ বোঝানো হয়েছে—যা আধুনিক বিজ্ঞানের বহু-ধাপের মহাজাগতিক বিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কুরআনের সূরা ফুসসিলাত (৯-১২ নং আয়াত) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে:

প্রথম ২ দিন: পৃথিবীর প্রাথমিক সৃষ্টি।

পরবর্তী ৪ দিন: পৃথিবীর পর্বতমালা ও জীবনধারণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।

মোট ৬ দিন: সমগ্র মহাজাগতিক কাঠামো সমাপ্তিকরণ।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পৃথিবীর বয়স ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর এবং মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। যদি আমরা মহাবিশ্বের পুরো সময়কালকে কুরআনের ছয়টি পর্যায় বা ‘ইয়াওম’-এ ভাগ করি, তবে গাণিতিকভাবে দেখা যায় যে পৃথিবীর গঠনের সময়কাল এবং মহাবিশ্বের মোট বয়সের অনুপাত কুরআনের দেওয়া সৃষ্টিতাত্ত্বিক ধাপগুলোর সাথে অদ্ভুতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলামী পণ্ডিতদের একাংশ “ছয় দিন” এর ব্যাখ্যায় নিম্নোক্ত দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন:

১. প্রতীকী ব্যাখ্যা: “দিন” বলতে দীর্ঘ সময়কাল বোঝানো হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক মহাযুগ (Eras) এর সাথে তুলনীয়।

২. সৃষ্টির পর্যায়: কুরআনে বর্ণিত ছয়টি দিনকে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ছয়টি প্রধান পর্যায় হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়:

প্রথম দিন: বিগ ব্যাং ও মৌলিক শক্তির সৃষ্টি

দ্বিতীয় দিন: ছায়াপথ গঠন

তৃতীয় দিন: সৌরজগৎ ও পৃথিবী গঠন

চতুর্থ দিন: সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি দৃশ্যমান হওয়া

পঞ্চম দিন: প্রাণের সৃষ্টি

ষষ্ঠ দিন: মানুষ সৃষ্টি

৩. হাদিসে সৃষ্টি, সময় ও মহাজাগতিক বাস্তবতা

ক. সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে হাদিস

 ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার উটনীটি দরজার সঙ্গে বেঁধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর নিকট তামীম সম্প্রদায়ের কিছু লোক এল। তিনি বললেন, হে তামীম সম্প্রদায়! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি তো আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এবার আমাদেরকে কিছু দান করুন। একথা দু’বার বলল। অতঃপর তাঁর নিকট ইয়ামানের কিছু লোক আসল। তিনি তাদের বললেন, হে ইয়ামানবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কারণ বানূ তামীম তা গ্রহণ করেনি। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা গ্রহণ করলাম। তারা আরো বলল, আমরা দ্বীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য আপনার খেদমতে এসেছিলাম। তখন তিনি বললেন, একমাত্র আল্লাহই ছিলেন, আর তিনি ছাড়া আর কোন কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। অতঃপর তিনি লাওহে মাহফুজে সব কিছু লিপিবদ্ধ করলেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। এ সময় একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করল, হে ইবনু হুসাইন! আপনার উটনী পালিয়ে গেছে। তখন আমি এর খোঁজে চলে গেলাম। দেখলাম তা এত দূরে চলে গেছে যে, তার এবং আমার মধ্যে মরীচিকাময় ময়দান দূরত্ব হয়ে পড়েছে। আল্লাহর কসম! আমি তখন উটনীটিকে একেবারে ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা করলাম। সহিহ বুখারি : ৩১৯১

এই হাদিসে স্পষ্টভাবে সময় ও স্থান সৃষ্টির আগের বাস্তবতা নির্দেশ করা হয়েছে—যা আধুনিক কসমোলজিতে বিগ ব্যাং-এর পূর্ববর্তী অবস্থা সম্পর্কে আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

খ. তাকদীর ও সৃষ্টির কালক্রম

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

“আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সমস্ত সৃষ্টির তাকদীর লিখে রেখেছেন। সহিহ মুসলিম : ২৬৫৩

এতে বোঝা যায়, সৃষ্টিজগত একটি সুপরিকল্পিত ও নির্ধারিত নিয়মের অধীন—যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূক্ষ্ম ধ্রুবক (Fine-tuning of universe) ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

গ. সময়ের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্য

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, সময় পরম নয়; এটি মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র ও বেগের উপর নির্ভরশীল। কুরআনে উল্লিখিত “আল্লাহর দিন” ও মানুষের দিনের পার্থক্য আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার “আ ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, মহাবিশ্বের প্রাথমিক মুহূর্তগুলোতে সময়ের ধারণা বর্তমান সময়ের ধারণা থেকে ভিন্ন ছিল।

ইসলামী পণ্ডিত ও বিজ্ঞানীদের কিছু প্রচেষ্টা:

ড. মরিস বুকাইলি: তার “দ্য বাইবেল, দ্য কুরআন অ্যান্ড সায়েন্স” গ্রন্থে তিনি দেখিয়েছেন যে কুরআনের সৃষ্টি বর্ণনা আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

ড. জাকির নায়েক: তিনি উল্লেখ করেন যে কুরআনে সৃষ্টির “ছয় দিন” বলতে ছয়টি পর্যায় বোঝায়, যা বৈজ্ঞানিক সৃষ্টি তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শাইখ ইউসুফ আল-কারযাভি: তিনি বলেছেন, “কুরআন বিজ্ঞানের বই নয়, কিন্তু এর বর্ণনা বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না”।

ঘ. বিজ্ঞান ও ওহীর মধ্যে সমন্বয়: সংঘাত নয়, পরিপূরকতা

এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, কুরআন বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করতে আসেনি; বরং মানুষকে চিন্তা, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে উৎসাহিত করেছে—

أَفَلَا يَتَفَكَّرُونَ

“তবে কি তারা চিন্তা করে না?”

আধুনিক বিজ্ঞান যেখানে মহাবিশ্বের বয়সকে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর হিসেবে নির্ধারণ করে, সেখানে কুরআন সময়কে আপেক্ষিক, পর্যায়ভিত্তিক ও আল্লাহর জ্ঞানের অধীন বলে ঘোষণা করে—যার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের কোনো মৌলিক সংঘাত নেই।

মহাবিশ্বের বয়স সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআন–হাদিসের আলোচনাকে পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, উভয় উৎস পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক। বিজ্ঞান আমাদের বলে কিভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং তার বয়স কত, আর কুরআন আমাদের জানায় কেন এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং এর পেছনে কে আছেন।

১৩.৮ বিলিয়ন বছরের এই বিশাল সময়কাল আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও জ্ঞানের এক ক্ষুদ্র নিদর্শন মাত্র। কুরআনের দৃষ্টিতে সময় কোনো চূড়ান্ত বাস্তবতা নয়; বরং এটি সৃষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিত। সুতরাং, মহাবিশ্বের বয়স নিয়ে গবেষণা কেবল বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়—বরং এটি মানুষকে তার স্রষ্টার দিকে আরও গভীরভাবে মনোনিবেশ করার এক শক্তিশালী মাধ্যম।

সার কথা হলো :

১. মহাবিশ্বের শুরু একটি সুনির্দিষ্ট বিন্দু থেকে (কুরআন ও বিজ্ঞানে সমর্থিত)।

২. সময়ের প্রবাহ স্থান ও কালভেদে ভিন্ন হতে পারে।

৩. সৃষ্টিজগত স্থির নয় বরং প্রসারণশীল, যা এর নির্দিষ্ট বয়স থাকার প্রমাণ দেয়।

 ৪. কুরআনের ‘ছয় দিন’ মূলত মহাজাগতিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *