নাজাত প্রপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য – ৩ (১১-১৫) :: কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদিস সম্মত আকিদা ধারণ করবে

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

১১। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া অন্য কাউকে হিদায়েত প্রদানের মালিক মনে করা।

ভ্রান্ত আকিদব হলো :: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া অন্য কাউকে হিদায়েত প্রদানের মালিক মনে করা।

এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া কেহই হিদায়েত প্রদানের মালিক নয়।

হেদায়েতের এক মাত্র মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। কুরআন ও সহিহ হাদিসে এই সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে। নিচের সহিহ হাদিসটি দিকে লক্ষ করুন-

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ 🙂 তাঁর পিতা (রা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবূ তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে নবি ﷺ তার কাছে গেলেন। এসময় আবূ জাহল এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াও সেখানে বসা ছিল। নবি ﷺ বললেন, হে চাচা! আপনি পড়ুন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আপনার মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট এটা দলিল হিসেবে পেশ করব। এ কথা শুনে আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়াহ বলল, হে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করে দিবে? নবি ﷺ বললেন, হে চাচা! আমি আপনার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হবে ততক্ষণ ক্ষমা চাইতে থাকব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়-

 إِنَّكَ لَا تَہۡدِى مَنۡ أَحۡبَبۡتَ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يَہۡدِى مَن يَشَآءُ‌ۚ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ (٥٦)

নবি ও মুমিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুশরিকদের জন্য যদি তারা নিকটাত্মীয়ও হয় যখন তাদের কাছে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামি, সুরা তওবা-১১৩। সহিহ বুখারি : ৪৬৭৫

উক্ত ঘটনা দ্বারা বুঝতে পারি, ব্যক্তিগত ভালবাসা ও আত্মীয়তার সম্পর্কের  ভিত্তিতে যদি কোন ব্যক্তির হেদায়াত লাভ করত তাতে তিনি ছিলেন আবু তালেব। কিন্তু তাকে হেদায়াত দান করার শক্তি যখন নবি ﷺ কে দিলেন না, তা হলে একথা একেবারে সুস্পষ্ট হয়ে গেলো যে, কাউকে হেদায়াত দান করা বা কাউকে হেদায়াত বঞ্চিত করা নবি ﷺ ক্ষমতার বাইরে। এবং বিষয়টি সম্পূণর্রূপে আল্লাহর হাতে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاء وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ

আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন। সুরা কাসাস : ৫৬

যদি কেহ মনে করে তার পীর, শাইখ বা মুরুব্বি তাকে হিদায়েত দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তবে হিদায়েততো দূরের কথা তার ইমানই চলে যাবে। কেননা, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া কেহই হিদায়েত প্রদানের মালিক নয়।

১২। কাউকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে ভালবাসা প্রদান করা।

ভ্রান্ত আকিদব হলো :: কাউকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে ভালবাসা প্রদান করা।

এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো– কাউকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে ভালবাসা প্রদান করা শিরক।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ

আর কিছু লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর রহমতে ইমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। সুরা বাকারা : ১৬৫

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 قُلۡ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمۡ وَأَبۡنَآؤُڪُمۡ وَإِخۡوَٲنُكُمۡ وَأَزۡوَٲجُكُمۡ وَعَشِيرَتُكُمۡ وَأَمۡوَٲلٌ ٱقۡتَرَفۡتُمُوهَا وَتِجَـٰرَةٌ۬ تَخۡشَوۡنَ كَسَادَهَا وَمَسَـٰكِنُ تَرۡضَوۡنَهَآ أَحَبَّ إِلَيۡڪُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍ۬ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُواْ حَتَّىٰ يَأۡتِىَ ٱللَّهُ بِأَمۡرِهِۦ‌ۗ وَٱللَّهُ لَا يَہۡدِى ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَـٰسِقِينَ

বল, ‘তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছ এবং সে বাসস্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা কর আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত’। আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত করেন না। সুরা তওবা : ২৪

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভালবাসা, এমনই এক ভালবাসা যার আবেদন অনেক ব্যাপক, যা পরিপূর্ণ বিনয় এবং সর্বাত্মক আনুগত্যকে অনিবার্য করে। আল্লাহ প্রতি ভালবাসা হলো, তাকে সর্বশক্তিমান জেনে তার প্রতিটি হুকুম আহকামে সর্বাত্মক আনুগত্য প্রদর্শন করা। এই ভালবাসা প্রকাশ পায় তার ইবাদতের মাধ্যমে। যদি তার সর্বাত্মক আনুগত্য ও ইবাদতে অন্যকে শরিক করা হয়, তাহলে বুঝতে হবে সৃষ্টিকর্তা হিসাবে তিনি যে ভালবাসা পাওয়ার কথা তা দিতে বান্দা ব্যর্থ। বান্দার এই ব্যর্থ ভালোবাসাই কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

একজন ইমানদারের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্য সবার সন্তুষ্টির ওপর অগ্রাধিকার লাভ করবে। কোনো কিছুকে এমন মর্যাদার আসনে সমাসীন করবেনা যেন আল্লাহ প্রতি ভালোবাসার কমতি দেখা যায়। আর এটাই হচ্ছে আকিদা বিশ্বাসের মৌলিক উপাদান ও মেরূদণ্ড। আল্লাহ প্রতি ভালবাসা প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হলো, তার রসুল ﷺ এর তার উপর নাজিলকৃত দ্বিনের পরিপূর্ণ অনুসরণ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِى يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡ‌ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌ۬ رَّحِيمٌ۬

হে নবি! লোকদের বলে দাও, ‘যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন ৷ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷ সুরা আল ইমরান- : ৩১

এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তায়ালা স্পষ্ট করে দিয়েছের তার প্রতি ভালোবাসার মান দণ্ড। যদি কেউ দাবি করে আমি আল্লাহকে ভালোবাসি তাহলে তাকে প্রমাণ হিসাবে রসুল ﷺ এর তার উপর নাজিলকৃত দ্বিনের পরিপূর্ণ অনুসরণ দেখাবে হবে। যদি কেউ রসুল ﷺ কে অনুসরণ না হবে আল্লাহ ভালোবাসার দাবি করে তবে সে মিথ্যাবাদী।

১৩। দুনিয়া পরিচালনের ক্ষেত্র আল্লাহর সাহায্যকারী আছে বিশ্বাস করা।

ভ্রান্ত আকিদব হলো :: দুনিয়া পরিচালনের ক্ষেত্র আল্লাহর সাহায্যকারী আছে বিশ্বাস করা।

এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—

দুনিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে একক মালিক মহান আল্লাহ, এ জন্য তার কোন সাহায্যকারী প্রয়োজন নাই।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ إِلَى ٱلۡأَرۡضِ ثُمَّ يَعۡرُجُ إِلَيۡهِ فِى يَوۡمٍ۬ كَانَ مِقۡدَارُهُ ۥۤ أَلۡفَ سَنَةٍ۬ مِّمَّا تَعُدُّونَ

তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তাঁর কাছেই উঠবে। যে দিনের পরিমাণ হবে তোমাদের গণনায় হাজার বছর। সুরা সাজদা : ৫

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

قُلۡ مَن يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ أَمَّن يَمۡلِكُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَـٰرَ وَمَن يُخۡرِجُ ٱلۡحَىَّ مِنَ ٱلۡمَيِّتِ وَيُخۡرِجُ ٱلۡمَيِّتَ مِنَ ٱلۡحَىِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَ‌ۚ فَسَيَقُولُونَ ٱللَّهُ‌ۚ فَقُلۡ أَفَلَا تَتَّقُونَ

বল, ‘আসমান ও যমীন থেকে কে তোমাদের রিজিক দেন? অথবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিসমূহের মালিক? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন আর জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন? কে সব বিষয় পরিচালনা করেন’? তখন তারা আবার বলবে, ‘আল্লাহ’। সুতরাং, তুমি বল, ‘তারপরও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না’? সুরা ইউনুস : ৩১

খুবই পরিতাপের বিষয় আমাদের সমাজের কিছু নামধারী মুসলিমের বিশ্বাস আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেহেতু একা সেহেতু তার একার পক্ষে পুরো বিশ্বজগৎ পরিচালনা করা সম্ভব নয় (নাউজুবিল্লাহ)। ফলে তিনি তাঁর বিশ্ব পরিচালনা কাজের সুবিধার্থে আরশে মুয়াল্লায় একটি পার্লামেন্ট কায়েম করেছেন। সেই পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা মোট ৪৪১ জন। আল্লাহ তাদের স্ব-স্ব কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। তন্মধ্যে নাজির ৩১৯ জন, নাকীব ৭০ জন, আওতাদ ৭ জন, কুতুব ৫ জন, আবদাল ৪০ জন এবং একজন হলেন গাওছুল আযম যিনি মক্কায় থাকেন। উম্মতের মধ্যে প্রায় ৪০ জন আল্লাহ তায়ালার মধ্যস্থতায় পৃথিবীবাসীর বিপদাপদ দূরীভূত করে থাকেন। আর আওলিয়া দ্বারা সৃষ্ট জীবের হায়াত, রুজি, বৃষ্টি, বৃক্ষ জন্মানো ও মুছিবত বিদূরণের কার্য সম্পাদন করেন। মৃতগণ কবরে শ্রবণ, দর্শন ও উপলব্ধি করে থাকেন। তাদের শ্রবণ ও দর্শন যদিও সব সময় থাকে, কিন্তু জুমুয়ার দিনে তা বাড়িয়ে দেয়া হয় এবং সাধারণ মৃত ব্যক্তিরাও কোনরূপ ব্যতিক্রম ছাড়া যিয়ারাতকারীদের সাথে কথা বলে। এই সবই শিরকি কথা ইহার সাথে কুরআন সুন্নাহর কোন সম্পর্ক নাই। যা কিছু বল হয়েছে সবই ভণ্ড সুফিদের বানান কথা মাত্র। এ সব কুফরি কথা কে শুধু কবিরা গুনাহ বললে ভুল হবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ‌ۖ كُلٌّ۬ يَجۡرِى لِأَجَلٍ۬ مُّسَمًّ۬ى‌ۚ يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَ يُفَصِّلُ ٱلۡأَيَـٰتِ لَعَلَّكُم بِلِقَآءِ رَبِّكُمۡ تُوقِنُونَ

এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। সুরা রাদ : ২

১৪। গাইরুল্লাহর নিকট একচ্ছত্র আনুগত্য করার শিরক।

ভ্রান্ত আকিদব হলো :: গাইরুল্লাহর নিকট একচ্ছত্র আনুগত্য করা।

এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—

গাইরুল্লাহর নিকট একচ্ছত্র আনুগত্য করার শিরক।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْكَٰفِرِينَ

বল, তোমরা আল্লাহ ও রসুলের আনুগত্য কর। যদি তারা অস্বীকার করে তাহলে আল্লাহ কাফেরদের ভালোবাসেন না। সুরা আল ইমরান : ৩২

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

أَفَغَيْرَ دِينِ ٱللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُۥٓ أَسْلَمَ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ

তারা কি আল্লাহর দীনের পরিবর্তে অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমানসমূহ ও যমিনে যা আছে তা তাঁরই আনুগত্য করে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় এবং তাদেরকে তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন করা হবে। সুরা আল ইমরান : ৮৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن تُطِيعُوا۟ فَرِيقًا مِّنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ يَرُدُّوكُم بَعْدَ إِيمَٰنِكُمْ كَٰفِرِينَ

হে ইমানদারগণ! তোমরা যদি কিতাবধারীদের কোন একটি দলের আনুগত্য করো তাহলে ইমান আনার পর তারা তোমাদেরকে আবার কাফের বানিয়ে দেবে। সুরা আল ইমরান : ১০০

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

تِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِۚ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ يُدْخِلْهُ جَنَّٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ وَذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ

এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা। সুরা নিসা : ১৩

১৫। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়াও কেউ কাউকে ধনী বা দরিদ্র বানাতে পারে।

ভ্রান্ত আকিদব হলো :: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়াও কেউ কাউকে ধনী বা দরিদ্র বানাতে পারে।

এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়াও কেউ কাউকে ধনী বা দরিদ্র বানাতে পাওে না।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَأَنَّهُۥ هُوَ أَغْنَىٰ وَأَقْنَىٰ

তিনিই অভাবমুক্ত ও সম্পদশালী করেন। সুরা নাজম : ৪৮

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ

আল্লাহ যাকে চান তার সম্পদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ বড় দানশীল, মহাজ্ঞানী।  (সুরা বাকারা ২:২৬১)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَوَجَدَكَ عَآئِلًا فَأَغْنَىٰ

তিনি তোমাকে পেয়েছেন নিঃস্ব। অতঃপর তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। সুরা দোহা : ৮

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 قُلْ إِنَّ ٱلْفَضْلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ

বল, ‘নিশ্চয় অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে চান, তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ’। সুরা আল ইমরান : ৭৩

সমস্ত প্রাচুযের্র ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হাতে। যদি কেউ সমান্যও বিশ্বাস রাখে যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে তবে শির্কে আকবর হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *