মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
১৬। আল্লাহ তাআলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরের খবর রাখেন।
ভ্রান্ত আকিদব হলো :: আল্লাহ তাআলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরের খবর রাখেন।
এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—
আল্লাহ তাআলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরের খবর রাখতে পাওে না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَعْلَمُ ٱللَّهُ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِىٓ أَنفُسِهِمْ قَوْلًۢا بَلِيغًا
ওরা তো তারাই যাদের অন্তরের কথা আল্লাহ জানেন। তাই তুমি তাদেরকে উপেক্ষা করো, আর কিছু উপদেশ দাও এবং তাদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কিছু কথা বল। সুরা নিসা : ৬৩
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
يَعْلَمُ خَآئِنَةَ ٱلْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِى ٱلصُّدُورُ
চক্ষুসমূহের খেয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন রাখে তিনি তা জানেন। সুরা গাফির : ১৯
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
أَوَلَيْسَ ٱللَّهُ بِأَعْلَمَ بِمَا فِى صُدُورِ ٱلْعَٰلَمِينَ
আল্লাহ কি বিশ্ববাসীর অন্তরের কথা সম্পর্কে অবগত নন? সুরা আনকাবুত : ১০
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ
আল্লাহ অন্তরের খবর ভাল করেই জানেন। সুরা লোকমান : ২৩
একমাত্র মহান আল্লাহই মানুষের অন্তরের খবর জানেন। কিছু ভণ্ড পীর বা আল্লাহর অলি দাবিদার কিছু প্রতারক দাবি করে যে সেও মানুষের অন্তরের খবর রাখেন। অনেক অজ্ঞ মানুষ ভণ্ডদের কথা বিশ্বাস করে। এই দুই শ্রেণীর লোকই কাফির। কেননা তারা উভয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমকক্ষ দাড় করিয়েছে।
১৭। আল্লাহ্ তাআলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তর পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
ভ্রান্ত আকিদব হলো :: এ কথা বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ্ তাআলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তর পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—
আল্লাহ্ তাআলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তর পরিবর্তন ঘটাতে পাওে না।
শাহর ইবন হাওশাব রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামা রা. কে বললাম, হে উম্মুল মুমিনিন! রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন আপনার কাছে অবস্থান করতেন তখন অধিকাংশ সময় তিনি কি দুয়া করতেন? তিনি বললেন, তাঁর অধিকাংশ দু’আ ছিল-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
উচ্চারণ: ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব ছাব্বিত কালবী আলা দীনিকা
অর্থ: হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তর তুমি তোমার দীনে সুদৃঢ় রাখ।
তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি অধিকাংশ সময় এই দু’আ কেন করেন যে, ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব ছাব্বিত কালবী আলা দীনিকা? তিনি বললেন, হে উম্মু সালামা! এমন কোন মানুষ নেই যার অন্তর আল্লহ ত’আলার অঙ্গুল সমূহের দুই আঙ্গুলের মাঝে নেই। যাকে তিনি ইচ্ছা তাকে তিনি দিনের উপর কায়েম রাখেন, যাকে ইচ্ছা তিনি সরিয়ে দেন। বর্ণনাকারী মুয়াজ রহ. এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন-
ربَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا
হে আমাদের রব! হেদায়েতের পর তুমি আমাদের অন্তর বক্র করে দিও না, সুরা আল ইমরান-৮।
সুনানে তিরমিজি : ৩৫২২
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এই দু‘আ অধিক পাঠ করতেন-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
উচ্চারণ: ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব ছাব্বিত কালবী আলা দীনিকা
হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বিনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ইমান এনেছি আপনার উপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর। আপনি আমাদের ব্যাপারে কি কোনো রকম আশঙ্কা করেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলার আঙ্গুলসমূহের মধ্যকার দুটি আঙ্গুলের মাঝে সমস্ত অন্তরই অবস্থিত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন। সুনানে তিরমিজি : ২১৪০, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৩৮৩৪)
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি ﷺ অধিকাংশ সময় কসম করতেন এই বলে, না। তাঁর কসম, যিনি অন্তরসমূহ পরিবর্তন করে দেন। সহিহ বুখারি : ৭৩৯১
ইবনু উমার বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ ﷺ এর অধিকাংশ শপথ ছিল, না, অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারীর শপথ। সহিহ বুখারি : ৬৬১৭, ৬৬২৮, ১৫৪০ সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৯২, সুনানে নাসায়ী : ৩৭৬১, ৩৭৬২, সুনানে আবূ দাউদ : ৩২৬৩
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের অন্তর পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন। যার ইচ্ছা তার অন্তর পরিবর্তন করে থাকেন। কাজেই কেউ যদি বিশ্বাস করে কোনো পীর, ফরিক মানুষের অন্তর পরিবর্তন করে দিতে পারেন তবে সে কুফরি করবে।
১৮। আল্লাহ তাআলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে।
ভ্রান্ত আকিদব হলো :: এ কথা বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে।
এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—
আল্লাহ তাআলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পাওে না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
لِّلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِۚ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُۚ يَهَبُ لِمَن يَشَآءُ إِنَٰثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَآءُ ٱلذُّكُورَ
আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। সুরা শুরা : ৪৯
আল্লাহ তায়ালা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে। অনেক অজ্ঞ মুসলিমকে দেখা যায় সন্তান লাভের আশায় মাজারে মাজারে ঘুরে। এমন কি অনেক ভণ্ড প্রতারক ফকিরের খপ্পরে পড়েনি:শ্ব হয়েছেন। অথচ তার উচিত ছিল শরিয়ত সম্মত চিকিৎসার পাশাপাশি মহান আল্লাহ উপর তাওয়াক্কুল করে তার নিকটই সাহায্য চাওয়া।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
হে প্রভু! আমাকে সৎ সন্তান দান কর। সুরা সাফফাত : ১০০
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا وَذُرِّيَّٰتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَٱجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন। সুরা ফুরকান : ৭৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
فَأَرَدْنَآ أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِّنْهُ زَكَوٰةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا
তাই আমরা চাইলাম, তাদের প্রভু তাদেরকে ঐ ছেলের পরিবর্তে পবিত্রতায় শ্রেয়তর ও মায়া-মমতায় নিকটতর একটি ছেলে দান করুক। সুরা কাহাব : ৮১
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُۥۖ قَالَ رَبِّ هَبْ لِى مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةًۖ إِنَّكَ سَمِيعُ ٱلدُّعَآءِ
সেখানে যাকারিয়া তার প্রভুর কাছে দোয়া করে। সে বলে, “হে আমার প্রভু! আমাকে তোমার পক্ষ থেকে (তোমার বিশেষ কৃপায়) ভাল সন্তান দান কর। অবশ্যই তুমি দোয়া শ্রবণকারী। সুরা আল ইমরান : ৩৮
১৯। কাউকে আল্লাহ অপেক্ষা উত্তম ফয়সালাকারী মানা।
ভ্রান্ত আকিদব হলো :: কাউকে আল্লাহ অপেক্ষা উত্তম ফয়সালাকারী মানা।
এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—
আল্লাহ তায়ালাই এতমাত্র উত্তম ফয়সালাকারী।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রশ্ন করেন-
أَفَحُكۡمَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ يَبۡغُونَۚ وَمَنۡ أَحۡسَنُ مِنَ ٱللَّهِ حُكۡمٗا لِّقَوۡمٖ يُوقِنُونَ
তারা কি তবে জাহিলিয়াতের বিধান চায়? আর দৃঢ় বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম? সুরা মায়েদা : ৫০
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
যে সব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই কাফির। সুরা মায়িদাহ : ৪৪
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
ثُمَّ رُدُّوۡۤا اِلَی اللّٰہِ مَوۡلٰىہُمُ الۡحَقِّ ؕ اَلَا لَہُ الۡحُکۡمُ ۟ وَہُوَ اَسۡرَعُ الۡحٰسِبِیۡنَ
তারপর তাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হয় তাদের সত্য অভিভাবক আল্লাহর কাছে। সাবধান! বিধান প্রদানের ক্ষমতা তাঁরই। আর তিনি হচ্ছেন খুব দ্রুত হিসাবকারী। সুরা আনআম : ৬২
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
إِنَّآ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَـٰبَ بِٱلۡحَقِّ لِتَحۡكُمَ بَيۡنَ ٱلنَّاسِ بِمَآ أَرَٮٰكَ ٱللَّهُۚ وَلَا تَكُن لِّلۡخَآٮِٕنِينَ خَصِيمً۬ا
আমি সত্য সহকারে এই কিতাব তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে যে সঠিক পথ দেখিয়েছেন সেই অনুযায়ী তুমি লোকদের মধ্যে ফায়সালা করতে পারো৷ তুমি খেয়ানতকারী ও বিশ্বাস ভংগকারীদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হয়ো না৷ সুরা নিসা : ১০৫
জাহিলিয়াতের ফয়সালা কাসনা করা আর আল্লাহ ফয়সালাকে অস্বীকার করা কুফরি কাজ। আর আল্লাহ অপেক্ষা উত্তম ফয়সালাকারী সমকক্ষ ভাবা শিরক মত কবিরা গুনাহ। কেননা আল্লাহর ফয়সালাই কল্যাণ কর ও চূড়ান্ত। আল্লাহর শরীয়তে স্বীকৃত হয়নি এমন সব ফয়সালাকে বর্জন করতে হবে। আল্লাহ হচ্ছেন ফায়সালা করার যাবতীয় ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী। অন্য কাউকে চূড়ান্ত ফায়সালা অধিকারী মনে করা শিরক। সাধারণত মানুষকে কোন ফায়সালা করার ক্ষমতা দিলে আল্লাহ বিধান মতো ফায়সালা করতে হবে তখন এটাই আল্লাহর ফায়সালা বলে গণ্য হবে।
২০। আল্লাহ ছাড়া কাউকে রাষ্ট্র ক্ষমতার উৎস মনে করা।
ভ্রান্ত আকিদব হলো :: আল্লাহ ছাড়া কাউকে রাষ্ট্র ক্ষমতার উৎস মনে করা।
এই সম্পর্কে সহিহ আকিদা হলো—
আল্লাহই একমাত্র রাষ্ট্র ক্ষমতার উত্তম উৎস।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَٱللَّهُ يُؤۡتِى مُلۡڪَهُ ۥ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ۬
আর আল্লাহ যাকে চান, তাকে তার রাজত্ব দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। সুরা বাকারা : ২৪৭
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
قُلِ ٱللَّهُمَّ مَـٰلِكَ ٱلۡمُلۡكِ تُؤۡتِى ٱلۡمُلۡكَ مَن تَشَآءُ وَتَنزِعُ ٱلۡمُلۡكَ مِمَّن تَشَآءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَآءُۖ بِيَدِكَ ٱلۡخَيۡرُۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَىۡءٍ۬ قَدِيرٌ۬
বল, ‘হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন। আর যাকে চান অপমানিত করেন, আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান’। সুরা আল ইমরান : ২৬
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাআলা ওয়াদা করছেন তিনি অবশ্য দুনিয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দান করবেন। কিন্তু তিনি দুটি অর্থ আরোপ করছেন।
১। ইমান আনতে হবে
২। আমলে সালেহা করতে হবে
নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। কাজেই বান্দাকে উক্ত দুটি কাজ করে আল্লাহর শর্ত পূরণ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। যেমন নবি ﷺ এবং তার একনিষ্ঠ সাহাবিগণ যখন উক্ত শর্ত পূরণ করলেন তখনই আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিলেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَيَسۡتَخۡلِفَنَّهُمۡ فِى ٱلۡأَرۡضِ ڪَمَا ٱسۡتَخۡلَفَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِم
আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ইমান আনবে ও সৎ কাজ করবে তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন। সুরা নুর : ৫৫
উপরের আয়াতে দ্বারা বুঝা যায়, নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার একছন্ন মালিক। তার তার দেয়া শর্ত সঠিক ইমান ও কবুল যোগ্য আমল করতে পারলেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন। অনেক সময় জনগণ, টাকা পয়সা, সুনাম সুখ্যাতি, আত্মীয়তার সম্পর্ক অনেক সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করার উপায় উপকরণ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এগুলোই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করার উপায় উপকরণ মনে না করে, রাষ্ট্র ক্ষমতার উত্স মনে করা শিরকের মত কবিরা গুনাহ। যেমন অনেকে বলে থাকেন, “জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস”।
আল্লাহকে একমাত্র সকল ক্ষমতার উত্স মেনে নিয়ে উক্ত কথাটি বললে ছোট শিরক হবে কিন্তু উক্ত কথাটি মনে প্রাণে বিশ্বাস করলে বড় শিরক এতে কোন সন্দেহ নেই।