পাত্র ও পাত্রী নির্বাচন

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

ইসলামি শরীয়তে পাত্র ও পাত্রী নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, বিবাহ শুধু দুটি মানুষের মধ্যে একটি চুক্তি নয়, বরং এটি একটি পবিত্র বন্ধন যা একটি নতুন পরিবারের ভিত্তি স্থাপন করে। এই নির্বাচনের উপর একটি পরিবারের সুখ-শান্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নির্ভর করে। ইসলামে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা একজন মুসলিমকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মীয় গুণাবলীকে (দ্বীনদারী) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও দ্বীনদারী প্রধান শর্ত, তবে এর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত। তার মধ্যে অন্যতম হলো- সচ্চরিত্র, আখলাক, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ও আর্থিক সক্ষমতা। যদিও ইসলামি শরীয়তে  বিশাল ধন-সম্পদ শর্ত নয়, তবে জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতা থাকা বাঞ্ছনীয়।

ইসলামে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। এটি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়, বরং এটি একটি পরিবার এবং সমাজের কল্যাণের সাথে জড়িত। সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পরিবার সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। ইসলাম এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যা মেনে চললে একটি পরিবারে সুখ, শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।

১. পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করার প্রধান ও প্রথম শর্ত হলো ঈমান

বর্তমান যুগে অনেক অজ্ঞ মুসলিম মুশরিক নারীকে বিবাহ করছে। বিশেষ করে যারা ইসলাম সম্পর্কে খুব বেশি জ্ঞান রাখেন না, তারা ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ। তারা মনে করে যে ভালোবাসা বা ব্যক্তিগত পছন্দের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কোনো স্থান নেই। কিন্তু এটি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সাবেক প্রধান মন্ত্রী হাসিনা ছেলে একজন খ্রীষ্টান মেয়ে বিবাহ করেছেন। সংবিধার বিশে রচয়িতা ও বিশিষ্ট আইনজীবি ড. কামালের মেয়ে একজন ইহুদি ছেলেকে বিবাহ করেছেন। বিষিষ্ট নাট্য অভনেতা ফেদৌসি মজুমদান, বিবাহ করেছেন মুশরিক রামেন্দ্র মজুমদার কে। এ কাজ ইসলাম সম্পূর্ণ হারাম।

কাজেই পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনে সময় প্রথম ও প্রধান  শর্ত হলো তাকে ঈমানদার হতে হবে। যদি কোন ইহুদী, খ্রীষ্টান বা মুশরিক ঈমানের স্বীকৃতি দেয় তবে তাকে বিবাহ করার কোন অসুবিধা নাই।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَلَا تَنۡکِحُوا الۡمُشۡرِکٰتِ حَتّٰی یُؤۡمِنَّ ؕ  وَلَاَمَۃٌ مُّؤۡمِنَۃٌ خَیۡرٌ مِّنۡ مُّشۡرِکَۃٍ وَّلَوۡ اَعۡجَبَتۡکُمۡ ۚ  وَلَا تُنۡکِحُوا الۡمُشۡرِکِیۡنَ حَتّٰی یُؤۡمِنُوۡا ؕ  وَلَعَبۡدٌ مُّؤۡمِنٌ خَیۡرٌ مِّنۡ مُّشۡرِکٍ وَّلَوۡ اَعۡجَبَکُمۡ

আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে এবং মুমিন দাসী মুশরিক নারীর চেয়ে নিশ্চয় উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। সূরা বাকারা : ২২১

এই আয়াত থেকে এটি স্পষ্ট যে, পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের সময় প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ঈমান। সম্পদ, সৌন্দর্য, বংশমর্যাদা বা সামাজিক অবস্থান—এগুলো কখনোই ঈমানের ওপর অগ্রাধিকার পেতে পারে না। যদি কোনো অমুসলিম ব্যক্তি (ইহুদি, খ্রিস্টান বা মুশরিক) আন্তরিকভাবে ইসলামের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে ঈমান আনে, তবে তাকে বিবাহ করা জায়েয।

২. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে দ্বীনদারিত্বকে প্রাধান্য দেওয়া

এটি পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শর্ত। একজন ধার্মিক জীবনসঙ্গী তার ধর্মীয় দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকবে এবং পরিবারকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ

চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সহিহ বুখারি : ৫০৯০, সহিহ মুসলিম : ১৪৬৬, সুনানে নাসায়ী ৩২৩০, সুনানে আবূ দাঊদ : ২০৪৭, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৮৫৮, মিশকাত : ৩০৭৪,  আহমাদ : ৯৫২১, ৯৫২৬,  ইরওয়া : ১৭৮৩, সহীহ আল জামি : ৩০০৩

নবীজি (সাঃ) এই চারটি গুণের কথা উল্লেখ করার পর স্পষ্টভাবে বলেছেন, “সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে, নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে অন্য সব গুণের চেয়ে ধর্মীয় জ্ঞান এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যই একজন জীবনসঙ্গীর সবচেয়ে মূল্যবান বৈশিষ্ট্য।

অন্যান্য গুণ, যেমন সম্পদ, বংশ বা সৌন্দর্য, ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। সম্পদ ফুরিয়ে যেতে পারে, বংশমর্যাদা সবসময় সুখ নিশ্চিত করে না, এবং সৌন্দর্য সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে যায়। কিন্তু দ্বীনদারী বা ধার্মিকতা হলো এমন একটি গুণ যা জীবনের সব পরিস্থিতিতে স্থির থাকে এবং একটি পরিবারকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। একজন ধার্মিক জীবনসঙ্গী ভালো ও মন্দ উভয় সময়েই আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে এবং পারিবারিক বন্ধনকে মজবুত করবে।

আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

الدُّنْيَا كُلُّهَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَة الصَّالِحَة»

“দুনিয়া পুরোটাই হলো ভোগের সামগ্রী, আর দুনিয়ার সর্বোত্তম ভোগের সামগ্রী হলো নেককার নারী।”

সহিহ মুসলিম ১৪৬৭, মিশকাত : ৫০৮৩, সুনানে নাসায়ী : ৩২৩২, আহমাদ : ৬৫৬৭, সহীহ আল জামি :  ৩৪১৩

হুরায়রাহ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

যখন তোমাদের নিকট কেউ বিবাহের প্রস্তাব পাঠায়, তখন দীনদারী ও সচ্চরিত্রের মূল্যায়ন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ কর। যদি তোমার তা না কর, তাহলে দুনিয়াতে বড় রকমের ফিতনা-বিশৃঙ্খলা জন্ম দেবে। মিশকাত : ৩০৯০, সুনানে তিরমিযী : ১০৮৪, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৯৬৭, ইরওয়া ১৮৬৮

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সোনা-রূপা (মূল্যবান সম্পদ) পুঞ্জীভূত করে রাখার সমালোচনায় কুরআনের আয়াত নাযিল হলে সাহাবায়ে কিরাম বলেন, তাহলে আমরা কোন্ সম্পদ ধরে রাখবো? ’উমার (রাঃ) বলেন, আমি তা জেনে তোমাদের বলে দিবো। অতঃপর তিনি তার উটকে দ্রুত হাঁকিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পেয়ে গেলেন। আমিও তার পিছনে পিছনে গেলাম। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল আমরা কোন্ সম্পদ সঞ্চয় করবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই যেন অর্জন করে কৃতজ্ঞ অন্তর, যিকিরকারী জিহ্বা এবং আখেরাতের কাজে তাকে সহায়তাকারী ঈমানদার স্ত্রী। সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৯৫৬, সুনানে তিরমিজি : ৩০৯৪, রওযা ১৭৯

আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ গোটা দুনিয়াই হলো সম্পদ। আর দুনিয়ার মধ্যে পুণ্যবতী স্ত্রীলোকের চেয়ে অধিক উত্তম কোন সম্পদ নাই।  সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৫৫

বিয়ে শুধু পার্থিব জীবনের হিসাব-নিকাশ নয়, বরং এটি একটি পবিত্র বন্ধন যা ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। সম্পদ, বংশ বা সৌন্দর্য আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং নেককার পরিবারের ভিত্তি হলো দ্বীনদারী বা ধার্মিকতা। তাই, জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সময় এই গুণটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

দ্বীনদারী বা ধার্মিকতা শুধু পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নয়, পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ। যদিও পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদারীর গুরুত্ব তুলে ধরেছে, এর মূল শিক্ষা পাত্র-পাত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

মেয়ের অভিভাবকের জন্য এটি একটি বিশাল দায়িত্ব যে, তারা তাদের মেয়ের জন্য এমন একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে বের করবেন যিনি তার ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। কারণ, একজন দ্বীনদার পাত্র তার স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকবে এবং তাকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করবে। সে তার পরিবারকে আল্লাহর ভয় এবং ভালোবাসা দিয়ে পরিচালিত করবে, যা একটি সুখী এবং শান্তিময় জীবনের ভিত্তি। একজন দ্বীনদার পাত্র শুধুমাত্র বাহ্যিক সম্পদ, সৌন্দর্য বা বংশমর্যাদার ওপর নির্ভর করে না। বরং সে তার স্ত্রীকে আল্লাহর আমানত হিসেবে দেখে। সে স্ত্রীকে সম্মান করে এবং তার সাথে উত্তম আচরণ করে। এছাড়া, একজন ধার্মিক স্বামী তার সন্তানদের সৎ ও ধর্মভীরু হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আদর্শ ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে, যে পাত্রের মধ্যে দ্বীনদারী নেই, তার সম্পদ বা বংশমর্যাদা যতই থাকুক না কেন, সে যেকোনো সময় বিপথে যেতে পারে এবং তার স্ত্রীর ওপর অবিচার করতে পারে। এমন সম্পর্ক শুধুমাত্র পার্থিব জীবনেই নয়, পরকালেও ক্ষতির কারণ হতে পারে। অতএব, হাদিসের শিক্ষানুসারে, মেয়ের বা মেয়ের অভিভাবকের উচিত জাগতিক ক্ষণস্থায়ী বিষয়গুলোর চেয়ে একজন দ্বীনদার পাত্রের ধার্মিকতা, সততা এবং উত্তম চরিত্রের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া। কারণ, এর মাধ্যমেই একটি পরিবার দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে।

৩. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে সচ্চরিত্র ও নৈতিকতা দেখতে হবে

দ্বীনদারীর পাশাপাশি উত্তম চরিত্র থাকা অপরিহার্য। একজন উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি তার জীবনসঙ্গীর সাথে দয়া ও সম্মানের সাথে আচরণ করবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

 ؕ فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِّلۡغَیۡبِ بِمَا حَفِظَ اللّٰہُ ؕ

সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযাতকারিনী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাযাত করেছেনে। সুনা নিসা : ৩৪

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যে ব্যক্তির দীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ তোমাদের নিকট সে ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। তা যদি না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। সুনানে তিরমিজি : ১০৮৪, ইরওয়া : ১৮৬৮, সহীহাহ : ১০২২, মিশকাত : ২৫৭৯

৪. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে সমতা (কুফু) বিবচেনায় বিবাহ করতে হবে

বংশের পবিত্রতা ও সামাজিক মর্যাদা দেখে বিবাহ করা উচিত, কারণ এর মাধ্যমে পরিবারের নৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি মজবুত হয়।

’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ভবিষ্যত বংশধরদের স্বার্থে উত্তম মহিলা গ্রহণ করো এবং সমতা (কুফু) বিবচেনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও সমতার প্রতি লক্ষ্য রাখো। সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৬৮, সহীহাহ : ১০৬৭

৫. পাত্রী নির্বাচনে প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী বিবেচনায় নিতে হবে

মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বললো, আমি এক সুন্দরী ও মর্যাদা সম্পন্ন নারীর সন্ধান পেয়েছি। কিন্তু সে বন্ধ্যা। আমি কি তাকে বিয়ে করবো? তিনি বললেন, না। অতঃপর লোকটি দ্বিতীয়বার এসেও তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন। লোকটি তৃতীয়বার তাঁর নিকট এলে তিনি তাকে বললেন, এমন নারীকে বিয়ে করো, যে প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী। কেননা আমি অন্যান্য উম্মাতের কাছে তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে গর্ব করবো। সুনানে আবু দাউদ : ২০৫০

৫. পাত্রী নির্বাচনে অধিক সন্তান প্রসবকারী বিবেচনায় নিতে হবে

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

انْكِحُوا فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمْ

তোমরা বিবাহ করো আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গৌরব করবো। সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৮৬৩,

৬. পাত্র নির্বাচনে ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা থাকা দরকার

পুরুষের জন্য বিবাহের আগে ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতা থাকা জরুরি, কারণ তাকে পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। কেননা, সওম তার যৌনতাকে দমন করবে। সহিহ বুখারি : ৫০৬৬, সহিহ মুসলিম : ১৪০০, সুনানে নাসায়ী ৩২১০, সুনানে তিরমিযী : ১০৮১, আহমাদ : ৪০২৩, ইরওয়া : ১৭৮১, সহীহ আল জামি : ৭৯৭৫।

তবে মোটামুটি ভরন পোষণের ব্যবস্থা থাকলে আল্লাহ উপর ভরষা করে বিবাহ করলে তিনি প্রাচুর্যে ভবে দিবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَاَنۡکِحُوا الۡاَیَامٰی مِنۡکُمۡ وَالصّٰلِحِیۡنَ مِنۡ عِبَادِکُمۡ وَاِمَآئِکُمۡ ؕ اِنۡ یَّکُوۡنُوۡا فُقَرَآءَ یُغۡنِہِمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ؕ وَاللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ

আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী। সুরা নুর : ৩২

৭. কুমারীত্ব নারীকে বিবাহ করা উত্তম

ইসলামে কুমারী নারীকে বিবাহ করাকে উৎসাহিত করা হয়, কারণ তারা সাধারণত স্বামীর প্রতি বেশি অনুগত ও প্রেমময়ী হয়।

আব্দুর রহমান ইবনু সালিম ইবনু ’উতবাহ্ ইবনু ’উওয়াইম ইবনু সা’ইদাহ্ আল আনসারী তাঁর পিতা, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

عَلَيْكُمْ بِالْأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَعْذَبُ أَفْوَاهًا وَأَنْتَقُ أَرْحَامًا وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ

তোমাদের কুমারী মেয়ে বিবাহ করা উচিত। কেননা তারা মিষ্টিমুখী, নির্মল জরায়ুধারী এবং অল্পতেই তুষ্ট হয়। সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৮৬১, মিশকাত : ৩০৯২, সহীহাহ : ৬২৩, সহীহ আল জামি : ৪০৫৩।

জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক যুদ্ধে শরীক ছিলাম। (যুদ্ধ শেষে ফেরার সময়) যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি একজন সদ্যবিবাহিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি বিবাহ করেছ! উত্তরে বললাম, জী হ্যাঁ। (পুনরায়) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কুমারী না বিধবা? আমি বললাম, বিধবা। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কুমারী বিবাহ করলে না কেন? তাহলে তুমিও তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করতে এবং সেও তোমার সাথে মন খুলে আমোদ-প্রমোদ করত।

জাবির(রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা যখন মদীনায় পৌঁছলাম, তখন আমরা নিজ ঘরে প্রবেশে উদ্যত হলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ থাম! রাত (সন্ধ্যা) পর্যন্ত অপেক্ষা কর (এখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করো না), আমরা রাতে নিজ নিজ ঘরে প্রবেশ করব। কেননা স্ত্রী তার অবিন্যস্ত চুল আঁচড়ে (পরিপাটি হতে) নিতে পারে এবং স্বামী বিচ্ছিন্না (প্রবাসী স্বামীর) নারী ক্ষুর ব্যবহার করে অবসর হয় (অর্থাৎ- নাভির নীচের চুল পরিষ্কার করে নিতে পারে)। সহিহ বুখারী : ৫২৪৭, ২০৯৭, ২৩০৯, ২৯৬৭, ৪০৫২, ৫০৭৯, ৫০৮০, ৫২৪৫, ৫২৪৭, ৫৩৬৭, ৬৩৮৭ সহিহ মুসলিম : ৭১৫,  মিশকাত : ৩০৮৮, সুনানে আবূ দাঊদ : ২০৪৮, সুনানে নাসায়ী : ৩২১৯, সুনানে তিরমিযী : ১১০০, দারিমী : ২২৬২, ইরওয়া : ১৭৮৫, সহীহ আল জামি : ৪২৩৩।

৮. পাত্রী নির্বাচনে সন্তানের প্রতি অধিক স্নেহপরায়ণা বিবেচনায় নিতে হবে

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

উট আরোহণকারিণীদের মধ্যে সর্বোত্তম নারী কুরায়শ বংশের নারীগণ, তারা শৈশবকালে সন্তানের প্রতি অধিক স্নেহপরায়ণা হয় এবং স্বামীর ধন-সম্পদের উত্তম রক্ষনাবেক্ষণকারিণী হয়। সহিহ বুখারি : ৫০৮২, সহিহ মুসলিম : ২৫২৭, মিশকাত : ৩২০৪ সহীহাহ্ ১০৫২, সহীহ আল জামি‘ ৩৩২৯।

৯. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে ধার্মিক পুরুষের জন্য ধার্মিক নারী হতে হবে

আপনি যদি একজন ভালো জীবনসঙ্গী চান, তাহলে আপনাকে প্রথমে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিবাহের জন্য পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের আগে নিজেদের চরিত্রকে উন্নত করা উচিত। কারণ, আপনার চরিত্র যেমন হবে, আপনার জীবনসঙ্গীর চরিত্রও তেমনই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সম্পদ, সৌন্দর্য বা বংশমর্যাদার চেয়েও ধর্মীয় জ্ঞান, সততা এবং নৈতিক গুণাবলীকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কারণ, এই গুণগুলোই একজন মানুষকে “সচ্চরিত্র” হিসেবে তৈরি করে এবং একটি সুখী ও স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

اَلۡخَبِیۡثٰتُ لِلۡخَبِیۡثِیۡنَ وَالۡخَبِیۡثُوۡنَ لِلۡخَبِیۡثٰتِ ۚ  وَالطَّیِّبٰتُ لِلطَّیِّبِیۡنَ وَالطَّیِّبُوۡنَ لِلطَّیِّبٰتِ ۚ  اُولٰٓئِکَ مُبَرَّءُوۡنَ مِمَّا یَقُوۡلُوۡنَ ؕ  لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ 

দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য। আর সচ্চরিত্রা নারীরা সচ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষরা সচ্চরিত্রা নারীদের জন্য; লোকেরা যা বলে, তারা তা থেকে মুক্ত। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিয্ক। সুরা নুর : ২৬

সূরা নূরের এই আয়াতটি আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয় যে, পাত্র-পাত্রী নির্বাচন কোনো বাহ্যিক বিষয় নয়। এটি আসলে নিজেদের ভেতরের প্রতিচ্ছবি। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকেই ভালো জীবনসঙ্গী দান করেন, যারা নিজেরা ভালো এবং পবিত্র জীবনযাপন করে। তাই, বিবাহের জন্য যোগ্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার আগে আমাদের উচিত নিজেদেরকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সচ্চরিত্রবান মানুষ হিসেবে তৈরি করা।

১০. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে সুন্দর মুখাবয়ব ও আকর্ষণীয় রূপ-সৌন্দর্য

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) এক মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন-

اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا فَفَعَلَ فَتَزَوَّجَهَا فَذَكَرَ مِنْ مُوَافَقَتِهَا

তুমি গিয়ে তাকে দেখে নাও। কেননা তা তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টিতে সাহায়ক হবে। অতঃপর তিনি তাই করলেন এবং তাকে বিবাহ করলেন। পরে তাঁর নিকট তাদের দাম্পত্য সমপ্রীতির কথা উল্লেখ করা হয়।  সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৬৫, সুনানে তিরমিযী : ১০৮৭, সুনানে নাসায়ী : ৩২৩৫, দারেমী : ২১৭২, মিশকাত : ৩১০৭, সহীহাহ : ৯৬।

১১. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে ধর্মীয় শিক্ষার বা দ্বীনের জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হলে ভালো হয়

হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মু‘আবিয়াহ (রাযি.)-কে খুৎবায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইল্ম দান করেন। আমি তো বিতরণকারী মাত্র, আল্লাহ্ই (জ্ঞান) দাতা। সর্বদাই এ উম্মাত কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর হুকুমের উপর কায়িম থাকবে, বিরোধিতাকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। সহিহ বুখারি : ৭১, ৩১১৬, ৩৬৪১,৭৩১২, ৭৪৬০, সহিহ মুসলিম : ১০৩৭, আহমাদ : ১৬৮৪৯, ১৬৮৭৮, ১৬৯১০

১৩. পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে সুস্থতা ও শারীরিক সক্ষমতা জেনে নিতে হবে :

পাত্র-পাত্রীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, সুস্থ জীবন যাপন এবং সন্তান লালন-পালনের জন্য শারীরিক সক্ষমতা জরুরি। যদি কোনো গুরুতর রোগ থাকে, যা দাম্পত্য জীবনে বা সন্তান ধারণে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে তা বিবাহের আগে জেনে নেওয়া উচিত। ইসলামে এই ধরনের বিষয়গুলো গোপন রাখার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সঞ্চয়শীলতা, একে অপরের প্রতি সম্মান, ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া খুবই জরুরি। এসব গুণগুলো দাম্পত্য জীবনকে আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল করে তোলে। বিবাহ শুধু দুটি মানুষের মিলন নয়, বরং দুটি পরিবারের বন্ধন। তাই উভয় পক্ষের পরিবারের প্রতি সম্মান দেখানো এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

১৪. যাদের সাথে বিবাহ হারাম

ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট সম্পর্কের মানুষের সাথে বিবাহ করা হারাম বা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এই সম্পর্কের ভিত্তি হল রক্তের সম্পর্ক, দুধের সম্পর্ক এবং বৈবাহিক সম্পর্ক। এই সম্পর্কগুলো আল্লাহ তায়ালা বলেন-

حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمۡ اُمَّہٰتُکُمۡ وَبَنٰتُکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ وَعَمّٰتُکُمۡ وَخٰلٰتُکُمۡ وَبَنٰتُ الۡاَخِ وَبَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَاُمَّہٰتُکُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَۃِ وَاُمَّہٰتُ نِسَآئِکُمۡ وَرَبَآئِبُکُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِکُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ ۫  فَاِنۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ ۫  وَحَلَآئِلُ اَبۡنَآئِکُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِکُمۡ ۙ  وَاَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ۙ

তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতাদেরকে, তোমাদের মেয়েদেরকে, তোমাদের বোনদেরকে, তোমাদের ফুফুদেরকে, তোমাদের খালাদেরকে, ভাতিজীদেরকে, ভাগ্নীদেরকে, তোমাদের সে সব মাতাকে যারা তোমাদেরকে দুধপান করিয়েছে, তোমাদের দুধবোনদেরকে, তোমাদের শ্বাশুড়ীদেরকে, তোমরা যেসব স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছ সেসব স্ত্রীর অপর স্বামী থেকে যেসব কন্যা তোমাদের কোলে রয়েছে তাদেরকে, আর যদি তোমরা তাদের সাথে মিলিত না হয়ে থাক তবে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই এবং তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীদেরকে এবং দুই বোনকে একত্র করা (তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে)। তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ভিন্ন কথা। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সুরা নিসা : ২৩

এই আয়াতে আল্লাহ তিন ধরনের ১৪ প্রকারে সম্পর্কের ভিত্তিতে বিবাহকে হারাম করেছেন। রক্তের সম্পর্ক, দুধের সম্পর্ক এবং বৈবাহিক সম্পর্ক।

বংশগত কারণে হারাম (৭ জন):

১.  মা (জননী)

২.  মেয়ে (নিজ ঔরসের কন্যা)

৩.  বোন (সহোদরা, বৈমাত্রেয় বা সৎ বোন)

৪.  ফুফু (পিতার বোন)

৫.  খালা (মাতার বোন)

৬.  ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজী)

৭.  বোনের মেয়ে (ভাগ্নী)

দুধের সম্পর্কের কারণে হারাম (২ জন):

৮.  দুধ-মা (যিনি দুধ পান করিয়েছেন)

৯.  দুধ-বোন (দুধ-মায়ের কন্যা)

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে হারাম (৫ জন):

১০. শাশুড়ি (স্ত্রীর মা)

১১. স্ত্রীর অন্য স্বামীর ঔরসজাত কন্যা (যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস হয়)

১২. ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী (পুত্রবধূ)

১৩. স্ত্রীর বোন (দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম)

১৪. বিবাহিত নারী (কোনো নারীর বিবাহ থাকা অবস্থায় তাকে বিবাহ করা হারাম, যা আয়াতের পরবর্তী অংশে বর্ণিত আছে)।

এই আয়াতে আল্লাহ তিন ধরনের ১৪ প্রকারে সম্পর্কের ভিত্তিতে বিবাহকে হারাম করেছেন। রক্তের সম্পর্ক, দুধের সম্পর্ক এবং বৈবাহিক সম্পর্ক।

বংশগত কারণে হারাম (৭ জন):

১.  মা (জননী)

২.  মেয়ে (নিজ ঔরসের কন্যা)

৩.  বোন (সহোদরা, বৈমাত্রেয় বা সৎ বোন)

৪.  ফুফু (পিতার বোন)

৫.  খালা (মাতার বোন)

৬.  ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজী)

৭.  বোনের মেয়ে (ভাগ্নী)

দুধের সম্পর্কের কারণে হারাম (২ জন):

৮.  দুধ-মা (যিনি দুধ পান করিয়েছেন)

৯.  দুধ-বোন (দুধ-মায়ের কন্যা)

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে হারাম (৫ জন):

১০. শাশুড়ি (স্ত্রীর মা)

১১. স্ত্রীর অন্য স্বামীর ঔরসজাত কন্যা (যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস হয়)

১২. ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী (পুত্রবধূ)

১৩. স্ত্রীর বোন (দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম)

১৪. বিবাহিত নারী (কোনো নারীর বিবাহ থাকা অবস্থায় তাকে বিবাহ করা হারাম, যা আয়াতের পরবর্তী অংশে বর্ণিত আছে)।

}

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো পুরুষের পক্ষে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন- কোনো রমণীকে তার ফুফুর সাথে, ফুফুকে তার ভাইয়ের মেয়ের সাথে, ভাইয়ের মেয়েকে তার ফুফুর সাথে, খালাকে তার বোনের মেয়ের সাথে অথবা বোনের মেয়েকে তার খালার সাথে; এমনিভাবে ছোট বোনকে বড় বোনের সাথে, বড় বোনকে ছোট বোনের সাথে। সুনানে তিরমিযী : ১১২৬, সুনানে আবূ দাঊদ : ২০৬৫, সুনানে নাসায়ী : ৩২৯৮, মিশকাত : ৩১৭১, দারিমী : ২২২৪, আহমাদ : ৯৫০০।

রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদেরকে বিবাহ করা হারাম

কুরআনের সূরা নিসায় সরাসরি উল্লেখ আছে যে রক্তের সম্পর্কের কারণে বিবাহ করা হারাম। এদেরকে বলা হয় ‘মুহাররামাত’।   উপরের আয়াতের আলোক যে সকল রক্তের সম্পর্কের নারীর সাথে বিবাহ হারাম তারা হলো-

ক. মা এবং নানী-দাদী : নিজের জন্মদাত্রী মা, এবং মায়ের মা ও বাবার মা (নানী-দাদী) এর সাথে বিবাহ হারাম।

খ. মেয়ে এবং নাতনি : নিজের ঔরসের মেয়ে, ছেলের মেয়ে ও মেয়ের মেয়ে (নাতনি) এর সাথে বিবাহ হারাম।

গ. বোন : আপন বোন, সৎ বোন (পিতার বা মাতার দিক থেকে) এর সাথে বিবাহ হারাম।

ঘ. ফুফু : পিতার বোন।

ঙ. খালা : মায়ের বোন।

চ. ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজি) : ভাইয়ের ঔরসের মেয়ে।

ছ. বোনের মেয়ে (ভাগ্নি): বোনের ঔরসের মেয়ে।

দুধের সম্পর্কের কারণে যাদেরকে বিবাহ করা হারাম

দুধপানের মাধ্যমে যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, ইসলামে তা রক্তের সম্পর্কের মতোই গণ্য হয়। সহিহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিসে বলা হয়েছে, “রক্তের কারণে যাদেরকে হারাম করা হয়েছে, দুধের কারণেও তারা হারাম হবে।” অর্থাৎ, কোনো শিশু যদি কোনো মহিলার দুধ পান করে, তাহলে সেই মহিলা তার দুধ-মা এবং তার স্বামী সেই শিশুর দুধ-বাবা হয়ে যান।

আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বংশগত (রক্ত সম্পর্কের) কারণে ও দুধপান সম্পর্কের ভিত্তিতে সকল ক্ষেত্রে বিবাহ হারাম। সহিহ বুখারী ৫২৩৯, সুনানে আবূ দাঊদ : ২০৫৫, মিশকাত : ৩১৬১, দারিমী : ২২৯৫, সহীহ আল জামি : ৮০৩৩।

দুধপানের মাধ্যমে নিম্নোক্ত সম্পর্কগুলো হারাম হয়ে যায়:

দুধ-মা, এবং তার মা (দুধ-নানী-দাদী)।

দুধ-বোন, অর্থাৎ যে মেয়ে ওই একই মহিলার দুধ পান করেছে।

দুধ-মেয়ে, অর্থাৎ যে শিশুর সাথে আপনি একই মহিলার দুধ পান করেছেন।

দুধ-খালা (দুধ-মায়ের বোন)।

দুধ-ফুফু (দুধ-বাবার বোন)।

দুধ-ভাতিজি ও দুধ-ভাগ্নি।

দুধপানের মাধ্যমে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার শর্ত হলো, শিশুটি দুই বছর বয়সের মধ্যে অন্তত পাঁচবার পূর্ণ তৃপ্তির সাথে দুধ পান করবে।

১. শিশুটিকে পূর্ণ তৃপ্তির সাথে অন্তত পাঁচবার দুধ পান করতে হবে।

দুধপানের মাধ্যমে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার শর্ত হিসেবে “দুই বছর বয়সের মধ্যে অন্তত পাঁচবার পূর্ণ তৃপ্তির সাথে দুধ পান করা” – এই শর্তটি সরাসরি নিম্নোক্ত হাদিস থেকে এসেছে। এই বিষয়ে সবচেয়ে সুস্পষ্ট এবং শক্তিশালী দলিলটি হলো সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “কুরআনে যা নাযিল হয়েছিল, তার মধ্যে এটিও ছিল যে, ‘দশবার দুধপানে হারাম সাব্যস্ত হয়’। অতঃপর তা ‘পাঁচবার দুধপানে হারাম সাব্যস্ত হয়’ দ্বারা রহিত (মানসুখ) হয়ে যায়। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মারা যান, তখন এই আয়াতগুলো (শেষোক্ত বিধান) কুরআনের তিলাওয়াতযোগ্য অংশ হিসেবেই ছিল।” সহিহ মুসলিম : ১৪৫২; সুনানে আবু দাউদ : ২০৬২; সুনানে তিরমিজি : ১১৫০

প্রথমে দুধপানের সম্পর্ক হারাম হওয়ার জন্য দশবার দুধপানের বিধান ছিল। পরবর্তীতে এই বিধানটি রহিত হয়ে যায় এবং পাঁচবার দুধপানের বিধান বহাল হয়। আয়েশা (রা.) এর বক্তব্য অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের সময় এই পাঁচবারের বিধানটি কার্যকর ছিল।

উম্মুল ফাযল (রাঃ) (’আব্বাস (রাঃ)-এর স্ত্রী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার বা দু’বারের দুধপানে হারাম হয় না। সহিহ মুসলিম : ১৪৫১, ইবনু মাজাহ : ১৯৪০, মিশকাত : ৩১৬৪

আর ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে, (তিনি বলেন) একবার বা দু’বার চোষণে হারাম হয় না। সহিহ মুসলিম : ১৪৫০, সুনানে আবূ দাঊদ : ২০৬৩, সুনানে নাসায়ী : ৩৩১০, সুনানে তিরমিযী : ১১৫০, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৯৪১, মিশকাত : ৩১৬৫

২. দুধ পানের বয়সসীমা : অধিকাংশ ফকীহ (ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ) এবং উলামাদের মতে, এই দুধপান অবশ্যই শিশুর দুগ্ধপানের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হতে হবে। যেমন –

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَالۡوَالِدٰتُ یُرۡضِعۡنَ اَوۡلَادَہُنَّ حَوۡلَیۡنِ کَامِلَیۡنِ لِمَنۡ اَرَادَ اَنۡ یُّتِمَّ الرَّضَاعَۃَ ؕ وَعَلَی الۡمَوۡلُوۡدِ لَہٗ رِزۡقُہُنَّ وَکِسۡوَتُہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ؕ

আর মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, (এটা) তার জন্য যে দুধ পান করাবার সময় পূর্ণ করতে চায়। আর পিতার উপর কর্তব্য, বিধি মোতাবেক মাদেরকে খাবার ও পোশাক প্রদান করা। সূরা বাকারা : ২৩৩।

আবদুল্লাহ্ ইবনুযু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

ا رَضَاعَ إِلَّا مَا فَتَقَ الْأَمْعَاءَ

দুধপান (যার কারণে হারাম সাব্যস্ত হয়) কেবল সেই দুধপান, যা অন্ত্র (পাকস্থলী) ভেদ করে। সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৪৬, ইরওয়াহ : ২১৫০

উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুধ ছাড়ানোর বয়সের পূর্বে স্তনের বোটা হতে শিশুর পাকস্থলীতে দুধ না গেলে দুধপানের নিষিদ্ধতা কার্যকর হয় না। সুনানে তিরমিজি : ১১৫২, মিশকাত : ৩১৭৩, ইরওয়া : ২১৫০, সহীহ আল জামি : ৭৬৩৩।

সুতরাং, এই হাদিসগুলো একত্রিত করে উলামায়ে কিরামগণ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, কোনো শিশুর জন্য দুধের সম্পর্ক হারাম হওয়ার জন্য দুটি মৌলিক শর্ত রয়েছে:

ক. শিশুটির বয়স দুই বছরের মধ্যে হতে হবে।

খ .শিশুটিকে পূর্ণ তৃপ্তির সাথে অন্তত পাঁচবার দুধ পান করতে হবে।

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যাদেরকে বিবাহ করা হারাম

কোনো নারী বা পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলে কিছু সম্পর্ক স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যায়।

ক. স্থায়ীভাবে হারাম

আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَلَا تَنۡکِحُوۡا مَا نَکَحَ اٰبَآؤُکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ  اِنَّہٗ کَانَ فَاحِشَۃً وَّمَقۡتًا ؕ  وَسَآءَ سَبِیۡلًا 

আর তোমরা বিবাহ করো না নারীদের মধ্য থেকে যাদেরকে বিবাহ করেছে তোমাদের পিতৃপুরুষগণ। তবে পূর্বে যা সংঘটিত হয়েছে (তা ক্ষমা করা হল)। নিশ্চয় তা হল অশ্লীলতা ও ঘৃণিত বিষয় এবং নিকৃষ্ট পথ। সূরা নিসা : ২২

শ্বাশুড়ি : স্ত্রীর মা, অর্থাৎ স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পন্ন হলে তার মাকে বিবাহ করা চিরতরে হারাম হয়ে যায়।

বউয়ের মেয়ে (সৎ মেয়ে): স্ত্রীর পূর্বের স্বামী থেকে জন্ম নেওয়া মেয়ে। তবে এটি হারাম হবে যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস সম্পন্ন হয়। সূরা নিসা : ২৩

পুত্রের স্ত্রী (পুত্রবধূ): নিজের পুত্রের স্ত্রী। সূরা নিসা : ২৩

পিতার স্ত্রী (সৎ মা) : পিতার কোনো স্ত্রীর সাথে বিবাহ করা হারাম, তিনি জীবিত থাকুন বা মৃত।

অন্যের স্ত্রী থাকা অবস্থায় : আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَّالۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ

আর (হারাম করা হয়েছে) নারীদের মধ্য থেকে সধবাদেরকে। সুরা নিসা : ২৪

খ. অস্থায়ীভাবে হারাম

এই সম্পর্কগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত হারাম থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অবস্থার পরিবর্তন না হয়।

একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহ করা হারাম। এর দলিল সূরা আন-নিসা, আয়াত ২৩-এ রয়েছে। “তোমাদের জন্য আরও হারাম করা হয়েছে দুই বোনকে একত্রে (স্ত্রী হিসেবে) রাখা।” কিন্তু এক বোন মৃত বরণ করা পর অন্য বোনকে বিবাহ করা জায়েয। যেমন-

সৎ মা এবং তার বোন : কোনো মহিলার সাথে বিবাহে থাকা অবস্থায় তার ফুফু বা খালাকে বিবাহ করা হারাম।  হাদিসে এসেছে-

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যেন ফুফু ও তার ভাতিজীকে এবং খালা এবং তার বোনঝিকে একত্রে বিয়ে না করে। সহিহ বুখারি : ৫১০৯, ৫১১০, সহিহ মুসলিম : ১৪০৮, আহমাদ : ১০০০২

এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত বংশগত, সামাজিক এবং নৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *