প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও কুরআন : কুরআনে নদী ও সাগর

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

আল-কুরআন, যা প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে নাজিল হয়েছিল, তাতে এমন কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য রয়েছে যা কেবল আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেই সম্প্রতি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্র, নদী এবং তাদের মিলনস্থলের বর্ণনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আধুনিক সমুদ্রবিজ্ঞান (Oceanography) যে তথ্যগুলো প্রদান করে, কোরআনের আয়াতগুলো তার সাথে এক গভীর সাদৃশ্য বহন করে।

১. দুটি সমুদ্রের মিলনস্থল : অদৃশ্য অন্তরায় (Barrier)

আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে যখন দুটি ভিন্ন সমুদ্রের জলরাশি মিলিত হয়, তখন তারা তাৎক্ষণিকভাবে মিশে যায় না। তাদের মাঝে একটি অদৃশ্য কিন্তু কার্যকর ‘বাধা’ (Barrier) বিদ্যমান থাকে, যা দুটি জলরাশিকে পৃথক রাখে। এই বাধার কারণে, প্রতিটি সমুদ্রের জলরাশি তার নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে:

তাপমাত্রা (Temperature): এক সমুদ্রের জল অন্যটির চেয়ে উষ্ণ বা শীতল হতে পারে।

লবণাক্ততা (Salinity): লবণাক্ততার মাত্রা ভিন্ন হয়।

ঘনত্ব (Density): ঘনত্বে পার্থক্য থাকে, যা জলরাশির স্তরবিন্যাসে ভূমিকা রাখে।

ভূমধ্যসাগরের জল আটলান্টিক মহাসাগরের জলের তুলনায় উষ্ণ, অধিক লবণাক্ত এবং তুলনামূলকভাবে কম ঘনত্বের। যখন ভূমধ্যসাগরের জল জিব্রাল্টার প্রণালীর নিচে অবস্থিত জিব্রাল্টার সিল (Gibraltar Sill)-এর উপর দিয়ে আটলান্টিকে প্রবেশ করে, তখন এটি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রায় ১০০০ মিটার গভীরতায় বহুদূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। এই জলরাশি এই গভীরতায় এমনভাবে স্থিতিশীল হয় যে এটি তার বৈশিষ্ট্য হারাতে প্রায় কয়েকশ কিলোমিটার অতিক্রম করে।

এই দুটি সমুদ্রের মিলনস্থলে প্রতিনিয়ত বড় তরঙ্গ, শক্তিশালী স্রোত এবং জোয়ার-ভাটা বিরাজ করা সত্ত্বেও, তারা এই অদৃশ্য বাধাকে লঙ্ঘন করে না এবং দ্রুত মিশ্রিত হয়ে যায় না। জলরাশি ধীরে ধীরে মিশ্রিত হলেও, এই বাধা একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা বা সীমান্ত হিসেবে কাজ করে। এই বৈজ্ঞানিক সত্যের বর্ণনা আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে এসেছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

مَرَجَ  الْبَحْرَیْنِ یَلْتَقِیٰنِ ﴿ۙ۱۹﴾ بَیْنَهُمَا بَرْزَخٌ  لَّا  یَبْغِیٰنِ ﴿ۚ۲۰﴾ فَبِاَیِّ  اٰلَآءِ  رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ ﴿۲۱﴾

তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক আড়াল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। অতএব (হে মানব ও জ্বীন) তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? সরা আর রহমান : ১৯-২১

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

اَمَّنۡ جَعَلَ الۡاَرۡضَ قَرَارًا وَّجَعَلَ خِلٰلَہَاۤ اَنۡہٰرًا وَّجَعَلَ لَہَا رَوَاسِیَ وَجَعَلَ بَیۡنَ الۡبَحۡرَیۡنِ حَاجِزًا ؕ  ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ  بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ

বরং তিনি, যিনি যমীনকে আবাসযোগ্য করেছেন এবং তার মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই সমুদ্রের মধ্যখানে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।  সুরা নামল : ৬১

কুরআনের এই আয়াতে “অন্তরায়’ (আরবিতে ‘বারযাখ’) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দুটি সমুদ্রের জলরাশিকে পৃথক রাখার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। এটি এমন এক বৈজ্ঞানিক তথ্য যা আধুনিক সমুদ্রবিজ্ঞান আবিষ্কারের বহু শতাব্দী আগেই কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে এই প্রাকৃতিক ঘটনা খালি চোখে দেখা বা বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল।

২. মোহনা এবং মিষ্টি ও নোনা জলের মিলনস্থল: দৃঢ় বিভাজন (Forbidding Partition)

যখন কোরআন সমুদ্রের মতো দুটি লবণাক্ত জলের মিলনের কথা বলে, তখন কেবল ‘বাধা’ (Barrier) বা ‘অন্তরায়’-এর উল্লেখ করে। কিন্তু যখন মিষ্টি (সুস্বাদু) জল (যেমন নদী বা ভূগর্ভস্থ জল) ও নোনা জলের (যেমন সমুদ্রের জল) মিলনের কথা বলে, তখন বর্ণনাটি আরও বিস্তারিত হয়। কোরআন এই ক্ষেত্রে বাধার (barrier) পাশাপাশি একটি “দৃঢ় বিভাজন” (forbidding partition)-এর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করে।

আল্লাহ কোরআনে বলেছেন-

وَہُوَ الَّذِیۡ مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ ہٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ وَّہٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ۚ وَجَعَلَ بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخًا وَّحِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا

আর তিনিই দু’টো সাগরকে একসাথে প্রবাহিত করেছেন। একটি সুপেয় সুস্বাদু, অপরটি লবণাক্ত ক্ষারবিশিষ্ট এবং তিনি এতদোভয়ের মাঝখানে একটি অন্তরায় ও একটি অনতিক্রম্য সীমানা স্থাপন করেছেন। সূরা ফুরকান : ৫৩

এখানে প্রশ্ন জাগে: কেন দুটি সমুদ্রের মিলনে শুধু ‘ অন্তরায় ‘ এবং মিষ্টি ও নোনা জলের মিলনে ‘বাধা’র সঙ্গে অতিরিক্ত ‘দৃঢ় বিভাজন’-এর কথা বলা হয়েছে? এর উত্তরও লুকিয়ে আছে আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারে। এই ব্যবধানের  অন্যতম একটি প্রধান কারন হচ্ছে দুই সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা বা Salinity এর মধ্যে পার্থক্য। যাকে ইংরেজীতে বলা হয় Halocline। দেখা গেছে লবণাক্ততার পার্থ্যকের জন্য দুই সমুদ্রের পানির ঘনত্বও আলাদা হয়ে যায়। ফলে পাশাপাশি প্রবাহিত হলেও একটা লাইন বরাবর পানি আলাদা থাকে। আর এই লাইনটিকেই ইংরেজীতে Halocline বলা হয়। বিস্ময়করভাবে উপরের আয়াতের শুরুতেই পাশাপাশি প্রবাহিত  সাগরের পানির লবণাক্ততা বা Salinity এর পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে- ” একটি সুপেয় সুস্বাদু, অপরটি লবণাক্ত ক্ষারবিশিষ্ট”  এ ব্যাপারটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাথে পুরোপুরি মিলা যায়।

আটলান্টিক আর প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে স্পস্ট ব্যবধান চোখে পড়ে। গবেষণায় দেখা যায় এই দুই সাগরের পানির মধ্যে ঘণত্ব, লবণাক্ততা আর উষ্ণতার পার্থক্যের কারনে একটির পানি অন্যটির সাথে মিশতে পারে না। ভূমধ্যসাগর আর আটলান্টিক সাগরের পানির মধ্যেও এরকম পার্থক্য দেখা যায়।

 ১৪০০ বছর আগে নবী মুহাম্মদ (সা) এর পক্ষে এ ধরনের তথ্য যানা থাকা সম্ভব নয়। তাছাড়া এ ধরনের স্রোত শুধু আরব উপদ্বীপের চারপাশেই সম্পূর্ণ অনুপস্থিত নয় বরং ভূমধ্যসাগরীয় ও ভারতীয় অঞ্চলসমূহেও এ স্রোতের দেখা পাওয়া যায় না। সর্বপথম এ প্রকারের স্রোতধারা আবিষ্কৃত হয় ১৯৪২ সালে। বর্তমানে সেগুলিকে কৃত্রিম satellite- এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। নীচের চার্টে বিভিন্ন সমুদ্রের পানির লবণাক্ততার পার্থক্য দেখান হয়েছে। ল্যান্ডলক্ড বা আংশিকভাবে আবদ্ধ সাগরের লবণাক্ততা।

সংখ্যানামধরনগড় লবণাক্ততা (‰)প্রধান লবণাক্ততার কারণঅবস্থান ও গুরুত্ব
 মৃত সাগর (Dead Sea)ল্যান্ডলক্ড হ্রদ (Lake)340-342‰উচ্চ বাষ্পীভবন, খুব কম জল সরবরাহ, বদ্ধ অববাহিকা।জর্ডান এবং ইসরায়েলের সীমান্তে অবস্থিত, পৃথিবীর গভীরতম হাইপারস্যালাইন হ্রদ।
 লোহিত সাগর (Red Sea)আংশিকভাবে আবদ্ধ সাগর40-41‰উচ্চ বাষ্পীভবন, নিম্ন বৃষ্টিপাত, সীমিত জল বিনিময়।আফ্রিকা ও এশিয়ার মাঝে অবস্থিত। বিশ্বের উষ্ণতম এবং সবচেয়ে লবণাক্ত সাগরগুলোর মধ্যে একটি।
 পারস্য উপসাগর  (Persian Gulf)আংশিকভাবে আবদ্ধ সাগর40-45‰উচ্চ বাষ্পীভবন, কম বৃষ্টিপাত, সীমিত জল বিনিময় (হরমুজ প্রণালী দিয়ে)।মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত, তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 ভূমধ্যসাগর (Mediterranean Sea)আংশিকভাবে আবদ্ধ সাগর38-39‰উচ্চ বাষ্পীভবন, কম বৃষ্টিপাত, সীমিত জল বিনিময় (জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে)।ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত, ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
 গ্রেট সল্ট লেক (Great Salt Lake)ল্যান্ডলক্ড হ্রদ (Lake)50-280‰ (অংশের ভিত্তিতে)উচ্চ বাষ্পীভবন, জল নিষ্কাশনের পথ নেই, মরুভূমি জলবায়ু।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ রাজ্যে অবস্থিত। পশ্চিম গোলার্ধের বৃহত্তম লবণাক্ত হ্রদ।
 কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea)ল্যান্ডলক্ড হ্রদ (Lake)12-14‰ (উত্তর অংশ কম)মূলত একটি হ্রদ, যদিও ‘সাগর’ নামে পরিচিত। উচ্চ লবণাক্ততা শুধুমাত্র দক্ষিণ-পূর্ব অংশে দেখা যায়।ইউরোপ ও এশিয়ার সীমান্তে অবস্থিত, বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ।
 বাল্টিক সাগর (Baltic Sea)আংশিকভাবে আবদ্ধ সাগর3-15‰উচ্চ পরিমাণ নদীর মিষ্টি জলের প্রবাহ, সীমিত জল বিনিময় (ডেনিশ প্রণালী দিয়ে), নিম্ন বাষ্পীভবন।উত্তর ইউরোপে অবস্থিত। পৃথিবীর বৃহত্তম ব্র্যাকিশ (Brackish) জলের অববাহিকা।
 ব্ল্যাক সি (Black Sea)আংশিকভাবে আবদ্ধ সাগর17-18‰ (উপরে), 30‰ (গভীরে)উচ্চ নদীর জলের প্রবাহ, সীমিত জল বিনিময় (বসফরাস প্রণালী দিয়ে)।ইউরোপ ও এশিয়ার মাঝে অবস্থিত। এর গভীর স্তরে প্রায় কোনো অক্সিজেন নেই।
 আরাল সাগর (Aral Sea)ল্যান্ডলক্ড হ্রদ (Lake)100-200‰ (বর্তমান অবশিষ্টাংশ)নদী থেকে জল প্রত্যাহারের কারণে আয়তন হ্রাস পেয়েছে এবং লবণাক্ততা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানে অবস্থিত। পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রতীক।
 অ্যাজোফ সাগর (Sea of Azov)আংশিকভাবে আবদ্ধ সাগর10-15‰প্রচুর নদীর জলের প্রবাহ, ছোট আকার, স্বল্প গভীরতা।কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে অগভীর সাগর।

এই বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো দুটি সমুদ্রের মধ্যে শুধু বাধা এবং মিষ্টি ও নোনা জলের মিলনস্থলে বাধা ও দৃঢ় বিভাজন সম্প্রতি উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহার করে যেমন তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং ঘনত্ব পরিমাপের মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয়েছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি চোখে দুটি সমুদ্রের মিলনস্থলকে বা মোহনার ত্রিমাত্রিক স্তরবিন্যাসকে পৃথকভাবে দেখা অসম্ভব।

৩. পিকনোক্লাইন জোন (Pycnocline Zone) :

আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে মোহনাগুলিতে (Estuaries), যেখানে নদী এবং সমুদ্রের জল মিলিত হয়, সেখানে পরিস্থিতি দুটি সমুদ্রের মিলনের চেয়ে ভিন্ন। মোহনার ক্ষেত্রে, মিষ্টি জল এবং নোনা জলের মাঝে একটি সুস্পষ্ট এবং কার্যকর পৃথকীকরণ অঞ্চল (Zone of Separation) তৈরি হয়। এই অঞ্চলটিকে সমুদ্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় “পিকনোক্লাইন জোন (Pycnocline Zone)” বলা হয়।

এই পিকনোক্লাইন জোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:

ক. ঘনত্বের সুস্পষ্ট বিচ্ছিন্নতা (Marked Density Discontinuity): এটি একটি মধ্যবর্তী স্তর, যেখানে জলের ঘনত্বে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।

খ. ভিন্ন লবণাক্ততা: এই বিভাজন অঞ্চলের লবণাক্ততা মিষ্টি জল এবং মূল নোনা জল—উভয় থেকে আলাদা হয়। এটি মূলত মিষ্টি জল এবং নোনা জলের ধীরে ধীরে মিশ্রিত হওয়ার ফলস্বরূপ সৃষ্ট একটি সংমিশ্রণ স্তর।

গ. কার্যকরী বিভাজন: এই ঘনত্বের পার্থক্য দুটি জলস্তরকে (উপরে হালকা মিষ্টি জল এবং নিচে ভারী নোনা জল) কার্যকরভাবে পৃথক করে রাখে, যা কোরআনে বর্ণিত ‘দৃঢ় বিভাজন’ (forbidding partition)-এর ধারণাকে সমর্থন করে। এই স্তরটি মিষ্টি জলকে নোনা জলের সাথে দ্রুত মিশ্রিত হতে বাধা দেয়।

কুরআনের এই বর্ণনাগুলো কেবল তার ঐশ্বরিক উৎসেরই প্রমাণ বহন করে না, বরং এটি প্রমাণ করে যে কোরআন এমন জ্ঞান ধারণ করে যা এর নাজিলের সময়ের মানুষের অভিজ্ঞতার বাইরে ছিল। এটি কুরআনের একটি অলৌকিক দিক যা বিজ্ঞান ও ধর্মগ্রন্থের মধ্যে এক অভূতপূর্ব সমন্বয় তুলে ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *