মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
জামাআত” (جماعة) শব্দটি আরবি ভাষার একটি শব্দ, যার অর্থ হলো গোষ্ঠী, দল, সমাজ, বা একত্রিত লোকদের সমাবেশ। মূল শব্দ: جمع (জামাআ), যার অর্থ একত্রিত করা বা জড়ো হওয়া। কিছু সংখ্যক মানুষ যখন নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একজন আমিরের অধীনে এক দেহ এক মন হয়ে সুশৃংখলভাবে কাজ করে তখন তাকে জামায়াত বল।
সত্য পন্থী দল আলহে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপন করা। মহান আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষার জন্য দুনিয়াতে পাঠিয়েছে এবং তাকে দুনিয়াতে চলার মতা দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। সে কিভাবে সমাজে জামায়াতবদ্ধ হয়ে মিলেমিসে জীবন যাপন করবে তা সরাসরি শিক্ষা দেয়ার জন্য যুগে যুগে নবী রসূল পাঠিয়েছেন। কিন্তু মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপন ছেড়ে দিয়ে ফির্কাবন্দী জীবন যাপন করে থাকে। ফির্কার মাধ্যমে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে আজ মারামারি হানাহানিতে ব্যস্ত। ইসলামের মুল শিক্ষা থেকে দুরে অবস্থান করছে। জামাতের বিপরীত হলো ফির্কা। জামাআত বুঝতে হলে ফির্কা সম্পর্কে একটু ধারনা থাকতে হবে। তাই আলোচনার শুরুতে জামাআত ও ফির্তার পার্থক্য সম্পর্কে একটি আলোক পাত করা হলো।
ফির্কা শব্দটি আরবি “فِرْقَة” (ফির্কাহ) থেকে এসেছে, যার অর্থ বিভক্তি বা গোষ্ঠী। ইসলামের পরিভাষায়, ফিরকা বলতে সেই দল বা গোষ্ঠীকে বোঝানো হয় যারা ইসলামের মূল শিক্ষাগুলো থেকে বিচ্যুত হয়ে নিজেদের মতবাদ, চিন্তাধারা বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে আলাদা হয়ে যায়। এ ধরনের বিভক্তি সাধারণত কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থি এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।
ইসলামের দৃষ্টিতে জামাআত এবং ফির্কা দুটো বিপরীত মুখি ভিন্ন বিষয়। জামাআত সাধারণত ইসলামের মূল আদর্শে ঐক্যবদ্ধ একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, ফিরকা বলতে বিভক্ত গোষ্ঠী বা মতবাদের দলকে বোঝায়, যারা কোনো বিশেষ মতবাদ বা দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে আলাদা হয়ে যায়। এদের মধ্যে ১০টি মূল পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. ঐক্য বনাম বিভাজন
জামাত: ইসলামের মূলনীতির উপর ভিত্তি করে ঐক্য বজায় রাখে।
ফিরকা: ভিন্ন মতবাদ ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিভাজন সৃষ্টি করে।
২. আদর্শের ভিত্তি
জামাত: কুরআন ও সহিহ হাদিসকে তাদের মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে।
ফিরকা: তাদের নিজস্ব মতবাদ, ইজতিহাদ, বা দার্শনিক চিন্তাধারার উপর নির্ভর করে।
৩. ইসলামের মূল শিক্ষার প্রতি দৃষ্টি
জামাত: ইসলামকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ ও প্রচার করার চেষ্টা করে।
ফিরকা: কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা মতবাদে অধিক জোর দেয়।
৪. আন্তর্জাতিকতা বনাম আঞ্চলিকতা
জামাত: জাতি, বর্ণ, ও অঞ্চলভেদে সকল মুসলিমকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে চায়।
ফিরকা: নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
৫. ধর্মীয় নেতৃত্ব
জামাত: নেতৃত্ব নির্বাচনে ইসলামি নীতিমালা মেনে চলে।
ফিরকা: নিজেদের মতবাদ প্রচারে কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
৬. বিধানের প্রয়োগ
জামাত: ইসলামের শারী‘আহর পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ চায়।
ফিরকা: শারী‘আহর নির্দিষ্ট অংশের উপর জোর দেয়।
৭. সাম্প্রদায়িকতা
জামাত: সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়।
ফিরকা: নিজেদের গোষ্ঠী বা মতবাদকে প্রাধান্য দেয়।
৮. মতভেদের প্রতি মনোভাব
জামাত: মতভেদের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সমাধান খোঁজে।
ফিরকা: নিজেদের মতবাদ সঠিক প্রমাণে জেদ ধরে।
৯. প্রভাব ও প্রসার
জামাত: ইসলামের প্রকৃত বার্তা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে চায়।
ফিরকা: নিজেদের মতবাদ বা চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
১০. ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যতা
জামাত: ইসলামের মৌলিক নীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফিরকা: ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে কখনো কখনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে।
১। জামাআতবন্ধ থাকার সুফল-
ইসলামে জামাআবদ্ধ থাকার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ এটি কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের উন্নতি নয়, বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলে। জামাআতে থাকার কিছু উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো:
(১) জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপনের করা ফরজ-
মহান আল্লাহ ও তার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামায়াত বদ্ধ জীবন যাপনের গুরুত্ব প্রদান করেছেন। অপর পক্ষে জামায়াতের বিপরীত ফির্কাবদ্ধী হওয়াকে হারাম করেছেন। ফির্কাবদ্ধী লোকদের জাহান্নাম প্রদানের ঘোষনা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপনের গুরুত্ব করে মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ
وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللّهِ جَمِيعًا وَلاَ تَفَرَّقُواْ وَاذْكُرُواْ نِعْمَتَ اللّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىَ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
অর্থঃ আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর। পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার। সুরা ইমরান : ১০৩
এই আয়াতে মহান আল্লাহ তার রজ্জু (ইসলাম/কুরআন) আকড়ে ধরা এবং আমাদের মাঝে ঐক্য বজায় রাখা ফরয করে দিয়েছেন। এই গুনাগুন সাহাবিদের মাঝে ছিল বলে তিনি তাদের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তরভূক্ত করে ছিলেন।
হারিস আল আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
آمُرُكُمْ بِخَمْسٍ: بِالْجَمَاعَةِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَالْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنَ الْجَمَاعَةِ قِيدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْإِسْلَامِ مِنْ عُنُقِهِ إِلَّا أَنْ يُرَاجِعَ وَمَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ مِنْ جُثَى جَهَنَّمَ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ
আমি তোমাদেরকে পাঁচটি কাজের নির্দেশ করছি। যথা- (১) সর্বদা মুসলিম জামা’আতের সাথে থাকো, (২) আমীরের (শাসকদের) আদেশ-নিষেধ মান্য করো, (৩) আমীরের (শাসকদের) আনুগত্য করো, (৪) হিজরত করো, (৫) আল্লাহর পথে জিহাদ করো। আর যে ব্যক্তি মুসলিম জামা’আত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে যায়, সে যেন তার গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল, যতক্ষণ না সে প্রত্যাবর্তন করে। আর যে ব্যক্তি জাহিলী যুগের রসম-রিওয়াজের দিকে আহবান করে, সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। যদিও সে সওম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবী করে। মিশকাত : ৩৬৯৪, সুনানে তিরমিজি : ২৮৬৩, আহমাদ ১৭১৭০, সহীহ আল জামি : ১৭২৪
(২) জামাতের উপর আল্লাহর রহমত থাকে-
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
يَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَة
জামাআতের উপর আল্লাহ্ তায়ালার হাত (রহমত) থাকে। সুনানে তিরমিজি : ২১৬৬, মিশকাত : ১৭৩
এই সম্পর্কে একটি সহিহ হাদিস-
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ فَقَالَ الْجَمَاعَةُ رَحْمَةٌ وَالْفُرْقَةُ عَذَابٌ
নুমান বিন বাশীর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় বলেছেন, জামআত (ঐক্য) হল রহমত এবং বিচ্ছিন্নতা (মতবিরোধ) হল আজাব। হাদিস সম্ভার : ১৮৪৪, সহীহাহ-৬৬৭; সহিহুল জামে-৩১০৯, তাবারানি, আল-মুজামুল কাবীর : ৭৬৭৮, সহিহুল জামে : ৩১০৯,
(৩) এই উম্মাত কখনও পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না-
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي أَوْ قَالَ: أُمَّةَ مُحَمَّدٍ عَلَى ضَلَالَةٍ وَيَدُ اللَّهِ عَلَى الْجَمَاعَةِ وَمَنْ شَذَّ شَذَّ فِي النَّار
আল্লাহ তা’আলা আমার গোটা উম্মাতকে; অপর বর্ণনাতে তিনি বলেছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদিকে কখনও পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত করবেন না। আল্লাহ তা’আলার হাত (রহমত ও সাহায্য) জামা’আতের উপর রয়েছে। যে ব্যক্তি জামা’আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (অবশেষে) জাহান্নামে যাবে। সুনানে তিরমিজি : ২১৬৭, মিশকাত : ১৭৩
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি-
إِنَّ أُمَّتِي لَنْ تَجْتَمِعَ عَلَى ضَلاَلَةٍ فَإِذَا رَأَيْتُمُ اخْتِلاَفًا فَعَلَيْكُمْ بِالسَّوَادِ الأَعْظَمِ
আমার উম্মাত পথভ্রষ্টতার উপর ঐক্যবদ্ধ হবে না। তোমরা মতভেদ দেখতে পেলে অবশ্যই সর্ববৃহৎ দলের সাথে থাকবে। ইবনে মাজাহ : ৩৬৫০,
(৪) জামাআতবদ্ধ থাকা আল্লাহ তায়ার পছন্দ–
এই সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْجَمَاعَةَ وَيَكْرَهُ الْفُرْقَةَ.” عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ
আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ ঐক্যকে পছন্দ করেন এবং বিভেদকে অপছন্দ করেন। মুসনাদ আহমদ : ২১৭২১
আমাদের প্রিয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আল্লাহর রজ্জু শক্তভাবে ধারণ করে ঐক্য হওয়াকে খুব পছন্দ করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلاَثًا وَيَكْرَهُ لَكُمْ ثَلاَثًا فَيَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلاَ تَفَرَّقُوا وَيَكْرَهُ لَكُمْ قِيلَ وَقَالَ وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ وَإِضَاعَةَ الْمَالِ
আল্লাহ তা’আলা তিনটি কাজ পছন্দ করেন এবং তিনটি কাজ অপছন্দ করেন। তোমাদের জন্য তিনি যা পছন্দ করেন, তা হল- (১) তোমরা তারই ইবাদাত করবে, (২) তার সঙ্গে কিছুই শারীক করবে না এবং (৩) তোমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জু মজবুতভাবে ধারণ করবে ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না। আর যে সকল বিষয় তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেন- (১) নিরর্থক কথাবার্তা বলা, (২) অধিক প্রশ্ন করা এবং (৩) সম্পদ বিনষ্ট করা। সহিহ মুসলিম : ১৭১৫, আদাবুল মুফরাদ ৪৪৪, মুসনদে আহমদ : ৭১৬৩
(৫) মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ-
ইসলাম সকল মুসলমানকে একত্রে “উম্মাহ” হিসেবে পরিচিত করে। মাযহাবের নামে দলবাজি উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট করে এবং শত্রুরা এই বিভাজন কাজে লাগায়।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন-
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ
তোমরা সবাই আল্লাহর রশি দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। সুরা আলে ইমরান : ১০৩
মাযহাবের নামে পরিচিতি অনেক সময় মুসলিমদের মধ্যে বিভাজনের জন্ম দেয়। একে অপরকে ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ মনে করার মানসিকতা গড়ে ওঠে। ইসলাম একমাত্র পরিচয় হওয়ার পরিবর্তে মাযহাবকে বড় করে দেখা হয়। ফলে উম্মার মাঝে বিভক্তির সৃষ্ট হয় ও ঐক্য নষ্ট হয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
أَلاَ لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ عَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْفُرْقَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مِنَ الاِثْنَيْنِ أَبْعَدُ مَنْ أَرَادَ بُحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ مَنْ سَرَّتْهُ حَسَنَتُهُ وَسَاءَتْهُ سَيِّئَتُهُ فَذَلِكَ الْمُؤْمِنُ
সাবধান! কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হলে সেখানে অবশ্যই তৃতীয়জন হিসাবে শাইতান অবস্থান করে। তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা হতে সাবধান থেকো। কেননা, শাইতান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে অবস্থা করে। যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে (মুসলিম সমাজে)। যার সৎ আমল তাকে আনন্দিত করে এবং বদ্ আমল কষ্ট দেয় সেই হলো প্রকৃত ঈমানদার। সুনানে তিরমিজি : ২১৬৫
৬.
২। জামায়াদবদ্ধ জীবন যাপন না করা ক্ষতিঃ
জামায়াদবদ্ধ জীবন যাপন না করলে মুসলিম জাতীকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে। আর আমরা মুসলিম জাতীর যে খারাপ পরিনাম লক্ষ করেছি, তার পিছনে তাদের অনৈক্যই প্রধান কারন। সকল মুসলিম জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপন করলে কোন কাফির বা কাফির রাষ্ট্র তাকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলতে পারত না। আমাদের প্রিয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও এ সম্পর্কে উম্মতকে সতর্ক করে গেছেন। নিম্ম এ সম্পর্কিত কিছু হাদিস উল্লেখ করছি।
(১) ফির্কাতে বিভক্তকারীদের জন্য রাসূর (সা.) এর দায়বদ্ধতা নাই-
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
অর্থঃ নিশ্চয় যারা তাদের দীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন ব্যাপারে তোমার দায়িত্ব নেই। তাদের বিষয়টি তো আল্লাহর নিকট। অতঃপর তারা যা করত, তিনি তাদেরকে সে বিষয়ে অবগত করবেন।৷ সূরা আনআম : ১৫৯
(২) ফির্কাতে বিভক্ত হতে আল্লাহ নিষধ করেছেন-
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন-
وَلَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ تَفَرَّقُوۡا وَاخۡتَلَفُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَہُمُ الۡبَیِّنٰتُ ؕ وَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ۙ
আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতবিরোধ করেছে তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর। আর তাদের জন্যই রয়েছে কঠোর আযাব। সুরা আল ইমরান : ১০৫
(৩) জামায়াত ত্যাগ কারী জাহান্নামী-
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لاَ يَجْمَعُ أُمَّتِي – أَوْ قَالَ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم – عَلَى ضَلاَلَةٍ وَيَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ وَمَنْ شَذَّ شَذَّ إِلَى النَّارِ
আল্লাহ তা’আলা আমার উম্মাতকে অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উন্মাতকে কখনোও গোমরাহীর উপর সমবেত করবেন না। আর জামা’আতের উপর আল্লাহ তা’আলার হাত (সাহায্য) প্রসারিত। যে লোক (মুসলিম সমাজ হতে) আলাদা হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্নভাবেই জাহান্নামে যাবে। সুনানে তিরমিযী : ২১৬৭, সুনানে ইবনু মাজাহ :৩৯৫০; মিশকাত :১৭৩
(৪) ঐক্যে ফাটল সৃষ্টিকারীকে হত্যার আদেশ-
আরফাযা ইবন রায়হ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّهَا سَتَكُونُ بَعْدِي هَنَاتٌ وَهَنَاتٌ وَهَنَاتٌ وَرَفَعَ يَدَيْهِ فَمَنْ رَأَيْتُمُوهُ يُرِيدُ تَفْرِيقَ أَمْرِ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ جَمِيعٌ فَاقْتُلُوهُ كَائِنًا مَنْ كَانَ مِنْ النَّاسِ
আমার পরে নিশ্চয়ই অনেক ফিতনা-ফাসাদ হবে। এরপর তিনি তাঁর হাত উঠিয়ে বললেন, তখন তোমরা যাকে দেখবে, উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ইচ্ছা করছে, অথচ তারা একতাবদ্ধ; তখন তোমরা তাকে হত্যা করবে, সে যে-ই হোক না কেন। সুনানে নাসায়ি : ৪০২১, সহিহুল জামে : ৩৬২২
আরফাজাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, অচিরেই নানা প্রকার ফিৎনা-ফাসাদের উদ্ভব হবে। যে ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ উম্মাতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রয়াস চালাবে, তোমরা তরবারি দিয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দেবে, সে যে কেউ হোক না কেন। সহিহ মুসলিম : ১৮৫২, মিশকাত : -৩৬৭৭
৩। জামায়াদবদ্ধ সঠিক দল না পেলে কি করবে?
জামায়াদবদ্ধ থাকার নির্দষ প্রদান সত্বেও শত শত ফির্কার আবির্ভাব হবে। যার ভবিশ্যৎ বাণী স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন। মনে রাখবেন তিনি ভবিশ্যৎ বাণী করছের উম্মত ফির্কা বন্দী হবে। তিনি কিন্তু ফির্কা বন্দী হতে বলেন নি।
আবূ ইদরীস খাওলানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযাইফা ইবনু ইয়ামান (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, লোকজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কল্যাণের বিষয়ে প্রশ্ন করতো আর আমি তার নিকট প্রশ্ন করতাম অকল্যাণ সম্পর্কে এ ভয়ে যে, পরে না তা আমাকে পেয়ে বসে। তাই আমি (কোন এক সময়) প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা ছিলাম অজ্ঞতা ও অমঙ্গলের মধ্যে। তারপর আল্লাহ আমাদের জন্য এ কল্যাণ প্রদান করলেন। এ কল্যাণের পরও কি কোন অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর আমি বললাম, ঐ অকল্যাণের পর কি আবার কল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে তাতে ধুম্ৰতা আছে। আমি বললাম, কী সে ধুম্ৰতা? তিনি বললেন, তখন এমন একদল লোকের উদ্ভব হবে যারা আমার প্রবর্তিত পদ্ধতি ছাড়া অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করবে, আমার প্রদর্শিত হিদায়াতের পথ ছেড়ে অন্যত্র হিদায়াত তুমি খুঁজবে। দেখবে তাদের মধ্যে ভাল মন্দ উভয়টাই।
তখন আমি আরয করলাম, এ কল্যাণের পর কি কোন অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজার দিকে আহ্বানকারীদের উদ্ভব হবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে তারা তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করবে। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাদের পরিচয় ব্যক্ত করুন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদের বর্ণ হবে আমাদেরই মতো এবং তারা আমাদেরই ভাষায় কথা বলবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি আমরা সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হই তবে আমাদেরকে আপনি কী করতে বলেন? তিনি বললেন, তোমরা মুসলিমদের জামাআত ও ইমামের সাথে আঁকড়ে থাকবে। আমি বললাম, যদি তাদের কোন জামা’আত বা ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, তা হলে সে সব বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে তুমি আলাদা থাকবে- যদিও তুমি একটি বৃক্ষমূল দাত দিয়ে আঁকড়ে থাক এবং এ অবস্থায়ই মৃত্যু তোমার নাগাল পায়। সহিহ মুসলিম : ১৮৪৭, সহিহাহ : ২৭৩৯; মিশকাত : ৫৩৮২
একক জামাআত বা ইমামের সন্ধান পেলে হাদিস মোতাবেক বিভক্তি থেকে নিজেকে আলাদ রাখার আপ্রান চেষ্টা করেত হবে তবু বিচ্ছিন্নতাবাদ কোন দলকে সাহায্য করা যাবে না। তারপর নিজের হাদিসের আলোকে অনুসন্ধা চালিয়ে যামাবে।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উন্মাতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উন্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে দল কোনটি? তিনি বললেনঃ আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত। সুনানে তিরমিজি : ২৬৪১
মুয়াবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর দ্বীনের উপর অটল থাকবে। তাদেরকে যারা অপমান করতে চাইবে অথবা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি কিয়ামত আসা পর্যন্ত তাঁরা এই অবস্থার উপর থাকবে। ‘উমাইর ইবনু হানী (রহ.) মালিক ইবনু ইউখামিরের (রহ.) বরাত দিয়ে বলেন, মু‘আয (রাঃ) বলেছেন, ঐ দলটি সিরিয়ায় অবস্থান করবে। মু‘আবিয়াহ (রহ.) বলেন, মালিক (রহ.)-এর ধারণা যে ঐ দলটি সিরিয়ায় অবস্থান করবে বলে মু‘আয (রাঃ) বলেছেন। সহিহ বুখারী : ৩৬৪১, সহিহ মুসলিম : ১৯২০; সহীহাহ : ১৯৫, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৬, সুনানে তিরমিজি : ২১৯২, মিশকাত : ৬২৭৬।
ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের নামযের পর আমাদেরকে মর্মস্পশী ওয়াজ শুনালেন, যাতে (আমাদের) সকলের চোখে পানি এলো এবং অন্তর কেঁপে উঠলো। কোন একজন বলল, এ তো বিদায়ী ব্যক্তির নাসীহাতের মতো। হে আল্লাহর রাসূল! এখন আপনি আমাদেরকে কি উপদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করার এবং (নেতৃআদেশ) শ্রবণ ও মান্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (নেতা) হাবশী ক্রীতদাস হয়ে থাকে। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা বহু বিভেদ-বিসম্বাদ প্রত্যক্ষ করবে। তোমরা নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করা হতে দূরে থাকবে। কেননা তা গুমরাহী। তোমাদের মধ্যে কেউ সে যুগ পেলে সে যেন আমার সুন্নাতে ও সৎপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকে। তোমরা এসব সুন্নাতকে চোয়ালের দাঁতের সাহায্যে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর। সুনানে তিরমিজি : ২৬৭৬, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৪২
উপরের আলোচনায় বুঝতে পারলাম, মুসলিম জাতিকে জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপনের নির্দেশ দিয়ে মহান রাব্বুল আলামীন বেশ কিছু আয়াতও নাযিল করেছেন। সহিহ হাদিসেও জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপনের অনেক গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর ছাহাবীগণ এ পদ্ধতির সফল বাস্তবায়ন করেছেন। জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপন করা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল যা বিশ্ববাসীদের নিকট আজও অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। আজ মুসলিম উম্মাহ সাহাবীদের এই বৈশিষ্ট ত্যাগ করার জন্য খুবই দূরাবস্থার মধ্য আছে। এখান থেকে মুক্তি পেতে হলে তাদের মধ্য ঐক্যের প্রয়োজন।