মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
কুরআন ও বিভিন্ন হাদিসে রিয়াকে শিরকে আসগর বা ছোট শিরক এবং শিরকে খাফি বা লুকায়িত শিরক বলা হয়েছে। শিরকে আসগর বা ছোট শিরক বলতে এমন কাজ ও কথাকে বুঝানো হয়, যা তাতে লিপ্ত ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডি থেকে সম্পূর্ণরূপে বের করে দেবে না বটে, তবে তা মাঝে মাঝে সগিরা গুনাহের গন্ডি ছাড়িয়ে কবিরা গুনাহ অপেক্ষাও জঘন্য মনে হবে। সবচেয়ে ভয়ানা হলো- এই গুনাহ থেকে সামান্য কারনে শিরকে আকবর হয়ে যেতে পারে।
আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
يَا عَائِشَةُ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الأَعْمَالِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ طَالِبًا
হে আয়েশা! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৪৩, আহমাদ : ২৩৮৯৪, সুনানে দারেমী : ২৭২৬, সহীহাহ ৫১৩।
আনাস (রা.) থেকে বলেন, তোমরা এমন সব কাজ করে থাক, যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও চিকন। কিন্তু নবি ﷺ এর সময়ে আমরা এগুলোকে ধ্বংসকারী মনে করতাম। সহিহ বুখারি : ৬৪৯২
আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন যে, লোক দেখানোর জন্য আমল করে আল্লাহ তার এই রিয়াকে প্রকাশ করে দেন। যে ব্যক্তি যশ লাভের জন্য আমল করে আল্লাহ তাআলা মানুষের সামনে তা প্রকাশ করে দেন। ইবনু মাজাহ : ৪২০৬
(১) ছোট শিরক বান্দার আমল বাতিল করে দেয়ঃ
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُبۡطِلُوۡا صَدَقٰتِکُمۡ بِالۡمَنِّ وَالۡاَذٰی ۙ کَالَّذِیۡ یُنۡفِقُ مَالَہٗ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ فَمَثَلُہٗ کَمَثَلِ صَفۡوَانٍ عَلَیۡہِ تُرَابٌ فَاَصَابَہٗ وَابِلٌ فَتَرَکَہٗ صَلۡدًا ؕ لَا یَقۡدِرُوۡنَ عَلٰی شَیۡءٍ مِّمَّا کَسَبُوۡا ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ
হে মুমিনগণ, তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে তোমাদের সদাকা বাতিল করো না। সে ব্যক্তির মত, যে তার সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং বিশ্বাস করে না আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি। অতএব তার উপমা এমন একটি মসৃণ পাথর, যার উপর রয়েছে মাটি। অতঃপর তাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ল, ফলে তাকে একেবারে পরিষ্কার করে ফেলল। তারা যা অর্জন করেছে তার মাধ্যমে তারা কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। আর আল্লাহ কাফির জাতিকে হিদায়াত দেন না। সুরা বাকারা : ২৬৪
মাহমুদ ইবনে লাবিদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ الشِّرْكُ الأَصْغَرُ قَالُوا وَمَا الشِّرْكُ الأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الرِّيَاءُ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا جُزِيَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاءُونَ فِي الدُّنْيَا فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً
আমি তোমাদের উপর যা ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শির্কে আসগর (ছোট শির্ক)। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! শির্কে আসগর কি? তিনি বললেন, রিয়া আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাদেরকে (রিয়াকারীদের) বলবেন, যখন মানুষকে তাদের আমলের বিনিময় দেয়া হবে, তোমরা তাদের কাছে যাও যাদেরকে তোমরা দুনিয়াতে দেখাতে। দেখ, তাদের কাছে কোন প্রতিদান পাও কিনা? সহিহ হাদিসে কুদসি : ০৭ হাদিস বিডি, মুসনাদে আহমদ, পঞ্চম খণ্ড, হাদিস নম্বর- ৪২৮-৪২৯; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ : ১০২, হাদিসের মান সহিহ
আবু উমামা বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত-
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَرَأَيْتَ رَجُلًا غَزَا يَلْتَمِسُ الْأَجْرَ وَالذِّكْرَ، مَالَهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا شَيْءَ لَهُ» فَأَعَادَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا شَيْءَ لَهُ» ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا، وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ»
এক ব্যক্তি রাসুলূল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বললেনঃ ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে আপনি কি বলেন, যে ব্যক্তি সওয়াব এবং সুনামের জন্য জিহাদ করে, তার জন্য কি রয়েছে? রাসুলূল্লাহ ﷺ বললেনঃ তার জন্য কিছুই নেই। সে ব্যক্তি তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। রাসুলূল্লাহ ﷺ তাকে (একটি কথাই) বললেন, তার জন্য কিছুই নেই। তারপর তিনি ﷺ বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর জন্য কৃত খাঁটি আমল ব্যতীত, যা দ্বারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছুই উদ্দেশ্য না হয়, আর কিছুই কবুল করেন না। সুনানে আন-নাসায়ী: ৩১৪০, সুনানে বাইহাকি: ৪৩৪৮
(২) ছোট শিরক শয়তানের সাথিঃ
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَالَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَہُمۡ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَلَا بِالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ وَمَنۡ یَّکُنِ الشَّیۡطٰنُ لَہٗ قَرِیۡنًا فَسَآءَ قَرِیۡنًا
আর যারা নিজ ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং ঈমান আনে না আল্লাহর প্রতি এবং না শেষ দিনের প্রতি। আর শয়তান যার সঙ্গী হয়, সঙ্গী হিসেবে কতইনা নিকৃষ্ট সে! সুরা নিসা : ৩৮
(৩) ছোট শিরককারীর আমলের জন্য তাকে আপমান করা হবেঃ
সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুনদুবকে বলতে শুনেছি নবী ﷺ বলেন। তিনি ছাড়া আমি অন্য কাউকে ’নবী ﷺ বলেন’ এমন বলতে শুনিনি। আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং তাঁকে বলতে শুনলাম। নবী ﷺ বলেছেন-
مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللهُ بِهِ وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللهُ بِهِ
যে ব্যাক্তি লোক শোনানো ইবাদত করে আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে লোক শোনানো দিবেন। আর যে ব্যাক্তি লোক-দেখানো ইবাদত করবে আল্লাহ এর বিনিময়ে “লোক দেখানো দিবেন। সহিহ বুখারি : ৬৪৯৯, ৭১৫২, সহিহ মুসলিম : ২৯৮৬
আবূ সাঈদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
مَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ وَمَنْ يُسَمِّعْ يُسَمِّعِ اللَّهُ بِهِ
যে লোক মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করবে, আল্লাহ তায়ালাও তাকে তাই দেখাবেন এবং সুনাম-সুখ্যাতির অন্বেষণের উদ্দেশ্যে যে লোক আমল করবে, আল্লাহ তায়ালাও তার আমল প্রচার করে দেবেন। সুনানে তিরমিজি : ২৩৮১, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২০৬
(৪) ছোট শিরক দাজ্জালের ফিতনা থেকেও ভয়ানকঃ
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন—
خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ الْـمَسِيْحَ الدَّجَّالَ، فَقَالَ: أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِيْ مِنَ الْـمَسِيْحِ الدَّجَّالِ؟ قُلْنَا: بَلَى، قَالَ: الشِّـرْكُ الْـخَفِيُّ؛ أَنْ يَقُوْمَ الرَّجُلُ يُصَلِّيْ، فَيُزَيِّنُ صَلاَتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ الرَّجُلِ
রাসুল ﷺ আমাদের নিকট আসলেন যখন আমরা দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন বস্তু সম্পর্কে সংবাদ দেবো, যা তোমাদের জন্য দাজ্জালের চেয়েও অধিক ভয়ঙ্কর। আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, গোপন শিরক (রিয়া)। যেমন, কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ছিলো, অতঃপর কেউ তাকে দেখছে বলে সে নামাজকে খুব সুন্দর করে পড়তে শুরু করলো”। সুনানে ইবনু মাজাহ: ৪২০৪, আহমাদ : ১০৮৫৯, মিশকাত : ৫৩৩৩
(৫) ছোট শিরক সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দুঃচিস্তাঃ
শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَتَخَوَّفُ عَلَى أُمَّتِي الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ أَمَا إِنِّي لَسْتُ أَقُولُ يَعْبُدُونَ شَمْسًا وَلاَ قَمَرًا وَلاَ وَثَنًا وَلَكِنْ أَعْمَالاً لِغَيْرِ اللَّهِ وَشَهْوَةً خَفِيَّةً
আমি আমার উম্মাতের জন্য যেসব বিষয়ের ভয় করি তার মধ্যে অধিক আশংকাজনক হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। অবশ্য আমি এ কথা বলছি না যে, তারা সূর্য, চন্দ্র বা প্রতিমার পূজা করবে, বরং আল্লাহ ব্যতীত অপরের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা এবং গোপন পাপাচার। সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২০৫, মসনদে আহমাদ : ১৬৬৭১, ১৬৬৯০
শিরকে আসগার বা ছোট শিরক চেনায় উপায়ঃ
(১) যে সব শিরককে কুরআন ও সুন্নায় ছোট শিরক বলা হয়েছে, যতক্ষণ না সেগুলো বড় শিরকের পর্যায়ে পৌঁছে সেগুলো শিরকে আসগার বা ছোট শিরক বলে বিবেচিত হবে।
(২) আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায় এমন কাজ যদি বান্দা কোন মানুষের প্রশংসা লাভের ইচ্ছায় করে তবে সেই আমল শিরকে আসগার বা ছোট শিরক বলে বিবেচিত হবে।
(৩) আল্লাহর রুবুবিয়াতের সমপরিমাণ মর্যাদা না হওয়া পর্যান্ত শিরকে আসগার বা ছোট শিরক বলে বিবেচিত হবে। (সমপরিমাণ মর্যাদা দিলে বড় শিরক হবে)।
(৪) আমলটি শুরু হয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য ছিল কিন্তু পরে তাতে রিয়া প্রবেশ করেছে। আমলকারী যদি উক্ত রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে প্রতিহত করতে থাকে, তবে কোন ক্ষতি নেই কিন্তু সে যদি রিয়া চালিয়ে যায় এবং তাতেই সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে তার আমলটি ছোট শিরক বলে বিবেচিত হবে।
ছোট শিরক সময়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকে
মুমিন বান্দা মহান আল্লাহ সন্ত্বষ্টির জন্য আমল করবে এটাই সাভাবিক। কিন্তু তার আমল করা সময় তার কুপ্রবৃত্তি বার বার দুয়িয়ার লোভ দেখিয়ে গাইরুল্লাহর জন্য ইবাদত করতে উদভূদ্ধ করে থাকে। সে যখনই আমল করার নিয়ত করে, তখনই তাকে ধোকা দেয়। আবার কখনো শুরুতে ধোকা দিতে ব্যর্থ হলে আমলের মাঝে বা শেষেও ধোকা দিতে চেষ্টা করে। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে বলা যায় ছোট শিরক সাধারনত তিনটি সময়ের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সম্পাদিত হয়।
(১) আমল শুরু করার পূর্বে ছোট শিরক
(২) আমল শুরু করার মাঝে ছোট শিরক
(৩) আমল শেষ করার পর ছোট শিরক
(১) আমল শুরু করার পূর্বে ছোট শিরক
কোন আমল শুরু করার পূর্বে মানুষের প্রশংসা লাভের ইচ্ছা করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার কোন ইচ্ছাই তার নেই, তবে সে মুনাফিক। কারন সকলে জানবে, সে আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন করছে অথচ সে গাইরুল্লারকে সন্তষ্টি করছে। নবী ﷺ এর জামানায় মুমিনেরা বিপুল উৎসাহ আগ্রহ নিয়ে মসজিদে আসতো, জামায়াতের সময়ের পূর্বেই মসজিদে পৌঁছে যেতো এবং নামায শেষ হবার পরও মসজিদে বসে থাকতো। কোন ব্যক্তি নিয়মিত নামায না পড়ে মুসলমানদের দলের অন্তরভুক্ত হতে পারতো। তাই বড় বড় কট্টর মুনাফিকদেরও সে যুগে পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে হাযিরা দিতে হতো। অপর পক্ষে মুনাফিকেরা অনিচ্ছায় স্বত্বেও নেহাত দায়ে ঠেকে লোক দেখাতে মসজিদে আসত। এই মুনাফিকরা আল্লাহর এবং তার রসুলের (সা:) সাথে ধোঁকাবাজি করছে এবং নিছক লোক দেখাবার জন্য সালাত আদায় করছে। আমল শুরু পূর্বেই লোক দেখাবার পাক্কা নিয়ত। মহান আল্লাহ তায়ালান বলেন:
إِنَّ ٱلۡمُنَـٰفِقِينَ يُخَـٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَهُوَ خَـٰدِعُهُمۡ وَإِذَا قَامُوٓاْ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ قَامُواْ كُسَالَىٰ يُرَآءُونَ ٱلنَّاسَ وَلَا يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ إِلَّا قَلِيلاً۬ (١٤٢)
এই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করছে৷ অথচ আল্লাহই তাদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলে রেখে দিয়েছেন৷ তারা যখন নামাযের জন্য ওঠে, আড়মোড়া ভাংতে ভাংতে শৈথিল্য সহকারে নিছক লোক দেখাবার জন্য ওঠে এবং আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে৷ সুরা নিসা : ১৪২
(২) আমল শুরু করার মাঝে ছোট শিরক
ইবাদাত করাকালীন বা চলাকালীন মধ্যবর্তী সময়ে অন্য কেউ তা দেখে ফেললে বা অবহিত হয়ে গেলে তাতে আনন্দিত ও উল্লাসিত হয়ে লোক দেখানোর জন্য ইবাদাতকে আরো সুন্দর করার চেষ্টা করলে আমল মাঝে রিয়া প্রবেশ করে। আমল শুরুর প্রাথমিক নিয়ত ভাল ছিল কিন্তু আমলের মাঝেই লোক দেখানোর (রিয়া) ইচ্ছা পোষন করে। আমলকারী যদি উক্ত রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে প্রতিহত করতে থাকে, তবে কোন ক্ষতি নেই কিন্তু সে যদি রিয়া চালিয়ে যায় এবং তাতেই সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে তার আমলটি বাতিল হয়ে যাবে। কারন সে পরবর্তীতে তার আমল লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে করতে শুরু করেছে।
আবূ যার (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-
قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يَعْمَلُ الْعَمَلَ مِنَ الْخَيْرِ وَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ قَالَ “ تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ
রসূলুল্লাহ ﷺ এর সমীপে আবেদন করা হলো, ঐ লোক সম্পর্কে আপনার কি মতামত, যে সৎ আমল করে এবং মানুষেরা তার গুণ বর্ণনা করে? তিনি বললেন, এটা তো ঈমানদার ব্যক্তির জন্য আগাম সুসংবাদ। সহিহ মুসলিম : ২৬৪২, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২২৫, আহমাদ : ২০৮৭২, ২০৯৬৬
এখানে তিনটি সুরত আছে:
খ। আমল শুরু মাঝে রিয়া আসলে আমলকারী যদি উক্ত রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করলে আমল বাতিল হবে না।
কোন ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কুরবানীর জন্য গরু ক্রয় করল। এমতাবস্থায় গরুর প্রতি নজর দিয়ে সে ভাবল খুব রড় গরু লোকে ভাল বলবে আবার মাংশও বেশী পাব অর্থাৎ তার অন্তরে রিয়ার উদ্রেক হলো। সাথে সাথে সে তার অন্তর থেকে এই কুমন্ত্রণা ও কুমনোভাব দূর করার যথাসাধ্য চেষ্টা করল। এবং এক মাত্র আল্লাহর সন্ত্বষ্টির জন্য কুরবানী সম্পন্ন করল, তাহলে এই রিয়া তার ‘আমালে কোন প্রভাব ফেলবে না এবং আল্লাহ চাহেতো তার এই কুরবানী বাতিল হবে না।
খ। আমল শুরু মাঝে রিয়া আসলে আমলকারী যদি উক্ত রিয়াকে প্রত্যাখ্যান না করলে আমল বাতিল হবে।
যদি সে ব্যক্তি তার অন্তরের এই কুমন্ত্রণা দূর করার এবং ‘আমালকে রিয়ামুক্ত করার চেষ্টা না করে, বরং রিয়া তথা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য অন্তরে পোষণ করেই আমাল সম্পন্ন করে থাকে, তাহলে তার এই ‘আমাল সম্পূর্ণ বাতিল ও বিনষ্ট হয়ে যাবে। নিছুক লোক দেখাবার জন্য সে যেসব কাজ করে সেগুলো সুস্পষ্টভাবে একথাই প্রকাশ করে যে, সৃষ্টিকেই সে আল্লাহ মনে করে এবং তার কাছ থেকেই নিজের কাজের প্রতিদান চায়। আল্লাহর কাছ থেকে সে প্রতিদানের আশা করে না। একদিন সমস্ত কাজের হিসেব-নিকেশ করা হবে এবং প্রতিদান দেয়া হবে, একথাও সে বিশ্বাস করে না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُبۡطِلُوۡا صَدَقٰتِکُمۡ بِالۡمَنِّ وَالۡاَذٰی ۙ کَالَّذِیۡ یُنۡفِقُ مَالَہٗ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ فَمَثَلُہٗ کَمَثَلِ صَفۡوَانٍ عَلَیۡہِ تُرَابٌ فَاَصَابَہٗ وَابِلٌ فَتَرَکَہٗ صَلۡدًا ؕ لَا یَقۡدِرُوۡنَ عَلٰی شَیۡءٍ مِّمَّا کَسَبُوۡا ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ
হে মুমিনগণ, তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে তোমাদের সদাকা বাতিল করো না। সে ব্যক্তির মত, যে তার সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং বিশ্বাস করে না আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি। অতএব তার উপমা এমন একটি মসৃণ পাথর, যার উপর রয়েছে মাটি। অতঃপর তাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ল, ফলে তাকে একেবারে পরিষ্কার করে ফেলল। তারা যা অর্জন করেছে তার মাধ্যমে তারা কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। আর আল্লাহ কাফির জাতিকে হিদায়াত দেন না। সুরা বাকারা : ২৬৪
আল্লাহ এই উপমায় প্রবল বর্ষণ বলতে বান্দা নিয়ত আর মাটির দ্বারা তার দান খয়রাতকে বুঝানো হয়েছে। প্রবল বর্ষণের ফলে সমস্ত মাটি ধুয়ে গেলো অর্থাৎ লোক দেখাবার জন্য সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে গেল।
গ। উভয় অংশের আলাদা আলাদা নেকি/গুনাহ থাকবে।
আমলটি শুরু হয়েছে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশে কিন্তু পরে তাতে রিয়া প্রবেশ করেছে। এ অবস্থায় ‘আমালটির যদি এমন হয় যে, তার এক অংশ অপর অংশের উপর নির্ভরশীল নয় বরং তার প্রতিটি অংশ পৃথক পৃথক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাহলে সেই আমাল সে অংশটুকু রিয়া মিশ্রিত হবে, শুধুমাত্র সে অংশটুকু বাত্বিল হয়ে যাবে, তবে তার সম্পূর্ণ ‘আমাল বাত্বিল হবে না। যেমন-
কোন ব্যক্তি একমাত্র মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কিছু টাকা মসজিদে দান করার নিয়তে বাড়ি থেকে মসজিদে জুমার সালাতে হাজির হল। মসজিদে এসে কিছু টাকা দানও করল, ইতোমধ্যে ইমাম সাহেবের খুতবা শুনে অনেক মুসল্লী দান করা শুরু করলো। অনেক মুসল্লীকে ইমাম সাহেব বাহবা দিচ্ছে এবং তার প্রশংসা করছে। তখন সে আরো বেশি বাহবা ও প্রশংসা কুড়ানোর উদ্দেশ্যে বা লোক দেখানোর জন্য আবার দান করল। এমতাবস্থায় তার দানকৃত প্রথম টাকা আল্লাহ্র নিকট গৃহীত হবে এবং পরবর্তীতে দানকৃত টাকা রিয়ার কারনে আল্লাহ্র নিকট বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত বলে গণ্য হবে।
(৩) আমল শেষ করার পর ছোট শিরক
শিরকে আসগার বা ছোট শিরকের সাধারনত ইচ্ছা, সংকল্প ও নিয়্যাতের দ্বারা সঙ্গটিত হয়। আমল শেষ করার পর ইচ্ছা, সংকল্প বা নিয়্যাত করার আর কোন বাধ্যবাধকতা থাকে না। তাই আমল শেষ করার পর রিয়া অনুভুত হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসা মাত্র এতে আমলকারীর আমলেন উপর কোন প্রভাব পরবেনা। আল্লাহ্র জন্যে পূর্ণ নিষ্ঠা ও ইখলাসের সাথে কোন আমাল আরম্ভ ও সম্পন্ন করার পর অন্তরে রিয়ার উদ্ভব হওয়া আর না হওয়া সমান কথা। যেমন-
অনেক সময় লোকজনের মুখে নিজের আমাল সম্পর্কে প্রশংসা শুনে নীরবে আত্মতৃপ্তি ও গর্ববোধ হয়। যদিও এটা রিয়া কিন্তু এ জাতীয় রিয়া, সম্পাদিত সেই আমালের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা এবং এর দ্বারা আমল বাতিল বা বিনষ্ট হবে না। কেননা তা আমল সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশ পেয়েছে। এ সম্পর্কে একটি হাদিস হলো-
আবূ হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يَعْمَلُ الْعَمَلَ فَيُسِرُّهُ فَإِذَا اطُّلِعَ عَلَيْهِ أَعْجَبَهُ ذَلِكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” لَهُ أَجْرَانِ أَجْرُ السِّرِّ وَأَجْرُ الْعَلاَنِيَةِ ”
এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন লোক খুবই গোপনে কোন আমল করে কিন্তু অন্যরা তা জেনে ফেললে তাতেও তার আনন্দ লাগে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব, একটি গোপনে আমল করার জন্য এবং অপরটি প্রকাশ হয়ে পড়ার জন্য। সুনানে তিরমিজি : ২৩৮৪, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৪২২৬ মান জঈফ।
প্রশংসা শুনে আত্মতৃপ্তি ও গর্ববোধ করা করা ঠিক নয় বরং ইহার পরিবর্তে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ কারন তিনিই তো আমাকে আমল করার সুযোগ দিয়েছেন।
ছোট শিরক সম্পর্কে যে দুটি বিষয় জানা দরকারঃ
(১) গোপন আমল প্রকাশ পেলেও রিয়া হবে নাঃ
আবূ যার (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-
قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يَعْمَلُ الْعَمَلَ مِنَ الْخَيْرِ وَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ قَالَ “ تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ
রসূলুল্লাহ ﷺ এর সমীপে আবেদন করা হলো, ঐ লোক সম্পর্কে আপনার কি মতামত, যে সৎ আমল করে এবং মানুষেরা তার গুণ বর্ণনা করে? তিনি বললেন, এটা তো ঈমানদার ব্যক্তির জন্য আগাম সুসংবাদ। সহিহ মুসলিম : ২৬৪২, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২২৫, আহমাদ : ২০৮৭২, ২০৯৬৬
আবূ হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يَعْمَلُ الْعَمَلَ فَيُسِرُّهُ فَإِذَا اطُّلِعَ عَلَيْهِ أَعْجَبَهُ ذَلِكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” لَهُ أَجْرَانِ أَجْرُ السِّرِّ وَأَجْرُ الْعَلاَنِيَةِ ”
এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন লোক খুবই গোপনে কোন আমল করে কিন্তু অন্যরা তা জেনে ফেললে তাতেও তার আনন্দ লাগে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব, একটি গোপনে আমল করার জন্য এবং অপরটি প্রকাশ হয়ে পড়ার জন্য। সুনানে তিরমিজি : ২৩৮৪, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৪২২৬ মান জঈফ।
আবদুল্লাহ্ ইবন ’আমর (রা.) মহানবী ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে জিহাদ ও যুদ্ধ সম্বন্ধে বলুন, এর কোনটি আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য? তিনি বলেন, হে আবদু্ল্লাহ ইবন ’আমর! যদি তুমি ধৈর্যের সাথে আল্লাহ নিকট হতে পুণ্য লাভের আশায় যুদ্ধ কর তবে আল্লাহ্ তোমাকে গর্বিত ও লোক দেখানোরূপে চিহিৃত করবেন। হে আবদুল্লাহ্ ইবন ’আমর! তুমি যে অবস্থায় যুদ্ধ কর বা মারা যাও তোমাকে সে অবস্থায় তোমার নিয়্যাত অনুযায়ী আল্লাহ্ উত্থিত করবেন। সুনানে আবু দাউদ : ২৫১১
(২) সমালোচনার ভয়ে নেক আমল ছেড়ে দেওয়া যাবে নাঃ
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَن يَرۡتَدَّ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَسَوۡفَ يَأۡتِى ٱللَّهُ بِقَوۡمٍ۬ يُحِبُّہُمۡ وَيُحِبُّونَهُ ۥۤ أَذِلَّةٍ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى ٱلۡكَـٰفِرِينَ يُجَـٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوۡمَةَ لَآٮِٕمٍ۬ۚ ذَٲلِكَ فَضۡلُ ٱللَّهِ يُؤۡتِيهِ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٲسِعٌ عَلِيمٌ (٥٤)
হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি স্বীয় ধর্ম হতে বিচ্যুত হবে, আল্লাহ সত্ত্বরই এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যাদেরকে আল্লাহ ভালবাসবেন এবং তারাও আল্লাহকে ভালবাসবে, তারা মুসলিমদের প্রতি মেহেরবান থাকবে, কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে, তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে আর তারা কোন নিন্দুকের নিন্দার পরওয়া করবেনা। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তা তিনি যাকে ইচ্ছা প্রদান করেন; বস্তুতঃ আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী। সুরা মায়েদা : ৫৪
আবূ মাস’ঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সাদকার আয়াত অবতীর্ণ হল তখন আমরা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বোঝা বহন করতাম। এক ব্যাক্তি এসে প্রচুর মাল সাদকা করলো। তারা (মুনাফিকরা) বলতে লাগল, এ ব্যাক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে দান করেছে, আর এক ব্যাক্তি এসে সা’ পরিমাণ দান করলে তারা বললো, আল্লাহ তো এ ব্যাক্তির এক সা’ থেকে অমুখাপেক্ষী। এ প্রসংগে অবতীর্ণ হয়, (আল্লাহ বলেন)-
اَلَّذِیۡنَ یَلۡمِزُوۡنَ الۡمُطَّوِّعِیۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ فِی الصَّدَقٰتِ وَالَّذِیۡنَ لَا یَجِدُوۡنَ اِلَّا جُہۡدَہُمۡ فَیَسۡخَرُوۡنَ مِنۡہُمۡ ؕ سَخِرَ اللّٰہُ مِنۡہُمۡ ۫ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
যারা দোষারোপ করে সদাকার ব্যাপারে মুমিনদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাদানকারীদেরকে এবং তাদেরকে যারা তাদের পরিশ্রম ছাড়া কিছুই পায় না। অতঃপর তারা তাদেরকে নিয়ে উপহাস করে, আল্লাহও তাদেরকে নিয়ে উপহাস করেন এবং তাদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব, তাওবা-৭৯। সহিহ বুখারি : ১৪১৫
উবাদাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রসূলুল্লাহ ﷺ এর হাতে বাইআত হলাম এ মর্মে যে, আমরা শুনবো ও মানবো, সংকটের সময় ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময়, খুশীর অবস্থায় ও অপছন্দের অবস্থায় এবং আমাদের উপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দিলেও। আর এ মর্মে যে, আমরা যোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্ব বরণ করে নিতে কোনরূপ কোন্দল করবো না। আর এ মর্মে যে, আমরা যেখানেই থাকবো হক কথা বলব। আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবো না। সহিহ মুসলিম : ১৭০৯
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন এবং তাঁর ভাষণে বলেন, সাবধান! মানুষের ভয় যেন কোন ব্যক্তিকে সজ্ঞানে সত্য কথা বলতে বিরত না রাখে। রাবী বলেন আবূ সাঈদ (রা.) কেঁদে দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর শপথ! আমরা বহু কিছু লক্ষ্য করেছি কিন্তু বলতে ভয় পাচ্ছি। সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০০৭, সুনানে তিরমিযী : ২১৯১, সহীহাহ : ১৬৮
মুমিনের অন্যতাম বৈশিষ্ট হলো, মহান আল্লাহর আনুগত্য ও হুকুম পালনের ক্ষেত্রে কোন কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় বা পরোয়া করবে না। আমাদের সমাজে অনেক মুসলিম আছে যারা আল্লাহর হুকুম মত জীবন চালাত চায় কিন্তু নিন্দুকের নিন্দা ও তিরস্কারের মোকাবেলা করার মত ক্ষমতা নেই বলে তারা আমল ছেড়ে দেয়। অনেক যুবক আছে তারা দাড়ি রাখতে চায় কিন্তু নিন্দুকের নিন্দার ভয়ে দাড়ি রাখছে না।