মৃত্যুর প্রস্তুতি

মৃত্যুর প্রস্তুতি

লেখক : মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَاِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ اُجُوۡرَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنۡ زُحۡزِحَ عَنِ النَّارِ وَاُدۡخِلَ الۡجَنَّۃَ فَقَدۡ فَازَ ؕ وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ

প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী। সুরা আল ইমরান : ১৮৫

প্রত্যেক মানুষের মৃত্যু অবধারিত এবং তার সময়ও নির্ধারিত। মৃত্যু আসবেই এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং তার মৃত্যুর নির্ধরিত সয়ের এক সেকেন্ডও এদিক-সেদিক হবে না। কিন্তু বোকা মানুষ কখন তার মৃত্যু নিয়ে কল্পনা করে না,  সে সারাক্ষন ভবিষ্যত জীবনের সুখের আবাস গড়ার কল্পনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দুনিয়ার আরাম-আয়েশের পেছনে ছুটে চলা মানুষগুলো দেখলে কারো মনে হবেনা যে এই পৃথিবী ছেড়ে তাকে একদিন চলে যেতে হবে। যদি কোন মানুষ তার আসল গন্তব্য সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করত তবে সে মৃত্যু চিন্তা ভুলে যেতে পারত না। কেননা, মৃত্যুর পরই তার দুনিয়ায় সকল কর্ম, প্রকাশিত হবে। কোনো কিছু আর গোপন থাকবে না। মানুষ মানুষকে ফাঁকি দিতে পারে, কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিনকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব। এই চিন্তাটুকু মাথায় থাকা জরুরি। একজন মানুষের জন্য মৃত্যুর সময় বড়ো কঠিন সময়। মৃত্যু কতোটা কঠিন কিংবা সহজ হবে সেটি নির্ভর করছে নিজ আমলের ওপর। উক্ত আয়াতে মহান আল্লাহর পরিস্কার ঘোষণা, মৃত্যুর পর তার ভালো মন্দ কর্মের ফল সরূপ জান্নাত বা জান্নাহে প্রবেশ করাবেন। এই কথা মাথায় রেখে দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করার পাশাপাশি আমাদের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। মৃত্যুর দিন ক্ষণ আমাদের নিকট অজানা। আমি এখন, এই মুহুর্তে, আজই মৃত্যু বরণ করেত পারি। কাজেই আজ এই মুহুর্ত থেকে আমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। হটাত মালাকুল মাউতের  আগমন ঘটবে। তখন আর প্রত্তুতি নেওয়া সময় থাকবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ

আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। সুরা লোকমান : ৩৪

একবার মন্দ ফয়সালা প্রদানের পর আর ফিরে এসে ভালো কাজ করার সুযোগ প্রদান করা হবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَقَالَ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡا لَوۡ اَنَّ لَنَا کَرَّۃً فَنَتَبَرَّاَ مِنۡہُمۡ کَمَا تَبَرَّءُوۡا مِنَّا ؕ  کَذٰلِکَ یُرِیۡہِمُ اللّٰہُ اَعۡمَالَہُمۡ حَسَرٰتٍ عَلَیۡہِمۡ ؕ  وَمَا ہُمۡ بِخٰرِجِیۡنَ مِنَ النَّارِ 

আর যারা অনুসরণ করেছে, তারা বলবে, ‘যদি আমাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তাহলে আমরা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যেতাম, যেভাবে তারা আলাদা হয়ে গিয়েছে। এভাবে আল্লাহ তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। আর তারা আগুন থেকে বের হতে পারবে না। সুরা বাকারা : ১৬৭

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-

حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَ أَحَدَهُمُ ٱلۡمَوۡتُ قَالَ رَبِّ ٱرۡجِعُونِ ٩٩ لَعَلِّيٓ أَعۡمَلُ صَٰلِحٗا فِيمَا تَرَكۡتُۚ كَلَّآۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَاۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرۡزَخٌ إِلَىٰ يَوۡمِ يُبۡعَثُونَ

অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, হে আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠান, যেন আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। কখনো নয়, এটি একটি বাক্য যা সে বলবে। যেদিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন পর্যন্ত তাদের সামনে থাকবে বরযখ। সূরা মুমিনূন : ৯৯-১০০

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-

حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَہُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ رَبِّ ارۡجِعُوۡنِ ۙ

অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, ‘হে আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠান। সুবা মুমিনুন : ৯৯

এই দুনিয়ার জীবনে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। নিজেকে সংশোধন করে নেওয়ার একটাই সুযোগ, দ্বিতীয় কোন সুযোগ নেই। সুতারং ঝুকি নেওয়ার কোন সুযোগই নাই। ফিরে আসারও সুযোগ থাকবে না। পরকালের সফলাতের জন্য মুমিনের দায়িত্ব অবশ্যই কর্তব্য হলো এই মুহুর্ত থেকে মৃত্যুর প্রস্তুতি নেওয়া। এই লক্ষে নিন্মের আমলগুলো করতে পারি।

১. ঈমানকে চুড়ান্তভাবে বিশুদ্ধ রাখার চেষ্টা করতে হবে

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِلَىٰ صِرَٲطٍ۬ مُّسۡتَقِيمٍ۬

আর যারা ঈমান এনেছে, নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করে থাকেন। সুরা হজ্জ : ৫৪

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يَلۡبِسُوٓاْ إِيمَـٰنَهُم بِظُلۡمٍ أُوْلَـٰٓٮِٕكَ لَهُمُ ٱلۡأَمۡنُ وَهُم مُّهۡتَدُونَ

যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে যুলমের সাথে সংমিশ্রণ করেনিম তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াত প্রাপ্ত।  সূরা আনআম : ৮২

উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ

যে ব্যক্তি (খাঁটি মনে) এ বিশ্বাস নিয়ে মারা যাবে যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’ সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। সহিহ মুসলিম : ২৬, মিশকাত : ৩৭, শুয়াল ঈমান : ৯৪

উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল, আল্লাহ (তাঁর অনুগ্রহে) তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন। সহিহ মুসলিম : ২৯, সুনানে তিরমিযী : ২৬৩৮, আহমাদ : ২২৭১১, সহিহ ইবনু হিব্বান : ২০২, সহিহ আল জামি : ৬৩১৯

২. নেক আমল দিয়ে জীবনকে সাজানো

মুমিন বান্দা যে কাজে নিজের জীবন অতিবাহিত করবে, সে কাজের ওপরই তার মৃত্যু হবে। যদি কেউ কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন-যাপন করে তবে তার মৃত্যুও কোরআন-সুন্নাহর আলোকে হবে। এ কারণেই দুনিয়ার জীবনে কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নেক আমলে জীবন সাজানো জরুরি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

مَنۡ عَمِلَ صَالِحًا مِّنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَنُحۡیِیَنَّہٗ حَیٰوۃً طَیِّبَۃً ۚ وَلَنَجۡزِیَنَّہُمۡ اَجۡرَہُمۡ بِاَحۡسَنِ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব। সুরা নহল : ৯৭

 আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ ‏”‏ ‏.‏ فَقِيلَ كَيْفَ يَسْتَعْمِلُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ الْمَوْتِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

আল্লাহ তা’আলা যদি তার কোন বান্দার কল্যাণ করার ইচ্ছা করেন তাহলে তাকে কাজ করার তাওফিক প্রদান করেন। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি কিভাবে তাকে কাজ করার তাওফিক দেন? তিনি বললেনঃ তিনি সেই বান্দাহকে মারা যাবার আগে সৎকাজের সুযোগ দান করেন। সুনানে তিরমিজি : ২১৪২, মিশকাত : ৫২৮৮

৩। প্রতিটি কাজ সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতিতে করার চেষ্টা করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

তোমরা যদি মু’মিন হয়ে থাক তবে তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর”। সূরা আনফাল ৮: ১

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নতমত আমল না করলে আমল ধ্বংস হয়ে যাবে। তার আমল কবুল করা হবে না। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এরশাদ করেনঃ

يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَلَا تُبۡطِلُوٓاْ أَعۡمَـٰلَكُمۡ  

হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের আমল ধ্বংস করো না৷ সুরা মুহম্মাদ : ৩৩

আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসুদ (রা.) হতে বর্ণিত-

إِنَّ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَ (إِنَّ مَا تُوعَدُونَ لاَتٍ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ)

সর্বোত্তম কালাম হল আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথ নির্দেশনা হল মুহাম্মাদ -এর পথ নির্দেশনা। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল নতুনভাবে উদ্ভাবিত পন্থাসমূহ। ’’তোমাদের কাছে যার ও’য়াদা দেয়া হচ্ছে তা ঘটবেই, তোমরা ব্যর্থ করতে পারবে না’’- (সূরাহ আনাম-১৩৪)। সহিহ বুখারি : ৭২৭৭,

৪। গুনাহ থেকে বেচে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করা

গুনাহ পরিহারের মাধ্যমে মুমিন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের পাপ নিষিদ্ধ করেছেন।

قُلۡ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّیَ الۡفَوَاحِشَ مَا ظَہَرَ مِنۡہَا وَمَا بَطَنَ وَالۡاِثۡمَ وَالۡبَغۡیَ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَاَنۡ تُشۡرِکُوۡا بِاللّٰہِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِہٖ سُلۡطٰنًا

বল,‘আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ- যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের শরীক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। সুরা আরাফ : ৩৩

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-

اِنۡ تَجۡتَنِبُوۡا کَبَآئِرَ مَا تُنۡہَوۡنَ عَنۡہُ نُکَفِّرۡ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَنُدۡخِلۡکُمۡ مُّدۡخَلًا کَرِیۡمًا

তোমরা যদি সে সব বড় গুনাহ পরিহার কর, যা থেকে তোমাদের বারণ করা হয়েছে, তাহলে আমি তোমাদের ছোট গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাব সম্মানজনক প্রবেশস্থলে। সুনা নিসা : ৩১

৫। হারাম আয় ও কাজ ছেড়ে হালাল জীবন যাপনে দৃঢ় থাকা

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُلُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰکُمۡ وَاشۡکُرُوۡا لِلّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ اِیَّاہُ تَعۡبُدُوۡنَ

হে মুমিনগণ, আহার কর আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিযক দিয়েছি তা থেকে এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদাত কর। সুরা বাকারা : ১৭২

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোক সকল! আল্লাহ তা’আলা পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ব্যতীত কিছু কুবুল করেন না। আল্লাহ তার রাসূলদেরকে যেসব বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন, মুমিনদেরকেও সেসব বিষযের হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন-

‏يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ

“হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর এবং সৎকাজ কর। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবগত। মু’মিনূন-৫১

তিনি আরো বলেন “হে মু’মিনগণ! তোমাদেরকে আমি যে রিযিক দিয়েছি তা হতে পবিত্র বস্তু আহার কর। (বাকারাহ-১৭২)। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, দীর্ঘ সফরের ক্লান্তিতে যার মাথার চুল বিক্ষিপ্ত, অবিন্যস্ত এবং সারা শরীর ধূলি মলিন। সে আসমানের দিকে হাত দরায করে বলে, হে আমার প্রভু! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য ও পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, তার জীবন জীবিকাও হারাম। এমতাবস্থায় তার দু’আ কিভাবে কুবুল হতে পারে। সুনানে তিরমিজি : ২৯৮৯

৬। সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাঃ

আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো। মৃত্যু কখন আসে কেউ জানেনা। হায়াত থাকতেই সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা নাহলে পরকালে এই সম্পদের জন্য আফছস করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُلۡهِكُمۡ أَمۡوَٲلُكُمۡ وَلَآ أَوۡلَـٰدُڪُمۡ عَن ذِڪۡرِ ٱللَّهِ‌ۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٲلِكَ فَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلۡخَـٰسِرُونَ (٩) وَأَنفِقُواْ مِن مَّا رَزَقۡنَـٰكُم مِّن قَبۡلِ أَن يَأۡتِىَ أَحَدَكُمُ ٱلۡمَوۡتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوۡلَآ أَخَّرۡتَنِىٓ إِلَىٰٓ أَجَلٍ۬ قَرِيبٍ۬ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ (١٠) وَلَن يُؤَخِّرَ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِذَا جَآءَ أَجَلُهَا‌ۚ وَٱللَّهُ خَبِيرُۢ بِمَا تَعۡمَلُونَ (١١)

হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আর আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় কর, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। কেননা তখন সে বলবে, হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সদাকা করতাম। আর সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আর আল্লাহ কখনো কোন প্রাণকেই অবকাশ দেবেন না, যখন তার নির্ধারিত সময় এসে যাবে। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। সুরা মুনাফিকুন : ৯-১১

৭। দুনিয়াতে আগুন্তক বা পফিকের মত জীবন যাপন করাঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার দু’ কাঁধ ধরে বললেন,  তুমি দুনিয়াতে থাক যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী।

আর ইবনু উমার (রাঃ) বলতেন, তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের আর অপেক্ষা করো না এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার আর অপেক্ষা করো না। তোমার সুস্থতার সময় তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য প্রস্তুতি লও। আর তোমার জীবিত অবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি লও। সহিহ বুখারি : ৬৪১৬, সুনানে তিরমিজি : ২৩৩৩, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪১১৪

আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন এবং এর মধ্যখানে একটি রেখা টানলেন, যা তাত্থেকে বের হয়ে গেল। তারপর দু’পাশ দিয়ে মধ্যের রেখার সঙ্গে ভেতরের দিকে কয়েকটা ছোট ছোট রেখা মিলালেন এবং বললেন, এ মাঝের রেখাটা হলো মানুষ। আর এ চতুর্ভুজটি হলো তার আয়ু, যা বেষ্টন করে আছে। আর বাইরে বেরিয়ে যাওয়া রেখাটি হলো তার আশা। আর এ ছোট ছোট রেখাগুলো বাধা-বন্ধন। যদি সে এর একটা এড়িয়ে যায়, তবে আরেকটা তাকে দংশন করে। আর আরেকটি যদি এড়িয়ে যায় তবে আরেকটি তাকে দংশন করে। সহিহ বুখারি : ৬৪১৭, সুনানে তিরমিজি : ২৪৫৪, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৩১

৮। গুনাহ পরিত্যাগ করে তওবা করতে থাকা

মহান আল্লাহ এমন ব্যক্তির তওবা কবুল হবে না যে মন্দ কাজ করতেই থাকে এবং মৃত্যুর প্রাক্কালে তওবা করে।  আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَلَیۡسَتِ التَّوۡبَۃُ لِلَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ السَّیِّاٰتِ ۚ حَتّٰۤی اِذَا حَضَرَ اَحَدَہُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ اِنِّیۡ تُبۡتُ الۡـٰٔنَ وَلَا الَّذِیۡنَ یَمُوۡتُوۡنَ وَہُمۡ کُفَّارٌ ؕ اُولٰٓئِکَ اَعۡتَدۡنَا لَہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا

আর তাওবা নাই তাদের, যারা অন্যায় কাজ করতে থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু এসে যায়, তখন বলে, আমি এখন তাওবা করলাম, আর তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা কাফির অবস্থায় মারা যায়; আমি এদের জন্যই তৈরী করেছি যন্ত্রণাদায়ক আযাব। সুরা নিসা : ১৮

ইহা ছাড়া তওবার দরজান সব সময়ের জন্য খোলা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُوْلَئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ

নিশ্চয় তাওবা কবূল করা আল্লাহর জিম্মায় তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে। তারপর শীঘ্রই তাওবা করে। অতঃপর আল্লাহ এদের তাওবা কবুল করবেন আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।সূরা নিসাঃ ১৭

কিন্তু গুনাহ ত্যাগ করে তওবা করলে, তার তওবা করার সুযোগ থাকবে মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত। সহিহ হাদিসে এসেছে-

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ ‏”‏ ‏.‏

রূহ কণ্ঠাগত না হওয়া (মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত) পর্যন্ত মহামহিম আল্লাহ বান্দার তওবা কবুল করেন। ইবনে মাজাহ : ৪২৩৫, সুনানে তিরমিযী ৩৫৩৭, মিশকাত : ২৩৪৩।

৯। বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করা

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ ‏”‏ ‏.‏ يَعْنِي الْمَوْتَ

তোমরা অধিক পরিমাণে জীবনের স্বাদ হরণকারী অর্থাৎ মৃত্যুকে স্মরণ করো। সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৫৮, সুনানে তিরমিযী : ২৩০৭, সুনানে নাসায়ী : ১৮২৪, আহমাদ : ৭৮৬৫, মিশকাত : ১৬১০

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাকে সালাম দিলো। অতঃপর বললো, হে আল্লাহর রাসূল! মুমিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম কে? তিনি বলেন, স্বভাব-চরিত্রে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অধিক উত্তম। সে পুনরায় জিজ্ঞেস কররো, মুমিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান কে? তিনি বলেনঃ তাদের মধ্যে যারা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য উত্তমরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তারাই সর্বাধিক বুদ্ধিমান। সুনানেইবনে মাজাহ : ৪২৫৯, সহিহাহ : ১৩৮৪

১০। অসিয়ত লিখে রাখা

মৃত্যুর আগে নিজের সম্পদের সুষম বণ্টনের অসিয়ত লিখে রেখে যাওয়া জরুরি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

کُتِبَ عَلَیۡکُمۡ اِذَا حَضَرَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ اِنۡ تَرَکَ خَیۡرَۨا ۚۖ  الۡوَصِیَّۃُ لِلۡوَالِدَیۡنِ وَالۡاَقۡرَبِیۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ۚ  حَقًّا عَلَی الۡمُتَّقِیۡنَ ؕ

তোমাদের উপর ফরয করা হয়েছে যে, যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হবে, যদি সে কোন সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়ভিত্তিক অসিয়ত করবে। এটি মুত্তাকীদের দায়িত্ব। সুরা বাকারা : ১৮০

১১। প্রতি দিন ঘুমানোর সময় সারা দিনের হিসাব গ্রহন করা

প্রতি দিন ঘুম থেকে মনে মনে ভাবতে হবে, পৃথিবিতে আজ আমার শেষ দিন। তাই যতটা সম্ভব ভালো কাজের মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করে যেতে পারি। একই সাথে রাতে ঘুমানোর সময় সারা দিনের হিসাব গ্রহন করতে হবে। আজ সারা দিনে কী কী কাজ করার কথা ছিল, আর কী কী করলাম? কী কী গুনাহে জড়ালাম আর কী কী ভালো কাজ করলাম? কাকে কাকে কষ্ট দিলাম বা কাকে ইকরাম করলাম। এ সবগুলোর হিসাব নেয়া চাই। এই সময়ে গুনাহের জন্য তওবা করি আর যদি কারো হক নষ্ট করে থাকি, তবে আগামিকাল তার হক পূরণ করা নিয়ত করি। সেই সাথে ঘুমানোর আগে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, অন্তর থেকে সমস্ত মুমিনকে মাফ করে দেওয়া। আমার মৃত্যু তো আজ রাতেও হয়ে যেতে পারে। তাই আমার মৃত্যু যেন এ অবস্থায় না হয় যে, একজন মুমিন বান্দার সাথে আমার মনোমালিন্য ছিল।

১২। হেদায়েত পাওয়ার পর যেন গোমড়া না হয়ে যাই তার জন্য দোয়া করাঃ

ঈমানের উপর অটল থাকতে নির্জনে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। যাতে দুনিয়ার জীবনের সার্বিক কল্যাণ ও পরকালের অন্তিম মুহূর্তে ঈমান ও প্রশান্তির মৃত্যু নসিব হয়। তাই চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

رَبَّنَا لَا تُزِغۡ قُلُوۡبَنَا بَعۡدَ اِذۡ ہَدَیۡتَنَا وَہَبۡ لَنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡوَہَّابُ

হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। সুরা আল ইমরান : ৮

১৩। সদগায়ে জারিয়ার আমল করা

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। (১) সাদাকা জারিয়াহ্ অথবা (২) এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা (৩) পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে।  সহিহ মুসলিম : ১৬৩১, সুনানে তিরমিযী : ১৩৭৬, সুনানে নাসায়ী : ৩৬৫১, সুনানে আবূ : দাঊদ ২৮৮০, আহমাদ : ৮৬২৭, দারিমী : ৫৫৯।

এ হিসেবে নিন্মের কাজগুলি করে মৃত্যু বরণ করেত পারলে কবরেও সওয়াব পৌছাতে থাকবে। ইনশাললাহ।

দ্বীনি ইলম চর্চার ব্যবস্থা করা, সন্তানকে নেককার করে তোলা। মসজিদ, মাদ্রাসা, ইয়াতিম খানা, মুসাফির খানা ইত্যাদি তৈরি করা। কুপ, টিউব ওয়েল, পুল, রাস্তা ঘাট ইত্যাদি নির্মাণ করা। বেশী বেশী ফলের গাছ লাগানো। আথাত এমন কাজ করে যাওয়া চেষ্টা করা যার মাধ্যমে মৃত্যুর পরও মানুষ সুফল ভোগ করবে।

একটি সতর্কতাঃ

মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিবে কিন্তু মৃত্যু কামনা করা যাবে নাঃ

আনাস ইবনু মলিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

اَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمْ الْمَوْتَ مِنْ ضُرٍّ أَصَابَه“ فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتْ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتْ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي.

তোমাদের কেউ দুঃখ দৈন্যে নিপতিত হওয়ার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি এমন একটা কিছু করতেই হয়, তা হলে সে যেন বলে হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতদিন পর্যন্ত আমার জন্য জীবিত থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হয়। সহিহ বুখারি : ৫৬৭১

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কোন ব্যক্তিকে তার নেক ’আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। লোকজন প্রশ্ন করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেও নয়? তিনি বললেনঃ আমাকেও নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে তাঁর করুণা ও দয়া দিয়ে আবৃত না করেন। কাজেই মধ্যমপন্থা গ্রহণ কর এবং নৈকট্য লাভের চেষ্টা চালিয়ে যাও। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে ভাল লোক হলে (বয়স দ্বারা) তার নেক ’আমল বৃদ্ধি হতে পারে। আর খারাপ লোক হলে সে তওবা করার সুযোগ পাবে। সহিহ বুখারি : ৫৬৭৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *