নাজাত প্রপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য-০৭ ::  বিদআত মুক্ত আমল করবে।

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

এই জামাআতের অন্যতম আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল তাদের আমল হবে বিদআত মুক্ত। আমাদের সমাজে বিদআদের এত বেশী প্রচলন যে কোনটি ইবাদাত আর কোন কোনটি বিদআত তা চিহিৃত করাই কঠিন।  সমাজে অজ্ঞ মুসলিমদের মাঝে বিদআতে প্রচলন খুব বেশী। এর জন্য দায়ি সমাজের কিছু বিদআতী আলেম যারা তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য বিদআত চালু রেখেছে। কিন্তু বিদআতে ভয়াবহতা বুঝতে পারলে ইহা থেকে বাচার কঠোর চেষ্টা করত। ইসলাম মহান আল্লাহ মনোনীত একমাত্র পরিপূর্ণ ধর্ম যেখানে কোন সংযোজন বা বিয়োজনের কোন স্থান নাই। কিন্তু সমাজের অজ্ঞ মুসলিম এ সত্য না জানার ফলে বিদআতি আলেদের খপ্পরে পরে বিদআদকে ইবাদাত মনে করে সংযোজন করেছে। বিদআত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে চিহিৃত করেত পারলে, এর ভয়াবহ পরিণত থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ হবে। এই জন্য বিদআত সম্পর্কে জানার সাথে সাথে আমাদের ব্যক্তগত আমল যাচাই বাছাই করে নেয়া উচিত। কারণ হতে পারে বহু আমল আমার, আপনার জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে যেগুলো দুর্বল বা বানোয়াট হাদিসের উপর নির্ভরশীল। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিম্নোক্ত বাণী কোন ব্যক্তির ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না।

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন-

مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدٌّ

কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত। সহিহ বুখারি : ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম : ৩২৪২

অতএব, আমাদের উচিত হবে বিদআত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে সমাজে থেকে বিদআত দুর করার চেষ্টা করা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের সার্বিক কল্যাণ একমাত্র রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আদর্শের মধ্যেই আমাদেরকে খুঁজে নিতে হবে এবং বিদআতে পরিহার করতে হবে। সুন্নাহ সম্মত আমল না করে মনগড়া বিদআতি আমল আবিস্কার করার প্রতি কুরআন কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বিদআত না করে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুসরনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং বিদআতের ভয়বহ পরিনতি সম্পর্কে কুনআন হাদিসে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। সুরা হাশর : ৭

মহান আল্লাহ আরও বলেন,

لَا تَجْعَلُوا دُعَاء الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاء بَعْضِكُم بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمْ لِوَاذًا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে। সুরা নুর : ৬৩

মহান আল্লাহ আরও বলেন,

وَمَن يَقْنُتْ مِنكُنَّ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُّؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ وَأَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِيمًا

তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে এবং সৎকর্ম করবে, আমি তাকে দুবার পুরস্কার দেব এবং তার জন্য আমি সম্মান জনক রিযিক প্রস্তুত রেখেছি। সুরা আহযাব : ৩১

১। নিম্মে বিদআতের ভয়াবহতা বর্ণনা করা হলো-

(১) বিদআত মানুষকে পথভ্রষ্ট করে

ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের নাসীহাত করেন, যাতে অন্তরসমূহ ভীত হল এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করলো। তাঁকে বলা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি তো বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ দিলেন। অতএব আমাদের নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করুন (একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দিন)। তিনি বলেনঃ তোমরা আল্লাহ্ভীতি অবলম্বন করো, শ্রবণ করো ও আনুগত্য করো (নেতৃ-আদেশ), যদিও সে কাফরী গোলাম হয়। আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্নক মতভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। অবশ্যই তোমরা বিদআত কাজ পরিহার করবে। কারণ প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। ইবনে মাজাহ : ৪২,  সুনানে তিরমিজি : ২৬৭৬, আবূ দাঊদ ৪৬০৭, আহমাদ ১৬৬৯২, দারিমী ৯৫।

(২) বিদআত সহিহ সুন্নাহকে বিতাড়িত করে তার স্থলাভিষিক্ত হয়

হাসসান ইবনু আতিয়্যাহ্) (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-

مَا ابْتَدَعَ قَوْمٌ بِدْعَةً فِي دِينِهِمْ إِلَّا نَزَعَ اللَّهُ مِنْ سُنَّتِهِمْ مِثْلَهَا ثُمَّ لَا يُعِيدُهَا إِلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَة.

কোন জাতি যখন দীনের মধ্যে কোন বিদআত সৃষ্টি করে, তখনই আল্লাহ তা’আলা তাদের থেকে সে পরিমাণ সুন্নাত উঠিয়ে নেন। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত এ সুন্নাত আর তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয় না।

মিশকাত : ১৮৮, সুনানুদ দারেমী : ৯৮

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন-

إِنَّهُ سَيَلِيْ أَمْرَكُمْ مِنْ بَعْدِيْ رِجَالٌ يُطْفِئُوْنَ السُّنَّةَ وَيُحْدِثُوْنَ بِدْعَةً وَيُؤَخِّرُوْنَ الصَّلاَةَ عَنْ مَوَاقِيْتِهَا. قَالَ ابْنُ مَسْعُوْدٍ يَا رَسُوْلَ اللهِ كَيْفَ بِيْ إِذَا أَدْرَكْتُهُمْ قَالَ لَيْسَ طَاعَةٌ لِمَنْ عَصَى اللهَ قَالَهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ-

নিশ্চয়ই তোমরা আমার (মৃত্যুর) পরে তোমাদের শরী‘আতকে এমন অবস্থায় পাবে- যখন মানুষ সুন্নাতকে বিলুপ্ত করবে, বিদ‘আত সৃষ্টি করবে এবং ছালাতের সময় ছালাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করবে। তখন ইবনু মাসউদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি যদি তাদেরকে পাই তাহ’লে আমি কি করব? তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, আল্লাহর অবাধ্যদের কোন আনুগত্য নেই। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯০; সিলসিলা ছহীহা হ: ২৮৬৪।

(৩)  বিদআত সবচেয়ে নিকৃষ্ট আমল

আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসুদ (রাঃ) হতে বর্ণিত-

إِنَّ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَ (إِنَّ مَا تُوعَدُونَ لاَتٍ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ)

সর্বোত্তম কালাম হল আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথ নির্দেশনা হল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পথ নির্দেশনা। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল নতুনভাবে উদ্ভাবিত পন্থাসমূহ। ’’তোমাদের কাছে যার ও’য়াদা দেয়া হচ্ছে তা ঘটবেই, তোমরা ব্যর্থ করতে পারবে না’’- (সূরাহ আনাম-১৩৪)। সহিহ বুখারি : ৭২৭৭,

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ভাষণ দিতেন তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেতো, কন্ঠস্বর জোরালো হতো, তাঁর ক্রোধ বৃদ্ধি পেতো, যেন তিনি কোন সেনাবাহিনীকে সতর্ক করছেন। তিনি বলতেনঃ তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় আক্রান্ত হতে পারো (অথবা তোমাদের সকাল-সন্ধ্যা কল্যাণময় হোক)। তিনি আরো বলতেনঃ আমার প্রেরণ ও ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) এ দুটি আঙ্গুলের অবস্থানের মত পরস্পর নিকটবর্তী। তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল মিলিয়ে দেখান। অতঃপর তিনি বলেনঃ সবচেয়ে উত্তম নির্দেশ হল আল্লাহ্‌র কিতাব এবং সর্বোত্তম পথ হল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত পথ। দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কাজ। প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। তিনি আরো বলেনঃ কোন ব্যাক্তি ধন-সম্পদ রেখে (মারা) গেলে তা তার পরিবারবর্গের এবং কোন ব্যাক্তি দেনা অথবা অসহায় সন্তান রেখে (মারা) গেলে তার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার এবং তার সন্তানের লালন-পালনের দায়িত্বভারও আমার যিম্মায়। সহিহ মুসলিম : ৮৬৭, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৫, সুনানে নাসায়ী : ১৫৭৮, ১৯৬২, সুনানে আবূ দাঊদ : ২৯৫৪, আহমাদ : ১৩৭৪৪, ১৩৯২৪, ১৪০২২, ১৪২১৯, ১৪৫৬৬; সুনানে দারিমী : ২০৬

(৪) বিদআতির আম কবুল হয়নাঃ

আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً

আইর থেকে সওর পর্যন্ত মদীনার হারাম-সীমা। এখানে যে ব্যক্তি অভিনব কিছু (বিদআত) রচনা করবে বা বিদআতীকে আশ্রয় দেবে, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাদল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করবেন না। হাদিস সম্ভার : ২৯১৩, সহিহ মুসলিম : ৩৩৯৩

ইবরাহীম ইবনু তাইমী (রহঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও এই সাহীফায় যা আছে, তা ছাড়া অন্য কোন কিতাব নেই, যা আমরা পাঠ করে থাকি। তিনি বলেন, এ সাহীফায় রয়েছে, যখমসমূহের দন্ড বিধান, উটের বয়সের বিবরণ, এবং আইর পর্বত থেকে সত্তার পর্যন্ত মদিনা হারাম হওয়ার বিধান। যে ব্যাক্তি এর মধ্যে বিদআত উদ্ভাবন করে কিংবা বিদআতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তাঁর কোন নফল ও ফরয ইবাদত কবূল করেন না। আর যে নিজ মাওলা (প্রভু) ব্যতীত অন্যকে (প্রভু) মাওলা রূপে গ্রহণ করে, তার উপর অনুরূপ লানত। আর নিরাপত্তা দানে সর্বস্তরের মুসলিমগণ একই স্তরের এবং যে ব্যাক্তি কোন মুসলিমের চুক্তি ভঙ্গ করে তার উপরও অনুরূপ লা’নত। সহিহ বুখারি : ৩১৭২, ৬৭৫৫

(৫) বিদআতির তওবা কবুল হয়না

বিদআতকে বর্জন না করা পর্যন্ত তার তওবা কবুল হবে না।

আনাস (রাঃ) হতেই বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে-

إِنَّ اللَّهَ حَجَبَ التَّوْبَةَ عَن كُلِّ صَاحِبِ بِدْعَةٍ حَتَّى يَدَع َبِدْعَتَهُ

আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতীর তওবা ততক্ষণ পর্যন্ত স্থগিত রাখেন (গ্রহণ করেন না), যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার বিদআত বর্জন না করেছে। হাদিস সম্ভার : ১৪৬, ত্বাবারানীর আওসাত : ৪২০২, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান : ৯৪৫৭, সহিহ আত তারগিব : ৫৪

(৬) বিদআত সৃষ্টিকারীর প্রতি ফেরেশতা এবং সব লোকের অভিশাপ হয়ে থাকে-

ইবরাহীম আত-তাইমী (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) আমাদের সামনে খুতবাহ দেন এবং বলেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের নিকট আল্লাহ্ তা’আলার গ্রন্থ এবং এই পুস্তিকা যার মধ্যে উটের বয়সের বিবরণী ও জখমের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে তা ব্যতীত আরো কোন গ্রন্থ আছে সে মিথ্যাবাদী।

তিনি তার খুৎবায় আরো বলেন, এই গ্রন্থে আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদীনার হেরেমের সীমানা হচ্ছে আইর পাহাড় হতে সাওর পর্বত পর্যন্ত। যদি কেউ এতে কোন প্রকার বিদ”আতের প্রচলন ঘটায় অথবা কোন বিদ’আতীকে আশ্রয় দেয় তাহলে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। কিয়ামত দিবসে তার কোন ফরয বা নাফল ইবাদাতই আল্লাহ তা’আলা কুবুল করবেন না।

যে লোক তার বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে বাবা বলে দাবি করে (নিজের বংশপরিচয় গোপন করে অন্য বংশের পরিচয় দেয়) অথবা তার মনিবকে ছেড়ে দিয়ে অন্য মনিবের নিকট পালিয়ে যায় তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাগণ এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরয বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করা হবে না। সুনানে তিরিমিজ : ২১২৭, বায়হাক্বী : ৯৯৫১, সহিহ আল জামি : ৬৬৮৩, সহিহ আত তারগীব : ১৯৮৬।

(৭)  কিয়ামতের দিন হাউজে কাওসার পানি থেকে বঞ্চিত হবে-

আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী ﷺ বলেছেন-

لَيَرِدَنَّ عَلَىَّ الْحَوْضَ رِجَالٌ مِمَّنْ صَاحَبَنِي حَتَّى إِذَا رَأَيْتُهُمْ وَرُفِعُوا إِلَىَّ اخْتُلِجُوا دُونِي فَلأَقُولَنَّ أَىْ رَبِّ أُصَيْحَابِي أُصَيْحَابِي ‏.‏ فَلَيُقَالَنَّ لِي إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ ‏”

অবশ্যই হাউযের পাড়ে এমন কিছু লোক আসবে যারা দুনিয়াতে আমার সাহচর্য লাভ করেছিল। এমন কি যখন আমি তাদের দেখতে পাব এবং তাদেরকে আমার সম্মুখে নিয়ে আনা হবে, তখন আমার নিকট আসতে তাদের বাধা দেওয়া হবে। তারপর আমি বলব, আয় রব্ব! এরা আমার সাথী, এরা আমার সাথী। তখন আমাকে বলা হবে, অবশ্য আপনি জানেন না, আপনার পর এরা কি উদ্ভাবন (কিরূপ বিদ’আত) করেছে। সহিহ মুসলিম ৫৭৯২ ইফাঃ

রাসুলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রী উম্মু সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত। বলেন, আমি হাওয (কাওসার) সম্পর্কে লোকদের আলোচনা করতে শুনতাম। কিন্তু আমি (নিজে) রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে এ সম্বন্ধে কিছু শুনিনি। পরে যখন একদিন ঐ বিষয়ের আলোচনা এল, এ সময় একটি মেয়ে আমার চুল আচড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ সম্বোধন করতে শুনলামঃ হে লোক সকল! তখন মেয়েটিকে আমি বললাম, তুমি আমার থেকে দুরে সরে যাও। সে বলল, তিনি তো পুরুষদের ডাক দিয়েছেন এবং স্ত্রীলোকদের ডাকেননি। আমি বললাম, আমিও তো লোকদের একজন। এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ আমি তোমাদের জন্য ‘হাওয’ এর কাছে অগ্রগামী হবো। তাই সাবধান! আমার কাছে তোমাদের এমন কেউ যেন না আসে, যাকে আমার কাছ থেকে দুরে সরিয়ে দেওয়া হবে, যেমন হারানো উটকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আর আমি বলতে থাকব, কেন তাদের তাড়ানো হচ্ছে? তখন বলা হবে, আপনি তো জানেন না, তারা আপনার পরে কী নতুন বিষয়ের (বিদ’আত) উদ্ভাবন করেছে? তখন আমিও বলব, দুর হও! সহিহ মুসলিম : ৫৭৭২ ইফাঃ

(৮)  বিদআতের ফলে আল্লাহর দ্বীন বিকৃত হয়-

মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ

وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاء رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ

আর বৈরাগ্য, সে তো তারা (ঈসা আঃ এর অনুসারীগণ) নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারা নিজেরাই এ বিদআত বানিয়ে নিয়েছে। তারপর সেটি যেভাবে মেনে চলা দরকার, সেভাবে মেনেও চলেনি।  তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল, তাদের প্রতিদান আমি দিয়েছি৷ তবে তাদের অধিকাংশই পাপী৷  সুরা হাদীদ ৫৭:২৭

সুফিবাদের বিদআত প্রথম খৃষ্টানেরাই আবিস্কার করে। মহান আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন তারা এই ভাল উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছিল। কিন্তু ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত যে কোন কাজ করলেই তা গ্রহণযোগ্য হয় না। ইয়াহুদী ও খৃষ্টানেরা তাদের ধর্মে অন্য জাতির রসম-রেওয়াজ ও বিদআত প্রচলন করে ধর্মকে এমন বিকৃত করেছে। এমনিভাবে আমাদের মুসলিম সমাজে শিয়া রাফেজী, খারেজী, উপমহাদেশের মাজার পুজারী ব্রেলভীগনও বিদআতের প্রচলন করে দ্বীন ইসলামকে বিকৃত করেছে।

(১০) বিদ‘আতের দিকে আহবানকারী অন্যের পাপের অংশীদার হবে

 যারা মানুষকে বিদ‘আতের দিকে আহবান করে ক্বিয়ামত পর্যন্ত তারা অন্যের পাপের অংশীদার হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

لِیَحۡمِلُوۡۤا اَوۡزَارَہُمۡ کَامِلَۃً یَّوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ۙ  وَمِنۡ اَوۡزَارِ الَّذِیۡنَ یُضِلُّوۡنَہُمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ  اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوۡنَ 

এতে করে তারা কিয়ামতের দিনে নিজদের পাপের বোঝা পুরোটাই বহন করবে এবং তাদের পাপের বোঝাও যাদেরকে তারা অজ্ঞতা হেতু পথভ্রষ্ট করে। তারা যা বহন করবে, তা কতই না নিকৃষ্ট! সুনা নাহল : ২৫

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئا»

যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহবান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহবান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহকে একটুও কমাবে না। সহিহ মুসলিম : ২৬৭৪, মিশকাত : ১৫৮

(১১) বিদআতি সালাম না দেওয়া-

নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত-

أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ فُلاَنًا يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلاَمَ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّهُ قَدْ أَحْدَثَ فَإِنْ كَانَ قَدْ أَحْدَثَ فَلاَ تُقْرِئْهُ مِنِّي السَّلاَمَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ يَكُونُ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ أَوْ فِي أُمَّتِي الشَّكُّ مِنْهُ خَسْفٌ أَوْ مَسْخٌ أَوْ قَذْفٌ فِي أَهْلِ الْقَدَرِ

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললঃ অমুক ব্যক্তি আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন তিনি বললেনঃ আমি খবর পেয়েছি যে, সে ব্যক্তি বেদআতী। সে যদি বেদআতী হয়ে থাকে তবে আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম দিবে না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আমার এ উম্মাতের কাদরিয়্যা আকীদা পোষণকারীদের মধ্যে ঘটবে ভূমি ধ্বস বা চেহারা বিকৃতি বা প্রস্তর নিক্ষেপ। সুনানে তিরমিজী : ২১৫২, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৪০৬১

২। কিভাবে বুঝবেন আপনার আমলটি বিদআত

বিদআত থেকে মুক্ত থাকতে গেলে আগে বিদআতকে সঠিকভাবে চিনতে হবে। শত্রুকে চিনতে পারলে যেমন তার থেকে শর্তক থাকা যায়, বিদআতকে চিনতে পারলেও তার থেকে শর্তক থাকা যাবে। এ পরিচ্ছেদে বিদআত বুঝার জন্য বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিদআত চিনতে ও চুঝতে নিন্মের মানদন্ড মনোযোগ সহকালে অধ্যায়ন করা খুবই জরুরী।

১। কুরআন ও সহিহ হাদিসে বহির্ভুত আমলই বিদআত-

আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

تَرَكْتُ فيكُمْ شَيْئَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُما كِتابَ الله وسُنَّتي وَلَنْ يَتَفَرَّقا حَتَّى يَرِدا عَلَيَّ الحَوْضَ

আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা অবলম্বন করলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। তা হল আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। ’হওয’ (কাওসারে) আমার নিকট অবতরণ না করা পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্ন হবে না। হাদিস সম্বার ১৫০০, হাকেম : ৩১৯ হাদিসের মান সহিহ

মালিক ইবনু আনাস (রা.) (রহঃ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ رَسُولِهِ

আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ তোমরা সে দু’টি জিনিস আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রসূলের হাদীস। মিশকাত : ১৮৬, মুয়াত্ত্বা মালিক : ১৫৯৪

২। যে সলাম আমলের কোন দলিল নাই তাই বিদআত-

ইসলামি শরীয়তের প্রতিটি আমলের সুনির্দিষ্ট দলিল আছে। ইসলামি শরীয়তের মুল আমলগুলির মধ্য সালাত, সাওম, হজ্জ, যাকাত, তাবলীগ, জিহাদ, আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি আমলের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। এই সকল আমল কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমনিত। এই আমলগুলি গুরুত্বসহকারে আদায় করলে যেমন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তেমনি অবজ্ঞা বা অপহেলা করে আদায় না করলেও শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যখন দেখা যাবে আমলের পক্ষে কুরআন ও সহিহ হাদিসের কোন দলীল পাওয়া যায় না তখন মনে করতে হবে আমলটি বিদআত। সারকথা হলো, কুরআন ও সহিহ হাদিসের বাহিরে কোন আমলই গ্রহন যোগ্য নয়। আমল থাকবে তো দলীল থাকবে, দলীল নেইতো আমলটি নির্দিধায় বিদআত।

যদি কেউ কোন কাজ বা আমলকে ইসলামি শরীয়তের ইবাদত বলে প্রচার করে বা আদায় করার আহবান জানায় তবে তাকে অবশ্যই কুরআন হাদিস থেকে দলীল পেশ করতে হবে। কুরআন হাদিস দলীলের ভীত্তিতে আমলটি ইবাদত হবে আর দলীলের বাহিরের ইবাদতটি বিদআত হবে।

৩। ইসলামী শরীয়ত সম্মত আমল নিয়ে বাড়াবাড়ি-

মহান আল্লাহ বলেন,

قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لاَ تَغْلُواْ فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ

বল, হে আহলি কিতাব! নিজেদের দীনের ব্যাপারে অন্যায় বাড়াবাড়ী করো না। সুরা মায়েদা : ৭৭

আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন-

إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ، وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلاَّ غَلَبَهُ، فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَأَبْشِرُوا، وَاسْتَعِينُوا بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَىْءٍ مِنَ الدُّلْجَةِ ‏

নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দ্বীন তার উপর জয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং নিকটে থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে সাহায্য চাও। সহিহ বুখারী : ৩৯

ইবনু আববাস (রা.) হ’তে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেন, তোমরা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থেকো। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে সীমালংঘনের কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুনানে নাসাঈ : ৩০৫৭; ইবনু মাজাহ : ৩০২৯

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিতঃ একদা নবী ﷺ তাঁর নিকট গেলেন, তখন এক মহিলা তাঁর কাছে (বসে) ছিল। তিনি বললেন, ‘‘এটি কে?’’ আয়েশা (রা.) বললেন, ‘অমুক মহিলা, যে প্রচুর সালাত পড়ে।’ তিনি বললেন, ‘‘থামো! তোমরা সাধ্যমত আমল কর। আল্লাহর কসম! আল্লাহ ক্লান্ত  হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়।’’ আর সেই আমল তাঁর নিকট প্রিয়তম ছিল, যেটা তার আমলকারী নিয়মিত করে থাকে। সহিহ বুখারী : ৪৩, সহিহ মুসলিম : ৭৪১, ৭৮২, সুনানে আবূ দাউদ : ১৩১৭

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিতঃ একদা নবী ﷺ মসজিদে প্রবেশ করলেন। হঠাৎ দেখলেন যে, একটি দড়ি দুই স্তম্ভের মাঝে লম্বা করে বাঁধা রয়েছে। তারপর তিনি বললেন, এই দড়িটা কি জন্য’? লোকেরা বলল, ‘এটি যয়নাবের দড়ি। যখন তিনি (সালাত পড়তে পড়তে) ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন এটার সঙ্গে ঝুলে যান। নবী ﷺ বললেন, ‘‘এটিকে খুলে ফেল। তোমাদের মধ্যে (যে সালাত পড়বে) তার উচিত, সে যেন মনে স্ফূর্তি থাকা কালে সালাত পড়ে। তারপর সে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তখন সে যেন শুয়ে যায়। (সহিহ বুখারী : ১১৫০, সহিহ মুসলিম : ৭৮৪, সুনানে নাসায়ী : ১৬৪৩, সুনানে আবূ দাউদ : ১৩১২, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৩৭১

আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন, তোমদের কেউ যখন লোকেদের নিয়ে সালাত আদায়করে, তখন যেন সে সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মধ্যে ছোট, বড়, দুর্বল ও কর্মব্যস্তরা রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী সালত আদায় করে, তখন ইচ্ছামত দীর্ঘ করতে পারে। (সহিহ বুখারী : ৭০৩, সহিহ মুসলিম : ৪৬৭, সুনানে তিরমিযী : ২৩৬, সুনানে নাসায়ী : ৮২৩, সুনানে আবূ দাঊদ : ৭৯৪

সহিহ হাদিসগুলির সারমর্ম হল ইবাদতে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখান পদ্ধতিতেই আমল করতে হবে। যদি ইবাদাতে বাড়াবাড়ি করতে থাকি তবে সুন্নাহ সম্মত আমল বিদআতে পরিনত হবে। কাজেই সকল আমলের পদ্ধতিতে সুন্নাহ অনুসরণ করি। অল্প আমলে করে অধিক সওয়াব অর্জণ করি।

৪। ইসলামি শরিয়ত সম্মত কোন বিষয়ে বৃদ্ধিঃ

ইসলাম পরিপূর্ণ ও আল্লাহ্‌র নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন। এ দ্বীনকে পরিপূর্ণ করার ঘোষণাও আল্লাহ্ আল-কুরআনে দিয়েছেন, তিনি বলেন,

*﴿ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ * 

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। সূরা আল মায়িদা : ৩

ইসলাম যেহেতু পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা তাই শরীয়তের কোন সংযোজন বা বৃদ্ধি করার কোন অধিকার নাই। সাধারণ চারটি উপায় মুসলীমগণ বৃদ্ধি করে বিদআতের সৃষ্ট করে। যেমন-

(১) ইবাদতে বৃদ্ধি করাঃ

মহান আল্লাহ বলেন-

*وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاء رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا *

আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি। কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। সুরা হাদীদ : ২৭

(২) আকিদায় বৃদ্ধি করাঃ

ইহুদি ও খৃষ্টানগণ আকিদা ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে করে মুশরিক হয়েছে। ইহুদীগণ “উজাইর আল্লাহর পুত্র আর খৃষ্টানগণ ঈসা (আ.) কে সৃষ্টিকর্তা বা সৃষ্টিকর্তার পুত্র সাব্যস্ত করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ۖ ذَٰلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ ۖ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَبْلُ ۚ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ ۚ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ

ইহুদীরা বলে “উজাইর আল্লাহর পুত্র” এবং খ্রিষ্টানরা বলে “মাসীহ (ঈসা আঃ) আল্লাহর পুত্র”। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। ওরা তো তাদের মতই কথা বলে যারা তাদের পূর্বে কাফির হয়েছে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টো পথে চলে যাচ্ছে। সুরা তাওবাহ : ৩০

(৩) রাসূল সম্পর্কে বৃদ্ধিকরা-

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উমার (রা.)-কে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন যে, আমি নবী ﷺ কে বলতে শুনেছি-

لَا تُطْرُونِيْ كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُوْلُوْا عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهُ

তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেমন ‘ঈসা মারইয়াম (আঃ) সম্পর্কে খ্রিস্টানরা বাড়াবাড়ি করেছিল। আমি তাঁর বান্দা, তাই তোমরা বলবে, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। সহিহ বুখারি : ৩৪৪৫,

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ ‏‏.‏ قَالَهَا ثَلاَثًا ‏.‏

অতিরিক্ত চাটুকারীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন। সহিহ মুসলিম : ২৬৭০

বিদআতিগন নবী ﷺ এর সম্পর্কে বাড়িয়ে বলেন- নবী ﷺ গায়েবের খবর রাখেন, তিনি আল্লাহর জাতি নুর থেকে সৃষ্টি, তিনি সব স্থানে হাজির নাজির, তিনি মৃত্যু বরণ করেন নাই ইত্যাদি ইত্যাদি।

(৪) অলী আওলীয়া সম্পর্কে বৃদ্ধিকরা-

আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। উম্মু হাবীবাহ ও উম্মু সালামা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এমন একটি গীর্জার বর্ণনা দিলো যার মধ্যে মূর্তি বা ছবি যা তারা হাবশায় দেখেছিলেন। তাদের কথা শুনে রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন-

“‏ إِنَّ أُولَئِكِ إِذَا كَانَ فِيهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَمَاتَ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ أُولَئِكِ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

তারা এরূপই করে থাকে। তাদের মধ্যেকার কোন নেক লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করে এবং তার মধ্যে ছবি বা মূর্তি স্থাপন করে। কিয়ামতের দিন এরা হবে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট সৃষ্টি। সহিহ মুসলিম : ৫২৮, সুনানে নাসায়ী : ৭০৪

৫। ইসলামি শরিয়ত সম্মত কোন ইবাদতে হ্রাস করা-

আমারা প্রতিদিন প্রতি সালাতের পর হাত তুলে সম্মিলিত দুয়া করি। রাসূলুল্লাহ তার জীবন দসায় কখনও এইভাবে সালাতের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দুয়া করেন নাই। অথচ সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত প্রতি ওয়াক্ত ফরজ সালাত শেষে দুআ কবুল হয়। আসলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর দুআ নিয়ে বিতর্ক নয়, বিতর্ক হল এর পদ্ধতি নিয়ে  এই পদ্ধতিতে রাসূলুল্লাহ ﷺ বা তাঁর সাহাবায়ে কেরাম দুআ করেন নাই। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত আদায়ের পর প্রচলিত মুনাজাত যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ না করে থাকেন, তবে তিনি কি আমল করেছেন। সহিহ বুখারী এ সহিহ মুসলীমসহ বহু হাদিস গ্রন্থে সালাতের পর যিকির-আযকার অধ্যায়ে বিভিন্ন যিকিরের কথা সহিহ সনদে বর্ণিত আছে, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবায়ে কেরাম (রাজিঃ) আমল করেছেন।

৬। ইবাদতকে স্থানের সাথে নির্দিষ্ট করা-

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও (নেকির আশায়) সফর করা যায় না। এ মসজিদগুলো হল, মাসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা। সহিহ বুখারি : ১১৮৯, সহিহ মুসলিম : ১৩৯১, সুনানে নাসায়ী ৭০০, সুনানে  আবূ দাঊদ ২০৩৩, ইবনু মাজাহ : ১৪০৯

কিন্তু আমরা বিভিন্ন মাজারে মাজারে নেকির আশায়, মুক্তির আশায়, সন্তানের আশায় সফর করছি।

৭। ইবাদতকে সময়ের সাথে নির্দিষ্ট করা

নির্দিষ্ট সময় সালাত আদায়. রমাজান মাসে সিয়াম পালন করা, বছরে একাবার জাকাত আদায় করা, ঈদের সালাতের পরই কুরবানী করা, সপ্তাহে একদিন জুমুআর সালাত, জিল হজ মাসে হজ করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ করা হয়েছে। ইসলামের মুল স্তম্বের প্রতিটি আমল সময়ের সাথে আয়াদ করা ফরজ করা হয়েছে। নির্দষ্ট সময়ের আগে পরে করলে ফরজ আদায় হবে না। প্রতিটি ইবাদাত যদি সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে তা হলে ইবাদতকে সময়ের সাথে নির্দিষ্ট করলে বিদআত হবে কেন?

প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ। ইবাদতকে সময়ের সাথে নির্দিষ্ট করার ক্ষমতা কার? এক কথায় উত্তর মহান আল্লাহ। হ্যা, উপরের প্রতিটি ইবাদের সময় স্বয়ং আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে তার রাসূল কে অহি মারফত জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি তার হুকুম বাস্তবায়ণ করেছেন। মহান আল্লাহ এই হুকুম বাস্তবায়ণই হল ইবাদাত। যদি কেউ তার দেয়া সময়ের আগে বা পরে সময় নির্ধারণ করে ইবাদাত করে, তবে তা হবে চরম অন্যায়। কেউ ঈদের দিন সিয়াম পালন করলে গুনাহগার হবে। আবার ঈদের একদিন আগে (রমজান মাসে) ঈদ পালন করলেও গুনাহগার হবেন। অর্থাৎ সময় নির্ধারণ করার কোন ক্ষমতা বান্দার নেই। সে শুধু মহান আল্লাহর হুকুম পালনের গোলাম। ইবাদতকে সময়ের সাথে নির্দিষ্ট করলেই বিদআত হবে না। মহান আল্লাহ হুকুম বা কুরআন সুন্নার বাহিরে গিয়ে বান্দা যখন নিজেই ইবাদতকে সময়ের সাথে নির্দিষ্ট করে, তখন আর ইবাদাত থাকে না। তখন হয়ে যার বিদআত।

যেমন- জম্ম দিন পালন করা, মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা, উরশ উৎজাপন করা, চল্লিশা পালন করা, কুলখানী করা, ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা ইত্যাদি।

৮। ইবাদতকে সংখ্যার সাথে নির্দষ্ট করা-

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যাক্তি প্রত্যেক সালাতের পর সুবহানাল্লাহ তেত্রিশবার, আলহামদুলিল্লাহ তেত্রিশবার ও আল্লাহু আকবার তেত্রিশবার বলবে এই হল নিরানব্বই-আর একশত পূর্ণ করার জন্য বলবেঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

তার পাপ সমুহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মত হয়। সহিহ মুসলীম : ১২৩০ ইফাঃ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ‏.‏ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ ‏”‏‏.‏

যে ব্যাক্তি প্রত্যহ একশত বার সুবাহানআল্লাহি ওয়া বিহামদিহি বলবে তার গুনাহগুলি মাফ করে দেওয়া হবে তা সমুদ্রের ফেনা পরিমান হলেও। সহিহ বুখারি : ৬৪০৫

অনুরূপভাবে সহিহ হাদিসে যদি কোন সংখ্যা উল্লেখ করে তার ফিজরত বর্ণনা করা হয় তবে সে সংখ্যা যথাযত অনুসরণ করে আমল করলেই কাংখিত ফজিলত পাওয়া যাবে। ইচ্ছ কর কম বেশী করলে ফজিলত হবে তবে হাদিসে বর্ণনি ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতে হবে। হাদিসে এসেছে প্রত্যেক সালাতের পর সুবহানাল্লাহ তেত্রিশবার, আলহামদুলিল্লাহ তেত্রিশবার ও আল্লাহু আকবার তেত্রিশবার বলবে কিন্তু যদি কেউ ইচ্ছা করে কম বেশী বার বলে তবে সে হাদিসে বর্ণিত ফজিলত থেকে বঞ্চিত হবে। হাদিসে নেই অথচ নিজে নিজে সংখ্যা নির্ধারণ করে ফজিলতও বর্ণনা করে দিল। এই কাজটি বিদআতের পাশাপাশি আল্লাহ বিধানের সাথে বিয়াদবি। সংখ্যা নির্ধারণ বিদআত আর ফজিলত বর্ণনা করা ওহির উপর নির্ভর করে। যেমন-

খতমে শিফাঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এই পবিত্র কালেমা একলক্ষ পঁচিশ হাজার বার পাঠ করা কে খতমে শিফা বলে।

‘‘খতমে তাসমিয়া: বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম একলক্ষ পঁচিশ হাজার বার পাঠ করাকে ‘‘খতমে তাসমিয়া’’ বলে।

কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে তাসবিহ আদায় করলেই বিদআত হবে না। নির্দষ্ট সংখ্যার ফজিলত আছে এবং এ সংখ্যার কমবেশী করা যাবে না। আর্থাত নির্দিষ্ট সংখ্যা নিজের উপর ওয়াজিব করে নিলেই বিদআত হবে।

১০। যে আমলটির করার প্রমান আমাদের সালাফে সালেহীনদের যুগে পাওয়া যায় না-

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِيْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ يَجِيءُ

আমার উম্মাতের সর্বোত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষ (সাহাবীগণ)। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী  যুগ। সহিহস বুখারি : ৩৬৫১, সহিহ মুসলিম : ২৫৩৩

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী ﷺ বলেছেন-

خَيْرُ الشُّهَدَاءِ الَّذِي يَأْتِي بِشَهَادَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا ‏.‏ هُوَ عِنْدَنَا إِذَا أُشْهِدَ الرَّجُلُ عَلَى الشَّىْءِ أَنْ يُؤَدِّيَ شَهَادَتَهُ

আমার যুগ হচ্ছে সর্বোত্তম যুগ, তারপর তাদের পরবর্তী যুগ, তারপর তাদের পরবর্তী যুগ। তারপর এরূপভাবে মিথ্যার প্রসার ঘটবে যে, কারো নিকট সাক্ষ্য তলব না করা হলেও সে সাক্ষ্য দিবে, শপথ করতে বলা না হলেও শপথ করবে”। সুনানে তিরমিজি : ২৩০৩

১১। শরীয়তের বাহিরে সম্পূর্ণ নতুন কোন পদ্ধতি আবিস্কার করে ইবাদত করা-

ইসলামি শরীয়ত যেহেতু স্বয়ং সম্পূর্ণ এখানে আর নতুন কিছু প্রবেশের সুযোগ নাই। মহান আল্লাহ প্রদত্ত চুড়ান্ত শরীয়াত হল ইসলাম। এখান কোন ইবাদতের পদ্ধতি প্রবেশ করানোর সুযোগ নেই। এমনকি ভবিশ্যাতে কোন নবী আসবেন না। তাই কিয়ামত পর্য়ান্ত এটাই চুড়ান্ত শরীয়ত। এই শরীয়তের বাহিবে মহান আল্লাহকে খুশি করা যাবে না। আল-কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,

* وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ *

ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন অনুসন্ধান করে, তা কখনোই তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না। সূরা আলে-ইমরান : ৮৫

হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হলো সে সব হাদীস, যা আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ ﷺ হতে আমাদের নিকট উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন। তার একটি হলো, আবূল কাসিম ﷺ বলেছেন, আমার দৃষ্টান্ত ও আমার পূর্বেকার নবীগণের দৃষ্টান্ত সে লোকের উপমার মতো, যে কতকগুলো গৃহ বানালো, তা সুন্দর করল ও সুদৃশ্য করল এবং পূর্ণাঙ্গ করল; কিন্তু তার কোন একটির কোণে একটি ইটের স্থান ছাড়া (খালি রাখল)। লোকেরা সে ঘরগুলোর চারদিকে চক্কর দিতে লাগল আর সে ঘরগুলো তাদের মুগ্ধ করতে লাগল। পরিশেষে তারা বলতে লাগল, এখানে একখানি ইট লাগালেন না কেন? তাহলে তো আপনার অট্টালিকা পূর্ণাঙ্গ হত। অতঃপর মুহাম্মাদ ﷺ বলেন যে, আমি-ই হলাম সে ইটখানি। সহিহ মুসলিম : ৫৮৫৪

কোন উম্মত কোন পদ্ধতিতে, কি ইবাদাত করবেন, তা শুধু ঐ উম্মতের জন্য নির্দিষ্ট নবীই বলতে পারবেন। আমাদের জন্য এবং কিয়ামত পর্যান্ত যত মানব জাতি আসবে, সবার জন্যই একমাত্র আমাদের মুহাম্মাদ ﷺ এর দেখান পদ্ধিতে আমল করতে হবে। এর বাহিরে কোন পদ্ধতিই গ্রহনীয় নয়। কাজেই ইসলামি শরীয়তের বাহিরে কোন প্রকার আমলের পদ্ধতি দেখলেই বিদআত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

১২। ইসলাম বিরোধী হারাম কাজকে ইবাদত মনে করে বিদআত করা-

বর্তমান যুগে অনেক ইসলাম বিরোধী কাজ চলেছে অথচ অজ্ঞ মুসলিম ইহাকে ইবাদাত মনে করছে। যেমন একটি  উদাহরণ দেই। কোন কোন নামধারী অলীর মাজার কে কেন্দ্র করে বার্ষিক উরশ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই সকল উরশ মাহফিলে সাধারণত, মুরিদদের মানত করা পশু জবাই করে খাওয়ান হয়। নারী পুরুষ এক সাথে গান গায় এবং ঢোল বা বাদ্যের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে নাচে। মানতের নামে মাজাবের সেবকগন টাকা উত্তলন করে। কোথাও কোথাও ইসলাম বিরোধী গাজার আসর বসে। এমনকি জুয়ার আসরও বসে। এই উরশ কে কেন্দ্র করে যতগুলি কাজ হয়, তার সবই  ইসলাম বিরোধী হারাম কাজ অথচ জাহেল বা অজ্ঞ মুসলিম ইহাকে ইবাদাত মনে করে আমল করছে। এই সকল ইসলাম বিরোধী কাজ কে বিদআত বললে কমই হবে। এই সকল কাজ সম্পূর্ণ হারাম, হারাম। যেহেতু এর উপর আমল কারীগণ ইহাকে ইবাদত মনে করে তাই ইহাকে বিদআতও বলা হয়।

আমাদের সমাজে এমনই অনেক শত শত হারাম কাজকে ইসলামি কাজ বলে চালিয়ে যাচ্ছে। আর অজ্ঞ মুসলিম ইহাকে ইবাদাত মনে করে অর্থ ও সময় ব্যয় করে যাচ্ছে। কাজেই ইসলামি শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ যদি ইসলামি কাজ হিসাবে দেখা যায় তবে তাকেও আমরা বিদআত বলেত পারি।     

১৩। বিদআতের সম্পর্ক দ্বীনের সাথে দুনিয়ার সাথে নয়-

বিদআতের সম্পর্ক ইসলামি শরীয়ার ইবাদতের সাথে, পার্থির কোন বিষয় বা কাজের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। পার্থিব বিষয়ে বিদআতের অপর নাম নতুন আবিষ্কৃত বিষয়। এ প্রকার বিদআত বৈধ। কেননা দুয়িয়ার সাথে সম্পর্কশীল সকল বিষয়ের ব্যাপারে মূলনীতি হল তা বৈধ। তবে শর্ত হল তাতে শরঈ কোন নিষেধ না থাকা। শরীয়তের নিষেধ থাকলে তা করা বিদআত নয় বরং হারাম। দ্বীনের ক্ষেত্রে বিদআত তথা নতুন কিছু উদ্ভাবন করা হারাম। কারণ দ্বীনের ব্যাপারে মূলনীতি হল তা অহীর উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ দ্বীনের সমস্ত বিধান কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করতে হবে। 

আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমা থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেছেন-

مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدٌّ

যদি কেউ আমাদের এই দ্বীনে কিছু উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। সহিহ বুখারী : ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম : ১৭১৮, সুনানে আবূ দাঊদ : ৪৬০৬, আহমাদ : ২৩৯২৯

১৪। ইবাদতের উপকরন বিদআত নয়-

বিদআতে আলোচনা দ্বারা এ কথা বুঝেছি যে, আমলের পদ্ধতি বা নিয়ম কানুন সরাসরি আল্লাহ প্রদত্ত ও রসূলুল্লাহ এর দেখান। কিন্তু কিছু কিছু্ ইবাদাত পালনের জন্য কিছু উপকরণের প্রয়োজন হয় যা তিনি নির্দিষ্ট করেন নাই। যেমনঃ জামাতে সালাত আদায়ের জন্য মসজিদ একটি উপকরণ।

কুরআন তিনওয়া করার নেকীর কাজ। কুরআনের প্রতি হবরফের জন্য দশটি নেকী পাওয়ার ঘোষণা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত। উমাইয়া যুগে ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ অনারব ভাষী মানুষের জন্য কুরআন তিলওয়াত সহজ করার জন্য কুরআনে হরকত অর্থাৎ জের, জবর, পেশ সংযুক্ত করেন। তার এই হরকত সংযুক্ত হওয়ার পর কোন মুসলিম মনে করে না যে, কুরআনের প্রতি হবরফের জন্য দশটি বেশী নেকী পাওয়া  যায়। এই হরকত হল উপকরণ, এর ফলে কুনআন তিলওয়াত সহজ হয়েছে মাত্র। এই উপকরণ দ্বারা ইবাদাত করা সহজ হয়, কিন্তু ইবাদাতের কোন পদ্ধতি আবিস্কার হয় না বিধায় উপকরণে বিদআত হয় না।

এমনিভাবে মুসলিমদের অন্যতম ফরজ ইবাদাত হল হজ্জ্ব। যার জন্য সৌদির আরবের মক্কায় সফর করা ফরজ। এই সফরে বাহন খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপদান। কিন্তু মহান আল্লাহ সফরের এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণটি নির্দষ্ট করে নাই। রসূলুল্লাহ এর জামানায় মানুষ পায় হেঁটে বা উট বা গাধার পিঠে চড়ে হজ্জের সফর করত। যদি উপকরণটি নির্দিষ্ট থাকতো তবে অনেকের জন্যই হজ্জ করা কষ্ট সাধ্য হয়ে যেত। কিন্তু হজ্জ যাত্রার বাহন নির্দিষ্ট করে ফরজ করে নাই। তাই আপনি আধুনিক যুগের যে কোন সুযোগ সুবিধা নিয়ে হজ্জে গমন করতে পারেন। কেউ এ কথা বিশ্বাস করে না যে বিমানে হজ্জ গমনে কষ্ট কম হয় তাই নেকীর পরিমানও কম হবে। কারন উপকরণের সাথে মুল ইবাদতের কোন সম্পর্ক নেই।

আশা করি ইবাদাত ও উপকরণে সাথে কি সম্পর্ক তা বুঝতে পেরেছি। এই জন্য বিজ্ঞ আলেমগন একমত যে ইবাদাতের উপকরণে কখনও বিদআত হবে না। বিদআত চিহিৃত করারা জন্য এই মান দন্ডটি খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। কারণ বিদআতগন এই উপকরণের উদাহরণ দিয়ে, বিদআতী ইবাদতের পদ্ধতিকেও বিদআত বলতে নারাজ। কুরআন সুন্নাহ স্বীকৃত তার সহজে করার জন্য কোন উপকরণ ব্যবহার করা বিদআত নয়। যদি তার দ্বারা বেশী সওয়াব হবে আশা করা হয় তবে বিদআত হয়ে যাবে।

১৫। অমুসলিমদের অনুষ্ঠান, ইবাদাত ও প্রথার অনুসরণ করা বিদআত-

অমুসলিমদের অনুষ্ঠান, ইবাদাত ও প্রথার অনুসরণ করা কোন মুসলীমের কাজ নয়। অথচ অনেক মুসলিম তাদের অনুষ্ঠান, ইবাদাত ও প্রথার অনুসকণে অনুষ্ঠান করে থাকে। যদি কোন মুসলিম তাদের এই যে কোন খাস অনুষ্ঠান, প্রথা ও ইবাদাত অনুকরনে কোন ইবাদাত চালু করে তবে তার বিদআত হবে। এই ধরনের বিদআত কখন কখন কুফরিও হবে পারে। যা একজন মুসলিম কে ইসলাম থেকে বাহির করে দিতে পারে।

যেমন- কাফিরদের উৎসব ও পর্ব অনুষ্ঠানের অনুকরণে উৎসব ও পর্ব পালন করা। খৃষ্টানদের বড় দিন ও হিন্দুদের জম্মাষ্টামীর আলোকে ঈদে মিলাদুন্নবী পালল করা। তাদের অনুসকনে মৃত্যু বার্ষিকী, বিবাহ বার্ষিকী, জন্ম দিন, ভালবাসা দিবস ইত্যাদি পালন করা।

১৬। কোন সমাজের প্রথাকে ইবাদাত মনে করে ধরে রাখা

আবেদ শ্রেণীর কেউ কেউ সমাজের প্রথাকেও ভাল কাজ মনে করে মনগড়া ইবাদত চালু করে থাকে। প্রথা ও মুআমালাত বিষয়ক কোনো কাজের মাধ্যমে যদি শরীয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়াই আল্লাহর কাছে সাওয়াব লাভের আশা করা হয় তাহলে তা হবে বিদআত।

যেমন- পশমী কাপড়, চট, ছেঁড়া ও তালি এবং ময়লাযুক্ত কাপড় কিংবা নির্দিষ্ট রঙের পোষাক পরিধান করাকে ইবাদাত ও আল্লাহর প্রিয় পাত্র হওয়ার পন্থা মনে করে তবে এই পরাও বিদআত হবে।

কাজটি নতুন আবিস্কার অথচ বিদআত নয়-

১। আধুনিক আবিস্কার যা দ্বীনের কোন অংশ মনে করে কেউ ব্যবহার করে না।

যেমন- মোবাইল, ইন্টারনেট, টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ইত্যাদি। এই সকর বস্তু দ্বীনে কোন অংশ না। নেকির জন্য ব্যবহার করা হয়। এই বস্তু ব্যবহার করা হয় হালার না হয় হারাম। এই বস্তুর সম্পর্ক হালাল হারামের সাথে বিদআতে সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই।

২। যে আমলেন দ্বারা নতুন কোন ইবাদতে পদ্ধতি আবিস্কার করে না।

যেমন-মসজিদ পাকা করা, আজানে মাইক ব্যবহার করা, তারাবির সালাত আদায় করা ইত্যাদি।

৩। যে আমল কেউ অতিরিক্ত নেকীর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে না।

হজে গমন করা নেকীর কাজে কিন্তু হজের সফরে বিমান ব্যবহার করা অতিরিক্ত নেকীর কাজ মনে করে না।

৪। ইবাদতের পদ্ধতি আবিস্কার না করলে ইবাদতে জন্য শুধু উপকরণের ব্যবহার বিদআত হবে না।

৫। যে আমলেটি খোলাফায়ে রাশেদা থেকে প্রমানি তা বিদআত হবে না।

জুমুআনত দ্বিতিীয় আজান, তারাবির সালাত, শাসন কার্য পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক ভাগে বিভক্ত করে শাসন করা ইত্যাদি।

৬। ইবাদাতের পদ্ধতি নয় কিন্তু খুব ভাল কাজ যে সম্পর্কে সাহাবীদের ইজমা আছে।

৭। ইবাদাতের পদ্ধতি নয় কিন্তু খুব ভাল কাজ যা সম্পর্কে সালাফে সালেহীনদের সমর্থন আছে।

৩। আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু বিদআত

বর্তমান বাংলার মুসলিম সমাজের বিদআত বাদ দিলে দ্বীন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এখন আমাদের সমাজের বহুল প্রচলিত কিছু বিআদতের উদাহরণ দিব। এই বিদআতগুলি যে বিদআতি আমল এ সম্পর্কে কোন সন্দেহ নাই। আমার লিখিত “বিদআতের ভয়াবহ পরিণতি” নামে বইটিতে প্রতিটি বিদআত নিয়ে আলাদা আলাদা শিরোনামে উল্লেখ করেছি। বিস্তারিত জানতে বইটি পাঠ করে নিতে পারেন। এখান শুধু বিদআতি আমলের শিরোনাম তুলে ধরলাম।

১। অজু, আজান, সারাম, সিয়াম ও জাকাত সম্পর্কিত বিদআত

(১) অজুর সময় প্রতি অঙ্গের জন্য বিশেষ দোয়া করা, (২) আজানের পূর্বে উচ্চস্বরে দরুদ ও তাসবীহ পড়া,  (৩) আজানের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, (৫) আজানের বর্ণিত শব্দাবলি কম বেশি করা, (৬) আজানর পর আবার আহ্বান করা, (৭) আজানের সমাপ্তের পর হাত তুলে দুয়া করা, (৮) আজান ইকামতে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর নাম শুনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা চোখ মাসেহ করা, (৯) জায়নামাজে দাঁড়িয়ে প্রচলিত দোয়াটি পাঠ করা বিদআত, (১০) সালাত শুরুর সময় মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত, (১১) জামাতে সালাত শেষে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দুয়া করা, (১২) সালাম ফেরানোর পর দু’পাশের মুসল্লিকে সালাম দিয়ে মুসাফাহা করা , (১৩) নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে একই সাথে সিয়াম শুরু ও শেষ না করা, (১৪) তারাবিতে দ্রুত কুরআন তিলওয়াত করে সালাত আদায় করা, (১৫) রাতের প্রথম ভাগে সাহরী খাওয়া একটি বিদআতি প্রচলন, (১৬) সেহরীর সময় জানানোর উদ্দেশ্যে রাতে ঢোল বাজান, তোপ দাগা বা মাইকে ডাকা, (১৭) ইফতারের পূর্বে সম্মিলিত মুনাজাত, (১৮) ইফতারির জন্য পার্টির আয়োজন করা, (১৯) মৃত্যু মাতাপিতার জন্য ইফতারির আয়োজন করা, (২০) একটি বিদআতি বিশ্বাস, সিয়ামের খাবারে কোনো  হিসাব হবে না, (২১) মসজিদ ছাড়া আর কোথাও ইতিকাফ করা, (২২) লাইলাতুল কদরের ১০০ বা ১০০০ রাকআত সালাত পড়া, (২৩) ঈদের সালাতের পর মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা, (২৪) ঈদের রাতে সালাত  আদায় করা, (২৫) জুমাতুল বিদা, (২৬) শাড়ি লুঙ্গি দ্বারা যাকাত প্রদানঅ

 

২। কুরআন ও জিকির কেন্দ্রিক বিদআত

(১) কুরআন খতম করা, (২) কুরআনের আয়াত দ্বারা তাবিজ কবজ ব্যবহার করা, (৩) কুরআন খতম করার পর কারো মাধ্যমে বখশে দেওয়া, (৪) কুরআন তিলওয়াত শেষে সাদাকাল্লাহুল আযীম বলা, (৫) জিকির সম্পর্কিত বিদআত, (৬) উচ্চ শব্দে বা জোরে জোরে জিকির করা, (৭) শুধু “আল্লাহ, আল্লাহ” জিকির করা একটি বিদআত, (৮) শুধু “ইল্লাল্লাহ, ইল্লাল্লাহ” জিকির করা একটি বিদআত, (৯) সম্মিলিত জিকির করা, (১০) শুধু হু হু হু করে জিকির করা, (১১) জিকিরের সময় শায়েখ বা পীরের ধ্যান করা, (১২) নারী পুরুষ এক সাথে জিকির করা, (১৩) জিকির গণনার মাধ্যম হিসাবে ‘তসবীহ এর ছড়া দ্বারা জিকির করা জায়েয কেন?, (১৪) অঙ্গ ভঙ্গি করে জিকির করা, (১৫) সুফিদের লতিফার জিকির। যেমন-কলব লতিফা, রুহ লতিফা, শিররুন লতিফা, খফি লতিফা, আকফা লতিফা, নাফস লতিফা,  আব লতিফ, আতস লতিফা, খাক লতিফা, বাদ লতিফা।

 

৩। বিভিন্ন প্রকারের খতম কেদ্রিক বিদআত

(১) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরআন খতম করান, (২) কুরআন পাঠ করে সওয়াব বেশি দেওয়া, (৩) সমাজের নতুন আবিষ্কার খতমে বুখারির অনুষ্ঠান, (৪) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে খতমে ইউনুস এর আমল করা, (৫) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে খতমে নারী এর আমল করা, (৬) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে খতমে শিফা এর আমল করা, (৭) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে খতমে তাহলিল এর আমল করা, (৮) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে খতমে তাসমিয়া এর আমল করা, (৯) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে খতমে খাজেগান, (১০) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে খতমে জালালী এর আমল করা, (১১) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে খতমে দুরুদে মাহি এর আমল করা, (১২) মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে কুরআন পাঠ করা বা সূরা ইয়াসীন পড়া।

 

৪। বিভিন্ন দিবস সম্পর্কিত বিদআত

(১) শবে বরাত সম্পর্কে ভ্রান্ত আকিদা, (শবে-বরাতের রাতে আল্লাহ্ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন,  শবে-বরাতের রাতে আল্লাহ্ মানুষের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেন, সৌভাগ্য রজনী হিসাবে বিশ্বাস করা, মৃতদের আত্মার দুনিয়াতে পূণরাগমনের বিশ্বাস করা), (২) মধ্য শাবানের রাতে একশত রাকআত সালাত আদায়ের ফজিলত, (৩) পনের শাবানের দিনে সিয়াম পালন, (৪) শবে বরাতে রাত্রিতে গোসল করার ফজিলত, (৫) শবে বরাত উপলক্ষে মধ্য শাবানের দিনে সিয়াম পালন, (৬) এই রাত উপলক্ষে বিশেষ নিয়মে সালাত আদায় করা, (৭) হালুয়া-রুটি খাওয়া, (৮) এই রাতে বিশেষ মীলাদ মাহফিলের আয়োজন করা, (৯) মসজিদে সম্মিলিতভাবে খাওয়ার আয়োজন করা, (১০) এই রাতে ইসলামি বিষয় আলোচনা ও জিকির করা, (১১) এই রাতে সম্মিলিতভাবে কবর জিয়ারত করা, (১২) এই রাতে আলোক সজ্জা করা এবং আতশবাজী করা, (১৩) লাইলাতুল মিরাজ উদযাপন করা, (১৪) আশুরার রাত্রি জাগরণ করে ইবাদাত করে (১৫) বিভিন্ন প্রকার উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করে, (১৪) ওয়াজ মাহফিল ও আলোচনা সভা করে, (১৫) আশুরার দিনে মাতম করা, (১৬)  ১০ ই মুহাররমকে আনন্দ উৎসবে পরিণত করা, (১৭) তাযিয়া মিছিল বাহির করা, (১৮) ১০ই মুহাররমে চোখে সুরমা লাগানো, (১৯) ১০ই মুহাররমে বিশেষ পদ্ধতিতে সালাত আদায় করা, (২০) তাবেঈ ইয়াযীদ বিন মুয়াবিয়াকে ‘মালঊন’ বা অভিশপ্ত বলে গালি দেওয়া, (২১) ঈদে মীলাদুন্নবী বা নবী রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জম্ম উৎসব পালন করা, (২২) মধ্য শাবানের রাতে একশত রাকআত সালাত আদায় করা, (২৩) পনের শাবানের দিনে সিয়াম পালন, (২৪) শবে বরাতে রাত্রিতে গোসল করার ফজিলত, (২৫) শবে বরাত উপলক্ষে মধ্য শাবানের দিনে সিয়াম পালন, (২৬) এই রাত উপলক্ষে বিশেষ নিয়মে সালাত আদায় করা, (২৭) শবে বরাতে হালুয়া-রুটি খাওয়া, (২৮) শবে বরাতে রাতে বিশেষ মীলাদ মাহফিলের আয়োজন করা, (২৯) শবে বরাতে মসজিদে সম্মিলিতভাবে খাওয়ার আয়োজন করা, (৩০) শবে বরাতে রাতে ইসলামি বিষয় আলোচনা ও জিকির করা, (৩১) শবে বরাতে রাতে সম্মিলিতভাবে কবর জিয়ারত করা, (৩২) শবে বরাতে রাতে আলোক সজ্জা করা এবং আতশবাজী করা (৩৩) আখেরি চাহার শোম্বা পালন করা, (৩৪) ফাতিহা–ই-ইয়াজদাহাম পালন করা।

 

৫। মৃত্যু, করব ও মাজার সম্পর্কিত বিদআদসমূহ

(১) মাইয়াতের জন্য উচ্চস্বরে কান্না করা যাবে না, (২) মৃতদের জন্য বিলাপ করা, (৩) স্ত্রী ব্যতীত অন্যদের তিন দিনের বেশী শোক পালন, (৪) মৃত ব্যক্তির শোকগাথা বর্ণনা করা, (৫) মসজিদের মাইকে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা, (৬) মসজিদের মাইক ব্যবহার করে কি মৃতের ঘোষনা দেয়া যাবে? (৭) লাশের পাশে আগরবাতী জ্বালানো বা আতর-সুগন্ধি ব্যবহার জরুরী মনে করা, (৮) কাফনের কাপড়ে কালিমা আয়াত লেখা, (৯) মাইয়াতের কাফনে বা কবরে পানি ছিটান, (১০) জানাযার পিছে পিছে উচ্চৈঃস্বরে যিকর করা, (১১) জানাযা বহনের সময় বিশ্রাম নেওয়া, (১২)। মৃত লাশকে সামনে রেখে প্রশ্ন করা লোকটি কেমন ছিল, (১৩) বীনা কারণে জানাযা ও দাফনে দেরী করা (১৪) কফিনে ফুল দেয়া বা পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, (১৫) এক মিনিট নীরবতা পালন করা, (১৬) মহিলাদের কবর স্থানে যাওয়া ও দাফন কাজে অংশ করা, (১৭)  বীনা কারণে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় লাশ নিয়ে দাফন করা, (১৭) কবরে উপর বসা, (১৮) গোরস্থানে জুতা বা সেন্ডেল পায়ে হাঁটা, (১৯) মৃতকে কবরে রাখার সময় বা পরে আযান দেওয়া, (২০) চার কুল পড়তে পড়তে খেজুরের তাজা ডাল পুতে দেয়া, (২১) মৃত্যুর পরপরই মাইয়াতের বাড়ীতে বা কবরস্থানে সাদাকা প্রদান কর, (২২) মৃতের কাজা সালাতের জন্য কাফ্ফারা আদায় করা, (২৩) কবর জিয়াতের জন্য দিন ক্ষন নির্দিষ্ট করা, (২৯) মৃত্যু-দিবস পালন, (২৪)  মৃতের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী মাইক বাজান, (২৫ মৃতের ঘরে চল্লিশ দিন যাবৎ বিশেষ লৌহজাত দ্রব্য রাখা, (২৬) কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকদের জন্য দো‘আ করা (২৭) মাটিয়াল খাওয়ান, (২৮) মসজিদের পাশে কবর দেয়ায় অতিরিক্ত সুবিধা পাবে বিশ্বাস করা, (২৯) জানাযার সময় স্ত্রীর নিকট দেনমোহর মাপ চাওয়া,  (৩০)  ঘন ঘন কবর জিয়ারত করা, (৩১)। কবর কেন্দ্রিক মাজান নির্মাণ করা, (৩২)। মাজারকে কেন্দ্র করে উরশ উৎযাপন করা, (৩৩) মাজারের চার পাশে তাওয়াফ করে, (৩৪) মাযারকে ঘিরে বাতি প্রজ্বলন করে ও চাদর চড়ায়, (৩৫) কবর পাকা করে, কবরের উপর গম্বুজ নির্মান করে, (৩৬)। কবর বা মাজারে মানত পেশ করা, (৩৭) কবর বা মাজারে জন্তু জবেহ করা, (৩৮) কবরকে অতিরিক্ত ভক্তি করা, (৩৯) কবরে ধূপ, আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালানো, (৪০) মৃত্যুর আগেই কবর তৈরী করা, (৪০) কবরের গায়ে মৃতের নাম ও মৃত্যুর তারিখ লেখা, (৪১) কবরের উপর ঘর তৈরি করে বসবাস করা, (৪২)  কবর কেন্দ্রিক মসজিদ নির্মান করা, (৪৩) কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা, (৪৪) কবরের উপর জুতা হাটা, ও (৪৫) মহিলাগণ কবর জিয়ারত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *