মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
জাহান্নাম (جَہَنَّمَ) :
জাহান্নাম (جَہَنَّمَ) একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ গভীর খাদ, অতল গহ্বর, ভয়াবহ আগুন, শাস্তির স্থান, অপমান ও যন্ত্রণা দানকারী স্থান ইত্যাদি। জাহান্নাম শব্দটি কুরআনের ৭৭ জায়গায় এসেছে। যেমন-
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُلْ لِّلَّذِیْنَ کَفَرُوْا سَتُغْلَبُوْنَ وَتُحْشَرُوْنَ اِلٰی جَہَنَّمَ ؕ وَبِئْسَ الْمِہَادُ
তুমি কাফিরদেরকে বল, ‘তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে এবং তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে। আর সেটি কতইনা নিকৃষ্ট আবাসস্থল’! সুরা আল ইমরান : ১২
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فَادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْہَا ؕ فَلَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَکَبِّرِیْنَ
সুতরাং তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে স্থায়ী হয়ে। অতএব অবশ্যই অহঙ্কারীদের আবাস অতিনিকৃষ্ট। সুরা নাহল : ২৯
ইসলামী পরিভাষায় জাহান্নাম বলতে আখিরাতে কাফের, মুশরিক, মুনাফিক ও বড় গুনাহে লিপ্ত অথচ তওবা না করা মানুষের জন্য প্রস্তুত করা ভয়াবহ শাস্তিস্থলকে বোঝায়। কুরআন ও সহিহ হাদিসে জাহান্নামের ভয়াবহতা, তার প্রকারভেদ, স্তর, অধিবাসী ও শাস্তির বর্ণনা বিশদভাবে এসেছে। কুরআনে জাহান্নামকে “আন-নার” (আগুন), “সা‘ইর” (প্রজ্বলিত আগুন), “হাওয়িয়া” (অতল গহ্বর), “সাকার” (প্রচণ্ড তাপ), “জাহিম” (দাহনশীল আগুন) ইত্যাদি নামে ডাকা হয়েছে, যা এর ভয়াবহতার বহুমাত্রিক দিক প্রকাশ করে। এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারের প্রতিফলন, যেখানে অবিশ্বাসী ও অপরাধীরা তাদের কর্মফল ভোগ করবে। জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের তুলনায় সত্তর গুণ তীব্র, যার খাদ্য হবে “জাক্কুম” বৃক্ষের তিক্ত ফল এবং পানীয় হবে ফুটন্ত পানি ও পুঁজ। এর সাতটি দরজা আছে এবং প্রতিটি দরজা নির্দিষ্ট অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত। এর শাস্তি কখনো হালকা হবে না, বরং সময়ের সাথে বাড়তেই থাকবে। যারা ঈমান ও সৎকর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, যারা সত্যকে অস্বীকার করেছে বা অহংকারে ডুবে ছিল, তাদের জন্য জাহান্নাম চিরস্থায়ী আবাস। তবে কিছু মুমিন যারা বড় গুনাহ করেছে কিন্তু তওবা করেনি, তারা শাস্তি ভোগের পর আল্লাহর রহমতে মুক্তি পাবে। জাহান্নামের বর্ণনা মূলত মানুষের হৃদয়ে আল্লাহভীতি জাগানো, অন্যায় ও গুনাহ থেকে বিরত রাখা এবং ন্যায়পথে আহ্বান করার জন্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا قُوْۤا اَنْفُسَکُمْ وَاَہْلِیْکُمْ نَارًا وَّقُوْدُہَا النَّاسُ وَالْحِجَارَۃُ عَلَیْہَا مَلٰٓئِکَۃٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا یَعْصُوْنَ اللّٰہَ مَاۤ اَمَرَہُمْ وَیَفْعَلُوْنَ مَا یُؤْمَرُوْنَ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন হতে বাঁচাও যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। যেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতাকূল, আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে ব্যাপারে তার অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে যা তাদেরকে আদেশ করা হয়। সূরা তাহরীম: ৬
তাই জাহান্নামের বাস্তবতা উপলব্ধি করে প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো ঈমানকে দৃঢ় করা, সৎকর্মে লেগে থাকা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
১. জাহান্নামের নামসমূহ
মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ধারণা হলো, জাহান্নাম সাতটি। যদিও কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দিষ্টভাবে “সাতটি জাহান্নামের নাম” একত্রে বর্ণিত হয়নি। তবে কুরআন ও হাদিসে জাহান্নামের স্তর বা দরজার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা থেকে কেউ কেউ সাতটি স্তর নির্ধারণ করেছেন। আবার অনেকে এই স্তরগুলোকেই আলাদা আলাদা জাহান্নামের নাম হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেমন— জাহিম, সাকার, হুতামাহ, লাযা, সা‘ইর, হাওয়িয়া ও জাহান্নাম। প্রকৃতপক্ষে এগুলো নাম না স্তরের বর্ণনা— এ বিষয়ে স্পষ্ট দলিল নেই। তাই সঠিক ধারণা পেতে কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনাই অনুসরণ করা উচিত। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ক. হুতামাহ (الْحُطَمَۃِ)
হুতামাহ অর্থ হলো- প্রজ্বলিত আগুন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
كَلَّا لَیُنْۢبَذَنَّ فِی الْحُطَمَۃِ ۫﴿ۖ۴﴾وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا الْحُطَمَۃُ ؕ﴿۵﴾ نَارُ اللّٰهِ الْمُوْقَدَۃُ ۙ﴿۶﴾الَّتِیْ تَطَّلِعُ عَلَی الْاَفْـِٕدَۃِ ؕ﴿۷﴾ اِنَّهَا عَلَیْهِمْ مُّؤْصَدَۃٌ ۙ﴿۸﴾ فِیْ عَمَدٍ مُّمَدَّدَۃٍ ﴿۹﴾
কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়। কিসে তোমাকে জানাল, হুতামা কি? তা হল আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি। যা হৃদয়কে গ্রাস করবে। নিশ্চয়ই তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে। সুরা হুতামাহ : ৪-৯
খ. সাঈর (السَّعِیْرِ) :
‘সাঈর’ অর্থ হলো- প্রজ্বলিত আগুন। এ নামটিও বহু জায়গায় এসেছে। তার মধ্যে এক জায়গায় আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِنَّ الشَّیْطٰنَ لَکُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوْهُ عَدُوًّا ؕ اِنَّمَا یَدْعُوْا حِزْبَہٗ لِیَکُوْنُوْا مِنْ اَصْحٰبِ السَّعِیْرِ ؕ﴿۶﴾
নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য কর। সে তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা সাঈরের (প্রজ্বলিত আগুনের) অধিবাসী হয়। সুরা ফাতির : ৬
গ. সাকার (سَقَرَ)
‘সাক্বার’ অর্থ হলো- ঝলসিয়ে দেওয়া, গলিয়ে দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
یَوْمَ یُسْحَبُوْنَ فِی النَّارِ عَلٰی وُجُوْهِهِمْ ؕ ذُوْقُوْا مَسَّ سَقَرَ ﴿۴۸﴾
সেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নেয়া হবে। (বলা হবে) সাক্কার (জাহান্নামের) ছোঁয়া আস্বাদন কর। সুরা কামার : ৪৮
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
سَاُصْلِیْهِ سَقَرَ ﴿۲۶﴾ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا سَقَرُ ﴿ؕ۲۷﴾لَا تُبْقِیْ وَ لَا تَذَرُ ﴿ۚ۲۸﴾ لَوَّاحَۃٌ لِّلْبَشَرِ ﴿ۚۖ۲۹﴾ عَلَیْهَا تِسْعَۃَ عَشَرَ ﴿ؕ۳۰﴾
আমি তাকে নিক্ষেপ করব সাকারে (জাহান্নামে)। কিসে তোমাকে জানাল, সাকার কী? এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না। ওটা দেহের চামড়া দগ্ধ করে দেবে। ওর তত্ত্বাবধানে রয়েছে উনিশ জন প্রহরী। সুরা মুদ্দাসসির ২৬-৩০
ঘ. জাহিম (الْجَحِیْمِ)
জাহীম’ অর্থ হলো- কঠিন অগ্নিদাহ। এ নামটিও বহু জায়গায় এসেছে। তার মধ্যে দুই জায়গায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ ﴿۱۰﴾
আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই জাহিমের (কঠিন আগুনের) অধিবাসী। সুরা মায়িদা : ১০
ঙ. হাবিয়াহ (ٗ هَاوِیَۃٌ ؕ)
‘হাবিয়াহ’ অর্থ হলো- গভীর গর্ত, পাতাল। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَ اَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُہٗ ۙ﴿۸﴾ فَاُمُّہٗ هَاوِیَۃٌ ؕ﴿۹﴾وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا هِیَہْ ﴿ؕ۱۰﴾ نَارٌ حَامِیَۃٌ ﴿۱۱﴾
কিন্তু যার পাল্লা হাল্কা হবে, তার স্থান হবে হাবিয়াহ। কিসে তোমাকে জানাল, তা কি? তা অতি উত্তপ্ত অগ্নি। সুরা কারিয়াহ : ৮-১১
চ. লাজা (لَظٰی)
‘লাজা’ অর্থ হলো- লেলিহান আগুন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
كَلَّا ؕ اِنَّهَا لَظٰی ﴿ۙ۱۵﴾ نَزَّاعَۃً لِّلشَّوٰی ﴿ۚۖ۱۶﴾تَدْعُوْا مَنْ اَدْبَرَ وَ تَوَلّٰی ﴿ۙ۱۷﴾وَ جَمَعَ فَاَوْعٰی ﴿۱۸﴾
না, কখনই নয়! এটা তো লাজা (লেলিহান অগ্নি)। যা দেহ হতে চামড়া খসিয়ে দেবে। জাহান্নাম ঐ ব্যক্তিকে ডাকবে, যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সে সম্পদ পুঞ্জীভূত এবং সংরক্ষিত করে রেখেছিল। সুরা মাআরিজ : ১৫-১৮
ছ. অইল বা ওয়াইল ()
অইল’ বা ‘ওয়াইল’ অইল’-এর অর্থ দুর্ভোগ বা ধ্বংস করা হয়ে থাকে। কেউ কেউ এটিকে জাহান্নামের একটি উপত্যকার নাম গণ্য করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
,
فَوَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
(অইল) দুর্ভোগ সেদিন মিথ্যাশ্রয়ীদের। সুরা তুর : ১১
وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ
(অইল) ধংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। সুরা মুতাফফিফিন : ১
২. জাহান্নামের বিশালতা
আমরা পৃথিবীর বিশালতা নিয়ে ভাবতে গিয়ে যে সূর্যের কথা বলি, তা আমাদের কাছে বিশাল মনে হলেও আল্লাহর সৃষ্টিজগতের এক অতি ক্ষুদ্র সুষ্টি। ঠিক তেমনই, আমাদের সীমিত জ্ঞান দিয়ে জাহান্নামের বিশালতা কল্পনা করা সম্ভব নয়। জান্নাত যেমন মানুষের সকল ধারণার বাইরে, জাহান্নামের ভয়াবহতা ও বিশালতাও তেমনই।
ক. জাহান্নামের বিশাল মানুষের কল্পনাতীত
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জাহান্নামের মধ্যে কাফিরের দেহের চামড়া হবে বিয়াল্লিশ হাত মোটা, দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান এবং জাহান্নামে তার বসার স্থান হবে মক্কাহ্-মদীনার মধ্যবর্তী দূরত্ব সমান পরিমাণ। সুনানে তিরমিজি : ২৫৭৭, সিলসিলাতুস সহীহাহ : ১১০৫, মিশকাত : ৫৬৭৫, সহীহুল জামি’ : ২১১৪, হাকিম : ৮৭৬০।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জাহান্নামের মধ্যে কাফিরদের উভয় ঘাড়ের দূরত্ব হবে কোন দ্রুতগামী অশ্বারোহীর তিন দিনের ভ্রমণের দূরত্ব পরিমাণ। অপর এক বর্ণনায় আছে- কাফিরের এক একটি দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান এবং তার দেহের চামড়া হবে তিন দিনের সফরের দূরত্ব পরিমাণ পুরু বা মোটা। সহিহ বুখারী : ৬৫৫১, সহিহ মুসলিম : ২৮৫২, মিশকাত : ৫৬৭২, সহীহুল জামি ৫৫৯১, সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৬৮১, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ৬২৭
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন কাফিরের দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মতো, রান বা উরু হবে বায়যা পাহাড়ের মতো মোটা এবং জাহান্নামে তার বসার স্থান হবে তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ বিস্তীর্ণ। যেমন- ’রবযাহ’ (মদীনাহ্ হতে তিন দিনের দূরত্বের ব্যবধান)। সুনানে তিরমিযী : ২৫৭৮, মিশকাত : ৫৬৭৪, সিলসিলাতুস সহীহাহ : ১১০৫, সহীহুল জামি : ৩৮৯০, মুসনাদে আহমাদ : ৮৩২৭
জিন-ইনসান মিলে অগণিত কোটি সংখ্যক ব্যক্তি জাহান্নামে স্থান পাবে। আবার কোন কোন জাহান্নামীর দেহ এত বিরাট হবে যে, তার দাঁতটাই হবে উহুদ পাহাড়ের সমান! বসার স্থান হবে মক্কাহ্-মদীনার মধ্যবর্তী দূরত্ব সমান পথ! প্রকাশ থাকে যে, উহুদ পাহাড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ কিমি. প্রস্থ প্রায় ২-৩ কিমি. এবং উচ্চতা ৩৫০ মিটার। জানি না, এই শ্রেণীর জাহান্নামীর সংখ্যাই বা কত। তা সত্ত্বেও জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
یَوۡمَ نَقُوۡلُ لِجَہَنَّمَ ہَلِ امۡتَلَاۡتِ وَتَقُوۡلُ ہَلۡ مِنۡ مَّزِیۡدٍ
সেদিন আমি জাহান্নামকে বলব, ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছ’? আর সে বলবে, ‘আরো বেশি আছে কি’? সুরা কাফ : ৩০
আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ লোকদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। খালীফা ও মুতামির (রহ.) আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জাহান্নামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতে থাকবে। তখন জাহান্নাম বলতে থাকবে আরো বেশি আছে কি? আর শেষে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন, তাঁর কদম জাহান্নামে রাখবেন। তখন এর এক অংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিশে স্থির হতে থাকবে। আর বলবে আপনার ইয্যত ও করমের কসম! যথেষ্ট হয়েছে। জান্নাতের কিছু জায়গা শূন্য থাকবে। অবশেষে আল্লাহ্ সেই শূন্য জায়গার জন্য নতুন কিছু মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং জান্নাতের সেই খালি জায়গায় এদের বসতি করে দেবেন। সহিহ বুখারি : ৪৮৪৮, ৭৩৮৪, সহিহ মুসলিম : ২৮৪৮
খ. জাহান্নামের কল্পনাতীত বিশাল গভীরতা
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে থাকার সময় হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনেন। তখন তিনি সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করেন, “তোমরা জান এটা কিসের শব্দ?” সাহাবীরা উত্তর দেন, “আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন।” তখন রাসূল (ﷺ) বলেন, “এটি একটি পাথর, যা সত্তর বছর পূর্বে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এটি এতোক্ষণ ধরে নিচে যাচ্ছিল এবং এখন তা জাহান্নামের তলদেশে পৌঁছল, যার পড়ার আওয়াজ তোমরা শুনতে পেলে।” সহিহ মুসলিম : ৬৯০৪।
গ. জাহান্নামের সত্তরটি লাগাম ধরে সত্তর হাজার মালাক টেনে আনবে
ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে যে, তার সত্তরটি লাগাম থাকবে এবং সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) প্রতিটি লাগামের সাথে থাকবে, তারা তা টেনে আনবে। সহিহ মুসলিম : ২৮৪২, সুনানে তিরমিযী : ২৫৭৩, মিশকাত : ৫৬৬৬, সহীহুল জামি : ৮০০১
ঘ. কিয়ামতের দিন সূর্য ও চাঁদকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে
হাসান বাসরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন সূর্য ও চাঁদকে দুটি পনীরের আকৃতি বানিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন হাসান (রহিমাহুল্লাহ) প্রশ্ন করলেন, তাদের অপরাধ কী? উত্তরে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে এ সম্পর্কে যা কিছু শুনেছি, তাই বর্ণনা করলাম। এ কথা শুনার পর হাসান (রহিমাহুল্লাহ) নীরব হয়ে গেলেন। মিশকাত : ৫৬৯২, সিলসিলাতুস সহীহাহ ১২৪
৩. জাহান্নামের স্তরসমূহ
অবাধ্য মানুষের অবাধ্যতা ও অপরাধ যেমন বিভিন্ন প্রকার, তেমনি জাহান্নামের স্তরও আছে ভিন্ন ভিন্ন। আযাবের কঠিনতাও ভিন্ন ভিন্ন হবে। যত নিম্নস্তরের আগুন হবে, তার উত্তাপ তত বেশি হবে। মুনাফিকরা যেহেতু ঘর শত্রু, তাদের দ্বারা ইসলামের ক্ষতি বেশি, তাই তাদের ঠাই হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا
মুনাফিক (কপট) ব্যক্তিরা অবশ্যই দোযখের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে এবং তাদের জন্য তুমি কখনও কোন সাহায্যকারী পাবে না। সুরা নিসা : ১৪৫
জান্নাতের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চই হল সর্বশ্রেষ্ঠ। আর জাহান্নামের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্নই হল সর্বনিকৃষ্ট।
৪. জাহান্নামের দরজাসমূহ
জান্নাতের যেমন আটটি দরজা আছে, তেমনি জাহান্নামের দরজা আছে সাতটি। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَ اِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ اَجْمَعِیْنَ ﴿۟ۙ۴۳﴾ لَهَا سَبْعَۃُ اَبْوَابٍ ؕ لِکُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُوْمٌ ﴿۴۴﴾
অবশ্যই (শয়তানের অনুসারীদের) তাদের সবারই প্রতিশ্রুত স্থান হবে জাহান্নাম। ওর সাতটি দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্য তাদের মধ্য থেকে পৃথক পৃথক দল আছে। সুরা হিজর : ৪৩-৪৪
হিসাবের পর দলে দলে কাফেরদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। জাহান্নামের নিকটে পৌছনো মাত্র তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَ سِیْقَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِلٰی جَهَنَّمَ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْهَا فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَ قَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمْ یَاْتِکُمْ رُسُلٌ مِّنْکُمْ یَتْلُوْنَ عَلَیْکُمْ اٰیٰتِ رَبِّکُمْ وَ یُنْذِرُوْنَکُمْ لِقَآءَ یَوْمِکُمْ هٰذَا ؕ قَالُوْا بَلٰی وَ لٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَۃُ الْعَذَابِ عَلَی الْکٰفِرِیْنَ ﴿۷۱﴾ قِیْلَ ادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ فَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَكَبِّرِیْنَ ﴿۷۲﴾
সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন ওরা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হবে, তখন তার দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা ওদেরকে বলবে, ‘তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হতে রসূল আসেনি; যারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত আবৃত্তি করত এবং এ দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করত? ওরা বলবে, অবশ্যই এসেছিল। কিন্তু সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি শাস্তির বাক্য বাস্তবায়িত হয়েছে। ওদেরকে বলা হবে, জাহান্নামে স্থায়ীভাবে বাস করার জন্য তোমরা ওতে প্রবেশ কর। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল!’ সুরা জুমার : ৭১-৭২
জাহান্নামে প্রবিষ্ট হলে তার দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেখান থেকে বের হওয়ার কোন পথ থাকবে না কাফেরদের। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِنَا هُمْ اَصْحٰبُ الْمَشْـَٔمَۃِ ﴿ؕ۱۹﴾ عَلَیْهِمْ نَارٌ مُّؤْصَدَۃٌ ﴿۲۰﴾
পক্ষান্তরে যারা আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছে, তারাই হল হতভাগ্য। তাদের উপরই রয়েছে অবরুদ্ধ অগ্নি। সুরা বালাদ : ১৯-২০
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকলবন্দী করে দেয়া হয়। সহিহ বুখারি : ১৮৯৯, সহিহ মুসলিম : ১০৭৯
৫. জাহান্নামের জ্বালালী
জাহান্নামের ইন্ধন বা জ্বালানী হবে এক শ্রেণীর মানুষ, এক শ্রেণীল জিন ও এক শ্রেণীর পাথর। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَن تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ
যদি তোমরা তা (আনয়ন) না কর, এবং কখনই তা করতে পারবে না, তাহলে সেই আগুনকে ভয় কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর, অবিশ্বাসীদের জন্য যা প্রস্তুত রয়েছে। সুরা বাকারা : ২৪
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারপরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-স্বভাব ফিরিশ্তাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয়, তাই করে। সুরা তাহরীম : ৬
এক শ্রেণীর জ্বিনও হবে জাহান্নামের ইন্ধন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَّ اَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُوْنَ وَ مِنَّا الْقٰسِطُوْنَ ؕ فَمَنْ اَسْلَمَ فَاُولٰٓئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا ﴿۱۴﴾وَ اَمَّا الْقٰسِطُوْنَ فَكَانُوْا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا ﴿ۙ۱۵﴾
আর নিশ্চয় আমাদের (জিন) মধ্যে কিছু সংখ্যক আছে আত্মসমর্পণকারী এবং আমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক সীমালংঘনকারী। কাজেই যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারাই সঠিক পথ বেছে নিয়েছে’। ‘আর যারা সীমালঙ্ঘনকারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন’। সুরা জিন ১৪-১৫
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِلَّا مَنْ رَّحِمَ رَبُّكَ ؕ وَ لِذٰلِكَ خَلَقَهُمْ ؕ وَ تَمَّتْ كَلِمَۃُ رَبِّكَ لَاَمْلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ اَجْمَعِیْنَ ﴿۱۱۹﴾
তবে যাদেরকে তোমার রব দয়া করেছেন, তারা ছাড়া। আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমার রবের কথা চূড়ান্ত হয়েছে যে, ‘নিশ্চয়ই আমি জাহান্নাম ভরে দেব জিন ও মানুষ দ্বারা একত্রে’। সুরা হুদ : ১১৯
৬. জাহান্নামের তত্ত্বাবধান হবেন ফিরেশতাগণ
জাহান্নামের তত্ত্বাবধানে অসংখ্য ফিরিস্তা মোতায়েন আছেন। সেই ফিরিশতাগণের প্রকৃতি সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারপরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-স্বভাব ফিরিস্তাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয়, তাই করে। সুরা তাহরিম : ৬
জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফিরিস্তার সংখ্যা উনিশ। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
سَاُصْلِیْهِ سَقَرَ ﴿۲۶﴾وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا سَقَرُ ﴿ؕ۲۷﴾ لَا تُبْقِیْ وَ لَا تَذَرُ ﴿ۚ۲۸﴾ لَوَّاحَۃٌ لِّلْبَشَرِ ﴿ۚۖ۲۹﴾ عَلَیْهَا تِسْعَۃَ عَشَرَ ﴿ؕ۳۰﴾ وَ مَا جَعَلْنَاۤ اَصْحٰبَ النَّارِ اِلَّا مَلٰٓئِكَۃً ۪ وَّ مَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ اِلَّا فِتْنَۃً لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا ۙ لِیَسْتَیْقِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ وَ یَزْدَادَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِیْمَانًا وَّ لَا یَرْتَابَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ ۙ وَ لِیَقُوْلَ الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ وَّ الْکٰفِرُوْنَ مَاذَاۤ اَرَادَ اللّٰهُ بِهٰذَا مَثَلًا ؕ كَذٰلِكَ یُضِلُّ اللّٰهُ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَہْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ مَا یَعْلَمُ جُنُوْدَ رَبِّكَ اِلَّا هُوَ ؕ وَ مَا هِیَ اِلَّا ذِکْرٰی لِلْبَشَرِ ﴿۳۱﴾
আমি তাকে নিক্ষেপ করব সাক্কার (জাহান্নামে)। কিসে তোমাকে জানাল, সাক্বার কী? ওটা তাদেরকে (জীবিত অবস্থায়) রাখবে না, আর (মৃত অবস্থায়ও) ছেড়ে দেবে না। ওটা দেহের চামড়া দগ্ধ করে দেবে। ওর তত্ত্বাবধানে রয়েছে উনিশ জন প্রহরী। আমি ফেরেশ্তাদেরকেই করেছি জাহান্নামের প্রহরী। আর অবিশ্বাসীদের পরীক্ষা স্বরূপই আমি তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি, যাতে কিতাবধারীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বর্ধিত হয় এবং বিশ্বাসীরা ও কিতাবধারীগণ সন্দেহ পোষণ না করে। এর ফলে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, তারা ও অবিশ্বাসীরা বলবে, এ বর্ণনায় আল্লাহর উদ্দেশ্য কি? এইভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ নির্দেশ করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। (জাহান্নামের) এই বর্ণনা তো মানুষের জন্য উপদেশ বাণী। সুরা মুদ্দাসসির :২৬-৩১
উক্ত উনিষজন ফিরেশতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন-
وَقَالَ الَّذِينَ فِي النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًا مِّنَ الْعَذَابِ
জাহান্নামীরা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতিপালককে বল, তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে একদিনের শাস্তি লাঘব করেন। সুরা মুমিন : ৪৯
তাঁদের মধ্যে একজনের নাম হল মালেক। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ۖ قَالَ إِنَّكُم مَّاكِثُونَ
ওরা চিৎকার করে বলবে, হে মালেক (জাহান্নামের অধিকর্তা)! তোমার প্রতিপালক আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিন। সে বলবে, তোমরা তো (চিরকাল) অবস্থান করবে। সুরা যুখরুফ : ৭৭
৭. জাহান্নামের অধিবাসীগণ
নীচে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জাহান্নামের অধিবাসীদের দলিলসহ কিছু উদাহরণ দিলাম—
ক. কাফেররা বা অবিশ্বাসীরা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ ۚ لَا یُقْضٰی عَلَیْهِمْ فَیَمُوْتُوْا وَ لَا یُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِّنْ عَذَابِهَا ؕ كَذٰلِكَ نَجْزِیْ کُلَّ كَفُوْرٍ ﴿ۚ۳۶﴾
আর যারা কুফরী করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের প্রতি এমন কোন ফয়সালা দেয়া হবে না যে, তারা মারা যাবে, এবং তাদের থেকে জাহান্নামের আযাবও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে প্রতিফল দিয়ে থাকি। সুরা ফাতির : ৩৬
খ. মুশরিকরা বা আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপনকারীরা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِنَّہٗ مَنْ یُّشْرِکْ بِاللّٰهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللّٰهُ عَلَیْهِ الْجَنَّۃَ وَ مَاْوٰىهُ النَّارُ ؕ وَ مَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ اَنْصَارٍ ﴿۷۲﴾
নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। সুরা মায়েদা : ৭২
গ. মুনাফিকরা বা কপট ঈমানদাররা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ فِی الدَّرْکِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِ ۚ وَلَنْ تَجِدَ لَہُمْ نَصِیْرًا ۙ
নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে। আর তুমি কখনও তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী পাবে না। সুরা নিসা : ১৪৫
ঘ. আল্লাহ ও রাসুলের অবাধ্যকারীরা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِلَّا بَلٰغًا مِّنَ اللّٰہِ وَرِسٰلٰتِہٖ ؕ وَمَنْ یَّعْصِ اللّٰہَ وَرَسُوْلَہٗ فَاِنَّ لَہٗ نَارَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْہَاۤ اَبَدًا ؕ
কেবল আল্লাহর বাণী ও তাঁর রিসালাত পৌঁছানোই দায়িত্ব। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাতে তারা চিরস্থায়ী হবে। সুরা জিন : ২৩
ঙ. আল্লাহর আয়াত ও আখিরাতকে অস্বীকারকারী
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَالَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَکَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ
আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী। সূরা মায়েদাহ : ১০
চ. অহংকারী ও গর্বিতরা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فَادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْہَا ؕ فَلَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَکَبِّرِیْنَ
সুতরাং তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে স্থায়ী হয়ে। অতএব অবশ্যই অহঙ্কারীদের আবাস অতিনিকৃষ্ট। সুনা নাহল : ২৯
ছ. যাদুকররা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ؕ وَلَقَدْ عَلِمُوْا لَمَنِ اشْتَرٰىہُ مَا لَہٗ فِی الْاٰخِرَۃِ مِنْ خَلَاقٍ
এবং তারা অবশ্যই জানত যে, যে ব্যক্তি তা (জাদু) ক্রয় করবে, আখিরাতে তার কোন অংশ থাকবে না। সুরা বাকারা : ১০২
জ. সুদখোররা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَمَنْ عَادَ فَأُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
এবং যারা পুনরায় সুদ গ্রহণ করবে তারাই হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানেই চিরকাল অবস্থান করবে। সুরা রাকারা : ২৭৫
ঝ. আত্মহত্যাকারীরা
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরকাল সে জাহান্নামের ভিতর ঐভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে লোক বিষপানে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে। যে লোক লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের ভিতর সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে। সহিহ বুখারি : ৫৭৭৮, সহিহ মুসলিম : ১০৯, আহমাদ : ১০৩৪১০
ঞ. অন্যায়ভাবে হত্যাকারীরা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَمَنْ یَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُہٗ جَہَنَّمُ خٰلِدًا فِیْہَا وَغَضِبَ اللّٰہُ عَلَیْہِ وَلَعَنَہٗ وَاَعَدَّ لَہٗ عَذَابًا عَظِیْمًا
আর যে ইচ্ছাকৃত কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে লা‘নত করবেন এবং তার জন্য বিশাল আযাব প্রস্তুত করে রাখবেন। সূরা আন-নিসা : ৯৩
ট. এতিমের সম্পদ গ্রাসকারীরা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِنَّ الَّذِیْنَ یَاْکُلُوْنَ اَمْوَالَ الْیَتٰمٰی ظُلْمًا اِنَّمَا یَاْکُلُوْنَ فِیْ بُطُوْنِہِمْ نَارًا ؕ وَسَیَصْلَوْنَ سَعِیْرًا
নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তো তাদের পেটে আগুন খাচ্ছে; আর অচিরেই তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে। সূরা আন-নিসা : ১০
ঠ. সালাত ত্যাগকারীরা বা অবহেলাকারী
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فَخَلَفَ مِنْۢ بَعْدِہِمْ خَلْفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوۃَ وَاتَّبَعُوا الشَّہَوٰتِ فَسَوْفَ یَلْقَوْنَ غَیًّا ۙ
তাদের পরে আসল এমন এক অসৎ বংশধর যারা সালাত বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। সূরা মারইয়াম : ৫৯
৮. জাহান্নামের আগুনের তিব্রতা
কুরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী জাহান্নামের আগুন পৃথিবীর আগুনের তুলনায় এতটাই তীব্র ও ভয়ঙ্কর যে মানুষের কল্পনাশক্তিও তার প্রকৃত ভয়াবহতা ধারণ করতে পারে না। নিচে সংক্ষেপে কুরআন ও হাদিসের দলিলসহ ধারণা তুলে ধরা হলো—
ক. কুরআনের আলোক জাহান্নামের আগুনের তিব্রতা
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِذَا رَاَتْهُمْ مِّنْ مَّكَانٍۭ بَعِیْدٍ سَمِعُوْا لَهَا تَغَیُّظًا وَّ زَفِیْرًا ﴿۱۲﴾
দূর হতে আগুন যখন তাদেরকে দেখবে তখন তারা তার ক্রুদ্ধ গর্জন ও প্রচন্ড চিৎকার শুনতে পাবে। সুরা ফুরকান : ২৫
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
یَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوْهُهُمْ فِی النَّارِ یَقُوْلُوْنَ یٰلَیْتَنَاۤ اَطَعْنَا اللّٰهَ وَ اَطَعْنَا الرَّسُوْلَا ﴿۶۶﴾
যেদিন তাদের চেহারাগুলো আগুনে উপুড় করে দেয়া হবে, তারা বলবে, ‘হায়, আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম’! সুরা আহজাব : ৬৬
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
وَ اَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُہٗ ۙ﴿۸﴾ فَاُمُّہٗ هَاوِیَۃٌ ؕ﴿۹﴾ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا هِیَہْ ﴿ؕ۱۰﴾ نَارٌ حَامِیَۃٌ ﴿۱۱﴾
অর্থাৎ, কিন্তু যার পাল্লা হাল্কা হবে, তার স্থান হবে হাবিয়াহ। কিসে তোমাকে জানাল, তা কি? তা অতি উত্তপ্ত অগ্নি। সুরা কারিয়াহ : ৮-১১
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
وَ اَصْحٰبُ الشِّمَالِ ۬ۙ مَاۤ اَصْحٰبُ الشِّمَالِ ﴿ؕ۴۱﴾ فِیْ سَمُوْمٍ وَّ حَمِیْمٍ ﴿ۙ۴۲﴾ وَّ ظِلٍّ مِّنْ یَّحْمُوْمٍ ﴿ۙ۴۳﴾ لَّا بَارِدٍ وَّ لَا كَرِیْمٍ ﴿۴۴﴾
আর বাম হাত-ওয়ালারা, কত হতভাগা বাম হাত-ওয়ালারা! তারা থাকবে অতি গরম বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে। কালোবর্ণ ধোয়ার ছায়ায়। যা শীতলও নয়, আরামদায়কও নয়। সুরা ওয়াকিয়া : ৪১-৪৪
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
سَاُصْلِیْهِ سَقَرَ ﴿۲۶﴾ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا سَقَرُ ﴿ؕ۲۷﴾ لَا تُبْقِیْ وَ لَا تَذَرُ ﴿ۚ۲۸﴾ لَوَّاحَۃٌ لِّلْبَشَرِ ﴿ۚۖ۲۹﴾
আমি তাকে নিক্ষেপ করব সাক্কার (জাহান্নামে)। কিসে তোমাকে জানাল, সাক্বার কী? ওটা তাদেরকে জীবিত অবস্থায় রাখবে না, আর (মৃত অবস্থায়ও) ছেড়ে দেবে না। ওটা দেহের চামড়া দগ্ধ করে দেবে। সুরা মুদ্দাসসির : ২৬-২৯
খ. জাহান্নামের আগুনের দুনিয়ার থেকে সত্তর গুন বেশি উত্তপ্ত
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ মাত্র। বলা হল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামীদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য দুনিয়ার আগুনই তো যথেষ্ট ছিল।’ তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার আগুনের উপর জাহান্নামের আগুনের তাপ আরো ঊনসত্তর গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, প্রত্যেক অংশে তার সম পরিমাণ উত্তাপ রয়েছে। সহিহ বুখারি : ৩২৬৫
গ. গ্রীষ্মতাপকে জাহান্নামেরই তাপ
আবূ যার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুয়ায্যিন যুহরের আযান দিতে চেয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গরম কমতে দাও। কিছুক্ষণ পর আবার মুয়ায্যিন আযান দিতে চাইলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পুনরায়) বললেনঃ গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (সালাত আদায়ে) এতো বিলম্ব করলেন যে, আমরা টিলাগুলো ছায়া দেখতে পেলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ হতে। কাজেই গরম প্রচন্ড হলে উত্তাপ কমার পর সালাত আদায় করো। সহিহ বুখারি : ৫৩৯, সহিহ মুসলিম : ৬১৫
৫৩৭. জাহান্নাম তার প্রতিপালকের নিকট এ বলে নালিশ করেছিলো, হে আমার প্রতিপালক! (দহনের প্রচন্ডতায়) আমার এক অংশ আর এক অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে দু’টি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি শীতকালে আর একটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দু’টি হলো, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচন্ড উত্তাপ এবং শীতকালে যে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভব কর তাই। সহিহ বূখারি : ৫৩৭, ৩২৬০, সহিহ মুসলিম : ৬১৫, ৬১৭, আহমাদ : ৭২৫১
ঘ. জাহান্নামের আগুনের রঙ কালো
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَ الَّذِیْنَ كَسَبُوا السَّیِّاٰتِ جَزَآءُ سَیِّئَۃٍۭ بِمِثْلِهَا ۙ وَ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّۃٌ ؕ مَا لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ عَاصِمٍ ۚ كَاَنَّمَاۤ اُغْشِیَتْ وُجُوْهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ الَّیْلِ مُظْلِمًا ؕ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ﴿۲۷﴾
আর যারা মন্দ উপার্জন করবে, প্রতিটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই অনুরূপ; আর লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদের কোন রক্ষাকারী নেই। যেন অন্ধকার রাতের এক অংশ দিয়ে তাদের চেহারাগুলো ঢেকে দেয়া হয়েছে। তারাই আগুনের অধিবাসী, তারা তাতে স্থায়ী হবে। সুরা ইউনুস : ২৭
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
وَ اَصْحٰبُ الشِّمَالِ ۬ۙ مَاۤ اَصْحٰبُ الشِّمَالِ ﴿ؕ۴۱﴾ فِیْ سَمُوْمٍ وَّ حَمِیْمٍ ﴿ۙ۴۲﴾ وَّ ظِلٍّ مِّنْ یَّحْمُوْمٍ ﴿ۙ۴۳﴾ لَّا بَارِدٍ وَّ لَا كَرِیْمٍ ﴿۴۴﴾
আর বাম হাত-ওয়ালারা, কত হতভাগা বাম হাত-ওয়ালারা! তারা থাকবে অতি গরম বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে। কালোবর্ণ ধোয়ার ছায়ায়। যা শীতলও নয়, আরামদায়কও নয়। সুরা ওয়াকিয়া : ৪১-৪৪
একটি জঈফ হাদিসে জাহান্নামের আগুন কালো বর্ণ হওয়ার কথা আছে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জাহান্নামের আগুন হাজার বছর ধরে উত্তপ্ত করার পর তা সাদা রং ধারণ করে আবার তা হাজার বছর ধরে উতপ্ত করার পর লাল রং ধারণ করে। আবার হাজার বছর ধরে উত্তপ্ত করার পর তা কালো বর্ণ ধারণ করে। এখন তা গভীর অন্ধকার রাতের মতো অন্ধকার অবস্থায় আছে। সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৩২০, সুনানে তিরমিজি : ২৫৯১ হাদিসের মান জঈফ