মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
১। জুমআর ইতিকথা
প্রথম হিজরীতে হিজরতের পরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মদীনা আগমনের সাথে সাথে জুমআ ফরয হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ সর্বপ্রথম জুমআ পড়েছিলেন মদীনার কুবা মসজিদে ও মসজিদে নববীর মধ্যবর্তী ‘বনু সালেম ইবনে আউস’ গোত্রে। বর্তমানে এ জায়গায় নির্মিত মসজিদটির নাম ‘মসজিদে জুমআ’। এরপর তিনি (ﷺ) মসজিদে নববীতে জুমআ আদায় শুরু করেন।
ইবনু আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
إِنَّ أَوَّلَ جُمُعَةٍ جُمِّعَتْ بَعْدَ جُمُعَةٍ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ عَبْدِ الْقَيْسِ بِجُوَاثَى مِنَ الْبَحْرَيْنِ.
আল্লাহর রাসূল ﷺ এর মসজিদে জুমুআহর ছালাত অনুষ্ঠিত হবার পর প্রথম জুমুআহর ছালাত অনুষ্ঠিত হয় বাহরাইনে জুওয়াসা নামক স্থানে অবস্থিত আবদুল কায়স গোত্রের মসজিদে। সহিহ বুখারি : ৮৯২
অতঃপর মসজিদে নববীতে জুমআ পড়া শুরু হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই বাহরাইন হলো মদিনার মহল্লা, বর্তমান রাষ্ট্র বাহরাইন নয়।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষ, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা মর্যাদার ব্যাপারে সবার পূর্বে। ব্যতিক্রম এই যে, আমাদের পূর্বে তাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছে। অতঃপর তাদের সে দিন যে দিন তাদের জন্য ইবাদত ফরজ করা হয়েছিল তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছে। কিন্তু সে বিষয়ে আল্লাহ্ আমাদের হিদায়াত করেছেন। কাজেই এ ব্যাপারে লোকেরা আমাদের পশ্চাদ্বর্তী। ইয়াহূদীদের (সম্মানীয় দিন হচ্ছে) আগামী কাল (শনিবার) এবং নাসারাদের আগামী পরশু (রোববার)। সহিহ বুখারি : ৮৭৬, সহিহ মুসলিম : ৮৫৫
আবদুর রহমান বিন কাব বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা (কাব বিন মালিক) (রাঃ) অন্ধ হয়ে গেলে আমি ছিলাম তার পরিচালক। আমি তাকে নিয়ে যখন জুমুআহ্র সালাত আদায় করতে বের হতাম, তিনি আযান শুনলেই আবূ উমামাহ আসআদ বিন যুরারাহ্ (রাঃ) এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দুআ করতেন। আমি তাকে ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ করতে শুনে কিছুক্ষণ থামলাম, অতঃপর মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! কি বোকামী! তিনি জুমুআহর আযান শুনলেই আমি তাকে আবূ উমামাহ (রাঃ) -এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ করতে শুনি, অথচ আমি তাকে তার কারণ জিজ্ঞেস করিনি? আমি তাকে নিয়ে যেমন বের হতাম, তদ্রুপ একদিন তাঁকে নিয়ে জুমুআহ্র উদ্দেশে বের হলাম। তিনি যখন আযান শুনলেন তখন তা অভ্যাস মাফিক ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে পিতা! জুমুআহ্র আযান শুনলেই আমি কি আপনাকে দেখি না যে, আপনি আসআদ বিন যুরারাহ্ (রাঃ) এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তা কেন? তিনি বলেন, প্রিয় বৎস! রসূলুল্লাহ ﷺ এর মাক্কাহ থেকে (মাদীনাহয়) আসার পূর্বে তিনিই সর্বপ্রথম বনূ বাইয়াদার প্রস্তরম সমতল ভূমিতে অবস্থিত নাকীউল খাযামাত-এ আমাদের নিয়ে জুমুআহ্র সালাত পড়েন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা তখন কতজন ছিলেন? তিনি বলেন, চল্লিশজন পুরুষ। ইবনে মাজাহ : ১০৮২, আবূ দাঊদ : ১০৬৯
২। জুমআর নামকরণঃ
আরবি শব্দ জুমুআ এর অর্থ হলো একত্রিত হওয়া, সমাবেশ করা বা সম্মেলন করা। ইয়াওমুল জুমআ বা শুক্রবার। আল্লাহর দুনিয়ায় সপ্তাহের সেরা দিন ইয়াওমুল জুমআ। মুসুল্লীদের জমায়েত হওয়ার কারণে এ দিনের নাম জুমআর দিন অর্থাৎ জমা হওয়ার দিন নাম করণ হয়ে আসছে।
এই দিনে মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর নির্দেশ পালনে ইবাদত উপলক্ষে মসজিদে একত্রিত হয় বলে দিনটিকে ইয়াওমুল জুমাআ বা জুমার দিন বলা হয়। কুরআনেও সে কথাটি ওঠে এসেছেঃ
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا إِذا نودِىَ لِلصَّلوٰةِ مِن يَومِ الجُمُعَةِ فَاسعَوا إِلىٰ ذِكرِ اللَّهِ وَذَرُوا البَيعَ ۚ ذٰلِكُم خَيرٌ لَكُم إِن كُنتُم تَعلَمونَ
হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে তখন তোমরা আল্লাহর স্মরনে ধাবিত হও এবং ক্রয় বিক্রয় ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর। সূরা জুমআ : ৯
আওস ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম দিনগুলোর মধ্যে জুমু’আহর দিনটি উৎকৃষ্ট। কাজেই এ দিনে তোমরা আমার প্রতি বেশী পরিমাণে দরূদ পাঠ করবে। কেননা তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের দরূদ আপনার কাছে কিভাবে উপস্থিত করা হবে অথচ আপনি তো মাটির সাথে মিশে যাবেন? বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা বললো, আপনি তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। তিনি (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ নবীদের দেহকে মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।সুনানে আবু দাউদ : ১৫৩১, সুনানে নাসায়ী : ১৩৭৪, রিয়াদুস সলেহিন : ১১৬৫
আওস ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমুআহর দিন সর্বোত্তম। এদিনই আদম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এদিনই শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং এদিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। অতএব তোমরা এদিন আমার প্রতি অধিক সংখ্যায় দুরূদ ও সালাম পেশ করো। কেননা তোমাদের দুরূদ আমার সামনে পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দুরূদ আপনার নিকট কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো মাটির সাথে মিশে যাবেন? তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা নবী ﷺগণের দেহ ভক্ষণ যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। ইবনু মাজাহ : ১৬৩৬, সুনানে আবূ দাঊদ : ১০৪৭ আহমাদ : ১৫৭২৯
৩। জুমআ ও জোহরের মধ্যে পার্থক্যঃ
জুমআ ও যোহরের মধ্যে পাঁচটি পার্থক্য লক্ষ করা যায়ঃ
১. জোহর সকল বিবেক সম্পন্ন মুমিন নর-নারীর উপর ফরজ, আর জুমআ সকলের উপর ফরজ নয়।
২. জোহর হল মূল ছালাত, আর জুমআ হল জোহরের পরিবর্তে।
৩. জুমআর ছালাতে কিরআত স্বশব্দে পাঠ হয়, জোহরে কিরআত চুপে চুপে পাঠ করা হয়।
৪. জুমআর ফরজ দুই রাকাআত, আর জোহরের ফরজ চার রাকাআত।
৫. জুমআয় খুৎবা আছে কিন্তু জোহরে কোন খুৎবা নেই।
৪। জুমআর ছালাতের হুকুম
জুমআর ছালাত ফরজ তবে ঐ সব পুরুষদের জন্য, যাদের উপর জামাআতে ছালাত আদায় করা ওয়াজিব। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا إِذا نودِىَ لِلصَّلوٰةِ مِن يَومِ الجُمُعَةِ فَاسعَوا إِلىٰ ذِكرِ اللَّهِ وَذَرُوا البَيعَ ۚ ذٰلِكُم خَيرٌ لَكُم إِن كُنتُم تَعلَمونَ
হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে তখন তোমরা আল্লাহর স্মরনে ধাবিত হও এবং ক্রয় বিক্রয় ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (সূরা জুমআ : ৯
আযান হওয়া মাত্র সকল কাজ বাদ দিয়ে ছালাত আদায়কে সবকিছুর উপর গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিতে হবে। এখানে এই অর্থই বোঝানো হয়েছে। ছালাতে দৌড়ে আসতে হবে- এটা বুঝান হয়নি। কারণ দৌড়ে এসে ছালাতে শরীক হওয়ার ব্যপারে হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আছে। ছালাতে আসতে হয় খুশু-খুযু, ভয়-ভীতি ও বিনয়ের সঙ্গে।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী ﷺ বলেন-
الْجُمُعَةُ عَلَى كُلِّ مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ
যে ব্যক্তি জুমুআর আযান শুনতে পাবে, তার ওপর জুমুআর ছালাত ফরয হয়ে যায়। আবূ দাঊদ : ১০৫৬, মিশকাত ১৩৭৫, ইরওয়া ৫৯৩, দারাকুত্বনী ১৫৯০
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী ﷺ এমন লোক সম্পর্কে বলেছেন, যারা জুমুআর সলাতে উপস্থিত হয় না, তাদের সম্পর্কে আমি চিন্তা করে দেখেছি যে, আমি কাউকে আদেশ করব, সে আমার স্থানে লোকদের ইমামত করবে। আর আমি গিয়ে তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেবো। সহিহ মুসলিম : ৬৫২, মিশকাতু : ১৩৭৮
৫। জুমআর ছালাত ফরজ হওয়ার শর্তঃ
নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূর্ণরূপে পাওয়া গেলে জুমা ফরজ হবেঃ
১. পূরুষ হওয়া, মহিলার উপর জুমা ফরজ নয়
২. স্বাধীন হওয়া দাসের উপর জুমা ফরজ নয়
৩. হাটা চলার শক্তি থাকা, চলা-ফিরায় অক্ষম ব্যাক্তির উপর জুমা ফরজ নয়
৪. সুস্থ্য হওয়া, রুগ্ন ব্যাক্তির উপর জুমা ফরজ নয়
৫. নিরাপদ হওয়া, জুলুম অত্যাচারের ভয় থাকলে তার উপর জুমা ফরজ নয়
৬. দৃষ্টি শক্তি থাকা, অন্ধের উপর জুমা ফরজ নয়
৭. শহরের বা শহরের হুকুমে পড়ে এমন স্থানের মুকিম হওয়া
যাদের উপর জুমআ ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তারা আদায় করলেও শুদ্ধ হবে, জোহরের নামাজ আদায় করতে হবে না। বরং তাদের জন্য জুমা মোস্তাহাব। কমপক্ষে কতজন মুসুল্লী হলে জুমআর ছালাত আদায় করা যায়। এই সম্পর্ক মতভেদ আছে। যেমন হানাফি মাজহাবের আলেমগণ জুমআ ফরজ হওয়ার শহরে অবস্থানকে শর্ত হিসাবে উল্লেখ করে থাকে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখপূর্বক কোন হাদীস পাওয়া যায় না। তাই ইমাম ইবনে তাইমিয়াসহ (রহ.) বহু বিজ্ঞ আলেমদের মতে, ইমাম ব্যতীত কমপক্ষে ৩ জন হলেই যথেষ্ট। একজন খুৎবা দেবে, বাকী তিনজন শুনবে। যত ছোট গ্রামই হোক সেখানে জুমআ পড়া জায়েয আছে। সহিহ বুখারি : ৮৯৩
৬। জুমাআন দিনের গুরুত্ব, মহত্ব ও ফজিলতঃ
(১) জুমার দিনে পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়ঃ
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন-
مَنِ اغْتَسَلَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَصَلَّى مَا قُدِّرَ لَهُ ثُمَّ أَنْصَتَ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ خُطْبَتِهِ ثُمَّ يُصَلِّيَ مَعَهُ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى وَفَضْلَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ
যে ব্যক্তি গোসল করে জুমুআর সালাতে আসল, অতঃপর সাধ্যমত (সুন্নাত) সালাত আদায় করল, অতঃপর ইমামের খুতবাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকল, অতঃপর ইমামের সাথে সালাত আদায় করল, এতে তার দু’ জুমুআর মধ্যকার দিনসমূহের এবং আরো তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। সহিহ মুসলিম : ৮৫৭, সুনানে তিরমিজি : ৪৯৮, সুনানে আবূ দাউদ : ১০৫০, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১০৯০
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে আরও বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন-
الصَّلاَةُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائِرُ ”
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমআ হতে পরের জুমআ পর্যন্ত, এক রমজান হতে অন্য রমযান পর্যন্ত, সেগুলির মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত (সগিরা) গুনাহর ক্ষমা করা হবে, যখন কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা যাবে। সহিহ মুসলিম : ২৩৩, সুনানে তিরমিজি : ২৪১, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১০৭৬
সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে কোন ব্যক্তি জুমার দিন গোসল ও সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে, নিজসব তেল গায়ে লাগায় অথবা নিজ ঘরের সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করে, অতঃপর (মসজিদে) গিয়ে দুই জনের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি না করেই (যেখানে স্থান পায়, বসে যায়) এবং তার ভাগ্যে যত রাকআত নামায জোটে, আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবা আরম্ভ করলে নীরব থাকে, সে ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত কৃত সমুদয় (সগিরা) গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। সহিহ বুখারি : ৮৮৩, ৯১০, সুনানে নাসায়ী : ১৪০৩
(২) সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিনঃ
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন-
خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ
যে সব দিনে সূর্য উদয় হয় তার মধ্যে জুমুআর দিনই উত্তম। এ দিনেই আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনই তাকে জান্নাত হতে বের করা হয়েছে। আর জুমুআর দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। সহিহ মুসলিম : ৮৫৪, সুনানে তিরমিজি : ৪৮৮, ৪৯১, সুনানে নাসায়ী : ১৩৭৩, ১৪৩০, সহিহাহ : ১৫০২
আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলির মধ্যে সর্বোত্তম একটি দিন হচ্ছে জুমার দিন। সুতরাং ঐ দিনে তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ কর। কেননা, তোমাদের পাঠ করা দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। সুনানে আবূ দাউদ : ১০৪৭, ১৫৩১, সুনানে নাসায়ী : ১৩৭৪, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৬৩৬
(৩) জুমআর ছালাতের জন্য পুরস্কারঃ
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন নাপাকির গোসলের ন্যায় গোসল করল এবং প্রথম অক্তে মসজিদে এল, সে যেন একটি উঁট দান করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে এলো, সে যেন একটি গাভী দান করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় সময়ে এলো, সে যেন একটি শিংবিশিষ্ট দুম্বা দান করল। যে ব্যক্তি চতুর্থ সময়ে এলো, সে যেন একটি মুরগী দান করল। আর যে ব্যক্তি পঞ্চম সময়ে এলো, সে যেন একটি ডিম দান করল। তারপর ইমাম যখন খুতবা প্রদানের জন্য বের হন, তখন (লেখক) ফেরেশতাগণ যিকির শোনার জন্য হাজির হয়ে যান। সহিহ বুখারি : ৮৮১, ৯২৯, ৩২১১, সহিহ মুসলিম : ৮৫০, ১৮৬০, সুনানে তিরমিজি : ৪৯৯, সুনানে নাসায়ী : ৮৬৪, ১৩৭৫-১৩৮৮, সুনানে আবূ দাউদ : ৩৫১, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১০৯২
(৪) জুমআর দিনে বিশেষ মুহুর্তে দোয়া কবুল হয়ঃ
সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেই বর্ণিত-
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَأَشَارَ بِيَدِهِ يُقَلِّلُهَا.
রাসূলুল্লাহ ﷺ একদা জুমার দিন সম্বন্ধে আলোচনা করে বললেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত। সহিহ বুখারি : ৯৩৫, ৫২৯৪, ৬৪০০, সহিহ মুসলিম : ৮৫২, সুনানে তিরমিজি : ৪৯১, সুনানে নাসায়ী : ১৪৩০-১৪৩২, সুনানে আবূ দাউদ : ১০৪৬, সুনানে ইবনু মাজাহ : ১১৩৭
আবূ বুরায়দাহ ইবনে আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আপনি কি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত সম্পর্কে আপনার পিতাকে, রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে বর্ণনা করতে শুনেছেন?’ তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘হ্যাঁ। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর রসূল ﷺকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “সেই মুহূর্তটুকু ইমামের মেম্বারে বসা থেকে নিয়ে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ের ভিতরে। সহিহ মুসলিম : ৮৫৩, সুনানে আবূ দাউদ : ১০৪৯
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, জুমুআর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, সে মুহূর্তটি যদি কোন মুমিন বান্দা পায় আর আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে তা দান করেন। মুসলিম; অন্য এক বর্ণনায় ইমাম মুসলিম এ শব্দগুলোও নকল করেছেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সে সময়টা খুবই ক্ষণিক হয়। বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় এ শব্দগুলো বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: নিঃসন্দেহে জুমুআর দিনে এমন একটি ক্ষণ আসে যে ক্ষণে যদি কোন মুমিন বান্দা সলাতের জন্য দাঁড়াতে পারে এবং আল্লাহর নিকট কল্যাণের জন্য দুআ করে, তাহলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই সে কল্যাণ দান করেন। সহিহ বুখারী : ৫২৯৪, সহহি মুসলিম : ৮৫২, সুনানে তিরমিজি ৪৯১, সুনানে নাসায়ী : ১৪৩১০, মিশকাত : ১৩৫৭
(৫) জুমাআর দিনে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করেন, জান্নাত থেকে বের করে দেন, দোয়া কবুল করেন এবং কিয়ামাত সংঘটিত হবেঃ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমুআহর দিনই হচ্ছে সর্বোত্তম। আদম (আ) কে এদিনেই সৃষ্টি করা হয়েছিলো। এদিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিলো। এদিনই তাঁর তওবা কবুল হয়েছিলো। এদিনই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন এবং এদিনই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে। জিন ও মানুষ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী শুক্রবার দিন ভোর হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামতের ভয়ে ভীত থাকে। এদিন এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, ছালাতরত অবস্থায় কোন মুসলিম বান্দা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোন অভাব পূরণের জন্য দুআ করলে মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। কাব বললেন, এ সময়টি প্রতি এক বছরে একটি জুমুআহর দিনে থাকে। আমি (আবূ হুরাইরাহ) বললাম, না, বরং প্রতি জামুআহর দিনেই থাকে। অতঃপর কাব (এর প্রমাণে) তাওরাত পাঠ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ সত্যই বলেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কাব (রাঃ) ও উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, আমি দুআ কবুলের বিশেষ সময়টি সম্পর্ক জানি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেটি হলো জুমুআহর দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবূ হুরাইরাহ) বললাম, জুমুআহর দিনের সর্বশেষ সময় কেমন করে হবে? অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ ’’যে কোন মুসলিম বান্দা ছালাতরত অবস্থায় ঐ সময়টি পাবে…। কিন্তু আপনার বর্ণনাকৃত সময়ে তো ছালাত আদায় করা যায় না। ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ কি বলেননি, যে ব্যক্তি ছালাতের জন্য বসে অপেক্ষা করবে সে ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত ছালাতরত বলে গণ্য হবে। আবূ হুরাইরাহ বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তা এরূপই। সুনানে আবু দাউদ : ১০৪৬, সুনানে নাসায়ী : ১৩৭২, সুনানে তিরমিজি : ৪৯১
(৬) জুমআর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিনঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
إِنَّ هَذَا يَوْمُ عِيدٍ جَعَلَهُ اللَّهُ لِلْمُسْلِمِينَ فَمَنْ جَاءَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ وَإِنْ كَانَ طِيبٌ فَلْيَمَسَّ مِنْهُ وَعَلَيْكُمْ بِالسِّوَاكِ
নিশ্চয় আল্লাহ এই দিনকে মুসলিমদের ঈদের দিনরূপে নির্ধারণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি জুমুআহর আদায় করতে আসবে সে যেন গোসল করে এবং সুগন্ধি থাকলে তা শরীরে লাগায়। আর মিসওয়াক করাও তোমাদের কর্তব্য। সুনানে ইবনে মাজাহ : ১০৯৮, মুযাত্তা মালিক : ১৪৬, মিশকাত : ১৩৯৮, ১৩৯৯
(৭) জুমআর দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার চেয়েও শ্রেষ্ঠঃ
আবূ লুবাবা ইবনু আবদুল মুনযির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, জুমুআহর দিন হলো সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা এবং তা আল্লাহ্র নিকট অধিক সম্মানিত। এ দিনটি আল্লাহ্র নিকট কুরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে অধিক সম্মানিত। এ দিনে রয়েছে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যঃ এই দিন আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করেন, এ দিনই আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান এবং এ দিনই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করেন। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন বান্দা তখন আল্লাহ্র নিকট কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন, যদি না সে হারাম জিনিসের প্রার্থনা করে এবং এ দিনই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে। নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, আসমান-যমীন, বায়ু, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র সবই জুমুআহর দিন শংকিত হয়। সুনানে ইবনে মাজাহ : ১০৮৪, আহমাদ : ১৫১২০, মিশকাত : ১৩৬৩
(৮) জুমআর রাতে বা দিনে কেউ মারা গেলে তাকে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবেঃ
আদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ إِلاَّ وَقَاهُ اللَّهُ فِتْنَةَ الْقَبْرِ
জুমুআর দিনে অথবা জুমুআর রাতে কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে কবরের ফিতনা হতে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন। সুনানে তিরমিজি : ১০৭৪, মিশকাত : ১৩৬৭
(৯) জান্নাতে প্রতি জুমআর দিনে জান্নাতীদের হাট বসবেঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ জান্নাতে একটি বাজার থাকবে। প্রত্যেক জুমুআয় জান্নাতী লোকেরা এতে একত্রিত হবে। তারপর উত্তরদিকের বায়ু প্রবাহিত হয়ে সেখানকার ধূলা-বালি তাদের মুখমণ্ডল ও পোশাক-পরিচ্ছদে গিয়ে লাগবে। এতে তাদের সৌন্দর্য এবং শরীরের রং আরো বেড়ে যাবে। তারপর তারা স্ব স্ব পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। এসে দেখবে, তাদের শরীরের রং এবং সৌন্দর্যও বহু বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর তাদের পরিবারের লোকেরা বলবে, আল্লাহর শপথ আমাদের নিকট হতে যাবার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরে তারাও বলবে, আল্লাহর শপথ! তোমাদের শরীরের সৌন্দর্য তোমাদের নিকট থেকে যাবার পর বহুগুণে বেড়ে গেছে। ণে বেড়ে যাবে এবং তাদের স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হবে। অনুরূপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি স্ত্রীদের বেলায়ও হবে। সহিহ মুসলিম : ২৮৩৩
(১০) জুমার সালাত ত্যাগ করলে অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেয়া হবেঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার ও আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার মিম্বারের সিড়িতে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন-
لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ
যারা জুমুআর সালাত ত্যাগ করে তাদেরকে এ অভ্যাস বর্জন করতে হবে। নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে সীল মেরে দিবেন, অতঃপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। সহিহ মুসলিম : ৮৬৫, সুনানে নাসায়ী : ১৩৭০, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৭৯৪, ১১২৭
৭। জুমআর দিনের কিছু সুন্নাহ সম্মত আমলঃ
(১) জুমআর দিন মিসওয়াক করাঃ
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلاَةٍ.
আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিসওয়াক করার হুকুম করতাম। সহিহ বুখারি : ৮৮৭, ৭২৪০, সহিহ মুসলিম : ২৫
(২) জুমআর দিন গোসল করাঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ.
তোমাদের মধ্যে কেউ জুমু‘আহর সালাতে আসলে সে যেন গোসল করে। সহিহ বুখারি : ৮৭৭, ৮৯৪, ৯১৯, সহিহ মুসলিম : ৮৪৪, ৪৫৫৩
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, ‘‘যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতে আসবে সে যেন গোসল করে। সহিহ বুখারি : ৮৯৪
(৩) জুমআর দিন উত্তম পোশাক পরিধান করাঃ
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমুআহর সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমুআহ থেকে পরবর্তী জুমুআহর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়। সুনানে ইবনে মাজাহ : ১০৯৭
(৪). জুমআর দিন সুগন্ধি ব্যবহার করাঃ
আমর ইবনু সুলাইম আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
الْغُسْلُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ، وَأَنْ يَسْتَنَّ وَأَنْ يَمَسَّ طِيبًا إِنْ وَجَدَ ”. قَالَ عَمْرٌو أَمَّا الْغُسْلُ فَأَشْهَدُ أَنَّهُ وَاجِبٌ، وَأَمَّا الاِسْتِنَانُ وَالطِّيبُ فَاللَّهُ أَعْلَمُ أَوَاجِبٌ هُوَ أَمْ لاَ، وَلَكِنْ هَكَذَا فِي الْحَدِيثِ
জুমআর দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য। আর মিসওয়াক করবে এবং সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। আমর ইবনু সুলায়ম রহ. বলেন, গোসল সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তা ওয়াজিব। কিন্তু মিসওয়াক ও সুগন্ধি ওয়াজিব কিনা তা আল্লাহই ভাল জানেন। তবে হাদীসে এ রকমই আছে। সহিহ বুখারি ৮৮০, সহিহ মুসলিম ৮৪৬
(৫) জুমআর দিন চুলে তেল ব্যবহার করাঃ
(৬) লোকের মাঝে ফাঁক না রেখে বসাঃ
(৭) ইমামের খুৎবার সময় চুপ থাকাঃ
সালমান ফারিসী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন,
لاَ يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَتَطَهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ ثُمَّ يَخْرُجُ، فَلاَ يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ، ثُمَّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ، ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الإِمَامُ، إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى
যে ব্যক্তি জুমু‘আহর দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল হতে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর বের হয় এবং দু’জন লোকের মাঝে ফাঁক না করে, অতঃপর তার নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুৎবা দেয়ার সময় চুপ থাকে, তা হলে তার সে জুমু‘আহ হতে আরেক জুমু‘আহ পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। সহিহ বুখারি : ৮৮৩, ৮৮৪, ৮৮৫, ৯১০
(৮) কারো বসার স্থান হতে উঠিয়ে নিজে সে স্থানে বসা যাবে নাঃ
ইবনু উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقِيمَ الرَّجُلُ أَخَاهُ مِنْ مَقْعَدِهِ وَيَجْلِسَ فِيهِ. قُلْتُ لِنَافِعٍ الْجُمُعَةَ قَالَ الْجُمُعَةَ وَغَيْرَهَ
নবী ﷺ নিষেধ করেছেন, যেন কেউ তার ভাইকে স্বীয় বসার স্থান হতে উঠিয়ে দিয়ে নিজে সে জায়গায় না বসে। ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন, আমি নাফি রহ. কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি শুধু জুমু‘আহর ব্যাপারে? তিনি বললেন, জুমআহ ও অন্যান্য (সালাতের) ব্যাপারেও। সহিহ বুখারি : ৯১১, ৬২৬৯, ৬২৭০
(৯) মিম্বারের উপর দাড়িয়ে খুৎবাহ দেয়া এবং দুই খুৎবার মাঝে বসাঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ “ مَنْ جَاءَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ ”.
আমি নবী ﷺ কে মিম্বারের উপর হতে খুৎবাহ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর সালাতে আসে সে যেন গোসল করে নেয়। সহিহ বুখারি : ৯১৯
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিতেন। অতঃপর বসতেন এবং পুনরায় দাঁড়াতেন। যেমন তোমরা এখন করে থাক। সহিহ বুখারি : ৯২০, সহিহ মুসলিম : ৮৬১
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ দু’খুৎবাহ দিতেন আর দু’ খুৎবাহর মধ্যখানে বসতেন। সহিহ বুখারি : ৯২৮
(১০) জুমার খুতবার সময় হাটির উপর কাপড় জড়িয়ে বসা যাবে নাঃ
সাহল ইবনু মু’আয ইবনু আনাস (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত।
أَنَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْحُبْوَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ
রাসূলুল্লাহ ﷺ জুমু’আহর দিন ইমামের খুত্ববাহ চলাকালে কাউকে হাঁটু উপরে উঠিয়ে কাপড় জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। সনানে আবু দাউদ : ১১১০, সুনানে তিরমিজি : ৫১৪, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১১৩৪
(১১) জুমার খুতবার সময় মসজিদে প্রবেশ করলেও দুই রাকাত সালাত করে বাসঃ
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ ” أَصَلَّيْتَ يَا فُلاَنُ ”. قَالَ لاَ. قَالَ ” قُمْ فَارْكَعْ
কোন এক) জুমার দিন নবী ﷺ লোকদের সামনে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তুমি কি সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, উঠ, সালাত আদায় করে নাও। (সহিহ বুখারি : ৯৩০, ৯৩১, ১১৬৬, সহিহ মুসলিম ৮৭৫)
(১২) খুতবা চলা কালে কাউকে চুপ থাকতেও বলা যাবে নাঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
إِذَا قُلْتَ أَنْصِتْ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
ইমামের খুতবা দেয়ার সময় যদি তুমি কাউকে চুপ থাকতেও বল, তবে তুমি বেহুদা কাজ করলে। সুনানে আবু দাউদ : ১১১২
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ইমামের খুতবাহ দানরত অবস্থায় তুমি যদি তোমার সাথীকে বল, ‘চুপ কর’ তবে তুমি অনৰ্থক কাজ করল। সহিহ মুসলিম : ১৮৫০
(১৩) জুমআর দিন আগে ভাগে মসজিদে যাওয়াঃ
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু‘আহর দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুৎবা দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকাহ যিকর শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে। সহিহ বুখারি : ৮৮১, সহিহ মুসলিম : ৮৫০
(১৪) জুমআর দিনে পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন
আওস ইবনু আওস আস সাকাফী (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করবে এবং (স্ত্রীকেও) গোসল করাবে, প্রত্যুষে ঘুম থেকে জাগবে এবং জাগাবে, জুমুআর জন্য বাহনে চড়ে নয় বরং পায়ে হেঁটে মসজিদে যাবে এবং কোনরূপ অনর্থক কথা না বলে ইমামের নিকটে বসে খুতবা শুনবে, তার (মসজিদে যাওয়ার) প্রতিটি পদক্ষেপ সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সে এক বছর যাবত সিয়াম উদ্যাপন ও রাতভর সালাত আদায়ের (সমান) সাওয়াব পাবে। সুনানে আবু দাউদ : ৩৪৫, সুনানে তিরমিজি : ৪৯৬, সুনানে নাসায়ী : ১৩৮০, ইবনে মাজাহ ১০৮৭)
(১৫) জুমার দিন ও জুমার রাতে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ
শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম দিন হলো জুমুআহর দিন। এ দিন আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং তাতে বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার উপর প্রচুর পরিমাণে দুরূদ পাঠ করো। তোমাদের দুরূদ অবশ্যই আমার নিকট পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! কিভাবে আমাদের দুরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো অচিরেই মাটির সাথে একাকার হয়ে যাবেন? তিনি বলেন, আল্লাহ নবীগণের দেহ ভক্ষণ মাটির জন্য হারাম করেছেন। সুনানে ইবনে মাজাহ : ১০৮৫, সুনানে আবু দাউদ : ১০৪৭, সুনানে নাসায়ী : ১৩৭৩
(১৬) জুমআর দিনে বিশেষ মুহূর্তের জন্ড বেশি বেশি দোয়া করা
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত-
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَأَشَارَ بِيَدِهِ يُقَلِّلُهَا
রাসূলুল্লাহ ﷺ জুমআর দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত। সহিহ বুখারি : ৯৩৫, ৫২৯৪, ৬৪০০, সহিহ মুসলিম : ৮৫২
(১৭) খুতবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা
সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন,
احْضُرُوا الذِّكْرَ وَادْنُوا مِنَ الإِمَامِ فَإِنَّ الرَّجُلَ لَا يَزَالُ يَتَبَاعَدُ حَتَّى يُؤَخَّرَ فِي الْجَنَّةِ وَإِنْ دَخَلَهَا
তোমরা নসীহতের সময় উপস্থিত থাকবে এবং ইমামের নিকটবর্তী হবে। কারণ যে ব্যক্তি সর্বদা (উপদেশ হতে) দূরে থাকে সে জান্নাতবাসী হলে জান্নাতেও বিলম্বে যাবে। সুনানে আবু দাউদ : ১১০৮
(১৮) জুমার দিন সূরা কাহফ তিলওয়াত করাঃ
আবূ সাঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন,
من قَرَأَ سُورَة الْكَهْف فِي يَوْم الْجُمُعَة أَضَاء لَهُ النُّور مَا بَيْنَ الْجُمْعَتَيْنِ
যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ্ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। মিশকাত : ২১৭৫, বাইহাকি, সুনানে কুবরা : ৫৯৯৬, ইরওয়া ৬২৬, সহিহ আল জামি : ৬৪৭০
(১৯) জুমআর সালাতের পর চার রাকাত সুন্নাত সালাতঃ
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ كَانَ مِنْكُمْ مُصَلِّيًا بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَلْيُصَلِّ أَرْبَعًا . وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ” مِنْكُمْ
তোমাদের কেউ যখন জুমুআর সালাত আদায় করে, তখন সে যেন তার পরে চার রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করে। সহিহ মুসলিম : ৮৮১, সুনানে আবু দাউদ ১১৩০