নাজাত প্রাপ্ত দলের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

বর্তমান মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা মতবিরোধ বা ফির্কাবাজি। সমাজের দিকে তাকালে দেখতে পার ইসলামের মুল অনুসারী মুসলিমগণ আজ বিচ্ছিন্ন হয়ে কেন শত শত দল বা ফির্কার বিভক্ত হয়ে আছে। এদের মাঝে সঠিক ও সত্যপন্থী দল খুজে বের করে তাদের অনুসরণ করা ফরজ। কিন্ত বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যদ দল বা ফির্কা সমাজে প্রচলিত আছে তারা সকলেই নিজেদের সঠিক ও সত্যপন্থী দল বলে দাবি করে। কিন্তু সকল দলই সঠিক ও সত্যপন্থী হবে, এমন বিশ্বাস কেউই রাখে না। কাজেই সত্যপন্থী দল আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এই লক্ষে নিন্মের হাদিসগুলো মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করুন। সহিহ হাদিসে এসেছে-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ‏ “‏ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلاَنِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُفَسَّرٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِثْلَ هَذَا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, বনী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উন্মাতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উন্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে দল কোনটি? তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত। সুনানে তিরমিজি : ২৬৪১, মিশকাত : ১৭১, সহীহাহ : ১৩৪৮

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِيْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِيْنَهُ وَيَمِيْنُهُ شَهَادَتَهُ

আমার উম্মাতের সর্বোত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষ (সাহাবীগণ)। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর এমন লোকদের আগমন হবে যাদের কেউ সাক্ষ্য দানের পূর্বে কসম এবং কসমের পূর্বে সাক্ষ্য দান করবে। সহিহ বুখারি : ২৬৫২, ৩৬৫১, ৬৪২৯, ৬৬৫৮, সহিহ মুসলিম : ২৫৩৩

মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত-

عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَزَالُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِيْ ظَاهِرِيْنَ حَتَّى يَأْتِيَهُمْ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ ظَاهِرُوْنَ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে। এমনকি যখন ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) আসবে তখনও তারা বিজয়ী থাকবে। সহিহ বুখারি : ৩৬৪০, ৭৩১১, ৭৪৫৯, সহুহ মুসলিম : ১৯২১

ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের নামযের পর আমাদেরকে মর্মস্পশী ওয়াজ শুনালেন, যাতে (আমাদের) সকলের চোখে পানি এলো এবং অন্তর কেঁপে উঠলো। কোন একজন বলল, এ তো বিদায়ী ব্যক্তির নাসীহাতের মতো। হে আল্লাহর রাসূল! এখন আপনি আমাদেরকে কি উপদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করার এবং (নেতৃআদেশ) শ্রবণ ও মান্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (নেতা) হাবশী ক্রীতদাস হয়ে থাকে। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা বহু বিভেদ-বিসম্বাদ প্রত্যক্ষ করবে। তোমরা নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করা হতে দূরে থাকবে। কেননা তা গুমরাহী। তোমাদের মধ্যে কেউ সে যুগ পেলে সে যেন আমার সুন্নাতে ও সৎপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকে। তোমরা এসব সুন্নাতকে চোয়ালের দাঁতের সাহায্যে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর। সুনানে তিরমিজি ২৬৭৬, সুনানে আবু দাউদ : ৪৬০৭, সুনানে ইবনু মাজাহ : ৪২

এ হাদিসগুলো মূল বক্তব্য একত্রে কলে দাড়ায়-

১. একটি মাত্র দল নাজাত প্রাপ্ত এবং সেই দল হবে নবি (সা.) ও সাহাবীদের অনুসারি।

২. সাহাবীগণ ও তাদের পরে দুই যুগ (তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়ি) হকের উপর তাকবে।

৩. বিভ্রান্তির যুগে খোলাফায়ে রাসেদিনদের কর্মকে মানদণ্ড হিসেবে ধরতে হবে।

৪. উপরের বর্ণিত বৈশিষ্ট্য সম্বলিত দলটি কিয়ামত পর্যন্ত বিজয় থাকবে এবং এটিই সেই নাজাত প্রপ্ত দল।

নাজাতপ্রাপ্ত দলের নাম :

উপরের বর্ণিত হাদিসে একটি দলকে নাজাতপ্রাপ্ত দল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উম্মতের সকলেই সেই দলটির অন্তর্ভুক্ত হতে চাই। সমার মনে প্রশ্ন সেই দলের নাম কি? তাদের বৈশিষ্ট কেমন? কিভাবে আমারা সেই দল চিহিৃত  করে তার অন্তর্ভুক্ত হব। এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুজব। উম্মার মাঝে ব্যপকভাবে প্রচলিত আছে সেই দলটি হলো- আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত (أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ) এ কারণে সবাই নিজেকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত (أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ) এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিচয় প্রদান করতে সাচ্ছন্দ বোধ করে। “আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত” বলতে বোঝায় সেই মুসলিম গোষ্ঠী, যারা কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইসলামের মূল শিক্ষাগুলি অনুসরণ করে এবং সাহাবাদের পথ ও চেতনার অনুসারী। তারা বিভিন্ন বিভাজন ও গোমরাহি থেকে দূরে থেকে উম্মাহর ঐক্য ও সত্যের ধারক।

শব্দের ব্যাখ্যা:

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বাক্যটি চারটি শব্দের নিয়ে গঠিত-

أَهْلُ (আহলু) – “পরিবার” বা “গোষ্ঠী” অর্থে।

السُّنَّةِ (আস্‌-সুন্নাহি) – রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পথ বা শিক্ষা।

وَ (ওয়া) – “এবং” (সংযোগের জন্য ব্যবহৃত)।

الْجَمَاعَةِ (আল-জামাআতি) – “সম্মিলিত দল” বা “সমাজ”। পারিভাষিক অর্থে অনেকে এই জামআত বলেত সাহাবীদের জামাআতকে বুঝিয়েছেন।

এই চারটি শব্দ একত্রে করলে দাড়ায়-

أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ

অর্থ : সুন্নাহ বা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পথে পরিচালিত সেই দল বা গোষ্ঠী, যারা ঐক্যবদ্ধ এবং মূলধারার ইসলামী শিক্ষার অনুসারী। অর্থাৎ, যারা মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করে এবং বিভক্তি বা দলবাজি থেকে বিরত থাকে।

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলো সেই দল, যারা:

(১) কুরআন ও হাদীসের অনুসরণে অটল।

(২) সাহাবা (রাযি.) এবং তাবেয়ীনদের পথকে সঠিক পথ হিসেবে গ্রহণ করে।

(৩) বিভিন্ন বিদআত (ধর্মে নতুন সংযোজন) ও ভ্রান্ত মতবাদ থেকে মুক্ত থাকে।

(৪) মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সত্য ধর্মের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে।

আরবি সংজ্ঞা:

“هُمْ ٱلَّذِينَ يَتَمَسَّكُونَ بِٱلْقُرْآنِ وَٱلسُّنَّةِ بِفَهْمِ ٱلسَّلَفِ ٱلصَّالِحِ، وَيَتَجَنَّبُونَ ٱلْبِدَعَ وَٱلْخِلَافَ، وَيَدْعُونَ إِلَىٰ وَحْدَةِ ٱلْمُسْلِمِينَ تَحْتَ رَايَةِ ٱلْحَقِّ.”

অনুবাদ: তারা হলো সেই গোষ্ঠী, যারা কুরআন ও সুন্নাহকে সালাফে সালেহীন (সাহাবা ও তাদের অনুসারীরা) এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী অনুসরণ করে, বিদআত ও বিভক্তি থেকে দূরে থাকে, এবং সত্যের পতাকাতলে মুসলিমদের ঐক্যের দিকে আহ্বান জানায়।”

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত মানে সেই মুসলিম সম্প্রদায় যারা ইসলামের মূল শিক্ষার প্রতি অটল থেকে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ ও সাহাবাদের ঐতিহ্য ধরে রাখে এবং উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকে।

ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই মূলধারার মুসলিমদের মধ্যে নাজাতপ্রাপ্ত দলটি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত (أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ)  নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এই পরিচিতি ব্যবহারের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে-

১.  আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা’আত-কে “নাজাত প্রাপ্ত দল” বলা হয় কারণ এই দলটি কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ অনুযায়ী তাদের আকিদা ও আমল পরিচালনা করে। এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-

: إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي.

বনি ইসরাইল ৭২টি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে। তাদের মধ্যে সবগুলো দল জাহান্নামে যাবে, শুধুমাত্র একটি দল ব্যতীত। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন: ‘হে আল্লাহর রাসুল! সেই দলটি কারা?’ নি বললেন: ‘যারা আমার এবং আমার সাহাবাদের পথ অনুসরণ করবে।  সুনান তিরমিজি : ২৬৪১

এই হাদিসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নসিহত। এতে বলা হয়েছে, আখিরাতে নাজাত পেতে হলে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবাদের পথ অনুসরণ করেত হবে। বাস্তবেও দেখি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআল এর অনুসারিগন সাহাদের পথকেই নিজেদের পথ হিসেবে গ্রহন করেছেন। বাতিল ফির্কা শিয়া, রাফেজি, খারেজিদের মত সাহাবিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না। এটি একটি প্রামাণ্য ও বিশুদ্ধ পথ হিসেবে স্বীকৃত, যা বিভ্রান্তি ও ভ্রান্ত মতবাদ থেকে দূরে।

২. ইসলামের প্রথম যুগ থেকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত নামে পরিচিত দলটি মূলধারার প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এটি মুসলিম সমাজে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং ঐক্যের প্রতীক।

৩. বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মতবাদ ও ফির্কা ইসলামে রয়েছে, যেমন খারিজি, শিয়া, মুতাজিলা ইত্যাদি। নিজেদের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষ বোঝাতে চায় যে তারা ভ্রান্ত পথের অনুসারী নয়।

৪. “আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত” শব্দটি মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করার একটি মাধ্যম। এটি বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে এবং ইসলামের মূল শিক্ষা ও আকিদার প্রতি আনুগত্যের প্রতীক।

৫. অনেকেই এই পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের ধর্মীয় অবস্থানকে সুদৃঢ় এবং মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে চান। এটি তাঁদের কাছে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিচয়।

৬. তবে, এই পরিচয় ব্যবহার কখনো কখনো ফির্কা সৃষ্টির কাজে লাগান হয়েছে। অনেক সময় মূলধারার মুসলিমগণও বাতিল নতুন ফির্কা সৃষ্টি করে তার নাম দিয়েছে, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। কখনো কখনো এই নামটি রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হয়েছে যা ইসলামের প্রকৃত চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এই পরিচয়ের প্রকৃত অর্থ এবং তা প্রয়োগের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত (أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِবা নাজাতপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য-

মুসলিম বিশ্বে ব্যপকভাবে প্রচলিত নাজাত প্রাপ্ত দলের নাম ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ (أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ)। এ কারণে সকল দল ও মতের মানুষ যখন ফির্কা বা দলের সৃষ্টি করে তখন তারা নিজেদের দলের বা ফির্কার নাম ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ দিয়ে নিজেদের সঠিক বা সত্যপন্থী দল হিসাবে দাবি করে। কোনো কোনো ফির্কা অন্য নাম দিয়ে ফির্কা বা দলের সৃষ্টি করলেও নিজেদের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ অন্তর্ভুক্ত দাবি করে। কেননা, নাজাতপ্রাপ্ত দলে মানেও ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’।

হকপন্থী বা বাতিলপন্থী সকলে হাদিসগুলোর আলোকে নিজেদের ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ দাবি করে। কিন্তু হাদিসের ভবিষ্যৎ বানী বলে দেয় সকলে ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ অন্তভূক্ত থাকবে না। ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ এর যারা অনুসারি হবে তাদের সংখ্যা অন্যদের থেকে কম হবে। কিয়ামতের কঠিন বিপদের সময় মুক্তি পেতে হলে এই নাজাতপ্রাপ্ত সত্যপন্থী দলের মধ্য অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। তাই সঠিক দল নির্বাচন করা খুবই কঠিন। ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ নাম দিলেই সঠিক বা সত্যপন্থীদল হিসবে পরিগনিত হবে না। নাজাতপ্রান্ত বা সত্যপন্থী দল হতে হলে সত্যি কারের ইসলামের অনুসরী হতে হবে। এমন কি ভিন্ন নামের একাধীক দল ও ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ দলের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যদি কিনা তারা কুরআন সুন্নাহর সঠিক অনুসারী হয়। নাম নয় তাদের আমল আখলাক বা বৈশিষ্ট্যের জন্যই তারা ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’  বা নাজাতপ্রাপ্ত দল হয়ে থাকে।

এই নাজাতপ্রাপ্ত সত্যপন্থী ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ এ অন্তর্ভুক্ত  হতে হলে প্রথমেই তাদের পরিচয় বা তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে হবে। তারপর তাদের অনুসারী হবে হবে। সকলে যদি তাদের বৈশিষ্ট্য দেখে অনুসরণ করে, তবে সত্যিকার ইসলামের অনুসারি মুসলীমদের মাঝে একতা সৃষ্টি হবে এবং ফির্কা বা বিভক্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অত্র অধ্যায় ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ দলের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করব, যাতে সহজে ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ বা নাজাত প্রাপ্ত সঠিক দল নির্বাচন করতে সহজ হয়। এখান কুরআন সুন্নাহর আলোকে ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ এর কিছু বৈশিষ্ট উল্লেখ করব, ইহাই তাদের সকল বৈশিষ্ট বলা যাবে না। ইহার বাহিরে আরও বৈশিষ্ট আছে। পরবর্তী অলোচনায় ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ বা নাজাত প্রপ্ত দলের কিছু বৈশিষ্ট তুলে ধরা হল। এক নজরে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

১। বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারী হবে

২। তাওহিদের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধতা থাকবে-

৩। কুরআন ও সহিহ হাদিস সম্মত আকিদা ধারণ করবে

৪। চতুর্থ বৈশিষ্ট্য : কুরআন ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী হবে

ক) কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ

খ) সাহাবীদের সম্মান ও অনুসরণ

গ) তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়িদের অনুসরণ

ঘ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতিত একক কোন ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ করে না-

ঙ) শর্তসাপেক্ষে আমিরের অনুসরণ

৫। ইবাদতের গুরুত্ব প্রদান ও ভারসাম্য রক্ষা করে

৬। গাইরুল্লাহ ইবাদত থেকে নিজেকে দূরে রাখবে

৭। বিদআত মুক্ত আমল করবে

৮।  দ্বীন প্রচার প্রসারের জন্য দাওয়াত ও জিহাদে সতেষ্ট হবে

৯। মাবন রচিত শরীয়ত পরিপন্থী আইন ও বিচারের বিরোধিতা করে

১০। দ্বীন পালনে মধ্যপন্থা অবলম্বন

১১।  জামায়াতবদ্ধ থাকা/ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া।

১১। নিজেদের মুসলিম পরিচয় দিবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *