ইসলামে বিনোদনের মূলনীতি : প্রথম কিস্তি

ইসলামে বিনোদনের মূলনীতি

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

বিনোদন মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় অংশ। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে বিনোদন কোনোভাবেই জীবনের মূল লক্ষ্য নয়। এটি কেবল মন ও দেহের ক্লান্তি দূর করে পুনরায় কল্যাণকর কাজে উৎসাহ জোগানোর একটি মাধ্যম মাত্র। একজন মুসলিমের কাছে বিনোদনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে শরীর ও মনের ভারসাম্য রক্ষা করা। কেবল চিত্তবিনোদনের জন্য সময় অপচয় করা নয়। কেননা, ইসলামে প্রতিটি কাজই তখনই মূল্যবান, যখন তা দ্বীনি বা দুনিয়াবি কোনো উপকার বয়ে আনে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়।

সুতরাং মুসলমানদের উচিত বিনোদনের ক্ষেত্রে এমন সীমারেখা নির্ধারণ করা, যা শরিয়তের আলোকে বৈধ ও উপকারী, যেন কেউ অনিচ্ছায় বা প্রবৃত্তির টানে হারাম ও গর্হিত পর্যায়ে না পৌঁছে যায়। ইসলামী দৃষ্টিতে বিনোদনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে এর উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও ফলাফলের ওপর। যে বিনোদন মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে, পাপাচার, অশ্লীলতা, অপচয়, শিরক বা অন্যায় কাজে লিপ্ত করে, তবে তা কখনো বৈধ হতে পারে না। বরং যে বিনোদন শরীর-মনকে বিশ্রাম দেয়, সমাজে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে, নৈতিক উন্নতি সাধন করে এবং মানুষকে সৎ পথে দৃঢ় রাখে, তা ইসলামের আলোকে প্রশংসনীয়। তাই একজন সচেতন মুসলিমের দায়িত্ব হলো, নিজের বিনোদন যেন সর্বদা হালাল সীমার মধ্যে থাকে এবং তা তাঁর ঈমান, চরিত্র ও কর্মে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এই নীতিই ইসলামী বিনোদনের মূল দর্শন।

কুরআন সুন্নাহ আলোকে বিনোদন হালাল হওয়ার জন্য অনেক নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে। সেখান থেকে প্রধান প্রধান কিছু নীতিমালা পাঠদের সামনে তুল ধরা হলো। এগুলোর প্রতি লক্ষ রেখে বিনোদন করলে আশা করি শরীয়ত বিরোধী হবে না। ইনশাআল্লাহ।

১. বিনোদনের মাঝে শিরক থাকবে না

২. গাইরুল্লাহর সাথে সম্পৃক্ততা তৈরি করবে না

৩ বিদআত থাকবে না।

৪. হারাম কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে

৫. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা থাকবে না

৬. অশ্লীলতা, নগ্নতা ও নৈতিক অবক্ষয় থাকবে না

৭. বিনোদন আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করবে না

৮. প্রয়োজন পরিমাণ বিনোদনের প্রতি লক্ষ রাখা

৯. সময়ের অপচয় ও দায়িত্ব অবহেলার কারণ হবে না

১০. বিনোদমূলক সম্পদ অপচয়ের মাধ্যম হবে না

১১. অন্যের অধিকার লঙ্ঘন বা ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে না

১২. পরনিন্দা, ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও গিবত থেকে মুক্ত থাকতে হবে

১৩. অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি করবে না

১৪. বিনোদনে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যাবে না

১৫. শরীরের বা মনের কোনো ক্ষতি করবে না:

১৬. বিনোদনে কোন প্রকারের জাদুর উপস্থিত থাকবে না

১৭. অমুসলিমদের ধর্মীয় বা সংস্কৃতিগত বিশেষ চিহ্নের অনুকরণ হবে না:

১৮. বিনোদনে দুনিয়া-কেন্দ্রিক আসক্তি সৃষ্টি করা যাবে না

১৯. বিনোদন যেন মুসলিমকে কাফিররাষ্ট্রে যেতে বাধ্য না করে

বিনোদনের মাঝে শিরক থাকবে না

ইসলামে বিনোদনের প্রধান ও মৌলিক শর্ত হলো এর মধ্যে কোনো প্রকার শিরকের উপাদান থাকা চলবে না। শিরক হলো আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ও ক্ষমার অযোগ্য পাপ। কোনো খেলাধুলা, গান, সিনেমা, অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো বিনোদনের মাধ্যমে যদি পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পূজা, ইবাদত, ক্ষমতা বা ঐশ্বরিক গুণাবলীকে মহিমান্বিত করা হয়, তবে তা সম্পূর্ণভাবে হারাম।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

اِنَّ اللّٰہَ لَا یَغۡفِرُ اَنۡ یُّشۡرَکَ بِہٖ وَیَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَمَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰہِ فَقَدِ افۡتَرٰۤی اِثۡمًا عَظِیۡمًا

নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে। সুরা নিসা : ৪৮

আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, কোন্ গুনাহ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য অংশীদার দাঁড় করান। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এতো সত্যিই বড় গুনাহ। আমি বললাম, তারপর কোন্ গুনাহ? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করবে যে, সে তোমার সঙ্গে আহার করবে। আমি আরয করলাম, এরপর কোনটি? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে তোমার ব্যভিচার করা। সহিহ বুখারি : ৪৪৭৭, ৪৭৬১, ৬০০১, ৬৮১১, ৬৮৬১, ৭৫২০, ৭৫৩২, সহিহ মুসলিম : ৮৬০

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকেও শারীক না করে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তার সম্মুখে উপস্থিত হবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে শারীক স্থির করে, তাহলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সহিহ মুসলিম : ৯৩

যে সকল বিনোদনে শিরক হয় তা বুঝার জন্য কয়েকটি উদারহর পেশ করছি ।

১. মুশরিকদের পূজায় অংশগ্রহণ

বিনোদনের নামে বা সামাজিকতার খাতিরেও মুশরিকদের (যারা আল্লাহর সাথে অন্য সত্তাকে শরিক করে) ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা পূজায় অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। একজন মুসলিমের জন্য পূজার স্থানে উপস্থিত থাকা, এমনকি উপাসনায় সরাসরি অংশ না নিলেও, তা পরোক্ষভাবে সেই শিরকি কাজের প্রতি সমর্থন বা সম্মতি জ্ঞাপনের শামিল হতে পারে। বিনোদন বা কৌতূহলের বশেও এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ইসলামী বিশ্বাসের বিশুদ্ধতা ও স্বাতন্ত্র্য নষ্ট করে। একজন মুসলিমকে অবশ্যই তার বিশ্বাস ও পরিচয় রক্ষা করতে হবে এবং শিরকের সকল প্রকার কার্যকলাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

২. যে অনুষ্ঠানে গাইরুল্লাহর নামে পশু যবেহ করা হয় তাতে অংশগ্রহণ

পশু যবেহ (কুরবানি বা জবেহ) একটি ইবাদত, যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁরই নামে সম্পন্ন হতে পারে। যদি কোনো বিনোদনমূলক উৎসব, মেলা বা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো দেব-দেবী, পীর, মাজার বা সত্তার নামে পশু যবেহ করা হয় (গাইরুল্লাহর নামে যবেহ), তবে সেই মাংস খাওয়া যেমন হারাম, তেমনি সেই অনুষ্ঠানে বিনোদনের উদ্দেশ্যে অংশ নেওয়াও হারাম। এই ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা মূলত একটি শিরকি রীতির প্রতি সমর্থন জানানো এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো শ্রেষ্ঠত্ব বা ক্ষমতা স্বীকার করার শামিল। মুসলিমের জন্য তার খাদ্যের উৎস এবং ধর্মীয় আচারের পবিত্রতা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক।

৩. যে গান বা কবিতায় শিরক থাকে তা গাওয়া বা শোনা

গান, কবিতা, নাটক বা অন্য যেকোনো বিনোদনমূলক শিল্পকর্মে যদি শিরকপূর্ণ ভাষা, ধারণা বা বিষয়বস্তু থাকে, তবে তা উপভোগ করা বা প্রচার করা ইসলামে বৈধ নয়। শিরকপূর্ণ কথা বলতে বোঝায়: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া, অন্য সত্তাকে সৃষ্টিকর্তা বা ভাগ্যনিয়ন্ত্রক হিসেবে উপস্থাপন করা, বা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার গুণগান করা। এই ধরনের গান বা কবিতা শোনা বা গাওয়া মানুষের আকিদা বা বিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ধীরে ধীরে তাদের মনকে শিরকের দিকে ধাবিত করতে পারে। একজন মুসলিমের বিনোদনমূলক উপাদান অবশ্যই তাওহীদ-ভিত্তিক এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে, যাতে মনের শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি ব্যাহত না হয়।

৪. জ্যোতিষশাস্ত্রভিত্তিক খেলা বা ভাগ্যগণনা বিনোদন:

এমন কোনো খেলাধুলা, বাজি বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান যেখানে রাশিচক্র, ভাগ্যগণনা বা ভবিষ্যৎ বলার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসলামে বিশ্বাস করা হয় যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ ভবিষ্যতের জ্ঞান রাখে না এবং ভাগ্যগণনাকারীদের ওপর আস্থা রাখা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, কোনো খেলা বা প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য রাশিফল দেখে দিনক্ষণ নির্ধারণ করা বা জ্যোতিষীর পরামর্শ মেনে চলা।

৫. আদর্শিক শিরকযুক্ত কাল্পনিক বা পৌরাণিক কাহিনীর প্রতি আসক্তি:

এমন ভিডিও গেম, চলচ্চিত্র বা কমিকস দেখা ও তাতে মগ্ন হওয়া, যেখানে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো কাল্পনিক সত্তা বা দেবতাকে অসীম ক্ষমতার অধিকারী বা স্রষ্টার আসনে বসানো হয় এবং বিনোদনের মাধ্যমে সেই শক্তির প্রতি পরোক্ষভাবে ভক্তি বা প্রশংসা তৈরি হয়। বিনোদনের ছলে এই ধরনের পৌরাণিক বা ফ্যান্টাসি জগতের “দেবতা”দেরকে মহিমান্বিত করা মানসিক ও আদর্শিক শিরকের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

৬. মাজার বা পীর-কেন্দ্রিক বিনোদনমূলক মেলা বা উৎসব:

এমন কোনো লোকজ মেলা বা উৎসব যা কোনো পীর, মাজার বা সমাধিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় এবং যেখানে আল্লাহর কাছে না চেয়ে ওই পীর বা মৃত ব্যক্তির কাছে মান্নত করা, চাওয়া বা তার নামে উৎসর্গ করার মতো কার্যকলাপ বিনোদনের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেওয়া বা উপভোগ করা শিরকি কার্যক্রমে সমর্থন ও অংশগ্রহণ হিসাবে গণ্য হতে পারে।

৭. শরিয়তবিরোধী প্রতীকের মাধ্যমে শিরকি বিশ্বাস প্রকাশ:

খেলাধুলা বা বিনোদনের সময় এমন কোনো পোশাক, টটু (Tattoo) বা প্রতীক ব্যবহার করা যা কোনো বিশেষ শিরকি মতবাদ বা দেব-দেবীকে প্রকাশ করে বা তাদের প্রতি আনুগত্য বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো অমুসলিম ধর্মীয় দেবতার প্রতীক ব্যবহার করা বা কোনো শিরকি আচারের বিশেষ পোশাক পরিধান করে সেটিকে বিনোদনমূলকভাবে প্রদর্শন করা।

৮. শিরকি স্লোগান বা গান গেয়ে আনন্দ প্রকাশ: কোনো খেলা বা দলীয় বিনোদনের সময় এমন স্লোগান বা বিজয়সূচক গান গাওয়া, যেখানে আল্লাহর নামের পরিবর্তে কোনো মানুষ, প্রতীক বা কাল্পনিক সত্তার কাছে সাহায্য চাওয়া হয়, বা তাদেরকে এমন গুণে গুণান্বিত করা হয় যা কেবল আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য। যেমন—‘অমুকই আমাদের রক্ষাকর্তা’, বা ‘অমুক না থাকলে আমরা জয় পেতাম না’ বলে তাঁকে অতিমাত্রায় ক্ষমতাবান হিসেবে উপস্থাপন করা।

একজন মুসলিমের জন্য বিনোদন হতে হবে তাওহীদ বা একত্ববাদের নীতির সাথে সংগতিপূর্ণ। বিনোদনের সামগ্রিক পরিবেশ, উদ্দেশ্য এবং ফলাফল অবশ্যই আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও একত্বকে সমুন্নত রাখবে। এর অর্থ হলো, বিনোদনের উপাদান নির্বাচনে খুব সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সামান্যতম শিরকি ধারণা বা প্রথাও সমাজে বা মনের গভীরে স্থান না পায়।  এই নীতিটি কেবল বিনোদন নয়, বরং মুসলিম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরিহার্য। তাই একজন বিশ্বাসী সর্বদা নিশ্চিত করবে যে তার বিনোদনমূলক কার্যক্রমে আল্লাহর একত্বের প্রতি তার বিশ্বাস বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ না হয়। এই সতর্কতাই ইসলামী বিনোদনের ভিত্তি।

বিনোদন গাইরুল্লাহর সাথে সম্পৃক্ততা তৈরি করবে না

ইসলামী বিনোদন এমন কোনো কার্যকলাপের সাথে সম্পৃক্ততা তৈরি করবে না, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বা কিছুর প্রতি আনুগত্য বা নির্ভরতা প্রকাশ করে। ‘গাইরুল্লাহ’ বলতে আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুকেই বোঝানো হয়। এই নীতিটি শিরক না থাকার নীতিরই একটি সম্প্রসারিত রূপ। বিনোদনের মাধ্যমে যদি এমন কোনো গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা আদর্শের প্রতি মানসিক বা আবেগী ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় যা ইসলামের মৌলিক আকিদা ও মূল্যবোধের পরিপন্থী, তবে সেই বিনোদন বর্জন করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

قُلْ یٰۤاَیُّهَا الْکٰفِرُوْنَ ۙ﴿۱﴾لَاۤ  اَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ ۙ﴿۲﴾ وَ لَاۤ  اَنْتُمْ عٰبِدُوْنَ مَاۤ  اَعْبُدُ ۚ﴿۳﴾

বলুন, ‘হে কাফেরগণ! তোমরা যার ‘ইবাদাত কর আমি তার ‘ইবাদাত করি না’। এবং আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও’। সূরা কাফিরুন :১–৩

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, আমি শারীকদের শির্ক হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। যদি কোন লোক কোন কাজ করে এবং এতে আমি ছাড়া অপর কাউকে শারীক করে, তবে আমি তাকে ও তার শিরকী কাজকে প্রত্যাখ্যান করি। সহিহ মুসলিম : ২৯৮৫

বিনোদনের মাধ্যমে গাইরুল্লাহর সাথে সম্পৃক্ততা তৈরি করে এমন কয়েকটির উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

১. নির্দিষ্ট কাল্ট বা গোষ্ঠীর প্রতীকী পোশাক পরিধান:

এমন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বা খেলাধুলা করা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা এমন কোনো আন্তর্জাতিক কাল্ট বা অমুসলিম গোষ্ঠীর পোশাক বা প্রতীক (যেমন: কোনো ধর্মবিরোধী গোপন সংগঠনের চিহ্ন বা পোশাক) পরিধান করে, যারা স্পষ্টতই ইসলামী আদর্শের বিপরীত মতাদর্শ প্রচার করে। এই পোশাক পরিধানের মাধ্যমে বিনোদনের ছলে তাদের প্রতি আনুগত্য বা সম্পৃক্ততা তৈরি হয়।

২. আদর্শিক গাইরুল্লাহর প্রতি অতিভক্তি প্রকাশ:

এমন চলচ্চিত্র, নাটক বা সংগীতানুষ্ঠান তৈরি বা উপভোগ করা, যেখানে কোনো বিশেষ অ-ইসলামী রাজনৈতিক নেতা, দল বা মতাদর্শকে এমনভাবে মহিমান্বিত করা হয় যেন তারা ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে এবং তাদের আদেশ-নিষেধ আল্লাহর আদেশের সমতুল্য। বিনোদনের মাধ্যমে এই ধরনের ব্যক্তিত্বের প্রতি অন্ধভক্তি ও গাইরুল্লাহর আনুগত্য সৃষ্টি হতে পারে।

৩. অতিমানবীয় শক্তির প্রতি বিশ্বাস রেখে খেলা:

ভিডিও গেম বা ফ্যান্টাসি গেম খেলা, যেখানে খেলার জয়ের জন্য বা কোনো বিশেষ ক্ষমতা অর্জনের জন্য এমন অতিমানবীয় সত্তার শক্তি, মন্ত্র বা টোটকার ওপর নির্ভর করা হয় যা ইসলামি বিশ্বাসে কুফুরি বা শিরকের আওতায় পড়ে। বিনোদনের মাধ্যমে সেই কাল্পনিক শক্তির প্রতি মনের অজান্তে বিশ্বাস তৈরি হওয়া।

৪. সেক্যুলার বা ভোগবাদী জীবনধারাকে আদর্শ হিসেবে দেখানো:

এমন বিনোদনমূলক মিডিয়া বা কন্টেন্ট উপভোগ করা যা লাগামহীন সেক্যুলার জীবনধারা, অবৈধ প্রেম, সীমাহীন বস্তুবাদিতা এবং চরম ভোগবাদকে জীবনের চূড়ান্ত সফলতা বা আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এই বিনোদন মুসলিমকে তার সরল ইসলামী জীবনধারা থেকে সরিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে দুনিয়ামুখী গাইরুল্লাহর আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে।

৫. গাইরুল্লাহর নামে শপথ বা অঙ্গীকারভিত্তিক বিনোদন:

দলীয় খেলা বা বিনোদনমূলক আড্ডায় এমন কোনো শপথ বা অঙ্গীকার করা, যেখানে আল্লাহর নামের পরিবর্তে কোনো মানুষ, দেশ, আদর্শ বা অন্য কিছুর নামে অঙ্গীকার করা হয় বা “তাদের মাথায় হাত রেখে” কসম খাওয়া হয়। যদিও এটি খেলার অংশ হতে পারে, কিন্তু বিনোদনের ছলে গাইরুল্লাহর নামে শপথ করা ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং শিরকের কাছাকাছি।

এমন কোনো সাংস্কৃতিক বা শৈল্পিক প্রকাশ যা ইসলামবিরোধী মতাদর্শ বা জীবনধারাকে মহিমান্বিত করে বা সেগুলোর প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে, তা বৈধ হতে পারে না। একজন মুসলিমের হৃদয় ও আনুগত্য কেবল আল্লাহর জন্যই নিবেদিত থাকবে। বিনোদনকে সেই আনুগত্যকে দুর্বল করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বরং, বিনোদন এমন হওয়া উচিত যা আল্লাহর আনুগত্যকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করে। এই নীতির মাধ্যমে মুসলিমদের সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। তারা যেন বিনোদনের ছলে অন্য কোনো ধর্মীয় বা সেক্যুলার মতবাদের ফাঁদে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে একজন মুসলিম তার আত্মপরিচয় ও বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করতে সক্ষম হয়।

বিনোদনে বিদআত থাকবে না

বিনোদনের ক্ষেত্রে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো এর মধ্যে কোনো প্রকার বিদআত বা ধর্মে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ের উপস্থিতি থাকবে না। বিদআত হলো দ্বীনের নামে এমন কোনো কাজ বা পদ্ধতি প্রচলন করা যার সপক্ষে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহতে কোনো ভিত্তি নেই। বিনোদন যদি ধর্মীয় উৎসব বা ইবাদতের অংশ বলে ভুলভাবে বিবেচিত হয় এবং সেই বিনোদনে এমন সব রীতিনীতি যুক্ত করা হয় যা শরিয়ত দ্বারা অনুমোদিত নয়, তবে তা স্পষ্টতই বর্জনীয়।

বিনোদনে বিদআত থাকবে না। আল্লাহ তায়ারা বলেন-

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الظّٰلِمُوۡنَ

আর তার চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহর উপর মিথ্যা রটনা করে অথবা তার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে? নিশ্চয়ই যালিমরা সফলকাম হয় না। সূরা আনআম : ২১

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী বলেছেন-

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ

‘কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত। সহিহ বুখারি : ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম : ১৭১৮, আহমাদ : ২৬০৯২

আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসুদ (রা.) হতে বর্ণিত। নবী বলেছেন, সর্বোত্তম কালাম হল আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথ নির্দেশনা হল মুহাম্মাদ -এর পথ নির্দেশনা। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল নতুনভাবে উদ্ভাবিত পন্থাসমূহ। ’’তোমাদের কাছে যার ওয়াদা দেয়া হচ্ছে তা ঘটবেই, তোমরা ব্যর্থ করতে পারবে না’’- সূরা আনআম : ১৩৪। সহিহ বুখারি : ৭২৭৭

বিদআতি উৎসব বা আনন্দ-আয়োজনের উদাহরণ :

নিচি কয়েকটি বিদআত উৎসব বা আনন্দ-আয়োজনের উদারহন দিলাম এগুলো অবশ্য বিনোদনের নিয়তে করে না, এগুলো বিদআতিরা ইবাদতের নিয়তে করে। যেহেতু উৎসব বা আনন্দ-তাই এগুলো বিনোদনের উদাহরণ সরূপ তুল ধরলাম। নিচে এই অনুষ্ঠানগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো যে কেন এগুলোকে বিদআতি অনুষ্ঠান বলা হয় এবং এর সাথে বিনোদনের সম্পর্ক কী:

১. ঈদে মীলাদুন্নবী বা নবী (ﷺ) এর জন্ম উৎসব

ঈদে মীলাদুন্নবী হলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে আয়োজিত একটি উৎসব। এই দিনে সাধারণত আনন্দ মিছিল, ধর্মীয় সভা, মিলাদ মাহফিল, এবং বিভিন্ন ধরনের খানাপিনার আয়োজন করা হয়।

যে কারণে বিদআত বলা হয় : ইসলামের সহীহ বা বিশুদ্ধ সূত্র অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (ﷺ), সাহাবায়ে কিরাম (রা.) বা তাবেঈনদের সময়কালে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক উৎসব বা দিবস উদযাপন করার প্রমাণ নেই। এটি পরবর্তীকালে দীনের অংশ হিসেবে আবিষ্কৃত হয়েছে। এই উদযাপনের সাথে যুক্ত আনন্দ-আয়োজনের প্রকৃতি অনেক সময়ই ইসলামী উৎসবের সীমানা অতিক্রম করে।

২. লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত উপলক্ষে বিভিন্ন আনন্দ আয়োজন

লাইলাতুল বরাত বলতে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে বোঝানো হয়। এই রাতে অনেকে হালুয়া-রুটি বিতরণ, মসজিদে বা বাড়িতে বিশেষ ধরনের জামাতবদ্ধ ইবাদত, কবর জিয়ারত এবং আলোকসজ্জার মতো আনন্দমূলক বা উৎসবের মতো আয়োজন করে থাকে।

যে কারণে বিদআত বলা হয় : যদিও শাবান মাসের গুরুত্ব সম্পর্কিত কিছু দুর্বল হাদিস রয়েছে, তবে এই রাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো উৎসব বা সম্মিলিত আনন্দ-উৎসবের আয়োজন করা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। সম্মিলিত ইবাদত, হালুয়া-রুটি বিতরণ এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করাকে দীনের অংশ হিসেবে গণ্য করা বিদআত।

৩. শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ উদযাপন করা

শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ হলো সেই রাত, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করেছিলেন। রজব মাসের ২৭ তারিখে এই ঘটনাকে স্মরণ করে অনেক মুসলিম বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা, ওয়াজ মাহফিল এবং ইবাদতের নামে বিশেষ আনন্দ-উৎসবের মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

যে কারণে বিদআত বলা হয় : রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিরাজের ঘটনাটি সত্য হলেও, এই দিন বা রাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা বা এই উপলক্ষে বিশেষ ইবাদতের বিধান শরিয়তে নেই। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) বা প্রথম প্রজন্মের মুসলিমরা কখনোই এই দিবসটিকে উৎসবের মতো পালন করেননি। এটিকে উদযাপন করা এবং এর সাথে বিশেষ আনন্দ-আয়োজনের সম্পর্ক স্থাপন করা বিদআত হিসেবে বিবেচিত।

৪. আশুরা দিবস উদযাপন করা

আশুরা হলো মুহাররম মাসের দশম দিন। ইসলামে এই দিনে নফল রোজা রাখার বিধান রয়েছে। তবে অনেকে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশেষ শোক মিছিল, মাতম, তা’জিয়া (প্রতীকী সমাধির মডেল) তৈরি, এবং বিভিন্ন লোকনৃত্য বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, বিশেষ করে কারবালার ঘটনার স্মরণে।

যে কারণে বিদআত বলা হয়: আশুরার দিনটি ইবাদতের দিন (রোজা রাখা সুন্নাত), উৎসব বা শোক প্রকাশের দিন নয়। এই দিনে শোকের নামে বাড়াবাড়ি করা, মাতম করা, বা বিশেষ আনন্দ-বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান করা –যা ইসলামের শিক্ষাবিরোধী এবং যা পূর্ববর্তী মুসলিমদের মধ্যে ছিল না, তা বিদআত। এর সাথে যুক্ত বিনোদন বা শোক-মিছিলগুলো বিদআতি কার্যক্রমের অংশ।

৫. বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা

মিলাদ মাহফিল হলো বিশেষ কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক দিবস (যেমন: কারো মৃত্যুবার্ষিকী, নতুন ঘর উদ্বোধন, বা অন্য কোনো বিশেষ উপলক্ষ) উপলক্ষে সম্মিলিতভাবে রাসূল (ﷺ)-এর প্রশংসা বা জন্ম সম্পর্কিত বর্ণনা পাঠ করা এবং শেষে সম্মিলিত মুনাজাত ও খানাপিনার আয়োজন করা।

যে কারণে বিদআত বলা হয়: মিলাদ মাহফিলের সম্মিলিত ও নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং এই উপলক্ষে আয়োজিত আচার-অনুষ্ঠানগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বা সাহাবায়ে কিরামের (রা.) যুগে প্রচলিত ছিল না। রাসূল (ﷺ)-এর ওপর দরূদ পাঠ করা একটি উত্তম ইবাদত, কিন্তু এটিকে কোনো নির্দিষ্ট দিনে বা বিশেষ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকতার সাথে সম্মিলিত ইবাদত বা বিনোদনের মতো করে পালন করাকে অনেক আলেম বিদআত বলে গণ্য করেন।

৬. মৃত্যুবার্ষিকী পালন

কারো মৃত্যুর দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর নির্দিষ্ট তারিখে কুলখানি, চল্লিশা, মিলাদ মাহফিল, বিশেষ দোয়া-দরুদ বা খানাপিনার আয়োজন করা। এই দিনে বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা বা কুরআন খতমের মতো অনুষ্ঠান করা হয়।

যে কারণে বিদআত বলা হয় : ইসলামে মৃত ব্যক্তির জন্য যেকোনো সময় দোয়া করা বৈধ, কিন্তু মৃত্যুর দিনটিকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা পালন করার কোনো বিধান কুরআন বা সহীহ সুন্নাহতে নেই।

৭. জন্মদিন পালন

নিজের, সন্তানের বা অন্য কারো জন্ম তারিখ উপলক্ষে মোমবাতি জ্বালানো, কেক কাটা, দাওয়াত দেওয়া, গান-বাজনা করা এবং উপহার বিনিময় করার মাধ্যমে আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা।

যে কারণে বিদআত বলা হয় : ইসলামে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ছাড়া অন্য কোনো দিনকে উৎসব বা আনন্দের দিন হিসেবে পালনের অনুমতি নেই। জন্মদিন পালনের প্রথাটি মূলত অমুসলিম সংস্কৃতি থেকে আগত। এই উদযাপনকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উৎসাহিত করার কোনো প্রমাণ রাসূল (ﷺ) বা সাহাবায়ে কিরামের (রা.) জীবনীতে পাওয়া যায় না। এটি সময়ের অপচয়, অতিরিক্ত খরচ এবং অন্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণের কারণ হওয়ায় এটিকে বিদআত হিসেবে গণ্য করা হয়।

৮. বিবাহবার্ষিকী পালন

বিবাহ বন্ধনের দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর স্বামী-স্ত্রী বা পরিবার-পরিজন মিলে বিশেষ ভোজের আয়োজন করা, উপহার আদান-প্রদান করা, বিশেষ পোশাকে সজ্জিত হওয়া এবং আনন্দ প্রকাশ করা।

যে কারণে বিদআত বলা হয় : জন্মদিনের মতোই, বিবাহবার্ষিকী পালনও ইসলামী শরিয়তের উৎসবের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। বিয়ে একটি সুন্নাহসম্মত চুক্তি এবং এর বরকত কামনা করা হয়, কিন্তু প্রতি বছর নির্দিষ্ট দিনে উৎসবের নামে বাধ্যতামূলক বা আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন করা ইসলামে অপ্রচলিত। এই ধরনের অনুষ্ঠান করা অমুসলিম সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত এবং এটি বিবাহকে স্মরণ করার জন্য দীনের অংশ হিসেবে একটি নতুন রীতি তৈরি করার শামিল, যা বিদআত। দাম্পত্য জীবনের সফলতা ও ভালোবাসার জন্য যেকোনো দিন দোয়া করা বা হালাল উপায়ে আনন্দ করা বৈধ, কিন্তু এটিকে বার্ষিক উৎসবের রূপ দেওয়া বৈধ নয়।

৯. খেলাধুলা যেখানে হালাল হারাম মিশ্রন ঘটে তা কুরআন তিলওয়াত দ্বারা শুরু করা

হালাল হারামি মিশ্রন ঘটে তা এমন কাজের শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত দ্বারা শুরু করা বৈধ নয়, বরং এটি একটি গর্হিত কাজ। যে কোনো খেলাধুলা বা বিনোদনমূলক কার্যক্রমে যদি সুস্পষ্টভাবে হারাম বা শরিয়তবিরোধী কার্যকলাপের মিশ্রণ থাকে (জুয়া, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অশ্লীলতা, বা ফরজ ইবাদত বর্জন), তবে সেই কাজ বা অনুষ্ঠান শুরু করার আগে কুরআন তিলাওয়াত করা একটি মারাত্মক ভুল কাজ।

যে কারণে এটি অগ্রহণযোগ্য:

১. পবিত্রতা ও অপবিত্রতার মিশ্রণ: কুরআন তিলাওয়াত হলো এক মহৎ ইবাদত এবং আল্লাহর কালাম। এর উদ্দেশ্য হলো বরকত ও হেদায়েত লাভ করা। অন্যদিকে, হারাম কাজ হলো স্পষ্ট পাপ। হারাম কাজকে কুরআন তিলাওয়াত দ্বারা শুরু করা মূলত পবিত্রতার সাথে অপবিত্রতার মিশ্রণ ঘটানো। এটি কুরআনকে অসম্মান করার শামিল, কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহর কালামকে একটি হারাম কাজের সূচনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কোনো হারাম কাজ বৈধ হয়ে যায় না। বরং এটি এমন একটি ধারণা সৃষ্টি করে যে, “যেহেতু কুরআন পড়া হয়েছে, তাই এই হারাম কাজটিতে হয়তো আল্লাহর অনুমোদন আছে।” এই কাজটি পাপকে ধর্মীয় মোড়ক দিয়ে বৈধতা দেওয়ার একটি অপচেষ্টা মাত্র, যা মানুষকে দ্বীন সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে।

হারাম কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে

ইসলামী বিনোদনের একটি আবশ্যিক শর্ত হলো, এটি কোনোভাবেই শরিয়ত কর্তৃক সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ কোনো কাজের সাথে যুক্ত থাকবে না।

হারাম কাজের কুফল সম্পর্কে আল্লাহ তায়াল বলন-

وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَکُمۡ مِّنۡ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُکُمۡ وَاِیَّاہُمۡ ۚ وَلَا تَقۡرَبُوا الۡفَوَاحِشَ مَا ظَہَرَ مِنۡہَا وَمَا بَطَنَ ۚ وَلَا تَقۡتُلُوا النَّفۡسَ الَّتِیۡ حَرَّمَ اللّٰہُ اِلَّا بِالۡحَقِّ ؕ ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ

আর অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হবে না- তা থেকে যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে। আর বৈধ কারণ ছাড়া তোমরা সেই প্রাণকে হত্যা করো না, আল্লাহ যা হারাম করেছেন। এগুলো আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার। সূরা আন‘আম : ১৫১

আবার আল্লাহ বলেন—

وَمَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَیَتَعَدَّ حُدُوۡدَہٗ یُدۡخِلۡہُ نَارًا خَالِدًا فِیۡہَا ۪  وَلَہٗ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ 

আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব। সূরা নিসা : ১৪

আল-হারিস আল-আশআরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

إِذَا ظَهَرَتِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ عَمِلُوا بِهَا، لَمْ يَبْقَ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ إِلَّا الْمَوْتُ

যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (হারাম কাজ) প্রকাশ পায় এবং তারা তা করতে থাকে, তখন আল্লাহ তাদের উপর মৃত্যুকে (ধ্বংস ও শাস্তিকে) অবধারিত করে দেন। মুসনাদ আহমদ: ২৫২৪১, সহিহুল জামে ৭৯৫৭ আলবানী হাদিসটি সহিহ বলেছেন।

যে সকল বিনোদনের সাথে হামার কাজ সম্পৃক্ত থাকে এমন কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো-

১. পরনিন্দা বা গীবতভিত্তিক আড্ডা ও হাসিতামাশা

বিনোদনমূলক আড্ডা বা গল্পের ছলে অন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দোষ চর্চা করা, ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বা গীবত করা। আড্ডা দেওয়া বা গল্প করা হালাল হলেও, তার সঙ্গে অন্যের সম্মানহানির মতো হারাম কাজ যুক্ত হওয়ায় পুরো বিনোদনটিই পাপের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

২. শরীরের ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে খেলাধুলা (যেমন: অতিমাত্রার মারামারি খেলা)

বিনোদনের নামে এমন খেলাধুলা করা যা নিজের শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে (যেমন: অতিরিক্ত সহিংস বা জীবন বিপন্নকারী স্টান্ট বা খেলা)। ইসলামে নিজের ক্ষতি করা (আত্ম-ক্ষতি) হারাম, তাই যে বিনোদনে এই হারাম কাজটি অনিবার্য, তা বৈধ নয়।

৩. মাদক বা নেশাজাতীয় পানীয়সহ পিকনিক বা পার্টি

প্রকৃতি উপভোগ করা বা সামাজিক পিকনিক করা হালাল, কিন্তু সেই আয়োজনে মাদকদ্রব্য, অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় পানীয়ের ব্যবস্থা করা, যা গ্রহণ করা স্পষ্ট হারাম। এখানে বিনোদনের সাথে হারাম বস্তু সেবনের কাজটি সরাসরি যুক্ত।

৪. গান-বাজনার আসরে অবৈধ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার

গজল, হামদ বা নাতে রাসূলের মতো ইসলামিক গান শোনা বা গাওয়া হালাল হতে পারে (যদি তার কথা অশ্লীল না হয়)। কিন্তু যদি সেই গানে শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ বাদ্যযন্ত্র (যেমন: গিটার, ড্রামস, বা বেশিরভাগ আধুনিক বাদ্যযন্ত্র) ব্যবহার করা হয়, তবে তা হারাম কাজের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পুরো বিনোদনটি অবৈধ হয়ে যায়।

৫. অন্যের সম্পদ বা অধিকার লঙ্ঘন করে শিকার বা ভ্রমণ

আনন্দ বা বিনোদনের জন্য শিকার করা বা ভ্রমণ করা হালাল। কিন্তু যদি এই বিনোদনের মাধ্যমে অন্যের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা (Trespassing), শিকার নিষিদ্ধ প্রাণীর শিকার করা বা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়, তবে তা হারাম।

৫. হারাম বস্তু ব্যবহার করে খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতা

কোনো খেলার উপকরণ হিসেবে বা বিজয়ী পুরষ্কার হিসেবে মাদকদ্রব্য, অ্যালকোহল, বা হারাম সম্পদ ব্যবহার করা। যেমন: মাদক সেবনের প্রতিযোগিতা বা পুরস্কার হিসেবে মদের বোতল দেওয়া। এখানে প্রতিযোগিতা বা খেলাধুলা (যদি শারীরিক ক্ষতির কারণ না হয়) হালাল হলেও, হারাম বস্তুর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা এটিকে হারাম করে তোলে।

৬. জুয়া বা বাজিভিত্তিক খেলাধুলা

খেলাধুলার মতো বৈধ বিনোদনকে অবৈধ বা হারাম উপায়ে (জুয়া বা বাজি ধরে) উপভোগ করা। এখানে খেলা দেখা বা খেলায় অংশ নেওয়াটা বাহ্যত হালাল হলেও, তার সঙ্গে জুয়া খেলার মতো স্পষ্ট হারাম কাজ যুক্ত হওয়ায় পুরো বিনোদনটিই হারাম হয়ে যায়।

৭. অশ্লীল মিউজিক কনসার্ট বা নাইট ক্লাবে যাওয়া

এখানে মূল বিনোদন হলো গান শোনা, নাচ দেখা বা সামাজিকীকরণ। কিন্তু এই পরিবেশগুলোতে সাধারণত অবাধ নারী-পুরুষের মেলামেশা, মাদকদ্রব্য ও অ্যালকোহলের ব্যবহার, এবং অশ্লীল পোশাক ও নৃত্য থাকে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে হারাম। এই বিনোদন উপভোগের জন্য হারাম কাজগুলোও করা লাগে বা দেখা লাগে।

৮. অশ্লীল বা নগ্নতাযুক্ত চলচ্চিত্র বা সিরিজ দেখা

চলচ্চিত্র দেখা বা নাটক উপভোগ করা এক প্রকার বিনোদন। কিন্তু যদি সেই চলচ্চিত্র বা সিরিজের মূল উপাদানে নগ্নতা, যৌনতা, বা অশ্লীল দৃশ্যের মতো হারাম উপাদান থাকে, তবে সেই বিনোদনটিই হারাম। এই ক্ষেত্রে, বিনোদন পাওয়ার জন্য হারাম দৃশ্যগুলো দেখতে হয়।

৯. নারী-পুরুষের মিশ্রণে অনৈসলামিক ফ্যাশন শো বা ডিস্কো পার্টি

এটিও এক প্রকার বিনোদন, যেখানে পোশাক ও ফ্যাশন প্রদর্শন বা নাচ-গান মুখ্য। কিন্তু এখানে পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে নারী-পুরুষের অবাধ ও ঘনিষ্ঠ মেলামেশা (ইখতিলাত) ঘটে এবং উত্তেজক নাচ-গান ও শালীনতা বিবর্জিত পোশাক প্রদর্শন করা হয়। এই মেলামেশা এবং অশ্লীলতা বিনোদনের একটি আবশ্যিক অংশ হওয়ায় পুরো বিনোদনটি হারাম।

১০. হারাম বস্তু ব্যবহার করে খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতা

কোনো খেলার উপকরণ হিসেবে বা বিজয়ী পুরষ্কার হিসেবে মাদকদ্রব্য, অ্যালকোহল, বা হারাম সম্পদ ব্যবহার করা। যেমন: মাদক সেবনের প্রতিযোগিতা বা পুরস্কার হিসেবে মদের বোতল দেওয়া। এখানে প্রতিযোগিতা বা খেলাধুলা (যদি শারীরিক ক্ষতির কারণ না হয়) হালাল হলেও, হারাম বস্তুর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা এটিকে হারাম করে তোলে।

নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা থাকবে না

ইসলামী নীতিমালায় নারী-পুরুষের মেলামেশার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে, যা বিনোদনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। বিনোদনমূলক পরিবেশে নারী-পুরুষের অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশা বা ইখতিলাত সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কে শালীনতা বজায় রাখতে এবং ফিতনা বা চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দেয়। তাই, খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান, ভ্রমণ বা অন্য যেকোনো বিনোদনে এমন পরিবেশ তৈরি করা যাবে না যেখানে গায়রে মাহরাম (যাদের সাথে শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ বন্ধন বৈধ) নারী-পুরুষের মধ্যে পর্দার বিধান লঙ্ঘিত হয় বা চারিত্রিক দুর্বলতা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়। বিনোদনের স্থান ও সময় এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যাতে নারীরা তাদের শালীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে উপভোগ করতে পারে এবং পুরুষরাও তাদের দৃষ্টি ও আচরণে সংযত থাকতে পারে। যদি কোনো পারিবারিক বা দলীয় বিনোদনে নারী-পুরুষের উপস্থিতি অপরিহার্য হয়, তবে তাদের মধ্যে অবশ্যই শরিয়তের পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা পরিহার করতে হবে। এই নীতিটি মুসলিম সমাজে নৈতিক পবিত্রতা ও পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং ফিতনার সকল পথ রুদ্ধ করে।

পর্দা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, যা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশায় লংঘিত হয়। বিশেষত যখন কোন বিনোদন বা খেলাধুলার অনুষ্ঠানে একত্র অংশ গ্রহন করে। কুরআন ও হাদিসে পর্দার গুরুত্ব বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হারাম করে দিয়েছে। কেনান পর্দা ফরজ বিধান অবহেরা করা যাবে না। এ বিধান সুন্দর সমাজ গড়ার চমৎকার ব্যবস্থাপনা। বিধান যে বিনোদনে রক্ষা করা সম্ভব নয়, সে বিনোদন করা জায়েয নাই। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেন-

وَ اِذَا سَاَلۡتُمُوۡہُنَّ مَتَاعًا فَسۡـَٔلُوۡہُنَّ مِنۡ وَّرَآءِ  حِجَابٍ ؕ ذٰلِکُمۡ  اَطۡہَرُ  لِقُلُوۡبِکُمۡ  وَ قُلُوۡبِہِنّ

 তোমরা তাদের (নারীদের) নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এটা তোমাদের এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। সুরা আহজাব : ৫৩

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَ قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ یَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِہِنَّ وَ یَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَہُنَّ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ  زِیۡنَتَہُنَّ  اِلَّا مَا ظَہَرَ  مِنۡہَا وَ لۡیَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِہِنَّ عَلٰی جُیُوۡبِہِنَّ

 হে নবি! আপনি ঈমানদার নারীদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান থাকে তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তাদের গ্রীবা ও গলদেশ চাদর দ্বারা ঢেকে রাখে। সুর নূর : ৩১

আল্লাহ তাআলা বলেন-

قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَغُضُّوۡا مِنۡ اَبۡصَارِہِمۡ وَیَحۡفَظُوۡا فُرُوۡجَہُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَزۡکٰی لَہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا یَصۡنَعُوۡنَ

“মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টি সংযম করে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। এটি তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কাজ সম্পর্কে অবগত।” সুরা নুর : ৩০

এই আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, দৃষ্টি সংযম ও শালীন পোশাক হলো পর্দার প্রথম ধাপ।

মহান আল্লাহ বলেন-

یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ  قُلۡ  لِّاَزۡوَاجِکَ  وَ  بَنٰتِکَ وَ نِسَآءِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ یُدۡنِیۡنَ عَلَیۡہِنَّ مِنۡ جَلَابِیۡبِہِنَّ ؕ ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَنۡ یُّعۡرَفۡنَ فَلَا  یُؤۡذَیۡنَ

 হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদেরকে বলে দিন যে, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। সুরা আহজাব : ৫৯

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি ধর্মেরই একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। আর ইসলামের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো ’লজ্জাশীলতা’। সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪১৮১

অতএব, যে বিনোদনে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার কারনে পর্দা বিঘ্নিত হয়, সে বিনোদন হারাম।

যেসব বিনোদনগুলোতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার কারণে পর্দার বিধান বিঘ্নিত হয় তার কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো-

১. অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের আড্ডা

বিনোদনের উদ্দেশ্যে যখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেমন বিভিন্ন চ্যাট রুম, ডেটিং অ্যাপ, বা গেমিং ফোরামে গায়রে মাহরাম (বিবাহ বৈধ এমন) নারী-পুরুষ ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বা অডিও-ভিডিও কলে আড্ডা দেয়। যদিও এটি শারীরিক মেলামেশা নয়, কিন্তু আবেগিক ও মৌখিক অবাধ মেলামেশা ফিতনা ও পর্দার মূলনীতি (যা দৃষ্টি ও কথার শালীনতা রক্ষা করে) লঙ্ঘন করে।

২. কর্পোরেট পার্টি বা ডিনার যেখানে মিশ্র ড্যান্সিং হয়

কর্মক্ষেত্র বা সামাজিকতার নাম করে আয়োজিত পার্টি বা ডিনারে যখন নারী-পুরুষের একটি মিশ্র দল একসাথে হয় এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে নাচে। এ ধরনের বিনোদনে সাধারণত অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা, শারীরিক স্পর্শ ও উন্মুক্ততা থাকে, যা পর্দার বিধানের পরিপন্থী।

৩. ভাড়া করা নির্জন কটেজ বা ভিলায় মিশ্র গ্রুপের ছুটি কাটানো

বিনোদনের উদ্দেশ্যে যখন একাধিক অবিবাহিত বা গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষ একসাথে কোনো নির্জন কটেজ বা ভিলা ভাড়া করে রাত্রিযাপন বা একাধিক দিন ছুটি কাটায়। এই ধরনের পরিবেশে পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে এবং তা ফিতনা সৃষ্টির একটি বড় মাধ্যম।

৪. মিশ্র পরিবেশে ছবি তোলা বা ফটোশুট

বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে যখন গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষ একসাথে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় বা ঘনিষ্ঠ হয়ে ছবি তোলে বা ফটোশুট করে। এই ধরনের কার্যকলাপে প্রায়শই অশালীন পোশাক এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক নৈকট্য প্রদর্শন করা হয়, যা পর্দার নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।

৫. অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত কোচিং বা টিউটরিং ক্লাস যেখানে আড্ডা মুখ্য

পড়াশোনার বাইরে যখন কোচিং সেন্টার বা টিউটরিং-এর ক্লাসগুলোতে পড়াশোনার চেয়ে আড্ডা, গল্প বা অপ্রয়োজনীয় হাসিতামাশা প্রাধান্য পায় এবং নারী-পুরুষ একে অপরের সাথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মিশে যায়। যদিও উদ্দেশ্য শিক্ষা, কিন্তু পরিবেশটি বিনোদনে রূপান্তরিত হওয়ায় পর্দার লঙ্ঘন ঘটে।

৬. মিশ্র পরিবেশে উন্মুক্ত সুইমিং বা ওয়াটার পার্ক

সুইমিং পুল বা ওয়াটার পার্কে যখন নারী-পুরুষ একসাথে সাঁতার কাটে এবং খেলাধুলা করে, তখন পর্দার বিধান (যা পোশাকের শালীনতা ও গায়রে মাহরামের সাথে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেয়) সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘিত হয়। এখানে বিনোদন উপভোগ করতে গিয়ে পর্দার অপরিহার্যতা নষ্ট হয়।

৭. নাইট ক্লাব বা ডিস্কো পার্টির নাচ-গান

এই ধরনের পার্টিতে নারী-পুরুষের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব বা শালীনতা বজায় রাখা হয় না। উচ্চ শব্দে গান ও উদ্দাম নাচের পরিবেশে তারা অবাধে মেলামেশা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক ঘনিষ্ঠতাও তৈরি হয়, যা ইসলামী পর্দার নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

৮. মিশ্র পরিবেশে আয়োজিত মিউজিক কনসার্ট

এমন কনসার্ট যেখানে হাজার হাজার নারী-পুরুষ একসাথে দাঁড়িয়ে বা বসে গান উপভোগ করে। ভিড়ের কারণে নারী-পুরুষের মধ্যে অবাঞ্ছিত শারীরিক স্পর্শ হয় এবং উচ্চ স্বরে গান-বাজনার মাধ্যমে ফিতনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এখানে অবাধ মেলামেশা বিনোদনের মূল শর্ত হয়ে দাঁড়ায়।

৯. মিশ্র পরিবেশে ভ্রমণ বা পিকনিকে দলগত খেলাধুলা

ভ্রমণ বা পিকনিকে যখন নারী-পুরুষের একটি মিশ্র দল একসাথে হয় এবং শারীরিক স্পর্শযুক্ত বা অশালীন পোশাক পরিধান করে দলগত খেলাধুলা করে, তখন পর্দার বিধান লঙ্ঘিত হয়। এখানে বিনোদন বা খেলার ছলে শালীনতা ও দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না।

১০. অবাধ মেলামেশার সুযোগ থাকে এমন সিনেমা বা থিয়েটার হল     

সিনেমা বা থিয়েটার হলের ভেতরে যখন নারী-পুরুষ কোনো ধরনের পর্দা বা দূরত্ব বজায় না রেখে পাশাপাশি বা কাছাকাছি বসে দীর্ঘ সময় কাটায় এবং একইসাথে বিনোদনমূলক দৃশ্য উপভোগ করে। অন্ধকার বা আধা-অন্ধকার পরিবেশ অনৈসলামিক মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ তৈরি করে, যা পর্দার উদ্দেশ্যের বিপরীত।

অশ্লীলতা, নগ্নতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের উপদান থাকবে না

ইসলামী বিনোদনের একটি মূল শর্ত হলো, এটি সকল প্রকার অশ্লীলতা, নগ্নতা এবং নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টিকারী উপাদান থেকে মুক্ত থাকবে। অশ্লীলতা বলতে এমন সকল কাজ, কথা, ছবি বা দৃশ্যকে বোঝায় যা শালীনতার সীমা অতিক্রম করে এবং সমাজে কামুকতা বা অনৈতিকতার বিস্তার ঘটায়। পোশাকের শালীনতা বজায় রাখা, অশ্লীল ভাষা পরিহার করা এবং চারিত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো দৃশ্য বা পরিবেশ তৈরি না করা বিনোদনের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

قُلۡ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّیَ الۡفَوَاحِشَ مَا ظَہَرَ مِنۡہَا وَمَا بَطَنَ وَالۡاِثۡمَ وَالۡبَغۡیَ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَاَنۡ تُشۡرِکُوۡا بِاللّٰہِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِہٖ سُلۡطٰنًا وَّاَنۡ تَقُوۡلُوۡا عَلَی اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

বল,‘আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ- যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের শরীক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর উাপরে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না’। সুরা আরআফ : ৩৩

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحِبُّوۡنَ اَنۡ تَشِیۡعَ الۡفَاحِشَۃُ فِی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ وَاَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ

নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। সুরা নুর : ১৯

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَلَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّہٗ کَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَسَآءَ سَبِیۡلًا

আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ। সুরা ইসরা : ৩২

অশ্লীলতা, নগ্নতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের উপাদান বা সহায়ক এমন কিছু বিনোদনের উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

১. সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যক্তিগত নগ্নতা বা অশালীন ছবি/ভিডিও পোস্ট করা

বিনোদনের জন্য বা লাইক পাওয়ার উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে শরিয়তবিরোধী পোশাক পরা বা অর্ধনগ্ন ছবি/ভিডিও পোস্ট করা। এটি নগ্নতা প্রচার করে, শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে এবং যুব সমাজের মধ্যে অশ্লীলতাকে জনপ্রিয় করে তোলে।

২. থিয়েটার বা মঞ্চ নাটকে অশালীন

এমন মঞ্চ নাটক বা থিয়েটার যেখানে খোলামেলা দৃশ্য, বিতর্কিত যৌন কার্যকলাপের ইঙ্গিত বা সমাজের প্রতিষ্ঠিত নৈতিক মূল্যবোধের বিরোধী বার্তা দেওয়া হয়। এটি বিনোদনের ছলে দর্শকদের মনে অনৈকিতার বীজ বপন করে।

৩. বিকৃত বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ নৃত্য পরিবেশনা

এমন নৃত্য পরিবেশনা (যেমন: কিছু আধুনিক সঙ্গীতানুষ্ঠানে) যেখানে উত্তেজক শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বা অশালীন পোশাক ব্যবহার করা হয়। এটি দর্শকদের মধ্যে কামোত্তেজনা বৃদ্ধি করে এবং নৈতিক বিচ্যুতির জন্ম দেয়।

৪. প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি হওয়া কমিক বা কার্টুন

কিছু কমিক বই বা কার্টুন সিরিজ রয়েছে যা বয়স্কদের জন্য তৈরি এবং সেগুলোতে নগ্নতা, অশালীন সংলাপ বা যৌন সহিংসতার মতো বিষয়গুলো হালকাভাবে উপস্থাপন করা হয়। বিনোদনের মাধ্যমে এটি বিকৃত মানসিকতা তৈরি করতে পারে।

৫. ভার্চুয়াল ডেটিং গেম বা সিমুলেশন

যে ভিডিও গেম বা সিমুলেশনগুলোতে মূল উদ্দেশ্য হলো ভার্চুয়াল সঙ্গী খোঁজা, অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করা বা ভার্চুয়াল যৌন কার্যকলাপের অনুকরণ করা। এটি বাস্তব জীবনে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে এবং নৈতিকতার ভিত্তি দুর্বল করে।

৬. পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ও প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র

এই ধরনের মিডিয়া সরাসরি নগ্নতা ও যৌনতার স্পষ্ট প্রদর্শন করে। এর প্রধান উদ্দেশ্যই হলো কামুকতা জাগানো, যা নৈতিক অবক্ষয়ের প্রধান কারণ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে।

৭. অশ্লীল ভাষা ও দ্ব্যর্থবোধক কৌতুক সম্বলিত স্ট্যান্ড-আপ কমেডি

এমন কমেডি শো যেখানে অশালীন ভাষা, নোংরা রসিকতা এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ দ্ব্যর্থবোধক কৌতুক ব্যবহার করা হয়। এটি বিনোদনের নামে মানুষের মনে লজ্জা ও শালীনতার বোধকে দুর্বল করে এবং সমাজে কুরুচির বিস্তার ঘটায়।

৮. অশ্লীল মিউজিক ভিডিও ও গানের লিরিক্স

যে সকল মিউজিক ভিডিওতে অশালীন পোশাক, নগ্ন অঙ্গভঙ্গি বা উত্তেজক নৃত্য দেখানো হয়, অথবা যে গানের কথায় যৌনতা বা অবৈধ সম্পর্ককে মহিমান্বিত করা হয়। এটি দর্শকদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় এবং কামোত্তেজকতার জন্ম দেয়।

৯. ফ্যাশন শো যেখানে স্বল্প বা উস্কানিমূলক পোশাক প্রদর্শন করা হয়

ফ্যাশন বা মডেলিং ইভেন্ট, যেখানে মডেলরা জনসমক্ষে অত্যন্ত স্বল্প, স্বচ্ছ বা উত্তেজক পোশাক পরিধান করে। এটি সমাজে নগ্নতাকে স্বাভাবিকীকরণে সাহায্য করে এবং দৃষ্টির পবিত্রতা নষ্ট করে।

১০. ভিডিও গেম যেখানে যৌনতা বা বিকৃত সম্পর্ককে স্বাভাবিক করা হয়

কিছু ভিডিও গেম আছে যেখানে যৌন কার্যকলাপ, অবৈধ সম্পর্ক বা নৈতিকভাবে বিকৃত আচরণকে খেলার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিনোদনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো শিশুদের ও তরুণদের মনে অনৈতিকতাকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *