কুরআন তিলওয়াত শ্রবন মুখস্ত করার ফজিলত
মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
কুরআন শুনা একটি ইবাদাত। নামাজ ও খুতবা চলাকালে কোরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা ওয়াজিব। তবে এই দুই জায়গার বাইরেও কোরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা ওয়াজিব কি না এ ব্যাপারে ফকিহগণের মতামত হলো, যেখানে কোরআন শোনানোর জন্যই তিলাওয়াত করা হয়ে থাকে, সেখানে মনোযোগ দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত শোনা ওয়াজিব। আর যেখানে কেউ নিজেই তিলাওয়াত করছে বা অনেকেই নিজ নিজ তিলাওয়াত করছে, সেখানে চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব নয়। তবে এরূপ ক্ষেত্রে কুরআন শোনাও ভাল কাজ। কেননা মহান আল্লাহ কুরআন তিলওয়াত মনযোগ সহকারে কুরআন তেলওয়াত শ্রবন করতে বলেছেন। তাই যিনি উচ্চ স্বরে কুরআন তিলওয়াত করবেন তাকে স্থান ও সময় বিবেচনা করে তিলওয়াত করা উচিত। কুরআন তিলওয়াত শুনতে পেলে, বিনা কারনে না শুনলে গুনাহ হবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُواْ لَهُ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়। সুরা আরাফ : ২০৪
এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পটভুমি নিয়ে তাফসির কারকদের থেকে একাধীক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। কোন কোন তাফসির কারকের মতে এই বিধান নামাজে কোরআন তিলাওয়াত শ্রবণের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এই বিধান নামাজের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। কারো কারো বর্ণনা মতে, এই বিধান খুতবা চলাকালে কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে অধিকাংশ তাফসির বিশারদের মতে, আয়াতটি কিছু বিশেষ অবস্থা ব্যতীত সর্বাবস্থার জন্যই প্রযোজ্য, চাই নামাজে তিলাওয়াত শ্রবণের ব্যাপারে হোক বা খুতবা চলাকালীন হোক বা এর বাইরেই হোক সর্বাস্থায় জন্যই এই বিধান প্রযোজ্য।
মনোযোগসহ কোরআন শোনার ফজিলতঃ
১. মহান আল্লাহ নিজেই নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তিলওয়াত শুনতেন-
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَا أَذِنَ اللهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ قَالَ سُفْيَانُ تَفْسِيْرُهُ يَسْتَغْنِيْ بِهِ
আল্লাহ্ তা’আলা কোন বিষয়ের প্রতি এরূপ কান লাগিয়ে শুনেন না যেরূপ তিনি নবীর সুমধুর তিলাওয়াত শুনেন। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, কুরআনই তার জন্য যথেষ্ট। সহিহ বুখারি : ৫০২৪, ৫০২৩
২. কুরআন তিলাওয়াত শয়তান কে দূরে তাড়িয়ে দেয়
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
“إِذَا قُرِئَتِ الْقُرْآنُ فَاعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ، وَأَمَّا إِذَا سَمِعَتِ الْقُرْآنَ فَتَرَكَهُ”
“যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন শয়তান দূরে সরে যায়। কুরআনের শব্দ শোনার ধৈর্য শয়তানের নেই।” মুসনাদে আহমদ :১৬৬৯৯
৩. রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন তিলওয়াত শুনতেন
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাবকে লক্ষ্য করে বললেন-
، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأُبَىٍّ ” إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ ” . قَالَ آللَّهُ سَمَّانِي لَكَ قَالَ ” اللَّهُ سَمَّاكَ لِي ” . قَالَ فَجَعَلَ أُبَىٌّ يَبْكِي .
মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাকে তোমার সামনে কুরআন পড়ে শুনাতে আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবনু কাব বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ তা’আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা আমার কাছে তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক বলেন, এ কথা শুনে উবাই ইবনু কাব কাঁদতে শুরু করলেন। সহিহ মুসলিম : ৭৯৯
আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন-
اقْرَأْ عَلَيَّ الْقُرْآنَ قُلْتُ آقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ إِنِّيْ أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي.
’আমার কাছে কুরআন পাঠ কর।’’ ’আবদুল্লাহ্ বললেন, আমি আপনার কাছে কুরআন পাঠ করব; অথচ আপনার ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, আমি অন্যের নিকট থেকে তা শুনতে ভালবাসি। সহিহ বুখারি : ৫০৪৯
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূ মূসা! তোমাকে দাঊদ (আঃ)-এর সুমধুর কন্ঠ দান করা হয়েছে। সহিহ বুখারি : ৫০৪৮, সহিহ মুসলিম : ৭৯৩, আহমাদ ২৩০৩
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কুরআন পাঠ কর। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে কুরআন পাঠ করব? অথচ তা তো আপনার ওপরই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর আমি ’সূরাহ নিসা’ পাঠ করলাম। যখন আমি এই আয়াত পর্যন্ত আসলাম ’চিন্তা করো আমি যখন প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী উপস্থিত করব এবং সকলের ওপরে তোমাকে সাক্ষী হিসাবে হাযির করব তখন তারা কী করবে।’ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আপাততঃ যথেষ্ট হয়েছে। আমি তাঁর চেহারার দিকে তাকালাম, দেখলাম, তাঁর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে। সহিহ বুখারি ৫০৫০
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রতি বছর জিব্রীল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সঙ্গে একবার কুরআন মাজীদ শোনাতেন ও শুনতেন। কিন্তু যে বছর তাঁর ওফাত হয় সে বছর তিনি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে দু’বার শুনিয়েছেন। প্রতি বছর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানে দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তাঁর ওফাত হয় সে বছর তিনি বিশ দিন ই’তিকাফ করেন। সহিহ বুখারি : ৪৯৯৮
কুরআনে কারিমের আদব ও শিষ্টাচারসমূহ থেকে একটি আদব হলো, কুরআন পাঠ চলাকালীন চুপ থেকে তা মনোযোগ দিয়ে শোনা। এর বিপরীত এ কথা স্পষ্ট যে যারা এর পরিপন্থী কাজ করবে, তারা সে রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। এ জন্যই যেসব জায়গায় লোকজন ঘুমাচ্ছে বা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত, সেখানে উচ্চ স্বরে কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত নয়। কেননা এতে লোকজন তিলাওয়াত না শোনার কারণে প্রকারান্তরে কোরআন অবমাননা হয়ে থাকে। এই জন্য নিচের বিষয় দুটির প্রতি লক্ষ রাখি।
(১) বর্তমানে যারা বাজারে-ঘাটে, যেখানে-সেখানে কোরআন তিলাওয়াত চালু করে দেয়, যেখানে কোনো শ্রবণকারী থাকে না, তারা অনুচিত কাজ করছে। অনুরূপ যারা রাতে মানুষের ঘুমের সময় মসজিদে লাউড স্পিকারে কোরআন তিলাওয়াত করে, যা শ্রবণ করার মতো কেউই থাকে না এবং তাতে ঘুমন্ত ব্যক্তিদের ঘুমের ব্যাঘাত হয়, এগুলো পরিহার করা অপরিহার্য। কেননা এরূপ ক্ষেত্রে অন্যরা মনোযোগ দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত না শোনায় তার গুনাহ তিলাওয়াতকারীর ওপরই বর্তাবে।
(২) অনেক মানুষকে দেখা যায় ক্যাসেট বা কম্পিউটারে কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করতে থাকে। তিলাওয়াত একেবারেই শুনছে না বা কাজের কারণে তিলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ দিতে পারছে না। একটা কিছু শুনতে শুনতে কাজ করার অভ্যাস তাই তিলাওয়াত ছেড়ে রেখেছে। শোনা উদ্দেশ্য নয়। এ কাজটি ঠিক নয়। কুরআন তিলাওয়াত শোনা একটি স্বতন্ত্র আমল। আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত হচ্ছে আর আমি অন্যদিকে মনোযোগ দিব তা হয় না। সুতরাং তিলাওয়াত যখন শুনব তো মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াত শুনব।
কুরআন মুখস্থ বা হিফয করা
কুরআন হিফয বা মুখস্থ করা মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং বরকতপূর্ণ কাজ। কুরআনের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অন্যতম পথ হলো এটি মনে রাখার মাধ্যমে। কুরআন হিফযের মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন এবং কিয়ামতের দিন তার মুখে কুরআন থাকবে, যা তাকে সুপারিশ করবে। আশা করা যায় কুরআন হিফযকারীকে জান্নাতের সর্বোচ্চ দেওয়া হবে। কুরআন মুখস্থ করা ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের অন্তরকে পবিত্র করে। কুরআন হিফয একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পূণ্যময় কার্য। মহান আল্লাহ যত মহান তার কালাম তথা কুরআনও তত মহান। এই মহান গ্রন্থ কুরআন সংরক্ষনের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিজে নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
অর্থঃ নিশ্চয় আমি এই কোরআনকে অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষক। সুরা হিজর : ৯
মহান আল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর এ ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তাই কুরআন আজ সমহিমায় অবিকৃতভাবে আমাদের সামনে দৃ্শ্যমান। কুরআনের প্রতিটি শব্দ আজ লিখিত আছে। যখন ব্যাপক হারে কুরআন লিখে প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না, তখন কুরআনের জন্য নিবেদীত এক দল মানুষ কুরআন হিফাজনের জন্য মুখস্ত করা শুরু করেছিলেন যা আজও মুসলিম সমাজে বৃদ্যমান।
সমগ্র কুরআন মুখস্থ করা ফরজ হয়। প্রয়োজন পরিমান কুরআন মুখন্ত করা ফরজ। ইবাদত বন্দেগির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হচ্ছে নামাজ। নামাজের জন্য কুরআন তিলাওয়াত ফরজ এবং ওয়াজিব। সুতরাং নামাজ আদায় করা যায়, এই পরিমাণ কুরআন মুখস্ত করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ। পাশাপাশি গোটা কুরআন মাজিদ মুখস্ত করা ফরজে কেফায়া। কেননা যদি কেউই কুরআন হিফজ না করে বা কোন হাফিজ না থাকে বা কুরআন হেফাজতের নিয়তে কাজ না করে তবে সমস্ত মুসলমানকেই সমভাবে গুনাহগার হতে হবে। কুরআনের হেফাজতের দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা নিয়েছেন। এর মানে এই নয় যে, আমাদের আর কুরআন হেফাজতের দায়িত্ব নেই। মহান আল্লাহই হিফাজত করবেন, এই কাজে তিনি আমাদের ব্যবহার করবেন। কুরআন যেমন দামি, আর কুরআন হিফাজনের জন্য মহান আল্লাহ যাকে ব্যবহার করবে সেও দামি হয়ে যাবে।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَأُ بِهَا ”
(কিয়ামতের দিন) কুরআনের বাহককে বলা হবে, পাঠ করতে থাক ও উপরে আরোহণ করতে থাক এবং দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে ঠিক সেরূপে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে থাক। যে আয়াতে তোমার পাঠ সমাপ্ত হবে সেখানেই তোমার স্থান। সুনানে তিরমিজি : ২৯১৪, মিশকাত : ২১৩৪, সুনানে আবু দাউদ : ১৪৬৪
আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন কিয়ামত দিবসে হাযির হয়ে বলবে, হে আমার প্রভু! একে (কুরআনের বাহককে) অলংকার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কাজেই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি এক এক আয়াত পাঠ করতে থাক এবং উপরের দিকে উঠতে থাক। এমনিভাবে প্রতি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে সাওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে। সুনানে তিরমিজি : ২৯১৫
হাফিজদের সম্পর্কে মিথ্যা ও দুর্বল হাদিস :
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন-
“ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَاسْتَظْهَرَهُ فَأَحَلَّ حَلاَلَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهِ الْجَنَّةَ وَشَفَّعَهُ فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ كُلُّهُمْ وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ যে ব্যক্তি কোরআন তেলওয়াত ও মুখস্থ রেখেছে এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনেছে। তাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশজন লোক সম্পর্কে তার সুপারিশ কবুল করবেন যাদের প্রত্যেকের জন্য জাহান্নাম আবশ্যক ছিলো। সুনানে তিরমিযী : ২৯০৫, আহমাদ ১২৭১, মিশকাত ২১৪১। হাদিসের মান জঈফ।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যার হৃদয়ে কুরআনের কিছুই নেই সে বর্জিত ঘরের মত। সুনানে তিরমিজি : ২৯১৩, মিশকাত : ২১৩৫। হাদিসের মান জঈফ।