রাসুলুল্লাহ ﷺজম্ম এবং নাম

রাসুলুল্লাহ জম্ম এবং নাম

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

আল কুরআনের বাণী :

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন-

وَاِذۡ قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوۡرٰىۃِ وَمُبَشِّرًۢا بِرَسُوۡلٍ یَّاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِی اسۡمُہٗۤ اَحۡمَدُ ؕ فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ

অনুবাদ : আর যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা বলেছিল, ‘হে বনী ইসরাঈল, নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল। আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমদ’। অতঃপর সে যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বলল, ‘এটাতো স্পষ্ট যাদু’। সুরা সফ : ০৬

হাদিস নম্বর-০১ :: রাসুলুল্লাহ ﷺ সোমবার জম্ম গ্রহণ করেন।

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، ر  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَأَنَّرَسُولَ اللَّهِ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ ‏ “‏ فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَىَّ ‏”‏ ‏

অনুবাদ : আবূ কতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কাছে সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর (কুরআন) নাযিল হয়েছে।

সহিহ মুসলিম : ১১৬২, সুনানে আবূ দাঊদ : ২৪২৬, মিশকাত : ২০৪৫, আহমাদ : ২২৫৫০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী : ৮৪৩৪, শুআবূল ঈমান : ১৩২৩। হাদিসটি সহিহ মুসলিম থেকে সংকলন করা হয়েছে।

হাদিস নম্বর -০২ :: রাসুলুল্লাহ এর জম্ম গ্রহণের বছর

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ ابْنُ أَبِيْ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا النَّضْرُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أُنْزِلَ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَوَهُوَ ابْنُ أَرْبَعِيْنَ فَمَكَثَ بِمَكَّةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً ثُمَّ أُمِرَ بِالْهِجْرَةِ فَهَاجَرَ إِلَى الْمَدِيْنَةِ فَمَكَثَ بِهَا عَشْرَ سِنِيْنَ ثُمَّ تُوُفِّيَ صلى الله عليه

অনুবাদ : ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর উপর যখন (ওহি) নজিল করা হয় তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। অতঃপর তিনি মক্কা্য় তের বছর অবস্থান করেন। অতঃপর তাঁকে হিজরত করার আদেশ দেয়া হয়। তিনি হিজরত করে মদিনা্য় চলে গেলেন এবং সেখানে দশ বছর অবস্থান করলেন, তারপর তাঁর মৃত্যু হয় ﷺ। সহিহ বখারি : ৩৮৫১, ৩৯০২, ৩৯০৩, ৪৪৬৫, ৪৯৭৯

নোট : সহিহ হাদিস নিশ্চিত করে যে রাসুলুল্লাহ ﷺ ৪০ বছর বয়সে নবুওয়ত লাভ করেন।  ঐতিহাসিকভাবে, নবুওয়ত লাভের সময় ৬১০ খ্রিস্টাব্দ বলে নির্ধারিত হয়েছে। যদি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর বয়স তখন ৪০ বছর ধরা হয়, তবে হিসাব অনুযায়ী জন্ম সাল দাঁড়ায়—৬১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৪০ বছর বাদ দিলে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ হয়।  অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ ﷺ সম্ভবত ৫৭০ বা ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছেন।

সঠিক সন নির্ধারিত না হলেও তিনি আমরে ফিল বা হাতির বছর জম্ম গ্রহণ করেন-

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্ম ‘হাতির বছর’ (عام الفيل) সংঘটিত হয়েছে। এ তথ্য সরাসরি সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না, তবে এটি বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক ও সিরাহ গ্রন্থগুলোতে উল্লেখিত আছে। অনেক প্রাচীন ইসলামি ঐতিহাসিক, তাবেয়ি এবং মুহাদ্দিসগণ একমত হয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ হাতির বছরে জন্মগ্রহণ করেন।

বিশিষ্ট ইসলামি জীবনীকার ইবন ইসহাক (মৃত্যু: ১৫১ হিজরি) তাঁর সিরাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-

“وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَعَامَ الْفِيلِ، وَذَلِكَ مَا اتَّفَقَ عَلَيْهِ أَهْلُ السِّيَرِ وَالْمَغَازِي.”

অর্থ: রাসূলুল্লাহ ﷺ হাতির বছরে জন্মগ্রহণ করেছেন, এবং এটি সিরাহ ও মাগাজি (জিহাদ সম্পর্কিত ইতিহাস) বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত মত। সিরাতু ইবন হিশাম, প্রথম খণ্ড, পৃ. ১৭৫-১৭৬

ইবন কাসির (মৃত্যু: ৭৭৪ হিজরি)  তার লিখিত ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ গ্রন্থে বলেন-

“وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَفِي عَامِ الْفِيلِ وَهَذَا هُوَ الْمَشْهُورُ عِندَ الْجُمْهُورِ.”

অর্থ: রাসূলুল্লাহ ﷺ হাতির বছরে জন্মগ্রহণ করেছেন, এবং এটি সাধারণ মুসলিম ঐতিহাসিকদের প্রসিদ্ধ মতামত। আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ২৬০

ইবন সা’দ (মৃত্যু: ২৩০ হিজরি)  তার ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ গ্রন্থে বলেন-

“وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَفِي عَامِ الْفِيلِ بِمَكَّةَ.”

অর্থ: রাসূলুল্লাহ ﷺ মক্কায় হাতির বছরে জন্মগ্রহণ করেছেন।

আত-তাবাকাতুল কুবরা, ইবন সাদ, প্রথম খণ্ড, পৃ. ১০০

রাসূলুল্লাহ এর জন্ম গ্রহণের তারিখ :

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুনির্দিষ্ট জন্ম তারিখ সম্পর্কে কোনো সহিহ হাদিস পাওয়া যায় না। তবে ঐতিহাসিকগনের কাছে তারিখ সম্পর্কে ২০ এর অধিক মতামত পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জম্ম তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল বেশি প্রসিদ্ধ হলেও সমকালীন সিরাত প্রণেত শফিউর রহমান মোবারকপুরি ৯ রবিউল আউয়াল তারিখটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

হাদিস নম্বর-০৩ :: রাসুলুল্লাহ অনেকগুলো নাম ছিল।

حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَعْنٌ عَنْ مَالِكٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَلِيْ خَمْسَةُ أَسْمَاءٍ أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِيْ يَمْحُوْ اللهُ بِي الْكُفْرَ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِيْ يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِيْ وَأَنَا الْعَاقِبُ>

অনুবাদ : জুবায়র ইবনু মুত‘ঈম (রা.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-

আমার পাঁচটি (প্রসিদ্ধ) নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহী আমার দ্বারা আল্লাহ কুফর ও শির্ককে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন। আমি আল-হাশির আমার চারপাশে মানব জাতিকে একত্রিত করা হবে। আমি আল-আক্বিব (সর্বশেষে আগমনকারী)।

সহিহ বুখারি : ৩৫৩২, সহিহ মুসলিম : ২৩৫৪। হাদিসটি সহিহ বুখারি থেকে সংকলন করা হয়েছে।

হাদিস নম্বর-০৪ :: রাসুলুল্লাহ এর সুন্দর নামসমূহঅ

أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيْهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ  صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَيَقُوْلُ إِنَّ لِيْ أَسْمَاءً أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَنَا أَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِيْ يَمْحُو اللهُ بِيَ الْكُفْرَ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِيْ يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِيْ وَأَنَا الْعَاقِبُ.

যুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আমার অনেকগুলো নাম আছে। আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ এবং আমি মাহী। আমার দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা সমস্ত কুফরী দূর করবেন। আমি হাশির, আমার পেছনে সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং আমি ’আকিব, সকলের শেষে আগমনকারী।

সহিহ বুখারি : ৪৮৯৬; সহিহ মুসলিম : ৬২৫২: মুসনাদে আহমাদ : ১৬৫৮০; মুসনাদে বাযযার : ৩৪১৩; তাবারানী : ১৫০৪; ইবনে হিব্বান : ৬৩১৩। হাদিসটি সহিহ বুখারি থেকে সংকলন করা হয়েছে।

হাদিস নম্বর-০৫ :: রাসুলুল্লাহ ইবরাহিম (আ.) এর দুআ, ঈসা (আঃ) এর সুসংবাদ, এবং তার মায়ের দেখা স্বপ্ন।

وَعَن العِرْباض بن ساريةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: إِنِّي عِنْدَ اللَّهِ مَكْتُوبٌ: خَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَإِنَّ آدَمَ لِمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ وَسَأُخْبِرُكُمْ بِأَوَّلِ أَمْرِي دَعْوَةُ إِبْرَاهِيمَ وَبِشَارَةُ عِيسَى وَرُؤْيَا أُمِّي الَّتِي رَأَتْ حِينَ وَضَعَتْنِي وَقَدْ خَرَجَ لَهَا نُورٌ أَضَاءَ لَهَا مِنْهُ قُصُورُ الشَّامِ

অনুবাদ : ইরবাজ ইবনু সারিয়াহ (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলার কাছে আমি তখনো ’খাতামুন্‌ নাবিয়্যিন’ হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম যখন আদম আলায়হিস সালাম ছিলেন মাটির খামিরায়। আমি তোমাদেরকে আরো বলছি যে, আমার নুবুওয়াতের প্রথম প্রকাশ হলো ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -এর দু’আ এবং ঈসা আলায়হিস সালাম -এর ভবিষ্যদ্বাণী আর আমার মায়ের সরাসরি স্বপ্ন, যা তিনি আমাকে প্রসবকালে দেখেছিলেন যে, তাঁর সামনে একটি আলো উদ্ভাসিত হয়েছে, যার আলোতে তিনি সিরিয়ার রাজ প্রাসাদ পর্যন্ত দেখতে পান।

মিশকাত : ৫৭৫৯, মুসনাদ আহমাদ : ১৭১৯১, সিলসিলাতুস সহিহাহ : ৩৭৩, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক : ৯৭১৮, সহিহ ইবনু হিব্বান : ৬৪০৪, সুানানে দারিমী : ১৩, তবারানী : ১৫০৩৪। হাদিসের মান সহিহ। হাদিসটি মিশকাত থেকে সংকলন করা হয়েছে।

হাদিস নম্বর-০৬ :: রাসুলুল্লাহ এর জম্মের সময় সিরিয়ার রাজপ্রাসাদগুলোকে আলোকিত

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: “رَأَتْ أُمِّي حِينَ وَضَعَتْنِي نُورًا خَرَجَ مِنْهَا أَضَاءَتْ لَهُ قُصُورُ الشَّامِ.”​

অনুবাদ : উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

“আমার মা যখন আমাকে জন্ম দিলেন, তখন তিনি এক নূর দেখতে পেলেন, যা সিরিয়ার রাজপ্রাসাদগুলোকে আলোকিত করেছিল।” মুসনাদ আহমাদ : ১৭৫৫০; সহিহ লিগাইরিহি

হাদিস নম্বর-০৭ :: রাসূলুল্লাহ মক্কায় জম্ম গ্রহন করেন ও মদিনায হিজরত করেন।

 ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত-

তিনি কা’ব আল আহবারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: তুমি তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গুণাবলী কেমন পেয়েছ? কাব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা তাওরাতে পেয়েছি যে, মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ﷺ মক্কায় জন্ম গ্রহণ করবেন, ত্ববাহ বা মদীনায় হিজরত করবেন, আর তাঁর রাজ্য শাম পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। আর অশ্লীলতার সাথে তাঁর কোন সম্পর্ক থাকবে না, তিনি হাটে-বাজারে শোরগোলকারীও হবেন না, তিনি মন্দ আচরণের প্রতিদানে মন্দ আচরণ করবেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করবেন। আর তাঁর উম্মত মহান আল্লাহ’র অধিক হামদ বর্ণনাকারী, তারা সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহ’র প্রশংসা করবে, তারা অঙ্গসমূহ (ধুয়ে) ওযু করবে এবং প্রত্যেক উঁচু ভূমিতে (আরোহণ কালে) তাকবীর উচ্চারণ করবে। তারা ’ইযার’ বা তহবন্দ (এর নিম্নাংশ) পরিধান করবে তাদের (পায়ের গোছার) মাঝ বরাবর। তারা যেভাবে যুদ্ধে সারিবদ্ধ হবে, তারা তাদের সালাতেও তদ্রূপ সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। তাদের মসজিদসমূহে তাদের (তিলাওয়াত ও যিকিরের) আওয়াজ হবে মৌমাছির গুণগুণ আওয়াজের মত। আর তাদের আহ্বানকারীর আহ্বান (মুয়াযযিনের আযান) দূর আকাশে শোনা যাবে।

সুনানে আদ দারিমী : ০৮, ইবনু হিব্বান (রহ.) এ হাদীসের বর্ণনাকারী সম্পর্কে তার ‘আস সিক্বাত’ গ্রন্থে ইবনু আব্বাস থেকে তার যে বর্ণনা উল্লেখ করেছেন তা সঠিক হলে এর সনদ সহিহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *