জাহান্নামের বিবরণ : চতুর্থ পর্ব

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

২১. জাহান্নামির বিশার আকৃতির দেহ প্রদান করা হবে

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জাহান্নামের মধ্যে কাফিরের দেহের চামড়া হবে বিয়াল্লিশ হাত মোটা, দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান এবং জাহান্নামে তার বসার স্থান হবে মক্কাহ্-মদীনার মধ্যবর্তী দূরত্ব সমান পরিমাণ। সুনানে তিরমিজি : ২৫৭৭, সিলসিলাতুস সহীহাহ : ১১০৫, মিশকাত : ৫৬৭৫,  সহীহুল জামি’ : ২১১৪, হাকিম : ৮৭৬০।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জাহান্নামের মধ্যে কাফিরদের উভয় ঘাড়ের দূরত্ব হবে কোন দ্রুতগামী অশ্বারোহীর তিন দিনের ভ্রমণের দূরত্ব পরিমাণ। অপর এক বর্ণনায় আছে- কাফিরের এক একটি দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান এবং তার দেহের চামড়া হবে তিন দিনের সফরের দূরত্ব পরিমাণ পুরু বা মোটা। সহিহ বুখারী : ৬৫৫১, সহিহ মুসলিম : ২৮৫২, মিশকাত : ৫৬৭২, সহীহুল জামি ৫৫৯১, সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৬৮১, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ৬২৭

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন কাফিরের দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মতো, রান বা উরু হবে বায়যা পাহাড়ের মতো মোটা এবং জাহান্নামে তার বসার স্থান হবে তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ বিস্তীর্ণ। যেমন- ’রবযাহ’ (মদীনাহ্ হতে তিন দিনের দূরত্বের ব্যবধান)। সুনানে তিরমিযী : ২৫৭৮, মিশকাত : ৫৬৭৪, সিলসিলাতুস সহীহাহ : ১১০৫, সহীহুল জামি : ৩৮৯০, মুসনাদে আহমাদ : ৮৩২৭

জিন-ইনসান মিলে অগণিত কোটি সংখ্যক ব্যক্তি জাহান্নামে স্থান পাবে। আবার কোন কোন জাহান্নামীর দেহ এত বিরাট হবে যে, তার দাঁতটাই হবে উহুদ পাহাড়ের সমান! বসার স্থান হবে মক্কাহ্-মদীনার মধ্যবর্তী দূরত্ব সমান পথ! প্রকাশ থাকে যে, উহুদ পাহাড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ কিমি. প্রস্থ প্রায় ২-৩ কিমি. এবং উচ্চতা ৩৫০ মিটার। জানি না, এই শ্রেণীর জাহান্নামীর সংখ্যাই বা কত। তা সত্ত্বেও জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

یَوۡمَ نَقُوۡلُ لِجَہَنَّمَ ہَلِ امۡتَلَاۡتِ وَتَقُوۡلُ ہَلۡ مِنۡ مَّزِیۡدٍ

সেদিন আমি জাহান্নামকে বলব, ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছ’? আর সে বলবে, ‘আরো বেশি আছে কি’? সুরা কাফ : ৩০

আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ লোকদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। খালীফা ও মুতামির (রহ.) আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জাহান্নামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতে থাকবে। তখন জাহান্নাম বলতে থাকবে আরো বেশি আছে কি? আর শেষে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন, তাঁর কদম জাহান্নামে রাখবেন। তখন এর এক অংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিশে স্থির হতে থাকবে। আর বলবে আপনার ইয্যত ও করমের কসম! যথেষ্ট হয়েছে। জান্নাতের কিছু জায়গা শূন্য থাকবে। অবশেষে আল্লাহ্ সেই শূন্য জায়গার জন্য নতুন কিছু মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং জান্নাতের সেই খালি জায়গায় এদের বসতি করে দেবেন। সহিহ বুখারি : ৪৮৪৮, ৭৩৮৪, সহিহ মুসলিম : ২৮৪৮

২২. যে অপরাধের কারনে জাহান্নামে যেতে হবে

মানুষ জাহান্নাম যাবে মূলত তিনটি কারনে, ঈমান না আনার কারনে, আমলেস সলেহা আদায় না করার কারনে ও আল্লাহর নিষধকৃত কাজ করার কারনে। এ সব কারনে কখনো কখনো কুরআন হাদিসে সরাসরি জাহান্নামের আজাব ভোগকরা করা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে এ সম্পর্কিত কুরআন হাদিস উল্লেখ কর  নানা ধরনের আযাব হবে। কতক প্রকার আযাবের কথা কুরআন-হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে, তার কিছু নিম্নরূপঃ

(১) কাফির জাহান্নামে যাবে

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَـٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَـٰلِدِينَ فِيہَآ

আহলে কিতাবের মধ্যে যারা কাফের এবং মুশরিক, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ী ভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। সুরা বাযয়িনাহ : ৬

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَحِيمِ

আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সুরা মায়েদা : ১০

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

কিন্তু যারা অস্বীকার করবে এবং আমার প্রমাণসমূহকে মিথ্যা বলবে তারা জাহান্নামের অধিবাসী হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সুরা বাকারা : ৩৯

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُۥ لَيَحْزُنُكَ ٱلَّذِى يَقُولُونَۖ فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَٰكِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ يَجْحَدُونَ

আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা তোমাকে দুঃখ দেয়। কিন্তু তারা তো তোমাকে অস্বীকার করে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। সুরা আনাম : ৩৩

(২) মুশরিক জাহান্নামে যাবে

মুশরিক জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ

আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। সুরা বাইয়্যিনাহ : ৬

এই সম্পর্কিত হাদিস জানতে দেখুন-

সহিহ বুখারি : ১৮, ১২৩৮, ২৬৫৪, ২৭৬৬, ২৭৬৭, ৫৭৬৪, ৬৮৫৭, সহিহ মুসলিম : ৮৯, ১৭০৯, সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৭৪, সুনানে নাসায়ী : ৩৬৭১, ৪১৬১, সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫৩৬।

(৩) মুনাফিক জাহান্নামে যাবে

মহান আল্লাহ বলেন-

اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ فِی الدَّرۡکِ الۡاَسۡفَلِ مِنَ النَّارِ ۚ  وَلَنۡ تَجِدَ لَہُمۡ نَصِیۡرًا ۙ

নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নস্তরের অবস্থান করবে এবং তুমি কখনও তাদের জন্য সাহায্যকারী পাবেনা। সুরা নিসা : ১৪৫

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَعَدَ اللّٰهُ الۡمُنٰفِقِیۡنَ وَ الۡمُنٰفِقٰتِ وَ الۡکُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا ؕ هِیَ حَسۡبُهُمۡ ۚ وَ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ ۚ وَ لَهُمۡ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ

আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফিরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটি তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের লা‘নত করেন এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আজাব। সুরা তাওবাহ : ৬৮

(৪) আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপকারী

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَبَ عَلَى ٱللَّهِ وَكَذَّبَ بِٱلصِّدْقِ إِذْ جَآءَهُۥٓۚ أَلَيْسَ فِى جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَٰفِرِينَ

তার চেয়ে অধিক জালিম আর কে, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে এবং তার কাছে সত্য আসার পর তা অস্বীকার করে? জাহান্নামেই কি কাফিরদের আবাসস্থল নয়? সুরা যুমার : ৩২

(৫) আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا صُمٌّ وَبُكْمٌ فِى ٱلظُّلُمَٰتِۗ مَن يَشَإِ ٱللَّهُ يُضْلِلْهُ وَمَن يَشَأْ يَجْعَلْهُ عَلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ

যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারা অন্ধকারের মধ্যে বধির ও বোবা। আল্লাহ যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক পথে রাখেন। সুরা আনাম : ৩৯

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا وَٱسْتَكْبَرُوا۟ عَنْهَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং সেগুলোর ব্যাপারে ঔদ্ধত্য দেখাবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সুরা আরাফ : ৩৬

(৬) ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা হাদিস বর্ণানাকারী জাহান্নামে যাবে

আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি ﷺ বলেছেন, যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। সহিহ বুখারি :  ১০৮

আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতা জুবায়েরকে বললাম, আমি তো আপনাকে অমুক অমুকের মত আল্লাহর রসূল ﷺ এর হাদিস বর্ণনা করতে শুনি না। তিনি বললেন, ‘জেনে রাখো, আমি তাঁর থেকে দূরে থাকিনি, কিন্তু আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তাঁর ঠিকানা বানিয়ে নিবে। সহিহ বুখারি : ১০৭, আবু দাউদ : ৪২৬৮

(৭) আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতাকারী জাহান্নামে যাবে

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَمَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَیَتَعَدَّ حُدُوۡدَہٗ یُدۡخِلۡہُ نَارًا خَالِدًا فِیۡہَا ۪  وَلَہٗ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ 

আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব। সুরা নিসা : ১৪

(৮) জালিমের জুলুমে সহযোগিতা করো

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন,

وَلَا تَرْكَنُوْا إِلَى الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ، وَمَا لَكُمْ مِنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ

তোমরা জালিমদের ওপর ঝুঁকে পড়ো না তথা তাদেরকে জুলুমের সহযোগিতা করো না। অন্যথায় তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে। আর তখন আল্লাহ ছাড়া কেউ তোমাদের সহায় হবে না। অতএব তখন তোমাদেরকে কোনো সাহায্যই করা হবে না। সুরা হুদ : ১১৩

(৯) সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করা

নবি ﷺ এর স্ত্রী উম্মু সালামা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে লোক রৌপ্যের বাসনে পান করে সে যেন তার পেটের ভিতরে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়। সহিহ মুসলিম ২০৬৫, সহিহ বুখারি ৫৬৩৪, ইবনে মাজাহ ৩৪১৩

(১০) মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে নির্যাতনকারি জাহান্নামে যাবে

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

إِنَّ ٱلَّذِينَ فَتَنُوا۟ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا۟ فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ ٱلْحَرِيقِ

নিশ্চয়ই যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে নির্যাতন করেছে, তারপর তাওবাও করেনি, তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি এবং তাদেরকে আগুনে জ্বলার শাস্তি দেওয়া হবে। সুরা বুরুজ : ১০

(১১) আল্লাহ ইবাদতে অহংকার করলে

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

*وَقَالَ رَبُّکُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَکُمۡ ؕ  اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَہَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ  *

তোমার প্রভু বলেছেন, “তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে বিরত থাকে তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” সুরা গাফির : ৬০

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হবে। সুরা মুমিন : ৬০

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 فَٱدۡخُلُوٓاْ أَبۡوَٲبَ جَهَنَّمَ خَـٰلِدِينَ فِيہَا‌ۖ فَلَبِئۡسَ مَثۡوَى ٱلۡمُتَكَبِّرِينَ

সুতরাং তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে স্থায়ী হবে। অতএব অবশ্যই অহংকারীদের আবাস অতি নিকৃষ্ট। সুরা নাহাল- : ২৯

(১২) রাসুলুল্লাহ এর উপর মিথ্যা আরোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে

আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন-

আমার নামে তোমরা নাম রেখো; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা নাম রেখো না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় আকৃতি ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছা করে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার আসন বানিয়ে নেয়। সহিহি বুখারি : ১১০

(১৩) রাসুলুল্লাহ এর আনিত দিনের বিরোধিতাকারী জাহান্নামে যাবে।  

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন-

وَمَن يُشَاقِقِ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ ٱلۡهُدَىٰ وَيَتَّبِعۡ غَيۡرَ سَبِيلِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ نُوَلِّهِۦ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصۡلِهِۦ جَهَنَّمَ‌ۖ وَسَآءَتۡ مَصِيرًا

কিন্তু ব্যক্তি রসুলের বিরোধিতায় কোমর বাঁধে এবং ইমানদারদের পথ পরিহার করে অন্য পথে চলে, অথচ তার সামনে সত্য সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে, তাকে আমি সেদিকেই চালাবো যেদিকে সে চলে গেছে এবং তাকে জাহান্নামে ঠেলে দেবো, যা নিকৃষ্টতম আবাস৷  সুরা নিসা : ১১৫

(১৪) শয়তানের অনুসারী জাহান্নামে যাবে

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَـٰدِلُ فِى ٱللَّهِ بِغَيۡرِ عِلۡمٍ۬ وَيَتَّبِعُ ڪُلَّ شَيۡطَـٰنٍ۬ مَّرِيدٍ۬ (٣) كُتِبَ عَلَيۡهِ أَنَّهُ ۥ مَن تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُ ۥ يُضِلُّهُ ۥ وَيَہۡدِيهِ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلسَّعِيرِ (٤)

কতক লোক এমন আছে যারা জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করতে থাকে৷ অথচ তার ভাগ্যেই তো এটা লেখা আছে, যে ব্যক্তি তার সাথে বন্ধুত্ব করবে তাকে সে পথভ্রষ্ট করে ছাড়বে এবং জাহান্নামের আযাবের পথ দেখিয়ে দেবে৷ সুরা হজ্জ : ৩-৪

(১৫) জাকাত আদায় না করার কারনে জাহান্নামে যাবে

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-

يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّ ڪَثِيرً۬ا مِّنَ ٱلۡأَحۡبَارِ وَٱلرُّهۡبَانِ لَيَأۡكُلُونَ أَمۡوَٲلَ ٱلنَّاسِ بِٱلۡبَـٰطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ‌ۗ وَٱلَّذِينَ يَكۡنِزُونَ ٱلذَّهَبَ وَٱلۡفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَہَا فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَبَشِّرۡهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ۬ (٣٤) يَوۡمَ يُحۡمَىٰ عَلَيۡهَا فِى نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكۡوَىٰ بِہَا جِبَاهُهُمۡ وَجُنُوبُہُمۡ وَظُهُورُهُمۡ‌ۖ هَـٰذَا مَا ڪَنَزۡتُمۡ لِأَنفُسِكُمۡ فَذُوقُواْ مَا كُنتُمۡ تَكۡنِزُونَ (٣٥)

হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় পন্ডিত ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, আর তারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও। সেদিন জাহান্নামের আগুনে ঐগুলিকে উত্তপ্ত করা হবে, অতঃপর ঐগুলি দ্বারা তাদের ললাটসমূহে, পার্শ্বদেশসমূহে এবং পৃষ্ঠদেশসমূহে দাগ দেয়া হবে, আর বলা হবেঃ এটা হচ্ছে ওটাই যা তোমরা নিজেদের জন্য সঞ্চয় করে রেখেছিলে, সুতরাং এখন নিজেদের সঞ্চয়ের স্বাদ গ্রহণ কর। সুরা তাওবা : ৩৪-৩৫

আনাস ইবনু মালেক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

مَانِعُ الزَّكَاةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيْ النَّارِ-

যাকাত ত্যাগকারী ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সহিহ আত তারগীম : ৭৬২, সহিহুল  জামেহ : ৫৮০৭।

বহু হাদিসে জাকান আদায় না কারনে জাহান্নামের শাস্তির ঘোষনা এসেছে।  সহিহ বুখারি : ১৪০৩, ১৪৬০, ৪৫৬৫, ৬৬৩৮, ৪৬৫৯, ৬৯৫৭, সহিহ মুসলিম : ৯৯০, সুনানে আবূদাউদ : ১৫৬৫, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০১৯ আহমাদ : ২১৪০৯

(১৬) আত্মহত্যাকারী জাহান্নামে যাবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا

হে মু’মিনগণ! তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ গ্রাস কর না, কেবল মাত্র পরস্পর সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা কর তা বৈধ এবং তোমরা নিজেদের হত্যা কর না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল। সুরা নিসা : ২৯

সাবিত বিন জাহক (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবি ﷺ ইরশাদ করেন-

যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন বস্তু দিয়ে আত্মহত্যা করলো আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে জাহান্নামে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি দিবেন। সহিহ বুখারি : ১৩৬৩, ৬০৪৭, ৬১০৫, ৬৬৫২, সহিহ মুসলিম : ১১০

(১৭) জানা সত্ত্বেও অন্যকে পিতা দাবি করা

সাদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবি ﷺ-কে বলতে শুনেছি-

যে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবি করে অথচ সে জানে যে সে তার পিতা নয়, জান্নাত তার জন্য হারাম। সহিহ বুখারি : ৬৭৬৬, সহিহ মুসলিম : ৬৩

আবূ যার (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছেন যে, যে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবি করে, সে কুফরি করে। যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবি করে, যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজস্ব বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কাউকে কাফের বলে ডাকে বা আল্লাহর দুশমন’ বলে, অথচ বাস্তবে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার  উপর তা বর্তায়। সহিহ বুখারি : ৩৫০৮, সহিহ মুসলিম : ২২৬

(১৮) অশ্লীলতা ও অন্যায় আচরণকারী জাহান্নামে যাবে। সুনানে তিরমিজী :  ২০০৯

(১৯) মিথ্যা পাপের পথ দেখায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। সহিহ বুখারি ৬০৯৪ , সহিহ মুসলিম : ৬৮০৩-৬৮০৫

(২০) প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতা জাহান্নামে। সুনানে আবু দাঊদ : ৪৬০৯, সুনানে তিরমিজি : ২৬৭৬, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২,

(২১) আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথার কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সহিহ বুখারি : ৬৪৭৮, ৬৪৭৭, সহিহ মুসলিম : ২৯৮৮

(২২) ভাস্কর্য বা মূর্তি সম্মানে একটি মাছি উৎসর্গ করার কারণে জান্নাতের গিয়েছিল। আহমাদ : ২২, আয যুহুদ, প্রথম খণ্ড, পৃ-১৫; বায়হাকি শুয়াবুল ইমান : ৭৩৪৩, ইবনে আবি শায়বা :৩৩০৩৮

(২৩) গনিমতের প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা করল জাহান্না যাবে। সুনানে তিরমিজি : ১৫৭৪, সহিহ মুসলিম : ২০৯, সহিহ মুসলীম : ৭৩৭৩

(২৪) জীব জন্তুকে কষ্ট দেয়া, পশুর অঙ্গহানি করা, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কোনো জন্তুকে আটকে রাখা। সহিহ বুখারি : ২৩৬৫, ৩৩১৮, ৩৪৮২, সহিহ  মুসলিম : ২২৪২

৫৬। মানুষকে কষ্ট দেয়া

(২৫) মিথ্যা শপথকারী জাহান্নামে যাবে। সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩২৫, সুনানে আবূ দাউদ : ৩২৪৬

(২৬) জালিমদের নিকট যাওয়া, তাদেরকে সম্মান করা ও ভালবাসা প্রদর্শন করা। সুনানে তিরমিজি : ৬১৪

(২৭) সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা না দেওয়ার কারনে। সহিহ বুখারি : ৩২৬৭, সহিহ মুসলিম : ২৯৮৯

(২৮) আমলহীন বক্তাগণ জাহান্নামে যাবে। সহীহ বুখারী : ৪৯৯, ৩২৬৮, মুসনাদ আহমাদ : ১২২১৩ সহীহ তারগীব : ১২০

(২৯) মাদকদ্রব্য সেবনকারী জাহান্নামে যাবে। সহিহ মুসলিম : ২০০২

(৩০)_গীবতকারী জাহান্নামে যাবে। সুনানে আবু দাউদ : ৪০৮২

২৩. নির্দিষ্ট কতিপয় জাহান্নামী ব্যক্তি

সাধারণত কোনো ব্যক্তির বাহ্যিক আমল দেখে তাকে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলে রায় দিতে পারি না। কারণ অন্তরের অবস্থা এবং জীবনের শেষ মুহূর্তের পরিণতি একমাত্র আল্লাহই জানেন। তবে কুরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদেরকে জাহান্নামী ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন-

ক. ফিরআউন : মূসা (আঃ)-এর বিরোধীতা করেছেন এবং ঈমান গ্রহন করে নাই। সূরা ইউনুস : ৯০-৯১, সুরা হুদ : ৯৮

খ. নূহ আলাইহিস সালাম-এর স্ত্রী। সুরা তাহরিম : ১০

গ. নূহ আলাইহিস সালাম এর ছেলে কেনান। সুরা হুদ ৪২-৪৬

ঘ. লূত আলাইহিস সালাম-এর স্ত্রী। সুরা তাহরিম : ১০

ঙ. আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিল : রাসূল (ﷺ)-এর কট্টর শত্রু। সুরা লাহার : ১-৪

চ. আবু জাহেল : ইসলামের কট্টর বিরোধী এবং বদর যুদ্ধে নিহত। সহীহ মুসলিম : ১৭৯৪

ছ. উমাইয়া ইবনে খালাফ : বেলাল (রাঃ)-কে নির্যাতনকারী। সহীহ বুখারী : ৩১৪১, সহিহ মুসলিম : ১৭৯৪

জ. আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল: মুনাফিকদের সর্দার। সহীহ বুখারী : ৪৬৭২,  ১৩৬৬, সহীহ মুসলিম : ২৭৭৪, সুরা তাওবা : ৮০, ৮৪

ঝ. আমর বিন আমের আল-খুযায়ী। সহীহ বুখারী : ৪৬২৩, ৬৬৬৩, সহিহ মুসলিম : ২৮৫৬।

২৪. জাহান্নামকে পরিপূর্ণ করা হবে

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

یَوۡمَ نَقُوۡلُ لِجَہَنَّمَ ہَلِ امۡتَلَاۡتِ وَتَقُوۡلُ ہَلۡ مِنۡ مَّزِیۡدٍ

সেদিন আমি জাহান্নামকে বলব, ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছ’? আর সে বলবে, ‘আরো বেশি আছে কি’? সুরা কাফ : ৩০

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হলে জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? শেষে আল্লাহ্ তাঁর পা সেখানে রাখবেন, তখন সে বলবে, আর না, আর না। সহিহ বুখারি : ৪৮৪৮, ৬৬৬১

আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ লোকদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। খালীফা ও মুতামির (রহ.) আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জাহান্নামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতে থাকবে। তখন জাহান্নাম বলতে থাকবে আরো বেশি আছে কি? আর শেষে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন, তাঁর কদম জাহান্নামে রাখবেন। তখন এর এক অংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিশে স্থির হতে থাকবে। আর বলবে আপনার ইয্যত ও করমের কসম! যথেষ্ট হয়েছে। জান্নাতের কিছু জায়গা শূন্য থাকবে। অবশেষে আল্লাহ্ সেই শূন্য জায়গার জন্য নতুন কিছু মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং জান্নাতের সেই খালি জায়গায় এদের বসতি করে দেবেন। সহিহ বুখারি : ৭৩৮৪

২৫. বান্দাদের জাহান্নাম জাহান্নাম ফয়সালার পর মৃত্যুকে জবেহ করা হবে

ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন মৃত্যুকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি স্থানে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জবেহ করে দেয়া হবে। অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! (এখানে কোন) মৃত্যু আর নেই। হে জাহান্নামীরা! মৃত্যু আর নেই। তাতে জান্নাতীদের আনন্দের উপর আনন্দ আরো অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে জাহান্নামীদের দুশ্চিন্তার উপর আরো দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পাবে। সহীহ বুখারী : ৬৫৪৮, মুসলিম : ২৮৫০, মিশকাত : ৫৫৯০, মুসনাদে আহমাদ : ৬০২২, সহীহুল জামি : ৬৩৬,  আবূ ইয়া’লা : ৫৫৮৫, সহীহ ইবনু হিব্বান : ৭৪৭৪, তবারানী : ১৩১৫৬।

২৬. জাহান্নামীদের আর্তি ও আর্জি

জাহান্নামের আযাব হবে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। কুরআন জানায়, সেখানে থাকবে হাহাকার, দীর্ঘশ্বাস ও ক্রন্দন, কিন্তু মৃত্যু আসবে না এবং আযাবও কমবে না। অধিবাসীরা ফেরেশতাদের কাছে আযাব লাঘবের আকুতি জানাবে, মৃত্যুর জন্য ডাক দেবে, তবু মুক্তি পাবে না। তারা এত কান্না করবে যে অশ্রু শেষ হয়ে রক্ত প্রবাহিত হবে, আর চিৎকারে দুনিয়ার মানুষ শুনলে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যেত। এ সম্পর্কে কিছু আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করছি।

ক. মৃত্যুর জন্য আহাজারি করবে, কিন্তু মৃত্যুও আসবে না

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَىٰ عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُم مِّنْ عَذَابِهَا ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ

আর যারা কুফরি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। সেখানে তাদের মৃত্যু হবে না যে তারা মরবে, আর তাদের আযাব লাঘবও করা হবে না। এভাবেই আমি প্রত্যেক কুফরকারীকে প্রতিফল দিই। সূরা ফাতির : ৩৬

খ.আযাবের তীব্রতায় তারা মুক্তির জন্য চিৎকার করবে

 আল্লাহ তায়ালা বলেন-

قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ 106 رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ

তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের উপর প্রাধান্য পেয়েছে, আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট। হে আমাদের রব! আমাদের এখান থেকে বের করে দিন; যদি আমরা আবার ফিরে যাই, তবে আমরা নিশ্চয়ই জালিম।’ সূরা মু’মিনূন :১০৬-১০৭

গ. জাহান্নামের শব্দ ও উত্তাপ শুনেই আতঙ্কিত হবে

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ 7 تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ ۖ كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ

যখন তারা এতে নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তারা এর ভয়ঙ্কর গর্জন শুনবে এবং এটি জ্বলে ফুটতে থাকবে। প্রায় ক্রোধে ফেটে যাবে।” সূরা মুলক : ৭-৮

ব্যাখ্যা:

হাহাকারের কারনে অন্য কিছুই শুনা যাবে না

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ

বাংলা: “সেখানে তাদের জন্য থাকবে হাহাকার, আর সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না। সূরা আম্বিয়া : ১০০

ঙ. কষ্ট লাঘবের আশায় তারা ফেরেশতাদের অনুরোধ করবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَقَالَ الَّذِينَ فِي النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًا مِّنَ الْعَذَابِ

বাংলা: “আগুনে অবস্থানকারীরা জাহান্নামের প্রহরীদের বলবে, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো, যাতে অন্তত এক দিনের জন্য আমাদের আযাব লাঘব করা হয়। রা গাফির : ৪৯

চ. আযাব সহ্য করতে না পেরে তারা মৃত্যুর আকুতি জানাবে

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ۖ قَالَ إِنَّكُم مَّاكِثُونَ

বাংলা: “তারা ডাক দেবে, ‘হে মালিক! আপনার রব যেন আমাদের মৃত্যু ঘটান।’ সে বলবে, ‘তোমরা তো এখানে স্থায়ী থাকবে।’” সূরা যুখরুফ : ৭৭

ছ. এ সম্পর্কে সহিহ হাদিস থেকে কিছু উদাহরণ

(১) কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে আনা হবে। এর থাকবে সত্তর হাজার লাগাম, প্রতিটি লাগাম টানবে সত্তর হাজার ফেরেশতা। আগমনের সময় জাহান্নাম ভয়ঙ্কর গর্জন করবে। সহিহ বুখারি : ৪৮৪৮

(২) জাহান্নামের অধিবাসীরা এত কান্না করবে যে তাদের অশ্রুর স্রোতে নৌকা চলতে পারত, আর অশ্রু শেষ হলে তারা রক্ত দিয়ে কান্না করবে।” সহিহ মুসলিম : ২৮৪৩

(৩) তারা ডাক দেবে: ‘হে আমাদের রব! আমাদের বের করে দিন, আমরা সৎকর্ম করব।’” সহিহ মুসলিম : ২৮৫০

(৪) জাহান্নামের অধিবাসীরা এত কান্না করবে যে তাদের চোখের পানি মুখে খাঁজ তৈরি করবে।” সহিহ মুসলিম : ২৮৪২

(৫) আল্লাহ বলবেন: ‘চুপ থাকো এতে, আর আমার সাথে কথা বলো না। তখন তাদের সব আর্তনাদ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সহিহ বুখারি : ৬৫৭১

২৭. জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায়

কুরআন-সুন্নাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে সঠিক ঈমান, অবিরাম নেক আমল, পাপ থেকে বেঁচে থাকা, তাওবা করতে এবং আল্লাহর কাছে মুক্তির দুআ। এ পাঁচটি মূলনীতি আঁকড়ে ধরলে একজন মুমিন জাহান্নামের আযাব থেকে নিরাপদে থাকতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

ক. ঈমান আনতে হবে

আল্লাহ তায়ালা বলেন—

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। সুরা কাহফ : ১০৭

উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (খাঁটি মনে) এ বিশ্বাস নিয়ে মারা যাবে যে, ’’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’’ সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। সহিহ মুসলিম : ২৬, মিশকাত : ৩৬. শু‘আবুল ঈমান : ৯৪

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেন, জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে সুসংবাদ দিলেন যে, আপনার উম্মাতের যে কেউ শিরক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি (আবূ যার) বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে। তিনি বললেন, যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে। সহিহ মুসলিম: ৯৪

খ. নেক আমল করতে হবে

আল্লাহ তায়ালা বলেন—

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ  ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী। সুরা বাকারা : ৮২

আল্লাহ তায়ালা বলেন—

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتَوُا الزَّکٰوۃَ لَہُمۡ اَجۡرُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ۚ وَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ

নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে এবং সালাত কায়েম করে, আর যাকাত প্রদান করে, তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট প্রতিদান। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। সুরা বাকারা  : ২৭৭

আল্লাহ তায়ালা বলেন—

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدۡخِلُہُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ

আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ। সেখানে তারা হবে স্থায়ী। সুরা নিসা : ১২২

ব্যাখ্যা: সালাত, সিয়াম, যাকাত, সাদকা, কুরআন তিলাওয়াত, সৎ পরামর্শ ইত্যাদি নেক আমল জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবে।

গ. পাপ বর্জন করতে হবে

পাপ বর্জন করা আসলে জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রধানতম উপায়গুলোর একটি। কুরআন ও সহিহ হাদিস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বড় গুনাহ বর্জন, অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা, ও হারাম কাজ পরিহার করা, এগুলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য অপরিহার্য শর্ত।

আল্লাহ তায়ালা বলেন—

الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ

যারা বড় গুনাহ ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকে, ক্ষুদ্র ত্রুটি ব্যতীত, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমায় প্রসারিত।” সূরা আন-নাজম : ৩২

ব্যাখ্যা: বড় গুনাহ বর্জন করলে আল্লাহ ক্ষুদ্র গুনাহ ক্ষমা করে দেন, ফলে আযাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

 আল্লাহ তায়ালা বলেন—

إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا

অর্থ: “যদি তোমরা তোমাদের নিষিদ্ধ বড় গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকো, তবে আমি তোমাদের ছোট গুনাহগুলো মোচন করব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে (জান্নাতে) প্রবেশ করাব। সূরা আন-নিসা : ৩১

ব্যাখ্যা: সরাসরি ঘোষণা—বড় গুনাহ বর্জন জান্নাতের গ্যারান্টি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি।

ঘ. তাওবা করত হবে করতে হবে

তাওবা বা অনুশোচনা হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার এক শক্তিশালী উপায়। এটি কেবল মুখের কথা নয়, বরং এটি একটি আন্তরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। তাওবার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর অসীম দয়া ও ক্ষমা। যখন একজন বান্দা আন্তরিকভাবে তাওবা করে, তখন আল্লাহ তার অতীতের সব পাপ ক্ষমা করে দেন। যেহেতু জাহান্নামের শাস্তি পাপের কারণে হয়, তাই পাপ ক্ষমা হয়ে গেলে সেই শাস্তির আর কোনো কারণ থাকে না। এভাবে তাওবা পাপের কলুষতা দূর করে মানুষকে পবিত্র করে তোলে, যা তাকে জান্নাতের উপযুক্ত করে তোলে।

তাওবার শর্তআল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-

اِنَّ الَّذِیۡنَ فَتَنُوا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ ثُمَّ لَمۡ یَتُوۡبُوۡا فَلَہُمۡ عَذَابُ جَہَنَّمَ وَلَہُمۡ عَذَابُ الۡحَرِیۡقِ ؕ

নিশ্চয় যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে আযাব দেয়, তারপর তাওবা করে না, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। আর তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আযাব। সুরা বুরুজ : ১০

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-

اِلَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓئِکَ یُبَدِّلُ اللّٰہُ سَیِّاٰتِہِمۡ حَسَنٰتٍ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا

তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সুরা ফুরকান : ৭০

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-

وَہُوَ الَّذِیۡ یَقۡبَلُ التَّوۡبَۃَ عَنۡ عِبَادِہٖ وَیَعۡفُوۡا عَنِ السَّیِّاٰتِ وَیَعۡلَمُ مَا تَفۡعَلُوۡنَ ۙ

আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবূল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর তোমরা যা কর, তা তিনি জানেন। সুরা আশ শুরা : ২৫

ঙ. দুআর মাধ্যমে সাহায্য চাইতে হবে

মহান আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন-

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

 হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দান কর এবং পরকালেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে দোযখ-যন্ত্রণা থেকে রক্ষা কর। সুরা বাকারা : ২০১

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-

رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ ۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا (65) إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি নিবৃত্ত কর; জাহান্নামের শাস্তি তো নিশ্চিতভাবে ধ্বংসাত্মক; নিশ্চয় তা আশ্রয়স্থল ও বসতি হিসাবে অতীব নিকৃষ্ট!’ সুরা ফুরকান : ৬৫-৬৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *