যে সকল দিবস উদযাপণ করা হারাম-০২ :: ইংরেজী নববর্ষ

মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন

আমাদের দেশে নববর্ষ হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। তেমনি ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে উৎসবের মেজাজে সাড়ম্বরে পালিত হয়ে থাকে। কিছু জাতি যেমন চীনা, ইহুদি, মুসলমান প্রভৃতির মধ্যে নিজ নিজ ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষ পালন করতে দেখা যায়। আজ কাল ০১ জানুয়ারির যে ইংরেজী  নববর্ষ উদযাপন করা হয় তা নতুনই বলা চলে। কারণ বেশীদিন হয়নি যখন থেকে এই তারিখ সর্বজনীনভাবে নববর্ষ হিসেবে গৃহীত হয়ে আসছে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে বছরের শুরু হয় জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হলোঃ ১৫৮২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পোপ ত্রয়োদশ গ্রোগোরির এক আদেশ অনুসারে এই বর্ষপঞ্জীর প্রচলন ঘটে। সেই বছর কিছু রোমান ক্যাথলিক দেশ গ্রেগোরিয় বর্ষপঞ্জী গ্রহণ করে এবং পরবর্তীকালে ক্রমশ অন্যান্য দেশসমূহেও এটি গৃহীত হয়। আর ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করে ১৭৫২ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন তারা তাদের ক্যালেন্ডার থেকে ১১ দিন বাদ দেয়। তাই ১৭৫২ সালের ক্যালেন্ডারে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এই ১১ টি দিন পাওয়া যায় না।

বিশ্বের যে সকল দেশ এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে সিভিল ক্যালেন্ডার হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা সবাই ইংরেজি নববর্ষ পালন করে থাকে। তবে অনেক দেশই ক্যালেন্ডারটি গ্রহণ করার পূর্বে নববর্ষের রীতিটি গ্রহণ করেছে। যেমনঃ ১৫৫৬ সালে স্পেন, পর্তুগাল, ১৫৫৯ সালে সুইডেন, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্স, ১৬০০ সালে স্কটল্যান্ড, ১৭০০ সাল রাশিয়া,  ১৭৫২ সাল ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং ব্রিটিশ কলোনিগুলো, এই রীতি অনুসরণ শুরু করে। কিন্তু ইসরায়েল গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে থাকলেও ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না। আবার কিছু কিছু দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে গ্রহণ করেনি। যেমনঃ সৌদি আরব, নেপাল, ইরান, ইথিওপিয়া এবং আফগানিস্তান। এসব দেশও ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না। আমাদের ব্যবহৃত বর্তমান ইংরেজী ক্যালেন্ডারটি ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’।

প্রায় সারাবিশ্বে প্রচলিত ইংরেজী ক্যালেন্ডার এখন ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’। ইংরেজী নববর্ষের শুরু হয় ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২-টা ০১ মিনিটে। আর তখন থেকেই শুরু হয় আতশবাজি, বাদ্য-বাজনা, নাচ-গান, যুবক-যুবতীর ফ্রি স্টাইল ফূর্তি। উল্লাস আর বেলেল্লাপনায় কেটে যায় সারাটি রাত। রাতের গুরুত্বপূর্ণ যে সময়টিকে তারা টগবগে যৌবনের লাগামছাড়া নেশা মেটানোর সময় হিসাবে বেছে নিয়েছে সে সময়টিতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসে।

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা’আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমনে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (সহিহ বুখারী ১১৪৫ তাওহীদ, ১০৭৯ ইফাঃ)

মহান স্রষ্টার আহবানকে উপেক্ষা করে যারা শয়তানের আহবানে রাত জাগে, তাদের পরিণাম আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। তিনিই সুক্ষ বিচারক।

বাংলা নববর্ষ এবং ইংরেজী নববর্ষ উদযাপনের মধ্য একটু পার্থক্য আছে। বাংলা সংস্কৃতির আবহে, বাংলা নববর্ষকে গানের মাধ্যমে দিনের শুরুতে আহবান করা হয়। আর ইংরেজী নববর্ষ শুরু হয় ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২-টা ০১ মিনিটে। এই রাতকে থার্টি ফাষ্ট নাইট হিসাবে পালন করা হয়। রাত বারটি বাজার সাথে সাথে বিশ্বের নাম করা সব শহরে আতঁশ বাজির ঝলসানিতে চোখ ঝাঝিয়ে দেয়। তারা এর জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে থাকে। পৃথিবীতে এক সাথে এত বেশী আতঁশ বাজি করা হয় না। ক্ষনিকের আনন্দ উপভোগে এত টাকা খরচ করাকে অপচয় ছাড়া কিছু নয়। বাংলা নববর্ষকে দিনের বেলায় স্বাগতম জানন হয় কিন্তু ইংরেজী নববর্ষ উদযাপনের সময়ই হল নিজ নিজ দেশের মধ্য রাত। এরপর যারা এই দিনটিকে ঘটা করে পালন কর তারা হল বিধর্মী। পর্দা কি, অশ্লীলতা কাকে বলে, যৌনতা কি? এসব তাদের ডিকসনারীতেই নাই। কাজেই ইংরেজী নববর্ষ মানে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেসা, সাথে মদের আসর। বড় বড় হোটেলে পার্টির আয়োজন বা ড্যান্স বারের নর্তকীদের উদ্দাম নাচ। যা হোন এ সব অশ্লীশ কাজতো আর আমাদের ধর্মের কোন সমস্যা করে না। তারা যে ধর্মের অনুসরণ করে সেই ধর্ম মতে কতটুকু শুদ্ধ আর কত টুকু অশুদ্ধ তা তাদের বিষয়। আমাদের নাক গলানোর কিছু নাই। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। আজ কার ইংরেজী নববর্ষ উদযাপন আর তাদের বিষয় নয়। কারন আমাদের দেশে এখন ইংরেজী নববর্ষ বেশ জোর শোরে পালিত হচ্ছে।

ইংরেজী নববর্ষ উদযাপন করা হারামঃ

বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলা নববর্ষ থেকে ইংরেজী নিউ ইয়ার উদযাপন একটু আলাদা। বাংলা দেশের অধিকাংশ মুসলিম হওয়াতে বাংলা নববর্ষ কিছুটা শালীনতা আছে। কিন্তু ইংরেজী নিউ ইয়ার উদযাপন করে থাকে অধিকাংশই বিধর্মী যাদের নিকটি অশ্লীলতা, যৌনতা ও মাদকতা কোন পাপ নয়। এই দৃষ্টি কোন থেকে বুঝা যায় ইসলামি শরীয়তের আলোকে বাংলা নববর্ষ থেকে ইংরেজী নিউ ইয়ার উদযাপনে কতটা বেশী অশ্লীলাতা থাকবে। ইংরেজী নিউ ইয়ার উদযাপনে অশ্লীলাতা থাকলে মুসলিমদের মাথা ব্যথার কারন নয় কারন এটাতো আর মুসলিমদের অনুষ্ঠান নয়। হ্যা, এই কথাটা সত্য হলে আমরা আর লেখার কোন প্রয়োজন ছিল না। বর্তমানে আমাদের দেশসহ সকল মডারেট মুসলিম দেশের মুসলিমগণ ইংরেজী নিউ ইয়ার কে খু্বই ধুমধামের সাথে উদযাপন করছে। শুধু একটি কথাই বলল যে, কম অশ্লীতায় উদযাপিত বাংলা নববর্ষ যদি উদযাপন ইসলাম সমর্থন না করে, তা হলে অশ্লীলতায় ভরা ইংরেজী নিউ ইয়ার উদযাপন করা কতটা মারাত্বক বুঝে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *