মুহাম্মদ ইস্রাফিল হোসাইন
এমন হেড লাইন কেন দিলাম? যেহেতু বহু গবেষনা করেও লাইলাতুল মিরাজের কোন নির্দিষ্ট রাত নির্ধারণ করতে পারি নাই। যেখানে রাতটি খুজে পেলাম না তো আমল খুজে পাব কিভাবে। আমল পেলাম তো ফজিলত পাব কোথায়? তাই লাইলাতুল মিরাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস পাওয়া খুবই হাস্যকর ব্যাপার। কিন্তু বিদআতিদের লেখায় এবং ওয়েব সাইডে ঠিকই বহু জাল হাদিস আছে। তাই শতর্ক করার জন্য কিছু জাল কথা তুলে ধরছি। একটা কথা প্রতিধান যোগ্য, যদি লাইলাতুল মিরাজের কোন ফজিলতের কথা বলে হয় তবে তা অবশ্য রাসুলাল্লাহ ﷺ এর হাদিস হবে। কারন আমলে পদ্ধতি ও ফজিলত হলো অহী, যা মহান আল্লাহর তরফ থেকে আসে। শবে বরতাতের কোন ফজিলাত যেহেতু সহিহ বা যঈফ হাদিস নেই। নিম্মে রাসুলাল্লাহ ﷺ এর নাম জাল হাদিসগুলো উল্লেখ করা হলো-
জাল হাদীস-০১ : নবি (সা.) রজব মাসের ২৭ তারিখে নবুয়ত লাভ করেন।
১. একটি জাল হাদীসে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
إِنَّ فِيْ رَجَبٍ يَوْماً وَلَيْلَةً مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ كَمَنْ صَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَقَامَ لَيَالِيَهَا وَهِيَ لِثَلاَثَةٍ بَقِيْنَ مِنْ رَجَبٍ وَهُوَ الْيَوْمُ الَّذِيْ بُعِثَ فِيْهِ مُحَمَّدٌﷺ، وَهُوَ أَوَّلُ يَوْمٍ نَزَلَ فِيْهِ جِبْرِيْلُ عَلَى مُحَمَّدٍﷺ.
রজব মাসের মধ্যে একটি দিন আছে, কেউ যদি সে দিনে সিয়াম পালন করে এবং সে দিনের রাত দাঁড়িয়ে (সালাতে) থাকে তাহলে সে ১০০ বছর সিয়াম পালন করার ও রাত জেগে সালাত আদায়ের সাওয়াব লাভ করবে। সে দিনটি রজব মাসের ২৭ তারিখ। এ দিনেই মুহাম্মাদ (সা.) নবুয়ত লাভ করেন, এ দিনেই সর্বপ্রথম জিবরাঈল মুহাম্মাদ (সা.) উপর অবতরণ করেন।
এই হাদীসটি জাল বলেছেনঃ
ইমাম যারকানী, (১১২২ হিঃ), আল-আবাতীল, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-৪৮; ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতী (৯১১ হি.), আল-লাআলী, পৃষ্ঠা-১১৭; ইবনে আররাক (৯৩২ হি.), তানযীহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৬১; ইমাম শাওকানী (১২৫০ হি.), আল ফাওয়ায়েদুল মাজমুয়াহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা-৫৩৯; মুহাম্মাদ তাহের পাটনী (৯৮৬ হি.), তাযকিরাতুল মাউযূআত, পৃষ্ঠা-১১৬; আব্দুল হাই লাখনবী (১৩০৪ হি.), আল আসার, পৃষ্ঠা-৫৮; হাদিসের নামে জালিয়াতী, অস্টম পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা নম্বর-৫৩২।
জাল হাদীস-০২ : নবি (সা.) রজব মাসের ২৭ তারিখে ১২ রাকআত সালাতের ফজিলত।
একটি জাল হাদীসে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
مَنْ صَلَّى لَيْلَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِيْنَ مِنْ رَجَبٍ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِيْ كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُوْرَةٍ، فَإِذَا فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ قَرَأَ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَهُوَ جَالِسٌ ثُمَّ يَقُوْلُ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ وَلاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَصْبَحَ صَائِماً حَطَّ اللهُ عَنْهُ ذُنُوْبَ سِتِّيْنَ سَنَةً وَهِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِيْ بُعِثَ فِيْهَا مُحَمَّدٌ ﷺ.
যদি কেউ রজব মাসের ২৭ তারিখে রাত্রিতে ১২ রাক‘আত সালাত আদায় করে, প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করে, সালাত শেষ হলে সে বসা অবস্থাতেই ৭ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে এবং এরপর ৪ বার ‘সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম’ বলে, অতঃপর সকালে সিয়াম শুরু করে, তবে আল্লাহ তার ৬০ বছরের পাপরাশি ক্ষমা করবেন। এ রাতেই মুহাম্মাদ (ﷺ) নবুয়ত পেয়েছিলেন।
জাল বলেছেনঃ
১. ইবনে হাজার আসকালানী (৮৫২ হিঃ), তাবয়ীনুল আজাব, পৃষ্ঠা-৫২; আব্দুল হাই লাখনবী (১৩০৪ হি.), আল আসার, পৃষ্ঠা-৫৮; হাদিসের নামে জালিয়াতী, অস্টম পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা নম্বর-৫৩২।
জাল হাদীস-০৩ : মিরাজের রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ ﷺ জুতা পায়ে আরশে আরোহণ করেন।
এর নামে জাল হাদিসটি হলঃ
মিরাজের রাত্রিতে যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ কে উচ্চতম আকাশমন্ডলিতে নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি যখন আরশে মুআল্লায় পৌঁছালেন, তখন তিনি তাঁর পায়ের জুতা খুলার ইচ্ছা করেন। কারণ আল্লাহ তাআলা মূসাকে (আ.) বলেছিলেন,
إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى
আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ। (সুরা ত্বা-হা ২০:১২)
তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে আহবান করে বলা হয়, হে মুহাম্মাদ, আপনি আপনার জুতা খুলবেন না। কারণ আপনার জুতাসহ আগমনে আরশ সৌভাগ্য মন্ডিত হবে এবং অন্যদের উপরে বরকতের অহংকার করবে। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ জুতা পায়ে রেখেই আরশে আরোহণ করেন।
হাদিসটি জাল বলেছেনঃ
১. মুহাম্মাদ ইবনুস সাইয়িদ দরবেশ হূত (১২৭৬ হি), ‘আসনাল মাতালিব’ পৃষ্ঠা নম্বর-৫৩০।
২. আব্দুল হাই লাখনবী (১৩০৪ হিঃ) এই ঘটনাকে সম্পূর্ন জাল ও মিথ্যা বলে প্রমান করেছেন। (আল আসার, পৃষ্ঠা নম্বর-৩৭)
৩. প্রখ্যাত ইমাম আল্লামা কাযবিনী (রহঃ) এর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে আল্লামা যারকানী (রহঃ) এর ‘শারহুল মাওয়াহিব আল লাদুন্নিয়া’ গ্রন্থে। কার্যবিনী বলেন,
لَمْ يَرِدُ فِي حَدِيثٍ صَحِيحٍ وَلَا حَسَنٍ وَلَا ضَعِيفٍ أَنَّهُ جَاوَزَ سِدْرَةً الْمُنْتَهَى، بَلْ ذُكِرَ انَتَهَى، بَلْ ذُكِرَ فَيْتَهُ فِيْهُ َوِي سَمِعَ فِيْهِ صَرِيفَ الْأَقْلَامِ فَقَطْ وَمَنْ ذَكَرَ أَنَّهُ جَاوَزَ ذَلِكَ، فَعَلَيْهِ الْبَيَانُ، وَأَنَّهِ! وَلَمْ يَرِدُ فِي خَبَرٍ ثَابِتٍ، وَلَا ضَعِيْفٍ أَنَّهُ رَقِيَ الْعَرْشَ وَافْتِرَاءُ بَعْضِهِمْ لَا يُلْتَفَيْهِمْ لَا يُلْتَفَتِ
অর্থঃ এমন কোনো সহীহ, হাসান, যয়ীফ হাদীসও আসেনি যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে নবী () ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ অতিক্রম করেছেন; বরং যতগুলো হাদীস এসেছে সেখানে নবী (স) কলমের খসখস শব্দ শুনতে পান এমন দূরত্ব পর্যন্ত গিয়েছিলেন বলে প্রমানিত হয়। যারা বলে তিনি এরও ওপরে গিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আমার কথা (তারা মিথ্যা বলেছেন) আছে। এটা কীভাবে সম্ভব যেখানে সহীহ, কিংবা দুর্বল কোনো খবরই আসেনি যে তিনি আরশে গিয়েছেন। কেউ যদি আল্লাহ্ আয্যা ওয়া জাল্লা এবং আল্লাহর রাসূল (স) এর ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে সেদিকে আমাদের ভ্রূক্ষেপই করার প্রয়োজন নেই। (ইমাম যারকানী, (১১২২ হিঃ), শারহুল মাওয়াহিব আল লাদুন্নিয়া’ অস্টম খন্ড, পৃষ্ঠা নম্বর-২২৩)
৪. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) বলেন, সিহাহ সিত্তার এ বিষয়ক হাদীসগুলো আমি ভালভাবে পড়ার চেষ্টা করেছি। এছাড়া মুসনাদ আহমাদসহ প্রচলিত আরো ১৫/১৬টি হাদীস গ্রন্থে এ বিষয়ক হাদীসগুলো পাঠ করার চেষ্টা করেছি। কুরআনে এবং এ সকল হাদীসে রাসূলুল্লাহর ﷺ সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমনের কথা বারংবার বলা হয়েছে। তিনি সিদরাতুল মুনতাহার ঊর্ধ্বে বা আরশে গমন করেছেন বলে কোথাও উল্লেখ করা পাই নাই। (হাদিসের নামে জালিয়াতী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হাদিস, পৃষ্ঠা নম্বর-৩৫১)
জাল হাদীস-০৪ : রাসূলুল্লাহ ﷺ মিরাজে আত্তাহিয়াতু লাভ করেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ মিরাজের সময় আত্তাহিয়াতু সম্পর্কিত গল্পটি হলো-
মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ উর্ধাকাশে গমন করে এক পর্যায় সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন। তখন তাঁকে জিবরাঈল (আ.) বললেন, নিশ্চয় আমি এ স্থান অতিক্রম করতে পারবো না। আর আপনাকে ছাড়া আর কাউকে এ স্থান অতিক্রম করার অধিকার দেয়া হয়নি। জিব্রাইল (আ.) এর কথ মত রাসূলুল্লাহ ﷺ সিদরাতুল মুনতাহ অতিক্রম করলেন এবং আল্লাহ তাআলা এর সান্নিধ্যে পৌছাল। মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বললেন, কোন বন্ধু, বন্ধু বাড়িতে গেলে কিছু (মিস্টি) নিয়ে যায়। তুমি আমার জন্য কি নিয়ে এসেছ? রাসূলুল্লাহ ﷺ মহান আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বললেন, (*التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ،*)
অর্থঃ সমস্ত মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য।
উত্তরে আল্লাহ তাআলা বললেন, (*السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ،*)
হে নবী! আপনার উপর প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
রাসূলুল্লাহ ﷺ মহান বললেন, (* السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ*)
সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ও মহান আল্লাহ কথা শুনে আরশের ফিরিস্তাগন বলে উঠলেনঃ
*أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ*
আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল।
এই গল্পটিকে জাল বলেছেনঃ
১. মিরাজের এই ঘটনাটি চমত্কার মনে হলেও সহিহ যয়ীফ কোন সনদেই এই ঘটনা বর্ণিত হয় নাই। লক্ষ করে দেখবেন জালিয়াতগন এত সুন্দর করে আল্লাহর ও তার রাসূল ﷺ এর কথপকথন মিলিয়েছে আপনি বিশ্বাস না করে পারবেন না। শুনতেও অনেক ভালো লাগে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, এটি মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী। এটি মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আমাদের সমাজে প্রবেশ করেছে। মুহাদ্দিসীনে কিরামের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এটি একটি সনদবিহীন জাল হাদীস। তাফসীর, কুরতুবী (৬৭১ হিঃ), তৃতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪২৫।
২. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) বলেন, এ গল্পটির কোনো ভিত্তি আছে বলে জানা যায় না। কোথাও কোনো গ্রন্থে সনদসহ এ কাহিনীটি বর্ণিত হয়েছে বলে জানা যায় নি। মি’রাজের ঘটনা বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে ও সীরাত গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোনো সনদ-সহ বর্ণনায় মি’রাজের ঘটনায় এ কাহিনীটি বলা হয়েছে বলে আমি দেখতে পাই নি। সনদ বিহীনভাবে কেউ কেউ তা উল্লেখ করেছেন। (হাদিসের নামে জালিয়াতী, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা-৩৫৪)।
আত্তাহিয়াতু সম্পর্কে সহহি হাদীসে এসেছেঃ
আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আমরা নবী ﷺ এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম, তখন আমরা আল্লাহর প্রতি তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম, জিবরীল (আ.)-এর প্রতি সালাম, মীকাঈল (আ.)-এর প্রতি সালাম এবং অমুকের প্রতি সালাম দিলাম। নবী ﷺ সালাত শেষ করে, আমাদের দিকে তাঁর চেহারা ফিরিয়ে বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা নিজেই ’সালাম’। অতএব যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে বসবে, তখন বলবেঃ
التَّحِيَّاتُ لله وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ
মুসল্লী যখন এ কথাটা বলবে, তখনই আসমান যমীনে সব নেক বান্দাদের নিকট এ সালাম পৌঁছে যাবে। তারপর বলবে
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه” وَرَسُوْلُه”
তারপর সে তার পছন্দমত দু’আ বেছে নেবে। সহিহ বুখারি ৮৩১, ৮৫৩, ১২০২, ৬২৩০, ৬২৬৫, ৬৩২৮ ও সহিহ মুসলিম হাঃ ৪০২
জাল হাদীস-০৫ : মিরাজ অস্বীকারকারীর মহিলায় রূপান্তরিত হওয়া।
এই সম্পর্কে জাল গল্পটি হলোঃ
লোকমুখে শোনা যায়, রাসূলুল্লাহ ﷺ মিরাজে মোট ২৭ বছর অতিবাহিত করেন, যদিও পৃথিবীর সময়ে মাত্র কয়েক মুহূর্ত ছিল। এক ব্যক্তি মিরাজের এই ঘটনা অস্বীকার করল। একদিন সে স্ত্রীকে মাছ কাটতে দিয়ে নদীতে গোসল করতে যায়। গোসল করে উঠে এসে সে লক্ষ করল যে সে মহিলা হয়ে গেছে। সেদিক দিয়ে যাচ্ছিল এক সওদাগর। সে তাকে দেখে উঠিয়ে নিয়ে গেল। অতপর সওদাগর তাকে বিবাহ করে। বিবাহের পর তাদের সন্তান-সন্ততি হয় এবং তারা বড় হয়ে যায়। এমনিভাবে মহিলা হিসাবে তার ২৭ বছর অতিবাহিত হয়ে যায়। অতপর, একদিন সে নদীতে গোসল করতে যায়। আবার গোসল থেকে উঠার পর সে দেখল পুনবায় আগের পুরুষ ব্যক্তি হয়ে গেছে। পুরুষ হওয়ার পর সে তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরে যায়। বাড়ি ফিলে সে অবাগ হয়ে যায়। সে দেখে তার স্ত্রী এখনো মাছ কাটছে। স্ত্রীকে সব ঘটনা খুলে বলে এবং তার ভুল বুঝতে পারে। এভাবে তার মিরাজের ঘটনা বুঝে আসে।
ঘটনাটিক মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলেছেন।
১. এই কাহিনীটি সহিহ, যয়ীফ এমনকি জাল সনদেও বর্ণিত হয় নাই। এই ঘটনাটি লোক মুখে বেশী বেশী প্রচলিত। যারা সুরেলা কন্ঠে ওয়াজ করেন তারা শ্রতাদের চমতকৃত করেত এই ধরনের ঘটনা বলে থাকে।
যেহেতু জাল সনদেও গল্পটি নাই। তাই, তাই কোন মুহদ্দিসের অভিমতও পাওয়া যায় না। তবে বাংলাদের প্রখ্যাত আলেম ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) বলেন, এই ঘটনাটি বানোয়াট মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। (হাদিসের নামে জালিয়াতী, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা-৩৫৬)
২. মাসিক আল কাউসার, লিখেন এটি একটি অলীক কল্প কাহিনী। প্রকাশ কাল (জানুয়ারি ২০১৭)।
জাল হাদীস-০৬ : মিরাজে রাসূল ﷺ-এর সাতাশ বছর সময় লেগেছিলঃ
আমাদর সমাজের এক শ্রেণীল বক্তা প্রায়ই ওয়াজের মাহফিলে বলে থাকেন, মিরাজের রাত্রে নবী ﷺ-এর সাতাশ বছর সময় ব্যয় হয়েছিল। আবার কেউ কেউ আরো চটকদার করে বলেন থাকেন, ইন্তেকালের সময় যখন নবী ﷺ-এর কাছে জিবরীল ও মালাকুল মাওত হাজির হল, তখন তিনি মালাকুল মাওতকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এত তাড়াতাড়ি কেন এলে? আল্লাহ তো আমাকে নববই বছর হায়াত দিয়েছিলেন। তখন জিবরীল বললেন, আপনার জীবনের সাতাশ বছর তো মিরাজের রাতেই অতিবাহিত হয়ে গেছে!
এই সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের উত্তরে মাসিক আল কাউসার লিখেন-
উপরোক্ত বর্ণনার কোনো ভিত্তি আমরা পাইনি। মেরাজের সহীহ ও নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতগুলোর কোথাও বলা হয়নি যে, মেরাজে নবী ﷺ-এর কত সময় অতিবাহিত হয়েছিল। কুরআন মজীদ এবং সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনাটি একটি রাতে সংঘটিত হয়েছিল। তাতে পুরো রাত লেগেছিল নাকি রাতের কিছু অংশ, না চোখের পলকেই ঘটে গিয়েছিল তা সহীহ হাদীসে নেই। হাদীসে এই কথাও নেই যে, আল্লাহ তাআলা তখন সময় ও সৃষ্টিজগতকে স্থির রেখেছিলেন কি না।
অতএব মিরাজের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তার রহস্য ও তাৎপর্য আলোচনার সময় এই সব অমূলক কথাবার্তার আশ্রয় নেওয়া খুবই নিন্দনীয় ও সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য। কোনো দায়িত্বশীল ও আমানতদার ব্যক্তি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। আল্লাহ তাআলার পরিষ্কার আদেশ-
ولا تقف ما ليس لك به علم
যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই এর পিছনে পড়ো না।’ এরপরও শুধু অনুমান ও ধারণার উপর ভিত্তি করে বলা, বিশেষত মানুষের সামনে বর্ণনা করা বড়ই অন্যায়। উপরন্তু তা যখন হয় আল্লাহ ও রাসূলের সাথে সম্পর্কিত তখন তো এর ভয়াবহতা বলার অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাযত করুন। আমীন। প্রচলিত ভুল, পৃষ্ঠা-২০৫, মাওলানা আবদুল মালেক, মাসিক আল কাউসার ২০১১ জুন
জাল হাদীস-০৭ : মুহূর্তের মধ্যে মি’রাজের সকল ঘটনা সংঘটিত হওয়াঃ
প্রচলিত একটি কথা, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মিরাজের সকল ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়ে যায়। তিনি সকল ঘটনার পর ফিরে এসে দেখেন, অজুর পানি গড়িয়ে পড়ছে, দরজার শিকল নড়ছে, বিছানা তখনো গরম রয়েছে ইত্যাদি।
ডঃ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.), হাদিসের নামে জালিয়াত কিতাবে লিখেন, এ সকল কথা ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান। আমি ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, সিহাহ সিত্তাহ-সহ প্রায় ২০ খানা হাদীস গ্রন্থের মি’রাজ বিষয়ক হাদীসগুলো আমি অধ্যয়ন করার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ হাদীসে মি’রাজে ভ্রমণ, দর্শন ইত্যাদি সবকিছু সমাপ্ত হতে কত সময় লেগেছিল সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু উল্লেখ করা হয় নি। তাবারানী সংকলিত একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ‘অতঃপর প্রভাতের পূর্বে আমি মক্কায় আমার সাহাবীদের কাছে ফিরে আসলাম। তখন আবূ বক্কর (রাদিঃ) আমার কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি গত রাতে কোথায় ছিলেন? আমি আপনার স্থানে আপনাকে খুঁজেছিলাম, কিন্তু আপনাকে পাই নি। তখন তিনি মি’রাজের ঘটনা বলেন। (হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৭৩-৭৪। হাদীসটির সনদের একজন রাবীকে কেউ কেউ নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং কেউ কেউ দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন।
এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রথম রাতে মি’রাজে গমন করনে এবং শেষ রাতে ফিরে আসেন। সারা রাত তিনি মক্কায় অনুপস্থিত ছিলেন। এরূপ আরো দু একটি হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, মি’রাজের ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ রাতের কয়েক ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৭৫-৭৬; ইবনু হাজার, আল-মাতালিব ৪/৩৮৯-৩৮১
মি’রাজের ঘটনায় কত সময় লেগেছিল তা কোনো গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় নয়। এ মহান অলৌকিক ঘটনা আল্লাহ সময় ছাড়া বা অল্প সময়ে যে কোনো ভাবে তাঁর মহান নবী ﷺ এর জন্য সম্পাদন করতে পারেন। কিন্তু আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, হাদীসে যা বর্ণিত হয় নি তা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নামে না বলা। তিনি ফিরে এসে দেখেন পানি গড়াচ্ছে, শিকল নড়ছে, বিছানা তখনো গরম রয়েছে ইত্যাদি কথা কোনো সহীহ বা যয়ীফ সনদে বর্ণিত হয়েছে বলে জানা যায় না। মুহাম্মাদ ইবনুস সাইয়িদ দরবেশ হূত (১২৭৬ হি) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ মিরাজের রাত্রিতে গমন করেন এবং ফিরে আসেন কিন্তু তখনো তার বিছান ঠান্ডা হয় নি, এ কথাটি প্রমাণিত নয়। দরবেশ হূত, আসনাল মাতালিব, পৃ-১১২
জাল হাদীস-০৮ : জিব্রাইল (আ.) সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করলে তার পাখা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
এই সম্পর্কে জাল কথা হলঃ
১. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমার নিকট (মিরাজের রাতে) জিব্রাঈল (আ.) এসেছিলেন এবং আমার পরওয়ারদেগারের মহান দরবারের সফর সঙ্গী ছিল। তিনি এমন একজায় এসে থেমে যান। জায়গাটি হলো, সিদরাতুল মুনতাহা। আমি বললাম হে জিব্রাঈল! এমন জায়গা এসে বন্ধু কি বন্ধুকে পরিত্যাগ করে? জিব্রাঈল (আ.) উত্তর দিলেন, আমি যদি আর এক কদম বা চুল পরিমান অগ্রসর হই আমার পাখাগুলো জ্বলে ছাই হয়ে যাবে। এরপর আমাকে নুরের সাথে জুড়ে দেওয়া হল এবং সত্তর হাজার পর্দা পার করান হল। যার একটি পর্দার সাথে অন্য পর্দার মিল ছিল না। আমার সাথে মানব ও ফিরিস্তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। ঐ সময় আমার মনে ভিতির সঞ্চয় হল এবং একজান ঘোষনাকারী আবু বক্করের কন্ঠে ঘোষনা দিলেন, থামুন! আপনার প্রভূ সালাতে নিয়োজিত রয়েছেন। আমি আবেদন করলাম দুটি বিষয় আমরা আশ্চর্য মনে হল। একটি হল আবু বক্কর কি আমার চেয়েও অগ্রগামী বয়েছেন। দ্বিতীয়টি হল, আমার প্রভূ তো সালাতে মুখাপেক্ষী নন। তখন এরশাদ হল মুহাম্মাদ, এই আয়াত পাঠ করুনঃ
هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَيْكَتُهُ لِيُخْرِ جَكُمْ مِّنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّوْرِ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا
আমার সালাতের অর্থ হল আপনার ও আপনার উম্মতের প্রতি রহমত। আর আবু বক্করের কন্ঠের ঘটনা হল, আমি একজন ফিরিস্তাকে আবু বক্করের আকৃতিতে বানিয়েছি, যে আপনাকে আবু বক্করের কন্ঠে আপনাকে ডাকবে। তা হলে আপনার অস্বস্তি দুর হবে এবং আপনি এতটা ভীত হবেনা। যা আসল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দেয়।
২. সত্তরটি পর্দা যার প্রতিটির ব্যস ছিল পাঁচ শত বছরের রাস্তা। পর্যায়ক্রমে অতিক্রম করার পর একটি রফরফ তথা সবুজ রঙের মসনদ আমার জন্য আনা হল এবং আমাকে তাতে বসানো হল। এরপর আমাকে ওপরে ওঠানো হল। শেষ পর্যন্ত আমি আরশ পর্যন্ত পৌঁছালাম। সেখানে আমি এমন মহান বিষয় দেখেছি, যারা বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়…।” এই বর্ণনাটি আরও দীর্ঘ। এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাল কথাগুলি পাবেনঃ
মাওলানা আশ্রাফ আলী থারভী লিখিত, নাশরুত তীব নামক গ্রন্থে।
হাদীস দুটি জাল বলেছেন-
১. মুহাদ্দিস ইবনে আবেদিন শামি (১২৫২ হিঃ) বলেছেন,
وَهُوَ كَذِبٌ بِلَا شَكٍّ
এগুলো নিঃসন্দেহে মিথ্যা। আল্লামা যুরকানী, শরহুল মাওয়াহিব, অস্টম খন্ড, পৃষ্ঠা নম্বর-২০০।
২. মাওলানা মুতীউর রহমান এবং মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক এই সকল বর্ননা ভিত্তহীন মিথ্যা ও জাল বলেছেন। (এসব হাদিস নয়, প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা-১৫৫)
৩. মাসিক আল কাউসার রজব ১৪২৭ হিজরী সংখ্যায় এক বিশ্লষনে দাবী করের ঘটনাটি মিথ্যা।
আরশের ফিরিস্তা সম্পর্কে সঠিক কথা হলোঃ
১. সিদরাতুল মুনতাহ এর উপরে আরশেও কিছু ফিরিস্তাগন অস্থান করছেন। মহান আল্লাহ বলেন,
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
অর্থঃ যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চতুস্পার্শ্ব ঘিরে আছে তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আপনার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী, অতএব যারা তাওবাহ করে ও আপনার পথ অবলম্বন করে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। (সুরা মু’মিন ৪০:৭)
২. মহান আল্লাহর আরও বলেন,
*وَتَرَی الۡمَلٰٓئِکَۃَ حَآفِّیۡنَ مِنۡ حَوۡلِ الۡعَرۡشِ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ ۚ وَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡحَقِّ وَقِیۡلَ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ *
এবং তুমি ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাবে যে, তারা আরশের চতুস্পার্শ্বে ঘিরে তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। আর তাদের বিচার করা হবে ন্যায়ের সাথে। বলা হবে, প্রশংসা জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহর প্রাপ্য। (সুরা যুমার ৩৯:৭৫)
৩. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কে যখন মিরাজের রাতে ভ্রমণ করানো হয়েছিল তখন তাকে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিদরাতুল মুনতাহা ষষ্ঠ আকাশে (অধিকাংশ বর্ণনাতে সপ্তম আকাশে শুধু এই একটি হাদীস বাদ) অবস্থিত। তার নীচ থেকে যেসব জিনিস (নেক আমল, আত্মা ইত্যাদি) উর্দ্ধে উঠানো হয় এবং তার উপর হতে আল্লাহ্র যেসব নির্দেশ অবতীর্ণ হয়, সবকিছুই এখানে পৌঁছে থেমে যায়। তারপর এখান থেকেই তা গ্রহণ করা হয়। আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন, (إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى )
যখন বৃক্ষটিকে আচ্ছাদিত করল, যা আচ্ছাদিত করার। (সুরা নাজম ১৬)
আবদুল্লাহ বলেন, তাহল সোনার প্রজাপতি। তখন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কে তিনটি পুরস্কার দেয়া হয়েছে। (১) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, (২) সূরা বাকারার শেষ কয়েকটি আয়াত এবং (৩) তাঁর উম্মতের যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে কোন কিছুকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, তার মাগফিরাত। (সুনানে নাসাই ৪৫১)
কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমানিত যে মহান আল্লাহ আরশের উপর আছেন। তার আরশ সপ্তম আকাশের উপর। আর সিদরাতুল মুনতাহা হল সপ্তম আকাশে। উপরের আয়াত প্রমান করে যে, আরশেও ফিরিস্তা আছেন। হাদিস প্রমান করে সিদরাতুল মুনতাহা উপরে প্রবেশ সীমিত। মুহাদ্দিসগনের প্রায় সবাই একমত যে মিরাজের রাত্রে জিব্রাইল (আ.) এক মুহূর্তের জন্যও রাসূল ﷺ কে একা ছাড়েন নাই। আর জিব্রাইল (আ.) সিদরাতুল মুনতাহার উপরে যেতে পারেন কি না এই সম্পর্ক কুরআন সুন্নাহ কিছু বলা নাই তবে তিনি সিদরাতুল মুনতাহার অতিক্রম করলে তার পাখাগুল জ্বলে ছাই হয়ে যাবে। এই মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে কথাগুলো জাল।
জাল হাদীস-০৯ : মানুষ জন্ম নিলে সিদরাতুল মুনতাহা একটি পাতা গজায় ও মৃত্যুর সময় হলে ঐ পাতাটি ঝরে পড়ে।
এই সম্পর্ক বর্ণিত জাল কথা হলোঃ
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, আল্লাহর আরশের কাছে একটি গাছ আছে, যার নাম সিদরাতুল মুনতাহা। মানুষ জন্ম নিলে সিদরাতুল মুনতাহা গাছটিতে একটি পাতা গজায়। আবার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে ঐ পাতাটি ঝরে পড়ে। তা দেখে ফিরিশতা বুঝতে পারেন যে এই ব্যক্তির মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে।
প্রচলিত এই কথাগুলি কোন হাদীস নয়ঃ
১. এই ঘটনাটি একেবারেই সনদবিহীন জাল হাদীস। কোন প্রকার সহিহ, যয়ীফ বা জাল সনদে ঘটনাটি বর্ণিত হয় নাই। শুধুই লোক মুখে প্রচলিত। জাল সনদে থাকলেও মুহাদ্দিসগনের নজরে আসত। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না। আল্লাহু আলাম।
২. মাসিক আর কাউসার লিখেন, এটি একটি ভিত্তিহীন বর্ণনা। হাদীসের নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থে এ বর্ণনা আমরা পাইনি। (প্রকাশ কাল, ডিসেম্বর ২০১৪।
গাছটি সম্পর্কে একটু জানিঃ
সিদরাতুল-মুনতাহাঃ ( سِـدْرَة الْـمُـنْـتَـهَى ) দুটি আরবী শব্দ, একটি হলো সিদরাতুল বা সিদর অপরটি হলো মুনতাহা। সিদর অর্থ বরই গাছ আর মুনতাহা অর্থ শেষ প্রান্ত। সিদরাতুল মুনতাহা অর্থ হলো, শেষ প্রান্তের বরই গাছ। একটি বিশাল রহস্যময় কুল গাছ সপ্তম আসমান অবস্থিত। একটি সহিহ হাদিসে এই গাছের ফল ও পাতা সম্পর্কে একটু ধারনা পাওয়া যায়। সহিহ হদিসটি বুখারি, মুসলিমসহ বহু হাদিস গ্রন্থ বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি অনেক বড় তাই আমাদের প্রয়োজনীয় অংশ তুলে ধরলাম।
১. মালিক ইবনু সা‘সা‘আ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, আমি কা‘বা ঘরের নিকট নিদ্রা ও জাগরণ এ দু’অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর তিনি দু’ব্যক্তির মাঝে অপর এক ব্যক্তি অর্থাৎ নিজের অবস্থা উল্লেখ করে বললেন, আমার নিকট সোনার একটি পেয়ালা নিয়ে আসা হল, যা হিকমত ও ঈমানে ভরা ছিল। অতঃপর আমার বুক হতে পেটের নীচ পর্যন্ত চিরে ফেলা হল। অতঃপর আমার পেট যমযমের পানি দিয়ে ধোয়া হল। অতঃপর তা হিকমত ও ঈমানে পূর্ণ করা হল এবং আমার নিকট সাদা রঙের চতুষ্পদ জন্তু আনা হল, যা খচ্চর হতে ছোট আর গাধা হতে বড় অর্থাৎ বোরাক। অতঃপর তাতে চড়ে আমি জিব্রাঈল (আ.) সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? উত্তর দেয়া হল, মুহাম্মদ ﷺ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা, তাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি আদম (আ.)-এর নিকট গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, পুত্র ও নবী! তোমার প্রতি মারহাবা। অতঃপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে গেলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ ﷺ। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি ‘ঈসা ও ইয়াহইয়া (আ.)-এর নিকট আসলাম। তাঁরা উভয়ে বললেন, ভাই ও নবী! আপনার প্রতি মারহাবা। অতঃপর আমরা তৃতীয় আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ ﷺ। জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি ইউসুফ (আ.)-এর নিকট গেলাম। তাঁকে আমি সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমরা চতুর্থ আসমানে পৌঁছলাম। প্রশ্ন করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ ﷺ। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? জবাবে বলা হল, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি ইদ্রীস (আ.)-এর নিকট গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী! আপনাকে মারহাবা। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? বলা হয় আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন হল আপনার সঙ্গে আর কে? বলা হল, মুহাম্মদ ﷺ। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? বলা হল, হ্যাঁ। বললেন, তাঁকে মারহাবা আর তাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমরা হারুন (আ.)-এর নিকট গেলাম। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? বলা হল, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ ﷺ। বলা হল, তাঁকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাঁকে মারহাবা আর তাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি মূসা (আ.)-এর নিকট গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ভাই ও নবী আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমি যখন তাঁর কাছ দিয়ে গেলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, হে রব! এ ব্যক্তি যে আমার পরে প্রেরিত, তাঁর উম্মাত আমার উম্মাতের চেয়ে অধিক পরিমাণে বেহেশতে যাবে। অতঃপর আমরা সপ্তম আকাশে পৌঁছলাম। প্রশ্ন করা হল, এ কে? বলা হল, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ ﷺ। বলা হল, তাঁকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাঁকে মারহাবা। তাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি ইব্রাহীম (আ.)-এর নিকট গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে পুত্র ও নবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর বায়তুল মা’মূরকে আমার সামনে প্রকাশ করা হল। আমি জিব্রাঈল (আ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটি বায়তুল মা’মূর। প্রতিদিন এখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করেন। এরা এখান হতে একবার বাহির হলে দ্বিতীয় বার ফিরে আসেন না। এটাই তাদের শেষ প্রবেশ। অতঃপর আমাকে ‘সিদ্রাতুল মুনতাহা’ দেখানো হল। দেখলাম, এর ফল যেন হাজারা নামক জায়গার মটকার মত। আর তার পাতা যেন হাতীর কান। তার উৎসমূলে চারটি ঝরণা প্রবাহিত। দু’টি ভিতরে আর দু’টি বাইরে। এ সম্পর্কে আমি জিব্রাঈলকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ভিতরের দু’টি জান্নাতে অবস্থিত। আর বাইরের দু’টির একটি হল- ফুরাত আর অপরটি হল (মিশরের) নীল নদ। অতঃপর আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়। আমি তা গ্রহণ করে মূসা (আ.)-এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি বললেন, কি করে এলেন? আমি বললাম, আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আমি আপনার চেয়ে মানুষ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত আছি। আমি বনী ইসরাঈলের রোগ সরানোর যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। আপনার উম্মাত এত আদায়ে সমর্থ হবে, না। অতএব আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং তা কমানোর আবেদন করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তাঁর নিকট আবেদন করলাম। তিনি সালাত চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার তেমন ঘটল। সালাত ত্রিশ ওয়াক্ত করে দেয়া হল। আবার তেমন ঘটলে তিনি সালাত বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার তেমন ঘটল। তিনি সালাতকে দশ ওয়াক্ত করে দিলেন। অতঃপর আমি মূসা (আ.)-এর নিকট আসলাম। তিনি আগের মত বললেন, এবার আল্লাহ সালাতকে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ করে দিলেন। আমি মূসার নিকট আসলাম। তিনি বললেন, কী করে আসলেন? আমি বললাম, আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ করে দিয়েছেন। এবারও তিনি আগের মত বললেন, আমি বললাম, আমি তা মেনে নিয়েছি। তখন আওয়াজ এল, আমি আমার ফরজ জারি করে দিয়েছি। আর আমার বান্দাদের হতে হালকা করেও দিয়েছি। আমি প্রতিটি নেকির বদলে দশগুণ সওয়াব দিব। (সহিহ বুখারি ৩২০৭, ৩৮৮৭)
৪৯। শবে মিরাজ বিদআত কেন?
১। এই রাতের আমল সম্পর্কে কুরআন, সহিহ হাদিস বা যঈফ হাদিসে কোন প্রকার দলীল প্রমান পাওয়া যায় না।
২। লাইলাতুল মিরাজের ঘটনা বহু সহিহ হাদিস দ্বার প্রমানিত হলেও ২৭ তারিখ সম্পর্কে কোন সহিহ হাদিস তো দুরের কথা কোন যঈফ হাদিন ও নেই।
৩। নবী জীবন দসায় বা তার ওফাতের পর কোন সাহাবী, তাবেয়ী বা তাবে-তাবেয়ী কেউই লাইলাতুল মিরাজে কোন প্রকার আমল করেছেন বলে প্রমান পাওয়া যায় না।
৪। সাহাবা ও তাবিইনগণ মিরাজের রাতকে অন্য রাতগুলো থেকে আলাদাভাবে দেখেছেন বলে কোনো দলিল আমাদের হাতে নেই।
৫। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোন আমলকে সময় সাথে না করে থাকলে অন্য কেউ তা সময়ের সাথে খাচ করে নিলে বিদআত হবে। লাইলাতুল মিরাজ এমন এমন একটি ইবাদাত যাএ ২৭ শে রজব তারিখের সাথে খাচ করা হয়েছে।
৬। ইসলামি শরীয়তে অনেক নফল ইবাদাত আছে যেমনঃ জিকির, দান সদকা, দুয়া করা, ইস্তেগফার পড়া, কুরআন তিলওয়াত করা ইত্যাদি। রাসূলুল্লাহ ﷺ এই সফল ইবাদাত বান্দার সীমার মধ্যে থেকে পালন করতে বলেছেন। যদি কেউ এই সকল নফল আমল নিজের জন্য খাচ করে নেয় এবং ছুটে গেলে আফসোস করে তবে তার জন্য ঐ আমলটি বিদআত হয়ে যাবে।
৭। কোন আমল নিজে আবিস্কার করে বা আমলের কোন পদ্ধতি আবিস্কার করে দ্বীনি কাজ মনে করে নেকীর আশায় করলে বিদআত হবে।
১০। আমাদের করণীয়
১। এই সম্পর্ক আমাদের আকিদা সঠিক করা। মিরাজের যে সকল ঘটনা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত তার বিশ্বস করা। মিরাজের প্রমাণিত কোন কিছুকে অস্বীকার না করা। কারন মিরাজ অস্বীকার করলে কুফরী হবে।
২। এই রাতে যেহেতু পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে তাই তার উপর গুরুত্ব দেয়া। কারণ সালাত আকাশে রাসূলুল্লাহ্ ﷺকে ডেকে সম্মানের সাথে প্রদান করা হয়েছে। দুনিয়ার কোন স্থানে বা অন্য কোন মাধ্যমে সেটা ফরয করা হয়নি।
৩। মিরাজ সম্পর্কে সঠিক ধারনা রাখা। এই সম্পর্কে সমাজে যে সকর মিথ্যা কল্প কাহিণী প্রচলিত আছে তার জেনে নিজে শতর্ক হয় এবং অপরকে শতর্ক করি।
৪। লাইলাতুল মিরাজের কোন দিন, মাস বা সন সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত নয় তাই এই রাত্রি নির্ধারণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫। এই রাতই যেহেতু রাসূলুল্লাহ্ ﷺ নির্দিষ্ট করে যায় নাই এবং কোন প্রকার আমলও করে নাই। তাই আমরাও এই রাতের সকল প্রকার আমল থেকে বিরত থাকব। তবে এই রাতে গতানুগনিত যে আমল করা হয় তা করলে কোন অসুবিধা নেই।
৬। এই রাতে আমল নাই। তাহলে আমলের ফজিলত থাকে কি করে। কাজেই এই রাতের আমলেন যত ফজিলত বলা হবে, তা সবই মিথ্যার উপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে।
৭। এই রাতের ইবাদত করার পাশাপাশি পরের দিনে সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকা। যদি কারন সোমবার, বৃহস্পতিবার বা প্রতি আরবী মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখে সিয়াম পালনের অভ্যাস থাকে তার জন্য এই দিনের সাথে মিলে গেলে সিয়াম পালনের জন্য কোন অসুবিধা নেই।
৮। সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত সূরা আল-বাকারার শেষ দু’টি আয়াত রাসূলুল্লাহ ﷺ কে প্রদান করা হয়েছে। তাই এই দুটি আয়াত পাঠ করা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার পাশাপাশি প্রচার ও প্রসারের চেষ্টা করা।।
